সংবিধানের ৫৪তম বার্ষিকীর আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যায় না। নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন ও আইন সংস্কার জরুরি।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের স্থানান্তরের প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের দাবি, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজে ফিরিয়ে দিতে হবে।
রাজীব ঘোষের অবস্থান তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে স্পষ্ট করার পাশাপাশি আইনগত ভিত্তি না থাকলে তাঁকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠন দুটি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত সোমবার চোরাচালানের সন্দেহে বিএসএফ সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তিকে আটক করে নির্যাতন করেন।
<p>বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশে জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমি জাহানাবাদি। বুধবার ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।</p><p>যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে সমঝোতা মানে আত্মসমর্পণ বলে মন্তব্য করেন জলিল রাহিমি। তিনি বলেন, সমঝোতার নামে আত্মসমর্পণ মেনে নেবে না ইরান। সংঘাতের তৃতীয় দফায় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এ ধরনের হামলা হলে ইরান পাল্টা জবাব দেবে।</p><p>ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল হারলেও ইরান ইস্যুতে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আসবে না। নির্বাচনের ফল যা-ই হোক না কেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একই থাকবে বলে তিনি মনে করেন।</p><p>এদিকে ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের মনোভাবের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক।</p><p>জলিল রাহিমি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি না থাকলে ইরান কখনোই সেসব দেশে হামলা করত না।</p>
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে এই ককাসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ককাসের চেয়ারপারসন ফাহিমা নাসরিন।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/692i55q5/kishorgonj_shahriar_jaman.jpg"><figcaption>মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান</figcaption></figure><p>কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামানকে (৪০) ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন তাঁর বাবা আখতারুজ্জামান। বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।</p><p>আহত শাহরিয়ার জামানকে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।</p><p>বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন আখতারুজ্জামান।</p><p>স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আখতারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি গচিহাটা গ্রামে। সেখানে তাঁদের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শাহরিয়ার জামান বেশির ভাগ সময় গ্রামে থাকেন এবং পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে দলটির মনোনয়ন চেয়েও পাননি।</p><blockquote>শাহরিয়ার জামানের বাবা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান তাঁর ছেলের ওপর হামলার জন্য বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন</blockquote><p>স্থানীয় লোকজন জানান, রাত আটটার দিকে শাহরিয়ার জামান গচিহাটা বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা করেন। তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/vnep1djm75">বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আখতারুজ্জামান</a></aside><p>ঘটনার সময় শাহরিয়ার জামানের সঙ্গে ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার। তিনি বলেন, শাহরিয়ার জামানের শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছেন, বুকের আঘাতটি গুরুতর। এ কারণে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।</p><p>হামলার কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক জোয়ারদার বলেন, বিষয়টি তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।</p><p>তবে শাহরিয়ার জামানের বাবা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান তাঁর ছেলের ওপর হামলার জন্য বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলার সহস্রাম-দুলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদলের নেতারা তাঁর ছেলের ওপর হামলা করেছেন এবং ছুরিকাঘাত করে আহত করেছেন।</p><p>আখতারুজ্জামান আরও লেখেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। তিনি মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর ছেলে গচিহাটায় থাকেন এবং সেখানে খামার দেখাশোনা করেন। ছেলের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/2a4jgvwghu">আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ</a></aside><p>কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।</p><p>অভিযোগের বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, আখতারুজ্জামান ফোন করে তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন।</p>
এত দিন কংগ্রেসে সংখ্যালঘু দল হওয়ায় ইনফান্তিনোকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাধ্য করার ক্ষমতা ছিল না ডেমোক্র্যাটদের।
২৮ নভেম্বর শনিবার বিকাল ৩.০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬.০০ টা পর্যন্ত হবে এ মাসের অফলাইন সাধারণ সভা। সভায় অংশ নিতে তোমাকে পূরণ করতে হবে নিচের ফরমটি। ফরম পূরণের আগের অবশ্যই মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করার নিয়মগুলো পড়ে নিতে হবে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।