<p>গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার কোনো চেষ্টা করছে না, এ ধরনের কোনো ইচ্ছাও সরকারের নেই।</p><p> আজ সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে আন্দালিভ রহমান এ কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।</p><p> সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার সারাহ কুক মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।</p><p>তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।</p><p>বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমমালিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।</p><p>হাইকমিশনার সারাহ কুক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।</p><p>বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।</p>
<p>নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনো সিদ্ধান্ত আইনানুগ না হলে তা বাতিল করা হবে বলে জানিয়ে দিলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই সঙ্গে জানানো হলো, কমিশনের বক্তব্য না শুনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা যায় না। বিচারপতিরা বলেন, খবরের কাগজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁরা কোনো নির্দেশ দিতে পারেন না।</p><p> জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্মের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানির প্রথম দিন আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একাধিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাঠানো হয়েছে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার, দুই ইসি যথাক্রমে সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী, উপনির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ এবং ইসির আইটি বিভাগের মহাপরিচালক সীমা খান্নাকে। সেই সঙ্গে নোটিশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকেও।</p><p> প্রত্যেককে এক সপ্তাহের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার এজলাস মামলার আবেদনকারীদের জানান, আইন অনুযায়ী ইসিকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় সর্বসম্মতিতে, নয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। কোনো সিদ্ধান্ত আইনানুগ না হলে বেঞ্চ তা রদ করে দেবেন।</p><p>সিইসির একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ–সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে। তাতে বলা হয়, গত ১০ মাসে দুই ইসি সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের আপত্তি জানান। সেই সব আপত্তি গ্রাহ্য হয়নি।</p><p>প্রতিবেদনে এ কথাও লেখা হয়, ইসির সভার আলোচ্যসূচিও আগে থেকে জানানো হতো না। বৈঠকের আলোচনার প্রতিপাদ্য বিষয়গুলোর ‘মিনিটস’ও দেওয়া হতো না। সিইসি একতরফাভাবে ফর্ম ৬–এ বদল ঘটিয়েছেন, যা আইনসম্মত ও বিধিবদ্ধ নয়।</p><p>প্রধানত সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এক মামলায় এসআইআরে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এক বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন বা বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।</p><p>অন্য এক মামলার আরজি, মামলাগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সিইসিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হোক। এসব কিছু নিয়েই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সংশ্লিষ্টদের নোটিশ পাঠান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-03-10/byhtob3k/gyanesh.jpg"><figcaption>প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার</figcaption></figure><p>আবেদনকারী রাকেশ কুমার সিংয়ের আইনজীবী বিকাশ সিং শুনানির সময় বলেন, এই আদালতেরই বিশেষ বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ–সংক্রান্ত মামলাটি রয়েছে। ইসির কাজকর্মে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ বিপন্ন বোধ করছে। নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছে না। তাই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কিছু অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। সে অনুযায়ী সিইসিকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হোক। নইলে দেশে আগুন জ্বলে যাবে।</p><p>আদালত–সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’ জানাচ্ছে, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এই সময় বলেন, ‘আমরা আশা করি ইসি প্রচলিত আইন মেনেই কাজ করবে। যদি তা না হয়ে থাকে, তাহলে আমরা সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করব।’</p><p>বিচারপতি বাগচী বলেন, অপর পক্ষের বক্তব্য না শুনে আদালত একতরফভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। নথিপত্রে যদি দেখা যায়, ‘কোনো সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিতে নেওয়া হয়নি, একতরফাভাবে গৃহীত, তা হলে আমরা তা খারিজ করে দেব। ইসির সব সিদ্ধান্তই যে একতরফা তা আমরা ধরে নিতে পারি না। তাই আমরা ওদের মতামত জানতে চেয়েছি। আমরা চাই ওরা স্বচ্ছভাবে স্পষ্ট করে সব জানাক।’</p><p>আইনজীবী বিকাশ সিং এই সময় বলেন, ইসির বিবৃতিতেই বোঝা যাচ্ছে খবরের কাগজের প্রতিবেদন সত্য। প্রধান বিচারপতি এর উত্তরে বলেন, ‘খবরের কাগজের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত রায় দিতে পারেন না। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিক হতে পারে, আংশিক ঠিক হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আমরা অবশ্যই অন্য পক্ষের জবাব চাইব।’</p><p>সোমবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ফর্ম ৬–এ কোনো রকম পরিবর্তনের অনুমোদন সুপ্রিম কোর্ট ইসিকে দেননি। তিনি জানান, ফর্ম ৬–এ কে বা কারা কিসের ভিত্তিতে বদল ঘটিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। ইসিকে এই বিষয়েও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের উত্তর পেলে তাঁরা দেখবেন কে ওই সংশোধন করেছেন।</p><p>ফর্ম–৬ এর মধ্য দিয়ে নতুন ভোটারদের নাম তোলা হয়। এই ফর্মে অদলবদল করার কোনো ক্ষমতা বা অধিকার ইসির নেই।</p><p>অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার অন্য দুই কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে একতরফাভাবে ওই ফর্মে বদল ঘটিয়েছেন। অনলাইনে নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্তির সময় জানতে চাওয়া হচ্ছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আবেদনকারী বাবা–মা, দাদা–দাদি কিংবা নানা–নানির নাম ছিল কি না।</p><p>সম্প্রতি ইসি এক নির্দেশে জানিয়েছে, যেসব রাজ্যে এসআইআর হয়ে গেছে, সেখানে পুরোনো ফর্ম–৬ মারফত নতুন ভোটাররা নথিভুক্ত হতে পারবেন। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ফর্ম–৬ সম্পর্কে শুনানির সময় বলেন, এই ফর্মে কোনো রকম সংশোধন করার ক্ষমতা ইসির নেই। অথচ ঠিক সেটাই করা হয়েছে।</p><p>বিরোধীদলীয় ‘ইন্ডিয়া’ জোট, ককরোচ জনতা পার্টি ও জেন–জি প্রজন্মের তরুণদের অভিযোগ, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম যাতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেশি করে না ওঠে, সেই লক্ষ্যেই জ্ঞানেশ কুমার ফর্ম ৬–এ পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।</p><p>এর আগে নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বহু সদস্যবিশিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে ভিন্নমত থাকা গণতান্ত্রিকতারই প্রমাণ। কমিশনের গৃহীত সব সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা পূর্ণভাবে আছে। যা কিছু করা হয়েছে, আইন মেনে করা হয়েছে। এখন দেখার, সেই দাবি আদালতে জমা দেওয়া তথ্যে প্রমাণিত হয় কি না।</p>
<p>আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, তাঁর স্ত্রী নিলুফার জাফর উল্যাহ, বড় ছেলে কাজী ওমর জাফর, মেজ ছেলে কাজী রায়হান জাফর ও মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা ১৫৫ কোটি টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।</p><p> দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে কাজী জাফর উল্যাহসহ তাঁর পরিবারের অবৈধভাবে অর্জিত ১৫৫ কোটি টাকা অবরুদ্ধের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।</p><p>দুদকের আবেদনের সূত্রে জানা যায়, অবরুদ্ধ করা সম্পদের মধ্যে কাজী জাফর উল্যাহর মেঘনা ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে মোট ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৩ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৭ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রী নিলুফা জাফরের অবরুদ্ধ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংকের বনানী শাখায় ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৮ কোটি ১৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮ টাকা। সন্তান কাজী ওমর জাফরের মেঘনা ব্যাংকে ৭১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ টাকার এফডিআর, মিডল্যান্ড ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ১১১ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৪ টাকা রয়েছে। আরেক সন্তান কাজী রায়হান জাফরের মেঘনা ব্যাংকে ১২ কোটি ৪২ লাখ ১৯ হাজার ৪৩৪ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ ইউএস ডলার এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার ৪১৫ টাকা রয়েছে। মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের মেঘনা ব্যাংকে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩০ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ২০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৩০২ টাকা রয়েছে।</p><p>আদালতে এসব সম্পদ অবরুদ্ধের আদেশ চেয়ে আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। আসামিরা অর্জিত এসব অস্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর, বিক্রয় বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগটি নিষ্পত্তির আগে বর্ণিত সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রমে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় এসব অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।</p>
<p>ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটের উড়োজাহাজ ধ্বংস করার আপাত চেষ্টা ব্যর্থ করতে সাহায্য করা ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় ককপিটের সেই উত্তেজনাকর মুহূর্তগুলো সম্পর্কে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর কাছে তিনি নতুন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন বলে দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p> ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাইয়ের বাসিন্দা পাইলট স্মিথ মছার দাবি করেছেন, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজটিতে প্রথমে কোনো সমস্যা বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি ভেবেছিলেন।</p><p> গতকাল রোববার উগ্র ইহুদিবাদী ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়ার সঙ্গে এক ভিডিও কলে ভারতীয় পাইলট মছার বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম উড়োজাহাজের কোনো সমস্যা হয়েছে। কিন্তু এরপর একের পর এক আঘাত আসতে শুরু করে। তখনই আমি বুঝতে পারি, সমস্যা উড়োজাহাজে নয়, সমস্যা ককপিটে আমার সঙ্গে থাকা অন্য লোকটিকে নিয়ে।’</p><p>ভারতীয় এই পাইলট এখন আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।</p><p>ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কো-পাইলট বা সহ-পাইলটের নাম হাম্মাম আল-হাম্মামি (২৯)। তিনি ওমানের নাগরিক।</p><p>ক্যাপ্টেন মছার বলেন, তিনি শুরুতে সহ-পাইলটকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাতের কারণে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।</p><p>ভারতীয় পাইলট দাবি করেন, ‘আমি তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাঁর প্রাথমিক আঘাতগুলোর কারণে আমার দৃষ্টিশক্তি বলতে গেলে প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল। আমি চোখের সামনে সবকিছু একদম ঝাপসা দেখছিলাম।’</p><p>মছার আরও যোগ করেন, ঠিক তখনই তিনি বুঝতে পারেন, উড়োজাহাজটি খুব দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে।</p><p>পাইলট মছার বলেন, ‘আমার স্মৃতিশক্তি তখনো ঠিক ছিল। তবে এখন তা ছোট ছোট খণ্ডচিত্রের মতো মনে আসছে। কিন্তু সেই সময়ের ঘটনাগুলোর মধ্যে আমার এটুকু মনে আছে।’</p><p>ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েল যাওয়ার পথে সৌদি আরবের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৭২ আরোহী নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়।</p><p>ভারতীয় পাইলট জানান, ককপিটটি বাইরে থেকে কেবল কোড ব্যবহার করে খোলা যায়। তবে ভেতর থেকে খুব সহজেই খোলা সম্ভব।</p><p>মছার বলেন, ‘বাইরে থেকে এটি কেবল একটি কোড দিয়ে খোলা যেত। বাইরে থাকা আমার সহকর্মীরা কোড দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি তাদের কোড ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছিল না।’</p><p>পাইলট স্মিথ মছার আরও বলেন, ‘ভেতর থেকে একটি ছোট ও দ্রুত মোড় দেওয়ার বিষয় ছিল। দরজার নবে হাত পৌঁছানোর পর আমি তা মোড় দিয়ে খুলে ফেলি।’ তবে ওমানি সহ-পাইলট দ্রুত তা আবার বন্ধ করে দেন।</p><p>ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় মছার বুঝতে পারেন, তাঁর ভেতর ‘শেষ একটা লড়াই’ বাকি আছে।</p><p>নেতানিয়াহুর কাছে ক্যাপ্টেন মছার দাবি করেন, ‘আর তখনই আমি আমার সব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করি। আমার যা কিছু শক্তি ছিল, তা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দরজার কাছে গিয়ে সেটি খুলে দিই।’</p><p>মছার দরজা খুলে দেওয়ার পর যাত্রীরা ভেতরে ঢোকেন এবং হামলাকারীকে কাবু করেন।</p><p>ভারতীয় পাইলট বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে, মানুষ বাইরে প্রস্তুত ছিল। তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়, আর বাকিটা তো আপনার জানা।’</p><p>হামলাকারীকে কাবু করা যাত্রীদের একজন ইয়ানিভ হায়ুন জানান, উড়োজাহাজটি যখন খাড়া নিচের দিকে নেমে যাচ্ছিল, তখন তিনি ককপিটের দিকে দৌড়ে যান এবং ‘উড়োজাহাজটিকে কিছুটা সোজা করেন।’</p><p>এর আগে গত শুক্রবার পাইলট মছার সৌদি আরবের হাসপাতাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় তাঁর মাথায় ব্যান্ডেজ এবং নাকে টিউব লাগানো ছিল।</p><p>হাসপাতাল থেকে মছার বলেছিলেন, ‘আমার অনেক ক্ষত হয়েছিল। আমি নিচে পড়ে গিয়েছিলাম।’</p><p>ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের মে মাসে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে ক্যাপ্টেন মছার ও মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।</p><p>নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের দারুণ বন্ধু ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমি সেখানে পেতে চাই। তাঁরা উৎসবে মশাল বহনের সম্মান অর্জন করুক, তা আমি সত্যি মন থেকে চাই।’</p><p>আল-হাম্মামির হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।</p><p>বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র গতকাল জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার ওমানি সহ-পাইলট ২০২৩ সালে বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে ‘অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন’ করেছিলেন।</p><p>অস্ট্রেলীয় সংস্থাও আল–হাম্মামির বিষয়ে তদন্ত করছে। কারণ, সে দেশে শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি প্রায় দুই বছর কাটিয়েছেন বলে খবর সামনে এসেছে।</p>
বিদেশে পড়তে আগ্রহীদের জন্য আসছে ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬’
সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
<p>রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), দলটির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) পৃথক বিবৃতিতে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।</p><p>গতকাল রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।</p><p>ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তবুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রশাসনও এর দায় এড়াতে পারে না। বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের দলীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/video/bangladesh/ydi0eypp6w">রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় চার সাংবাদিকসহ আহত ১০</a></aside><p>জাতীয় ছাত্রশক্তির দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহমুদের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ক্যাম্পাসগুলোতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের ধারাবাহিক হামলা মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরার বহিঃপ্রকাশ। সংগঠনটি রাবিতে হামলায় নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবসহ জড়িত সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।</p><p>এদিকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রাবির এই ঘটনা ক্যাম্পাসে পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির ভয়াবহ রূপ সামনে এনেছে। প্রশাসন যদি নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। সংগঠনটি আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/lk9u4bi312">রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায় দফায় হামলা ও মারধরের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি</a></aside><p>গণমাধ্যমে পাঠানো এক বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ বরাবরের মতোই নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করেছে। গত ২৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও একই কায়দায় শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে ছাত্রদল। সেই ঘটনায় নির্লজ্জ নির্লিপ্ততার পরিচয় দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকানা প্রশাসন। বিএনপি ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা সংবাদমাধ্যমকে ভয় পায়। এ জন্য একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। সরকারকে বলব, প্রতিটি ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অবিলম্বে ছাত্রদলের সন্ত্রাসের লাগাম টেনে ধরুন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন, অন্যথায় ছাত্রসমাজ ফুঁসে উঠলে সামলাতে পারবেন না।’</p>
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই যুগে বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের কারণে অনেক সময় আইন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে না।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন