এজাহার দিতে গেলে নেতাকর্মীদের থানায় অবরুদ্ধের অভিযোগ
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় এজাহার দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার অভিযোগ করেছেন দলটির ১৭ নেতাকর্মী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। আলজেরিয়া বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে।”
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে সুমন হোসেন (৩২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘ওনারা বলেন যে কেবল ছয় মাস হলো লংমার্চের দরকারটা কী?
<p>২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসারোথ এবং জার্মানির পিটার হেগেম্যান ও গেওর্গ নাগেল। তাঁরা কাজ করেছেন অপটোজেনেটিকস, অর্থাৎ জীবিত কোষের জিনে পরিবর্তন এনে আলোর সাহায্যে সেই কোষকে নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে।</p><p>পিটার হেগেম্যান ও গেওর্গ নাগেল এককোষী শৈবাল <em>ক্ল্যামাইডোমোনাস</em>-এ চ্যানেলরডোপসিন প্রোটিন আবিষ্কার করেছেন। কার্ল ডাইসারোথ এই প্রোটিনকে ব্যবহার করেছেন স্নায়ুকোষের সুইচ হিসেবে, যে সুইচ অন-অফ হয় আলোর সাহায্যে। এই সুইচ ব্যবহার করে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের কাজ নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে আগের চেয়ে সহজ ও সূক্ষ্ম।</p><p>আদিম কাল থেকেই বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করেন তা নিয়ে ভেবেছেন। দেড় কেজির চেয়েও কম ওজনের মস্তিষ্ক কীভাবে স্মৃতি ধরে রাখে, স্বপ্ন দেখে, হাসি কান্নার অনুভূতি তৈরি করে, শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃৎপিণ্ডের কম্পন, ঘুম ও জেগে থাকা নিয়ন্ত্রণ করে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা ও কাজ করেছেন অনেকেই।</p><p>বিশ শতকে নিউরোসায়েন্স অনেকদূর এগিয়ে গেছে। স্কুইডের বিশাল স্নায়ুতে ইলেকট্রোড বসিয়ে প্রমাণ করা হয়েছিল স্নায়ুপ্রবাহ মূলত বিদ্যুৎ প্রবাহ। পরবর্তীতে মস্তিষ্কে ইলেকট্রোড বসিয়ে দেখানো গেছে, মস্তিষ্কের কোন অংশ মোটামুটি কী নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের রোগের লক্ষণ দেখে ধারণা করা সম্ভব যে, মস্তিষ্কের কোন অংশের কাজ কী। কিন্তু এরকম পদ্ধতিগুলো মস্তিষ্কের জটিল জটিল কাজের খুঁটিনাটি বোঝার মতো যথেষ্ট সূক্ষ্ম নয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/ijx1ghsddo">নোবেল জেতার সহজ উপায়</a></aside><blockquote>স্কুইডের বিশাল স্নায়ুতে ইলেকট্রোড বসিয়ে প্রমাণ করা হয়েছিল স্নায়ুপ্রবাহ মূলত বিদ্যুৎ প্রবাহ। পরবর্তীতে মস্তিষ্কে ইলেকট্রোড বসিয়ে দেখানো গেছে, মস্তিষ্কের কোন অংশ মোটামুটি কী নিয়ন্ত্রণ করে।</blockquote><p>মস্তিষ্ক গবেষণার জন্য আরও সূক্ষ্ম উপায়ের কল্পনা করেছিলেন বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক। জীবিত মস্তিষ্কের একেকটা নিউরন কিভাবে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করে ১৯৫৩ সালে তিনি এ সিদ্ধান্তে আসেন, নিউরন সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে আলো ব্যবহার করা। ক্রিক নিজেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন, তখনকার প্রযুক্তি দিয়ে তা সম্ভব নয়, কিন্তু ভবিষ্যতে তা সম্ভব হতেই পারে।</p><p>আলোর সাহায্যে স্নায়ু কোষের নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন অনেকেই। বিজ্ঞানী রিচার্ড ফর্ক লেজার লাইটের সাহায্যে আলোক সংবেদী অ্যাপ্লিশিয়া নিউরনকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছেন। বিজ্ঞানী ইরা ফারবার ও গ্রিনভাল্ড চেষ্টা করেছিলেন জোঁকের নিউরনকে ফ্লুরোসেন্ট রঞ্জক দিয়ে রাঙিয়ে নিতে। কিন্তু এই চেষ্টা খুব ভালো ফলাফল আনতে পারেনি।</p><p>আরও নানারকম আলোক সংবেদী রিসেপ্টর নিয়ে অনেকে কাজ করেছেন। কিন্তু সব পদ্ধতি একটা সমস্যায় আটকে গেছে। আলোক সংবেদী রিসেপ্টর কাজ করতে বাইরে থেকে কোনো না কোনো রাসায়নিক পদার্থ যোগান দিতে হয়। আর এই রিসেপ্টরগুলো কাজ করতে একাধিক ধাপের প্রয়োজন। তাই পুরো প্রক্রিয়াটা হয়ে যায় অনেকখানি ধীরগতির এবং অত্যন্ত জটিল। তাই প্রয়োজন ছিল এমন কোনো পদ্ধতির, যাতে বাইরে থেকে কোনো বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ যোগান দিতে হবে না, এবং পুরো প্রক্রিয়াটা হবে এক ধাপে, মিলিসেকেন্ডের মধ্যে।</p><p>এই সমস্যার সমাধানের শুরু ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটে, পিটার হেগেম্যানের গবেষণার মাধ্যমে। প্রশ্নটা ছিল সহজ: এককোষী শৈবাল <em>ক্ল্যামাইডোমোনাস </em>কীভাবে এত দ্রুত আলোর প্রতি আকর্ষণ দেখায়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/8itfeuyiqn">নোবেল পুরস্কারের সোনার মেডেলে অন্যপাশে কী থাকে</a></aside><blockquote>আলোর সাহায্যে স্নায়ু কোষের নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন অনেকেই। বিজ্ঞানী রিচার্ড ফর্ক লেজার লাইটের সাহায্যে আলোক সংবেদী অ্যাপ্লিশিয়া নিউরনকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছেন।</blockquote><p><em>ক্ল্যামাইডোমোনাস</em> এককোষী সবুজ শৈবাল। পেট্রিডিশে এই শৈবাল দেখা যায় হালকা সবুজ। কিন্তু ডিশের একপাশে আলো ফেললে খুব দ্রুত ডিশের অন্য দিকটায় সব সবুজ শৈবাল চলে আসে। মাইক্রোস্কোপের তলায় দেখলে দেখা যায়, দুটো এন্টেনার পাশাপাশি প্রতিটা শৈবাল আছে ছোট্ট লালচে কমলা অংশ, যাকে বলা হয় আইস্পট। </p><p>হেগেম্যান দেখলেন, আলোর উপস্থিতিতে ক্ল্যামাইডোমোনাসের এই আইস্পট আধা মিলিসেকেন্ডের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই প্রতিক্রিয়া অন্যান্য আলোক সংবেদী প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক দ্রুত। মানুষের চোখের আলোকসংবেদী কোষে এ ধরনের বিক্রিয়া হতে সময় লাগে প্রায় ১০ মিলিসেকেন্ড; প্রায় বিশ গুণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/l3ictwp7/2.jpg"><figcaption>ক্ল্যামাইডোমোনাস শৈবাল আইস্পটের সাহায্যে আলো শনাক্ত করে</figcaption></figure><p>নব্বইয়ের দশকে হেগেম্যান ভাবলেন, <em>ক্ল্যামাইডোমোনাস</em> এত দ্রুত আলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারার অর্থ এই পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ, অনেক কম ধাপেই সম্পন্ন হয়। তিনি ধারণা করলেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটা ঘটে একটা প্রোটিনের মাধ্যমে। কিন্তু এই প্রোটিন আলাদা করা সহজ ছিল না। আইস্পট থেকে প্রোটিন আলাদা করতে গেলেই তা খুব সহজে নষ্ট হয়ে যায়। </p><p>জাপানি একদল বিজ্ঞানী ক্ল্যামাইডোমোনাসের হাজারো জিনের জেনেটিক কোড ম্যাপিং করেছিলেন।একুশ শতকের শুরুতে, হেগেম্যানের গবেষণা দল আবিষ্কার করলেন, এই হাজারো জিনের মধ্যে দুটির সঙ্গে অন্যান্য আলোকসংবেদি প্রোটিনের মিল আছে। তবে এগুলোই কি সেই প্রোটিন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হেগেম্যান যোগাযোগ করলেন ফ্রাঙ্কফুর্টে, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োফিজিক্সের গেওর্গ নাগেলের সঙ্গে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A1-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার</a></aside><blockquote>হেগেম্যান দেখলেন, আলোর উপস্থিতিতে ক্ল্যামাইডোমোনাসের এই আইস্পট আধা মিলিসেকেন্ডের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই প্রতিক্রিয়া অন্যান্য আলোক সংবেদী প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক দ্রুত।</blockquote><p>বিজ্ঞানী নেগেল এই দুই জিনকে প্রবেশ করলেন ব্যাঙের ডিম্বাণুতে। এই ডিম্বাণুগুলো তখন এই জিন থেকে প্রোটিন দুইটি তৈরি করতে শুরু করলো। এবার এই প্রোটিনগুলোর ওপর গবেষণার পালা। নেগেল আবিষ্কার করলেন, এই নতুন প্রোটিনগুলো হচ্ছে আয়ন চ্যানেল। আলোর উপস্থিতিতে এই চ্যানেলগুলো খুলে যায়। তিনি এদের নাম দিলেন চ্যানেলরডোপ্সিন-১ ও ২ । চ্যানেলরডোপ্সিন-২ প্রোটিনটি অপটোজেনেটিকসের দুয়ার খুলে দিয়েছে।</p><p>চ্যানেলরডোপ্সিনের বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আরেকটু কথা বলা দরকার। এর সঙ্গে মিল আছে রডোপ্সিনের, যা পাওয়া যায় চোখের রড কোষে। চ্যানেলরডোপ্সিন প্রায় বিশ গুণ দ্রুত কাজ করে, কিন্তু তার পাশাপাশি এর আরেকটি বিশেষ গুণ আছে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/mservnzi/3.jpg"><figcaption>নাগেল ও হেগেম্যান ক্ল্যামাইডোমোনাস-এর জিন ব্যাঙের ডিম্বাণুতে প্রবেশ করান</figcaption></figure><p>চোখের রডোস্পিন কাজ করতে ভিটামিন এ থেকে তৈরি হওয়া রেটিনাল যৌগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু উত্তেজিত অবস্থায় রডোপ্সিন এই রেটিনাল যৌগ ছেড়ে দেয়। এই যৌগ আটকে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই, তাই ভিটামিন এ যুক্ত খাবার মানুষকে সবসময় খেতে হয়। চ্যানেলরডোপ্সিন কাজ করতেও রেটিনাল যৌগ প্রয়োজন হয়, কিন্তু এই প্রোটিনটি এই রেটিনালকে ধরে রাখতে পারে। তাই সবসময় বাইরে থেকে রেটিনাল বা ভিটামিন এ যোগান দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।</p><p>তাছাড়া চ্যানেলরডোপ্সিন হলো আয়ন চ্যানেল। নিউরনের বিদ্যুৎ প্রবাহের কাজও এরকম আয়ন চ্যানেলের সাহায্যেই হয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/4lt6y95vxx">নোবেল নিয়ে পাঁচ তথ্য</a></aside><blockquote>চোখের রডোস্পিন কাজ করতে ভিটামিন এ থেকে তৈরি হওয়া রেটিনাল যৌগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু উত্তেজিত অবস্থায় রডোপ্সিন এই রেটিনাল যৌগ ছেড়ে দেয়।</blockquote><p>হেগেম্যান ও নেগেল সরাসরি মানব ভ্রূণ ও হ্যামস্টারের কোষে এই চ্যানেলরডোপ্সিন-২ প্রোটিন প্রবেশ করিয়ে দেখলেন, তারা আলোক সংবেদী হয়ে যায়। তারা ধারণা করলেন, এই প্রতিনিয়ত কোষে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করতে খুব ভালো কাজ করবে।</p><p>এবার এই প্রোটিন নিয়ে কাজ শুরু করলেন বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসারোথ। নব্বইয়ের দশকে তিনি চিকিৎসক হিসেবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের ক্লিনিকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। বিষণ্নতা, অটিজম, আলঝেইমারস ডিজিজ সহ বিভিন্ন মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষকে দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, ঠিক কীভাবে মস্তিষ্কে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়।</p><p>চিকিৎসক হিসেবে পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি নিউরোসায়েন্সে পিএইচডি করছিলেন। তাঁর গবেষণার মূল অংশ ছিল মস্তিষ্ককে মাইক্রোস্কোপের নীচে দেখা। কিন্তু তিনি বুঝতে পারলেন, জীবিত মস্তিষ্কে কী হয় সেটা বুঝতে হলে তার গবেষণা হতে হবে জীবিত মস্তিষ্কেই। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/1i6jpnka/4.jpg"><figcaption>ডেইসেরথ পেট্রি ডিশে রাখা স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিন-২ তৈরির জিন প্রবেশ করান</figcaption></figure><p>অনেক বিজ্ঞানী ততদিনে আলো ব্যবহার করে মস্তিষ্কের গবেষণা নিয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু বিজ্ঞানী কার্ল ভাবলেন নতুন কিছু চেষ্টা করতে ঝুঁকি নিতেই হবে। আর তাই তিনি নতুন কোনো প্রোটিনের খোঁজে নামলেন, যা দিয়ে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট নিউরনকে উত্তেজিত করে তোলা যায়।</p><p>নেগেলের গবেষণার কথা জানতে পেরে তিনি তাঁদের থেকে সহায়তা চাইলেন। তাঁর ল্যাবে এসে পৌঁছালো সেই ডিএনএ খণ্ড, যাতে আছে চ্যানেলরডোপ্সিনের জিন। এবার বিজ্ঞানী কার্ল এই ডিএনএগুলোকে প্রবেশ করালেন ইঁদুরের স্নায়ুকোষে। কোষগুলোর কোনো আপাত পরিবর্তন হলো না। কিন্তু এবার নীল আলোর উপস্থিতিতে কোষে বিদ্যুৎ প্রবাহ শুরু হলো। তার মানে সিগন্যাল পৌঁছে যাচ্ছে এক স্নায়ু থেকে আরেকটিতে। তিনি এই আবিষ্কার প্রকাশ করেন ২০০৫ সালে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/bvcoyj64mz">একটি নোবেল বঞ্চনার কাহিনি</a></aside><blockquote>চিকিৎসক হিসেবে পড়াশুনার পাশাপাশি কার্ল ডাইসারোথ নিউরোসায়েন্সে পিএইচডি করছিলেন। তাঁর গবেষণার মূল অংশ ছিল মস্তিষ্ককে মাইক্রোস্কোপের নীচে দেখা।</blockquote><p>কিন্তু বিজ্ঞানী কার্ল এখানেই থেমে থাকলে না, কারণ তাঁর তখনো অনেক দূর যাওয়ার বাকি। তিনি তাঁর আবিষ্কার নিয়ে আলোচনা করলেন অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সঙ্গে। তাঁরা আবিষ্কার করলেন এরকম আরও বিভিন্ন প্রোটিন আছে, আর সেগুলো নিয়ে তারা কাজ করতে শুরু করলেন। যাত্রা শুরু হলো অপটোজেনেটিকসের। ২০০৬ সালে কার্লের গবেষণা দল জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কের কিছু বিশেষ নিউরনে চ্যানেলরডোপ্সিন-২ প্রবেশ করান, আর ইঁদুরের খুলিতে একটা ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে একটা অতিসুক্ষ্ম অপটিক্যাল ফাইবার প্রবেশ করিয়ে সেই নিউরনে পাঠান আলো। অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে জীবন্ত ইঁদুরের গোঁফগুলো নাড়ানো সম্ভব হলো। এরপর ঘুমন্ত ইঁদুরকে জাগিয়ে তোলা, কিংবা ভয়ের সৃষ্টি, এরকম বিভিন্ন সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কাজ করা সম্ভব হলো এই প্রযুক্তি দিয়ে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/a6m2tyva/5.jpg"><figcaption>২০০৬ সালে কার্লের গবেষণা দল জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কের কিছু বিশেষ নিউরনে চ্যানেলরডোপ্সিন-২ প্রবেশ করান, আর ইঁদুরের খুলিতে একটা ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে একটা অতিসুক্ষ্ম অপটিক্যাল ফাইবার প্রবেশ করিয়ে সেই নিউরনে পাঠান আলো</figcaption></figure><p>এভাবে আলোর সাহায্যে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু স্নায়ুকোষকে উত্তেজিত করার ক্ষমতা মস্তিষ্ক গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। মস্তিষ্কের ৯০ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ প্রতিটি হাজার হাজার স্নায়ুকোষের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই সংযোগ হতে পারে মস্তিষ্কের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। আবার একদম আলাদা আলাদা কাজ করা দুটি স্নায়ুকোষ থাকতে পারে পাশাপাশি। </p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/y39kams3qq">হকিং কেন নোবেল পুরস্কার পেলেন না</a></aside><blockquote>অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে জীবন্ত ইঁদুরের গোঁফগুলো নাড়ানো সম্ভব হলো। এরপর ঘুমন্ত ইঁদুরকে জাগিয়ে তোলা, কিংবা ভয়ের সৃষ্টি, এরকম বিভিন্ন সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কাজ করা সম্ভব হলো এই প্রযুক্তি দিয়ে।</blockquote><p>অপ্টোজেনেটিকসের কল্যাণে বিজ্ঞানীরা এখন বের করতে পারেন ঠিক কোন স্নায়ুকোষটি কোন কাজ করে, মস্তিষ্কের কোন কাজটি নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যথা, সামাজিক আচার আচরণ, তৃষ্ণা, ক্ষুধা, মনোযোগ কীভাবে কাজ করে, মস্তিষ্কের ঠিক কোন অংশ কোন অংশকে সিগন্যাল পাঠায়, তা জানা সম্ভব হয়েছে। ইঁদুরের জটিল সামাজিক আচরণ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, একটা আচরণের পেছনে থাকতে পারে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের আলাদা আলাদা স্নায়ুকোষ। অপ্টোজেনেটিক্সের সীমা শুধু মস্তিষ্কেই সীমাবদ্ধ নয়। মস্তিষ্ক আর হৃৎপিণ্ডের স্নায়ু কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে, অন্ত্রের বিভিন্ন কোষ কীভাবে চিনির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে, এরকম আরও অনেক নতুন নতুন আবিষ্কার হয়েছে অপ্টোজেনেটিকসের কল্যাণে।</p><p>চিকিৎসাক্ষেত্রেও অপ্টোজেনেটিকস থেকে পাওয়া জ্ঞান ব্যবহার শুরু হয়েছে। বিষণ্নতা, সিজোফ্রেনিয়া, আলঝেইমারস ডিজিজ, পারকিনসন্স ডিজিজসহ মস্তিষ্কের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন রোগ আসলে ঠিক কীভাবে হয়, তা বুঝতে সহায়তা করছে অপ্টোজেনেটিকস। একে সরাসরি চিকিৎসায় ব্যবহার করারও চেষ্টা চলছে। রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা রোগে চোখের রেটিনার রড ও কোন কোষ নষ্ট হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্ধ হয়ে যান। এরকম রেটিনায় চ্যানেলরডোপ্সিনের মতো প্রোটিন প্রবেশ করিয়ে দৃষ্টিশক্তি সামান্য হলেও ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এমনকি শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনতেও অপ্টোজেনেটিকসের ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমান প্রযুক্তিতে কানের ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কাজ করে বিদ্যুতের সাহায্যে। অপ্টোজেনেটিকস ব্যবহার করলে ইমপ্ল্যান্ট আরও সূক্ষ্মভাবে কাজ করতে পারবে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/math/chvvazvku9">গণিতে কেন নোবেল নেই</a></aside><blockquote>বিষণ্নতা, সিজোফ্রেনিয়া, আলঝেইমারস ডিজিজ, পারকিনসন্স ডিজিজসহ মস্তিষ্কের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন রোগ আসলে ঠিক কীভাবে হয়, তা বুঝতে সহায়তা করছে অপ্টোজেনেটিকস।</blockquote><p>নিউরোসায়েন্সের ইতিহাসে মস্তিষ্ক গবেষণার উন্নতির পেছনে সবসময়ই ছিল মস্তিষ্ককে ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করার বিভিন্ন প্রযুক্তি। বিজ্ঞানী গলগির গলগি স্টেইনিং থেকে বিজ্ঞানী কাহাল আবিষ্কার করেছিলেন নিউরন। বিজ্ঞানী নেহের ও স্যাকম্যান আবিষ্কার করেছিলেন কীভাবে ছোট স্নায়ুকোষের ওপর কাজ করা যায়। তেমনি অপ্টোজেনেটিকসের মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কের ওপর কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা শুধু নিউরনের কাজ দেখতেই পারছেন না, সেটা নিয়ন্ত্রণও করতে পারছেন, বুঝতে পারছেন ঠিক কোন স্নায়ুকোষগুলো কোন কাজ করে, কীভাবে মস্তিষ্ক আমাদের জীবনের সকল দিক নিয়ন্ত্রণ করে।</p><h4>লেখক: ডক্টরাল রিসার্চার, লিমোজ বিশ্ববিদ্যালয়/ইনসার্ম, ফ্রান্স </h4><h4>সূত্র: নোবেল প্রাইজ ডটঅর্গ</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/c7uworzr9b">অপাত্রে নোবেল!</a></aside>
প্যারিসের উপকণ্ঠের এই ক্যাম্পের পার্কিংয়ে গাড়ি থামলেই ক্যামেরার সামনে পোজ দিতেন খেলোয়াড়েরা। পরনে নামীদামি ব্র্যান্ডের পোশাক; কখনো মার্জিত, কখনো অদ্ভুত, যা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যেত এবং জন্ম দিত আলোচনার।
<p>বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পর্যটকবাহী একটি জিপ গাড়ি (স্থানীয়ভাবে চাঁদের গাড়ি নামে পরিচিত) খাদে পড়ে দুই পর্যটক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৫ জন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আজ সোমবার বিকেল পৌনে চারটায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।</p><p>বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থানচির ডিমপাহাড়- টেন্ডুমুখ সড়কে নৌঘাটের দিকে নামার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। টেন্ডুমুখ নৌ চেকপোস্ট থেকে আনুমানিক ৬০০ মিটার দূরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/d9t7pr45/WhatsApp-Image-2026-10-05-at-7.02.50-PM.jpeg"><figcaption>পর্যটকবাহী জিপ গাড়ি খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। আজ বিকেলে বান্দরবানের থানচির ডিমপাহাড়- টেন্ডুমুখ সড়কে</figcaption></figure><p>দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেনের নেতৃত্বে টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। বিজিবি সদস্যরা ২ জনকে মৃত এবং ৫ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আহত ৫ জনকে উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানচি থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।</p><p>বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রমে বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি বিজিবির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হয়।</p>
<p>চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা আন্দোলনের নেতারা। অন্যথায় ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।</p><p> আজ সোমবার সকালে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির ব্যানারে এই কর্মসূচিতে সরকারদলীয় শ্রমিক দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।</p><p> কর্মসূচির কারণে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের দিকে যানবাহন চলাচল বেলা দেড়টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এ সময় পুলিশ, বন্দর নিরাপত্তা বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।</p><p>১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার জন্য রেয়াতি চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। এখন কিছু প্রক্রিয়াগত কাজ সেরে চুক্তির পালা। চুক্তির আগেই বন্দর রক্ষা আন্দোলনের বানারে এই কর্মসূচির ঘোষণা এল।</p><p>আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদি তা–ই হয়, তাহলে চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হয়ে যাবে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।</p><p>বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির বলেন, সরকার যখন অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তখন এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দিতে কেন এত তাড়াহুড়া করছে, তা জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে।</p><p>জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বললেন, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান ডিপি ওয়ার্ল্ডের স্বার্থে কাজ করছেন। বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।</p><p>জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করবে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু আমরা হতাশ।’</p><p>ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সভাপতি তপন দত্ত ঘোষণা দেন, দাবি আদায়ে ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে ঘেরাও করা হবে। কার্যালয় থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।</p><p>ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন বললেন, বিদেশিদের ইজারা নিয়ে সরকার আমাদের বুঝিয়ে দেবে অন্যথায় আমরা নিজেরাই বুঝে নেব। এভাবে আমরা আর বসে থাকব না।</p><p>জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন বলেন, বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে দেওয়া হলে তারা নামমাত্র কর দিয়ে বড় অংশের অর্থ নিয়ে যেতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। দেশীয় জনবল দিয়ে বন্দর পরিচালনা করলে এর আয় দেশের অর্থনীতিতেই থাকবে।</p><p>কর্মসূচিতে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বাসদ মার্ক্সবাদী চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।</p>
তিনবার যানবাহন বদলে আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটার আগেই মাকে নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পৌঁছায় সাজিয়া।
<p>খাদ্যনিরাপত্তায় ৩০ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বাজারদরে এর পরিমাণ ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।</p><p> আজ সোমবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এ–সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ইআরডিতে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়।</p><p> চুক্তিতে সই করেন ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের পরিচালক জ্যঁ পেম। ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।</p><p>‘জরুরি খাদ্যনিরাপত্তা সহায়তা প্রকল্প’ বাস্তবায়নে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটি অর্থ বিভাগ বাস্তবায়ন করবে। এ কাজে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সমন্বয় করবে।</p><p>সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো রোপণ মৌসুমে বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান রাখা। ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে ছাড়ের সময় রয়েছে।</p><p>বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন রয়েছে।</p>
<h3>উপকরণ</h3><ul><li><p>লইট্টা মাছের শুঁটকি: ১০–১২টি</p></li><li><p>বেগুন: ২টি</p></li><li><p>আলু: ২টি (লম্বা করে কাটা)</p></li><li><p>পেঁয়াজ: ২টি (কুঁচি)</p></li><li><p>রসুন: অর্ধেকটা (কিছু কুঁচি, কিছু আস্ত)</p></li><li><p>তেল: ১ টেবিল চামচের ৩ ভাগের ১ ভাগ</p></li><li><p>মরিচগুঁড়া: ১ চা-চামচ</p></li><li><p>ধনিয়া: ১ চা-চামচ</p></li><li><p>হলুদগুঁড়া: ১ চা-চামচ</p></li><li><p>জিরাবাটা: ১ চা-চামচ</p></li><li><p>লবণ: পরিমাণমতো</p></li><li><p>ঝোলের জন্য পানি: পরিমাণমতো</p></li></ul><h3>প্রণালি</h3><ul><li><p>লইট্টা মাছের শুঁটকি ভালো করে পরিষ্কার করে কেটে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। </p></li><li><p>এরপর চুলায় পাত্র বসিয়ে দিয়ে ওপরের উপকরণ দিয়ে মশলা কষিয়ে নিন। </p></li><li><p>এর মধ্যে শুঁটকি ঢেলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ২-৩ মিনিট রান্না করে নিতে হবে। </p></li><li><p>ঢাকনা খুলে এতে আলু দিন, কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। </p></li><li><p>কষানো হলে বেগুন দিয়ে আবার ১-২ মিনিট রান্না করেন। পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। </p></li><li><p>আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে লবণ চেখে নামিয়ে নিন।</p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/vdkwsng4ph">দেখুন পটোল চিংড়ির দোলমার রেসিপি </a></aside>
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও কমপক্ষে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২৭১ জনে দাঁড়াল। অন্যদিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
ঢাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশের দিক থেকে গত জুনে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি পেতে হলে আইএমএফ- এর চারটি শর্ত বাংলাদেশকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কারে দৃঢ়তা দেখাতে হবে। যদিও এ বছর বাজেটেই বলা হয়েছে, সরকার প্রথম দুই বছরে বড় কোনো সংস্কারে যেতে চায় না। ফলে আইএমএফ নিয়ে আসলে কী হতে যাচ্ছে?
সম্প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক তিনজন নারী বাংলাদেশ থেকে নেপালে যাওয়ার জন্য ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন অফিসারদের নানা ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হন, হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু শুধু বিমানবন্দরেই নয়, দেশের ভেতরেও একা কিংবা নারীরা কয়েকজনে মিলে ঘুরতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তিন দিন ধরে বিক্ষোভ হয়েছে দিল্লি ও মুম্বাইতে। আগামী ১০ই অক্টোবর ফের বিক্ষোভ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থী ছাত্র -যুব সংগঠন।
বলসোনারোর ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় তিনিই এগিয়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ প্রথম দফায় বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থীর মধ্যে ডানপন্থী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল। আগামী ২৫শে অক্টোবর এই দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে পুলিশের নিজস্ব রিপোর্টের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি পরিবহনে জ্বালানির দাম বাড়া এবং বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৬ সালের নিকন কমেডি ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাওয়ার্ডসের ফাইনালিস্টদের মধ্যে রয়েছে একটি ভ্রূকুটি করা পেঁচা, হাসিতে মগ্ন ভালুক এবং অলসভাবে বসে থাকা একটি ম্যান্ট্রিস।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রস্তুতির আভাসের মধ্যেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী যে মন্তব্য করেছেন তা বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। কী বলেছেন দীনেশ ত্রিবেদী? কী বোঝাতে চেয়েছেন তিনি?
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নেশার টাকা জোগাড় করতে সাড়ে চার মাস বয়সী আপন ভাগ্নেকে বিক্রি করেছেন মামা জিয়ারুল ইসলাম (২১)। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিয়ারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার ও বিক্রি করা শিশুকে উদ্ধার করেছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সীমান্তে গরু পারাপারের সময় ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফের ছোড়া ককটেল ও শটগানের গুলিতে গুরুতর আহত হন ভারতের দুই নাগরিক।
নিয়ম না মেনে মর্টগেজ দিয়ে আর্থিক লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজকে ঋণ দিয়ে তা মিলেমিশে আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
খাগড়াছড়িতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে আলোচনা করা হয়।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মাঠে যখন প্রতিপক্ষ লিওনেল মেসি, সেই মুহূর্ত যে কোনো ফুটবলারের কাছেই স্বপ্নের মতো। এমনই এক স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় বেনিনের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ তিজানি।
ফুটবলের দেশ উরুগুয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দলও তারা। কিন্তু ভারতের মাটিতে পা রাখতেই যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেল ফুটবল। ব্যাট-বল হাতে ক্রিকেটেই মেতে উঠলেন উরুগুয়ের তারকা ফুটবলাররা।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে ময়মনসিংহ-১০ এর সাবেক সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল (৪৮) অবৈধ সম্পদ অর্জন করে স্ত্রী শারমিন গোলন্দাজের নামে জমা রেখেছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।