অ্যাপসে লেনদেনের তথ্য পাবেন বিনিয়োগকারীরা
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেটের প্রতিটি পূজামণ্ডপে আতশবাজি কিংবা দর্শনার্থী বা স্থানীয় মানুষের বিরক্তি বা উদ্বেগ সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>রাজধানীর পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।</p><p> মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আজ বুধবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p><p> আজ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আন্দোলন চলাকালে এই শিক্ষক ছাত্রদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার। তিনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক।</p><p>রাষ্ট্রপক্ষের এমন বক্তব্যের সময় কাঠগড়ার রেলিং ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন অধ্যাপক জামাল উদ্দিন।</p><p>এর আগে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জামিন চান। তিনি বলেন, আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।</p><p>আদালত সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন।</p><p>আদালতে দাখিল করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত হন। তখন পুলিশ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। ওই সময় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করে।</p><p>পুলিশের দাবি, তদন্তে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থন, অপরাধের ষড়যন্ত্র এবং সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।</p><p>এর আগে গত ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা থেকে একটি পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।</p>
মুঠোফোনের তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার। এছাড়া দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে...
ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। বাব আল-মানদেব ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি
শেয়ারবাজারে ‘অবাঞ্ছিত’ সালমান বেক্সিমকোর পর্ষদ থেকেও বাদ
ভালোবাসার ‘জাদুকর’ থেকে বিচ্ছেদ, কেন আলাদা হলেন প্রীতম-শেহতাজ?
<p>রাজধানীর মতিঝিলের হিরাঝিল হোটেলকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। হোটেলটির রান্নাঘর অপরিষ্কার, লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা উপকরণ না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এ জরিমানা করা হয়।</p><p> নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, হোটেলটির রান্নাঘরের মেঝে নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে ছিল। সেখানে ঢাকনাবিহীন ময়লার পাত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া লেবেলবিহীন ঘি সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে দেখা যায়। খাদ্যকর্মীদেরও কোনো স্বাস্থ্যসুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।</p><p>আজ বুধবার হোটেলটিতে অভিযানকালে হোটেল কর্তৃপক্ষ পানি পরীক্ষার সনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এসব অনিয়মের কথা স্বীকার করায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী হোটেলটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।</p><p>নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুপম দাস অনুপের নেতৃত্বে মতিঝিলে হিরাঝিল হোটেলে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মেহরিন যারীন তাসনিম, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আসলাম ভূঁইয়াসহ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p>নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যোগসাজশমূলক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়।</p><p> বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোজ্যতেল, ডিম, মুরগি, আটা, ময়দা, চাল, পেঁয়াজ, আলু ইত্যাদি সামগ্রীর যোগসাজশমূলক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।</p><p>বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলার রায় ও আদেশের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তি, যোগসাজশ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মতো কার্যক্রমকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে কমিটিকে জানানো হয়।</p><p>আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশপাশি বিদেশে বাণিজ্য মিশনে পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নিতে বলেছে কমিটি।</p><p>কমিটির সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, মো. বরকতউল্লা বুলু, হেলেন জেরিন খান, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজী এনামুল হক এবং আবদুল মুনতাকিম অংশ নেন।</p>
<p>একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুধু পাঠ্যবই, পরীক্ষা কিংবা ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো একজন শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে সে নিজের চিন্তা প্রকাশ করতে পারে, নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী হয় এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। সেই ভাবনা থেকেই ঢাকার উত্তরায় গড়ে উঠেছে ‘স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ (এসআইএসবি)’। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী ও মানবিক একটি শিক্ষাব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। </p><h3>অভিভাবকদের স্বপ্ন থেকে গড়া এসআইএসবি </h3><p>এসআইএসবির প্রতিষ্ঠার গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘কোভিড-১৯’ মহামারির সময়ের অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা। তখন অনলাইন ক্লাসের সময় টিউশন ফি নিয়ে অনেক পরিবারকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ফি দিতে না পারায় পরীক্ষা দিতে না দেওয়া, অনলাইন ক্লাস থেকে বাদ দেওয়া কিংবা ভর্তি বাতিলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। এর প্রেক্ষাপটে অভিভাবকেরা অনলাইন ক্লাস চলাকালীন ৫০ শতাংশ টিউশন ফি ওয়েভারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে সেই অভিজ্ঞতা থেকেই অভিভাবকেরা একটি মানবিক ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তাঁদের সেই উদ্যোগ ও স্বপ্নের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে এসআইএসবি।</p><h3>প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান </h3><p>শিক্ষার্থীদের বয়স ও শিক্ষাস্তর অনুযায়ী এখানে রয়েছে প্রি-স্কুল, প্রাইমারি ও সিনিয়র সেকশন। আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির অংশ হিসেবে ১৬টি শ্রেণিকক্ষে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ডিসপ্লে বোর্ড। এর মাধ্যমে পাঠদানকে আরও অংশগ্রহণমূলক (ইন্টারঅ্যাকটিভ) করে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পাঠের বিষয়গুলো শুধু পড়ে নয়, বিভিন্ন দৃশ্য ও ডিজিটাল উপকরণের মাধ্যমেও বোঝার সুযোগ পাচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/0yw7wn5g/02.-ImageStepping-stone-School.jpeg"><figcaption>আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী ও মানবিক একটি শিক্ষাব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ</figcaption></figure><h3>বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও প্রতিভা বিকাশের যত সুযোগ </h3><p>শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক শেখার সুযোগও রয়েছে। এসআইএসবিতে রয়েছে মোট চারটি ল্যাব—ফিজিকস, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি ও কম্পিউটার। এসব ল্যাবে বিভিন্ন ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বিষয়ের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সংযোগ তৈরি করছে।</p><p>শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশে রয়েছে ১৪টি ক্লাব। কারাতে, রোবোটিকস, স্পোর্টস, আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস, ল্যাঙ্গুয়েজ, ম্যাথ, সায়েন্স, মিউজিক, ডিবেট, গিটার, প্রোগ্রামিং, দাবাসহ বিভিন্ন ক্লাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পড়াশোনার বাইরে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা চর্চার ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে।</p><h3>স্কুলের সঙ্গে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা </h3><p>এসআইএসবির সঙ্গে অভিভাবকদের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁদের উদ্যোগের মধ্য দিয়েই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা। তাই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্কুল পরিচালনায় অভিভাবকদের অংশগ্রহণ ও মতামত প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।</p><h3>আন্তর্জাতিক শিক্ষার সঙ্গে সংযোগ </h3><p>শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিসরের সঙ্গে পরিচিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিসাই গ্লোবাল স্কুল ইউকে, আইডব্লিউপিজি কোরিয়া, স্প্রিক্স ইনক. জাপান এবং পিওর লার্নিং ইউকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/68nx7x0l/03.-ImageStepping-stone-School.jpeg"><figcaption>এসআইএসবির বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা</figcaption></figure><h3>আন্তর্জাতিক কারিকুলাম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ </h3><p>এসআইএসবিতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পার্টনার স্কুল হিসেবে কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ডের কিউএ কারিকুলাম অনুসরণ করে পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইউরোপীয় ও আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপসহ সরাসরি ভর্তির সুযোগ রয়েছে।</p><h3>শিক্ষক নিয়োগ </h3><p>এসআইএসবিতে তিন ধাপের যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও শিক্ষাদানের সক্ষমতা বিবেচনায় দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের এসআইএসবিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।</p><h3>অর্জন ও স্বীকৃতি </h3><p>ছয় বছরের পথচলায় বিভিন্ন অর্জনও এসেছে এসআইএসবির। ‘বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরাম’–এর অনলাইন জরিপে ২০২৫ সালে ঢাকার সেরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তালিকায় সপ্তম এবং ২০২৬ সালে ‘সেরা ভ্যালু ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল’–এর তালিকায় সপ্তম স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।</p><p>এ ছাড়া আইডব্লিউপিজি ইন্টারন্যাশনাল আর্ট কম্পিটিশনে এসআইএসবির একজন শিক্ষার্থী বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এই স্কুলের শিক্ষার্থী ২০২৬ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল রোবোটিকস প্রোগ্রাম কনটেস্টে অংশগ্রহণ করে এবং তার দল ১১তম স্থান অর্জন করে।</p><h3>ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি </h3><p>সাশ্রয়ী ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, কার্যক্রমভিত্তিক শিক্ষাপদ্ধতি, দক্ষ শিক্ষক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির সুযোগ—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিস্তৃত শিক্ষার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে এসআইএসবি।</p><p>স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা নয়; বরং তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও গভীর দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটানো। আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা বিশ্বমানের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকবে।’</p><figure></figure><h3>বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ </h3><p>বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ (এসআইএসবি)। প্রতিষ্ঠানটিতে এসব শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার পাশাপাশি নানা সহায়ক ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হয়েছে।</p><p>সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উপযুক্ত পরিবেশ, যত্ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও তাদের মেধা ও সক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে পারে। সঠিক শিক্ষার সুযোগ পেলে এসব শিশু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এসআইএসবির এই উদ্যোগকে তাঁরা অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।</p><h3>স্কুলের মানবিক উদ্যোগ </h3><p>স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সামাজিক ক্লাবের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর দুই ঈদে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে উপহার এবং শীতকালে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।</p><p>আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্কুলে বিভিন্ন বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে ‘সিঙ্গেল মাদার’ ও ‘সিবলিং’ স্কলারশিপে ২৫–৩০ শতাংশ, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের ‘হার্ডশিপ’ স্কলারশিপে ৫০ শতাংশ, মেধাভিত্তিক বৃত্তিতে ২৫ থেকে ৭৫ শতাংশ এবং অভিভাবকের মৃত্যু হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০০ শতাংশ পর্যন্তও বৃত্তি দেওয়া হয়।</p><p>একটি শিশুর সম্ভাবনা শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। তার চিন্তা, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও স্বপ্নও ভবিষ্যৎ গঠনের অংশ। সেই সম্ভাবনাকে ধাপে ধাপে বিকশিত করে আগামী দিনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করাই এসআইএসবির অন্যতম লক্ষ্য।</p>
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এদিকে, বাংলাদেশে আসন্ন দুর্গাপূজায় টানা তিনদিন সরকারি ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা, তবে তাদের এক দিনের সপ্তাহিক ছুটি কমছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত চার বছরে দেশটিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। আরও প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ মানুষ, যারা এখন নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে অবস্থান করছেন, তারাও দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাষ্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা সামনে আসার পর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভাঙচুরের শিকার মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ও ভাষ্কর্যের রক্ষা বা সংস্কারে বর্তমান সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে অবস্থিত ‘আপনজন’ নামক একটি বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত পৃথক পৃথক ভুয়া দাবির অভিযোগে মঙ্গলবার ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জাল প্রমাণ তৈরিতে সাহায্যের জন্য সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
নেহা বোরার রাজনৈতিক উত্থানের শুরুটা হয় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত অভিজিৎ দীপকে ও সোনম ওয়াংচুকের পাশাপাশি তিনিও একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
যে মামলাটি বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত খুনি দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে গিয়ে টেনেসির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
কয়েকদিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে। তার সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। তাদের অনেকে বলছেন যে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি তিনিই।
৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের জীবনটা খুব সহজ নয়, বরং বড় উত্থান-পতনে ঘেরা। বলা চলে, তিনি ছিলেন সেই 'রাজপুত্র' যিনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। ‘প্রতিবিপ্লবী’ হিসেবে চিহ্নিত একজন ব্যক্তির পুত্র হওয়ায় কিশোর শি-কে জোর করে একটি পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
কেউ যাচ্ছিলেন বাসায়, কেউবা ঘুরছিলেন রাস্তায়। এমন সময় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৩৩ জন আহত হয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি ফিক্সড-উইং (সাধারণ বিমান), রোটারি-উইং (হেলিকপ্টার) এবং চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরপেক্ষ সংস্থা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা আরো জোরদার ও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মব’ করে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর বলেছেন, দেশের আবাসন ও নির্মাণ খাত বর্তমানে ধীরগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এর নতুন মোবাইল অ্যাপ বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঢাকার সাভার উপজেলায় ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।