bangladesh

মুঠোফোনের তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ গ্রেপ্তার ও অন্যান্য খবর

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মুঠোফোনের তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ গ্রেপ্তার ও অন্যান্য খবর
মুঠোফোনের তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ গ্রেপ্তার ও অন্যান্য খবর
মুঠোফোনের তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার। এছাড়া দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে...

Prothomalo

View more
নদীভাঙন রোধে বারবার ব্যয় নয়, টেকসই পরিকল্পনার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির
নদীভাঙন রোধে বারবার ব্যয় নয়, টেকসই পরিকল্পনার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির

<p>নদীভাঙন রোধে প্রতিবছর একই ধরনের কাজ করে অর্থ ব্যয়ের বদলে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি। যে বরাদ্দ আছে, তা দিয়ে কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী কাজ করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।</p><p> আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলা হয়। প্রয়োজনে চীন ও নেদারল্যান্ডসে কীভাবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়, সে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।</p><p> বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন পাউবো ও পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) চলমান কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।</p><p> সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাউবো বৈঠকে তাদের বরাদ্দ স্বল্পতার বিষয়টি তুলে ধরে। কমিটি বলেছে, নদীভাঙন রোধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা টেকসই হচ্ছে না। প্রায় প্রতিবছরই একই কাজ করতে হয়। তাই বিদ্যমান বরাদ্দের মধ্যেই কীভাবে টেকসই কাজ করা যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।</p><p>বন্যা ব্যবস্থাপনা ও নদী সুরক্ষায় পাউবো এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬৬৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছে। ৩ হাজার ৯৮১ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন, ১ হাজার ৬৩০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং ১ হাজার ৭৬৮ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়ন করেছে। এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে ১৩৯টি পোল্ডার নির্মাণ করা হয়েছে।</p><p>বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নদীভাঙন রোধে স্বল্পমেয়াদি ও পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পলি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং নাব্যতা রক্ষায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।</p><h3>উত্তরাঞ্চলের তিন জেলায় পানিসংকট </h3><p>বৈঠকে উত্তরাঞ্চলের তিন জেলার পানিসংকট নিয়ে ওয়ারপোর একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ—এই তিন জেলার মোট ১৫৩টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫৯৩টি মৌজাকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।</p><p>এর মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজা ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’। ৪০টি ইউনিয়নের ৮৮৪টি মৌজা ‘উচ্চ’ এবং ৬৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ২৪০টি মৌজায় ‘মধ্যম’ পানি সংকট রয়েছে।</p><p>সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সংকটপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কমানো, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানো এবং পানির পুনর্ব্যবহার নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।</p><p>কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

<p>বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ কমিটি কাজ করবে।</p><p> আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের নবনিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অংয়ের সৌজন্য সাক্ষাতে এ সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।</p><p>বৈঠকে সিঙ্গাপুরের ট্রেডট্রাস্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারের পর স্থানীয় ব্যাংকগুলোর এ কার্যক্রমে আগ্রহ এবং কয়েকটি ব্যাংকের ইতিমধ্যে অংশগ্রহণের বিষয়টি সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধিরা প্রশংসা করেন।</p><p>বৈঠকে গভর্নর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার আহ্বান জানান তিনি।</p><p>সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অংয়ের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওয়াং চু সিন এবং এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের বেনজামিন চুয়েসহ একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান ও মো. সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ এবং পরিচালক আবু ছালেহ মুহাম্মদ সাহাব উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ভুল করে নাটোর রেলস্টেশনে নামলেন জার্মান পর্যটক, খোয়ালেন ল্যাপটপ ও ক্যামেরা
ভুল করে নাটোর রেলস্টেশনে নামলেন জার্মান পর্যটক, খোয়ালেন ল্যাপটপ ও ক্যামেরা

নাটোর রেলস্টেশনে এক জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র খোয়া গেছে। স্টেশনের বিশ্রামকক্ষ থেকে তাঁর ব্যাগটি চুরি হয়েছে, যেখানে ল্যাপটপসহ অন্য জিনিসপত্র ছিল। বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান
এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান

<p>ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে সরকার। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলার একটি হোটেলে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়। মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হওয়ার পর নতুন এ চুক্তি হলো।</p><p> ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার উপস্থিত ছিলেন। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন এয়ারবাসের জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন।</p><p>বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় এয়ারবাস থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কিনবে বিমান। প্রশস্ত কাঠামোর এ৩৫০-৯০০ মূলত দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং সরু কাঠামোর এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা হবে। তবে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে কত অর্থ খরচ হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি বিমান বা এয়ারবাস।</p><p>বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এয়ারবাসের উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হতে পারে ২০৩৩ সালে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে।</p><h3>‘কাউকে খুশি করার জন্য চুক্তি নয়’ </h3><p>অনুষ্ঠানে বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমানে দেশের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ যাত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যাতায়াত করেন, বাকি ৮০ শতাংশ যাত্রী বহন করে বিদেশি ও অন্যান্য এয়ারলাইনস। যাত্রীর চাহিদা বাড়লেও বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংকট রয়েছে। এ কারণে বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করে অন্তত ৫০ শতাংশ বাংলাদেশি যাত্রীকে নিজস্ব উড়োজাহাজে বিদেশে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে চান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘সঠিক নেটওয়ার্কের জন্য সঠিক বহর, সঠিক অবকাঠামো ও সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। আমরা বিমানকে বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ারলাইনস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’</p><p>বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের এ খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউরোপের যে কেউ এসে এই প্রকল্পে অংশ নিতে পারেন।’</p><p>অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন্ধুদের খুশি করতে নয়, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন মেটাতেই এয়ারবাসের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই সরকার এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করেছে, কারণ এটি আমাদের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন মেটায়। বাংলাদেশ কাউকে খুশি করার জন্য চুক্তি করে না, প্রয়োজনের ভিত্তিতে করে। যেখানে ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা ও প্রয়োজন আছে, সেখানে আমরা চুক্তি করব—সেটি এয়ারবাসের সঙ্গে হোক বা বোয়িংয়ের সঙ্গে।’</p><p>অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন এয়ারবাসের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়োম ফোরি। তিনি বলেন, বিমানের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে এয়ারবাস ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং বাংলাদেশে এভিয়েশন খাতের সামগ্রিক অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা করবে।</p><p>অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে এভিয়েশন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে; বিশেষ করে বাণিজ্য, পর্যটন ও বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বাড়াতে এ খাতের উন্নয়ন জরুরি। এ চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের মধ্যে ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।</p><p>বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সারাহ কুক বলেন, বিমানকে আধুনিক বহর, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে এই অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হওয়ার লক্ষ্যেও যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করবে।</p><p>বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত শুধু একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়; বরং বাংলাদেশ ও ইউরোপের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের দৃশ্যমান প্রতীক।</p><p>বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি শুধু ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয় নয়; এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ ও প্রকৌশল সহায়তার একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজও রয়েছে, যা নতুন উড়োজাহাজগুলো দ্রুত ও সফলভাবে বহরে যুক্ত করতে সহায়তা করবে।</p><p>বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়েগা ওচহোওয়া দি চিনচিত্রু বলেন, বাংলাদেশের আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্যদেশগুলো বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে।</p><p>এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার বলেন, বিমান যে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কিনছে, তা বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুট চালুর সুযোগ তৈরি করবে। এ৩৫০-৯০০ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দূরপাল্লার বাজারে এবং এ৩২১নিও দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক বাজারে সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।</p><p>বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন বলেন, নতুন উড়োজাহাজের পাশাপাশি প্রকৌশল ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, পাইলট-কেবিন ক্রু ও গ্রাউন্ড স্টাফদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিমান বিনিয়োগ করছে। যাত্রীদের দৃশ্যমান উন্নতি শিগগিরই দেখা যাবে উল্লেখ করে রুমি এ হোসেন বলেন, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে।</p><p>বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বিমানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত এসেছে বহর, রুট ও আর্থিক কৌশল নিয়ে কঠোর মূল্যায়ন এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের পর।</p><p>এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে চলতি বছর দুই দফায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। গত ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা) ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ও চারটি ৭৩৭-৮।</p><p>দ্বিতীয় দফায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ও ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।</p><p>বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বলছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ আসা শুরু হতে পারে ২০৩১ সালে। সব উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগবে।</p><h3>বিমানের বর্তমান বহর </h3><p>বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও ৫টি ড্যাশ-৮। তবে বহরের দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়ার অবস্থায় রয়েছে। বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়বে। এ কারণে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া (লিজ) নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রমালিকানাধীন সংস্থাটি।</p><p>এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজ যোগ হলে আগামী বছরগুলোতে বিমানের বহরে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫–এ। বর্তমানের ১৯টি উড়োজাহাজ মিলিয়ে বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়াবে।</p><p>বর্তমানে বিমানের বহরের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের তৈরি। এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বহর পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের সামনেই সংঘর্ষ, আহত ৩০
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের সামনেই সংঘর্ষ, আহত ৩০

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের সামনেই সংঘর্ষে জড়ায় চার গ্রামের মানুষ। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় আহত হন ৩০ জন

অক্টোবর ৭, ২০২৬
গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশ
গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশ

<p>গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ এবং শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আজ বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।</p><p> বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, চলতি মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশের জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে যার পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।</p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ৩ দশমিক শূন্য ৩ ও ২ দশমিক ২২ শতাংশ। গত চার প্রান্তিকের আনুমানিক হিসাব বিবেচনায় নিয়ে স্থির মূল্যে গত অর্থবছর শেষে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে একই সময়ে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। আর সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির গতি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।</p><p>বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থির মূল্যে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চতুর্থ প্রান্তিকের হিসাবে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৪৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।</p><p>অন্যদিকে গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থির মূল্যে সর্বশেষ অর্থবছরের এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। তার আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ।</p><p>সেবা খাতেও চতুর্থ প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ তিন মাসে (এপ্রিল–জুন) সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।</p><p>সামগ্রিকভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে শিল্প ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির উন্নতি হলেও কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
আফগানিস্তান টেস্টের আগে এশিয়াড ফেরত ক্রিকেটারদের নিয়ে চিন্তায় সিমন্স
আফগানিস্তান টেস্টের আগে এশিয়াড ফেরত ক্রিকেটারদের নিয়ে চিন্তায় সিমন্স

<p>দুই দিন পরই আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এই প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাতে টেস্ট খেলবে তারা। এই ম্যাচ খেলতে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা গেছেন দুই ভাগে। দেশ থেকে ১ অক্টোবর যান কয়েকজন ক্রিকেটার।</p><p>বাকি ক্রিকেটাররা আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস শেষ করে জাপান থেকে সরাসরি গেছেন আবুধাবিতে। জাপানে তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রির নিচে, অথচ আবুধাবিতে তা ৪০ ডিগ্রি। হুট করে আবহাওয়ার এমন বদল ক্রিকেটারদের জন্য মানিয়ে নেওয়া একটু কঠিন।</p><p>তার ওপর দুবাইয়ের একাডেমি মাঠে আরব আমিরাতের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে, সেখানেও ছিলেন না তাঁরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাদের টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামতে হচ্ছে দুদিন অনুশীলনের পর।</p><p>এ নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে দলের ভেতরও। আজ আবুধাবিতে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে এটাই একমাত্র সমস্যা। যারা জাপান থেকে এসেছে, সেখানে তেমন কিছু না করেই তাদের এই আবহাওয়ায় এসে দুই দিন কাটাতে হচ্ছে। তারা কীভাবে এখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।’</p><p>তবে সিমন্স আশাবাদী লিটনদের নিয়ে, ‘শেষ পর্যন্ত এটা মানসিক ব্যাপারও। কীভাবে তারা নিজেদের মানিয়ে নেয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আজ অবশ্য তাদের ভালোই মনে হয়েছে। গরমের মধ্যে প্রথম দিন হিসেবে তারা ভালো করেছে। তাই আমি নিশ্চিত, তারা দ্রুতই নিজেদের ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে।’</p><p>আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে একটিতে জিতেছে আর হেরেছে অন্যটিতে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেললে সব সময়ই স্পিনারদের মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। সেটির জন্যও তৈরি আছে বাংলাদেশ দল।</p><p>ফিল সিমন্স বলেছেন, ‘আমি উইকেট দেখেছি। ভালোই মনে হচ্ছে। একটু ধীর গতির হতে পারে, তবে ভালো উইকেট বলেই মনে হচ্ছে। আমরা ভালো উইকেটের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা জানি, বেশ কয়েকজন স্পিনারের বিপক্ষে আমাদের খেলতে হবে। সেসব মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি, আর প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/r0onb2py7p">সামনে কি তাহলে তারাও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলবে</a></aside>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশের জনগণের কল্যাণের দিকে দৃষ্টি থাকবে: জয়সোয়াল
বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশের জনগণের কল্যাণের দিকে দৃষ্টি থাকবে: জয়সোয়াল

<p>আগামী দিনে বাংলদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভারতের আলোচনায় পারস্পরিক সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণের বিষয়গুলো মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হবে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন। আজ বুধবার দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তরে এ কথা বলেন তিনি।</p><p> বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের লোকজের কর্মকাণ্ড। তাঁর এই মন্তব্য ভারত কীভাবে দেখছে, সেই প্রশ্ন করে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য ভারত ওই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারবে কি না।</p><p>রণধীর জয়সোয়াল প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও এই বিষয়ে কথা বলেছি, এখন আবার বলছি যে আমাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎ–মুখী সম্পর্ক গড়ে তোলা, যে সম্পর্কের লক্ষ্য হবে দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি। সেই সম্পর্কের আধার হবে জনকল্যাণ। আগামী দিনে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় এদিকেই আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে।’</p><p>আরেক প্রশ্নে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারের নথি ভারতের কাছে পাঠিয়েছে কি না। যেহেতু প্রত্যর্পণের জন্য ওই নথি পাঠানো জরুরি। কারণ, তার ভিত্তিতেই আইনি ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।</p><p>জয়সোয়াল এই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎ–মুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে জয়সোয়াল বলেন, এর সঙ্গে আইনগত প্রশ্ন রয়েছে।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে

<p>রাজধানীর পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।</p><p> মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আজ বুধবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p><p> আজ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আন্দোলন চলাকালে এই শিক্ষক ছাত্রদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার। তিনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক।</p><p>রাষ্ট্রপক্ষের এমন বক্তব্যের সময় কাঠগড়ার রেলিং ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন অধ্যাপক জামাল উদ্দিন।</p><p>এর আগে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জামিন চান। তিনি বলেন, আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।</p><p>আদালত সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন।</p><p>আদালতে দাখিল করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত হন। তখন পুলিশ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। ওই সময় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করে।</p><p>পুলিশের দাবি, তদন্তে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থন, অপরাধের ষড়যন্ত্র এবং সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।</p><p>এর আগে গত ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা থেকে একটি পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন