ছাত্রলীগের সাবেক নেতার মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ সঙ্গে থাকা তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় ধরনের আইন ধাক্কা খেলো ট্রাম্প প্রশাসন।
গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাড়া বাসার একটি কক্ষ থেকে শাহীন হোসেন (৩২) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
দেশের ক্রিকেটে নতুন পেস ও স্পিন বোলিং প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘রবি বোলার হান্ট’-এর পর্দা নামল।
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় লামিয়া বৃষ্টি (১৯) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী রবিউল ছৈয়ালের বিরুদ্ধে।সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘট...
চাঁদপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই ও তার স্ত্রীর ধাক্কায় শাহাজাহান পাটোয়ারী (৬০) নামে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জুতার ভেতরে ইয়াবা বহনের সময় বরগুনায় ২২৫০ পিস ইয়াবাসহ দুজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা নারী।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ১৮টি মামলার রায় ও বিচারিক কার্যক্রমে জালিয়াতি, অনিয়ম কিংবা অসঙ্গতি ছিল কি না, তা তদন্ত করবে আপিল বিভাগের গঠিত কমিটি।
সকাল ৫টায় শুরু হওয়া এই পরিশ্রম শেষ হয় রাত ১১টায়। দিন শেষে মজুরি পান ৪০০ টাকা।
আমরা সাধারণত পৃথিবীকে প্রাণের জন্য আদর্শ জায়গা বলে ধরে নিই। এখানে বাতাস, পানি, সূর্যের আলো, গাছপালা, পশুপাখিসহ আরও কত রকম অণুজীব আছে
<p>বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিলিয়নিয়ার তথা অতিধনীর মোট সম্পদ এক মাসে ২৭ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতনের কারণে তাঁদের সম্পদ এতটা কমেছে।</p><p> তবে সম্পদ কমলেও বিশ্বের শীর্ষ অতিধনীর অবস্থান ধরে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলা ও মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।</p><p> যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসের ১ নভেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিলিয়নিয়ার বা শতকোটিপতির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার, যা আগের মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ কমে।</p><h3>শীর্ষে ইলন মাস্ক </h3><p>সম্পদ কমলেও এখনো বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় যথারীতি প্রথম স্থানে আছেন ইলন মাস্ক। ১ নভেম্বর তাঁর সম্পদের পরিমাণ কমে হয় ৮৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এক মাসে তাঁর সম্পদ কমেছে ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।</p><p>মাস্কের সম্পদের বড় অংশ এসেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলা ও মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স থেকে। স্পেসএক্সের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন তিনি। স্পেসএক্সের ৩৮ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাঁর হাতে। এই কোম্পানি আবার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআই অধিগ্রহণ করে।</p><p>এ ছাড়া টেসলার প্রায় ১১ শতাংশ শেয়ারের মালিক মাস্ক। শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি খাতের দরপতন ও স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্য কমে যাওয়ায় তাঁর সম্পদ অনেকটা কমে গেছে। ফোর্বসের হিসাবে, এক মাসে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১১ শতাংশ কমেছে। তবে টেসলার শেয়ারের দাম অবশ্য বেড়েছে ১৩ শতাংশ। তবে টেসলার এই মূল্যবৃদ্ধি স্পেসএক্সের দরপতনের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারেনি।</p><p>দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তাঁর সম্পদের পরিমাণ কমে হয়েছে ৩৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এক মাসে তাঁর সম্পদ কমেছে ৮০০ কোটি ডলার। মূলত অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশ কমে যাওয়ায় তাঁর সম্পদ কমেছে।</p><h3>তালিকায় প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আধিপত্য </h3><p>শীর্ষ ধনীদের তালিকায় প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের আধিপত্য স্পষ্ট। তৃতীয় অবস্থানে আছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ। এক মাসে তাঁর সম্পদের মূল্য ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার কমে ২৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।</p><p>চতুর্থ শীর্ষ স্থানে থাকা ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল। এক মাসে সম্পদের দাম ৪ হাজার কোটি ডলার কমায় তিনি এখন ২২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক। মাত্র ১৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ছাত্রাবাসে বসে কম্পিউটার বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডেল টেকনোলজিস এখন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান।</p><p>পঞ্চম অবস্থানে আছেন গুগলের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এক মাসে তাঁর সম্পদ কমেছে ৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য তিনি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নেও যুক্ত হয়েছেন।</p><p>বিলিয়নিয়ার তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। এক মাসে তাঁর সম্পদ কমেছে ৪ হাজার কোটি ডলার। এখন ২১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক। ২০০৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে মেটার অধীন ফেসবুক ছাড়াও আছে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ।</p><h3>এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীও শীর্ষ দশে</h3><p>বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় সপ্তম স্থানে আছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। তাঁর সম্পদের মূল্য কমে ১৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে নেমেছে। এনভিডিয়ার তৈরি গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো তৈরিতে এসব চিপের চাহিদা বেড়েছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এনভিডিয়ার ব্যবসা ও বাজারমূল্য দ্রুত বেড়েছে।</p><p>অষ্টম স্থানে আছেন ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৭ হাজার ২০০ কোটি ডলার।</p><p>নবম অবস্থানে মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী স্টিভ বালমার। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। এই দুজনের সম্পদের উৎস মূলত প্রযুক্তি খাতের ব্যবসা ও শেয়ারের মালিকানা।</p><p>১০ম অবস্থানে আছেন ‘বিনিয়োগ গুরু’খ্যাত ওয়ারেন বাফেট। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। শীর্ষ ১০ ধনীর মধ্যে বালমার ও ওয়ারেন বাফেটের সম্পদ গত মাসে কমেনি; বরং বেড়েছে। বরং গত এক মাসে বালমারের সম্পদ বেড়েছে ১০০ কোটি ডলার; বাফেটের সম্পদ বেড়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর গত ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে অবসর নেন তিনি।</p><h3>শীর্ষ ধনীদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রের এবং পুরুষ </h3><p>ফোর্বসের তালিকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং সবাই পুরুষ। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের সম্পদ ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি। তালিকার দশম ব্যক্তি ওয়ারেন বাফেটের সম্পদও ১৫ হাজার কোটি ডলারের ওপরে।</p><p>বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের মেয়ে অ্যালিস ওয়ালটন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। বিশ্বের ধনীদের তালিকায় তাঁর অবস্থান ১৪তম। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ওয়ালমার্টের মালিকানাই তাঁর সম্পদের প্রধান উৎস।</p><p>ফোর্বস ১৯৮৭ সাল থেকে বৈশ্বিক বিলিয়নিয়ার বা শতকোটিপতিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করে আসছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দাম ও বিনিময় হারের পরিবর্তনের ভিত্তিতে সম্পদের হিসাব নিয়মিত হালনাগাদ করে সাময়িকীটি।</p>
<p>মিথ্যা বলা সহজ নয়। মিথ্যা ধরা আরও কঠিন। আমাদের আশপাশেই এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের আমরা সত্যবাদী, বিশ্বস্ত বলে জানি; অথচ তাঁদের কেউ কেউ হয়তো এমন নিপুণভাবে মিথ্যা বলেন যে সন্দেহ করারও সুযোগ থাকে না। এই মানুষগুলোর মনের ভেতরটা আদতে কেমন?</p><p>কিছু মানুষ কথার জালে অন্যকে আটকে ফেলতে সিদ্ধহস্ত। অন্যদিকে যাঁকে মিথ্যা বলা হচ্ছে, তিনি হয়তো বিশ্বাস আর সন্দেহের দোলাচলে পড়ে যান। বিশ্বাস করতে চান; অথচ মনের ভেতর খচখচ করে। কিছু একটা যেন ঠিক নেই!</p><p>তাহলে মিথ্যা বলার সময় মানুষের মনে কী ঘটে? সত্য গোপন করতে কতটা মানসিক পরিশ্রম করতে হয়? আর কীভাবেই–বা বোঝা সম্ভব, কেউ মিথ্যা বলছেন কি না?</p><h3>মিথ্যা বলার চার ধাপ</h3><p>জার্মানির মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তাবেয়া ভেখটারশয়জার ও ক্রিস্টিনা জুখোৎস্কির ২০২৬ সালের গবেষণা অনুযায়ী, সত্য বলার তুলনায় মিথ্যা বলতে সাধারণত বেশি মানসিক পরিশ্রম করতে হয়।</p><p>কারণ, মিথ্যা বলার সময় সত্য কথাটি চেপে রাখতে হয়। তার বদলে এমন একটি উত্তর তৈরি করতে হয়, যা বিশ্বাসযোগ্য শোনাবে। আগের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রাখা এবং কথায় অসংগতি এড়ানোর প্রয়োজনও হতে পারে।</p><p>মিথ্যা বলার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গবেষকেরা ‘অ্যাকটিভেশন–ডিসিশন–কনস্ট্রাকশন–অ্যাকশন’ নামের একটি তাত্ত্বিক মডেলের কথা উল্লেখ করেছেন। এই মডেল অনুযায়ী, মিথ্যা বলার চারটি ধাপ আছে।</p><p><strong>১. সত্য মনে করা:</strong> আসলে কী ঘটেছিল, তা মনে করা।</p><p><strong>২. সিদ্ধান্ত নেওয়া:</strong> সত্য বলবেন, নাকি মিথ্যা বলবেন, তা ঠিক করা।</p><p><strong>৩. মিথ্যা সাজানো:</strong> সত্যের বদলে কী বলবেন, সেই বক্তব্য তৈরি করা।</p><p><strong>৪. মিথ্যা বলা:</strong> তৈরি করা বক্তব্য অন্যের সামনে উপস্থাপন করা।</p><p>এসব ধাপে চিন্তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়। এর সঙ্গে ভয়, অপরাধবোধ কিংবা উদ্বেগ যুক্ত হলে মিথ্যা বলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।</p><p>এ ছাড়া মিথ্যাবাদীকে নিজের বলা কথাও মনে রাখতে হয়। পরে একই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আগের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রাখতে হয়। এভাবে একটি মিথ্যা ঢাকতে গিয়ে কখনো কখনো আরও অনেক মিথ্যার জন্ম হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/jutfagxqio">কিশোর সন্তান কি মিথ্যা বলছে</a></aside><h3>গবেষণায় কী পাওয়া গেল?</h3><p>গবেষকেরা দুটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। প্রথমটিতে অংশ নেন ৪৯ জন, দ্বিতীয়টিতে ৪৮ জন, অর্থাৎ মোট ৯৭ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।</p><p>পরীক্ষার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের কাল্পনিক অপরাধের পরিস্থিতিতে রাখা হয়। প্রথম পরীক্ষায় তাঁদের একটি ইউএসবি স্টিক বদলে ফেলতে বলা হয়েছিল। দ্বিতীয় পরীক্ষায় একটি খাম থেকে এক হাজার ইউরো নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।</p><p>এরপর কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়। কখনো সত্য বলতে, কখনো মিথ্যা বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশ্নগুলোর মধ্যে কাল্পনিক অপরাধের পাশাপাশি সাধারণ দৈনন্দিন বিষয়ও ছিল।</p><p>গবেষকেরা লক্ষ করেন, সত্য ও মিথ্যা বলার সময় উত্তর দিতে কতক্ষণ লাগছে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চান, উত্তর দেওয়ার সময় তাঁরা কতটা মানসিক চাপ ও আবেগগত অস্বস্তি অনুভব করেছেন।</p><figure><img alt="মিথ্যাবাদীর মনের ভেতরটা কেমন, জানেন?" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-02/kqfga14j/pexels-cottonbro-6322721.jpg"><figcaption>কেউ মিথ্যা বলার সময় নিজের আবেগ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন</figcaption></figure><p>ফলাফলে দেখা যায়, সত্য বলার তুলনায় মিথ্যা উত্তর দিতে বেশি সময় লেগেছে। মিথ্যা বলার সময় অংশগ্রহণকারীরা বেশি মানসিক পরিশ্রম ও আবেগগত চাপ অনুভব করেছেন।</p><p>বিশেষ করে সত্য উত্তরটি চেপে রাখা এবং সত্য ও মিথ্যা উত্তরের মধ্যে পরিবর্তন করার কাজকে তাঁরা বেশি কঠিন বলে জানিয়েছেন। মিথ্যা বলার সময় ভয়, অপরাধবোধ, উদ্বেগ ও অস্বস্তির অনুভূতিও তুলনামূলক বেশি ছিল।</p><p>আরেকটি বিষয়ও উঠে এসেছে। কাল্পনিক অপরাধসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অংশগ্রহণকারীদের সাধারণ প্রশ্নের তুলনায় বেশি সময় লেগেছে। এসব প্রশ্নে তাঁরা বেশি মানসিক ও আবেগগত চাপ অনুভব করেছেন।</p><p>তবে গবেষণাটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করা হয়েছে। বাস্তব জীবনে সব মানুষের ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/26dqkh4qc9">শিশু কেন মিথ্যা বলে? পরিত্রাণের উপায় কী?</a></aside><h3>মিথ্যা ধরতে কোন বিষয়গুলো লক্ষ করবেন?</h3><p>ধরুন, কোনো বন্ধু কথা দিয়ে কথা রাখেননি। পরে এমন একটি ব্যাখ্যা দিলেন, যা আপনার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।</p><p>কথা বলার সময় তাঁর অস্বাভাবিক দ্বিধা, উত্তর দিতে দেরি কিংবা উদ্বেগ আপনার নজরে আসতে পারে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, মিথ্যা বলার সময় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।</p><p>তবে শুধু এসব আচরণ দেখে কাউকে মিথ্যাবাদী বলা ঠিক হবে না।</p><p>কেউ সত্য বলার সময়ও ভয় বা উদ্বেগ অনুভব করতে পারেন। আবার কেউ মিথ্যা বলার সময় নিজের আবেগ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।</p><p>‘সাইকোলজি টুডে’তে প্রকাশিত আলোচনায় বলা হয়েছে, পরিচিত মানুষের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন বোঝা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কারণ, তিনি সাধারণত কীভাবে কথা বলেন, কেমন আচরণ করেন, সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকে।</p><p>তবু আচরণের পরিবর্তনকে মিথ্যার প্রমাণ ধরে নেওয়া যাবে না; বরং তাঁর বক্তব্যে অসংগতি আছে কি না, আগের কথার সঙ্গে মিল রয়েছে কি না—সেসব বিবেচনা করা যেতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/4va7dg2xkz">কীভাবে বুঝবেন কেউ মিথ্যা বলছে</a></aside><h3>মনে রাখবেন</h3><p>কথা বলতে গিয়ে থেমে যাওয়া, চোখে চোখ না রাখা কিংবা অস্থির দেখানো মানেই কেউ মিথ্যা বলছেন—এমন নয়। লজ্জা, ভয়, উদ্বেগ কিংবা কঠিন কোনো সত্য বলতে গিয়েও মানুষ এমন আচরণ করতে পারেন।</p><p>আবার অভ্যাসগতভাবে মিথ্যা বলেন, এমন কেউ নিজের বক্তব্য ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলক দক্ষও হতে পারেন।</p><p>গবেষণাটি মিথ্যা বলার সময় মানুষের চিন্তা ও আবেগের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি হয়, তা বুঝতে সাহায্য করেছে। কিন্তু কারও আচরণ দেখে নির্ভুলভাবে মিথ্যা শনাক্ত করার কোনো পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেনি।</p><p>তাই শুধু মুখভঙ্গি, অস্থিরতা কিংবা উত্তর দিতে দেরি হওয়ার ওপর নির্ভর না করে বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করাই ভালো।</p><p><sup>সূত্র: সাইকোলজি টুডে ও কগনিশন অ্যান্ড ইমোশন</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/1k09qrx9we">শিশুরা কি প্রথম জন্মদিনের আগেই ‘মিথ্যা’ বলতে পারে</a></aside>
<p>ঘুমাতে ভীষণ ভালোবাসে মিমি। প্রকৃতই সে ঘুমটাকে উপভোগ করতে পারে। সারাটা সপ্তাহ সকাল থেকে রাত অব্দি অফিসের কাজের বড্ড চাপ শেষে শুক্রবারের এই ঘুম মিমির কাছে অমৃতের মতো লাগে। এদিন সে নিজেকে ডুবিয়ে রাখে গভীর ঘুম, স্বপ্ন ও তন্দ্রায়। অথচ সপ্তাহের অন্যান্য দিনে মিমিকে ঘুম থেকে উঠতে হয় সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে। চোখেমুখে পানি ছিটিয়ে জামা পাল্টে নিজেকে প্রস্তুত করতেই বেজে যায় ৮টা। ঠিক ৮টায় ঘর থেকে বের হয় সে। কারণ, অফিসে পৌঁছাতে হয় পৌনে ৯টায়। একটা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে প্রায় ৯ বছর ধরে চাকরি করছে মিমি। ভালো বেতন পায়। বনশ্রীতে ছোট একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এখন একা থাকে। প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় ঘরের তালা লাগাতে গিয়ে মনে দারুণ পুলক বোধ করে মিমি। তার কেবলই মনে হতে থাকে, আহা! নিজের ঘর, এই ঘর সম্পূর্ণ তার নিজের, সম্পূর্ণ তার একার! তারপরই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে গমগমে ঢাকা শহরের উন্মত্ত অফিসগামী মানুষের ঘূর্ণিপাকে। এ শহরে পদে পদে বিপদ। অত্যন্ত সচেতন হয়ে চলতে হয় মিমিকে। গত মাসে বাসে উঠতে গিয়ে এক ভদ্রলোকের বুট জুতার পেছনের অংশের চাপে মিমির ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের বড় নখটা উল্টে গিয়েছিল। হাসপাতাল–ডাক্তার করে অনেক দিন ভুগতে হয়েছে বেচারিকে। তবে আজ শুক্রবার, এসবের ঝামেলা নেই। অলস সকালবেলার আধো ঘুমের মধ্যে সে ভাবছে, আজ দুপুর ১২টার পর বিছানা ছেড়ে উঠবে। কিছু আধোয়া কাপড় জমেছে, দুপুরে সেগুলো ধুয়ে ফেলবে। মাকড়সার ঝুল জমায় ঘর পরিষ্কার করবে। হঠাৎ ফোন বেজে ওঠায় মিমি একটা চোখ একটু মেলে দেখল—পলাশের কল।</p><p>পলাশ তার সাবেক স্বামী। মিমির মনে পড়ে পলাশের হাসিমাখা মুখটা। বয়স ৪০ পার হলেও ওর মন এখনো শিশুদের মতোই। ডিভোর্সের প্রথম দেড়–দুই বছর মিমিকে ফিরে পেতে বেচারা প্রায়ই বাচ্চাদের মতো জেদ ধরত। পলাশের সেই নরম মনটার স্পর্শ পেতে এখনো মিমির ভালো লাগে। ও ঠিক শিশুদের মতোই মায়াবী, একরোখা ও ফাঁকিবাজ। পলাশ অলস, ভাবুক, দায়িত্বজ্ঞানহীন, কামপরায়ণ ও কল্পনাপ্রবণ। তবে ধুরন্ধর নয় সে মোটেই। মিমি ভাবে, ছেলেটা ধুরন্ধর হলেই ভালো হতো। তাহলেও হয়তো কিছু করে খেতে পারত। কোনো কাজই ঠিকমতো করতে পারেনি পলাশ। আয় উপার্জন নেই বললেই চলে। প্রথম থেকেই ছেলেটা ঠিক স্বাভাবিক ছিল না। বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই মিমি বুঝতে পারে, তার স্বামী কোনো একটা নেশায় আসক্ত। তারপর এক গভীর রাতে ঘুম ভেঙে মিমি দেখতে পায়, ঘরের মেঝেতে আরাম করে বসে কাঁচি দিয়ে কী যেন কেটে কেটে মিহি করছে পলাশ। পাশে পড়ে আছে সিগারেটের কিছু খালি খোল। আসলে বহু বছর ধরে পলাশ গাঁজা খাওয়ার অভ্যাস করেছিল। অনেক চাপ দিয়েও মিমি তা ছাড়াতে পারেনি। পলাশের শুধু একটাই গুণ ছিল, সে মিমিকে মনেপ্রাণে ভালোবাসত। মিমিও সেই ভালোবাসা গ্রহণ করেছিল। দুজনে চমৎকার কিছু প্রেমময় সময় কাটিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের প্রেম, বিয়ে—সবই ভেঙেছে। ভালো করেছিল—তারা কোনো বেবি নেয়নি, নিলে হয়তো বাচ্চাটার কষ্ট হতো। পলাশ জীবনে আর দাঁড়াতেই পারেনি। মিমি নিজে যেমন পেরেছে। একটা ভালো প্রতিষ্ঠানে বেশ মোটা বেতনের চাকরি করছে মিমি। বাসাভাড়া, খাওয়া, যাতায়তসহ নিজের যাবতীয় খরচ মিটিয়ে প্রতি মাসে তার মা–বাবাকে অনেকগুলো টাকা পাঠাতে পারে সে। অথচ পলাশ এ ক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ। এমনকি তাদের ডিভোর্সের পর সে ঢাকায়ও টিকতে পারেনি। কোথাও কাজকর্মের কোনো কূলকিনারা করতে না পেরে এখন চলে গেছে তার গ্রামের বাড়িতে। সেখানে ওর বাবার কিছু জমিজিরাত আছে, সেগুলো নাকি দেখছে আর একটা বাচ্চামেয়ের সাথে প্রেম করে বেড়াচ্ছে। মিমি মোটেও হিংসুটে নয়, তবু পলাশকে তার খুব হিংসে হয়। কত্ত মজায় আছে সে! জীবনে এটাই তো চেয়েছিল ছেলেটা। গ্রামের নিসর্গ, প্রাণপ্রকৃতির মাঝে থাকবে। সারা দিন এখানে–ওখানে, বনবাদাড়ে, বাঁশঝাড়ে, বিলের মাঝখানে, জংলা বা খেতের আলে বসে মনের সুখে গাঁজা টানবে আর মেয়েদের সাথে প্রেম করবে। তাদের প্রায় এক যুগের সংসারযাত্রায় বহুবার মিমিকে এ ধরনের স্বপ্নের কথা বলেছে পলাশ। মিমি এসব গাঁজাখুরি ভেবে এড়িয়ে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, হুবহু নিজের স্বপ্নের মতন জীবনই বেছে নিয়েছে পলাশ।</p><blockquote>মিমি মোটেও হিংসুটে নয়, তবু পলাশকে তার খুব হিংসে হয়। কত্ত মজায় আছে সে! জীবনে এটাই তো চেয়েছিল ছেলেটা। গ্রামের নিসর্গ, প্রাণপ্রকৃতির মাঝে থাকবে। সারা দিন এখানে–ওখানে, বনবাদাড়ে, বাঁশঝাড়ে, বিলের মাঝখানে, জংলা বা খেতের আলে বসে মনের সুখে গাঁজা টানবে আর মেয়েদের সাথে প্রেম করবে।</blockquote><p>ফোনটা রিসিভ করে মিমি। ওপাশে পলাশের মায়ামাখা বিনীত কণ্ঠস্বর, ‘তোমার ঘুমটা কি ভাঙিয়ে দিলাম মিমি? জরুরি একটা কথা আছে। অন্য দিন তো ব্যস্ত থাকো, তোমাকে বিরক্ত করতে ইচ্ছা করে না। আজ শুক্রবার, আজও আরাম করে ঘুমাচ্ছ নিশ্চয়ই।’</p><p>তন্দ্রার আবেশে পলাশকে মনে হতে থাকে কোনো এক স্বপ্নকুমার। মিমি ঘুমের ঘোরেই বলতে থাকে—</p><p>‘না, হ্যাঁ, ঘুম ভেঙেছে। এখনো বিছানা থেকে উঠিনি। কেমন আছ?’</p><p>‘আমি ভালো আছি। আরও কিছুক্ষণ কি ঘুমাবে তুমি? তাহলে আমি আরেকটু পরে তোমাকে ফোন দিই?’</p><p>‘না না, ঠিক আছে বলো।’</p><p>ছুটির সকালবেলা আরামদায়ক ঘুমঘুম ভাব নিয়ে পলাশের কথা শুনতে খুব ইচ্ছে করছে, খুব ভালো লাগছে মিমির। পলাশের মনে যখন তীব্র উচ্ছ্বাস থাকে, তখন সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষে রূপান্তরিত হয়। পলাশ তো তার কোনো ক্ষতি করেনি, বরং তালাকনামা পাঠিয়ে মিমি পলাশকে দারুণ কষ্টই দিয়েছিল। তাই পলাশকে আর কিছুতেই তার সুখ থেকে বঞ্চিত করতে চায় না মিমি। ছেলেটার মনে যখন শুধু আনন্দ আর আশা, তখন সে খুব সুন্দর করে কথা বলে, ভালো ভালো মোটিভেশনাল কথা বলে। আর যখন বেচারা হতাশ ও বিপর্যস্ত থাকে, তখন তার হৃদয়টা একটা জাহান্নামে পরিণত হয়। তখন ওই জাহান্নামের আগুনে পলাশ তার গোটা দুনিয়াসহ নিজের অস্তিত্বটাকেও পুড়িয়ে ছাই করে ফেলতে চায়। তাই পলাশের প্রতি বরং মায়াই লাগে মিমির।</p><p>আজ পলাশের মন ভালো। আজকে ওর সাথে কথা বলতে মিমির ভালোই লাগছে। পলাশকে একই সাথে বেশ সুখী ও উত্তেজিত মনে হচ্ছে। আজ তার কণ্ঠে অফুরান প্রাণশক্তি। সেই প্রাণ মিমিকে স্পর্শ করেছে।</p><p>‘শোনো মিমি, তোমার হোয়াটসঅ্যাপে একটা কানের দুলের ছবি পাঠিয়েছি। সেটা একটু দেখবে প্লিজ।’</p><p>‘আচ্ছা, দেখব।’</p><p>‘দুলের এই ছবি আমি তোমার একটা ফেসবুক পোস্ট থেকেই নিয়েছি। তোমার মনে আছে, কয়েক দিন আগে তুমি কিছু কানের দুলের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলে? সেখান থেকেই একটা দুলের ছবি সিলেক্ট করে তোমাকে পাঠিয়েছি।’</p><p>মিমি একটু ভেবে বলে, ‘ও হ্যাঁ, ওগুলো তো আমাদের প্রোডাক্ট নয়।’</p><p>‘যাদের প্রোডাক্টই হোক, তুমি দেখবে ওখান থেকেই একটা দুলের ছবি তোমাকে দিয়েছি। প্লিজ ওটা আমাকে জোগাড় করে দাও। তুমি ঢাকায় আছ, একটু চেষ্টা করলেই দুলটার সন্ধান পাবে। হয়তো অনলাইনেও অর্ডার দিতে পারবে। ময়ূরের নকশা করা ছোট লাল পাথর বসানো একটা কানের দুল। তোমাকে যে দুলের ছবিটা পাঠিয়েছি, এগজ্যাক্ট ওই কানের দুলই আমার চাই। আমি সেই মেয়েকে দেব, যার কথা তোমাকে বলেছি। সেই যে আমার স্বপ্নে পাওয়া রূপকথার রাজকুমারী, ওর জন্যই লাগবে দুলটা।’ পলাশের গলায় সেই পরিচিত আবেগ দেখে ভালো লাগে মিমির।</p><p>তাদের ডিভোর্সের পর ঢাকায় কিছুদিন বিষাদ–বেদনা আর কান্নার দিনরাত্রি কাটিয়ে শহরের জীবন থেকে ইস্তফা নিয়ে এক বছরের বেশি সময় হবে পলাশ গ্রামে গিয়ে থাকছে। পলাশের জন্ম, বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া—পুরোটাই ঢাকায়। গ্রামে গিয়ে ও কীভাবে যে নিজেকে মানিয়ে নিল, মিমির কাছে সেটা একটা বিস্ময়! উপরন্তু গ্রামে যাওয়ার মাত্র ২ মাসের মাথায় সে একটা ছিপছিপে কিশোরী মেয়ের প্রেমে পড়েছে। নতুন প্রেমের গল্প যথারীতি সে মিমির সাথেই শেয়ার করেছে। ফোনে মেয়েটার ছবি পাঠিয়েছে। মিমি রাগ করেনি, অবাকও হয়নি, বরং খুশি হয়েছে এই ভেবে, যাক ওর বিচ্ছেদজ্বালা তো ঘুচল।</p><blockquote>‘যাদের প্রোডাক্টই হোক, তুমি দেখবে ওখান থেকেই একটা দুলের ছবি তোমাকে দিয়েছি। প্লিজ ওটা আমাকে জোগাড় করে দাও। তুমি ঢাকায় আছ, একটু চেষ্টা করলেই দুলটার সন্ধান পাবে। হয়তো অনলাইনেও অর্ডার দিতে পারবে। ময়ূরের নকশা করা ছোট লাল পাথর বসানো একটা কানের দুল। তোমাকে যে দুলের ছবিটা পাঠিয়েছি, এগজ্যাক্ট ওই কানের দুলই আমার চাই। আমি সেই মেয়েকে দেব, যার কথা তোমাকে বলেছি।</blockquote><p>মিমি ভাবে, পলাশের প্রেমভাগ্য ভালো। বিয়ের পর মিমি নিজে তার প্রেমে পড়েছিল। তা ছাড়া বিয়ের আগেও পলাশ তিন তিনটা দুর্দান্ত প্রেম করেছে। পলাশের মুখে সেসব ভূতপূর্ব প্রেমিকাদের গল্প মিমি অনেক শুনেছে। এমনকি বিয়ের পর সেই প্রেমিকাদের সাথে মিমিকে নিয়ে বহুবার দিলখোলা আড্ডায়ও মেতেছে পলাশ। সম্পর্ক কীভাবে ধরে রাখতে হয়, সেই গুপ্তজ্ঞান হয়তো জানা আছে ওর। চাকরি–বাকরি নেই, বয়স হয়েছে, হঠকারী এক গাঞ্জুটে অথচ ঠিকঠিকই একটি চতুর্দশী গ্রাম্য বালিকাকে পটিয়ে ফেলেছে সে। দিব্যি ফাটিয়ে প্রেম করে বেড়াচ্ছে। অথচ তাদের তালাকের প্রায় তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে, এখনো প্রেম, বিয়ে, নতুন সম্পর্ক, নতুন সংসার, বাচ্চাকাচ্চা—এসব নিয়ে ঠিকমতো ভাবতেই পারেনি, অথবা ভাবতে চায়নি মিমি। কী জানি কী! মিমির পরিবার, মা–বাবা, বিশেষ করে বোনেরা, আত্মীয়স্বজন, কাজিন ও কলিগ, বলতে গেলে পরিচিত প্রায় সবাই বিয়ের জন্য চাপ দিয়েছে মিমিকে। সবাই বলেছে, পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে আর ভাবনার কিছু নেই, যা হয়ে গেছে তা হয়ে গেছে। সবার একটাই কথা, পলাশকে ভুলে যাও। নতুন সম্পর্ক তৈরি করো, প্রেম করো নয়তো বিয়ে করো। শুভাকাঙ্ক্ষী কয়েকজন ভালো কিছু বিয়ের প্রস্তাবও এনেছে। যেন বিয়ে না করে থাকাটা একটা অন্যায়, যেন একটা পাপ। জুনিয়র এক ছেলে সরাসরি তাকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। মিমি ছেলেটার গাল টিপে দিয়ে হাসিমুখেই বলেছে, ‘তুমি এখনো অনেক ছোট বাবু, জীবনে বড় হও, আমার চেয়ে অনেক ভালো মেয়ে তোমার কপালে জুটবে।’ মিমি কেন যেন এখনো এসব ভাবতেই পারে না। যেন পলাশের সাথে সংসার করে তার সংসার করার সাধ মিটে গেছে। এই স্বাধীন সঙ্গীহীন জীবনের প্রেমেই বুঝি পড়েছে মিমি। তবে কখনো কখনো কোনো বিরল মুহূর্তে রাতের নক্ষত্রদের দেখতে দেখতে সে এটাও ভেবেছে, তার একজন দায়িত্ববান স্বামী হবে, যে পলাশের মতো হবে না, যে পলাশের মতো তাকে শুধু ভালোই বাসবে না, তার সমস্ত দায়িত্ব বহন করবে। তার একটা বাবু হবে। সুখে মিমির শরীর জেগে উঠেছিল। কিন্তু সারা দিনের কাজের চাপে এই সহজ স্বাভাবিক ভাবনাগুলো ভাবার সময় সুযোগও খুব একটা পায় না মিমি।</p><blockquote>‘তুমি দুলটা খুঁজে পেলেই কিনে ফেলবে। এখন হাতে টাকা নেই বুঝলে, তবে যখনই টাকা পাব, আমি বিকাশে তোমাকে পাঠিয়ে দেব।’ পলাশ আবার নিশ্চিত হতে চায়, ‘দেবে আমাকে কানের ওই দুলজোড়া জোগাড় করে? ওই দুল আমি কি পাব মিমি?’</blockquote><p>‘তুমি দুলটা খুঁজে পেলেই কিনে ফেলবে। এখন হাতে টাকা নেই বুঝলে, তবে যখনই টাকা পাব, আমি বিকাশে তোমাকে পাঠিয়ে দেব।’ পলাশ আবার নিশ্চিত হতে চায়, ‘দেবে আমাকে কানের ওই দুলজোড়া জোগাড় করে? ওই দুল আমি কি পাব মিমি?’</p><p>মিমি তার সাবেক স্বামীকে অভয় দেয়, ‘নিশ্চয়ই পাবে পলাশ। যাও, আমিই তোমাকে কিনে দেব ওই দুল। তোমার প্রেমিকা তো আমার কাছ থেকে এক জোড়া দুল উপহার হিসেবে পেতেই পারে, তাই না? একটু ধৈর্য ধরো। আমাকে কদিন সময় দাও। দুলটা আগে জোগাড় করি। তারপর দরকার হয় কুরিয়ার সার্ভিসে করে তোমার কাছে পাঠাব।’</p><p>পলাশ খুব খুশি হয়। মিমি বেশ বুঝতে পারে আনন্দে ওর প্রাণ নেচে উঠেছে। পলাশের আনন্দ মিমির ভালো লাগে।</p><p>পলাশ খুশিতে গদগদ হয়ে বলে, ‘মিমি আমি জানতাম, তুমি আমাকে সাহায্য করবে। আমি জানি, আমাদের প্রেম ভেঙে গেছে, বিয়ে ভেঙে গেছে, কিন্তু বন্ধুত্ব ভাঙেনি। তুমি এখনো আমাকে আপন মনে করো।’</p><p>মিমিও হাসিমুখে বলে, ‘হ্যাঁ, আমাদের বন্ধুত্ব ভাঙেনি। ভাঙবেও না কোনো দিন।’</p><p>‘অনেক অনেক শুকরিয়া মিমি। শোনো কানের দুলটা যখন কিনবে, ছবি তুলে সাথে সাথেই আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে দিয়ো। আমি ভেরিফাই করে দেব।’</p><p>পলাশের কথা আবছা হয়ে আসে আর কানে যায় না মিমির। মিমির মীনের মতো চোখ দুটোতে উথলে উঠছে নোনা পানির জোয়ার। মুখে হাসি, অথচ ওর চোখ অশ্রুতে টইটম্বুর। মিমির মনে পড়ে, পলাশ সবকিছু সহ্য করতে পারত, শুধু তার চোখের জল সহ্য করতে পারত না। ফোনের ওপাশে কিছুই টের পেল না পলাশ। খুশিমনে বিদায় নিয়ে সে ফোন কেটে দিল।</p>
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিছু মুখ কখনো পুরোনো হয় না, বরং সময়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছেও আইকনিক হয়ে ওঠে। বিপাশা বসু তেমনই এক নাম। সম্প্রতি একটি ফটোশুটে তাঁর বোল্ড উপস্থিতিতে যেন ফিরে এসেছে চেনা গ্ল্যামার, আত্মবিশ্বাস আর সেই ‘ওজি ফ্যাশন কুইন’ ভাব। রইল তাঁর লুকের বিস্তারিত।
<p>‘কাকেরা কোথায়?’—এমন প্রশ্নে অতিষ্ঠ হয়ে এবার মুখ খুলল কাকেরা। ঢাকা ছেড়ে তারা নিজেদের হারিয়ে যাওয়ার আলাপ করেছিল প্রকৃতির কোলে বসে। রস+আলোর হয়ে সেই কাকালাপে হাজির ছিলেন মাহাবুবা শারমিন কলি, এঁকেছেন সায়র।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/5rcawiwd/Untitled-1-09.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/zb1idjsddt">ডলারের আশায় ই-টিন! </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/3y37khdj9g">আপনি কত বড় মিথ্যাবাদী?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/3fbuod5lle">উগান্ডার হুইপের ফেসবুক প্রোফাইল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/m9eme7ddwo">বেরেক কাম করে না!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hik3yizsq8">সিনেপ্লেক্সে একদিন </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/tnsdadk1at">সড়কপথে বিমানের ছোঁয়া </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bvavx49d33">Breaking Good</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/wio8c5i398">আরও যা যা ফাঁস হতে পারে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/j2xtgsfcge">আমি ভুল করিনি</a></aside>
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/samajik-zeagazeagmadhzmer-treal-ekhn-ar-dekhi-na</figure>
প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের আহ্বানে সারা দেশে ‘একটি ভালো কাজ’-এর উদ্যোগে বন্ধুরা যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, তা অবিস্মরণীয়। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নানা উৎসব-আয়োজন তো হয়ই, কিন্তু সবচেয়ে বড় উৎসব হয়ে ওঠে বন্ধুদের ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বন্ধুরা যা করেন, তা কেবল সামাজিক কাজ নয়, বরং একেকটি ভালোবাসার মহাকাব্য। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আবারো বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবিতে সোমবারও, মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে, যাতে প্রায় ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখার কথা বলা হয়েছিল। সরকারের দাবি ছিল, এগুলো এমন ব্যক্তিদের ভোট, যারা "সম্ভবত" অ-নাগরিক।
বাংলাদেশে ৬৯০টির মতো পোশাক কারখানা বন্ধ এবং এই অস্থিরতার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার- এ ধরনের খবর আজ প্রায় সব পত্রিকার প্রথম পাতায় জায়গা পেয়েছে।
বাংলাদেশে মুসলিমদের এমন অনেকেই আছেন, যারা শুধু কবুল পড়ে অথবা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিড করে বিয়ে করেন। আইনজীবী এবং কাজী অফিস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মসজিদে গিয়ে বর-কনে কবুল বলে বিয়ে করলে সেটি রেজিস্ট্রি না করলেও শরীয়তসম্মত। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে এ ধরনের বিয়ে কী বৈধ?
হিমালয় অঞ্চলের কিছু অংশে নেপাল ও ভারত জুড়ে অন্তত তিন লাখ মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করছেন, যেখানে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে, এমনটা জানাচ্ছে একটি নতুন গবেষণা।
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ কয়েকদফা দাবিতে গত কয়েকদিনের মতো সোমবারও সকাল থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবারও ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
দিল্লির রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া ব্লকের রোববারের সমাবেশ একদিকে যেমন ছিল বিজেপি-বিরোধী শিবিরের ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ, অন্যদিকে শরিক দলগুলোর কাছে নিজস্ব রাজনৈতিক সমীকরণ সাজানোর একটা সুযোগ বলে অনেকে মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, কখন হবে, কেন দেশটির ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন আর নির্বাচনে ভোটারদের কাছে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রয়েছে - এক নজরে তাই দেখে নিতে পারবেন এখানে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনই ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির মামলায় বদিউজ্জামান ওরফে বদি নামে (৪০) এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে জানা যায় তিনি হত্যা ও অপহরণসহ অন্তত ১৯টি মামলার আসামি।
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পর গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ফিরেছে স্বাভাবিক পরিবেশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মহাসড়কের কোথাও শ্রমিকদের বিক্ষোভ বা অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে স্থানীয় ও দূরপাল্লার যানবাহন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ১৮টি মামলার রায় ও বিচারিক কার্যক্রমে জালিয়াতি, অনিয়ম কিংবা অসঙ্গতি ছিল কি না, তা তদন্ত করবে আপিল বিভাগের গঠিত কমিটি।
জুতার ভেতরে ইয়াবা বহনের সময় বরগুনায় ২২৫০ পিস ইয়াবাসহ দুজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা নারী।
চাঁদপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই ও তার স্ত্রীর ধাক্কায় শাহাজাহান পাটোয়ারী (৬০) নামে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি ও অ্যাডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।