অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে বদলে যাচ্ছে শিশুদের আচরণ
ঢাকার স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচ শিশুর চারজন প্রতিদিন দুই ঘণ্টারও বেশি সময় মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পর্দায় সময় কাটায়।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করে। পরে তা বাড়িয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পর বিভিন্ন এলাকায় কিছু তৎপরতা শুরু হওয়া ইতিবাচক।
<p>ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক) তাদের শাখা পরিচালনায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘ব্রাঞ্চ ম্যানেজার’ পদে জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী ‘সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার’ থেকে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদমর্যাদায় কর্মী নেওয়া হবে। যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন পাঠাতে পারবেন।</p><p> <strong>সংক্ষিপ্ত তথ্য</strong></p><p> প্রতিষ্ঠানের নাম: ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক)।</p><p> পদের নাম: ব্রাঞ্চ ম্যানেজার (এসইও থেকে ভিপি)।</p><p> চাকরির ধরন: ফুল টাইম (অফিস)।</p><p> কর্মস্থল: বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/zeku36rrug">বুয়েট বিভিন্ন পদে চাকরি, আবেদন অনলাইনে, বেতন স্কেল ৮২৫০ থেকে ৩০২৩০ টাকা</a></aside><p><strong>শিক্ষাগত যোগ্যতা</strong></p><p>বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ, এমবিএম, স্নাতকোত্তর বা ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি (ব্যবসায় শাখা অগ্রাধিকার)। শিক্ষাজীবনে কোনো ৩য় বিভাগ/শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে পেশাগত সনদ থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।</p><p><strong>অভিজ্ঞতা</strong></p><p>ব্যাংকিং খাতে সর্বনিম্ন ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে অন্তত ২ বছর শাখা ব্যবস্থাপক (ব্রাঞ্চ ম্যানেজার) হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত থাকা আবশ্যক।</p><p><strong>বয়সসীমা</strong></p><p>সর্বনিম্ন ৩০ বছর।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/n22bjl1ztq">আগের নিয়মেই ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, ২০২৭–এর সিলেবাস প্রকাশ</a></aside><p><strong>অন্যান্য যোগ্যতা</strong></p><p>শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমটিও/পিও ব্যাকগ্রাউন্ড অথবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।</p><p><strong>বেতন ও সুযোগ-সুবিধা</strong></p><p>নির্বাচিত যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন প্যাকেজ অফার করা হবে (আলোচনা সাপেক্ষে)।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/i2lbimbt15">৫ বছরে ১ কোটি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য: কতটা প্রস্তুত আমাদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ</a></aside><p><strong>প্রধান দায়িত্বসমূহ</strong></p><p>আমানত, ঋণ/বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও ফি-ভিত্তিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ক্লায়েন্ট বেস সম্প্রসারণ করা। করপোরেট, রিটেইল ও এসএমই গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নতুন করপোরেট ক্লায়েন্ট যুক্ত করা। ব্যালেন্স শিট পরিচালনা, পোর্টফোলিও মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাসেট কোয়ালিটি বজায় রাখা। ক্রেডিট বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ টিমের সঙ্গে সমন্বয় সাধন, ব্যাংকিং কমপ্লায়েন্স ও তদারকি নিশ্চিত করা এবং শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের সঠিক বণ্টন ও নেতৃত্ব প্রদান করা।</p><p><strong>আবেদনের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা</strong></p><p>আগ্রহী প্রার্থীরা চাকরি বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত জানতে <a href="https://bdjobs.com/h/details/1542050?ln=1" target="_blank" rel="nofollow">এই লিংকে প্রবেশ করুণ</a>।</p><p><strong>আবেদনের শেষ তারিখ</strong></p><p>২৫ অক্টোবর ২০২৬</p>
ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, ‘তারা যদি আমাকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে চায়, করুক। আমি তার জন্য প্রস্তুত।
দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে উপকূলীয় বন সংরক্ষণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তারই অংশ।
<p>রাজনীতি, বিজ্ঞান ও ইতিহাস নিয়ে ভিডিও বানানো ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবার সরাসরি যোগ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে। কীভাবে শখের বশে ভিডিও বানানো থেকে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ইউটিউবার হয়ে উঠলেন তিনি? জানুন ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
<p>মঈনুল হাসান তাঁর ছোটগল্পগুলোতে জীবনের বহুমাত্রিকতা অনুসন্ধান করেছেন মূলত সামাজিক বাস্তবতার বিস্তৃত পরিসরে। ব্যক্তি-মানুষের অন্তর্জগতের জটিল ও রহস্যময় গোলকধাঁধায় প্রবেশের চেয়ে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সমাজজীবনের প্রত্যক্ষ ও সম্মিলিত অভিজ্ঞতাকে। বাংলার বিস্তীর্ণ সমতলভূমিতে ছড়িয়ে থাকা প্রান্তিক মানুষের বর্ণিল অথচ উপেক্ষিত জীবনযাপন তাঁর রচনায় বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। অসংখ্য সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও জীবন্ত বর্ণনায় তিনি এঁকেছেন তাদের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও স্বপ্নের অনুপম চিত্র; বাস্তবের উষ্ণ স্পর্শে এগুলো হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। <em>জলসংসার</em> গল্পগ্রন্থের গল্পগুলোতে রয়েছে নানা ঘটনা, রহস্য ও মানবিক দ্বন্দ্ব। গল্পগুলো কখনো কখনো ব্যক্তিগত পরিণতির দিকে অগ্রসর হলেও, সমাপ্তির পর পাঠকের মনে থেকে যায় একধরনের অপূর্ণতার আয়েশি অনুভব।</p><p>মানুষ যখন একটি নির্দিষ্ট সমাজ ও ভূগোলে জীবন যাপন করে, তখন তার জীবনের সব রূপ—বিশেষ করে শক্তি, ক্ষয়, স্ফুরণ, বিকাশ, আলোছায়া, রং ও অন্ধকার—নিস্তব্ধভাবে চোখে পড়ে। দৈনন্দিন জীবনের এমন ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণই বাস্তবতাকে প্রকটভাবে সামনে নিয়ে আসে। হার্ডির ‘ওয়েসেক্স’ বা ফকনারের ‘গভীর দক্ষিণে’র কথাগুচ্ছের মতো, এই পর্যবেক্ষণ আমাদেরকে জীবনের কাঁচা, নিখুঁত ও বিশ্বাসঘাতক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। ছোটগল্পের জন্য জীবনকে নির্দিষ্টভাবে সীমাবদ্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। সেদিক থেকে ছোটগল্প স্বভাবতই আঞ্চলিক হয়ে ওঠে। মঈনুল তাঁর <em>জলসংসার</em> গল্পগ্রন্থে এই কৌশল অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করেছেন। নির্দিষ্ট ভূগোলে প্রকৃতির প্রতিটি রেখা, জল-আলো-হাওয়া ও দৃশ্যমান উপাদানকে কাজে লাগিয়ে তিনি সফলভাবে জীবনের গভীরতম তলগুলো উন্মোচন করতে পেরেছেন। মানব অস্তিত্বের বহুতল বাস্তবকে তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা কালজ বন্ধনে বেঁধেছেন। গ্রন্থভুক্ত নয়টি গল্পের মধ্যে ‘মাশুল’ ছাড়া বাকি গল্পগুলো চাঁদপুরে বসেই লেখা। স্থানীয় পরিবেশ, মৃত্তিকামূললগ্ন মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও নদ-নদীর ছন্দ গল্পগুলোর বাতাবরণকে জীবন্ত করেছে। প্রান্তিক মানুষের স্পন্দন পাঠক এ গ্রন্থের ছত্রে ছত্রে টের পাবেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/fl3fi9zb/0o0am5wg.jpeg"><figcaption>মঈনুল হাসানের গল্পগ্রন্থ ‘জলসংসার’–এর প্রচ্ছদ</figcaption></figure><blockquote>‘জলসংসার’ গল্পে জলের সঙ্গে জীবনের গভীরতা ও পরিবর্তন মিশে আছে। লেখকের অসাধারণ লিপিকুশলতা পাঠককে রচনার প্রতি বিস্ময়াবিষ্ট ও আকৃষ্ট করে। গল্পের নদী বেহুলা ‘ভীষণ জলসোহাগী’, যার মাধ্যমে নিয়তির ছন্দ ও জীবনের অদৃশ্য রহস্য ফুটে ওঠে।</blockquote><p>‘বেনেবউ’ গল্পটি ডাকাতিয়ার জলমগ্ন তীরের বাসিন্দাদের কাহিনি। মেঘনা-ডাকাতিয়ার উত্তাল ঢেউ ভেঙে যারা জীবনকে টিকিয়ে রাখে তাদের ইতিবৃত্ত। এ গল্পে প্রেম আছে; আছে জীবনসংগ্রাম। ‘জীবনের আবর্তে নিতাইপুর থেকে অনেক দূরের মাছঘাটে এসে একদিন তার বা তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়ে যায় সিতারার মতো স্বপ্নবান এক মানবীর। সেখান থেকেই পরিচয়... তারপর একদিন অজান্তেই লেখা হয়ে যায় স্বপ্ন বোনার গল্প, নতুন উচ্চাশার গল্প।’ সেকান্দারকে ভালোবেসে নিতাইপুরের একজন সিতারা হয়ে যেতে পারে বটে, তবে জীবন চালানো ঢের কঠিন। কখনো হেতেম ব্যাপারী, কখনো রশিদ মণ্ডলের মতো আড়তদার-মহাজনদের শোষণ থেকে সেকান্দারদের মুক্তি নেই। মুক্তির জন্য সংগ্রামী তারা হয়ে উঠতে চায়, কিন্তু পারে কি আসলে? কী হয় পরিণতি—লেখক এই গল্পে তার একটি বিশ্বস্ত চিত্র অঙ্কন করেছেন।</p><p>‘জলসংসার’ গল্পে জলের সঙ্গে জীবনের গভীরতা ও পরিবর্তন মিশে আছে। লেখকের অসাধারণ লিপিকুশলতা পাঠককে রচনার প্রতি বিস্ময়াবিষ্ট ও আকৃষ্ট করে। গল্পের নদী বেহুলা ‘ভীষণ জলসোহাগী’, যার মাধ্যমে নিয়তির ছন্দ ও জীবনের অদৃশ্য রহস্য ফুটে ওঠে। কখনো এই নিয়তি সরল-সোজা-স্বাভাবিক, আবার কখনো অজানা; কখনো কারণ-পরম্পরায় গঠিত, আবার কখনো জীবনের অন্ধকারে ঢাকা। তমিজ আলী যৌবনবতী নদী বেহুলার ভালোবাসায় বেড়ে ওঠে, কিন্তু বেহুলার ধ্বংসলীলায় তার সংসার, ঘরবাড়ি ও জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তবু ডুবোজলের মধ্যে সে খুঁজে পায় স্বাচ্ছন্দ্য। প্রকৃতির কাছে মানুষ সর্বদা অসহায়, আশা ছাড়া কিছুই থাকে না।</p><blockquote>‘জলসংসার’ গ্রন্থে কোথাও পুনরাবৃত্তি নেই, নেই লেখকের ক্লান্তির ছাপ। তিনি সাধারণ জীবনের আপাততুচ্ছ অনুষঙ্গের মধ্যেই খুঁজে নিয়েছেন অমৃতের স্বাদ এবং সেই সন্ধানের পথও পাঠকের সামনে উন্মুক্ত করেছেন।</blockquote><p>গল্পের শেষাংশে রাবেয়ার আশাবাদ পাঠককে নিয়তির অমোঘ লীলার ছাপে আশান্বিত করে:</p><p>‘কাঠের মূর্তির মতো রাবেয়া সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে নিষ্পলক...অনেকক্ষণ। তাকে ঘিরে থাকে লংগরখানায় অনিশ্চয়তার সংসারপাতা অগণ্য আশাহত মুখ। তাদের চোখেমুখে আনন্দ-হাসি-কান্নার ছবি নাকি অনিশ্চিত চাপা শঙ্কা লেপটে ছিল সে উত্তর জানা নেই কারও। তবু ঘোর অন্ধকারের দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে রাবেয়া জোরে চেঁচিয়ে বলে, “আমার সোয়ামির বুকে আছে সাত মানুষের সুমান রাইজ্যের দোম। তোমরা দেইখো, ঝন্টুকে নিয়ি সে ঠিক উইঠি আসপি।”’</p><p>‘নীলকণ্ঠলতা’, ‘বিহঙ্গবালক’, ‘মাশুল’ ও ‘এলিনের বাবা’—প্রতিটি গল্পেই জীবন তার সহজ, স্বাভাবিক অথচ গভীর রূপে ধরা দিয়েছে। কোথাও পরিলক্ষিত হয় রাজনীতির অন্তঃসলিলা প্রবাহ, আবার কোথাও বা গ্রামীণ জীবনের নির্মমতা ও কদর্য বাস্তবতা। লেখকের স্বপ্নময় সৃজনক্ষমতা গল্পগুলোকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। গল্পগুলোর নামেই রয়েছে কৌতূহলোদ্দীপক কাব্যিক আবেশ। বিচিত্রমাত্রিক অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, কৈশোরের স্মৃতি, অপূর্ণ ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন মিলেমিশে গল্পগুলোকে করেছে প্রাণবন্ত ও নিখাদ। লেখক তাঁর আখ্যানকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও শিল্পবোধের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে গল্পগুলোকে সফল পরিণতির দিকে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন।</p><p>‘জলসংসার’ গ্রন্থে কোথাও পুনরাবৃত্তি নেই, নেই লেখকের ক্লান্তির ছাপ। তিনি সাধারণ জীবনের আপাততুচ্ছ অনুষঙ্গের মধ্যেই খুঁজে নিয়েছেন অমৃতের স্বাদ এবং সেই সন্ধানের পথও পাঠকের সামনে উন্মুক্ত করেছেন। গ্রন্থটি পাঠ করার পর পাঠক নিজে সেই অমৃতের স্বাদ কতটুকু পাবেন তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকলেও, লেখকের শিল্পসাধনার আন্তরিকতা ও সাফল্য সম্বন্ধে কোনো সংশয় থাকবে না একেবারেই। বাকিটুকু পাঠকের রুচি ও অনুভবের বিষয়।</p> <ul><li><p><strong>জলসংসার<br>মঈনুল হাসান</strong><br>প্রকাশনা: পাঞ্জেরী<br>প্রচ্ছদ: মানব<br>প্রকাশ: জানুয়ারি ২০২৬<br>পৃষ্ঠা: ১১০; মূল্য: ৩০০ টাকা</p></li></ul>
<p>দুই দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন চট্টগ্রাম নগরের খাজা রোড এলাকার বাসিন্দা নুরুল আবছার। ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইন খেয়েও সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যান এলাকার গাউসুল আজম আরবান ডিসপেনসারিতে।</p><p> গত মঙ্গলবার সকালে ওই ডিসপেনসারির সামনে কথা হয় নুরুল আবছারের সঙ্গে। পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রেহানা বেগম। তিনি জানান, অফিসের কাজে বাইরে থাকায় তাঁর স্বামীকে প্রায় প্রতিদিনই হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে হয়। দুই দিন আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।</p><p> নুরুল আবছারের অসুস্থতার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাঁর মতো চট্টগ্রাম নগরের অনেক মানুষই প্রতিদিনের খাবারের জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভর করেন। কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও নানা কাজে নগরে আসা লোকজনও এসব প্রতিষ্ঠানে খাবার খান।</p><p>সম্প্রতি নগরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় সরকারি সংস্থার অভিযানে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণে নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে। কোথাও খাবারের উপকরণে পাওয়া গেছে জীবিত ও মৃত তেলাপোকা, কোথাও রান্নাঘরে পোকামাকড়ের বিচরণ। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে খোলা ডাস্টবিনের পাশে রান্না, কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির চিত্রও দেখা গেছে। পোড়া তেল ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। আবার একটি হোটেলে দেখা গেছে খাবার তৈরির স্থানে শুয়ে আছে বিড়াল।</p><p>চিকিৎসকেরা বলছেন, দূষিত খাবার খেলে ডায়রিয়া, বমি ও পেটব্যথাসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যজনিত অসুস্থতা হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি এবং রান্নার পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/ukt7pyryhk">চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যানটিনে রুটির খামিরে তেলাপোকা</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/l8nrm6v1/WhatsApp-Image-2026-10-10-at-12.03.24-AM.jpeg"><figcaption>স্যাঁতস্যাঁতে মেঝে, নোংরা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পোকাযুক্ত বাদাম ব্যবহার করে উৎপাদন হচ্ছিল খাবার। সম্প্রতি ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায়</figcaption></figure><h3>খাবারে তেলাপোকা, রান্নাঘরে অনিয়ম </h3><p>গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে খাবারের উপকরণে জীবিত ও মৃত তেলাপোকা এবং ছারপোকার উপস্থিতি পায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ডালডা, কিশমিশ, দুধ, মোরব্বা, তেল, মসলা ও রুটি তৈরির খামিতে এসব পোকামাকড় পাওয়া যায়। রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের স্থানও ছিল অপরিচ্ছন্ন।</p><p>অভিযানে রান্নাঘরে খোলা ডাস্টবিন রাখা এবং কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণের মতো অনিয়মও ধরা পড়ে। এ ছাড়া আগস্ট মাসে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নগরের ব্যস্ততম জিইসি মোড়ে আল-হেলাল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে রান্নাঘরে খাবার তৈরির স্থানে বিড়াল শুয়ে থাকতে দেখেন।</p><p>নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর অন্তত ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে দেড় কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে। খাবারে ভেজাল, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং খাদ্য তৈরিতে অননুমোদিত উপকরণ ব্যবহারের মতো অভিযোগে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জরিমানার তালিকায় সাদিয়াস কিচেন, বারকোড, হোম রেসিপি ফুডস, কাচ্চি ডাইন ও কেএফসির বিক্রয়কেন্দ্রের নামও রয়েছে।</p><p>চট্টগ্রামের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা (নগর) মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, খাবার তৈরির স্থান, খাদ্য উপকরণ সংরক্ষণ, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে খাবার তৈরির স্থানে পোকামাকড়ের উপস্থিতি থাকলে খাবার দূষিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/51ao4e6syq">রেস্তোরাঁর রান্না করা খাবারের ওপর তেলাপোকার বিচরণ</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/uyw4yuut/WhatsApp-Image-2026-10-10-at-12.04.19-AM.jpeg"><figcaption>ক্ষতিকর রং মিশিয়ে মিশিয়ে তৈরি হচ্ছিল খাবার। সম্প্রতি নগরের দেওয়ানহাট এলাকায় গ্রান্ড তাজমহল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে</figcaption></figure><h3>হাসপাতালের পাশেও অনিরাপদ খাবার </h3><p>১ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে সিএমসি ক্যাফে ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্যানটিনে নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। সিএমসি ক্যাফের ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। কর্মচারীদের ক্যানটিনে রুটি তৈরির খামিরে পাওয়া যায় তেলাপোকা।</p><p>জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, হাসপাতালের মতো জায়গায় খাবার তৈরি ও সংরক্ষণে অনিয়ম রোগী ও তাঁদের স্বজনদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার রাখলে এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি করলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।</p><p>চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুর রব প্রথম আলোকে বলেন, দূষিত খাবার খেলে ও দূষিত পানি পান করলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সেগুলো কোথায় ও কী পরিবেশে তৈরি হচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। খাবার তৈরির স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।</p><p>চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। তাই শুরু থেকেই পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন ও নিরাপদ পানি পান করা জরুরি। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/rdxsu39yf6">চট্টগ্রামে কাচ্চি ডাইনের রান্নাঘরে ইঁদুর-তেলাপোকা, ৩ লাখ টাকা জরিমানা</a></aside>
বাংলাদেশের বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ঢাকার মধ্যে শাহবাগ এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে; নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং ডিসেম্বর ঘিরে নাশকতার ছকের খবর রয়েছে আজ শনিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।
আজ শনিবার ১০ই অক্টোবর 'দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের' ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোসহ অন্যান্য বিরোধী দলও এই বিক্ষোভে সামিল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে গ্রাহক পর্যায় থেকে অপারেটর পর্যন্ত এলপিজির যে সাপ্লাই চেইন কাজ করে সেখানে কোথায় এই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে তার সন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিটি স্তরেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মুনাফার একটা চেষ্টা রয়েছে ব্যবসায়ীদের যে কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাইকে তার "শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারের প্রচেষ্টার" জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে ইলন মাস্ক ও ভারত সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের রাইড-শেয়ারিং ও পণ্য সরবরাহ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ এর সার্ভার থেকে গ্রাহকদের কোন ধরনের তথ্য চুরি হয়েছে? এটা কী কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?
“এখানে তো মাটি কাটার সময় থেকেই চান্দা শুরু হয়ে গেছে। আমি ওদের সঙ্গে অনেকবার বসছি। কিন্তু ওরা একেকবার একেকজন আসে।''
একটি প্রত্যন্ত আগ্নেয় দ্বীপে বসবাসকারী চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে।
পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
বলিউডের দাপুটে অভিনেতা নানা পাটেকর। কয়েক দিন আগে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।
ঢাকার স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচ শিশুর চারজন প্রতিদিন দুই ঘণ্টারও বেশি সময় মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পর্দায় সময় কাটায়।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চারজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘মক্কা জোট’-এর আওতায় সৌদি আরবে মোতায়েনকৃত পাকিস্তানি সেনারা ইয়েমেনের সীমান্ত অতিক্রম করবে না। কারণ এটি একটি আত্মরক্ষামূলক জোট।
মার্কিনিদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলার ভয় দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ভয় দেখিয়েছেন।
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠানের নগদ টাকা বহনকারী প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিমেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গাড়িচালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদ আহত হয়েছেন।