একই সঙ্গে যাঁরা এ কর্মসূচিতে লোক জড়ো করতে কিংবা সাধারণ মানুষকে অংশ নিতে প্ররোচিত করতে পারেন, এমন কিছু ব্যক্তির গতিবিধির ওপরও কড়া নজর রাখছে পুলিশ।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, টানা চার বছর ধরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। এই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে প্রায় সোয়া ছয় কোটি মানুষ এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিদেশে কর্মীরা আগে থেকে গন্তব্যের ভাষা না শিখে গেলে নিম্ন মজুরির কায়িক শ্রমে সীমাবদ্ধ থাকেন
কেউ কোনো সিরিজ ছেড়েছেন, কেউ বড় সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়েছেন, আবার কেউ পরবর্তী ক্যারিয়ারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন—নির্দিষ্ট ধরনের অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আর অভিনয় করবেন না।
কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ তুমি যত বড় হচ্ছো, এই সহজ সমীকরণটা ততই জটিল হতে থাকে। ধরো, তুমি কোনো গিটার ক্লাসে বা কোচিং সেন্টারে ছয় মাস ধরে যাচ্ছ
<p>কানাডীয়-হাইতীয় লেখক থেলিসোঁ ওরেলিয়েনের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পুরো উপন্যাস লেখার অভিযোগ উঠেছে। পরে ফ্রান্সের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার গঁকুরের দীর্ঘ তালিকা থেকে বইটি বাদ দেওয়া হয়েছে।</p><p>গঁকুর পুরস্কারের আয়োজক প্রতিষ্ঠান আকাদেমি গঁকুর জানিয়েছে, পুরস্কার ও প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় থেলিসোঁ ওরেলিয়েনের উপন্যাস <em>সেতেঁ সা উ মুরির</em> তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।</p><p>হাইতিতে জন্ম নেওয়া ৩৮ বছর বয়সী ওরেলিয়েনের উপন্যাসটি একজন ইতিহাস ও ভূগোল শিক্ষকের নিজের মুখে বলা কাহিনি। গ্যাং সহিংসতায় জর্জরিত নিজ দেশ থেকে পালিয়ে তিনি ১২টি দেশ পেরিয়ে এক বিপজ্জনক যাত্রা শেষে কানাডায় আশ্রয় নেন।</p><p>ফ্রান্সে গ্রাসে প্রকাশনী থেকে গত আগস্টে বইটি প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। উপন্যাসটি পেয়েছে ফনাক উপন্যাস পুরস্কার। পাশাপাশি ২০টির বেশি দেশে বইটির অনুবাদ প্রকাশের স্বত্ব বিক্রি হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/pcddarwk/WhatsApp_Image_2026_10_07_at_5_41_03_PM.jpeg"><figcaption>থেলিসোঁ ওরেলিয়েনের উপন্যাস ‘সেতেঁ সা উ মুরির’–এর প্রচ্ছদ</figcaption></figure><blockquote>ফরাসি সংবাদপত্র লিবেরাসিওঁকে ওরেলিয়েন বলেন, ‘আমার লেখায় হাইতি ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের নিজস্ব ভাষা ও ছন্দ ব্যবহার করা হয়েছে। চিত্রকল্প, পুনরাবৃত্তি ও ছন্দ এগুলো আমার নিজস্ব।’ বেনামি ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টটির পেছনে কে ছিলেন, পরে তা প্রকাশ্যে আসে। ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারো জানায়, অ্যাকাউন্টটির মালিক তাদেরই একজন কলাম লেখক স্যামুয়েল ফিতুসি।</blockquote><p>গত ২১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বইটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লেখার অভিযোগ ওঠে। সেদিনই উপন্যাসটি ফনাক উপন্যাস পুরস্কার জেতে।</p><p>‘ব্যালান্স তোঁ ক্লদ’ নামে একটি বেনামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট দাবি করে, তারা উপন্যাসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় লেখা কি না, তা শনাক্ত করতে প্যাংগ্রাম নামের একটি সফটওয়্যারে পরীক্ষা করেছে। তাদের দাবি, বইটির ‘প্রায় পুরোটাই’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লেখা।</p><p>তবে এ ধরনের সফটওয়্যার কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফরাসি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের পরীক্ষায় অন্য কিছু শনাক্তকারী সফটওয়্যার আবার বইটিকে মানুষের লেখা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানিয়েছে।</p><p>ওরেলিয়েন অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগটি বর্ণবিদ্বেষ থেকে করা হয়েছে।</p><p>ওরেলিয়েন বলেন, ‘আমি সব সময় সৃষ্টিশীলতা ও লেখালেখি ভালোবেসেছি। আমি কেন একটি যন্ত্র ব্যবহার করতে যাব, সেটাই বুঝি না।’</p><p>ফরাসি সংবাদপত্র <em>লিবেরাসিওঁ</em>কে ওরেলিয়েন বলেন, ‘আমার লেখায় হাইতি ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের নিজস্ব ভাষা ও ছন্দ ব্যবহার করা হয়েছে। চিত্রকল্প, পুনরাবৃত্তি ও ছন্দ এগুলো আমার নিজস্ব।’</p><p>বেনামি ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টটির পেছনে কে ছিলেন, পরে তা প্রকাশ্যে আসে। ফরাসি সংবাদপত্র <em>লে ফিগারো</em> জানায়, অ্যাকাউন্টটির মালিক তাদেরই একজন কলাম লেখক স্যামুয়েল ফিতুসি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/5qwda7j0/WhatsApp-Image-2026-10-07-at-5.41.03-PM.jpeg"><figcaption>থেলিসোঁ ওরেলিয়েন</figcaption></figure><blockquote>ওরেলিয়েন জানিয়েছেন, সর্বশেষ অভিযোগগুলো নিয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করবেন না। দক্ষিণ ফ্রান্সের মানোস্ক শহরে একটি সাহিত্য উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘কেবল বইটিকে আক্রমণ করার চেষ্টা নয়, বিশেষ করে আমার কণ্ঠকেই আক্রমণ করা হচ্ছে…আমাকে চুপ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’</blockquote><p>নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ফিতুসি বলেন, প্রযুক্তির ব্যাপারে তিনি আশাবাদী হলেও তাঁর আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসময় মানুষের পড়া ও লেখার অভ্যাসই বিলীন করে দিতে পারে। সেই উদ্বেগ থেকেই তিনি এই প্রচার শুরু করেছেন।</p><p>উপন্যাসটির মূল প্রকাশক কানাডার বোরেয়াল প্রকাশনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লেখককে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো তারা এই মুহূর্তে নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে পারছে না।</p><p>প্রকাশক সবাইকে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এই বই প্রকাশের অধিকার আছে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের কাজ নয়।’</p><p>ওরেলিয়েন জানিয়েছেন, সর্বশেষ অভিযোগগুলো নিয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করবেন না। দক্ষিণ ফ্রান্সের মানোস্ক শহরে একটি সাহিত্য উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘কেবল বইটিকে আক্রমণ করার চেষ্টা নয়, বিশেষ করে আমার কণ্ঠকেই আক্রমণ করা হচ্ছে…আমাকে চুপ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’</p><p>ওরেলিয়েন বলেন, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কিছুটা দূরে থাকতে চান।</p><p>আকাদেমি গঁকুর ৬ অক্টোবর পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা করেছে। বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ৪ নভেম্বর।</p> <ul><li><p>সূত্র: <em>দ্য গার্ডিয়ান</em><br>গ্রন্থনা: <strong>রবিউল কমল</strong></p></li></ul>
<p>১৯ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা ট্রমা সেন্টার। জরুরি ও অস্ত্রোপচার–সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা, অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে প্রায় দুই কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
<p>এক মাসের কম সময়ের মধ্যে গত বুধবার তৃতীয়বারের মতো টেক্সাস সফর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন নিয়ে সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্প এবার এমন এক সিনেট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামলেন, যিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং খোদ প্রেসিডেন্টও অতীতে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নানা ভাষায় অপমান করেছিলেন।</p><p> আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি চলছে। সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে ট্রাম্পের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। আর এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখার মূল পথ এবার টেক্সাসের ওপর দিয়েই গেছে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার হিসাবের কেন্দ্রে রয়েছে এই টেক্সাস।</p><p> ১৯৯৪ সালের পর থেকে টেক্সাসে রাজ্য স্তরের কোনো নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেননি। এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনেও এই অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প ১৩ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। তবে এবার ভোটের সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন।</p><p>জনমত জরিপগুলো বলছে, রিপাবলিকান প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর ধারণার চেয়েও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এমন পরিস্থিতিতে প্যাক্সটনের অবস্থান শক্তিশালী করতে লাখ লাখ ডলার ঢালছেন রিপাবলিকানরা।</p><p>সান আন্তোনিওতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিতি ছিল তাঁর চিরচেনা চটজলদি স্বভাবের, যেখানে রসাত্মক মুহূর্তের পাশাপাশি বিরোধীদের ওপর ছিল তীব্র আক্রমণ। নিজের পাতলা হয়ে যাওয়া চুল নিয়ে কৌতুক করার পাশাপাশি তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী তালারিকোকে মিথ্যাই ‘ভেগান’ (নিরামিষভোজী) বলে আক্রমণ করেন। সেই সঙ্গে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন যে তিনি এ শব্দের উচ্চারণ ভুল করছিলেন।</p><p>সমাবেশ চলাকালে অন্তত এক ডজন বিক্ষোভকারী কয়েক দফায় ট্রাম্পের বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করলে তাঁদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।</p><p>চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান চাইলে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ‘ধ্বংস করে দিতে’ পারে—ট্রাম্পের এমন এক মন্তব্যে উভয় দলের নেতাদের মধ্যেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছিল। সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প সেই উসকানিমূলক বক্তব্যের কিছুটা স্পষ্টীকরণ করার চেষ্টা করেন। এবার একই ধরনের মন্তব্যের পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আমরা এমনটা হতে দেব না।’</p><p>এ সমাবেশের কার্যকারিতা আগামী দিনগুলোয় বেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান টেক্সাসের এক রিপাবলিকান নির্বাচনী কৌশলবিদ। তাঁর মতে, এ আয়োজন প্যাক্সটনের জনপ্রিয়তার গ্রাফ কতটা বৃদ্ধি করতে পারল, তার ওপরই নির্ভর করছে এই অঙ্গরাজ্যে দলটির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত।</p><p>এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে টেক্সাসে এটি প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় সফর। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের দেশব্যাপী যে ঝটিকা নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে, তারই অংশ এটি।</p><p>দুই বছর আগে যেসব ঐতিহ্যবাহী ‘লাল দুর্গ’ তথা রিপাবলিকান ঘাঁটিতে ট্রাম্প বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সেসব অঙ্গরাজ্য চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে অ্যালাবামা, ওকলাহোমা ও নেব্রাস্কা অন্যতম। নির্বাচনী সমাবেশগুলোয় ট্রাম্প বারবার তাঁর সমর্থকদের বলছেন, তাঁরা যেন ধরে নেন এ নির্বাচনে ব্যালট পেপারে তাঁর নামও আছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টাদেরও ধারণা, আগামী নভেম্বরের বৈতরণি পার হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দলের নিজস্ব ভোটব্যাংককে পুরোপুরি মাঠে নামানো।</p><p>তবে এ কট্টর রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যগুলোয়ও দলের কিছু নেতা বর্তমানে জনপ্রিয়তাহীন এই প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। যেমন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সময়ের টানাটানির অজুহাত দেখিয়ে বুধবার সন্ধ্যার এ সমাবেশে উপস্থিত হননি। এমনকি গত সপ্তাহে ট্রাম্পের টেক্সাস সফরটিও তিনি এড়িয়ে গেছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/d4x3ew2y/republican-candidate.jpg"><figcaption>টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান আন্তোনিওতে কেন প্যাক্সটনের পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাঁর বক্তব্য শুনছেন সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ও সিনেটর টেড ক্রুজ। ৭ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>এমন পরিস্থিতিতে টেক্সাসের সেই রিপাবলিকান নির্বাচনী কৌশলবিদ বলেন, ‘আমার কাছে এটি বেশ স্পষ্ট যে প্যাক্সটনের নির্বাচনী দল হিসাব–নিকাশ করেই মাঠে নেমেছে। তারা বিশ্বাস করে, ট্রাম্পকে পাশে পাওয়াটা তাদের জন্য পুরোপুরি লাভজনক।’</p><p>এদিকে নিজের নির্বাচনী লড়াইয়ে বিপাকে পড়ার জন্য প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর কিছু নীতিকে পরোক্ষভাবে দায়ী করে সংবাদ শিরোনামে এসেছেন কেন প্যাক্সটন। গত মাসে প্যাক্সটন দাতা ও লবিস্টদের এক সভায় বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য তাঁর নির্বাচনী প্রচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের হাতে আসা এক অডিও রেকর্ডে তাঁকে এমন মন্তব্য করতে শোনা যায়।</p><p>এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্যাক্সটন সেখানে বলেন, ‘আমি তো এসব সিদ্ধান্ত নিই না, আর...এসব সিদ্ধান্তের পেছনে আসলে কী কারণ আছে, তা–ও আমি জানি না।’ তবে সিএনএন স্বাধীনভাবে এ অডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।</p><p>অবশ্য প্যাক্সটনের নির্বাচনী দল এ খবরকে উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর মুখপাত্র ম্যাডিসন সার্সি সিএনএনকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল আসলে সে কথাই বলেছেন, যা প্রত্যেক টেক্সাসবাসী ইতিমধ্যে জানেন। পেট্রল ও ডিজেলের দাম বড্ড চড়া। খেটে খাওয়া টেক্সাসবাসীকে জ্বালানি স্টেশন আর মুদিদোকানে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ট্রাম্প দ্রব্যমূল্য কমিয়ে আনতে তাঁর সাধ্যমতো সবকিছুই করছেন।</p><blockquote>জনমত জরিপগুলো বলছে, রিপাবলিকান প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর ধারণার চেয়েও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এমন পরিস্থিতিতে প্যাক্সটনের অবস্থান শক্তিশালী করতে লাখ লাখ ডলার ঢালছেন রিপাবলিকানরা।</blockquote><p>তবে এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই নিউইয়র্ক টাইমস প্যাক্সটনের আরেকটি অডিও ফাঁস করেছিল। সেখানে গত মাসে ডালাসে অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের মধ্যবর্তী নির্বাচনী কনভেনশনটি দলের জন্য কোনো উপকারে আসেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায় প্যাক্সটনকে।</p><p>নিউইয়র্ক টাইমসের ফাঁস করা সেই অডিওতে টেক্সাসের এই অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের সত্যি করে বলি, ওই সম্মেলন করার পর আমাদের জনপ্রিয়তার সূচক বা নম্বর অনেকটাই নেমে গিয়েছিল।’</p><p>তবে সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্যাক্সটনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা নিক ম্যাডক্স নিউইয়র্ক টাইমসের এ খবরকে ‘মনগড়া ও বানোয়াট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, তেমন একটি গল্প তৈরি করতেই এমনটা করা হয়েছে। প্যাক্সটন নিজে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত। এর মধ্যে সিকিউরিটিজ জালিয়াতির মামলা (যা পরে বিচার–পূর্ব সমঝোতায় শেষ হয়), পরকীয়ার অভিযোগ ও ২০২৩ সালে অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে হওয়া অভিশংসন অন্যতম। যদিও অঙ্গরাজ্যের সিনেট পরে তাঁকে এ অভিশংসন থেকে খালাস দেয়।</p><p>এতসব নেতিবাচক ইতিহাস থাকার পরও চলতি বছরের শুরুর দিকে দলের অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক বাছাইয়ের (প্রাইমারি রানঅফ) লড়াইয়ে বর্তমান সিনেটর জন কর্নিনকে বাদ দিয়ে প্যাক্সটনকেই সমর্থন দেন ট্রাম্প।</p><p>অবশ্য এ দুজনের সম্পর্ক সব সময়ই বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে বলে মনে হয়। যদিও বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই।</p><p>গত সপ্তাহে টেক্সাসের ডেন্টন শহরে এক সমাবেশে প্যাক্সটনকে ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের একজন’ হিসেবে বর্ণনা করার পাশাপাশি ট্রাম্প রসিকতা করে ‘মাঝেমধ্যে গলার কাঁটা’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।</p><p>এ ছাড়া রাজ্যের এই অ্যাটর্নি জেনারেলের পোশাক ও বাহ্যিক অবয়ব নিয়ে ট্রাম্পের প্রায়ই ঠাট্টা–মশকরা করার অভ্যাস রয়েছে। যেমন: গত মাসে ডালাসের সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘অনেকেরই হয়তো তাঁর পোশাকের ধরন পছন্দ না–ও হতে পারে। সত্যি বলতে, আমারও পছন্দ নয়।’</p><p>অবশ্য বুধবার রাতের সমাবেশে ট্রাম্প সেই মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেননি; বরং দুজনে যখন একসঙ্গে মঞ্চে ওঠেন, তখন তাঁদের মধ্যে বেশ উষ্ণ সম্পর্ক দেখা যায়। ট্রাম্প প্যাক্সটনকে একজন ‘অসাধারণ মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন।</p><p>প্যাক্সটনকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। আমার বিশ্বাস, তিনি একজন অবিশ্বাস্য রকমের ভালো সিনেটর হবেন।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/99nrd6f49r">নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাব না: ট্রাম্প</a></aside><aside><cite>ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট</cite>অনেকেরই হয়তো তাঁর (টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটন) পোশাকের ধরন পছন্দ না–ও হতে পারে। সত্যি বলতে, আমারও পছন্দ নয়।</aside><p>প্যাক্সটনও তাঁর বক্তব্যে অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপস্থিত উৎফুল্ল জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘তিনি যে সান আন্তোনিওতে এসেছেন, এতে কি আপনারা সবাই খুশি নন?’</p><p>প্যাক্সটনের নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন একজন রিপাবলিকান কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে টেক্সাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই বোঝেন। তাই আমার মনে হয়, তিনি আগের সব মনোমালিন্য একপাশে সরিয়ে রেখে বৃহত্তর স্বার্থেই মনোযোগ দিচ্ছেন।’</p><p>তবে সেই কর্মী একই সঙ্গে বলেন, ‘এর পাশাপাশি প্যাক্সটনকে একটু অস্বস্তিতে বা খাবি খাওয়ানোর বিষয়টিও যে ট্রাম্প বেশ উপভোগ করেন, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত।’</p><p>বুধবারের সমাবেশের আগে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্যাক্সটনের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাঁর নির্বাচনী দলের পক্ষ থেকে শুধু ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার পূর্বপরিকল্পনার কথাই মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/ungn045k/election-rally.jpg"><figcaption>ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের অসন্তোষ ও প্রতিবাদ বাড়ছে</figcaption></figure><h3>ট্রাম্পের সফর কতটা কাজে আসবে </h3><p>নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত প্যাক্সটনের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা কিছু প্রার্থীর জন্য তাঁকে অস্বস্তিকর অতিথি করে তুলতে পারে। সিএনএনের সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোর সমন্বিত হিসাবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার মাত্র ৩৪ শতাংশ।</p><p>২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতাতে যেসব ভোটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের একটি অংশের সমর্থনও এখন হারাচ্ছেন তিনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত এনবিসি নিউজ ও টেলিমুন্ডোর এক জরিপে দেখা গেছে, হিস্পানিক বা লাতিনো ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার মাত্র ২৭ শতাংশ। সান আন্তোনিও সফরের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করতে পারেন তিনি। শহরটির জনসংখ্যার ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশই হিস্পানিক বা লাতিনো।</p><p>অন্যদিকে টেক্সাসে ট্রাম্পের আবারও প্রচারে নামাকে নিজেদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ডেমোক্র্যাটরা।</p><blockquote>সমাবেশ চলাকালে অন্তত এক ডজন বিক্ষোভকারী কয়েক দফায় ট্রাম্পের বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করলে তাঁদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।</blockquote><p>টেক্সাসের ডেমোক্রেটিক পার্টির এক কৌশলবিদ বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে টেক্সাসে চারবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আনতে হলে বুঝতে হবে, আপনি স্বতন্ত্র ভোটারদের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এটা আসলে ক্ষতি কমানোর কৌশল।’</p><p>এ বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্ব শুধু ২০২৭ সালে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়তে পারে ২০২৮ সালের নির্বাচন ও এর পরের রাজনীতিতেও।</p><p>টেক্সাসের রিপাবলিকান পার্টির ওই কৌশলবিদ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তালারিকোর সম্ভাব্য জয়কে বাঁধের একটি ফাটলের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর মতে, এমন জয় অঙ্গরাজ্যটিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে নেওয়ার পথে দলটিকে গতি এনে দিতে পারে।</p><p>টেক্সাসের লড়াইয়ের গুরুত্ব যে অনেক বেশি, তা প্যাক্সটনও বুঝতে পারছেন বলে মনে হচ্ছে। বুধবারের সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা টেক্সাসে হারলে, আমেরিকাতেও হারব।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/97oktc2168">যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: ৪৭০টি আসন, ব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলার ও অনুপস্থিত প্রেসিডেন্ট</a></aside>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/q12nnh0y/64cd73a0-8f14-11f1-b2ab-0dd01740f9f6.jpg.webp"><figcaption> আলোকচিত্রী আর্নেস্ট পোর্টারের ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’ ছবিটি</figcaption></figure><p>৬২তম ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় জমা পড়া ছবিগুলোর মধ্যে ১০০টি নিয়ে একটি ফটো গ্যালারি প্রকাশ করেছে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম। নির্বাচিত ছবিগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকার আলোকচিত্রী আর্নেস্ট পোর্টারের ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’। ছবিতে দেখা যায়, একটি রেড-বিল্ড অক্সপেকার গন্ডারের মুখের কাছে বসে তার ঠোঁট গন্ডারের চামড়ায় ঘষছে। ছবিটি তোলা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মানিয়েলেতি গেম রিজার্ভে। </p><p>গন্ডার আর ছোট্ট এই পাখির ছবিটির পেছনে রয়েছে বন্য প্রাণীর দুই প্রজাতির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। রেড-বিল্ড অক্সপেকার শুধু গন্ডার নয়, জিরাফ, জেব্রা ও হরিণের মতো বড় তৃণভোজী প্রাণীর শরীরেও বসে খাবার খোঁজে। এসব প্রাণীর শরীরে থাকা মাছি, উকুন, টিকসহ বিভিন্ন পরজীবী তার খাবারের অন্যতম উৎস। ফলে বড় প্রাণীর শরীর হয়ে ওঠে পাখিটির খাবার খোঁজার সুবিধাজনক জায়গা। </p><p>অক্সপেকার এসব প্রাণীর শরীর থেকে খাবার সংগ্রহ করে। এতে পাখিটির খাবারের জোগান হয়, আর প্রাণীরাও শরীরের কিছু পরজীবী কমার সুবিধা পেতে পারে। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্সপেকার তৃণভোজী প্রাণীর শরীরে থাকা পরজীবীর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/xrglxscy/Red_billed_oxpeckers__Buphagus_erythrorynchus__adult__L__sub_adult__R__on_impala.jpg"><figcaption>সম্ভাব্য বিপদ এগিয়ে এলে পাখিটি অস্থির হয়ে ওঠে এবং ডাক দিয়ে সতর্ক করতে পারে</figcaption></figure><h3>বিপদ দেখলে সতর্ক করে </h3><p>রেড-বিল্ড অক্সপেকার শুধু খাবার খোঁজে না, বড় তৃণভোজী প্রাণীর সঙ্গে তার আরেক ধরনের সম্পর্কও রয়েছে। গন্ডারের দৃষ্টিশক্তি খুব ভালো নয়। অন্যদিকে অক্সপেকার গন্ডার, জিরাফ বা অন্য প্রাণীর পিঠে বসে আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে পারে। সম্ভাব্য বিপদ এগিয়ে এলে পাখিটি অস্থির হয়ে ওঠে এবং ডাক দিয়ে সতর্ক করতে পারে। ফলে প্রাণীটিও আশপাশের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার সুযোগ পায়। </p><p>এ কারণেই অক্সপেকারকে অনেক সময় গন্ডারসহ বিভিন্ন বড় তৃণভোজী প্রাণীর ‘রক্ষী’ বা ‘প্রহরী’ বলা হয়। সোয়াহিলি ভাষায় এই পাখির একটি নাম ‘আসকারি ওয়া কিফারু’, যার অর্থ ‘গন্ডারের রক্ষী’। নামটিও গন্ডারের সঙ্গে পাখিটির বিশেষ সম্পর্কের ধারণাটি তুলে ধরে। </p><h3>‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’</h3><p>এই সম্পর্কের কারণেই আর্নেস্ট পোর্টার তাঁর ছবির নাম দিয়েছেন ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’—পারস্পরিক বন্ধু। ছবিটি তোলার সময় পোর্টার গন্ডারের শরীরে থাকা অক্সপেকারকে তার ঠোঁট পরিষ্কার করতে দেখেছিলেন। সেই মুহূর্তই ক্যামেরায় ধরে রাখেন তিনি। ছবিতে গন্ডারের চোখের চারপাশে নীলচে একটি বলয়ও দেখা যায়, যা আলোকচিত্রীকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/r9gd3b8r/Red-billedoxpeckerBuphaguserythrorhynchusonimpalaAepycerosmelampus.jpg"><figcaption>ইমপালার মাথায় বসেছে রেড-বিল্ড অক্সপেকার</figcaption></figure><p>প্রকৃতিতে এমন সম্পর্কের উদাহরণ কম নয়। কোনো প্রাণী অন্য প্রাণীর শরীর থেকে খাবার সংগ্রহ করে, আবার সেই কাজের মাধ্যমে অন্য প্রাণীও উপকৃত হয়। রেড-বিল্ড অক্সপেকার ও গন্ডারসহ বড় তৃণভোজী প্রাণীর সম্পর্ক তারই একটি দৃষ্টান্ত। একজনের জন্য এটি খাবারের সন্ধান, অন্যজনের জন্য পরজীবীর চাপ কমার সুযোগ। আবার বিপদের মুহূর্তে সেই ছোট পাখিই হয়ে উঠতে পারে সতর্কবার্তার উৎস।</p><p>জীববিজ্ঞানের ভাষায়, দুই ভিন্ন প্রজাতির এমন সম্পর্কে উভয় পক্ষ উপকৃত হলে তাকে ‘মিউচুয়ালিজম’ বলা হয়।</p><p>এবারের ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার ১০০টি নির্বাচিত ছবি ১৬ অক্টোবর থেকে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হবে। প্রতিযোগিতার বিভাগীয় বিজয়ী, গ্র্যান্ড টাইটেল ও ইয়াং গ্র্যান্ড টাইটেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।</p><p><sup>সূত্র: </sup><strong><sup>ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম </sup></strong><sup>ও</sup><strong><sup> ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক</sup></strong></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/x8fp4s2el0">বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখির আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ২৫টি ছবি দেখুন</a></aside>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন