<p>তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশের একটি গাড়িসহ কমপক্ষে ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।</p><p>আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা। পরে আরও আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভে অংশ নেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।</p><p>আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মতো ওভারটাইমের সুযোগও নেই। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়লেও তাঁদের বেতন বাড়েনি। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।</p><p>ইন্টারস্টপ অ্যাপারেল লিমিটেড কারখানার লাইনম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সারা দিন পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, তা দিয়ে এখন আর সংসার চলে না। চাল, ডাল, তেলসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। অথচ আমাদের বেতন সেই আগের জায়গায় পড়ে আছে। বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছি। আমরা কাজ করতে চাই, কিন্তু পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার মতো বেতনও তো পেতে হবে।’</p><p>একই কারখানার সুইং অপারেটর পারভীন আক্তার বলেন, ‘বাড়িভাড়া, বাজার খরচ, সন্তানের পড়াশোনা—সবকিছু সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে ওভারটাইম করে কিছু বাড়তি আয় হতো, এখন সেই সুযোগও কমে গেছে। ৩০ হাজার টাকা বেতন করা আমাদের অনেক দিনের দাবি। দাবি না মানা হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’</p><aside><cite>মো. আশরাফুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ</cite>পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে।</aside><p>শিল্প পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপরও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।</p><p>শনিবার দুপুরে টিফিন বিরতির সময় কাজে যোগ না দিয়ে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে আশপাশের ময়লা-আবর্জনার বস্তা রাস্তায় ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন তাঁরা। একপর্যায়ে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ছুটি পাওয়া শ্রমিকদের একটি অংশও বিক্ষোভে যোগ দেয়।</p><p>খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বেলা আড়াইটা থেকে অবরোধ শুরু হলে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকেরা। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ির সামনের কাচসহ ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/qdq6cmm5/clashgazipur2.jpg"><figcaption>কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে তুলে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী</figcaption></figure><p>পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় ৩০ জন শ্রমিক ও পুলিশের সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম।</p><p>আহত শ্রমিকেরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক কবির হোসেন বলেন, ‘পুলিশের লাঠিপেটায় আমাদের ২০-২৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। টিয়ার শেলে আহত হয়েছেন অনেকে। আজ চলে গেলেও কাল (রোববার) সকাল থেকে আবার আমাদের আন্দোলন শুরু হবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/y3g8m2oe26">আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ২৫ কারখানা ছুটি ঘোষণা</a></aside><h3>অবরোধে ভোগান্তি </h3><p>এর আগে বিকেলে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কথা হয় বাসচালক হারুন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চন্দ্রা এলাকায় বসে আছি। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতি হয়েছিল। পোশাকশ্রমিকেরা প্রায়ই এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রাখলে আমাদের কী হবে?’ যাত্রী মো. কাদের মিয়া বলেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়া প্রয়োজন। চন্দ্রায় এসে বাস থেকে নেমে বাধ্য হয়ে হেঁটে যাচ্ছি।’</p><p>জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে। মানুষের জানমালের ক্ষতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।</p><p>গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত অন্তত ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/o9oh30vd05">বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ</a></aside>
<p>বন্ধু তৌসিফের জন্মদিন পালন করতে সিলেটের লালাখালে ঘুরতে গেছেন অভিনেত্রী মুমতাহিনা টয়া। শাওন ও সাফাও ছিলেন তাঁর সঙ্গী। চলুন ছবিতে দেখে নিই, কেমন ঘোরাঘুরি হলো তাঁদের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/3clencv2/IMG-20261031-WA0035.jpg.jpeg"><figcaption>লালাখালে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/divlbed5/FBIMG1793450443966.jpg-2.jpeg"><figcaption>ফেসবুকের ছবির ক্যাপশনে টয়া লিখেছেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় সুন্দর পোজ দেওয়ার চেয়ে হাসি থামানো অনেক বেশি কঠিন।’</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/4hkugvda/WhatsApp-Image-2026-10-31-at-6.57.01-PM.jpeg"><figcaption>ক্যামেরাবন্দী টয়া-শাওন</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/ubot77q13o">মিরপুরের ব্যতিক্রমী বিনোদনকেন্দ্র ওয়াওজা এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম হলে কী কী আছে, কেন যাবেন</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/050njrnm/FBIMG1793450440539.jpg.jpeg"><figcaption>এই ট্যুরে টয়ার সবচেয়ে প্রিয় ছবি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/xgz5kpti/IMG-20261031-WA0037.jpg.jpeg"><figcaption>সেলফিতে তাঁরা দুজন</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/2m0wfckr/IMG-20261031-WA0039.jpg.jpeg"><figcaption>দুষ্টু-মিষ্টি খুনসুটিতে টয়া, শাওন, সাফা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/vbul61dd/FBIMG1793450442286.jpg.jpeg"><figcaption>টয়া বলেন, শেষ পর্যন্ত সুন্দর পোজের চেয়ে হাসতে হাসতে তোলা ছবির সংখ্যাই বেশি হয়।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/ixgdumzj/FBIMG1793450438507.jpg-1.jpeg"><figcaption>মজার ব্যাপার হলো, পরে ছবিগুলো দেখতেই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে তাঁদের।</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/2x5crztpjp">এবার আপনিও হতে পারেন ফ্যাশন হাউসের মডেল, পাবেন মাসিক বেতন</a></aside>
ঢাকা বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাব আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে এ পরীক্ষার ফলাফল দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। কারণ, এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও যেন উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগটাও পান।
কথা বলেন আরেক নিবাসী নূর জাহান বেগম (৬৯)। তিনি ফরিদপুর সদরের হাড়োকান্দি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিয়ে হয়েছিল নগরকান্দার বিলনালিয়া গ্রামে। বিয়ের দুই মাসের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর স্বামীকে আত্মীয়স্বজনেরা হত্যা করেন। বিধবা হয়ে তিনি আবার বাবার বাড়ি হাড়োকান্দিতে ফিরে আসেন।
<p>ছেলেকে নিয়ে শচীনকর্তার নানা অভিযোগ। ছেলে নাকি শুয়ে-বসে সময় কাটায়! শরীরচর্চায় মন নেই। নিজে অবশ্য চলতেন কড়া নিয়ম মেনে। গোছানো জীবনযাপন ছিল। প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বেরোতেন। ছেলেকেও সেই অভ্যাসে আনতে চাইতেন। বকাঝকাও করতেন। এমনই এক সকালে জুহুতে হাঁটতে বেরিয়েছেন শচীনকর্তা। পথে তাঁকে দেখে একজন বলে উঠলেন, ‘ওই যে আর ডি বর্মনের বাপ যাচ্ছে!’</p><p>কথাটি শুনে আনন্দে ভরে উঠল বাবার মন। বাড়ি ফিরে ছেলেকে শোনালেন ঘটনাটি। এত দিন মানুষ তাঁকে চিনেছে এসডি বর্মন হিসেবে। আজ চিনেছে আর ডি বর্মনের বাবা বলে। ছেলের এই পরিচিতি তাঁকে গর্বিত করেছিল।</p><p>ছোট কর্তা রাহুল দেববর্মন নিজেই ঘটনাটি বলেছিলেন এক সাক্ষাৎকারে। ১৯৮৪ সালের সংখ্যার ‘ফিল্মফেয়ার’-এ প্রকাশিত কথোপকথনেও পাওয়া যায় ছেলের পরিচয়ে বাবার আনন্দিত হওয়ার স্মৃতি। নিজের বিপুল খ্যাতির পাশে সন্তানের পরিচয়টিও সেদিন সানন্দে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।</p><p>আজ আপনাদের শোনাব সেই মানুষটির কথা। বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে যিনি শচীনকর্তা। শচীন দেববর্মন। হিন্দি সিনেমার ‘দাদা বর্মন’। সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক—তিন পরিচয়েই রেখে গেছেন স্বতন্ত্র ছাপ। তাঁর সুরে ধরা দিয়েছে প্রেম ও বিরহ। মিশে থেকেছে বাংলার নদী আর মাটির টান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-08/5f5d3453-a713-467d-ad41-a42cd08c2593/Untitled_12.jpg"><figcaption>শচীন দেববর্মন</figcaption></figure><p>আজ তাঁকে ফিরে দেখার বিশেষ উপলক্ষও আছে। আজ ৩১ অক্টোবর তাঁর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মুম্বাইয়ে মারা যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/song/f222e0oxq5">জন্মদিনে জানা–অজানা শচীন দেববর্মন</a></aside><p><strong>রাজপরিবারের সন্তান, সুরে বাংলার মাটি</strong><br>জন্ম রাজপরিবারে। কিন্তু তাঁর সুরের অনেকখানি জুড়ে ছিল সাধারণ মানুষের জীবন। শচীন দেববর্মনের জন্ম ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর, কুমিল্লায়। বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য। মা নির্মলা দেবী মণিপুরের রাজকন্যা। কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯২৪ সালে বিএ পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান শচীন। তবে এমএ শেষ করেননি। সংগীতই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান সাধনা।<br>লোকগানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় শৈশবেই। সেই শিক্ষকদের সবাই নামকরা ওস্তাদ ছিলেন না। তাঁর জীবনীতে পাওয়া যায়, বাড়ির প্রবীণ সহায়ক মাধবের কণ্ঠে শুনতেন রামায়ণের কাহিনিনির্ভর গান। আর মাছ ধরার সঙ্গী আনোয়ার দোতারা বাজিয়ে গাইতেন ভাটিয়ালি। চারপাশের মানুষের মুখে শোনা এসব সুর তাঁর সংগীতবোধ গড়ে তুলেছিল।<br>পরে কৃষ্ণচন্দ্র দে, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, ওস্তাদ বাদল খাঁ ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মতো গুণীজনের কাছে তালিম নেন। লোকসুরের সহজ আবেদন আর শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষা এভাবেই মিলেছিল তাঁর মধ্যে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-01/u8zrlyow/WhatsApp_Image_2026_07_31_at_5_08_46_PM.jpeg"><figcaption>শচীনদেব ও রফি</figcaption></figure><p><br>সেই দুই ধারার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর প্রথম রেকর্ডেও। ১৯৩২ সালের সেপ্টেম্বরে হিন্দুস্থান রেকর্ড থেকে প্রকাশিত হয় ৭৮ আরপিএমের ডিস্কটি। এক পিঠে ছিল হেমেন্দ্রকুমার রায়ের লেখা ‘ডাকলে কোকিল রোজ বিহানে’। অন্য পিঠে শৈলেন রায়ের ‘এ পথে আজ এসো প্রিয়’। একটি লোকসুরভিত্তিক, অন্যটি রাগপ্রধান। সুরকার ও গায়ক—দুই ভূমিকাতেই ছিলেন শচীন দেববর্মন। প্রথম রেকর্ডেই যেন ধরা পড়েছিল তাঁর পরবর্তী সংগীতজীবনের পথরেখা।</p><p>পরে হিন্দি চলচ্চিত্রের ব্যস্ত জগতে প্রতিষ্ঠা পেলেও এই শিকড় থেকে সরে যাননি। লোকগানকে নিজের সুরের ভাষায় মিশিয়ে নিয়েছিলেন। তাই তাঁর সৃষ্টিতে নদীর টান, বিচ্ছেদের আকুতি আর দূরের মানুষের জন্য অপেক্ষা এত স্বাভাবিকভাবে আসে। শহুরে প্রেমের দৃশ্যেও কখনো শোনা যায় বাংলার মেঠো সুরের প্রতিধ্বনি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/song/%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%9F-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A8">সুরে–ছন্দে অপার বিস্ময় রাহুল দেববর্মন</a></aside><p><strong>যে কণ্ঠ সহজেই চেনা যায়</strong><br>শচীনকর্তার গান শুনে তাঁকে চিনতে বেশি সময় লাগে না। কণ্ঠের তীক্ষ্ণ টান, উচ্চারণে পূর্ববঙ্গের ছাপ আর সুরের বাঁকে লোকগানের রেশ তাঁকে আলাদা করে দেয়। তাঁর গায়কিতে শব্দগুলোও বিশেষ গুরুত্ব পায়। কখনো একটি শব্দ দীর্ঘ করে টানেন। কখনো ছোট্ট বিরতি দিয়ে পরের কথাটির আকুতি বাড়িয়ে তোলেন। শুনতে শুনতে মনে হয়, দূরের কেউ একান্ত মনের কথা জানাচ্ছেন।<br>‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই’ গানটিতে এই বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট। কণ্ঠের টান আর সুরের ওঠানামায় ফুটে ওঠে মনের অস্থিরতা। বাঁশির প্রতি অনুযোগের মধ্যেও তার আকর্ষণ এড়াতে না পারার অসহায়ত্ব শোনা যায়। তাঁর গাওয়া গানটির আবেদন তাই সুরের মাধুর্যের পাশাপাশি কথার অভিব্যক্তিতেও। অভিমান, আকুলতা ও সমর্পণ একসঙ্গে ধরা দেয় সেই উচ্চারণে।</p><p>হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠ প্রায়ই পেয়েছে গল্পের ভাষ্যকারের ভূমিকা। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বন্দিনী’র শেষ পর্বে শোনা যায় ‘ও রে মাঝি, মেরে সাজন হ্যায় উস পার’। শৈলেন্দ্রর লেখা, শচীনকর্তার সুর করা ও গাওয়া গানটিতে ভাটিয়ালির আবহ প্রবল। মাঝির প্রতি ডাকের মধ্যে মিশে যায় প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর আকুতি। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের টানাপোড়েনকে গানটি আরও গভীর করে তোলে। তাঁর কণ্ঠ যেন চরিত্রের না-বলা কথাগুলোই শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেয়।<br>আবার ১৯৬৫ সালের ‘গাইড’-এর শুরুতে ‘ওয়াহাঁ কৌন হ্যায় তেরা’ গানটি অন্য এক অনুভূতি তৈরি করে। শৈলেন্দ্রর কথায়, নিজের সুরে গানটি গেয়েছিলেন শচীনকর্তা। এখানে তাঁর কণ্ঠে আছে এক উদাস জিজ্ঞাসা। পথিককে সম্বোধন করলেও সেই প্রশ্ন যেন পৌঁছে যায় দর্শকের কাছেও। গল্পের শুরুতেই গানটি একাকিত্ব ও জীবনের অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করে দেয়।<br>এই গানগুলোয় বোঝা যায়, চলচ্চিত্রে শচীনকর্তার কণ্ঠ কেন এত কার্যকর। পর্দার দৃশ্যের সঙ্গে তাঁর গান চলে, আবার সেই দৃশ্যের বাইরেও ভাবনার জায়গা তৈরি করে। লোকগানের চেনা টান নিয়ে তিনি পৌঁছে যান মানুষের গভীর অনুভূতির কাছে। তাই গান শেষ হলেও কণ্ঠের সেই ডাক মনে থেকে যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-02/d067d1ab-e8f4-43a6-85fe-19989c5d4f33/243569659_355659976304333_1328955445575542700_n.jpg"><figcaption>বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মন, তাঁর ছেলে রাহুল দেববর্মনের সঙ্গে গানের একটি মুহূর্তে লতা মঙ্গেশকর। জীবনকালে এ ছবি ইনস্টাগ্রামে দিয়ে লতা শচীন দেববর্মনকে পিতৃতুল্য বলে উল্লেখ করেন।</figcaption></figure><p><br><strong>হিন্দি সিনেমায় সুরের বিস্তার</strong><br>বাংলা গান ও চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে শচীনকর্তা পা রাখেন হিন্দি সিনেমায়। সংগীত পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম হিন্দি ছবি ‘শিকারি’ মুক্তি পায় ১৯৪৬ সালে। পরের বছর ‘দো ভাই’ তাঁকে বড় সাফল্য এনে দেয়। গীতা দত্তের গাওয়া ‘মেরা সুন্দর স্বপ্না বিত গয়া’ শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেয়।<br>এরপর একের পর এক স্মরণীয় কাজ। ‘পিয়াসা’, ‘চলতি কা নাম গাড়ি’, ‘গাইড’, ‘আরাধনা’, ‘অভিমান’—তাঁর সুরের বৈচিত্র্য বুঝতে এই কয়েকটি নামই যথেষ্ট। কোথাও বিষণ্নতা, কোথাও দুষ্টুমি। কোথাও প্রেমের উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও অভিমান।</p><p>লতা মঙ্গেশকর, মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার, আশা ভোসলে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও মান্না দের মতো শিল্পীরা গেয়েছেন তাঁর সুরে। প্রত্যেকের কণ্ঠের নিজস্ব শক্তিকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর সৃষ্টির ভুবনে এত ভিন্ন স্বরের সমাবেশ ঘটলেও সুরকারের নিজস্ব ছাপ হারায়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/song/tj5p58kdcw">শচীন টেন্ডুলকারের নাম নেওয়া হয় শচীন দেববর্মন থেকেই</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-10/79cdab81-92dd-480b-9ac8-8b8dbc87e4fc/1606610343_5fc2eda7e703e_sd_burman.jpg"><figcaption>শচীন দেববর্মন</figcaption></figure><p><strong>ছেলের কড়া শিক্ষক</strong><br>ছেলের সংগীতজীবন গড়ার ক্ষেত্রেও শচীনকর্তা ছিলেন যত্নবান। আর ডি বর্মনের কাছে বাবা ছিলেন কঠিন শিক্ষক। তাল বুঝতে হবে। যন্ত্র চিনতে হবে। নিজের সৃষ্টির ব্যাপারে সৎ থাকতে হবে।<br>১৯৯৩ সালে আর ডির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন সাংবাদিক মৃত্যুঞ্জয় কুমার ঝা। পরে পুরোনো নোট ও স্মৃতির ভিত্তিতে সেই কথোপকথনের বিবরণ প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে আর ডি জানিয়েছেন, তাঁর সংগীতজীবন গড়ে দেওয়ার পেছনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন বাবা।<br>ছোটবেলায় হারমোনিকায় সুর শোনানোর পর শচীনকর্তা তাঁকে মৌলিকতার গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন। তবলা শেখার নির্দেশও দিয়েছিলেন। একজন সুরকারের ছন্দবোধ তৈরি হওয়া জরুরি—এ ছিল তাঁর বিশ্বাস।<br>প্রতিদিন কয়েকটি করে সুর তৈরির পরামর্শ দিতেন ছেলেকে। নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়েই ভালো সুর খুঁজে নিতে হবে। আর ডির স্মৃতিতে বাবার আরেকটি শিক্ষা ছিল সরলতার মূল্য। সুর সাজাতে গিয়ে অনেক কিছু জুড়ে দিলে তার আবেদন কমেও যেতে পারে। তাই কোথায় থামতে হবে, সেটিও জানা চাই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/%E0%A6%B6%E0%A6%9A%E0%A7%80%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%AC-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A3-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%BE">শচীন দেববর্মন অনুপ্রেরণা</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-10/2cb9c8de-e223-4d8c-b603-fef4e38f637a/SACHIN_2.webp"><figcaption>১৯৩৪ সালে অল ইন্ডিয়ান মিউজিক কনফারেন্সে তিনি গান গেয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ১৯৩৫ সালে বেঙ্গল মিউজিক কনফারেন্সে ঠুমরি পেশ করে ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁকে মুগ্ধ করেছিলেন</figcaption></figure><p><strong>অন্য ভুবনে শচীন</strong><br>সংগীতের বাইরে শচীনকর্তার বড় আবেগ ছিল ফুটবল। প্রিয় দল ইস্টবেঙ্গল। দল বোম্বেতে খেলতে গেলে ফুটবলারদের কাছে পৌঁছে যেতেন তিনি।<br>ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষ উপলক্ষে আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া স্মৃতিচারণায় সুরজিৎ সেনগুপ্ত জানিয়েছিলেন, রোভার্স কাপের সময় শচীনকর্তা রেকর্ডিংয়ের কাজও বন্ধ রাখতেন। খেলোয়াড়দের খোঁজ নিতেন। মাঠে যাওয়ার আগে তাঁদের পিঠ চাপড়ে দিতেন।<br>সুরজিতের স্মৃতিতে আছে আরও মজার ঘটনা। কুপারেজ স্টেডিয়ামে শচীনকর্তার নামে দুটি চেয়ার দেখেছিলেন তিনি। প্রথমে ভেবেছিলেন, একটি হয়তো আর ডির জন্য। পরে জানলেন, দুটিই শচীনকর্তার। একটিতে বসতেন। অন্যটিতে পা রাখতেন।<br>ফুটবলার গৌতম সরকারও স্মরণ করেছিলেন তাঁদের প্রতি শচীনকর্তার আন্তরিকতা। তারকাখচিত বৈঠকখানায় খেলোয়াড়দের নিয়ে ঢুকতেন গর্ব করে। তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। বাড়িতে আপ্যায়ন করতেন। খ্যাতিমান এই সুরকারের কাছে ফুটবলাররাও পেতেন তারকার সম্মান।<br>শচীনকর্তা বিদায় নিয়েছেন বহু বছর আগে। তবে তাঁর গান রয়ে গেছে মানুষের কণ্ঠে। পাড়া-মহল্লার গানের আসর থেকে বড় মঞ্চ—আজও ফিরে ফিরে আসে তাঁর সৃষ্টি। নবীন শিল্পীরাও তাঁর গানে খুঁজে নেন শেখার পথ, নিজেকে প্রকাশের ভাষা। সংগীত প্রতিযোগিতায় সেই গান গেয়েই মেলে ধরেন নিজেদের সামর্থ্য। কেউ রপ্ত করেন সুরের বাঁক, কেউ কণ্ঠে ধরতে চান তাঁর গায়কির দরদ। এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নতুন কণ্ঠে বেঁচে আছেন শচীনকর্তা।<br><sup>সূত্র: আর ডি বর্মনের সাক্ষাৎকার; ‘ফিল্মফেয়ার’, দ্য কুইন্ট, আনন্দবাজার পত্রিকা এবং শচীন দেববর্মনের জীবনীসংক্রান্ত প্রকাশনা।</sup></p>
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী এখন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। এরপর তদন্ত হবে, শুনানি হবে।
<p>পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখাতেন সাব্বির হোসেন ওরফে সানি। চাঁদার টাকা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা বা গুলির হুমকিও দিতেন তিনি। এমন একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে এসেছে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে—</p><figure></figure>
দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান করতে পারেননি ২০ রানও। আলাদা কেবল নুরুল হাসান ও মোহাম্মদ মিঠুন—তাঁদের দুজনের সেঞ্চুরিতে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ২২০ রান করে প্রথম দিন শেষ করেছে খুলনা।
<p>নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ থেকে এবারের এইচএসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৫৫২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৫৫১ জন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬১ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।</p><p>কলেজের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ১৫৫২ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এক শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে অসুস্থ হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৫৮ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৯৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ১৮০ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৬৯ জন এবং মানবিক শাখা থেকে ৩১১ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৮ জন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/4t6fud4e/8-.jpeg"><figcaption>ফলাফলে উচ্ছ্বসিত কলেজের শিক্ষার্থীরা</figcaption></figure><p>কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ‘প্রথমেই আল্লাহ তালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এটি নরসিংদীবাসীর অর্জন।’</p><p>শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সেরা ফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।