‘আমাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে’
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিবাদ মিছিল করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
<p>অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মহালয়া উদ্যাপন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৪ অক্টোবর, রোববার নিউ সাউথ ওয়েলসের বিক্রফটের রোজলিয়া কমিউনিটি সেন্টারে এ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালির উপস্থিতিতে চণ্ডীপাঠ, সংগীত ও মঞ্চ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের চিরায়ত আবহ তুলে ধরা হয়। জ্যোতি বিশ্বাসের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ এবং জন্মেজয় রায়ের তবলার সংগত উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। সুমিতা দে ও অনুপম গোস্বামীর পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি মঞ্চস্থ হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/1ddcacie/2.jpeg"><figcaption> ছবি: আকাশ দে</figcaption></figure><p>২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে এ বছর দশম বর্ষের মাইলফলক স্পর্শ করল সংগঠনটির এই শারদীয় আয়োজন। নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের শেষভাগে সংগঠনের সভাপতি দিলীপ দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক দিবাকর সমদ্দার সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।</p>
<p>রংপুরের পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন পৌর ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার আরাজীগঙ্গারামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।</p><p> নিহত দুই শ্রমিক হলেন আছাদুল হক ও শিহাব হোসেনে। আছাদুলের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায়। শিহাবের বাড়ি রংপুরে। তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।</p><p>স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে নির্মাণাধীন পৌর ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ জন শ্রমিক। বিকেল পাঁচটার দিকে হঠাৎ ছাদের শাটারিং ভেঙে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজনও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।</p><p>পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা নাজমুল সরকার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। স্থানীয় লোকজন আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।</p><p>পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। আহত চারজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।</p><p>পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ্ আল বাকিউল বারী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যত দূর জেনেছি, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো চিঠি পাইনি। তদন্তে কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’</p>
চুয়েট প্রশাসনিক ভবন থেকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে বের করে আনলেন জেলার ডিসি- এসপি
<p>সরকারের মুখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা থাকলেও তাদের অন্তরে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবসা, দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পথে হাঁটছে। জুলাই গণহত্যার বিচারও দায়সারা বিষয়ে পরিণত হয়েছে।</p><p> আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এ কথা বলেন। এনসিপির জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণবিষয়ক কমিটি এ সভার আয়োজন করে।</p><p>হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁরা রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে কেবল চেয়ার বদল হয়েছে। কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন; কিন্তু রাষ্ট্রের কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়িতে দক্ষ চালক বসালেও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের কাঠামো ঠিক না হলে সরকারও সফল হবে না।’</p><p>আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখন দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ ব্যবসায়িক সুবিধা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/4xj7c9zr9h">বিধবা কার্ড দেওয়া হলেও এমপির বউ সবার আগে পাবে: হাসনাত আবদুল্লাহ</a></aside><p>জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই অনেক মামলায় ঢালাওভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরে এসব মামলা অর্থ আদায় ও আপস-বাণিজ্যের উপলক্ষ হয়ে উঠছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।</p><p>সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিলারশিপ ও সরকারি ঠিকাদারি কাজ বণ্টনে স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে জবাবদিহি দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/politics/2zbvs1u58s">এনসিপিতে আসছে ‘সুপার সিক্স’: পাটওয়ারী, হাসনাত, সারজিস ও আসিফ মাহমুদ পাচ্ছেন নতুন পদ</a></aside><p>আলোচনা সভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার এখন দায়সারা বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে সরকার কৃতিত্ব নিয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি ছাড়া পাওয়ার পর সরকার নীরব হয়ে যায়। এ ছাড়া চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে বিএনপির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।</p><p>এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে মাত্র ১৩টি মামলার বিচারকাজ চলছে। বিচার ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।</p><p>এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব হুমায়রা নূর বলেন, জুলাই গণহত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা কিছু পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের পাশাপাশি সম্পূর্ণ নির্দোষ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তদন্ত ও বিচারকাজে সর্বোচ্চ আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।</p><p>সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আইনজীবী এরশাদুল বারী খন্দকার এবং জুলাই শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ।</p>
সম্পর্কে নিজের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাওয়া স্বাভাবিক। সঙ্গীর যত্ন, মনোযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে অনেকে সেই নিশ্চয়তা খুঁজে পান। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন নিজের প্রয়োজন সরাসরি না জানিয়ে অন্যজনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ব্যবহার প্রত্যাশা করা হয়।
<p>পাকিস্তানে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির পদক্ষেপ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান গহর আলী খান। তিনি বলেন, ‘গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করছি।’ সেই সঙ্গে তাঁর দল সাংবিধানিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।</p><p>পিটিআই নেতা গহর বলেন, তাঁর দল একটি অবাধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও স্বাধীন বিচার বিভাগের সমর্থক।</p><p>একটি গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত করে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করাকে অবৈধ বলে আখ্যা দেন পিটিআই প্রধান। দলটির সাধারণ সম্পাদক সালমান আকবর রাজা বলেন, ‘আন্দোলন করা— এটা আমাদের অধিকার।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/a29uglyd/ImranLong-March.avif"><figcaption>সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পেশোয়ারে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা-কর্মীদের লংমার্চ</figcaption></figure><p>পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পিটিআই এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করা হয়।</p><p>প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেয়। এর ফলে সেখানে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।</p><p>সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চলমান এ দ্বন্দ্বে সমঝোতার চেষ্টা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-পাকিস্তানের (জেইউআই-এফ) নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান। উভয় পক্ষই সম্ভাব্য সংঘাতের পথ এড়াতে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে পিটিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সালমান আরও বলেন, ‘মাওলানা ফজলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এগিয়ে নেবেন। কিন্তু এরপর সরকার আলোচ্যসূচি বদলে ফেলে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/dch104aybw">খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসনের অর্থ কী, চলতে পারে কত দিন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/7uf52o2qc2">বন্দী ইমরানকে নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতি কেন ঘুরপাক খাচ্ছে</a></aside><p>পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।</p><p>খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারির পর গত সোমবার সড়ক অবরোধের কারণে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। গতকাল মঙ্গলবার পেশোয়ারের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়। তবে পেশোয়ারে সাত দিনের জন্য সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/o0kovpa9iu">পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি</a></aside>
<p>বিএনপির নেতা ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।</p><p> সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর খবর ফেসবুক জানিয়েছেন তাঁর ছেলে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার আব্বু আর নেই। সে তার রবের কাছে চলে গিয়েছেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।’</p><p>বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তানভীর আহমেদ আরও লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন আমার আব্বুকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।’</p><p>তানভীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা আগামীকাল বুধবার জোহর নামাজের পর শ্যামপুর-কদমতলীর লাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।</p><p>সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঢাকা-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।</p><p>২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লার কাছে পরাজিত হন। পরে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান তিনি। ওই নির্বাচনে প্রচারণার সময় তাঁর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।</p><p>সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।</p>
<p>অর্থনীতিতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের মাধ্যমে আগামী ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মোট বিনিয়োগ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং রপ্তানি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে দেশে প্রকৃত মজুরি, ব্যক্তিগত ভোগ এবং কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে।</p><p> তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতিকে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়নের পথ থেকে সরিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হবে।</p><p> রাজধানীর একটি হোটেলে আজ মঙ্গলবার ‘সবুজ প্রবৃদ্ধি কি বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপকে এগিয়ে নিতে পারবে?’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে এমন অভিমত উঠে আসে। সংলাপটির আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান।</p><p>প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন এবং শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক।</p><p>সংলাপে ‘বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি অর্জন: উন্নয়ন বিকল্প, নীতিসামঞ্জস্য এবং উত্তরণের চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনীতির সম্ভাব্য গতিপথ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে প্রচলিত উন্নয়নধারা, মাঝারি মাত্রার জ্বালানি রূপান্তর এবং অতিমাত্রায় জ্বালানি রূপান্তর ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ—তিনটি পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অতিমাত্রায় জ্বালানি রূপান্তরের পরিস্থিতিতে প্রচলিত উন্নয়নধারার তুলনায় বিনিয়োগ ও রপ্তানি বেশি বাড়তে পারে।</p><p>প্রবন্ধের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০৩৫ সাল নাগাদ ব্যাপক জ্বালানি রূপান্তর করা গেলে বিনিয়োগ সাড়ে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মানুষের প্রকৃত মজুরি ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্যক্তিগত ভোগ ১ দশমিক ৩ শতাংশ ও মোট কর্মসংস্থান ১ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও নির্মাণ খাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লাসংশ্লিষ্ট খাতের প্রবৃদ্ধি কমতে পারে।</p><p>প্রবন্ধে বলা হয়েছে, পরিবেশদূষণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত ও জনকল্যাণমূলক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বায়ুদূষণ, অনিরাপদ পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও সিসাদূষণের কারণে ২০১৯ সালে ক্ষতির পরিমাণ ছিল জিডিপির ১৭ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ। অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসাবের বাইরে পরিবেশদূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য, শ্রমের উৎপাদনশীলতা ও সামগ্রিক কল্যাণে প্রভাব পড়ে।</p><p>মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৫০ সাল নাগাদ আনুমানিক ২৩০ বিলিয়ন বা ২৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এই অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক ব্যাংক, গ্রিন বন্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।</p><p>সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়নের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ প্রশমনসংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে রাখা হয়, আর আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য মাত্র ৩৫ শতাংশ অভিযোজন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু এসব অর্থও যথাযথভাবে পাওয়া যায় না।’</p><p>ফাহমিদা খাতুনের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতগুলোকেও নানা শর্তের মুখে পড়তে হবে।</p><p>জিইডির সদস্য (সচিব) মনজুর হোসেন বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সরকার এটাকে খুব প্রাধান্য দিচ্ছে। আর অর্থায়নের জন্য সবুজ বা নীল বন্ড এবং সুকুকের চিন্তা করা হচ্ছে। আর সৌরবিদ্যুতের জন্য স্থানের অভাব হবে না। নদীর পাড়ে, গ্রামে টিনের চালে স্থাপন করা যাবে। এটি সব সময়ই ব্যয়বহুল। তাই বলে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। এটা ভবিষ্যৎ অস্তিস্তের লড়াই।</p><p>এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা আরেকটু গভীরে গিয়ে দেখা দরকার। আমাদের জনবহুল দেশে জায়গার সমস্যা আছে। আর সরকারি নীতির মধ্যেও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। হাইড্রোপাওয়ারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করে দেখা দরকার।’</p><p>সমাপনী বক্তব্যে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতা একধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জ্বালানি রূপান্তরে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক তহবিলের পাশাপাশি দেশীয় এবং বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।</p>
বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে রাশিয়া ও চীন ইরানকে সাহায্য করছে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
সৌদি আরবে হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন থেকে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ১ লাখ অতিক্রম করেছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩০৭ জন।
প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য। তবে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। চুয়েটের এই অচলবস্থা কেন?
"আমার ছেলে সেদিন অনেক কান্না করেছে। এই কাজ হওয়ার পরে আমার ছেলে খুব মুমূর্ষু অবস্থায় বিছানায় শুয়ে ছিল। তার আধাঘণ্টা পরে সে আবার এসে নির্যাতন করেছে। আমার ছেলে ব্যাথায় ফজরের নামাজের জন্য পরে আর উঠতে পারে নাই।"
দিল্লির যন্তর-মন্তর এখন আর বিক্ষোভ করা যাবে না- নরেন্দ মোদীর সরকারের এই সিদ্ধান্তকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে উল্লেখ করে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি এটিকে "মানুষের প্রতিবাদ করার এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত" বলে বর্ণনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বেশ জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে ডিজেল আনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনকে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাদামী রঙের চুল, সাদা গড়নের শিশুটিকে প্রথমবার দেখলে যে কেউই বিদেশি বলে ভুল করবেন। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটি এখন 'পপুলার নাও' ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কেননা সম্প্রতি এক দম্পতি শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে ডিএনএ টেস্ট দাবি করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে শিশুটির বর্তমান পরিবার। প্রশ্ন হলো, কেউ চাইলেই কী বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্ট করা যায়?
স্থানীয় দু'টি সংগঠনের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের কাতলামারি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই গ্রামের শাহাবুদ্দিন নতুন টিনশেড ঘর তুলেছেন। ওই ঘরে বিদ্যুৎ নেয়ার জন্য লাইন টানা হচ্ছিল। ওই তারের লিকেজ থেকে স্টিলের দরজায় বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় দুই শিশু ঘরের ভিতরে ছিল। দরজা খোলে বাইরে বের হওয়ার সময় তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মঙ্গলবার গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা অনলাইন।
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগে নতুন করে ২৩০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে টানা সাত দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশেকুল হকের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আদেশটি প্রকাশ করা হয়েছে।
ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ট্রাকের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে চালকসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট দাবানলে প্রায় ৩০০টি বাড়িঘর পুড়ে গেছে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়েছে। মঙ্গলবার এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।