পাকিস্তান

গভর্নরের শাসনের বিরুদ্ধে আদালতে ইমরানের দল

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
গভর্নরের শাসনের বিরুদ্ধে আদালতে ইমরানের দল
গভর্নরের শাসনের বিরুদ্ধে আদালতে ইমরানের দল
<p>পাকিস্তানে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির পদক্ষেপ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান গহর আলী খান। তিনি বলেন, ‘গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করছি।’ সেই সঙ্গে তাঁর দল সাংবিধানিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।</p><p>পিটিআই নেতা গহর বলেন, তাঁর দল একটি অবাধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও স্বাধীন বিচার বিভাগের সমর্থক।</p><p>একটি গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত করে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করাকে অবৈধ বলে আখ্যা দেন পিটিআই প্রধান। দলটির সাধারণ সম্পাদক সালমান আকবর রাজা বলেন, ‘আন্দোলন করা— এটা আমাদের অধিকার।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/a29uglyd/ImranLong-March.avif"><figcaption>সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পেশোয়ারে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা-কর্মীদের লংমার্চ</figcaption></figure><p>পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পিটিআই এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করা হয়।</p><p>প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেয়। এর ফলে সেখানে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।</p><p>সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চলমান এ দ্বন্দ্বে সমঝোতার চেষ্টা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-পাকিস্তানের (জেইউআই-এফ) নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান। উভয় পক্ষই সম্ভাব্য সংঘাতের পথ এড়াতে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে পিটিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সালমান আরও বলেন, ‘মাওলানা ফজলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এগিয়ে নেবেন। কিন্তু এরপর সরকার আলোচ্যসূচি বদলে ফেলে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/dch104aybw">খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসনের অর্থ কী, চলতে পারে কত দিন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/7uf52o2qc2">বন্দী ইমরানকে নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতি কেন ঘুরপাক খাচ্ছে</a></aside><p>পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।</p><p>খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারির পর গত সোমবার সড়ক অবরোধের কারণে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। গতকাল মঙ্গলবার পেশোয়ারের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়। তবে পেশোয়ারে সাত দিনের জন্য সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/o0kovpa9iu">পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি</a></aside>

Prothomalo

View more
ভোট চুরির পর বিক্ষোভস্থল চুরি করেছে মোদি সরকার
ভোট চুরির পর বিক্ষোভস্থল চুরি করেছে মোদি সরকার

<p>সফল সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের পর ‘ইন্ডিয়া’ জোট জানিয়ে দিল, ভোট চুরির পাশাপাশি সরকার এবার বিক্ষোভের স্থানটাও চুরি করতে চলেছে। এর বিরুদ্ধেও একজোট হয়ে লড়াই করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সরকারি বাসভবনে চা–চক্রের পর ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সবাই এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন।</p><p> রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এই লড়াই একটাই। সবাই একজোট হয়ে একটাই লড়াইয়ে নেমেছি। এখানে কোনো সমান্তরাল লড়াই হচ্ছে না। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটাই—গণতন্ত্র রক্ষা। সংবিধান অক্ষত রাখা। গণতান্ত্রিক অধিকার অটুট রাখা। তিনি বলেন, বিরুদ্ধ স্বর দমাতে ভোট চুরির পর সরকার এবার বিক্ষোভের স্থানটাও চুরি করে নিচ্ছে। এটা আমরা হতে দেব না। চ্যালেঞ্জ জানাব।’</p><p> তবে তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে রাহুল বিস্তারে কিছু বলতে চাননি। শুধু বলেন, আমরা লক্ষ্য পূরণ করে থামব। কীভাবে তা করা হবে, সেই চমকটুকু আপাতত গোপন থাকুক।</p><p>এই লড়াই তাঁরা যে একজোট হয়ে লড়তে চাইছেন, মঙ্গলবার সকালেই রাহুল তার ইঙ্গিত দেন। ‘এক্স’ বার্তায় তিনি বলেন, আজ চায়ের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিরোধী নেতাদের, ছাত্রসংগঠনদের, নাগরিক সমাজের বিশিষ্টজনদেরও। গণতন্ত্র রক্ষায় এই গণ–আন্দোলনে আমরা সবাই এক। এই আন্দোলনও নিরলস চলবে। সব বিক্ষোভ এক।</p><p>মঙ্গলবার চা–চক্রে ইন্ডিয়া জোটের নেতা–প্রতিনিধিদের পাশে তাই উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী প্রমান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন ‘আইসা’ নেত্রী নেহা বোরাসহ অন্যরা। শুধু তাই নয়, চা–চক্রের পর সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল অংশগ্রহণকারী সবাইকে তাঁদের বক্তব্য পেশের সুযোগ দেন।</p><p>সেই সুযোগে বিহারের আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, ‘অপরাধীদের প্রত্যেককে জবাবদিহিতে বাধ্য করা হবে। প্রত্যেককে শাস্তি পেতে হবে। যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্র রক্ষা করব।’</p><p>আইসা নেত্রী নেতা বোরা গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে সারাক্ষণ রাহুলদের সঙ্গে ছিলেন। চা–চক্রের পর তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এক। আমাদের সবার শত্রু একটাই, বিজেপি। শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মন্ত্র একটাই, একতা।’</p><p>সমাজবাদী পার্টির ইক্রা হাসান বলেন, ‘সোমবারের জনসমাগমই বুঝিয়ে দিয়েছে জনতার সমর্থন কাদের দিকে। এই লড়াই জারি থাকবে।’ ওই দলেরই নেতা পুষ্পেন্দ্র সরোজ বলেন, ‘পোষা তোতাকে আড়াল করতে রাজা চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না। কিন্তু গণতন্ত্রের রক্ষায় সেই পোষা তোতাকে পদত্যাগ করাতে আমরা বাধ্য করব।’</p><p>সিপিআই নেতা ডি রাজা, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সাগরিকা ঘোষসহ সবাই জোটবদ্ধ আন্দোলনের ওপর জোর দেন। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে ‘মাফিয়া’ উল্লেখ করে বলেন, সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি গোটা নির্বাচনব্যবস্থার অপরাধীকরণ করে ফেলেছেন।</p><p>সোমবারের উত্তেজনার পর মঙ্গলবারের দিল্লি ছিল তুলনামূলকভাবে অনেকটাই স্তিমিত। তেমন কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি কোথাও কারও ছিল না। গতকাল সকালে কাউকে টের পেতে না দিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্ক শিন্ডেরা যন্তর মন্তরের লোহার গেট টপকে ঢুকে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ১০ থেকে ১২ জন সমর্থক। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। তাঁদের মুখে ছিল জ্ঞানেশ ও বিজেপিবিরোধী ধ্বনি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রহরারত পুলিশ তাঁদের ধরে ফেলে। সিজেপি নেতাদের সন্ধ্যা পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আইনজীবীদের সঙ্গেও তাঁদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি।</p><p>যন্তর মন্তর অভিযান ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশ, সরকার ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কিন্তু মঙ্গলবার সেই শুনানি সম্ভব হয়নি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি ভি মোহনার অসুস্থতার দরুন। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি হবে। দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজধানী দিল্লির ব্যবসায়ী মহল। তাঁদের দাবি, এই আন্দোলনের জন্য তাঁদের ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার কোটি রুপি। মামলার আবেদনকারীদের দাবি, সরকার বিক্ষোভ–আন্দোলনের জন্য যে নতুন স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট বিধি তৈরি করা হোক। তা মানা হোক।</p><p>জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোট আলাদা আলাদাভাবে আন্দোলন করছে। দুই দলই যদিও জানাচ্ছে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে মঙ্গলবার সেই বিষয়ে এক বার্তায় বলেছেন, সরকারই জনতার মধ্যে এই ভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাদের এই ছক জনতাকে বুঝতে হবে।</p><p>‘এক্স’ বার্তায় অভিজিৎ বলেছেন, সিজেপিকে যখন বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তখন প্রচার হয় আমরা বিজেপির ‘বি টিম’। তারাই আমাদের খাড়া করেছে। গতকাল (সোমবার) ইন্ডিয়া জোট বিশাল অভিযান করল। কিন্তু ১০ অক্টোবর আমাদের ওপর যেভাবে আক্রমণ হয় ওদের ওপর তা করা হলো না। এভাবেই সরকার একজনের সঙ্গে অন্যদের লড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন আন্দোলনের মোকাবিলা বিভিন্নভাবে করে। এভাবে সরকার জনতার মনে সন্দেহের বীজ বুনে দেয়। অথচ দুই দলই এক লক্ষ্যে লড়ছে।</p><p>দিপকে লিখেছেন, আমার একটাই অনুরোধ, এই কৌশলটা সবাই বুঝুক। আজ সরকার এক দলকে বিক্ষোভ করাতে দিয়ে অন্যদের ধ্বংস করতে চাইছে। কাল উল্টোটা করবে। সরকার চায় তাদের প্রশ্ন না করে আমরা এভাবে একে অপরকে সন্দেহ করে যাই। এই চক্রান্ততত্ত্ব সফল হতে দেবেন না, যা আমাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে। নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার ফাঁদে দয়া করে পা দেবেন না। আমাদের একজোট হয়ে লড়াই করা দরকার।</p><p>দিপকে লিখেছেন, লড়াইটা জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর রক্ষাকর্তাদের বিরুদ্ধে। লক্ষ্যভ্রষ্ট কেউ যেন না হয়।</p>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
হিজাব বিতর্ক ও রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা
হিজাব বিতর্ক ও রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা

৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতিতে বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ধর্মান্ধতা উসকে দিয়ে সামাজিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
প্লাস্টিক বর্জ্যের হিসাব পুরোনো, হালনাগাদের উদ্যোগ সরকারের
প্লাস্টিক বর্জ্যের হিসাব পুরোনো, হালনাগাদের উদ্যোগ সরকারের

<p>দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত হিসাব এখনো ২০১৮ ও ২০১৯ সালের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। নদী ও সমুদ্রে কী পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য যাচ্ছে আর কতটা বর্জ্য ল্যান্ডফিলে (ময়লার ভাগাড়) জমা হচ্ছে, তার হালনাগাদ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্লাস্টিক বর্জ্যের জাতীয় ভিত্তিমূলক তথ্য হালনাগাদ করতে চায় সরকার।</p><p> আজ মঙ্গলবার ঢাকায় ‘ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপিএপি) বাংলাদেশ’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা এবং চক্রাকার অর্থনীতিতে (সার্কুলার ইকোনমি) উত্তরণে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।</p><p> উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের যৌথ উদ্যোগে এনপিএপি বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। প্লাস্টিকের উৎপাদন, ব্যবহার, বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের (রিসাইক্লিং) সঙ্গে যুক্ত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এর লক্ষ্য।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়। এটি নগরের ড্রেনেজ (নিষ্কাশনব্যবস্থা), নদ-নদী, জলাভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল, জনস্বাস্থ্য ও প্রতিবেশব্যবস্থার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার জীবিকা, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় প্লাস্টিকের উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহার, সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে বিবেচনায় নিতে হবে।’</p><p>পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ডের মালিকদের আরও সক্রিয় হতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা, উন্নত বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের অবকাঠামো এবং স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।</p><p>প্লাস্টিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো, পণ্যের নকশা উন্নত করা এবং পুনর্ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে চক্রাকার অর্থনীতির প্রসার ঘটানো সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ উদ্যোগের সাফল্য শুধু সভা-সেমিনারের সংখ্যা দিয়ে নয়; বরং নীতিমালার বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মতো দৃশ্যমান ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে বলেও জানান মন্ত্রী।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/uk5keesu/NPAP-2.jpeg"><figcaption>‘ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপেপ) বাংলাদেশ’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন বিশেষজ্ঞরা। ১৩ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p><strong>তথ্য হালনাগাদে গুরুত্ব</strong></p><p>পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম বলেন, নদী ও সমুদ্রে প্রবেশ করা প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ল্যান্ডফিলে পাঠানো বর্জ্যের পরিমাণ সম্পর্কে বহুল ব্যবহৃত বিভিন্ন হিসাব মূলত ২০১৮ ও ২০১৯ সালের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে প্লাস্টিক বর্জ্যের জাতীয় ভিত্তিমূলক তথ্য হালনাগাদ করাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।</p><p>পরিকল্পিত এ জরিপে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণ সহজ হবে। একই সঙ্গে দেশের প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা ও সংশোধনের ভিত্তি তৈরি হবে।</p><p><strong>৯০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের রোডম্যাপ</strong></p><p>অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পৌর কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে বৈঠক আয়োজনে ইউএনডিপি সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ ছাড়া প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে ব্যয়সহ সময়সীমাবদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ (পথনকশা) তৈরিতে মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন তিনি।</p><p>এই রোডম্যাপে কোন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে, কোন প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করবে, কত অর্থায়ন প্রয়োজন এবং কোন ধাপে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে—তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকার কথা রয়েছে।</p><p>পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ সুলাইমান হায়দার বলেন, প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় দেশে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা থাকলেও উৎপাদকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, পরিবেশনীতি-২০১৮ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১–এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কাঠামোর আওতায় বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার, পুনরুদ্ধার ও পরিশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু নীতিমালা থাকলেই হবে না, এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।</p>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
শেষ টি-টুয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার সান্ত্বনার জয়
শেষ টি-টুয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার সান্ত্বনার জয়

<p>প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ হাতছাড়া হয়েছিল। তবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টিতে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে লঙ্কানরা। তিন ম্যাচের সিরিজটি অবশ্য ২-১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক পাকিস্তান।</p><p>ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। ১৬৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৭.১ ওভারেই মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান তুলে ফেলে শ্রীলঙ্কা। ১৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা।</p> <p>বিস্তারিত আসছে...</p>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
যশোরে নিজ বাড়ির সামনে অভিনেতা সমু চৌধুরীকে মারধর, মামলার পর একজন গ্রেপ্তার
যশোরে নিজ বাড়ির সামনে অভিনেতা সমু চৌধুরীকে মারধর, মামলার পর একজন গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় যশোরের কোতোয়ালি থানায় নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন সমু চৌধুরী।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্যোগের ঝুঁকি, আগাম প্রস্তুতিতে জোর বিশেষজ্ঞদের
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্যোগের ঝুঁকি, আগাম প্রস্তুতিতে জোর বিশেষজ্ঞদের

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্যোগের ঝুঁকি, আগাম প্রস্তুতিতে জোর বিশেষজ্ঞদের

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
ভিডিওতে দেখা যায় খুঁটির সঙ্গে বাঁধা যুবক, পরে মিলল লাশ
ভিডিওতে দেখা যায় খুঁটির সঙ্গে বাঁধা যুবক, পরে মিলল লাশ

<p>নোয়াখালীতে টাকা চুরির অভিযোগে এক যুবককে মারধরের পর খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে মো. কবির (৩৫) নামের ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।</p><p> সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কবিরকে আহত অবস্থায় একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে টাকা চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায়। ভিডিওটি মঙ্গলবার বিকেলে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে পড়ে।</p><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে টাকাভর্তি একটি ব্যাগ চুরি হয়। ব্যাগে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি করেন ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন। চুরির ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কেউ চিনলে তাঁকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।</p><p>এরপর আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে টাকা চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কবিরকে শনাক্ত ও আটকের কথা জানান। কবির ওই এলাকার বাসিন্দা। খবর পেয়ে হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে সেখানে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এ সময় কয়েকজন কবিরকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।</p><p>স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, পরে হোসেন ও তাঁর লোকজন আহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় নিয়ে যান। হোসেনের বাড়ি ওই এলাকায়। সেখানে নেওয়ার পর কবিরের মৃত্যু হয় বলে তাঁদের ধারণা। পরে তাঁর লাশ দোকানের সামনে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যায় লাশটি উদ্ধার করে।</p><p>সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় দেবীপুর এলাকা থেকে কবিরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে কারা, কী কারণে তাঁকে মারধর করেছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে বিআরটিএর সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মশালা
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে বিআরটিএর সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মশালা

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করেছে বিআরটিএ।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
সিডনিতে মহালয়া উদ্‌যাপন
সিডনিতে মহালয়া উদ্‌যাপন

<p>অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মহালয়া উদ্‌যাপন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৪ অক্টোবর, রোববার নিউ সাউথ ওয়েলসের বিক্রফটের রোজলিয়া কমিউনিটি সেন্টারে এ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালির উপস্থিতিতে চণ্ডীপাঠ, সংগীত ও মঞ্চ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের চিরায়ত আবহ তুলে ধরা হয়। জ্যোতি বিশ্বাসের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ এবং জন্মেজয় রায়ের তবলার সংগত উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। সুমিতা দে ও অনুপম গোস্বামীর পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি মঞ্চস্থ হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/1ddcacie/2.jpeg"><figcaption> ছবি: আকাশ দে</figcaption></figure><p>২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে এ বছর দশম বর্ষের মাইলফলক স্পর্শ করল সংগঠনটির এই শারদীয় আয়োজন। নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের শেষভাগে সংগঠনের সভাপতি দিলীপ দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক দিবাকর সমদ্দার সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।</p>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন