ইলন মাস্কের কাছে এমন এক পাহাড়সম সম্পদ রয়েছে, যা তিনি সারা জীবনেও খরচ করে শেষ করতে পারবেন না। এর মানে হলো, চাইলে তিনি তাঁর এই সম্পদের একটি অংশ অন্যদের কল্যাণে ব্যয় করতে পারেন। দুর্ভাগ্যবশত...
<p>বাংলাদেশ তাহলে দুটো কারণে মিরপুর টেস্টটা হেরেছে!</p><p> এক. বাংলাদেশের স্পিনাররা ভালো বোলিং করেননি।</p><p> দুই. ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ভালোভাবে সামলাতে পারেননি।</p><p> চতুর্থ দিনের মধ্যেই ৮ উইকেটে হারের পর গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও হারটাকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন। টেস্টের আরও অনেক কিছু নিয়েই তিনি কথা বলেছেন। তবে মূল কথা, স্পিনের চক্করে পড়েই বাংলাদেশের হার।</p><p> স্পিনের এই চক্কর কিন্তু আবার বাংলাদেশেরই সৃষ্টি। মানে স্বাগতিক দল যেহেতু, তারা তো ঘরের মাঠের সুবিধা নিতেই চাইবে। এটা দোষের কিছু নয়; কিন্তু সমস্যা হলো আপনার আমগাছে আম থাকলেই শুধু হবে না—আপনাকে আম পাড়তেও জানতে হবে। এই টেস্টে বাংলাদেশ সেই আমটাই পেড়ে খেতে পারেনি। উল্টো তাদের গাছের আম পেড়ে নিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ!</p><p>একটা ছোট্ট হিসাব দিলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। সিরিজ সম্প্রচারকদের এক ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট থেকে গড়ে সাড়ে ৩ ডিগ্রি করে টার্ন আদায় করেছেন, যেখানে বাংলাদেশের স্পিনাররা টার্ন পেয়েছেন গড়ে ৩ ডিগ্রি করে। </p><p>বাংলাদেশের স্পিনারদের টার্ন যেখানে কোনো বলেই ৩.৫ ডিগ্রিতে পৌঁছায়নি, সেখানে ক্যারিবীয় স্পিনারদের টার্ন কখনো কখনো ৩.৭ ডিগ্রিতেও পৌঁছেছে। এ রকম টার্নের সামনে খেলে সাধারণত অভ্যস্ত নন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। উপরন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনারদের টার্নগুলো ছিল ধারাবাহিক এবং হঠাৎ করে নেওয়া। আর বাংলাদেশের স্পিনারদের বেশির ভাগ বলই ঘুরেছে আস্তে এবং কিছুটা নিচু হয়ে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/35czv17n/Nayeem-batting-During-1st-Test-Day-42-1.jpg"><figcaption>বাংলাদেশের তুলনায় উইকেটে বল বেশি ঘুরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের</figcaption></figure><p>এ তো গেল পুরো ম্যাচের হিসাব, এবার চতুর্থ দিন এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে আসা যাক। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের ৯ উইকেটই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই স্পিনার। অধিনায়ক রোস্টন চেজ অফ স্পিনে ৫টি ও প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ৪টি। তাঁদের চক্করে পড়ে আগের দিনের ৬ উইকেটে করা ৭৯ রানের সঙ্গে গতকাল আর মাত্র ৬৩ রান যোগ করেই দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/0tp00iufar">চার দিনও লাগল না বাংলাদেশের হারতে</a></aside><p>দ্বিতীয় ইনিংসে নেওয়া ৯ উইকেটসহ এই টেস্টে বাংলাদেশের ২০ উইকেটের ১৬টিই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। শতকরা হিসাবে মোট উইকেটের ৮০ শতাংশ। উল্টো দিকে বাংলাদেশের স্পিনারদের অবস্থাটা দেখুন—দুই ইনিংস মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১২ উইকেটের মধ্যে তাঁরা নিয়েছেন ৮টি, যা মোট উইকেটের ৬০ শতাংশ। তবে শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়েই যে দুই দলের স্পিনারদের তুল্যমূল্য বিবেচনা হবে, তা নয়। বলে বাঁক খাওয়ানোর যে তুলনাটা ওপরে দেওয়া হলো, সেটাই হলো আসল।</p><p>যে কারণে ঘরের মাঠেও বাংলাদেশের স্পিনাররা পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলতে। চতুর্থ ইনিংসে ১৭০ রানের স্বল্প লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রীতিমতো ওয়ানডে মেজাজেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে সফরকারী দল। এক দিনের বেশি সময় হাতে রেখে টেস্টটা জিততে তাদের লেগেছে মাত্র ৩৫.১ ওভার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/ciuunotu/After-Lost-1st-test-match-2.jpg"><figcaption>মিরপুর টেস্টে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ</figcaption></figure><p>গতকাল লাঞ্চের আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের বাকিটা, লিড দাঁড়ায় মাত্র ১৬৯ রানের। সেটি না–ও হতে পারত, যদি বল হাতে ৪ উইকেট পাওয়ার পর ব্যাট হাতেও টেস্টে নিজের প্রথম ফিফটিটা না করতেন নাঈম হাসান। পরশু ৫৩ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর উইকেটে এসেছিলেন নাঈম। সেখান থেকে বাংলাদেশ যেটুকুই লিড নিতে পেরেছে, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়া নাঈমকে তাতে বিশেষ কৃতিত্ব দিতেই হবে। </p><p>অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফিল্ডারদের ভুলে পাওয়া সুযোগগুলো ব্যাটসম্যানরা খুব একটা কাজে লাগাতে পারেননি। দুইবার জীবন পেয়েছেন নাঈম, একবার হাসান মাহমুদ। তবুও রান ওই ১৪২-ই। আগের দিনের ৬ উইকেটে করা ৭৯ রানের সঙ্গে আর মাত্র ৬৩ রান যোগ করেই দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট বাংলাদেশ।</p><aside><cite></cite>প্রথম দিনটা বাদ দিলে আসলে কখনোই মনে হয়নি মিরপুর টেস্টটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আছে।</aside><p>আলোকস্বল্পতা, বৃষ্টি, বজ্রপাত মিলিয়ে টেস্টের চার দিনে অপ্রত্যাশিতভাবে খেলা বন্ধ হয়েছে ৯ বার। প্রতিবারই নষ্ট হয়েছে কিছু না কিছু সময়। প্রথম তিন দিনে নির্ধারিত ২৭০ ওভারের জায়গায় খেলা হতে পেরেছে ৬০ ওভারের মতো কম। গতকাল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ দিকে বৃষ্টিতে খেলা থেমেছে একবার। লাঞ্চের আগে এক ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসও বারবার থেমেছে অপ্রত্যাশিত সব কারণে। কখনো বৃষ্টি, কখনো আলোকস্বল্পতা, কখনো আবার বজ্রপাত।</p><p>তবু সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ছোট লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগোতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শরীফুল ইসলাম জন ক্যাম্পবেলের স্টাম্প উপড়ে ফেলার আগে ব্রেন্ডন কিংয়ের সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটিতে হয় ১১২ রান। কিং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৮১ রানে। অপরাজিত ৩১ রান এসেছে কেবন হজের ব্যাট থেকে। দলের ১২০ রানে তেজনারায়ণের আউটের পর তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতেই ম্যাচ শেষ করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।</p><p>প্রথম দিনটা বাদ দিলে আসলে কখনোই মনে হয়নি মিরপুর টেস্টটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিড না পেলেও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না; আর দ্বিতীয় ইনিংসে তো পুরোই তাদের দাপট। প্রথমে স্পিন দিয়ে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে শৃঙ্খল পরিয়ে রাখা, পরে আবার বাংলাদেশের স্পিনারদের মামুলি বানিয়ে ছাড়া। স্পিনের জালটা বিছানো হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। সেই জালে কিনা আটকে গেল বাংলাদেশই!</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/c5dq0bxgza">আবার কেন মিরপুরে এমন উইকেট</a></aside>
<p>গণিতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের কৌতূহল, আবিষ্কারের আনন্দ, বছরের পর বছর সাধনা আর তীব্র আবেগ। এটি কেবল সংখ্যা, সূত্র বা খটমটে সমীকরণ নয়। একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান ঠিক হলো কি না, তা হয়তো মানুষের কান্না বা হাসি দিয়ে বোঝার কোনো উপায় নেই। অথচ সম্প্রতি বিশ্বের নামকরা গণিতবিদেরা কেউ কেউ হতাশায় কেঁদেছেন, কেউ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ বুঝেই উঠতে পারছেন না যে এত দিনের চেনা জগতে তাঁদের আসল জায়গাটা এখন কোথায়! গণিতের জগতে এমন আবেগঘন ও হতাশাজনক পরিস্থিতির কারণ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।</p><p>২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর ওপেনএআই এমন এক এআই মডেল থেকে পাওয়া শত শত গাণিতিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যা গণিতের জগতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এসব গবেষণাপত্রে ছিল ৩৭২টি জটিল গাণিতিক সমস্যার প্রমাণ। এসব সমস্যার কোনোটি সমাধানের চেষ্টা চলেছে কয়েক দশক ধরে, আবার কোনোটি কয়েক শতাব্দী ধরে গণিতবিদদের চিন্তায় ফেলেছে। প্রকাশিত ৭২২টি পাণ্ডুলিপির মধ্যে পরে তিনটি প্রত্যাহার করা হয়। এত দিন যেসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে গবেষকেরা তাঁদের জীবনের একটা বড় সময় ব্যয় করেছেন, তার অনেকগুলোরই নির্ভুল সমাধান হাজির করেছে এই এআই। কোথাও সময় লেগেছে কয়েক ঘণ্টা, কোথাও-বা কয়েক দিন।</p><p>এ ঘটনায় ভীষণ বিস্মিত হয়েছেন বিশ্বের তাবড় গণিতবিদেরা। তবে এই বিস্ময়ের সঙ্গে মিশেছে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা আর গভীর এক শূন্যতার অনুভূতি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, যন্ত্র যদি এত দ্রুত কঠিন সব সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে, তাহলে গণিতবিদদের এত দিনের সাধনা, তাঁদের গবেষণা আর ভবিষ্যতই-বা কী হবে?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/math/4vxlvmr61r">৩৫০ বছরের গাণিতিক ধাঁধা মাত্র ১১ দিনে সমাধান করল এআই</a></aside><blockquote>গবেষণাপত্রে ছিল ৩৭২টি জটিল গাণিতিক সমস্যার প্রমাণ। এসব সমস্যার কোনোটি সমাধানের চেষ্টা চলেছে কয়েক দশক ধরে, আবার কোনোটি কয়েক শতাব্দী ধরে গণিতবিদদের চিন্তায় ফেলেছে।</blockquote><h2><strong>যে হতাশা সামনে আনল বড় প্রশ্ন</strong></h2><p>২০২২ সালে গণিতের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার ফিল্ডস মেডেল পেয়েছিলেন ফরাসি গণিতবিদ হুগো দুমিনিল-কোপাঁ। ওপেনএআইয়ের এই সাফল্যের খবর শুনে তিনি এতই হতাশ হয়ে ডুকরে কেঁদেছিলেন যে তাঁর কান্নার শব্দে মেয়ের ঘুম ভেঙে গিয়েছিল! নিজের গবেষণাক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘তারা আমার গবেষণাক্ষেত্রটাই ধ্বংস করে দিয়েছে।’</p><p>কথাটা শুনে মনে হতে পারে, একজন গণিতবিদের আত্মমর্যাদায় বুঝি বড় কোনো আঘাত লেগেছে। এত বছর ধরে যে সমস্যার সমাধান নিজে খুঁজছেন, অন্য কেউ এসে তা করে ফেললে মন খারাপ হতেই পারে। কিন্তু বিষয়টা কি কেবল নিজের কাজের স্বীকৃতি হারানোর ভয়?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/vww1t8fqn9">এআই কি এখন গণিত অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন সমাধান করতে পারে</a></aside><blockquote>নিজের গবেষণাক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফরাসি গণিতবিদ হুগো দুমিনিল-কোপাঁর মন্তব্য ছিল, ‘তারা আমার গবেষণাক্ষেত্রটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে।’</blockquote><p>যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতবিদ স্টিভেন স্ট্রোগাটজের কথায় পাওয়া যায় আরও গভীর কিছুর ইঙ্গিত। গণিত নিয়ে একাধিক চমৎকার বই লিখেছেন তিনি। এআইয়ের সাম্প্রতিক সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাঁর মনে হয়েছে, গণিতবিদেরা এত দিন নিজেদের এমন মানুষ হিসেবে ভাবতে পেরেছেন, যাঁরা নতুন কিছু আবিষ্কার করেন, কঠিন সমস্যার সমাধান বের করেন এবং সেই আবিষ্কারের মাধ্যমে পৃথিবীকে নতুন কিছু উপহার দেন। এখন তাঁদের সেই পরিচিতিটাই যেন বদলে যাচ্ছে।</p><p>স্ট্রোগাটজের কাছে এই পরিবর্তনটি একই সঙ্গে রোমাঞ্চকর ও ভীতিকর। কখনো তিনি নতুন সম্ভাবনা দেখে উত্তেজিত হন, কখনো আবার দিশাহারা বোধ করেন। আবার কখনো অনুভব করেন গভীর শোক। কারণ, গণিতবিদদের কাছে একটি সমস্যার সমাধান কেবল সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘদিনের চেষ্টা, ব্যর্থতা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং অন্য গবেষকদের সঙ্গে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার অমূল্য অভিজ্ঞতা।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/y9l1bzz5od">একই অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান দুই এআইয়ের, জমা পড়ল তিন ঘণ্টার ব্যবধানে</a></aside><blockquote>শুরুতে এই নেভিয়ার-স্টোকস সমীকরণের সমাধান উপস্থাপন নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। অনেকের কাছে প্রমাণটি দুর্বোধ্য মনে হয়েছিল। কেউ কেউ একে এআই স্লপ বলেও আখ্যা দেন।</blockquote><h2><strong>কয়েক ঘণ্টায় সমাধান, কয়েক দশকের সাধনা</strong></h2><p>গণিতের কঠিন সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো নেভিয়ার-স্টোকস সমীকরণ। তরল ও গ্যাসের প্রবাহ বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত সমীকরণের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী ধরে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক প্রশ্নের সমাধান খুঁজছিলেন গবেষকেরা।</p><p>গত মাসে ওপেনএআই দাবি করে, তাদের অভ্যন্তরীণ এআই মডেলটি এই সমীকরণের সমাধান করেছে মাত্র ৮৮ ঘণ্টায়! নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা মূলত ২০০০ সালে ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউট ঘোষিত সাতটি ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ’ সমস্যার একটি। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য এক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে। ওপেনএআইয়ের দেওয়া সমাধান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছিল। ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউটও স্বীকার করেছে, মডেলটি সমস্যাটির সমাধান করে থাকতে পারে।</p><p>শুরুতে এই সমাধানের উপস্থাপন নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। অনেকের কাছে প্রমাণটি দুর্বোধ্য মনে হয়েছিল। কেউ কেউ একে ‘এআই স্লপ’ বলেও আখ্যা দেন। কিন্তু অক্টোবরের শুরুতে যখন শত শত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হলো, তখন বিষয়টি আর শুধু সমস্যার সমাধানে সীমাবদ্ধ থাকল না। বিপুলসংখ্যক সমস্যার সমাধান সামনে আসায় গণিতবিদেরা বুঝতে পারলেন, তাঁদের কাজের জগতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/v9m607pnzv">এআই কি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণিতবিদদেরও হারিয়ে দেবে</a></aside><blockquote>নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা মূলত ২০০০ সালে ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউট ঘোষিত সাতটি মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যার একটি। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য এক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে।</blockquote><p>যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গণিতের অধ্যাপক কেভিন বাজার্ডের কথায়, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটিকে পাঁচ অঙ্কের দুটি সংখ্যা গুণ করতে বললেও সেটি ভুল করে বসত। সেই প্রযুক্তিই এত অল্প সময়ে এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যে বহু বছরের গবেষণার সমস্যার সমাধান চোখের পলকে হাজির করছে! এআইয়ের কাজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন, এমন গবেষকদের কাছেও এর উন্নতির গতি রীতিমতো বিস্ময়কর। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান লেসলি অ্যান গোল্ডবার্গও বলেছেন, এআইয়ের আগের দুর্বলতা দেখে তিনি বুঝতে পারেননি যে প্রযুক্তিটি এত দ্রুত উন্নতি করতে পারে।</p><p>এই পরিবর্তন গণিতবিদদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে গবেষকেরা কি নিজেরা সমস্যার সমাধান খোঁজার বদলে শুধু এআইয়ের দেওয়া প্রমাণ যাচাই করবেন? নতুন গণিতবিদেরা কী শিখবেন? যে সমস্যার সমাধান খুঁজতে বছরের পর বছর কাজ করতেন একজন গবেষক, সেটি যদি যন্ত্র কয়েক ঘণ্টায় সমাধান করে দেয়, তাহলে তাঁর কাজের ধরন কীভাবে বদলাবে?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/ocy5zak707">৩,৫০০ বছর আগের হাতের লেখা পড়ে ফেলল এআই</a></aside><blockquote>অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান লেসলি অ্যান গোল্ডবার্গও বলেছেন, এআইয়ের আগের দুর্বলতা দেখে তিনি বুঝতে পারেননি যে প্রযুক্তিটি এত দ্রুত উন্নতি করতে পারে।</blockquote><h2><strong>গণিত কি শুধু সমস্যার সমাধান</strong></h2><p>এআইয়ের সাফল্য নিয়ে অবশ্য সব গণিতবিদের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্কাস দু সতোয় এআই নিয়ে একই সঙ্গে রোমাঞ্চিত ও কিছুটা শঙ্কিত। সম্প্রতি এআইয়ের সাহায্যে তিনি এমন একটি অনুমান ভুল প্রমাণ করেছেন, যা তাঁর পিএইচডি তত্ত্বাবধায়ক ১৯৮৬ সালে করেছিলেন। তাঁর মতে, এআই তাঁর গবেষণাকে নতুন করে প্রাণ দিয়েছে।</p><p>এআইয়ের বড় সুবিধা হলো, এটি মানুষের বিপুলসংখ্যক গবেষণার ফল একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারে এবং বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া ধারণার মধ্যে সংযোগ খুঁজে বের করতে পারে। তবে মানুষের তৈরি ধারণাগুলোকে একত্র করে কাজে লাগানো আর যন্ত্রের নিজস্ব নতুন ধারণা তৈরি করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।</p><p>অক্সফোর্ডের গণিতবিদ জেমস মেনার্ড মনে করেন, অদূরভবিষ্যতে এআই নিজেই বড় গাণিতিক তত্ত্ব তৈরি করতে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। এই সম্ভাবনা যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, তেমনি বেশ উদ্বেগেরও। তাঁর মতে, এআই গণিতের অগ্রগতি দ্রুততর করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তিটি যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তৈরি হচ্ছে, তাদের স্বার্থের সঙ্গে গণিতচর্চার দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্যের বড় অমিল রয়েছে।</p><p>এখানে গণিতের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। গণিতের কাজ কি শুধু সমস্যার সমাধান করা, নাকি সেই সমাধানের মধ্য দিয়ে মানুষকে কোনো বিষয় আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করা?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/yje1nrai67">এআই প্রায় অর্ধেক সময় ভুল স্বাস্থ্য পরামর্শ দেয়, নতুন গবেষণা</a></aside><blockquote>এআইয়ের বড় সুবিধা হলো, এটি মানুষের বিপুলসংখ্যক গবেষণার ফল একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারে এবং বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া ধারণার মধ্যে সংযোগ খুঁজে বের করতে পারে।</blockquote><p>লেসলি অ্যান গোল্ডবার্গ মনে করেন, গণিতের মূল উদ্দেশ্য মানুষের বোঝাপড়া বাড়ানো। তাই তিনি নিজে এআইকে দিয়ে সমস্যার সমাধান করিয়ে সেই ফল প্রকাশ করার কাজে যুক্ত হতে চান না। তাঁর বক্তব্য, তিনি টাইপিস্ট নন; শুধু এআইকে প্রশ্ন করে তার দেওয়া উত্তর জানিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করার কোনো অর্থ দেখেন না তিনি।</p><p>একটি সমস্যার সঠিক উত্তর পাওয়া আর উত্তরটি কেন সঠিক, তা গভীরভাবে বুঝতে পারা কি একই ব্যাপার? এআই কোনো সমাধান হাজির করলে সেটি যাচাই করা, তার যুক্তি বোঝা এবং অন্য গাণিতিক ধারণার সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে বের করার প্রয়োজন থেকেই যায়। তবে যন্ত্র যদি ক্রমান্বয়ে আরও বেশি সমস্যার সমাধান করতে পারে, তাহলে গবেষকদের দক্ষতা অর্জনের পথও বদলে যেতে পারে।</p><p>এই পরিবর্তন বিশেষ করে গবেষণার শুরুতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম উদ্বেগের। গণিতে পিএইচডি করতে আসা অনেক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর ধরে এমন সব সমস্যার সমাধান খোঁজেন, যেগুলো নিয়ে কাজ করেই তাঁরা নিজেদের গবেষক হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এআই যদি আগেই সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করে ফেলে, তাহলে তাঁদের গবেষণার লক্ষ্য কী হবে? পড়াশোনা শেষে তাঁদের জন্য কেমন কাজ অপেক্ষা করবে? গোল্ডবার্গের মতে, এটাই সবচেয়ে বড় সংকট।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/51e21tnc3r">মানুষের কণ্ঠে কথা বলবে কম্পিউটার! এআই-এর নতুন জাদুর দুনিয়া</a></aside><blockquote>লেসলি অ্যান গোল্ডবার্গের বক্তব্য, তিনি টাইপিস্ট নন; শুধু এআইকে প্রশ্ন করে তার দেওয়া উত্তর জানিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করার কোনো অর্থ দেখেন না তিনি।</blockquote><h2><strong>গণিতবিদেরা কেন হতাশ হচ্ছেন</strong></h2><p>গণিতবিদদের কান্নার ঘটনাকে শুধু আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগা হিসেবে দেখলে তাঁদের অনুভূতির বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যাবে। বহু বছরের পরিশ্রমের পর অন্য কেউ দ্রুত সাফল্য পেলে হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। নিজের কাজের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে মনে হওয়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ভয়ও তাঁদের কষ্টের অংশ।</p><p>কিন্তু এর পাশাপাশি আছে আরও গভীর এক অনুভূতি। তাঁরা এমন একটি জগতে কাজ করেছেন, যেখানে আবিষ্কারের আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক। একজন গবেষক আগের গবেষকের কাজ পড়েছেন, তার সীমাবদ্ধতা খুঁজেছেন, নতুন প্রশ্ন তুলেছেন, সহকর্মীদের সঙ্গে তর্ক করেছেন। কখনো ব্যর্থ হয়েছেন, আবার কখনো বহুদিনের চেষ্টায় ছোট্ট একটি অগ্রগতি পেয়েছেন। সেই অগ্রগতিই তাঁকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। এই অমূল্য অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়েছে তাঁর দক্ষতা, নতুন প্রশ্ন করার ক্ষমতা এবং গবেষক হিসেবে নিজের পরিচয়।</p><p>এআইয়ের দ্রুত সাফল্য এই প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। একটি যন্ত্র যদি কয়েক ঘণ্টায় এমন সমস্যার সমাধান হাজির করে, যা সমাধান করতে একজন মানুষের কয়েক দশক লেগে যেতে পারত, তাহলে সেই গবেষকের ভূমিকা কী হবে? তাঁর দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়ের মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে? ভবিষ্যতের গবেষকেরা কোন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিজেদের তৈরি করবেন?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/5sty72omrz">এআই হাইপ, ভবিষ্যদ্বাণী ও অদৃশ্য প্রতারণার রাজনীতি</a></aside><blockquote>নিজের কাজের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে মনে হওয়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ভয়ও গণিতবিদদের কষ্টের অংশ।</blockquote><p>এসব প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর নেই। তবে গণিতবিদদের উদ্বেগ কেবল পেশা হারানোর ভয় নয়। তাঁরা এমন এক পরিবর্তনের মুখোমুখি, যা তাঁদের কাজের পদ্ধতি, পরিচয় এবং বিজ্ঞানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।</p><p>এআই হয়তো একসময় এমন অনেক সমস্যার সমাধান করে দেবে, যেগুলোকে আগে মানুষের বুদ্ধিমত্তার বড় পরীক্ষা বলে মনে করা হতো। এতে বিজ্ঞানের অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই অগ্রগতির মধ্যে মানুষের জায়গাটা কী হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।</p><p>গণিতবিদদের কান্নার পেছনে হয়তো এই প্রশ্নগুলোরই বড় ভূমিকা আছে। তাঁরা শুধু কিছু সমস্যার সমাধান হারানোর শোক করছেন না; তাঁরা ভাবছেন, মানুষের কৌতূহল, অধ্যবসায় আর পারস্পরিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা বিজ্ঞানের পৃথিবী কতটা বদলে যেতে চলেছে।</p><h4>সূত্র: ডেরেক থম্পসন ও দ্য অবজার্ভার</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/c6jr3jz6k6">এআইয়ের যুগে ক্যাপচা কি অকেজো হয়ে যাচ্ছে</a></aside>
অনুমতি পাওয়ার পরও দর্শকের চাপ সামলাতে না পেরে অনুষ্ঠান বাতিল হচ্ছে, কখনো অনুমতি ছাড়াই পরিবর্তন হচ্ছে ভেন্যু, আবার কখনো টিকিট ছাড়াই ভেন্যুতে ঢুকে পড়ছেন দর্শক।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের প্রকল্পে তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। চালু অবস্থায় কোনো চুল্লি পৃথিবীতে ফিরে এলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
<p>আমার বন্ধুরা খুবই অদ্ভুত, মানে এরা একটু অন্য জাতের। মানুষের বন্ধুরা যখন এদিক–সেদিক ট্যুরে যায় বা নামীদামি রেস্তোরাঁয় খেতে যায়, এরা তখন চায়ের বিলটা আজকে কে দেবে না, সেই ধান্দায় ব্যস্ত।</p><p>হঠাৎ এ কথা বলার কারণ আছে। সেদিন আমার সঙ্গে খুবই অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। মানে শেষ কবে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে, আমার মনে নেই। আমার বন্ধু নিয়াজ আমাকে ফোন করে বলল, ওর নাকি শরীর–মন কোনোটাই ভালো নেই, আমি বললাম, তো ডাক্তার দেখা।</p><p>—দেখালাম তো, কিন্তু ডাক্তার খুব এক্সপেনসিভ প্রেসক্রিপশন দিয়েছে। আমার সাধ্যের বাইরে।</p><p>—কী এমন ওষুধ দিল যেটা সাধ্যের বাইরে?</p><p>—কিছু না, বাদ দে। লাবণ্য কিন্তু কাল সবাইকে ডেকেছে, খুব জরুরি নাকি! চলে আসিস, তখন বাকি কথা খুলে বলব।</p><p>আমিও আর ঘাঁটালাম না। কিন্তু পরদিন নিয়াজই মিটিংয়ে ছিল না। লাবণ্য তো রেগে আগুন!</p><p>—একটা অনুরোধই তো করেছিলাম, আজ যেন সবাই থাকে। ওর কত বড় সাহস যে আমি ডাকার পরও এল না, হ্যাঁ!</p><p>আমি মাথা ঠান্ডা করতে বললাম, কিন্তু খুব একটা লাভ হলো বলে মনে হলো না। আমি নিয়াজকে একফাঁকে ফোন করলাম।</p><p>—কী রে, তুই কই? আমাকে আসতে বলে নিজেই আসলি না কেন?</p><p>—আর বলিস না, দোস্ত; ডাক্তারের কথামতো আপেল কিনতে গিয়েছিলাম, কত কষ্ট করে অতগুলো টাকা জমিয়ে আপেল কিনলাম, এভাবে ছিনতাই করবে!</p><p>—কী বলিস! অ্যাপেলের ফোন কেনার এত টাকা কোথায় পেলি? আর ডাক্তার তোকে ফোন কেন কিনতে বলবে? কী আজব!</p><aside><cite></cite>আরে হ্যাঁ রে, বাপ! তোকে তো কালই বললাম, ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। ডাক্তার বলল, আমার নাকি ভিটামিন আর কিসের কিসের যেন অভাব। প্রতিদিন একটা আপেল খাওয়া দরকার। ওই জন্যই তো আজ...</aside><p>কথা শেষ হওয়ার আগেই ফোনটা কেটে গেল। লাবণ্যকে এসে জানালাম বিষয়টা। দেরি না করে নিয়াজের বাসার দিকে রওনা দিলাম।</p><p>নিয়াজের বাসায় ঢুকতেই দেখি, আন্টি-আঙ্কেল আর ওর ছোট বোন, সবাই মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। যা বুঝলাম, পরিস্থিতি গুরুতর! আমাদের দেখে আঙ্কেল আরেক দফায় চেঁচামেচি শুরু করলেন।</p><p>‘এত কেয়ারলেস কেউ কেন হবে, তোমরাই বলো? ও কি কোনো দিন বড় হবে না? এতগুলো টাকার জিনিস, এভাবে ছিনতাইকারীকে দিয়ে আসবে?</p><p>আমি আর লাবণ্য একটু বোঝানোর চেষ্টা করলাম।</p><p>‘আঙ্কেল, ও তো আর ইচ্ছা করে করেনি, অঘটনের ওপর তো আর কারও হাত নেই। —চুপ করো! তোমাদের কথায় আমাকে ভোলাতে পারবে না। এতগুলা টাকা! কে দেবে এর খেসারত?</p><p>লাবণ্য আমাকে ইশারায় এখান থেকে কেটে পড়তে বলল। উঠে দুজন নিয়াজের ঘরে গেলাম। গিয়ে দেখি, ও বাংলা সিনেমার নায়িকার মতো বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে আছে। পাশে একটা নীল রঙের পলিথিন।</p><p>আজকাল নীল পলিথিনে আইফোন দেয় নাকি?</p><p>লাবণ্য একটু হেসে ফেলল।</p><p>নিয়াজ মাথা তুলে বলল, ‘দেখ, মন-মেজাজ ভালো না। এতক্ষণ বাপের ঝাড়ি খেয়ে মাথা আরও গরম। এসব ফাইজলামি ভাল্লাগছে না।’</p><p>—আচ্ছা, তুই আমাকে বল, যে ছেলে চায়ের বিল দেয় না একবেলা, তার হঠাৎ আইফোন কেনার শখ কেন হলো?</p><p>—কি তখন থেকে আইফোন–আইফোন করছিস?</p><p>লাবণ্য ওর মাথায় একটা চাটি মেরে বলল, ‘বাবা রে বাবা, ও আইফোন হারাতে পারবে, আর আমরা বলতে পারব না!’</p><p>—আমি বুঝতেসি না তোদের কোনো কথা, আইফোন আমি কোথায় পাব? আমার আইফোন থাকলে না আইফোন হারাব, ছিনতাই তো হলো আপেল।</p><p>আমি আর লাবণ্য দুজনই এখন ভয়ংকর কনফিউজড। কেউ কেন আপেলের ফোন চুরি না করে আপেল মানে ফল ছিনতাই করবে?</p><p>—তার মানে তুই আজ আপেল মানে ফল কিনতে গিয়েছিলি সকালে? আর সেটা একটা লোক এসে ছিনতাই করে নিয়ে গেছে? এগুলো কেমন যা–তা ঘটনা?</p><p>—আরে হ্যাঁ রে, বাপ! তোকে তো কালই বললাম, ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। ডাক্তার বলল, আমার নাকি ভিটামিন আর কিসের কিসের যেন অভাব। প্রতিদিন একটা আপেল খাওয়া দরকার। ওই জন্যই তো আজ...</p> <blockquote>আর যা–ই হোক, এই ইনফ্ল্যাশনে ওনার কাউকে আপেল খেতে বলা একদমই ঠিক হয়নি, একটা অ্যাপেলের ফোন কিনতে বললেও ভেবে দেখা যেত।</blockquote><p>লাবণ্য মাথা চুলকাতে চুলকাতে জিজ্ঞাসা করল, ‘দাঁড়া, দাঁড়া! আমার হিসাব মিলছে না।’</p><p>আমি বললাম, ‘ফল কেন ছিনতাই করবে কেউ? আর ছিনতাই করলেও এটা নিয়ে এত মন খারাপের কী আছে? কয়েকটা আপেলই তো!’</p><p>নিয়াজ চিৎকার করে উঠল, ‘কয়েকটা আপেল? তুই আপেলের দাম জানিস? দুই দিন পর তো সোনার দোকানে সোনা বাদ দিয়ে আপেল বেচবে সবাই।’</p><p>—কয় টাকাই বা দাম?</p><p>—কেজি ৪০০ টাকা, আমি বড়লোকি দেখাতে গিয়ে ৮০০ টাকা দিয়ে ৮টা আপেল কিনেছিলাম।</p><p>—তারপর?</p><p>—দোকান থেকে বের হওয়ার পরই মনে হচ্ছিল, কেউ আমাকে ফলো করছে। আমিও তাড়াতাড়ি হাঁটতে শুরু করলাম। কিন্তু তারপরই ব্যাটা এসে আমার সামনে ছুরি ধরল!</p><p>—কী সাংঘাতিক!</p><p>—তারপর ছোঁ মেরে আমার হাত থেকে প্যাকেটটা নিয়ে গেল। পরে আড়ংয়ের কাপড়ের ব্যাগে করে সযত্ন আপেলগুলা রেখে এই নীল পলিথিন হাতে ধরিয়ে দিয়ে ব্যাটা পগারপার!</p><p>ঘটনা শুনে সত্যি খুব খারাপ লাগল। নিয়াজকে সান্ত্বনা দিয়ে আমরা চুপচাপ বেরিয়ে পড়লাম। ওর তো কোনো দোষ নেই।</p><p>সব দোষ আসলে ডাক্তারের। আর যা–ই হোক, এই ইনফ্ল্যাশনে ওনার কাউকে আপেল খেতে বলা একদমই ঠিক হয়নি, একটা অ্যাপেলের ফোন কিনতে বললেও ভেবে দেখা যেত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/zb1idjsddt">ডলারের আশায় ই-টিন! </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/3y37khdj9g">আপনি কত বড় মিথ্যাবাদী?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/3fbuod5lle">উগান্ডার হুইপের ফেসবুক প্রোফাইল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/m9eme7ddwo">বেরেক কাম করে না!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hik3yizsq8">সিনেপ্লেক্সে একদিন </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/tnsdadk1at">সড়কপথে বিমানের ছোঁয়া </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/wio8c5i398">আরও যা যা ফাঁস হতে পারে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/j2xtgsfcge">আমি ভুল করিনি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6dfwgsqw20">Lieসেন্স</a></aside>
বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান সেমিনার কক্ষে ‘বৈশ্বিক গণ-আন্দোলনের অভিমুখীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা এ কথা বলেন।
বিক্ষোভকারী জেরোম রদ্রিগেজ বলেন, ‘দেশ পরিচালনা করছে একদল অযোগ্য মানুষ। তারা কোটি কোটি ইউরোর হিসাব-নিকাশ করছে, অথচ সাধারণ পরিবারগুলো সামান্য কয়েক সেন্টের জন্য হিমশিম খাচ্ছে।’
<blockquote>নিউজিল্যান্ড ও ভারতের পঞ্চম টি-টুয়েন্টি আজ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মুখোমুখি লিভারপুল ও আর্সেনাল। লা লিগায় মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ।</blockquote><h3>জাতীয় ক্রিকেট লিগ</h3><p><strong>সিলেট–চট্টগ্রাম</strong><br>সকাল ৯–৩০ মি., বিসিবি ইউটিউব<br><strong>ময়মনসিংহ–খুলনা</strong><br>সকাল ৯–৩০ মি., বিসিবি ইউটিউব<br><strong>ঢাকা–বরিশাল<br></strong> সকাল ৯–৩০ মি., বিসিবি ইউটিউব<br><strong>রংপুর–রাজশাহী</strong><br>সকাল ৯–৩০ মি., বিসিবি ইউটিউব</p><h3>৫ম টি-টুয়েন্টি</h3><p> <strong>নিউজিল্যান্ড–ভারত</strong><br> বেলা ১টা, সনি স্পোর্টস ১</p><h3>সিরি আ</h3><p><strong>কোমো–ভেনেতসিয়া</strong><br>বিকেল ৫–৩০ মি., জি ফাইভ<br><strong>জুভেন্টাস–নাপোলি</strong><br>রাত ১–৪৫ মি., জি ফাইভ<br></p><h3>লা লিগা</h3><p><strong>হেতাফে–সেভিয়া</strong><br>সন্ধ্যা ৭টা, ট্যাপম্যাড ও ফ্যানকোড<br><strong>রেসিং–রিয়াল মাদ্রিদ</strong><br>রাত ৯–১৫ মি., ট্যাপম্যাড ও ফ্যানকোড<br><strong>এলচে–ভ্যালেন্সিয়া</strong><br>রাত ১১–৩০ মি., ট্যাপম্যাড ও ফ্যানকোড</p><h3>ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ</h3><p><strong>লিভারপুল–আর্সেনাল</strong><br>রাত ১০–৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ </p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।