technology

বিশ্বজুড়ে গণিতবিদেরা কেন কাঁদছেন

নভেম্বর ১, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে গণিতবিদেরা কেন কাঁদছেন
বিশ্বজুড়ে গণিতবিদেরা কেন কাঁদছেন
<p>গণিতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের কৌতূহল, আবিষ্কারের আনন্দ, বছরের পর বছর সাধনা আর তীব্র আবেগ। এটি কেবল সংখ্যা, সূত্র বা খটমটে সমীকরণ নয়। একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান ঠিক হলো কি না, তা হয়তো মানুষের কান্না বা হাসি দিয়ে বোঝার কোনো উপায় নেই। অথচ সম্প্রতি বিশ্বের নামকরা গণিতবিদেরা কেউ কেউ হতাশায় কেঁদেছেন, কেউ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ বুঝেই উঠতে পারছেন না যে এত দিনের চেনা জগতে তাঁদের আসল জায়গাটা এখন কোথায়! গণিতের জগতে এমন আবেগঘন ও হতাশাজনক পরিস্থিতির কারণ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।</p><p>২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর ওপেনএআই এমন এক এআই মডেল থেকে পাওয়া শত শত গাণিতিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যা গণিতের জগতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এসব গবেষণাপত্রে ছিল ৩৭২টি জটিল গাণিতিক সমস্যার প্রমাণ। এসব সমস্যার কোনোটি সমাধানের চেষ্টা চলেছে কয়েক দশক ধরে, আবার কোনোটি কয়েক শতাব্দী ধরে গণিতবিদদের চিন্তায় ফেলেছে। প্রকাশিত ৭২২টি পাণ্ডুলিপির মধ্যে পরে তিনটি প্রত্যাহার করা হয়। এত দিন যেসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে গবেষকেরা তাঁদের জীবনের একটা বড় সময় ব্যয় করেছেন, তার অনেকগুলোরই নির্ভুল সমাধান হাজির করেছে এই এআই। কোথাও সময় লেগেছে কয়েক ঘণ্টা, কোথাও-বা কয়েক দিন।</p><p>এ ঘটনায় ভীষণ বিস্মিত হয়েছেন বিশ্বের তাবড় গণিতবিদেরা। তবে এই বিস্ময়ের সঙ্গে মিশেছে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা আর গভীর এক শূন্যতার অনুভূতি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, যন্ত্র যদি এত দ্রুত কঠিন সব সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে, তাহলে গণিতবিদদের এত দিনের সাধনা, তাঁদের গবেষণা আর ভবিষ্যতই-বা কী হবে?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/math/4vxlvmr61r">৩৫০ বছরের গাণিতিক ধাঁধা মাত্র ১১ দিনে সমাধান করল এআই</a></aside><blockquote>গবেষণাপত্রে ছিল ৩৭২টি জটিল গাণিতিক সমস্যার প্রমাণ। এসব সমস্যার কোনোটি সমাধানের চেষ্টা চলেছে কয়েক দশক ধরে, আবার কোনোটি কয়েক শতাব্দী ধরে গণিতবিদদের চিন্তায় ফেলেছে।</blockquote><h2><strong>যে হতাশা সামনে আনল বড় প্রশ্ন</strong></h2><p>২০২২ সালে গণিতের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার ফিল্ডস মেডেল পেয়েছিলেন ফরাসি গণিতবিদ হুগো দুমিনিল-কোপাঁ। ওপেনএআইয়ের এই সাফল্যের খবর শুনে তিনি এতই হতাশ হয়ে ডুকরে কেঁদেছিলেন যে তাঁর কান্নার শব্দে মেয়ের ঘুম ভেঙে গিয়েছিল! নিজের গবেষণাক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘তারা আমার গবেষণাক্ষেত্রটাই ধ্বংস করে দিয়েছে।’</p><p>কথাটা শুনে মনে হতে পারে, একজন গণিতবিদের আত্মমর্যাদায় বুঝি বড় কোনো আঘাত লেগেছে। এত বছর ধরে যে সমস্যার সমাধান নিজে খুঁজছেন, অন্য কেউ এসে তা করে ফেললে মন খারাপ হতেই পারে। কিন্তু বিষয়টা কি কেবল নিজের কাজের স্বীকৃতি হারানোর ভয়?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/vww1t8fqn9">এআই কি এখন গণিত অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন সমাধান করতে পারে</a></aside><blockquote>নিজের গবেষণাক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফরাসি গণিতবিদ হুগো দুমিনিল-কোপাঁর মন্তব্য ছিল, ‘তারা আমার গবেষণাক্ষেত্রটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে।’</blockquote><p>যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতবিদ স্টিভেন স্ট্রোগাটজের কথায় পাওয়া যায় আরও গভীর কিছুর ইঙ্গিত। গণিত নিয়ে একাধিক চমৎকার বই লিখেছেন তিনি। এআইয়ের সাম্প্রতিক সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাঁর মনে হয়েছে, গণিতবিদেরা এত দিন নিজেদের এমন মানুষ হিসেবে ভাবতে পেরেছেন, যাঁরা নতুন কিছু আবিষ্কার করেন, কঠিন সমস্যার সমাধান বের করেন এবং সেই আবিষ্কারের মাধ্যমে পৃথিবীকে নতুন কিছু উপহার দেন। এখন তাঁদের সেই পরিচিতিটাই যেন বদলে যাচ্ছে।</p><p>স্ট্রোগাটজের কাছে এই পরিবর্তনটি একই সঙ্গে রোমাঞ্চকর ও ভীতিকর। কখনো তিনি নতুন সম্ভাবনা দেখে উত্তেজিত হন, কখনো আবার দিশাহারা বোধ করেন। আবার কখনো অনুভব করেন গভীর শোক। কারণ, গণিতবিদদের কাছে একটি সমস্যার সমাধান কেবল সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘদিনের চেষ্টা, ব্যর্থতা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং অন্য গবেষকদের সঙ্গে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার অমূল্য অভিজ্ঞতা।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/y9l1bzz5od">একই অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান দুই এআইয়ের, জমা পড়ল তিন ঘণ্টার ব্যবধানে</a></aside><blockquote>শুরুতে এই নেভিয়ার-স্টোকস সমীকরণের সমাধান উপস্থাপন নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। অনেকের কাছে প্রমাণটি দুর্বোধ্য মনে হয়েছিল। কেউ কেউ একে এআই স্লপ বলেও আখ্যা দেন।</blockquote><h2><strong>কয়েক ঘণ্টায় সমাধান, কয়েক দশকের সাধনা</strong></h2><p>গণিতের কঠিন সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো নেভিয়ার-স্টোকস সমীকরণ। তরল ও গ্যাসের প্রবাহ বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত সমীকরণের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী ধরে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক প্রশ্নের সমাধান খুঁজছিলেন গবেষকেরা।</p><p>গত মাসে ওপেনএআই দাবি করে, তাদের অভ্যন্তরীণ এআই মডেলটি এই সমীকরণের সমাধান করেছে মাত্র ৮৮ ঘণ্টায়! নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা মূলত ২০০০ সালে ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউট ঘোষিত সাতটি ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ’ সমস্যার একটি। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য এক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে। ওপেনএআইয়ের দেওয়া সমাধান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছিল। ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউটও স্বীকার করেছে, মডেলটি সমস্যাটির সমাধান করে থাকতে পারে।</p><p>শুরুতে এই সমাধানের উপস্থাপন নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। অনেকের কাছে প্রমাণটি দুর্বোধ্য মনে হয়েছিল। কেউ কেউ একে ‘এআই স্লপ’ বলেও আখ্যা দেন। কিন্তু অক্টোবরের শুরুতে যখন শত শত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হলো, তখন বিষয়টি আর শুধু সমস্যার সমাধানে সীমাবদ্ধ থাকল না। বিপুলসংখ্যক সমস্যার সমাধান সামনে আসায় গণিতবিদেরা বুঝতে পারলেন, তাঁদের কাজের জগতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/v9m607pnzv">এআই কি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণিতবিদদেরও হারিয়ে দেবে</a></aside><blockquote>নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা মূলত ২০০০ সালে ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউট ঘোষিত সাতটি মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যার একটি। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য এক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে।</blockquote><p>যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গণিতের অধ্যাপক কেভিন বাজার্ডের কথায়, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটিকে পাঁচ অঙ্কের দুটি সংখ্যা গুণ করতে বললেও সেটি ভুল করে বসত। সেই প্রযুক্তিই এত অল্প সময়ে এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যে বহু বছরের গবেষণার সমস্যার সমাধান চোখের পলকে হাজির করছে! এআইয়ের কাজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন, এমন গবেষকদের কাছেও এর উন্নতির গতি রীতিমতো বিস্ময়কর। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান লেসলি অ্যান গোল্ডবার্গও বলেছেন, এআইয়ের আগের দুর্বলতা দেখে তিনি বুঝতে পারেননি যে প্রযুক্তিটি এত দ্রুত উন্নতি করতে পারে।</p><p>এই পরিবর্তন গণিতবিদদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে গবেষকেরা কি নিজেরা সমস্যার সমাধান খোঁজার বদলে শুধু এআইয়ের দেওয়া প্রমাণ যাচাই করবেন? নতুন গণিতবিদেরা কী শিখবেন? যে সমস্যার সমাধান খুঁজতে বছরের পর বছর কাজ করতেন একজন গবেষক, সেটি যদি যন্ত্র কয়েক ঘণ্টায় সমাধান করে দেয়, তাহলে তাঁর কাজের ধরন কীভাবে বদলাবে?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/ocy5zak707">৩,৫০০ বছর আগের হাতের লেখা পড়ে ফেলল এআই</a></aside><blockquote>অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান লেসলি অ্যান গোল্ডবার্গও বলেছেন, এআইয়ের আগের দুর্বলতা দেখে তিনি বুঝতে পারেননি যে প্রযুক্তিটি এত দ্রুত উন্নতি করতে পারে।</blockquote><h2><strong>গণিত কি শুধু সমস্যার সমাধান</strong></h2><p>এআইয়ের সাফল্য নিয়ে অবশ্য সব গণিতবিদের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্কাস দু সতোয় এআই নিয়ে একই সঙ্গে রোমাঞ্চিত ও কিছুটা শঙ্কিত। সম্প্রতি এআইয়ের সাহায্যে তিনি এমন একটি অনুমান ভুল প্রমাণ করেছেন, যা তাঁর পিএইচডি তত্ত্বাবধায়ক ১৯৮৬ সালে করেছিলেন। তাঁর মতে, এআই তাঁর গবেষণাকে নতুন করে প্রাণ দিয়েছে।</p><p>এআইয়ের বড় সুবিধা হলো, এটি মানুষের বিপুলসংখ্যক গবেষণার ফল একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারে এবং বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া ধারণার মধ্যে সংযোগ খুঁজে বের করতে পারে। তবে মানুষের তৈরি ধারণাগুলোকে একত্র করে কাজে লাগানো আর যন্ত্রের নিজস্ব নতুন ধারণা তৈরি করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।</p><p>অক্সফোর্ডের গণিতবিদ জেমস মেনার্ড মনে করেন, অদূরভবিষ্যতে এআই নিজেই বড় গাণিতিক তত্ত্ব তৈরি করতে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। এই সম্ভাবনা যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, তেমনি বেশ উদ্বেগেরও। তাঁর মতে, এআই গণিতের অগ্রগতি দ্রুততর করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তিটি যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তৈরি হচ্ছে, তাদের স্বার্থের সঙ্গে গণিতচর্চার দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্যের বড় অমিল রয়েছে।</p><p>এখানে গণিতের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। গণিতের কাজ কি শুধু সমস্যার সমাধান করা, নাকি সেই সমাধানের মধ্য দিয়ে মানুষকে কোনো বিষয় আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করা?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/yje1nrai67">এআই প্রায় অর্ধেক সময় ভুল স্বাস্থ্য পরামর্শ দেয়, নতুন গবেষণা</a></aside><blockquote>এআইয়ের বড় সুবিধা হলো, এটি মানুষের বিপুলসংখ্যক গবেষণার ফল একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারে এবং বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া ধারণার মধ্যে সংযোগ খুঁজে বের করতে পারে।</blockquote><p>লেসলি অ্যান গোল্ডবার্গ মনে করেন, গণিতের মূল উদ্দেশ্য মানুষের বোঝাপড়া বাড়ানো। তাই তিনি নিজে এআইকে দিয়ে সমস্যার সমাধান করিয়ে সেই ফল প্রকাশ করার কাজে যুক্ত হতে চান না। তাঁর বক্তব্য, তিনি টাইপিস্ট নন; শুধু এআইকে প্রশ্ন করে তার দেওয়া উত্তর জানিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করার কোনো অর্থ দেখেন না তিনি।</p><p>একটি সমস্যার সঠিক উত্তর পাওয়া আর উত্তরটি কেন সঠিক, তা গভীরভাবে বুঝতে পারা কি একই ব্যাপার? এআই কোনো সমাধান হাজির করলে সেটি যাচাই করা, তার যুক্তি বোঝা এবং অন্য গাণিতিক ধারণার সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে বের করার প্রয়োজন থেকেই যায়। তবে যন্ত্র যদি ক্রমান্বয়ে আরও বেশি সমস্যার সমাধান করতে পারে, তাহলে গবেষকদের দক্ষতা অর্জনের পথও বদলে যেতে পারে।</p><p>এই পরিবর্তন বিশেষ করে গবেষণার শুরুতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম উদ্বেগের। গণিতে পিএইচডি করতে আসা অনেক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর ধরে এমন সব সমস্যার সমাধান খোঁজেন, যেগুলো নিয়ে কাজ করেই তাঁরা নিজেদের গবেষক হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এআই যদি আগেই সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করে ফেলে, তাহলে তাঁদের গবেষণার লক্ষ্য কী হবে? পড়াশোনা শেষে তাঁদের জন্য কেমন কাজ অপেক্ষা করবে? গোল্ডবার্গের মতে, এটাই সবচেয়ে বড় সংকট।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/51e21tnc3r">মানুষের কণ্ঠে কথা বলবে কম্পিউটার! এআই-এর নতুন জাদুর দুনিয়া</a></aside><blockquote>লেসলি অ্যান গোল্ডবার্গের বক্তব্য, তিনি টাইপিস্ট নন; শুধু এআইকে প্রশ্ন করে তার দেওয়া উত্তর জানিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করার কোনো অর্থ দেখেন না তিনি।</blockquote><h2><strong>গণিতবিদেরা কেন হতাশ হচ্ছেন</strong></h2><p>গণিতবিদদের কান্নার ঘটনাকে শুধু আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগা হিসেবে দেখলে তাঁদের অনুভূতির বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যাবে। বহু বছরের পরিশ্রমের পর অন্য কেউ দ্রুত সাফল্য পেলে হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। নিজের কাজের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে মনে হওয়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ভয়ও তাঁদের কষ্টের অংশ।</p><p>কিন্তু এর পাশাপাশি আছে আরও গভীর এক অনুভূতি। তাঁরা এমন একটি জগতে কাজ করেছেন, যেখানে আবিষ্কারের আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক। একজন গবেষক আগের গবেষকের কাজ পড়েছেন, তার সীমাবদ্ধতা খুঁজেছেন, নতুন প্রশ্ন তুলেছেন, সহকর্মীদের সঙ্গে তর্ক করেছেন। কখনো ব্যর্থ হয়েছেন, আবার কখনো বহুদিনের চেষ্টায় ছোট্ট একটি অগ্রগতি পেয়েছেন। সেই অগ্রগতিই তাঁকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। এই অমূল্য অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়েছে তাঁর দক্ষতা, নতুন প্রশ্ন করার ক্ষমতা এবং গবেষক হিসেবে নিজের পরিচয়।</p><p>এআইয়ের দ্রুত সাফল্য এই প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। একটি যন্ত্র যদি কয়েক ঘণ্টায় এমন সমস্যার সমাধান হাজির করে, যা সমাধান করতে একজন মানুষের কয়েক দশক লেগে যেতে পারত, তাহলে সেই গবেষকের ভূমিকা কী হবে? তাঁর দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়ের মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে? ভবিষ্যতের গবেষকেরা কোন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিজেদের তৈরি করবেন?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/5sty72omrz">এআই হাইপ, ভবিষ্যদ্বাণী ও অদৃশ্য প্রতারণার রাজনীতি</a></aside><blockquote>নিজের কাজের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে মনে হওয়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ভয়ও গণিতবিদদের কষ্টের অংশ।</blockquote><p>এসব প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর নেই। তবে গণিতবিদদের উদ্বেগ কেবল পেশা হারানোর ভয় নয়। তাঁরা এমন এক পরিবর্তনের মুখোমুখি, যা তাঁদের কাজের পদ্ধতি, পরিচয় এবং বিজ্ঞানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।</p><p>এআই হয়তো একসময় এমন অনেক সমস্যার সমাধান করে দেবে, যেগুলোকে আগে মানুষের বুদ্ধিমত্তার বড় পরীক্ষা বলে মনে করা হতো। এতে বিজ্ঞানের অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই অগ্রগতির মধ্যে মানুষের জায়গাটা কী হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।</p><p>গণিতবিদদের কান্নার পেছনে হয়তো এই প্রশ্নগুলোরই বড় ভূমিকা আছে। তাঁরা শুধু কিছু সমস্যার সমাধান হারানোর শোক করছেন না; তাঁরা ভাবছেন, মানুষের কৌতূহল, অধ্যবসায় আর পারস্পরিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা বিজ্ঞানের পৃথিবী কতটা বদলে যেতে চলেছে।</p><h4>সূত্র: ডেরেক থম্পসন ও দ্য অবজার্ভার</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/c6jr3jz6k6">এআইয়ের যুগে ক্যাপচা কি অকেজো হয়ে যাচ্ছে</a></aside>

Prothomalo

View more
২০ মিনিটে ঘটল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো চুরি, কিন্তু কীভাবে?
২০ মিনিটে ঘটল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো চুরি, কিন্তু কীভাবে?

<p>বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরি করেছে হ্যাকাররা। মাত্র প্রায় ২০ মিনিটে চুরির বড় অংশ সম্পন্ন হয়। ডিজিটাল সম্পদ চুরির ইতিহাসে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীরা কীভাবে বাইন্যান্সের অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থায় ঢুকল, আর কারা থাকতে পারে এর পেছনে? বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>

নভেম্বর ১, ২০২৬
পছন্দের দুই দেহরক্ষীর ৩০ গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন ইন্দিরা
পছন্দের দুই দেহরক্ষীর ৩০ গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন ইন্দিরা

সেদিন নিজের পছন্দের দুই দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। দেশটির রাজনীতির ইতিহাসে সূচনা হয় এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের।

নভেম্বর ১, ২০২৬
চার ঘণ্টার সবজির বাজারে এক দিনে বিক্রি প্রায় ৪০ লাখ টাকা
চার ঘণ্টার সবজির বাজারে এক দিনে বিক্রি প্রায় ৪০ লাখ টাকা

<p>সকাল পৌনে ছয়টা। চারদিকে কুয়াশা। বগুড়ার শেরপুরের ফুলবাড়ী পাইকারি সবজির বাজারে তখন ব্যস্ততা। কেউ ভ্যানভর্তি সবজি নিয়ে আসছেন, কেউ কাঁধে ঝুড়ি, কেউ আবার খেতের তাজা সবজি সাজিয়ে বসেছেন ক্রেতার অপেক্ষায়।</p><p>বাজারে লালশাক নিয়ে ঢুকলেন কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৫)। এবার ১৫ শতক জমিতে লালশাক চাষ করেছেন তিনি। প্রায় ১৫ দিন ধরে খেতের শাক নিয়ে আসছেন এই বাজারে। দিনে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার। ভালো দাম পেয়ে খুশি রফিকুল।</p><p>কিছু দূরে মুলা নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন চকপাথালিয়া গ্রামের কৃষক জাফর হোসেন (৫০)। ২০ শতক জমিতে মুলা চাষ করেছেন। সপ্তাহে পাঁচ দিন এই বাজারে আসেন। এক দিনে ৮০ কেজি মুলা বিক্রি করেছেন এক হাজার টাকায়। গত শুক্রবার সকালে বাজারে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।</p><p>রফিকুল ও জাফরের মতো প্রতিদিন কয়েক হাজার কৃষক ভোরে খেতের সবজি নিয়ে আসেন এই বাজারে। ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সকাল সাড়ে নয়টা, মাত্র চার ঘণ্টা চলে কেনাবেচা। স্থানীয় মানুষের কাছে বাজারটি ‘চার ঘণ্টার সবজির বাজার’ নামে পরিচিত। সোমবার ও বৃহস্পতিবার ছাড়া প্রতিদিন ভোরে বসে বাজারটি।</p><blockquote>কোথাও লালশাকের স্তূপ, কোথাও মুলা, বেগুন, ফুলকপি কিংবা বাঁধাকপি। কৃষকেরা দাম হাঁকছেন, পাইকারেরা দরদাম করছেন। কেউ সবজি বাছাই করছেন, কেউ দ্রুত গাড়িতে মাল তুলছেন।</blockquote><p>শেরপুর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জি এম মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ফুলবাড়ী বাজারে প্রতিদিন অন্তত চার হাজার কৃষক ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেন। এবার উপজেলার ৭ হাজার ৫৫৮ একর জমিতে সবজির চাষ হয়। প্রতি একর জমিতে বছরে ৮ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। সবজি চাষের সঙ্গে জড়িত শেরপুরের ২২ হাজার ৬৭০ জন কৃষক।</p><p><strong>ছয় ইউনিয়নের কৃষকদের ভরসা</strong></p><p>শেরপুরের গাড়িদহ ইউনিয়নে করতোয়া নদীর পাশে ফুলবাড়ী খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় বাজারটির অবস্থান। বাজারটি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে। কুসুম্বি, গাড়িদহ, খামারকান্দি, শাহবন্দেগি, মির্জাপুর ও খানপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক এখানে সবজি নিয়ে আসেন। পাশের শাজাহানপুর ও ধুনট উপজেলার কৃষকেরাও আসেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/bqw32zxz/Vegetable-2.jfif"><figcaption>বাজারে নানা রকম সবজি নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। গত শুক্রবার সকালে শেরপুরের ফুলবাড়ী সবজি বাজারে</figcaption></figure><p>স্থানীয় কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন ও গাড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বাজারটির যাত্রা শুরু হয়। সরকারি ১৫ শতক জায়গায় শুরু হলেও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে এখন তা ছড়িয়ে গেছে পাশের ফুলবাড়ী হামিদীয়া দাখিল মাদ্রাসার মাঠেও। শুরুতে বাজারটি ছিল স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। এখন দূরদূরান্ত থেকে পাইকারেরা আসেন। এখানকার সবজি ট্রাক ও পিকআপে করে চলে যায় দেশের নানা প্রান্তে।</p><p>স্থানীয় কৃষক আতাউর রহমান ও ইনছান আলী বলেন, উপজেলার ছয় ইউনিয়নে সারা বছরই কমবেশি সবজি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সবজি যায় টাঙ্গাইল, সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন বাজারে।</p><aside><cite>জি এম মাসুদ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, শেরপুর উপজেলা</cite>ফুলবাড়ী বাজারে প্রতিদিন অন্তত চার হাজার কৃষক সবজি বিক্রির জন্য আনেন। উপজেলায় ৭ হাজার ৫৫৮ একর জমিতে সবজির চাষ হয়। প্রতি একর জমিতে বছরে ৮ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয়।</aside><p>শেরপুর পৌর শহরের শিশুপার্কের সবজি বিক্রেতা মিলন সরকার, বৈকাল বাজারের দুলাল সরকার ও নিপু মালাকার, বারদুয়ারী হাটের আলম হোসেন এবং দুবলাগাড়ী হাটের সাইদুল ইসলাম বলেন, এই বাজারের কারণে কৃষকেরা সবজি দ্রুত বিক্রি করতে পারছেন। পাশাপাশি উপজেলার ৩০টি ছোট বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবজি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।</p><p><strong>শীতে বেচাকেনা ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা</strong></p><p>সারা বছরই বাজারে সবজি কেনাবেচা হয়। তবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই চার মাস চিত্র বদলে যায়। সরবরাহ বাড়ায় ব্যস্ততা বাড়ে কয়েক গুণ। নির্ধারিত জায়গায় কুলায় না, তাই পাশের মাদ্রাসার মাঠেও বসে সবজির পসরা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/kq1c1bot/Vegetable-3.jfif"><figcaption>খেতের লালশাক নিয়ে বাজারে আসছেন এক কৃষক। গত শুক্রবার সকালে শেরপুরের ফুলবাড়ী সবজি বাজারে</figcaption></figure><p>শাজাহানপুরের মারিয়া গ্রামের কৃষক মো. মামুন (৪০), ফুলবাড়ী গ্রামের আবদুর রাজ্জাক (৪৮), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ার ফরহাদ হোসেন (৫০), জোয়ানপুর গ্রামের বেলাল হোসেন এবং ফুলবাড়ীর পাইকারি ক্রেতা তামিম প্রামাণিক (৫৫) জানান, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার সবজি কেনাবেচা হয় এই বাজারে। বছরের অন্য সময় তা থাকে ২০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।</p><p>বাজারে ঢুকলে চোখে পড়ে বিচিত্র কর্মযজ্ঞ। সারি সারি ভ্যান ও ভটভটি (তিন চাকার যান)। কোথাও লালশাকের স্তূপ, কোথাও মুলা, বেগুন, ফুলকপি কিংবা বাঁধাকপি। কৃষকেরা দাম হাঁকছেন, পাইকারেরা দরদাম করছেন। কেউ সবজি বাছাই করছেন, কেউ দ্রুত গাড়িতে মাল তুলছেন।</p><p><strong>বদলেছে স্থানীয় কৃষি-বাণিজ্যের চিত্র</strong></p><p>বাজারটির বড় সুবিধা হলো কৃষককে সবজি বিক্রির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। ভোরে খেতের সবজি এনে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি করে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। পাইকারেরাও এক জায়গায় নানা ধরনের সবজি পেয়ে সহজেই পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এতে কৃষকের পাশাপাশি উপকৃত হচ্ছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/g8smdlqp/Vegetable-4.jfif"><figcaption>ভ্যানে করে ফুলকপি নিয়ে বাজারে আসছেন কৃষক। গত শুক্রবার সকালে শেরপুরের ফুলবাড়ী সবজি বাজারে</figcaption></figure><p>সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাজারে ব্যস্ততা কমতে শুরু করে। অনেক কৃষকের ঝুড়ি ও ভ্যান তখন প্রায় খালি। কেউ বিক্রির টাকা গুনছেন, কেউ বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভোরে খেতের ফসল নিয়ে আসা কৃষকদের মুখে তখন স্বস্তির ছাপ। দিনের একটি বড় কাজ শেষ।</p><p>চার ঘণ্টার এই বাজারে একদিকে যেমন কৃষকের খেতের ফসল বিক্রি হচ্ছে, অন্যদিকে সচল থাকছে স্থানীয় কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য। সকালের এই বেচাকেনার ওপরই নির্ভর করে হাজারো মানুষের জীবিকা।</p><p>প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারটি নিয়মিত তদারক করা হয় বলে জানান শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু।</p>

নভেম্বর ১, ২০২৬
চন্দনা এখন নাতি-নাতনি নিয়ে ব্যস্ত —কুমার বিশ্বজিৎ
চন্দনা এখন নাতি-নাতনি নিয়ে ব্যস্ত —কুমার বিশ্বজিৎ

<p>যিনি পদ্মা, মেঘনা একপলকে পাড়ি দিতে চান, আবার বলেন, প্রেম তো চরের জমি নয়, কিন্তু নিজেই সারা জীবন প্রেমের জমিতে চাষ করে গেছেন, তিনি ‘চিরসবুজ’ সুদর্শন গায়ক কুমার বিশ্বজিৎ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবির বকুল।</p><p><strong>আপনি যাকে পুতুলের মতো সাজিয়ে হৃদয়ের কোটরে রাখতে চাইলেন, সে এখনো কোটরে আছে তো? নাকি বের হয়ে বলছে ‘আমি পুতুল না, মানুষ!’</strong></p><p>আছে, আছে! কোটরেই আছে। বের হইতে চায়, আমি বলি ‘ভাড়া দাও’! কোটরের ভাড়া এখন অনেক!</p><p><strong>‘যেখানে সীমান্ত তোমার, সেখানে বসন্ত আমার...’, সীমান্তে বসন্ত! কেমনে কী?</strong></p><p>ওইটা মনের সীমান্ত! পাসপোর্ট–ভিসা লাগে না। ভালোবাসার সীমান্তে সব সময় বসন্ত। বিজিবি আটকাবে না!</p><p><strong>‘চন্দনা গো, রাগ কোরো না...’, এই চন্দনা কে?</strong></p><p>চন্দনা হলো আমার গানের নায়িকা। ৪০ বছর ধরে খুঁজছ? পাবে না। কারণ, চন্দনা এখন নাতি-নাতনি নিয়ে ব্যস্ত!</p><p><strong>‘ও ডাক্তার, আপনি যখন করবেন আমার ওপেন হার্ট সার্জারি...’, সার্জারি করে ডাক্তার সেই রূপসীকে পেয়েছিলেন, নাকি অপারেশন সাকসেসফুল হয়নি?</strong></p><p>অপারেশনের পর ডাক্তার বললেন, ‘আপনার রোগ প্রেম না, গ্যাস্ট্রিক! রোজ রোজ তৈলাক্ত খাবার খান, তাই বুক জ্বলে!’ আমি তখন গাইলাম, ‘অন্তর জ্বলে রে জ্বলে, তখন আরও বেশি বেশি জ্বলে।’</p><p><strong>‘যারে ঘর দিলা, সংসার দিলা রে, তারে বৈরাগী মন কেন দিলা রে’, সংসার ভালো লাগে না নাকি হোম মিনিস্টার (বউ) বকা দেয়? নাকি, গ্যাস বিল, কারেন্ট বিলের জ্বালায় বৈরাগী হতে ইচ্ছা করে?</strong></p><p>এটা আমার কমপ্লেইন না, এটা পৃথিবীর সব বিবাহিত পুরুষের কমপ্লেইন! ঘর আছে, সংসার আছে, বাজার করতে হয়, বাচ্চার স্কুলের বেতন দিতে হয়...তখন মনে হয়, বৈরাগী হয়ে হিমালয়ে চলে যাই! কিন্তু যখনই বৈরাগী হতে যাব, তখনই মনে পড়ে হিমালয়েও তো ঠান্ডা, কম্বল লাগবে, কম্বলের টাকা কই পাব?</p><p><strong>‘তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে ফুল নিতে আসতে...’, এখনকার ফ্ল্যাট–সংস্কৃতির যুগে থাকে সর্বোচ্চ একটা ছোট বারান্দা। যদি কেউ বিকেলে বারান্দায় মানিপ্ল্যান্টের পাতা বা মরিচগাছ থেকে মরিচ চুরি করতে আসে, তাকে নিয়ে কি এমন রোমান্টিক গান লেখা সম্ভব?</strong></p><p>তখন গানের লিরিকটা একটু বদলে যাবে! ‘তুমি রোজ বিকেলে আমার বারান্দায় টবের মরিচ নিতে আসতে, জানি না তুমি মরিচ না, ঝাল খেতে বেশি ভালোবাসতে!’ </p><p><strong>‘আমি সাম্পানে বান্ধিব ঘর, তুমি সাথি হলে...’, এখন কী অবস্থা?</strong></p><p>সাম্পান আছে, কিন্তু ঘর নাই। ঘর এখন পদ্মা সেতুর নিচে চলে গেছে! এখন ফ্ল্যাটে থাকি, সাম্পানটা স্মৃতি হিসেবে রেখেছি।</p><p><strong>আপনার ডাক নাম ‘তুলতুল’। ছোটবেলায় আপনার মা আপনার ওপর রাগ করলে কি ‘তুলতুল’ই ডাকত, নাকি সেটা হয়ে যেত ‘টুলটুল’। আর আপনার কাছে মনে হতো কোনো মিউজিক্যাল ‘টুলস’ বা বাদ্যযন্ত্র।</strong> </p><p>রেগে গিয়ে কেউ ‘টুলটুল’ ডাকলে কোনো বাদ্যযন্ত্রের কথা মনে আসত না, মনে হতো আমি নিজেই একটা টুল (Tool), যা দিয়ে আজকে মার খাওয়ার পিঁড়ি তৈরি হবে! তবে নামটা বেশ আদুরে, মিষ্টি। নামটা শুনলে কারও মনেই বেশিক্ষণ রাগ থাকে না।</p><p><strong>আপনি তো এখন কানাডায় থাকেন। ঢাকার যানজট আর গাড়ির হর্ন কি খুব মিস করেন?</strong> </p><p>সত্যি বলতে, কানাডার নীরবতার মধ্যে যখন খুব একা লাগে, মনে হয় কোনো বিস্তীর্ণ সুনসান বিরান ভূমিতে চলে যাই। চিৎকার করে কাঁদি। এই সময় মাকে খুব মিস করি, আর তখন একা একা নিজের গানটাই গুনগুন করি, ‘মায়ের মমতা ছাড়া কে থাকে ভালো’।</p> <p><em>[এই সাক্ষাৎকার কাল্পনিক নয়!]</em></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/gkkl45c15t">টেসলা গাড়ি আমাকে দেখে মনে মনে হয়তো বলে, ‘পরের জন্মে মাল্টা হব!’ — মি. মাল্টা</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/3y37khdj9g">আপনি কত বড় মিথ্যাবাদী?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/3fbuod5lle">উগান্ডার হুইপের ফেসবুক প্রোফাইল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/m9eme7ddwo">বেরেক কাম করে না!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hik3yizsq8">সিনেপ্লেক্সে একদিন </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/tnsdadk1at">সড়কপথে বিমানের ছোঁয়া </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/wio8c5i398">আরও যা যা ফাঁস হতে পারে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bvavx49d33">Breaking Good</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/9yko8mw3h1">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/j2xtgsfcge">আমি ভুল করিনি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6dfwgsqw20">Lieসেন্স</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u86yf3kq5z">অজুহাতের কামব্যাক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6ivlyjbko1">চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন</a></aside>

নভেম্বর ১, ২০২৬
শারীরিক–মানসিক নির্যাতনের কারণেই কি সালমান–ঐশ্বরিয়ার প্রেম ভেঙে যায়
শারীরিক–মানসিক নির্যাতনের কারণেই কি সালমান–ঐশ্বরিয়ার প্রেম ভেঙে যায়

একসময় বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রেমিক যুগল ছিলেন সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাই। কিন্তু ভালোবাসার সেই গল্প শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় তিক্ত বিচ্ছেদে।

নভেম্বর ১, ২০২৬
আবু ইসহাক: প্রান্তিক জীবনের দরদি রূপকার
আবু ইসহাক: প্রান্তিক জীবনের দরদি রূপকার

সূর্য–দীঘল বাড়ীতে পাঠকেরা নিজেদের গ্রামকেই দেখতে পেয়েছিলেন, পেয়েছিলেন চলতি পথে যাদের চোখে পড়ে তাদের দেখাও। তবে এ–ও সত্যি, এই উপন্যাস সব পাঠকের জন্য নয়।

নভেম্বর ১, ২০২৬
আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ছক, কী চায় ইসরায়েল
আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ছক, কী চায় ইসরায়েল

<p>গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা বর্তমানে একধরনের সাময়িক বিরতিতে রয়েছে, তবে শেষ হয়ে যায়নি। বড় ধরনের সামরিক অভিযান থমকে আছে, কূটনৈতিক আলোচনা স্তব্ধ হয়ে আছে এবং উভয় পক্ষই পরবর্তী ধাপের সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। </p><p>কেন এই যুদ্ধ আবারও শুরু হতে যাচ্ছে, তা বুঝতে হলে যুদ্ধ শুরু করা দুই সরকারের আসল উদ্দেশ্য জানা প্রয়োজন। তাদের কেউই শান্তি চায় না। ইসরায়েলের নেতৃত্ব চায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় বিশ্বে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে। কেবল এই লক্ষ্যগুলোর কথা উল্লেখ করাটাই প্রমাণ করে যে উভয় সরকারই মোহ বা বিভ্রান্তির জগতে বসবাস করছে।</p><p>ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই ধারণায় আচ্ছন্ন যে ইসরায়েলের টিকে থাকা নির্ভর করছে আরব বিশ্বের ওপর তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব স্থাপন ও ফিলিস্তিনি জনগণকে স্থায়ীভাবে দমন করা বা নির্মূল করার ওপর। </p><p>এই বিশ্বাসটি একধরনের সম্মিলিত উন্মাদনা ছাড়া কিছুই নয়, অথচ এই নীতিই বর্তমানে ইসরায়েলের রাষ্ট্র পরিচালনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ইসরায়েলের নেতারা এটা মেনে নিতে পারছেন না যে শান্তি সত্যিই নাগালের মধ্যে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/3cbfwox2x5">ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/pdlgjfknng">সামনে বড় সুযোগ, কাজে লাগাবে কি ইরান</a></aside><p>২০০২ সালের ‘আরব পিস ইনিশিয়েটিভ’-এ আরব দেশগুলো ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিনিময়ে ইসরায়েলকে পূর্ণ স্বাভাবিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সেই প্রস্তাব এখনো বহাল রয়েছে। </p><p>কিন্তু গাজায় গণহত্যা চালিয়ে কিংবা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে ও তাদের নিজ ভূমি থেকে উৎখাত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। অথচ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পথটিকেই বেছে নিয়েছেন এবং তিনি এখন তাঁর ‘জাতীয় ধর্মীয়’ মিত্রদের নিয়ে প্রকাশ্যে এই প্রচার চালাচ্ছেন—যার মধ্যে ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোটরিচের মতো চরমপন্থীরা রয়েছেন, যাঁরা ঘৃণা ছড়ানো ও মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে ধর্মের বিকৃতি ঘটাচ্ছেন।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রাস করেছে তার ক্ষমতার ক্রমাবনতি। গত ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে ইরান আমেরিকার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে আছে। ১৯৫৩ সালে সিআইএ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ইরানের তেল সম্পদ জাতীয়করণের অপরাধে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে উৎখাত করেছিল। </p><p>এরপর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে শাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯৭৯ সালে ইরানি জনগণ তাঁকে উৎখাত না করা পর্যন্ত তাঁর পেটোয়া পুলিশি রাষ্ট্রকে সমর্থন জানিয়েছিল।</p><blockquote>কেন এই যুদ্ধ আবারও শুরু হতে যাচ্ছে, তা বুঝতে হলে যুদ্ধ শুরু করা দুই সরকারের আসল উদ্দেশ্য জানা প্রয়োজন। তাদের কেউই শান্তি চায় না। ইসরায়েলের নেতৃত্ব চায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় বিশ্বে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে। কেবল এই লক্ষ্যগুলোর কথা উল্লেখ করাটাই প্রমাণ করে যে উভয় সরকারই মোহ বা বিভ্রান্তির জগতে বসবাস করছে। </blockquote><p>মার্কিন আধিপত্যের হাত থেকে ইরান বেরিয়ে যাওয়ার অপরাধকে ওয়াশিংটন কখনো ক্ষমা করেনি। ১৯৮০-এর দশকে ইরানের বিরুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেয় এবং পরবর্তী সময়ে চার দশক ধরে অর্থনৈতিক যুদ্ধ, গোপন অভিযান, সাইবার হামলা ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালায়।</p><p>ট্রাম্প ২০১৮ সালে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে বোমাবর্ষণ করেন এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে উন্মুক্ত যুদ্ধে যোগ দিয়ে প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেন।</p><p>ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের এই অতি-মনোযোগ আসলে মার্কিন আধিপত্য রক্ষার স্বার্থেই। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত ‘দ্য গ্র্যান্ড চেসবোর্ড’ বইতে জেবিগনিউ ব্রজেজিনস্কি ইরানকে পাঁচটি ‘ভূরাজনৈতিক স্তম্ভের’ একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন—যে রাষ্ট্রগুলোর গুরুত্ব তাদের নিজস্ব ক্ষমতার চেয়ে তাদের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বেশি। ইরান পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে।</p><p>ব্রজেজিনস্কি লিখেছিলেন, চীন, রাশিয়া ও ইরানের একটি ‘আধিপত্যবিরোধী’ জোট কেবল তখনই তৈরি হতে পারে ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে চীন এবং ইরানকে প্রতিপক্ষ বানানোর মতো অদূরদর্শী ভুল করে।’ দুর্ভাগ্যবশত ওয়াশিংটন ঠিক সেই অদূরদর্শী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজটিই করেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/rqaun7et00">ইরান যুদ্ধ যেভাবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরকে আরও সংকটে ফেলে দিয়েছে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/ig3vm8h24n"> ইরান যেভাবে যুদ্ধরীতির ধরন বদলে দিল</a></aside><p>যুদ্ধ যে আবার শুরু হতে যাচ্ছে তার লক্ষণগুলো মোটেও গোপন নয়। এ সপ্তাহে যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফর করে আবার যৌথ হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং ইসরায়েলি সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্র ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো।</p><p>হোয়াইট হাউস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে নভেম্বরের ৩ তারিখের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণ করবে না—যার অর্থ আসলে যুদ্ধের একটি সময়সূচি ঘোষণা করে দেওয়া। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ ইতিমধ্যে ১০০ দিন অতিক্রম করেছে। </p><p>গত সেপ্টেম্বরে ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যদিও তেহরান জানিয়েছে যে সেই প্রস্তাব এখনো টেবিলে রয়েছে।</p><p>২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন আগুনে আরও ঘি ঢেলে দিয়েছে। ১৮ অক্টোবর ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়ে বলেছিলেন যে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘কাজ শেষ করতে পারবে’। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-07-05/kvsnblls/6.avif"><figcaption>ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকীতে তেহরান অস্ত্র প্রদর্শন করে</figcaption></figure><p>২১ অক্টোবর ডিমোনায় (যেখানে ইসরায়েল গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছিল) এক সমাবেশে নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন যে ইরানি হুমকি দূর করার একমাত্র উপায় হলো সেদেশের সরকার উৎখাত করা এবং তিনি নাকি ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনী, মোসাদ ও নিরাপত্তা সংস্থাকে সেই নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন।</p><p>ইরান স্বাভাবিকভাবেই এর থেকে নিজের সিদ্ধান্ত টেনে নিয়েছে। তাদের কমান্ডাররা এক নতুন প্রতিরোধমূলক নীতি ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আগাম হামলা ও ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করার হুমকি। তাঁরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে নতুন করে হামলা শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট তৈরি করবে। চলতি মাসে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।</p><p>এটিই সেই নির্মম বাস্তবতা, যার মুখোমুখি এখন আরব বিশ্ব—বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো। সমগ্র উপসাগরে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এই যুদ্ধে নিরাপত্তা আনতে পারেনি; বরং তারা স্বাগতিক দেশগুলোকে আক্রমণকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/09pdufpxmy">ইরান নিয়ে যে চিঠি পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীদের মুখোশ আবারও খুলে দিল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/a0id6olq4k">যুদ্ধের ধাক্কা সামলে কীভাবে টিকল ইরান </a></aside><p>‘ভাগ করো এবং শাসন করো’—মার্কিন-ইসরায়েলি এই কৌশলে ইরানকে অঞ্চলের স্থায়ী শত্রু বানিয়ে আরব দেশগুলোকে মার্কিন ক্ষমতার ছায়াতলে আশ্রয় নিতে ও ইসরায়েলি আধিপত্য মেনে নিতে বলা হয়েছিল।</p><p>এর পরিণতি হিসেবে অঞ্চলে যুদ্ধ নেমে এসেছে, উপসাগরীয় দেশগুলো অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননে গণহারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে।</p><p>এই উন্মাদনা বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো আরব বিশ্বের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এক বাক্যে জানিয়ে দেওয়া যে ‘অনেক হয়েছে, আর নয়’। আরব দেশগুলোর স্পষ্ট ঘোষণা করা উচিত যে তারা কখনো ইসরায়েলি আধিপত্য মেনে নেবে না, একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতেই হবে এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করে নয়, বরং আঞ্চলিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই আসবে। </p><p>এর সমাধান হতে পারে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক নীতি (যেমনটা আরব পিস ইনিশিয়েটিভে রয়েছে) অথবা একটি দ্বিজাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, কিংবা একটি কনফেডারেশন। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-07-05/yh6kfqwf/4.-2026-07-05T121848Z1353295327RC2O7MANZON9RTRMADP3IRAN-CRISIS-KHAMENEI.JPG"><figcaption>ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে চলছে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান</figcaption></figure><p>মূলকথা হলো ইসরায়েলি ইহুদি এবং ফিলিস্তিনি আরব—উভয় পক্ষের প্রায় ৮০ লাখ মানুষকে শান্তি, নিরাপত্তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার নিয়ে বসবাস করতে দিতে হবে। যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তা হলো ইসরায়েলের এই নির্মম বর্ণবাদী (অপার্থাইড) শাসনকে চিরস্থায়ী করা।</p><p>এর সূচনা ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। কাতার ‘উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ’ (জিসিসি) ভুক্ত দেশসমূহ, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি আঞ্চলিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। কাতার, পাকিস্তান ও ওমান যুদ্ধের সময়জুড়েই তেহরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার পথ খোলা রেখেছে।</p><p>এই প্রচেষ্টাগুলোকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে রূপ দেওয়া উচিত, যার মধ্যে ইরান, উপসাগরীয় দেশগুলো, মিসর, তুরস্ক, ইরাক ও পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই কাঠামোটি পারস্পরিক অনাগ্রাসন, অবাধ নৌ চলাচল এবং একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হবে—যেখানে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকেও অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।</p><p>আরব দেশগুলোর হাতে যতটা দর–কষাকষির ক্ষমতা রয়েছে, তা তারা নিজেরাও হয়তো অনুধাবন করতে পারছে না।</p><p>যদি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং তাদের প্রতিবেশীরা ঘোষণা করে যে তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা স্থগিত থাকবে—তবে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হিসাব-নিকাশ দ্রুত বদলে যেতে বাধ্য।</p><p>আর আমেরিকার সাধারণ জনগণ, যারা ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পছন্দ করে না এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে রয়েছে, তারা একে স্বাগত জানাবে।</p><p>আমেরিকার নেতৃত্বে ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’ নীতির যুগ—যেখানে ইরানকে আরব বিশ্বের স্থায়ী শত্রু বানিয়ে রাখা হয়েছিল—তার অবসান ঘটেছে, যদিও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তা স্বীকার করতে অস্বীকার করছে।</p><p>পরবর্তী ধাপের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই আরব দেশগুলোর উচিত প্রকাশ্যে এই সত্য ঘোষণা করা এবং তা করার মাধ্যমেই তারা একটি নিজস্ব নিরাপদ ও শান্তিময় অঞ্চলের পথ প্রশস্ত করতে পারে।</p><ul><li><p><strong>জেফরি ডি স্যাক্স</strong> কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের পরিচালক। <strong>সিবিল ফারেস</strong> জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্কের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাবিষয়ক উপদেষ্টা। <em>আল-জাজিরা</em> থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>

নভেম্বর ১, ২০২৬
অনৈতিক আচরণ শনাক্ত হলে গোপনে কথোপকথন পর্যালোচনা করবে ক্লড
অনৈতিক আচরণ শনাক্ত হলে গোপনে কথোপকথন পর্যালোচনা করবে ক্লড

ক্লডের প্রতিটি উত্তর তৈরির পরই নেপথ্যে কথোপকথনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়। এ জন্য চ্যাটবটটিকে নিজের তৈরি উত্তরসহ পুরো কথোপকথন পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নভেম্বর ১, ২০২৬
কুশিগাঙের শীর্ণ দশা
কুশিগাঙের শীর্ণ দশা

<p>একসময় উত্তর-পূর্ব সিলেটের যোগাযোগ ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছিল কুশিগাঙ। জৈন্তাপুরের হরিপুর এলাকার হাওর থেকে উৎপত্তি হয়ে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নদীটি মিশেছে সিলেট নগরের কুশিঘাট এলাকার সুরমা নদীতে। কৃষি, সেচ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এই নদী এখন তীব্র অস্তিত্বসংকটে। দখল আর ভরাটে বিভিন্ন স্থানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে এর গতিপথ। বর্ষায় নদীতে কিছুটা পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে কুশিগাঙের অধিকাংশ জায়গা রূপ নেয় সরু নালায়। শুকিয়ে যাওয়া নদীর বুকে অলস পড়ে থাকে জেলেদের নৌকা, কোথাও কোথাও দুই পাড় ছাপিয়ে নদীর বুকেই চলছে শাকসবজির চাষ। সম্প্রতি সিলেট নগরের কুশিঘাট এলাকা ঘুরে ছবিগুলো তোলা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/3yjiwkgj/1.-SylhetKushiyara-Riverimportant-waterwaycommunicationtradesilted-up01112026.JPG"><figcaption>কুশিগাঙে এখন আর আগের মতো পানি নেই; অলস পড়ে আছে মাছ ধরার নৌকা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/8w47dk9s/2.-SylhetKushiyara-Riverimportant-waterwaycommunicationtradesilted-up01112026.JPG"><figcaption>নদীতে পানি না থাকায় মাছ ধরা বন্ধ, তীরে গুটিয়ে তুলে রাখা হয়েছে জাল</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/vus7cw1n/3.-SylhetKushiyara-Riverimportant-waterwaycommunicationtradesilted-up01112026.JPG"><figcaption>শুষ্ক মৌসুম এলেই প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে কুশিগাঙ</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/a1ljs48u/4.-SylhetKushiyara-Riverimportant-waterwaycommunicationtradesilted-up01112026.JPG"><figcaption>নদীর হাঁটুসমান পানিতে খাবারের সন্ধানে নেমেছে হাঁসের দল</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/ysffwcw1/5.-SylhetKushiyara-Riverimportant-waterwaycommunicationtradesilted-up01112026.JPG"><figcaption>পানি শুকিয়ে নদী রূপ নেয় নালার আকৃতি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/ijxm0gfo/6.-SylhetKushiyara-Riverimportant-waterwaycommunicationtradesilted-up01112026.JPG"><figcaption>পাড়েই বেঁধে রাখা হয়েছে নৌকাগুলো</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/44c19xjf/7.-SylhetKushiyara-Riverimportant-waterwaycommunicationtradesilted-up01112026.JPG"><figcaption>শীর্ণ হয়ে আসা কুশিগাঙ পারাপারের জন্য তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/1dbq4e1z/8.-SylhetKushiyara-Riverimportant-waterwaycommunicationtradesilted-up01112026.JPG"><figcaption>নদীর অগভীর পানিতে একদৃষ্টিতে মাছ শিকারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে একটি কানি বক</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/jsg2ksqh/9.-SylhetKushiyara-Riverimportant-waterwaycommunicationtradesilted-up01112026.JPG"><figcaption>দুই তীরের বালুচর আর সরু জলধারা নিয়ে কোনোমতে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে কুশিগাঙ</figcaption></figure>

নভেম্বর ১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।