রেফারিদের নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ টিভির প্রচার এবং ক্লাবটির নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিতর্কের সূত্রপাত করেন তেবাসই।
<p>চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদের গুজবে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ শুক্রবার দুপুরে আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।</p><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের বলতে শোনা যায়, ‘নিজের টাকা দিয়ে জায়গা কিনেছি, সেই জায়গা ফেরত চাই।’ ভিডিওতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।</p><p>এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে যান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। এ সময় নারীসহ একদল বাসিন্দা প্রচারপত্র হাতে সেখানে জড়ো হন। সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য তাঁদের কেনা জমি ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাঁরা প্রতিবাদ জানান।</p><p>জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার সেখানে যাওয়া হয়। তবে সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনের লোকজন এলাকায় গুজব ছড়ান যে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে সরকারি লোকজন এসেছেন। এ গুজবে বিশ্বাস করে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করেন।</p><p>পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাসিন্দাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি সরকারি প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর যাঁরা খাসজমিতে বসবাস করছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে সরকার উচ্ছেদ করবে না। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে বলে দাবি করেন তিনি।</p><p>৮ অক্টোবর সচিবালয়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাজশাহীর সারদার আদলে সেখানে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেখানে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) স্থাপনা নির্মাণের জন্য জায়গা নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।</p>
<p>হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যে সময়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, সেই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে তাঁদেরই সমর্থন জানানো উচিত।</p><p>আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনারা আপনাদের বিবেকের কাছেই দায়ী থাকবেন। যে সময় সবচাইতে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করবেন, নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা ভোগ করবেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাবেন, সর্বোচ্চসংখ্যক ছুটির দিবস পাবেন, সর্বোচ্চ আনন্দ ভোগ করবেন, সেখানে আপনাদের সর্বোচ্চ সমর্থনও থাকবে বলে আমরা আশা করতে পারি।’</p><p>বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এবার আমাদের সংখ্যার দিক থেকে সর্বোচ্চ পূজামণ্ডপ, এবার সর্বোচ্চ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটিও এবার, সর্বোচ্চ আনন্দ উৎসবও এবার, ভোটও হয়েছে সর্বোচ্চ এবার, তবে আবারও হবে। লাস্টেরটা রাজনৈতিক কথা বললাম, আপনারা সবাই বুঝে গিয়েছেন।’ অতীতে অনেকে হিন্দুদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সিটিজেন (নাগরিক) হিসেবে, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে, আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন আপনারা কোন সময়ে, কোন গণতান্ত্রিক সময়ে, আপনাদের সকল গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে, বিচার আপনাদের।’</p><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে, যা তাঁদের হৃদয়ের খুব কাছের। তাই প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর উচিত অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সরকার এ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব যেন স্বাধীনভাবে, সুন্দরভাবে ও মহা আনন্দে উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে।</p><p>বনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আয়োজকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জানতে পেরেছেন অনেকে এই মণ্ডপকে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ পূজামণ্ডপ বলে থাকেন। দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান, আবহ ও নকশায় যেভাবে এটি সাজানো হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকসহ সবার মঙ্গল, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন।</p><p>অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আজকে পুরো দেশে উদ্যাপন হচ্ছে। এই উদ্যাপনে আমাদের দুর্গা মা মনে করিয়ে দেয় যে সবচেয়ে কঠিন অন্ধকার রাতের পরে কিন্তু আলোর জয় হয়। এই জয় অনেক দিন ধরে আঁধার রাজনৈতিক সময় কাটিয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশি হিসেবে জয়ী হয়েছি, দেশকে উদ্ধার করেছি।’</p><p>বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘দুর্গাপূজার মূল বিষয় মা দুর্গা ১০টি হাত দিয়ে অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য দূর করেন। বাংলাদেশ পুলিশও এই একই কাজ করে। আমরা চাই দেশে শান্তি।’</p><p>অনুষ্ঠানে নেপাল, ভ্যাটিকান, সুইডেন, নরওয়ে, ক্যামেরুনসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও দুর্গাপূজা উদ্যাপনে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন। কেউ কেউ বাংলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বনানী ও গুলশান সোসাইটির সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p>প্রথম আলো ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে চলছে 'স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬'। ফেয়ার উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে সরাসরি ফেসবুক লাইভ: উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখো, বিশ্বজুড়ে...।<br><br>পর্ব: ০৩<br><br>অতিথি<br>তাহনী ইয়াসমিন<br>ডিরেক্টর, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, ব্রিটিশ কাউন্সিল<br><br>মো. রাকিব<br>ভিপি অ্যান্ড হেড অব ব্যাংকাসুরেন্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট ব্যাংকিং, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি<br><br>উপস্থাপক<br>তমা রশিদ</p><figure></figure>
<p>চট্টগ্রাম নগর থেকে মাত্র ১ থেকে ২ মিনিটে মোটরসাইকেল চুরি করে বিভিন্ন জেলায় মজুত রাখত একটি চক্র। চারজনকে গ্রেপ্তারের পর আটটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছবিটি। শুরুতে বড় কোনো প্রচারণা কিংবা তারকানির্ভর আয়োজন ছাড়াই যাত্রা শুরু করলেও দর্শকের আগ্রহে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে প্রদর্শনীর সংখ্যা।
পিয়ারুল সরদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারিপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে।
এখন পর্যন্ত ১৫টি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে বাংলাদেশ কেবল একটিতে ট্রফি হাতে তুলতে পেরেছে। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় তারা।
<p>যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটের (এসিআই) শরৎকালীন মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় সামগ্রিকভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একটি দল। গত রোববার এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।</p><p>বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) একটি দল সামগ্রিকভাবে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। এসিআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের এই দুটি দল সব মিলিয়ে চারটি পুরস্কার পেয়েছে।</p><p>প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের এমন একটি বালু-সিমেন্ট মিশ্রণের নকশা করতে হয়, যা দ্রুত প্রবাহিত হয়, স্থিতিশীল থাকে এবং যার খরচ ও কার্বন নিঃসরণ কম। প্রবাহ, অবক্ষেপণ, কারিগরি প্রতিবেদন, খরচ ও গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়ালের ভিত্তিতে দলগুলোর মূল্যায়ন করা হয়।</p><p>সামগ্রিক দক্ষতায় প্রথম স্থানের পাশাপাশি ব্যয়সাশ্রয়ী নকশা বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে চুয়েট দল। আইইউটি দল পরিবেশবান্ধব নকশা বিভাগে দ্বিতীয় এবং কংক্রিটের নান্দনিকতা প্রতিযোগিতায় বিচারকদের পছন্দে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।</p><p>চুয়েট দলের ফ্যাকাল্টি উপদেষ্টা ছিলেন এসিআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক জি এম সাদিকুল ইসলাম এবং আইইউটি দলের উপদেষ্টা ছিলেন চ্যাপ্টারের সভাপতি মো. তারেক উদ্দিন। এসিআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক ও বুয়েটের অধ্যাপক সাইফুল আমিন আটলান্টায় দলগুলোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।</p><p>চুয়েট দলের সদস্যরা হলেন ফাহাদ আলম, সানি উল হক, রূপম পোদ্দার, তানজিম মুসাররাত তুষিন, মো. সাইজুদ্দিন ফরহাদ, সরূপ চন্দ্র মোদক, সুমাইয়া বিনতে মান্নান ও সৈয়দ মো. আমির হামজা মাহমুদ মাহাদী। আইইউটি দলের সদস্যরা হলেন আরিনা তাহরিন আমিন, রাজিত মুহাম্মদ চৌধুরী, জাসিয়া জুবায়ের, লামিয়া তাবাসসুম, এস এম রাগিব শাহরিয়ার, মো. হুমায়েদ তাহসিন হক, মো. মাহাদী হাসান নিলয় ও মো. জুহায়ের আনজুম।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন