এশিয়া

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা মিয়ানমারের জান্তা প্রেসিডেন্ট কীভাবে প্রতিবেশীদের আনুকূল্য আদায় করছেন

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা মিয়ানমারের জান্তা প্রেসিডেন্ট কীভাবে প্রতিবেশীদের আনুকূল্য আদায় করছেন
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা মিয়ানমারের জান্তা প্রেসিডেন্ট কীভাবে প্রতিবেশীদের আনুকূল্য আদায় করছেন
<p>মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের নেতা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংকে গত সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানায় দেশটির সরকার। তখন দেশটি জোর দিয়ে বলেছিল, এই সফরের অর্থ মিন অং হ্লাইংয়ের সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়। মালয়েশিয়ার এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, দেশটিতে থাকা মিয়ানমারের শরণার্থী ও অভিবাসীদের ‘দীর্ঘদিনের সমস্যা’ সমাধান করাই এ সফরের উদ্দেশ্য।</p><p> কিন্তু গত সপ্তাহে মিন অং হ্লাইং যখন কুয়ালালামপুরে পৌঁছান, তখন তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অভ্যর্থনায় ছিল গার্ড অব অনারও। ২০২১ সালে এই সাবেক সেনাপ্রধানের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা এখনো চলছে।</p><p> গত বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমার সরকার নিজ খরচে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। মালয়েশিয়ায় শরণার্থীবিরোধী মনোভাব বাড়তে থাকায় এ বক্তব্য দেশটির মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।</p><p> মালয়েশিয়ায় মিয়ানমারের প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর সদস্য।</p><p>মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তাঁদের ফিরিয়ে নিতে আমি নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠাব।’</p><p>অন্যদিকে মিয়ানমারকে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানে আবার যুক্ত করতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। ১১ সদস্যদেশের এই আঞ্চলিক জোট মিন অং হ্লাইংকে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে অংশ নিতে দেয়নি। কারণ, তিনি জোটের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেননি।</p><p>‘ফাইভ পয়েন্ট কনসেনসাস’ নামে পরিচিত ওই পরিকল্পনার জোরালো সমর্থক ছিল মালয়েশিয়া। এতে সহিংসতা বন্ধ এবং সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে ‘গঠনমূলক সংলাপের’ আহ্বান জানানো হয়েছে।</p><p>মিয়ানমারে পাঁচ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।</p><p>আনোয়ার ইব্রাহিম সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারকে এই অঞ্চলের দেশগুলোর অংশ হিসেবে ফিরিয়ে নিতে কোনো প্রকার পক্ষপাত ছাড়াই মালয়েশিয়া সম্ভাব্য সবকিছুই করবে। বিশেষ করে আসিয়ানের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।</p><p>গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মিন অং হ্লাইংয়ের সফর করা পঞ্চম আসিয়ান দেশ মালয়েশিয়া। এর আগে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট হন। ওই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস সফর করেছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/asia/3t5awqso8c">মিয়ানমারের ১০ হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া </a></aside><p>মালয়েশিয়া সফর শেষে দেশে ফেরার পর মিন অং হ্লাইংয়ের মুখপাত্র জানান, পরবর্তী সফরের গন্তব্য হতে পারে ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেই।</p><p>ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের এশিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অনারারি গবেষণা সহযোগী ব্রিজেট ওয়েলশ বলেন, ‘মিন অং হ্লাইংকে নিয়ে মালয়েশিয়ার এই অবস্থান বদল জান্তা সরকারের বিরোধিতার যে দেয়াল ছিল, তা ভেঙে দিয়েছে।’</p><p>ব্রিজেট ওয়েলশের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও যেসব আঞ্চলিক নেতা মিন অং হ্লাইংকে স্বাগত জানিয়েছেন, তাঁরা মানবাধিকারের চেয়ে বাস্তববাদী স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।</p><p>ওয়েলশ বলেন, বিষয়টি আসিয়ান ও মিয়ানমার—উভয়ের জন্যই নেতিবাচক। এই সফর মিয়ানমার সংকট সমাধানের কোনো বাস্তব পথ দেখাচ্ছে না। উল্টো আন্তর্জাতিকভাবে সামরিক জান্তাকে একধরনের বৈধতা দিচ্ছে, যা খোদ মিয়ানমারের ভেতরেই তাদের নেই। ফলে এই সংকট আরও বাড়তে পারে।</p><h3>নিজেদের সুবিধাই সবার আগে </h3><p>মিন অং হ্লাইংয়ের এই গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এপ্রিলের পর থেকে তিনি ভারত, চীন, রাশিয়া ও বেলারুশ সফর করেছেন। প্রতিটি সফরেই তিনি তাঁর সরকারকে স্থিতিশীল এবং ‘গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলেছে’ বলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি বাণিজ্য ও অবকাঠামো খাতে চুক্তির প্রস্তাবও দিয়েছেন।</p><p>এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এখন জান্তা প্রধানের জন্য আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।</p><p>বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত সপ্তাহে জানিয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তাঁর সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে।</p><p>২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো যে নির্মম নির্যাতনের কারণে সাত লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনাকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছিল। সেই জান্তা সরকারের সঙ্গেই এখন আলোচনায় বসছে ওয়াশিংটন।</p><p>রয়টার্স জানায়, মিয়ানমার থেকে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণা চক্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করতেই মূলত এ আলোচনা চলছে। এসব চক্রের ফাঁদে পড়ে মার্কিনরা শতকোটি ডলার হারিয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/9rydz3ur/Myanmar-nationals.avif"><figcaption>দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় বাসের ভেতরে মিয়ানমারের নাগরিকেরা। মালয়েশিয়ার লুমুত। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬</figcaption></figure><p>ইয়াঙ্গুনের তামপাদিপা ইনস্টিটিউটের পরিচালক খিন জও উইন বলেন, আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার এ লড়াইয়ে মিন অং হ্লাইংকে পরোক্ষভাবে সাহায্য করছে চীন, ভারত ও থাইল্যান্ড। এই তিন দেশের সঙ্গেই মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। আর মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের আঁচ ওই তিন দেশেও লেগেছে। যেমন সীমান্তে সংঘর্ষ, বাণিজ্য বন্ধ হওয়া এবং নতুন করে শরণার্থীর অনুপ্রবেশ।</p><p>খিন জও উইন আরও বলেন, মিয়ানমারের ভবিষ্যতের সঙ্গে ওই তিন প্রতিবেশী দেশের সবচেয়ে বেশি স্বার্থ জড়িত। তাই তারা চায় সামরিক জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাক। অন্যদিকে রাশিয়া ও বেলারুশ হলো মিয়ানমারের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। বিনিময়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। সব মিলিয়ে এখানে প্রত্যেকেই আসলে নিজেদের সুবিধার বিষয়টি মাথায় রেখে খেলছে।</p><p>ক্রমবর্ধমান এই কূটনৈতিক স্বীকৃতি কিন্তু মিয়ানমারের ভেতরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে কোনো ভূমিকা রাখছে না। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শান্তি আলোচনার জন্য ডাকলেও দেশের বড় অংশজুড়ে এখনো যুদ্ধ চলছে।</p><p>রাখাইন, চিন, কাচিন, কারেন রাজ্য ও সাগাইং অঞ্চলে বিদ্রোহী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে হারানো এলাকা ফিরে পেতে জান্তা বাহিনী নতুন করে বড় অভিযান শুরু করেছে। বিমান হামলা বাড়িয়ে এবং জোরপূর্বক হাজার হাজার তরুণকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিয়ে তারা শক্তি সঞ্চয় করেছে। এমনকি চীন নিজেদের সীমান্তে যুদ্ধ থামাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করে দিয়েছে।</p><p>তবে নেদারল্যান্ডসের সাবেক কূটনীতিক লেটিটিয়া ভ্যান ডেন অ্যাসুম মনে করেন, জান্তা বাহিনীর পক্ষে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া অসম্ভব। তিনি বলেন, ‘এর জন্য বিশাল সেনাবাহিনীর প্রয়োজন। বর্তমানে তাদের যে সেনা রয়েছে, তা দিয়ে কেবল নির্দিষ্ট কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ কারণেই মিন অং হ্লাইং দেশের কিছু অংশে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে সেখান থেকে সেনা সরিয়ে অন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো যায়।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/asia/xh5ed1wkqc">রাখাইনের বাজারে প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা ফলকার টুর্কের</a></aside><p>ভ্যান ডেন অ্যাসুম আসিয়ান দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যে জান্তা প্রধানের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, তাঁর সঙ্গেই আসিয়ান দেশগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করছে। এটি বেশ অবাক করার মতো বিষয়।</p><p>মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। ফলে জান্তা সরকার আদৌ তাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া রোহিঙ্গাদের মূল ভূখণ্ড রাখাইন রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকাই এখন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে রোহিঙ্গারা ফিরে কোথায় যাবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। এ কারণে পুরো বিষয়টি এখনো অত্যন্ত ঘোলাটে বলেই মনে করছেন ভ্যান ডেন অ্যাসুম।</p><h3>কম খরচে প্রচারের বড় সুযোগ </h3><p>মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক মহলকে দেখাতে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন।</p><p>গত আগস্টে থাইল্যান্ড সফরের ঠিক আগে তিনি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে (আইসিআরসি) অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেন। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে ৮১ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ীকে সম্পূর্ণ যোগাযোগহীন অবস্থায় বন্দী রাখা হয়েছিল। ৩ আগস্ট আইসিআরসির সেই সাক্ষাতের মাধ্যমেই বহু বছর পর সু চির প্রথম ছবি জনসমক্ষে আসে।</p><p>তবে সিডনি ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো সাই কি জিন সোয়ে এটিকে একটি ‘কম খরচে বড় প্রচার পাওয়ার লোকদেখানো উদ্যোগ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই সাক্ষাতের মাধ্যমে শুধু নিশ্চিত হওয়া গেছে, অং সান সু চি বেঁচে আছেন, এর বেশি কিছু নয়।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, আসিয়ান নেতারা যখন জান্তা প্রধানের জন্য লালগালিচা বিছাচ্ছেন, তখনো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলা একটুও কমেনি। ২৮ সেপ্টেম্বর রাখাইন রাজ্যের একটি বাজারে বিমান হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হন।</p><p>সাই কি জিন সোয়ে বলেন, ক্রমাগত এই হামলা প্রমাণ করছে, প্রতিবেশীদের এই নরম কূটনীতি জান্তা সরকারকে থামাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।</p><p>সাই কি জিন সোয়ে সতর্ক করে বলেন, বিদেশ সফরের মাধ্যমে পাওয়া স্বীকৃতি সামরিক জান্তাকে আরও বেপরোয়া করে তুলবে। তিনি বলেন, কোনো ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা বাধা না থাকায় এবং চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র ও জ্বালানি পাওয়ায় সামরিক বাহিনী সহিংসতা আরও বৃদ্ধির সাহস পাচ্ছে।</p><p>মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আসিয়ানের বর্তমান ও আগামী দিনের সভাপতি ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের ওপর। এশিয়া হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবার অ্যাডভোকেটসের পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, এ দুই দেশকে অবশ্যই শক্ত অবস্থান নিতে হবে, যেন বাকি দেশগুলোর চাপে মিয়ানমার জান্তা সহজেই আসিয়ানে পুনর্বাসন না পায়।</p><p>যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কেবল আসিয়ানের ওপর ভরসা না করে জান্তা সরকারের ওপর বিমান জ্বালানি নিষিদ্ধ করার মতো সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানান ফিল রবার্টসন। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। তা হতে পারে বিভিন্ন দেশের নিজস্ব আইনে মামলা চালানোর মাধ্যমে অথবা মিয়ানমারের জেনারেলদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের জন্য পাঠানোর বিষয়ে অগ্রগতির মধ্য দিয়ে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/asia/ci7spppudg">মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর</a></aside>

Prothomalo

View more
র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকায় উপশাখা খুলেছে ট্রাস্ট ব্যাংক
র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকায় উপশাখা খুলেছে ট্রাস্ট ব্যাংক

ট্রাস্ট ব্যাংক গ্রাহকদের আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজলভ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করে চলেছে।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
পর্যটকদের জন্য তিন্দু সড়ক বন্ধ ঘোষণা, নয়নাভিরাম এ জায়গায় যেতে হবে বাড়তি পথ ঘুরে
পর্যটকদের জন্য তিন্দু সড়ক বন্ধ ঘোষণা, নয়নাভিরাম এ জায়গায় যেতে হবে বাড়তি পথ ঘুরে

আলীকদম-থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে তিন্দুবাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি থানচি-তিন্দু সড়ক নামে পরিচিত। এটি দিয়ে বড় পাথর, রেমাক্রী ও নাফাখুমে যাওয়া যায়।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
নাসার স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে অদ্ভুত গর্তের সন্ধান
নাসার স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে অদ্ভুত গর্তের সন্ধান

<p>অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে লুকিয়ে থাকা বিশাল আকারের অদ্ভুত এক গর্তের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিম্বার্লি অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় এই গর্তের ছবি তুলেছে নাসার ল্যান্ডস্যাট ৯ স্যাটেলাইট। পায়ের আদলে তৈরি অদ্ভুত গড়নের গর্তটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পাইডার ক্রেটার’। দুর্গম এলাকা হওয়ায় গর্তটির পুরো অংশ কেবল আকাশ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।</p><p>স্যাটেলাইটের তোলা উচ্চ রেজোল্যুশনের ছবি ও খনিজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্পাইডার ক্রেটারটি পর্যবেক্ষণ করে সেখানে প্রাচীনকালে উল্কাপাত হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, অদ্ভুত এই গর্ত মূলত উল্কাপাতের স্থান, যা কোটি কোটি বছর ক্ষয়ের ফলে মাকড়সার মতো আকৃতি ধারণ করেছে। ডিম্বাকৃতির এই গর্ত ৮ বাই ৭ মাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। গর্তের কেন্দ্রে থাকা মাকড়সার মতো অংশটি আকারে প্রায় আড়াই মাইল। পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও প্রাচীন মহাজাগতিক আঘাতের প্রভাব বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নতুন এই অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।</p><p>বিজ্ঞানীরা স্পাইডার ক্রেটার তৈরির কারণ জানতে পারলেও এটি কত কোটি বছর আগে তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ৬০ থেকে ৯০ কোটি বছর আগে এই উল্কাপাত হয়েছিল। স্পাইডার ক্রেটারের কেন্দ্রে বিজ্ঞানীরা শ্যাটার কোন নামের বিশেষ ধরনের ফাটল খুঁজে পেয়েছেন। তীব্র শকওয়েভ পাথরের ভেতর দিয়ে গেলে কেবল এই বিশেষ ফাটল তৈরি হয়ে থাকে।</p><p>গবেষণার প্রধান লেখক বিজ্ঞানী ক্রিস কার্কল্যান্ড বলেন, নর্থ পোল ডোমে আঘাতের ফলে একটি দীর্ঘস্থায়ী ফাটল ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। আদি পৃথিবীতে এ ধরনের প্রক্রিয়া পাথর এবং আদি মহাসাগরের রাসায়নিক আদান–প্রদানকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে খনিজের পরিবর্তন ঘটিয়ে অণুজীব জীবনের জন্য পরিবেশ সংশোধন করতে পেরেছিল। এসব আঘাতের ফলে প্রাচীনকালে জিরকন খনিজ তীব্র উত্তাপে আংশিকভাবে আবার ক্রিস্টাল বা কেলাসে পরিণত হয়েছে।</p><p>সূত্র: ডেইলি মেইল</p>

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
মারজাহানের হাত ধরে কীভাবে বদলে গেল পাতাইপাড়ার ৩০০ নারীর জীবন
মারজাহানের হাত ধরে কীভাবে বদলে গেল পাতাইপাড়ার ৩০০ নারীর জীবন

<p>পাতাইপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র নারীরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। মুষ্টির চাল জমা করা থেকে শুরু করে হস্তশিল্পের কাজে অন্তত ৩০০ নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন মরজাহান ইয়াসমিন। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
কেবল একাডেমিক শিক্ষা নয়, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য: শিক্ষামন্ত্রী
কেবল একাডেমিক শিক্ষা নয়, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য; সরকার এদিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, মৃত্যু ও নিখোঁজের তথ্য নেই পুলিশের কাছে
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, মৃত্যু ও নিখোঁজের তথ্য নেই পুলিশের কাছে

যে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এটির নাম টুপটুপ রিসোর্ট। অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন মারা গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
আজ শনিবার, তবে অফিস খোলা
আজ শনিবার, তবে অফিস খোলা

দুর্গাপূজায় ২০–২২ অক্টোবর ছুটি। তবে তার আগে আজ ১৭ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ইসলামের দৃষ্টিতে বংশের চার পুরুষের ধারণা
ইসলামের দৃষ্টিতে বংশের চার পুরুষের ধারণা

চার নম্বর প্রজন্মে এসে উত্তরসূরিরা দেখতে পায়, তাদের পূর্বপুরুষদের কীর্তিগাথা স্বর্ণের সিংহাসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা ধরে নেয় এই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত খ্যাতি চিরস্থায়ী।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সংসার চালাতে চাটনি বিক্রি করতেন মা, মেয়ে এখন ৬০ কোটি টাকার মালিক
সংসার চালাতে চাটনি বিক্রি করতেন মা, মেয়ে এখন ৬০ কোটি টাকার মালিক

সংসারের খরচ চালাতে নানা কাজ করতেন তাঁর মা। কখনো চাটনি বিক্রি করতেন, কখনো বানাতেন টিফিন।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন