বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণী, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রেমিক
বায়ুদূষণের কারণে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা সৌর প্যানেলের ওপর জমে সূর্যের আলো গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
গবেষকদের হিসাবে, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
<p>আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না। এ আমার চরম অভিজ্ঞতার ফল বলা যায়।</p><p>আমার স্ত্রী হাসপাতালে। আমার জীবন হাসপাতাল, ওষুধ, পরীক্ষা, রিপোর্ট, বিল আর কঠিন টেনশনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। মাথায় সারাক্ষণ মিটিং চলছে—কী হবে, কী করা যায়, এত টাকা কোত্থেকে আসবে, এসব।</p><p>এমন এলোপাথাড়ি অবস্থায় গাড়ির ড্রাইভার ফোন করে অত্যন্ত গম্ভীর মুখে বলল, ‘স্যার, গাড়ির শক অ্যাবজরভার ভেঙে গেছে। গাড়ি রাস্তায় বসে গেছে।’</p><p>আঁতকে উঠে বললাম, ‘বসে গেছে!’</p><p>ড্রাইভার বলল, ‘জি স্যার। একেবারে বসে গেছে।’</p><p>তখন আমার গাড়ির চেয়ে নিজের মাথা বেশি বসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্ত্রী হাসপাতালে, তার ওপর গাড়ি নষ্ট। ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে গেল গ্যারেজে।</p><p>খানিক পরে ফোন এল, ‘স্যার, গাড়ি ঠিক করতে হবে। অনেক কাজ আছে।’</p><p>‘কত?’</p><p>‘৯০ হাজার টাকার কিছু বেশি হবে।’</p><p>ফোন কানে নিয়ে চুপ করে থাকলাম। কানে আর কোনো শব্দ ঢুকছে না। ৯০ হাজার টাকা! বুঝলাম গাড়ির শক অ্যাবজরভার ভাঙলে মানুষের নিজের শকও কম হয় না। শক আরও বেড়ে গেল যখন জানতে পারলাম সেই ৯০ হাজার টাকার ভেতর বড় অংশ আছে ড্রাইভারের কমিশন। এই ঘটনা জানার আগেই গাড়ি মেরামত করা হয়েছে। বিলও পরিশোধ করে দিয়েছি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kh0p6d4yon">মুখস্থবিদ্যার পরিণতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2keo4yxnpt">বন্ধুকে টাকা ধার দেওয়ার আগে আপনি যা করতে পারেন</a></aside><p>হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলাম। গাড়ি দেখে আমার সন্দেহ হলো। গাড়ি অন্য এক গ্যারেজে দেখালাম। দিব্যি আছে গাড়ি! কোনো শক অ্যাবজরভার লাগানো হয়নি। আগেরটাই আছে। গাড়ি কোনোদিন রাস্তায় বসেও যায়নি। আদতে বসে গেছি আমি!</p><p>এই ঘটনার পর সিদ্ধান্ত নিলাম, গাড়ির ব্যাপারে আর কাউকে বিশ্বাস করব না। কিন্তু মানুষের জীবনের সমস্যা হলো, কোনো এক জায়গায় অবিশ্বাস জন্মালে অন্য জায়গায় বিশ্বাস করতেই হয়।</p><p>বাজার থেকে স্ত্রীর জন্য ইলিশ মাছ কিনব। কেনার সময় ইলিশ মাছ দেখে সন্দেহ হলো। আঁশ ছোট ছোট মনে হচ্ছে। মাছওয়ালাকে বললাম, ‘ভাই, ইলিশ ভালো হবে তো?’</p><p>মাছওয়ালা এমন মুখ করলেন, যেন এই ইলিশের সার্টিফিকেট তিনি নিজে লিখে দিয়েছেন। মাছের গায়ে হাত বুলিয়ে বললেন, ‘পদ্মার ইলিশ। চোখ বন্ধ করে নিয়ে যান।’</p><p>চোখ খুলেই মাছ কিনে বাসায় ফিরলাম। ভাবলাম, আজ অন্তত একটা জায়গায় শান্তি পেয়েছি। পদ্মার ইলিশ কিনতে পেরেছি!</p><p>মাছ দেখে স্ত্রী বলল, ‘এটা তো ইলিশ না!’</p><p>চমকে উঠে বললাম, ‘কী!’</p><p>স্ত্রী বলল, ‘সুরমা মাছ। ইলিশের মতো দেখতে।’</p><p>অসহায় চোখে মাছের দিকে তাকালাম। মাছটাও আমার দিকে কাতর চোখে তাকিয়ে আছে। তার চেহারা দেখে মনে হলো, সে নিজেও জানে না তার কী পরিচয়!</p><p>বুঝতে পারলাম, আমার জীবনে সত্য-মিথ্যার সীমারেখা বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হলো। মাথার যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছি। ফার্মেসি থেকে মাথার যন্ত্রণানাশক মহৌষধ ঝান্ডু বাম কিনে আনলাম। </p><p>ঝান্ডু বাম আছে দুই রকমের। লাল রংয়ের ঝান্ডু বাম অনেক শক্তিশালী। কপালে জোরদার ঝান্ডু বাম লাগানোয় উদ্যোগ নিলাম।</p><p>মোচড় দিতেই কৌটার ক্যাপ খোলার আগে তলা খুলে গেল। এ রকম হওয়ার কথা নয়। ভেতরে লাল রঙের জেলির মতো জিনিস। তাতে হালকা কর্পূরের গন্ধ ছাড়া অতিরিক্ত আর কিছু নেই। জেলির মতো এই পদার্থ মাথার যন্ত্রণা কমানোর ক্ষমতা রাখে না, জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে ত্বকে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।</p><p>মাথার দুপাশ শক্তভাবে চেপে ধরে অনেক ক্ষণ চুপচাপ বসে আছি। যন্ত্রণায় মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। বাঁচতে হলে বিশ্বাস হারানো যায় না। বিশ্বাসের জায়গা খুঁজছি। বিশ্বাসের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা মনে হচ্ছে, ‘সন্দেহ’। বুঝতে পারছি, এখন কেবলমাত্র সন্দেহকেই বিশ্বাস করা যায়!</p>
এই মৃত্যুগুলোকে এতটাই স্বাভাবিক করে ফেলেছি যে প্রতিদিন ৪০টি শিশুর মৃত্যু আমাদের বড় কোনো জাতীয় সংকট বলে মনে হয় না?
বেশির ভাগ মানসিক রোগের পেছনে থাকে মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্যহীনতা। ওষুধ এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব সহায়তা চাইলে তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ।
<p>ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর বেঙ্গালুরু, শ্রীনগর ও নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ হয়। নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ। এ সময় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/xiagnpt1/1.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.jpg"><figcaption>বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন ছাত্রসংগঠনগুলোর সমর্থক ও সদস্যরা। বেঙ্গালুরু, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/wa5j77ck/2.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.JPG"><figcaption>প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের আটক করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/yah4z9xh/3.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.JPG"><figcaption>সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে এক আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/nwn2aseb/4.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.JPG"><figcaption>সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে আটকের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের দিকে হাতের ইশারা করছেন এক আন্দোলনকারী। নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/c3oz11v8/5.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.JPG"><figcaption>সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের আটক করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/drsevz2g/6.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.JPG"><figcaption>সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে এক আন্দোলনকারীকে আটক করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/920ia370/7.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.JPG"><figcaption>সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে এক আন্দোলনকারীকে আটক করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/mto7wg7a/8.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.jpg"><figcaption>এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমর্থকেরা। শ্রীনগর, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/voh4v0ky/9.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.jpg"><figcaption>প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক সমর্থককে আটক করছে পুলিশ। নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/d5was76z/10.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.jpg"><figcaption>আটকের পর পুলিশের গাড়ি থেকে বাইরে তাকিয়ে আছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক সমর্থক। নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/kwcz26lz/11.-India-movement-protest-detention-FIR-photo-story10102026.JPG"><figcaption>প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শ্রীনগরে কংগ্রেস কার্যালয়ে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা। ১০ অক্টোবর</figcaption></figure>
<p>আমি এখন তিলোত্তমা নগরী ঢাকার জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে, উদ্দেশ্য পাখি ও জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এ পর্যন্ত ৬২টি জেলায় পাখি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। পাখিদের সন্ধানে, পর্যবেক্ষণে ও গবেষণায় ছুটে বেড়িয়েছি তেঁতুলিয়া থেকে সেন্ট মার্টিন, জাফলং থেকে সুন্দরবনের গহিনে, বাংলার প্রত্যন্ত এলাকার পথে প্রান্তরে, জলে-জঙ্গলে, সবুজ বনে, কখনো সাগর মোহনার নীল জলে, কোনো এক নাম না জানা চরে। গত এক দশকে বাংলাদেশে পাখিদের জীববৈচিত্র্যে দেখেছি এক লক্ষণীয় পরিবর্তন। তবে পরিবর্তনটা কখনোই আশাজাগানিয়া নয়। বিশেষ করে তা আশাহত হওয়ার মতোই। কমছে পাখিরা, বিশেষ করে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিরা।</p><p>আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখি হলো সেই সব পাখি, যারা খাদ্য, প্রজনন, আশ্রয় ও বেঁচে থাকার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের আবাসস্থলের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। এদের অনেক প্রজাতি নির্দিষ্ট পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য বা বিশেষ ধরনের উদ্ভিদসমৃদ্ধ আবাসস্থলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে অভিযোজিত। যেমন জলাভূমিগুলোকে কেন্দ্র করে বাস করে বিভিন্ন বুনো হাঁস, ডুবুরি, কোড়া, কালেম, ডাহুক, বগা, বগলা, খঞ্জন ও সৈকত পাখি। এদের টিকে থাকার জন্য জলাশয়কেন্দ্রিক পরিবেশ অপরিহার্য।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-02/g5uemkkx/7-Naoga-bird.jpg"><figcaption>গত এক দশকে বাংলাদেশে পাখিদের জীববৈচিত্র্যে দেখেছি এক লক্ষণীয় পরিবর্তন</figcaption></figure><p>আবার সাহেলি, শ্বেতাক্ষী, হরবোলা, বনসুন্দরী প্রভৃতি পাখিদের জন্য বনের পরিবেশ অপরিহার্য। প্রিনিয়া, ঘাসপাখি, ভরত ও চটকের জন্য অপরিহার্য ঘাসভূমি। বাংলাদেশে যে ৭৩০-এর বেশি প্রজাতির পাখি আছে, সবার আবাসস্থল এক রকম নয়, খাদ্যাভ্যাস এক নয় এবং জীবনধারণ-প্রক্রিয়া একেবারে আলাদা। আমাদের এই বাংলাদেশ অবস্থানগতভাবেই এক বৈচিত্র্যময় ভূপ্রাকৃতিক সম্পদের ঐশ্বর্য পেয়েছে। ফলে এ দেশ হয়েছে ২২টি জীব পরিবেশগত অঞ্চলের সম্মেলন, যা প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনায় যোগ করেছে এক অপরূপ বৈচিত্র্যময়তা।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/6m2melflpx">কিছু পাখি কেন মানুষের মতো কথা বলে</a></aside><blockquote>আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখি হলো সেই সব পাখি, যারা খাদ্য, প্রজনন, আশ্রয় ও বেঁচে থাকার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের আবাসস্থলের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।</blockquote><p>বাংলাদেশের ৭৩০ প্রজাতির পাখিকে শুধু প্রজাতির সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করলে তাদের আবাসস্থলগত বৈচিত্র্য পুরোপুরি বোঝা যায় না। কোনো প্রজাতি বিস্তৃত পরিবেশে টিকে থাকতে পারে, আবার কোনো প্রজাতি নির্দিষ্ট আবাসস্থলের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আবাসস্থল হারিয়ে যাওয়া বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে আবাসস্থল সাধারণ পাখি বা হ্যাবিটেট জেনারেলাইজড পাখি তুলনামূলকভাবে বিভিন্ন পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। </p><p>তাই পাখি সংরক্ষণে প্রতিটি আবাসস্থলের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা জরুরি। বাংলাদেশ ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের। কারণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পাখিদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্রমশ ধ্বংস হয়ে গড়ে উঠছে মানবসৃষ্ট স্থাপনা। প্রাকৃতিক বন উজাড় হয়ে গড়ে উঠছে আগ্রাসী একপ্রজাতীয় বৃক্ষকেন্দ্রিক বন। প্রাকৃতিক আবাসস্থলের অর্থ শুধু গাছ বা বৃক্ষ নয়, এর সঙ্গে আছে তরু, লতা, গুল্ম, ঘাসভূমি, নলখাগড়া ও জলাভূমি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/jb8n81tqm3">পাখি টানা কতদিন আকাশে উড়তে পারে</a></aside><blockquote>বাংলাদেশ ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের। কারণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পাখিদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্রমশ ধ্বংস হয়ে গড়ে উঠছে মানবসৃষ্ট স্থাপনা।</blockquote><h2><strong>কমছে গ্রামীণ বন ও বুনো পরিবেশ</strong></h2><p>আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও গ্রামীণ বনগুলো ছিল বাংলাদেশের বুনো পাখিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। কী ছিল না তখন এই বনে! দোয়েল, ঘুঘু থেকে বড় শিকারি পাখি। বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্রুত পরিবর্তনের ফলে পাখিদের খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। একসময় গ্রামের ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড়, পতিত জমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, পুকুরপাড়, খালপাড়, পুরোনো গাছপালা এবং বসতবাড়ির আশপাশের ছোট ছোট বনভূমি অসংখ্য বুনো পাখির নিরাপদ আশ্রয় ছিল। কিন্তু বসতি সম্প্রসারণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, কৃষিজমির নিবিড় ব্যবহার, কীটনাশকের অতিরিক্ত প্রয়োগ, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং দেশীয় গাছপালার পরিবর্তে একক প্রজাতির গাছ লাগানোর প্রবণতা এসব আবাসস্থলের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করছে। উত্তর-পশ্চিম বা গঙ্গা-প্লাবন ভূমির গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও ঘন নিচু গাছপালাসমৃদ্ধ স্থানে পাখির প্রজাতিবৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য তুলনামূলক বেশি হতে পারে; অন্যদিকে প্রাকৃতিক তৃণভূমি কৃষিজমিতে রূপান্তরিত হলে তৃণভূমিনির্ভর পাখিরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2020-09/07d01ff4-0e76-46d1-8a35-fa0fb991c9e1/01.jpg"><figcaption>বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্রুত পরিবর্তনের ফলে পাখিদের খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে</figcaption></figure><p>বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে শালিক, দোয়েল, ফিঙে, সাহেলি, রাজন, চটক, হরবোলা, শ্বেতাক্ষী, মৌটুসি, ফুলঝুরি, ঘুঘু, হরিয়াল, বাবুই, মুনিয়া, বিভিন্ন প্রজাতির পাপিয়া ও অন্যান্য পাখির টিকে থাকার জন্য শুধু গাছ থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রজাতিভেদে তাদের উপযোগী খাদ্য, ঘন ঝোপ, বাসা তৈরির স্থান এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশও প্রয়োজন। ফলে গ্রামজুড়ে সবুজের উপস্থিতি বজায় থাকলেও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বৈচিত্র্য কমে গেলে বিশেষ আবাসস্থলনির্ভর পাখিরা হারিয়ে যেতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় গ্রামীণ ঝোপঝাড়, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, বাঁশঝাড়, দেশীয় বৃক্ষসমৃদ্ধ বসতভিটা ও জলাশয়ের পাড় সংরক্ষণ, কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পাখির আবাসস্থলকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/ey9mfwwd0v">বিদ্যুতের তারে পাখি বসলে শক লাগে না কেন</a></aside><blockquote>একসময় গ্রামের ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড়, পতিত জমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, পুকুরপাড়, খালপাড়, পুরোনো গাছপালা এবং বসতবাড়ির আশপাশের ছোট ছোট বনভূমি অসংখ্য বুনো পাখির নিরাপদ আশ্রয় ছিল।</blockquote><h2><strong>অপরিকল্পিত একক প্রজাতির বন</strong></h2><p>বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অপরিকল্পিত একক প্রজাতিনির্ভর বৃক্ষরোপণ বনজ পাখির আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হুমকি। প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, গুল্ম, লতাপাতা, ঘাস ও মৃত কাঠের সমন্বয়ে স্তরভিত্তিক উদ্ভিদবিন্যাস গড়ে ওঠে, যা বিভিন্ন পাখির খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয়, বাসা তৈরি ও প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু প্রাকৃতিক বনভূমিতে পরিকল্পনাহীনভাবে একই প্রজাতির গাছের বিস্তৃত বাগান তৈরি করলে উদ্ভিদের বৈচিত্র্য ও বনভূমির কাঠামোগত জটিলতা কমে যেতে পারে। ফলে ফল, ফুল, বীজ, পোকামাকড় ও অন্যান্য খাদ্যসম্পদের প্রাপ্যতা পরিবর্তিত হয় এবং বিশেষ আবাসস্থলনির্ভর পাখিরা উপযুক্ত পরিবেশ হারায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-21/13hcx7v2/21042026-cm-16.jpg%E0%A7%A8.jpg"><figcaption>বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অপরিকল্পিত একক প্রজাতিনির্ভর বৃক্ষরোপণ বনজ পাখির আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হুমকি</figcaption></figure><p>বিশেষ করে বাংলাদেশের শালবন, পাহাড়ি বন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে দেশীয় উদ্ভিদসমাজের পরিবর্তন বননির্ভর পাখিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সব ধরনের একক প্রজাতির বৃক্ষরোপণ সমান ক্ষতিকর নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে গাছের প্রজাতি, রোপণের স্থান, বনভূমির পূর্ববর্তী অবস্থা এবং ব্যবস্থাপনার ধরনের ওপর। তাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রাকৃতিক বনভূমির পুনরুদ্ধার, দেশীয় উদ্ভিদের বৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত পাখিদের আবাসস্থল সংরক্ষণ। শুধু বৃক্ষ আচ্ছাদন বা কাঠ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়। কারণ, বনে গাছের সংখ্যা বাড়লেই বনের জীববৈচিত্র্য বাড়ে না; প্রকৃতির নিজস্ব বৈচিত্র্য ও পরিবেশগত সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখাই কার্যকর বন সংরক্ষণের ভিত্তি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/22ansrj52u">পৃথিবীতে এত পাখি থাকতে আমরা শুধু মুরগি খাই কেন</a></aside><blockquote>প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, গুল্ম, লতাপাতা, ঘাস ও মৃত কাঠের সমন্বয়ে স্তরভিত্তিক উদ্ভিদবিন্যাস গড়ে ওঠে, যা বিভিন্ন পাখির খাদ্য সংগ্রহ, বাসা তৈরি ও প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি করে।</blockquote><h2><strong>হারিয়ে যাচ্ছে বনের বাইদ ও জলা</strong></h2><p>বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত বাইদ, জলাভূমি, মৌসুমি জলাভূমি ও ঘাসাচ্ছাদিত নিচু ভূমি একসময় বহু প্রজাতির পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল ছিল। বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় পাখিদের বড় একটি অংশ এই আবাসস্থলগুলো ব্যবহার করত। এসব স্থানে বর্ষায় পানি জমা, মৌসুমি ঘাস ও জলজ উদ্ভিদের বিস্তার এবং প্রচুর পোকামাকড় ও অন্যান্য খাদ্যপ্রাণীর উপস্থিতি পাখিদের খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করত। </p><p>কিন্তু বন ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন, জলাভূমি ভরাট, পানি নিষ্কাশন, অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, কৃষি সম্প্রসারণ এবং প্রাকৃতিক ঘাসভূমি ধ্বংসের ফলে অনেক এলাকার এসব স্বতন্ত্র আবাসস্থল সংকুচিত হয়েছে বা হারিয়ে গেছে। এর প্রভাব বিশেষভাবে পড়ে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের ওপর, যারা নির্দিষ্ট ধরনের জলাভূমি, ঘাসভূমি কিংবা নিচু বনভূমির ওপর নির্ভরশীল। আবাসস্থল হারিয়ে গেলে এসব পাখির খাদ্য ও প্রজননের সুযোগ কমে যায়; বিকল্প উপযুক্ত পরিবেশ না পেলে স্থানীয়ভাবে তাদের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। এমনকি কোনো কোনো এলাকা থেকে প্রজাতিটি হারিয়েও যেতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/cm6kkgyeiz">যেসব পাখি বাসা বাঁধে না</a></aside><blockquote>বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত বাইদ, জলাভূমি, মৌসুমি জলাভূমি ও ঘাসাচ্ছাদিত নিচু ভূমি একসময় বহু প্রজাতির পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল ছিল।</blockquote><h2><strong>ঝুঁকিতে জলাভূমিনির্ভর পাখিরা</strong></h2><p>বাংলাদেশে আবাসস্থল হারানো ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পাখিদের মধ্যে জলাভূমিনির্ভর আবাসস্থল বিশেষায়িত প্রজাতিগুলো অন্যতম। হাওর, বিল, বাঁওড়, প্লাবনভূমি, মৌসুমি জলাভূমি এবং বনের ভেতরের বাইদ ও জলা এসব পাখির খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কিন্তু জলাভূমি ভরাট, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহে বাধা, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, কৃষিজমির সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং জলাভূমির স্বাভাবিক উদ্ভিদবিন্যাস ধ্বংসের ফলে এসব আবাসস্থলের পরিমাণ ও গুণগত মান ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-01/51bd53ea-24bb-4f38-8522-885f2954fd42/BHOLA_DH0592_20240111_BHOLA_B_BBC_1_JPG.JPG"><figcaption>শীতকালে পরিযায়ী জলচর পাখিদের জন্য উপযুক্ত জলাভূমির সংকট তাদের খাদ্য ও বিশ্রামের সুযোগও সীমিত করতে পারে</figcaption></figure><p>বিশেষত যেসব পাখি অগভীর পানি, কাদাময় তীর, নির্দিষ্ট জলজ উদ্ভিদ কিংবা মৌসুমি প্লাবনভূমির ওপর নির্ভরশীল, তারা বিকল্প আবাসস্থল খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ে। শীতকালে পরিযায়ী জলচর পাখিদের জন্য উপযুক্ত জলাভূমির সংকট তাদের খাদ্য ও বিশ্রামের সুযোগও সীমিত করতে পারে। অন্যদিকে জলাভূমির পানি দূষণ, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রাপ্যতা কমে যাওয়া এবং মানুষের বিরক্তি পাখিদের টিকে থাকার ঝুঁকি আরও বাড়ায়। এই সংকট মোকাবিলায় শুধু পাখি শিকার বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়; জলাভূমির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ, মৌসুমি প্লাবন, দেশীয় জলজ উদ্ভিদ, কাদাময় তীর এবং সংযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে হবে। জলাভূমি হারালে শুধু একটি ভূদৃশ্য হারায় না, হারিয়ে যায় সেই পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল পাখিদের খাদ্য, আশ্রয়, প্রজননক্ষেত্র এবং শেষ পর্যন্ত তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনাও।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/uuvivkwh8s">টুনি, নীলটুনি ও অন্যান্য পাখি যেভাবে বাসা বানায়</a></aside><blockquote>বিশেষত যেসব পাখি অগভীর পানি, কাদাময় তীর, নির্দিষ্ট জলজ উদ্ভিদ কিংবা মৌসুমি প্লাবনভূমির ওপর নির্ভরশীল, তারা বিকল্প আবাসস্থল খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ে।</blockquote><h2><strong>শহরগুলোতে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই</strong></h2><p>বাংলাদেশের শহরগুলোতে নগরায়ণের বিস্তার ঘটলেও আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের সংরক্ষণে পর্যাপ্ত পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। শহরের জলাভূমি, খাল, ঝোপঝাড়, ঘাসভূমি, পুরোনো বৃক্ষসমৃদ্ধ এলাকা এবং জলজ উদ্ভিদে পরিপূর্ণ নিচু জমি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। কিন্তু আবাসন নির্মাণ, জলাভূমি ভরাট, খাল দখল, অপরিকল্পিত সবুজায়ন, দেশীয় উদ্ভিদ অপসারণ এবং একই ধরনের বিদেশি শোভাবর্ধক গাছের আধিক্য নগরের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বৈচিত্র্য কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে যেসব পাখি নির্দিষ্ট ধরনের জলাভূমি, ঘন ঝোপঝাড় কিংবা বিশেষ উদ্ভিদসমৃদ্ধ পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল, তারা ক্রমেই উপযুক্ত আবাসস্থল হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে। </p><p>অথচ নগর-পরিকল্পনা ও সবুজায়ন কর্মসূচিতে সাধারণত বৃক্ষরোপণ বা সবুজ এলাকার পরিমাণকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এসব এলাকার পরিবেশগত গুণমান, দেশীয় উদ্ভিদের বৈচিত্র্য এবং পাখিদের নির্দিষ্ট আবাসস্থলগত চাহিদা সব সময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। বাংলাদেশের শহরগুলোতে পাখির আবাসস্থল চিহ্নিতকরণ, নিয়মিত পাখি জরিপ, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় সংরক্ষণ এবং আবাসস্থল বিশেষায়িত প্রজাতির দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণকে নগর জীববৈচিত্র্য পরিকল্পনার অংশ করা জরুরি। শহরে শুধু গাছ লাগালেই পাখিবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় না; পাখির প্রজাতিভিত্তিক আবাসস্থল ও খাদ্যজালের উপযোগী প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখাই কার্যকর নগর পাখি সংরক্ষণের মূল ভিত্তি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/swmkjvn4sq">ঋতু বদলের সঙ্গে রং বদলায় যেসব পাখি</a></aside><blockquote>শহরের জলাভূমি, খাল, ঝোপঝাড়, ঘাসভূমি, পুরোনো বৃক্ষসমৃদ্ধ এলাকা এবং জলজ উদ্ভিদে পরিপূর্ণ নিচু জমি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।</blockquote><h2><strong>সংরক্ষিত এলাকার বাইরে উদ্যোগ সীমিত</strong></h2><p>বাংলাদেশে পাখি সংরক্ষণের উদ্যোগ এখনো অনেকাংশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও নির্দিষ্ট জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। অথচ দেশের বিপুলসংখ্যক পাখি সংরক্ষিত এলাকার বাইরের গ্রামীণ বনভূমি, কৃষিজমি, হাওর-বিল, নদীতীর, উপকূলীয় অঞ্চল, শহুরে জলাভূমি এবং বসতবাড়ির আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। এসব এলাকায় আবাসস্থল ধ্বংস, জলাভূমি ভরাট, ঝোপঝাড় উজাড়, অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, কীটনাশকের ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের ফলে পাখিদের খাদ্য সংগ্রহ, আশ্রয় ও প্রজননের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের জন্য এই সংকট আরও গুরুতর। কারণ নির্দিষ্ট পরিবেশ হারালে তারা সহজে বিকল্প আবাসস্থলে টিকে থাকতে পারে না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-03/bt33yumm/03042026-cm-20.jpg"><figcaption>দেশের বিপুলসংখ্যক পাখি কৃষিজমি, হাওর-বিল, নদীতীর এবং বসতবাড়ির আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল</figcaption></figure><p>সংরক্ষিত এলাকার বাইরে পাখি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আবাসস্থলভিত্তিক জরিপ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, কৃষিবান্ধব সংরক্ষণব্যবস্থা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পাখির আবাসস্থল অন্তর্ভুক্ত করার মতো উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংরক্ষিত এলাকার বাইরের গুরুত্বপূর্ণ পাখির আবাসস্থল চিহ্নিত করে সেগুলোর ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কারণ, পাখিরা প্রশাসনিক সীমানা মেনে চলে না; সংরক্ষিত এলাকার বাইরে তাদের আবাসস্থল ধ্বংস হতে থাকলে শুধু সংরক্ষিত এলাকা রক্ষা করে দেশের সামগ্রিক পাখিবৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/u8awhi0gcs">বাবুই পাখি যেভাবে বাসা বানায় </a></aside><blockquote>দেশের বিপুলসংখ্যক পাখি সংরক্ষিত এলাকার বাইরের গ্রামীণ বনভূমি, কৃষিজমি, হাওর-বিল, নদীতীর, উপকূলীয় অঞ্চল, শহুরে জলাভূমি এবং বসতবাড়ির আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।</blockquote><h2><strong>প্রকল্পভিত্তিক সংরক্ষণ প্রথা সুফল আনেনি</strong></h2><p>বাংলাদেশে পাখি সংরক্ষণ কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো প্রকল্পনির্ভর উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে না পারা। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ, বরাদ্দ ও লক্ষ্যমাত্রাকে কেন্দ্র করে সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়; প্রকল্প শেষ হওয়ার পর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা এবং অর্জিত ফলাফল ধরে রাখার উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। অথচ পাখি সংরক্ষণ কোনো স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রম নয়; এটি আবাসস্থল, খাদ্যজাল, প্রজননক্ষেত্র এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশের হাওর-বিল, নদীতীর, উপকূলীয় অঞ্চল, গ্রামীণ বনভূমি ও শহুরে জলাভূমিতে বসবাসকারী পাখিদের সংরক্ষণে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে ধারাবাহিক গবেষণা, নিয়মিত পাখি জরিপ, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ জরুরি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-29/jq3i54dm/C01.png"><figcaption>পাখি সংরক্ষণ কোনো স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রম নয়; এটি আবাসস্থল, খাদ্যজাল, প্রজননক্ষেত্র এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া</figcaption></figure><p>একই সঙ্গে প্রকল্পের সাফল্য শুধু ব্যয়, প্রশিক্ষণ, প্রচার বা বৃক্ষরোপণের সংখ্যার ভিত্তিতে নয়; পাখির জনসংখ্যার পরিবর্তন, আবাসস্থলের গুণগত মান, প্রজননের সাফল্য এবং দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য টিকে থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তবে প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্দিষ্ট প্রকল্পের ফলাফল ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করা জরুরি। পাখি সংরক্ষণকে সাময়িক প্রকল্পের গণ্ডি থেকে বের করে দীর্ঘমেয়াদি, গবেষণানির্ভর ও আবাসস্থলকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠা করাই বাংলাদেশের পাখিবৈচিত্র্য রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/4zcuj8qko0">সব পাখি কেন উড়তে পারে না</a></aside><blockquote>জলাভূমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, বনের বাইদ ও জলা, ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল অসংখ্য প্রজাতির পাখি ও বন্য প্রাণীর টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।</blockquote><h2><strong>জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ মানেই শুধু বৃক্ষরোপণ নয়</strong></h2><p>সরকারের ২৫ কোটি দেশীয় গাছ রোপণের উদ্যোগ দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে শুধু কতটি গাছ রোপণ করা হলো তার ওপর নয়, বরং উপযুক্ত স্থানে সঠিক প্রজাতির গাছ নির্বাচন, রোপিত গাছের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সেগুলোর পরিচর্যার ওপর। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, বন বিভাগ এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা, জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ মানেই শুধু বৃক্ষরোপণ নয়। </p><p>জলাভূমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, বনের বাইদ ও জলা, ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল অসংখ্য প্রজাতির পাখি ও বন্য প্রাণীর টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের সংরক্ষণে এসব পরিবেশের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। তাই দেশীয় গাছ রোপণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধার, বিদ্যমান জলাভূমি রক্ষা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-24/s1nmhkgk/2______Rangamati_bird.jpg"><figcaption>দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত পাখি জরিপ, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণার ফলাফল সংরক্ষণ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে</figcaption></figure><p>বাংলাদেশে পাখি সংরক্ষণ কার্যক্রমকে কার্যকর ও টেকসই করতে পাখির প্রজাতিবৈচিত্র্য, বিস্তৃতি, জনসংখ্যার পরিবর্তন, প্রজনন, খাদ্যাভ্যাস এবং আবাসস্থলগত চাহিদা নিয়ে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের ওপর জলাভূমি ধ্বংস, বনভূমির পরিবর্তন, অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার এবং নগরায়ণের প্রভাব বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণ করা জরুরি। এ জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত পাখি জরিপ, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ, প্রমাণভিত্তিক তথ্যভান্ডার তৈরি এবং গবেষণার ফলাফল সংরক্ষণ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/ksusmpgqf7">পাখি সংরক্ষণে আন্তঃদেশীয় সীমানা এলাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ</a></aside><blockquote>আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে না পারলে ক্রমেই বিবর্ণ হয়ে উঠবে বাংলার প্রকৃতি, হারিয়ে যাবে তার রংবাহারি পাখিবৈচিত্র্য।</blockquote><p>একই সঙ্গে পাখি নিয়ে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অভিজ্ঞ গবেষক, পক্ষীবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তরুণ গবেষক এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গবেষক নির্বাচন ও সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবের পরিবর্তে গবেষণার মান, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বৈজ্ঞানিক দক্ষতা এবং কাজের প্রমাণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ, পাখি সংরক্ষণে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হলে অনুমান বা সাময়িক উদ্যোগের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য, অভিজ্ঞ গবেষকদের জ্ঞান এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে সমন্বিত করতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/fss9gpzm/8__barishal_lotus_saiyan_palo_05102026.jpg"><figcaption>পাখির বৈচিত্র্য রক্ষা মানে বাংলার প্রকৃতির রং, সুর ও প্রাণবৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখা</figcaption></figure><p>আবাসস্থল বিশেষায়িত পাখিদের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে না পারলে ক্রমেই বিবর্ণ হয়ে উঠবে বাংলার প্রকৃতি, হারিয়ে যাবে তার রংবাহারি পাখিবৈচিত্র্য। জলাভূমি, প্রাকৃতিক তৃণভূমি, বনভূমি, ঝোপঝাড় ও অন্যান্য স্বতন্ত্র আবাসস্থল ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে এসব পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল পাখিরা। একসময় গ্রামবাংলার চেনা প্রকৃতিকে মুখরিত করা পাখিদের অনেক প্রজাতিই হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কেবল বইয়ের ছবি কিংবা গবেষণাপত্রের তথ্য হয়ে থাকবে। তাই পাখি সংরক্ষণে শুধু প্রজাতিকে রক্ষা করার উদ্যোগ নিলে চলবে না; তাদের আবাসস্থল, খাদ্যসংস্থান ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশও সুরক্ষিত রাখতে হবে। পাখির বৈচিত্র্য রক্ষা মানে বাংলার প্রকৃতির রং, সুর ও প্রাণবৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখা আর সেই দায়িত্ব পালনে আবাসস্থল সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।</p><h4>লেখক: প্রভাষক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/xzejfc7d0g">ছোট্ট পাখি মোচাটুনি</a></aside>
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, ব্যারিকেড এবং ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী, ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে-সহ একাধিক নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি; সাংবাদিকদের আটক এবং আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জেরও অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর শীতে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চল থেকে শুরু করে ইউরোপ, মধ্য এশিয়া থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে শীতের সময় বাংলাদেশে আসে এসব পাখিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ান ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করার জন্য একটি চুক্তি ঘোষণা করেছেন, যাকে পুতিনের জন্য একটি উপহার বলে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ঢাকার মধ্যে শাহবাগ এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে; নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং ডিসেম্বর ঘিরে নাশকতার ছকের খবর রয়েছে আজ শনিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।
আজ শনিবার ১০ই অক্টোবর 'দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের' ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোসহ অন্যান্য বিরোধী দলও এই বিক্ষোভে সামিল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে গ্রাহক পর্যায় থেকে অপারেটর পর্যন্ত এলপিজির যে সাপ্লাই চেইন কাজ করে সেখানে কোথায় এই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে তার সন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিটি স্তরেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মুনাফার একটা চেষ্টা রয়েছে ব্যবসায়ীদের যে কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাইকে তার "শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারের প্রচেষ্টার" জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রাইড-শেয়ারিং ও পণ্য সরবরাহ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ এর সার্ভার থেকে গ্রাহকদের কোন ধরনের তথ্য চুরি হয়েছে? এটা কী কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?
ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ, বছরে চাহিদার চেয়ে বেশি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে দেশে। এই উদ্বৃত্ত ডিম রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।
সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সারাদিন ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। এরপর যখন নিজ এলাকায় এলেন তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। এ সময় বিশ্রাম না নিয়ে এলাকার দুস্থ, অসহায় মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে নজির স্থাপন করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সিদ্দিকা মাহমুদা মারা গেছেন।
পাঁচ বছরের কন্যাশিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন মা-বাবা। তাদের প্রত্যাশা ছিল, অভিযোগের তদন্ত হবে, অভিযুক্তের বিচার হবে, তারা ন্যায়বিচার পাবেন। কিন্তু সেই বিচার চাওয়াই যেন নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারটির জন্য।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের মারধর, শারীরিক নির্যাতন ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় নতুন মডেলের তাকিওন ই-বাইকে যুক্ত করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম। স্মার্ট, পরিবেশবান্ধব ও বহুমুখী এনার্জি সল্যুশনসমৃদ্ধ এই ব্যাটারি ই-বাইককে একটি মোবাইল এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমে রূপান্তর করবে। এর মাধ্যমে পরিবহন, সৌরশক্তি সংরক্ষণ ও জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২৮ জন নবীন শিক্ষার্থীকে সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষে ফেলোশিপ ও সনদ দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
ফিনল্যান্ড থেকে ভালোবাসার টানে জামালপুরের সরিষাবাড়িতে এসেছেন সিমোলা মিকা (৩৮)। সরিষাবাড়ির দৌলতপুর গ্রামের শান্তিনা জাহান সিমির (২৮) সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ছিল তার। দুই ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি কোনো কিছুই তার এই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।