গান

ভিটেমাটি বেদখল, গানও বেহাত—তবু অমলিন ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানের রাধারমণ

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ভিটেমাটি বেদখল, গানও বেহাত—তবু অমলিন ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানের রাধারমণ
ভিটেমাটি বেদখল, গানও বেহাত—তবু অমলিন ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানের রাধারমণ
<p>এক ঝিমকালো অন্ধকার শীতের রাতে সাধককবি রাধারমণের বাড়িতে পৌঁছাই। সময়টা ছিল গত বছরের ডিসেম্বর। তাঁর গান ও জীবন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এর আগেও অনেকবার এখানে আসা হয়েছে। তবে সে রাতের স্মৃতি বেশ উজ্জ্বল। রাধারমণের সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে সিলেটের শিল্পী ইকবাল সাঁই গাইলেন রাধারমণেরই লেখা গান। স্রষ্টার সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে গাইতে গিয়ে ইকবাল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর চোখের কোণে জমে পানি। হয়তো সে কারণেই বারবার গানের পদে ভুল করছিলেন, কোথাও এক-আধটি পঙ্‌ক্তি ছেড়েও যাচ্ছিলেন!<br> অমৃত এক স্মৃতিসুধা নিয়ে সেদিন রাতে নলুয়ার হাওরপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কেশবপুর গ্রাম থেকে ফিরি। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এই কেশবপুরেই রাধারমণের বাড়ি। যদিও তাঁর ভিটেমাটির প্রায় পুরোটাই এখন বেদখল। তবে সেখানে রয়েছে রাধারমণের সমাধি। পাশে সবুজ-শ্যামল, ছায়াঘেরা পুকুর। এসব দেখতে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় জমান মানুষ। প্রায় তিন দশক ধরে রাধারমণ স্মরণে তাঁর গ্রামে বেসরকারি উদ্যোগে নিয়মিত উৎসব হতো। সেখানে ঘটত প্রাণের সম্মিলন। কয়েক বছর আগে সেই উৎসব সরকারি উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে স্থানান্তর করা হয়। এসব আয়োজনে যোগ দিতেন দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত শিল্পী থেকে শুরু করে সংগীতপ্রেমীরা। </p><p>রাধারমণের পুরো নাম রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ। বৈষ্ণব-সহজিয়া ধারার এই গীতিকবি মারা যান ১৯১৬ সালে। যদিও কোনো কোনো গবেষকের মতে, তাঁর মৃত্যুসাল ১৯১৫। জন্মসাল নিয়েও রয়েছে কিছুটা মতভেদ। কেউ বলেন ১৮৩৪, কারও মতে ১৮৩৩। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ের গানের ঐতিহ্যবাহী ধারা ধামাইলের স্রষ্টা হিসেবে তাঁকে মনে করা হয়। হাওরাঞ্চলের এমন কোনো বিয়ের উৎসব নেই, যেখানে রাধারমণের গান পরিবেশিত হয় না! এর বাইরেও তিনি লিখেছেন নানা ধারার হাজারো গান। এসব গানের মধ্যে রয়েছে বিচ্ছেদ, মনশিক্ষা, গোষ্ঠ থেকে শুরু করে ধর্মীয় পর্যায়ের গান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/2bqki8sj/WhatsApp_Image_2026_10_30_at_7_28_27_PM.jpeg"><figcaption>রাধারমণের সমাধির পাশে শিল্পী ইকবাল সাঁই</figcaption></figure><p>রাধারমণের গানের কোনো পাণ্ডুলিপি ছিল না। মুখে মুখেই তিনি পদ রচনা করতেন। সেসব পদ শিষ্য, ভক্ত ও গুণগ্রাহীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে লোকমুখে। প্রথমে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে, পরে এক থানা থেকে আরেক থানায়, এক জেলা থেকে আরেক জেলায়। এখন বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় রাধারমণের গান। যেখানে বাঙালির বসবাস, যেখানে উৎসব-উচ্ছ্বাস, সেখানেই শিল্পীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় তাঁর গান। বাংলাদেশ ও কলকাতার নাটক-চলচ্চিত্রেও নানা আঙ্গিকে ব্যবহৃত হয়েছে তাঁর গান। এমনকি ইংরেজি ও ইতালীয় ভাষায় অনূদিত হয়ে তাঁর গান গেয়েছেন ভিনদেশি শিল্পীরাও।</p><p>রাধারমণের গানের পাণ্ডুলিপি না থাকলেও লোকমুখে ছড়িয়ে থাকা গান সংগ্রহে উদ্যোগী হয়েছিলেন কয়েকজন গবেষক। তাঁদের প্রচেষ্টায় সংরক্ষিত হয়েছে তাঁর হাজারো গান। রাধারমণের গানের উল্লেখযোগ্য সংগ্রাহকদের মধ্যে রয়েছেন গুরুসদয় দত্ত, মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য, আবদুল গফফার চৌধুরী, চৌধুরী গোলাম আকবর, বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী ও নন্দলাল শর্মা। তবে এসব মনীষীর উদ্যোগ সত্ত্বেও ভিটেমাটির মতো রাধারমণের গানও বেহাত হয়েছে। অন্য গীতিকারের ভণিতা যুক্ত করে রাধারমণের গান গাওয়ার নজিরও কম নয়। আবার অজ্ঞতাবশত অনেক শিল্পী অন্যের গানও রাধারমণের নামে প্রচার করছেন।<br>শিল্পী-শ্রোতাদের কাছে রাধারমণের অনেক গানই জনপ্রিয়। এর মধ্যে উল্লেখ করা যায়, ‘ভ্রমর কইও গিয়া, শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদে রাধার অঙ্গ যায় জ্বলিয়া’, ‘আমার বন্ধু দয়াময়, তোমারে দেখিবার মনে লয়’, ‘জলের ঘাটে দেইখা আইলাম কী সুন্দর শ্যামরায়’, ‘জলে যাইও না গো রাই’, ‘আমি কারে বা দেখাব মনের দুঃখ গো হৃদয় চিরিয়া’, ‘আমার কৃষ্ণ কোথায় পাই গো, বল গো সখী কোন দেশেতে যাই’, ‘শ্যাম কালিয়া সোনা বন্ধু রে’, ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’ এবং ‘আমারে আসিবার কথা কইয়া, মান করে রাই রইয়াছো ঘুমাইয়া’।</p><p>রাধারমণের গান দেশের সীমানা পেরিয়ে ধীরে ধীরে ভিনদেশেও সমাদৃত হচ্ছে। তবে কয়েক দিন ধরে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের পাতায় আলোচনায় এসেছে তাঁর নাম। আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর রাধারমণের প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান এলাকার কবরস্থানের পাশে না করার অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছে ‘কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন’ নামের স্থানীয় একটি সংগঠন। আবেদনে গানবাজনাকে অনৈসলামিক উল্লেখ করে অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।<br>রাধারমণের প্রয়াণদিবসের আয়োজন নির্ধারিত সময়ে হবে কি না, কিংবা হলেও কেশবপুর গ্রামে, নাকি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে হবে—এ নিয়ে এখনো স্থানীয় লোকজনের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে এসব বিতর্ক ছাপিয়ে সংগীতপিপাসু মানুষের কাছে রাধারমণ আজও তাঁর গানেই উজ্জ্বল। তাঁর ভিটেমাটি বেদখল হয়েছে, গান নিয়েও রয়েছে নানা বিভ্রান্তি; তবু মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে বেঁচে আছে তাঁর সৃষ্টি।<br>জন্মের দ্বিশতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, মৃত্যুর শতবর্ষ পেরিয়ে এসেও রাধারমণ প্রাসঙ্গিক, তাঁর গানও অমলিন।</p>

Prothomalo

View more
শর্ষে–হলুদ শাড়ি আর মিষ্টি হাসিতে সাদনিমা, দেখুন ৫টি ছবি
শর্ষে–হলুদ শাড়ি আর মিষ্টি হাসিতে সাদনিমা, দেখুন ৫টি ছবি

<p>তরুণ অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান শাড়ি পরতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি ফেসবুকে শাড়ি পরে বেশ কিছু ছবি দিয়েছেন তিনি। চলুন দেখে নিই।</p><figure><img alt="সাদনিমা বিনতে নোমান " src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/p7ksw2td/FBIMG1793441055175.jpg.jpeg"><figcaption>সাদনিমার শাড়িটির রং শর্ষে–হলুদ</figcaption></figure><figure><img alt="সাদনিমা বিনতে নোমান " src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/rbmbivxb/FBIMG1793441047249.jpg.jpeg"><figcaption>শাড়িটির পাড়ে আছে নীল সুতার হাতের কাজ</figcaption></figure><figure><img alt="সাদনিমা বিনতে নোমান " src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/7r8zuke5/FBIMG1793441051349.jpg.jpeg"><figcaption>সাদনিমা জানান, একটি অনলাইন পেজ থেকে শাড়িটি উপহার পেয়েছেন</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/yb9517jecn">সাদা কো–অর্ডে পূজা চেরীর স্নিগ্ধ লুক, দেখুন ৮টি ছবি</a></aside><figure><img alt="সাদনিমা বিনতে নোমান " src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/lq08cy7e/FBIMG1793441053476.jpg.jpeg"><figcaption>শুটিংয়ের কারণে এখন নিয়মিত শাড়ি পরে থাকেন</figcaption></figure><figure><img alt="সাদনিমা বিনতে নোমান " src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/cx7au6ed/FBIMG1793441049315.jpg.jpeg"><figcaption>ছবিগুলো একটি নাটকের শুটিংয়ে তোলা</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/v1ja1fdps1">নিজের পোশাক ও যত্নে কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেন শেহতাজ, দেখুন ৯টি ছবি</a></aside>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
২২ বছরের মধ্য খারাপ ফলাফল: শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা, নাকি শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা?
২২ বছরের মধ্য খারাপ ফলাফল: শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা, নাকি শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা?

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধাক্কা। পাসের হার কমেছে, বেড়েছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা। প্রশ্ন উঠেছে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে পাসের হার কম, কিন্তু কেন এই বিপর্যয়
এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে পাসের হার কম, কিন্তু কেন এই বিপর্যয়

এবার পাস করেছেন ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ পরীক্ষার্থী। গত বছর এই হার ছিল ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার আরও প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
চাঁদা চেয়ে ফোন, ‘যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে’
চাঁদা চেয়ে ফোন, ‘যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে’

শরীর প্রথমে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। এরপর আস্তে আস্তে তোমার দিকে আসবে। তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
চার দিনও লাগল না বাংলাদেশের হারতে
চার দিনও লাগল না বাংলাদেশের হারতে

প্রথম তিন দিনে প্রায় ৬০ ওভার খেলা কম হয়েছে। তারপরও মিরপুর টেস্ট শেষ চতুর্থ দিনেই। ফলাফল—ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জিতে দুই টেস্টের সিরিজে এগিয়ে গেছে ১–০তে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
খাবার না দেওয়ায় কাঠের চলা দিয়ে পিটুনি, বাবুর্চির পর আহত নারীর মৃত্যু
খাবার না দেওয়ায় কাঠের চলা দিয়ে পিটুনি, বাবুর্চির পর আহত নারীর মৃত্যু

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসায় খাবার পরিবেশনের সময় এক ব্যক্তির হামলায় বাবুর্চির মৃত্যুর পর তাঁর সহকারী আহত সোনাবান বিবিও (৬৫) মারা গেছেন।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কুমিল্লা বোর্ডে এবার ১৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেননি
কুমিল্লা বোর্ডে এবার ১৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেননি

শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আনা হয়েছে। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের পদ্ধতি খতিয়ে দেখছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার, ১৯ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননি
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার, ১৯ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননি

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের ১০২ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।