international

ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘিরে নিরাপত্তা, রাজপথে বিরোধীরা

অক্টোবর ১০, ২০২৬
ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘিরে নিরাপত্তা, রাজপথে বিরোধীরা
ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘিরে নিরাপত্তা, রাজপথে বিরোধীরা
<p>নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের প্রস্তুতি ঘিরে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। যন্তর মন্তরে ব্যারিকেড, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের বাইরে নিরাপত্তাকর্মীদের পাহারা, আর রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের পদযাত্রা—এসব নিয়েই এই ছবির গল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/6lipv2gh/1.2026-10-09T133050Z707015319RC2OZNAI4C51RTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচি ঘিরে ব্যারিকেডের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। যন্তর মন্তর, নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/yns76f7k/2.2026-10-09T120611Z1231155498RC2NZNA4WN0ARTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>নয়াদিল্লিতে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ রাজঘাটের কাছে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ৯ অক্টোবর </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/h9pmoviq/3.-2026-10-09T141059Z1704155851RC2OZNAM3CFVRTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের বাইরে পাহারায় নিরাপত্তাকর্মীরা। ৯ অক্টোবর </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/au9tmhfk/4.INDIA-POLITICS-DEMONSTRATION-110437.jpg"><figcaption>বিক্ষোভস্থলের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করছেন এক কর্মী। যন্তর মন্তর, নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/kl8zq9hq/5.2026-10-09T123122Z2043413521RC2OZNAU1WYWRTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের বাইরে দায়িত্ব পালন করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/c323xobh/6.2026-10-09T144925Z1230404619RC2QZNAVFIYRRTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>পুলিশের একটি গাড়ি থেকে ব্যারিকেড নামাচ্ছেন কর্মীরা। ৯ অক্টোবর </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/6ans6xr2/7.INDIA-POLITICS-DEMONSTRATION-150218.jpg"><figcaption>নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে পদযাত্রা করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/8qr2gcwd/8.INDIA-POLITICS-DEMONSTRATION-151139.jpg"><figcaption>রাষ্ট্রপতি ভবনের কাছে বিরোধী জোট নেতাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৯ অক্টোবর </figcaption></figure>

Prothomalo

View more
ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘিরে নিরাপত্তা, রাজপথে বিরোধীরা
ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘিরে নিরাপত্তা, রাজপথে বিরোধীরা

<p>নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের প্রস্তুতি ঘিরে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। যন্তর মন্তরে ব্যারিকেড, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের বাইরে নিরাপত্তাকর্মীদের পাহারা, আর রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের পদযাত্রা—এসব নিয়েই এই ছবির গল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/6lipv2gh/1.2026-10-09T133050Z707015319RC2OZNAI4C51RTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচি ঘিরে ব্যারিকেডের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। যন্তর মন্তর, নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/yns76f7k/2.2026-10-09T120611Z1231155498RC2NZNA4WN0ARTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>নয়াদিল্লিতে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ রাজঘাটের কাছে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ৯ অক্টোবর </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/h9pmoviq/3.-2026-10-09T141059Z1704155851RC2OZNAM3CFVRTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের বাইরে পাহারায় নিরাপত্তাকর্মীরা। ৯ অক্টোবর </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/au9tmhfk/4.INDIA-POLITICS-DEMONSTRATION-110437.jpg"><figcaption>বিক্ষোভস্থলের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করছেন এক কর্মী। যন্তর মন্তর, নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/kl8zq9hq/5.2026-10-09T123122Z2043413521RC2OZNAU1WYWRTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের বাইরে দায়িত্ব পালন করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/c323xobh/6.2026-10-09T144925Z1230404619RC2QZNAVFIYRRTRMADP3INDIA-POLITICS-GEN-Z.JPG"><figcaption>পুলিশের একটি গাড়ি থেকে ব্যারিকেড নামাচ্ছেন কর্মীরা। ৯ অক্টোবর </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/6ans6xr2/7.INDIA-POLITICS-DEMONSTRATION-150218.jpg"><figcaption>নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে পদযাত্রা করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/8qr2gcwd/8.INDIA-POLITICS-DEMONSTRATION-151139.jpg"><figcaption>রাষ্ট্রপতি ভবনের কাছে বিরোধী জোট নেতাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৯ অক্টোবর </figcaption></figure>

অক্টোবর ১০, ২০২৬
গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা জাতিসংঘ কমিশনের প্রধান ছিলেন নাভি পিল্লাই
গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা জাতিসংঘ কমিশনের প্রধান ছিলেন নাভি পিল্লাই

<p>নাভি পিল্লাই প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় আইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ১৯৯৫ সালে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে দেশটির হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন তিনি। গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা জাতিসংঘ কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি আলোচিত হন।</p><p>শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার স্বীকৃতি পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।</p><p>নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি গতকাল শুক্রবার এ পুরস্কার ঘোষণা করে।</p><p>গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা জাতিসংঘ কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নাভি পিল্লাই (৮৫)। তিনি রুয়ান্ডার গণহত্যার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিআর) প্রধান ছিলেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে।</p><p>নাভি পিল্লাই এই পুরস্কার আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। পুরস্কার পাওয়ার পর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় ভাসছেন পিল্লাই। তবে পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছে ইসরায়েল।</p><p>নরওয়ের অসলোতে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস শান্তি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মতো অপরাধ বিচারের আওতায় আনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পিল্লাই। ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রমণের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তাঁরা আইনি কাঠামো এবং আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধা ক্ষমতার রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা দেখতে পাচ্ছেন।</p><p>নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকার পাশাপাশি তাঁর বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসকে গুরুত্ব দিয়েছে তারা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/xvl1j3eo/navi-pillay.jpg"><figcaption>শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই</figcaption></figure><h3>পুরস্কার অপরাধের শিকার মানুষের জন্য</h3><p>নোবেল কমিটি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে নাম ঘোষণার সময় নাভি পিল্লাই জার্মানিতে ছিলেন। শুরুতে পুরস্কার পাওয়ার খবর কৌতুক হিসেবে মনে করেছিলেন তিনি। তাই তাৎক্ষণিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো সবাইকে তিনি বলছিলেন, ‘এটি নিশ্চয়ই একটি কৌতুক!...আপনাদের এই করতালি আমার কাছে অনেক মূল্যবান। তবে একজন আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে আমি বিষয়টি যাচাই করে নিতে চাই।’ পরে কৌতুক করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি তালি দেন, তবে আমি হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’</p><p>পরে পুরস্কারের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় নাভি পিল্লাই বলেন, এই পুরস্কার তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার বেঁচে যাওয়া সব ভুক্তভোগী এবং আন্তর্জাতিক বিচার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত সবার উদ্দেশে উৎসর্গ করছেন।</p><p>আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করার অপচেষ্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের আবারও এমন এক বিশ্বের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, যেখানে কার কষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, তা আইনের বদলে ক্ষমতা দিয়ে নির্ধারিত হয়।’ তিনি জানান, বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি প্রত্যেক মানুষের সমান মর্যাদা এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা অবিচল থেকেছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/l3s91f7xp5">শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই</a></aside><h3>অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা</h3><p>জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়াকে মানবাধিকারের জন্য ‘সমষ্টিগত বিজয়’ বলে উল্লেখ করেন। জাতিসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে ফলকার টুর্ক বলেন, ‘আমি আমার বড় বোন নাভি পিল্লাইকে এই দুর্দান্ত ও অসাধারণ পুরস্কারের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন জানাই।’</p><p>আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, নাভি পিল্লাইয়ের সঙ্গে তিনি জার্মানিতে আছেন। ক্যালামার্ড লিখেছেন, ‘আমরা নুরেমবার্গ আদালতে আছি। তাঁর নোবেল পুরস্কারের জন্য এর চেয়ে শক্তিশালী প্রতীকী বিষয়…আমি আর ভাবতেই পারছি না। আমরা সবাই ভীষণ রোমাঞ্চিত!’<br>নাভি পিল্লাইকে পুরস্কার দিয়ে ‘ইসরায়েলবিরোধী বিদ্বেষকে’ বৈধতা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স পোস্টে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/456tn58o/Screenshot-2026-10-09-151758.png"><figcaption> শান্তিতে নোবেল পুরস্কারবিজয়ী নাভি পিল্লাই </figcaption></figure><p>ইসরায়েলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতি হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ওই কমিশন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।</p><p>গতকাল ইসরায়েলের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে নোবেল কমিটি বলেছে, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তারা কোনো পক্ষ নিচ্ছে না। পিল্লাইয়ের পেশাদারি ও সততার ওপর নোবেল কমিটি আস্থা রেখেছে। তবে গাজা নিয়ে তদন্তের কাজটি জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনেরই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/ps3pjrfgwt">সাবেক বিচারকের শান্তিতে নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা</a></aside><h3>ডারবান থেকে চ্যাম্পিয়ন মানবাধিকারকর্মী</h3><p>১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেন নাভি পিল্লাই। বাবা ছিলেন বাসচালক। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে বলা হয়, আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। নাভি পিল্লাই প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে আইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।</p><p>১৯৮৮ সালে সেখান থেকে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন পিল্লাই। তিনিই প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী, যিনি হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। এর চার বছর পর নাভি পিল্লাই রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিআর) বিচারক ও সভাপতি হন। সেখানে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও ঘৃণা ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে বিচারের আওতায় আসতে পারে, তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি।</p><p>পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার (ওএইচসিএইচআর) ছিলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/africa/xopi9lrwes">নাভি পিল্লাইয়ের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/video/bangladesh/t4o7076lvv">নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি, কৌতুক করে বললেন নাভি পিল্লাই</a></aside>

অক্টোবর ১০, ২০২৬
রাশিয়া ৩ লাখ টন ডিজেল বিশ্ববাজারে ছাড়ছে
রাশিয়া ৩ লাখ টন ডিজেল বিশ্ববাজারে ছাড়ছে

চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ টন ডিজেল বিশ্ববাজারে ছাড়বে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল ছাড়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জমিয়তের
শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জমিয়তের

শেখ হাসিনাকে দ্রুত হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমন ও জ্বালানির দাম কমানোর দাবি জানান নেতারা।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
ইমরানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চ কেন ছয় দিনেও পাখতুনখাওয়ার বাইরে যেতে পারেনি
ইমরানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চ কেন ছয় দিনেও পাখতুনখাওয়ার বাইরে যেতে পারেনি

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে কেন্দ্র সরকার তার আলোচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
নাভি পিল্লাইয়ের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি
নাভি পিল্লাইয়ের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রসারে অবদানের জন্য শান্তিতে নোবেল পেলেন জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারপ্রধান এবং আইসিজে বিচারক নাভি পিল্লাই।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
লন্ডনে কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: ব্রিটেনের কারিশিল্পের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা সম্মানিত
লন্ডনে কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: ব্রিটেনের কারিশিল্পের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা সম্মানিত

ব্রিটেনের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ে কারিশিল্পের সাফল্য ও উদ্যোক্তা-স্পৃহাকে সম্মান জানাতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হলো ১৭তম কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬। রেস্তোরাঁ, শেফ, টেকঅ্যাওয়ে প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সেরাদের এ আয়োজনে পুরস্কৃত করা হয়।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন