রাবির তিন ভবনে বসছে পাঁচটি লিফট, পরিদর্শনে উপাচার্য
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সয়াবিন তেলে মাত্রাতিরিক্ত সিসাসহ ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত খবরকে ‘অপপ্রচার’ বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/l11cq5ji/Untitled-1.jpg"></figure><p>দুই দশক আগে যাত্রার শুরু থেকেই আধুনিক আবাসিক প্রকল্প নির্মাণ করছে কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংস। সময় যত গড়িয়েছে, ততই প্রতিষ্ঠানটি বৈচিত্র৵ময় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প করছে প্রতিষ্ঠানটি।</p><p>২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১৭টি আবাসন প্রকল্প গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিয়েছে কমপ্রিহেনসিভ। এসব প্রকল্পে ফ্ল্যাট দুই হাজারের বেশি। আবাসিক প্রকল্পের বিপরীতে বাণিজ্যিক প্রকল্পে নজর কম তাদের। এ পর্যন্ত মাত্র একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প নির্মাণ করছে তারা এবং একটি চলমান ও শান্তিনগরে ৮ লাখ ৭৮ হাজার বর্গফুটের একটি বৃহৎ প্রকল্প অপেক্ষমান।</p><p>কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রকল্প না করে ঢাকার অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক প্রকল্প নির্মাণ করেছে কমপ্রিহেনসিভ। তাদের প্রকল্পগুলো ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, গুলশান, বনানী, পশ্চিম ধানমন্ডি, শ্যামলী, মগবাজার, উত্তরা, বসুন্ধরা, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, সেন্ট্রাল রোড, এলিফেন্ট রোড, ঝিগাতলা, আফতাবনগর, মালিবাগ, পুরান ঢাকা ও মোহাম্মদপুরসহ অনেক এলাকায় রয়েছে। </p><p>জানা যায়, বর্তমানে ৪০টি আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে কমপ্রিহেনসিভ। এসব প্রকল্পে এক হাজারের বেশি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার ৮৮ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প ‘কমপ্রিহেনসিভ আমিনাবাদ হাউজিং’। এই প্রকল্পে চারটি টাওয়ারের পাশাপাশি পাঁচতলা একটি পৃথক কমিউনিটি ভবন ও শিশুদের খেলার জায়গা থাকবে। </p><p>প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের মূল দর্শন হচ্ছে—মানসম্মত নগর আবাসন, সঠিক লোকেশন এবং গ্রাহকের আস্থাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করা। তাই প্রকল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে নকশা, নির্মাণ, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, হস্তান্তর ও বিক্রয়োত্তর সেবা—প্রতিটি ধাপকে একইভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। </p><p>নির্মাণের মান নিশ্চিত করতে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট, ইট, স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের মান যাচাই করা হয়। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজের মান পর্যবেক্ষণের জন্য মাননিয়ন্ত্রণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথাও জানালেন কর্মকর্তারা।</p><p>প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ করার কথা জানালেন কমপ্রিহেনসিভের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, ভবনের কাঠামোগত নকশায় ভূমিকম্পপ্রবণতা বিবেচনায় রাখা হয়। অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী আগুন শনাক্ত ও নির্বাচনব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন ও অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম রাখা হয়। প্রকল্পের ধরন ও নকশা অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তার পরিকল্পনাকে পুরো ভবনের নকশার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিরাপত্তা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, এটি একটি দায়িত্বশীল আবাসন প্রকল্পের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।</p><p>জানা যায়, নির্মাণকাজের শেষে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পরও গ্রাহকসেবা চালু রাখে কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংস। নির্মাণসংক্রান্ত সমস্যা, ফিনিশিংয়ের ত্রুটি বা কারিগরি বিষয়ে অভিযোগ এলে গ্রাহকসেবা ও কারিগরি দল তা যাচাই করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়।</p><p>কমপ্রিহেনসিভের কর্মকর্তারা বলেন, আগামী দিনের আবাসন প্রকল্পে বিভিন্ন শ্রেণির পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপার্টমেন্টের আকার, মূল্য পরিশোধের কাঠামো ও জীবনযাপনের সুবিধার সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।</p><p>প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম বলেন, কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংসের যাত্রার মূল প্রেরণা এসেছে বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল নগরজীবন এবং একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও পরিকল্পিত আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা থেকে।</p>
জেলেপাড়ার ছোট ছেলেদের দেখতাম সেখান থেকে কাশফুল নিয়ে এসে আমাদের বাসার একেবারে সামনে জেলেপাড়ার মন্দিরের গেটে লাগিয়ে রেখেছে। এই মন্দিরের ভেতরেই পূজার দু–আড়াই মাস আগে থেকে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি শুরু হয়ে যেত। সেই প্রতিমার কাঠামোর পেছনে কেউ এসে লাগিয়ে দিত কাশফুল।
<p>রাঙামাটির সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে নতুন করে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে দুটি আঞ্চলিক সংগঠন। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। দুর্গাপূজার ছুটিতে রিসোর্ট ও কটেজের বুকিং বাতিল হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।</p><p> খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপূজার ছুটি ঘিরে আগামী শুক্রবার থেকে চলতি ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেকের অধিকাংশ রিসোর্ট ও কটেজে শতভাগ বুকিং ছিল। তবে প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ ডাকার পরপর পর্যটকেরা বুকিং বাতিল করছেন।</p><p> সাজেক জুমঘর রিসোর্টের ব্যবস্থাপক লিগা রায় ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর সাজেক এখন পর্যটকশূন্য। পূজার ছুটিতে আমাদের রিসোর্টের সব রুম বুকিং ছিল। কিন্তু এখন সবাই বুকিং বাতিল করছেন। ব্যবসার মূল মৌসুমে আমাদের বিপুল লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।’</p><p>সাজেক খোয়াল বুক রিসোর্টের ব্যবস্থাপক সমিরন চাকমা বলেন, তাঁদেরও পুরো রিসোর্ট বুকিং ছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকেরা বুকিং বাতিল করছেন। এতে তাঁদের রিসোর্ট থেকেই প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বুকিং ফি ফেরত দিতে হচ্ছে।</p><p>সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, সাজেকের পর্যটনের সঙ্গে অনেক মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ মানুষ জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েছেন। দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে সংকট কেটে যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।</p><p>সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই দ্রুত পর্যটনকেন্দ্রটি খুলে দেওয়া হবে।</p><p>এর আগে গত রোববার সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি নামের দুটি সংগঠন সাজেকে অবরোধ শুরু করে। সংগঠন দুটির অভিযোগ, ওই এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে আঞ্চলিক দল জেএসএস (সন্তু লারমা)। দলটি স্থানীয় জনসাধারণকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সমাবেশ করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবু ব্যবস্থা না নেওয়ায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।</p><p>তবে জেএসএসের দাবি, স্থানীয় জনসাধারণকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর দাবি ভিত্তিহীন। ইউপিডিএফের চাপে এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠন দুটি। জেএসএসের প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, সাজেকে নিরীহ জনগণের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের যে নিপীড়ন ও হয়রানি চলছে, সেসব আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।</p><p>অবরোধের কারণে গত রোববার পর্যটকবাহী যান সাজেক এলাকায় আটকা ছিল। এরপর ওই দিন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার কারণে সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।</p><p><strong>কাল থেকে আবার সড়ক অবরোধের ঘোষণা</strong></p><p>প্রশাসনের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে আবার সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।</p><p>আজ বুধবার দুই সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা স্বাক্ষর করেন।</p><p>বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকের মাচলঙ এলাকায় জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ করা হয়েছিল। তখন প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে অবরোধ স্থগিত করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও দাবি পূরণ হয়নি। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।</p><p>বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা মাচলঙ এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িতে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।</p><p><strong>২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্যটনকেন্দ্র খোলার দাবি</strong></p><p>খাগড়াছড়িতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। আজ বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে এ মানববন্ধন হয়। এতে বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবি জানান।</p><p>মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দুই আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করায় পাহাড়ের পর্যটন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।</p><p>মানববন্ধনে যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, সাজেকের পর্যটন খাতের সঙ্গে অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান জড়িত। তাঁরা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। এক দিন কাজ না থাকলে পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পর্যটনকেন্দ্রটি দ্রুত খুলে দেওয়া প্রয়োজন।</p><p>জেলা কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করে যখন-তখন পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যবসা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ থাকে। তাঁদের অনেকেই ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পর্যটনকেন্দ্র দ্রুত খুলে দেওয়া না হলে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। প্রয়োজনে হরতাল ও বড় সমাবেশের মতো কর্মসূচিও পালন করা হবে।</p><p>ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে সাজেকের বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে আগাম বুকিং ছিল। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকেরা সেখানে যেতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাজেক খুলে দেওয়া না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।</p>
হরিজন নারীদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শিক্ষা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা
<p>দেশের সব বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি পদ্ধতি বহালের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট আজ বুধবার রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।</p><p> এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ১৬ মার্চ এক স্মারকে সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তিপ্রক্রিয়া বাতিলের কথা জানায়। পরে জানানো হয়, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভতি পরীক্ষা নেওয়া হবে। শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারিতে ভর্তি নেওয়া হবে। </p><p>লটারি পদ্ধতি বাতিলসংক্রান্ত গত ১৬ মার্চের স্মারক নিয়ে মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্ন্যান্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ আবেদনকারী হয়ে ৭ অক্টোবর রিটটি করেন। রিটটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ২৯ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী জাহিদুর রহমান তালুকদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. কামাল পারভেজ।</p><p>প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি থাক—এ নিয়েই রিটটি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী জাহিদুর রহমান তালুকদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে ও গবেষণা করে ভর্তিপ্রক্রিয়ার বিষয়ে নীতিমালা করা হোক। দুই দিন পরপর ভর্তি প্রক্রিয়া পরিবর্তন যেন না করা হয়। অবকাশকালীন বেঞ্চ নিয়মিত আদালতে যেতে বলে রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। অবকাশ শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত বেঞ্চ বসবেন। শুনানির জন্য রিটটি হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।</p><p>এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর পর থেকে এই পদ্ধতিই বহাল ছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ১৬ মার্চ এক স্মারকে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে। এরপর আসন্ন শিক্ষাবর্ষে (২০২৭) সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এসব বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে। আর দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/2lsslum2aw">প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষার মাধ্যমে</a></aside><p>রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি ও ওপরের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত যাবতীয় কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।</p><p>ওই ঘোষণা অনুসরণে প্রথম শ্রেণি ও অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান ভর্তি-ব্যবস্থা বহাল রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। শিক্ষাসচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিবকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।</p>
বছরের ৩৬৫ দিনই পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে টি–টুয়েন্টি চলার এই রমরমা সময়েও কীর্তিটা বিরলই।
তুরস্কের উপকূলে এমনই একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। তাঁদের ধারণা, এটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। প্রায় ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছর আগে
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির একটি প্রস্তাব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিপুল ভোটে পাস হয়েছে । এদিকে, বাংলাদেশের গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকায় ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের ওষুধ কারখানার আগুন চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পতায়...
বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউ ইয়র্কে বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে রাশিয়া ও চীন ইরানকে সাহায্য করছে।
২০২৬ সালের 'ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার'-এর বিজয়ী হাতির এমন এক বিরল আচরণ ক্যামেরাবন্দী করেছেন, যা তাদের আবেগীয় জীবনের জটিলতাকে উন্মোচন করে।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডান ফুসফুসের নিম্নাংশ অপসারণের পর পোপের ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে।
এ বছরের বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে মৃত শাবক বহনকারী হাতি, মোরে ঈলের সন্তান প্রসবের মুহূর্তের মতো চমকপ্রদ ছবি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় এখন জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। একইসঙ্গে তার দলের প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করা হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকদের সঙ্গে সরকারের এই অচলাবস্থা পরিস্থিতি কমানোর পরিবর্তে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণায় ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন প্রায় ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী; আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসছে; আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল– ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
ভাইকিংরা কোন রকম আড়ম্বর ছাড়াই পৌঁছেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে, যাদের প্রত্যাবর্তনে কোনো রাজকীয় ঘোষণা দেয়া হয়নি, কিংবা সড়কে ভিড় করে কেউ তাদের অভ্যর্থনাও জানায়নি। কিন্তু সময় হিসেব করলে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ৫০০ বছর আগেই তারা আমেরিকার মাটিতে পদার্পন করেছিলেন।
উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফোর্সেস কোরিয়ার কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রুনসন।
ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার জানিয়েছেন, দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আগুন লাগার পরপরই সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আগুন নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জীবন রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এ সংকটময় সময়ে এগিয়ে আসা সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। বিএনপি যা বলে, তা করে দেখায়। আমরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো মিথ্যা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিই না। নারীদের সংসারের খরচ মেটাতে সহায়তা করার লক্ষ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন জন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
মৃৎশিল্পের কারিগর সমীরচন্দ্র পাল বলেন, আমরা চুক্তিভিত্তিক কাজ করি। অনেক সময় মাটির জন্য বসে থাকতে হয়। যারা মাটি নিয়ে আসেন, তাঁরা পুলিশের ঝামেলার সম্মুখীন হন। তাই আমরা যাতে সব সময় মাটি পেতে পারি, সে ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মোংলা-বেনাপোল রেলপথ উদ্বোধনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বাগেরহাটের রামপালের ভাগা রেলস্টেশন চালু হয়নি।