শিল্প

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

অক্টোবর ৭, ২০২৬
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার
<p>শ্রমিক সংগঠনের দাবির মুখে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠিত হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।</p><p> জানা যায়, গত সপ্তাহে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।</p><p>বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। প্রথমেই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে থেকে তাদের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে। তারপরই মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ তিনি জানান, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের নাম পাওয়া গেলে চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।</p><p>সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর নির্ধারণ করেছে। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। আর কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। আগামী নভেম্বরে মজুরি ঘোষণার তিন বছর পূর্ণ হবে।</p><p>শ্রম আইন সংশোধন হওয়ার পর, নাকি আগে থেকে তিন বছর সময় গণনা করা হবে, তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ভিন্নমত রয়েছে। শ্রমিকনেতারা বলছেন, আইন অনুযায়ী চলতি বছরই নতুন মজুরিকাঠামো করতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের নেতারা বলছেন, আইন পাসের পর থেকেই সময় গণনা হওয়া উচিত।</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার বলেন, মালিক, শ্রমিক ও সরকারের শ্রমসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সেখানে সম্ভব না হলে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় যাবে। সেখানেও না হলে সরকারের উচ্চপর্যায় সিদ্ধান্ত নেবে।</p><p>২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হয়। এ ক্ষেত্রে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মজুরিকাঠামোতে সাতটি গ্রেডের বদলে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।</p><p>জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। একই সঙ্গে বাড়তি মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি পোশাক কারখানার রয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। বর্তমান মজুরিকাঠামোতে বহু কারখানা টিকতে না পেরে বন্ধ হয়েছে। নতুন করে মজুরি বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।</p>

Prothomalo

View more
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে

<p>রাজধানীর পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।</p><p> মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আজ বুধবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p><p> আজ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আন্দোলন চলাকালে এই শিক্ষক ছাত্রদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার। তিনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক।</p><p>রাষ্ট্রপক্ষের এমন বক্তব্যের সময় কাঠগড়ার রেলিং ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন অধ্যাপক জামাল উদ্দিন।</p><p>এর আগে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জামিন চান। তিনি বলেন, আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।</p><p>আদালত সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন।</p><p>আদালতে দাখিল করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত হন। তখন পুলিশ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। ওই সময় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করে।</p><p>পুলিশের দাবি, তদন্তে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থন, অপরাধের ষড়যন্ত্র এবং সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।</p><p>এর আগে গত ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা থেকে একটি পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মুঠোফোনের তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ গ্রেপ্তার ও অন্যান্য খবর
মুঠোফোনের তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ গ্রেপ্তার ও অন্যান্য খবর

মুঠোফোনের তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার। এছাড়া দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে...

অক্টোবর ৭, ২০২৬
হুতিদের নতুন হামলা, ইয়েমেনে কি আবার বড় যুদ্ধের শুরু?
হুতিদের নতুন হামলা, ইয়েমেনে কি আবার বড় যুদ্ধের শুরু?

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। বাব আল-মানদেব ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি

অক্টোবর ৭, ২০২৬
শেয়ারবাজারে ‘অবাঞ্ছিত’ সালমান বেক্সিমকোর পর্ষদ থেকেও বাদ
শেয়ারবাজারে ‘অবাঞ্ছিত’ সালমান বেক্সিমকোর পর্ষদ থেকেও বাদ

শেয়ারবাজারে ‘অবাঞ্ছিত’ সালমান বেক্সিমকোর পর্ষদ থেকেও বাদ

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ভালোবাসার ‘জাদুকর’ থেকে বিচ্ছেদ, কেন আলাদা হলেন প্রীতম-শেহতাজ?
ভালোবাসার ‘জাদুকর’ থেকে বিচ্ছেদ, কেন আলাদা হলেন প্রীতম-শেহতাজ?

ভালোবাসার ‘জাদুকর’ থেকে বিচ্ছেদ, কেন আলাদা হলেন প্রীতম-শেহতাজ?

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মতিঝিলের হিরাঝিল হোটেলকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
মতিঝিলের হিরাঝিল হোটেলকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

<p>রাজধানীর মতিঝিলের হিরাঝিল হোটেলকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। হোটেলটির রান্নাঘর অপরিষ্কার, লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা উপকরণ না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এ জরিমানা করা হয়।</p><p> নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, হোটেলটির রান্নাঘরের মেঝে নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে ছিল। সেখানে ঢাকনাবিহীন ময়লার পাত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া লেবেলবিহীন ঘি সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে দেখা যায়। খাদ্যকর্মীদেরও কোনো স্বাস্থ্যসুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।</p><p>আজ বুধবার হোটেলটিতে অভিযানকালে হোটেল কর্তৃপক্ষ পানি পরীক্ষার সনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এসব অনিয়মের কথা স্বীকার করায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী হোটেলটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।</p><p>নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুপম দাস অনুপের নেতৃত্বে মতিঝিলে হিরাঝিল হোটেলে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মেহরিন যারীন তাসনিম, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আসলাম ভূঁইয়াসহ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
নিত্যপণ্যের যোগসাজশমূলক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ সংসদীয় কমিটির
নিত্যপণ্যের যোগসাজশমূলক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ সংসদীয় কমিটির

<p>নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যোগসাজশমূলক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়।</p><p> বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোজ্যতেল, ডিম, মুরগি, আটা, ময়দা, চাল, পেঁয়াজ, আলু ইত্যাদি সামগ্রীর যোগসাজশমূলক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।</p><p>বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলার রায় ও আদেশের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তি, যোগসাজশ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মতো কার্যক্রমকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে কমিটিকে জানানো হয়।</p><p>আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশপাশি বিদেশে বাণিজ্য মিশনে পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নিতে বলেছে কমিটি।</p><p>কমিটির সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, মো. বরকতউল্লা বুলু, হেলেন জেরিন খান, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজী এনামুল হক এবং আবদুল মুনতাকিম অংশ নেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করছে যে স্কুল
স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করছে যে স্কুল

<p>একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুধু পাঠ্যবই, পরীক্ষা কিংবা ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো একজন শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে সে নিজের চিন্তা প্রকাশ করতে পারে, নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী হয় এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। সেই ভাবনা থেকেই ঢাকার উত্তরায় গড়ে উঠেছে ‘স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ (এসআইএসবি)’। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী ও মানবিক একটি শিক্ষাব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। </p><h3>অভিভাবকদের স্বপ্ন থেকে গড়া এসআইএসবি </h3><p>এসআইএসবির প্রতিষ্ঠার গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘কোভিড-১৯’ মহামারির সময়ের অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা। তখন অনলাইন ক্লাসের সময় টিউশন ফি নিয়ে অনেক পরিবারকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ফি দিতে না পারায় পরীক্ষা দিতে না দেওয়া, অনলাইন ক্লাস থেকে বাদ দেওয়া কিংবা ভর্তি বাতিলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। এর প্রেক্ষাপটে অভিভাবকেরা অনলাইন ক্লাস চলাকালীন ৫০ শতাংশ টিউশন ফি ওয়েভারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে সেই অভিজ্ঞতা থেকেই অভিভাবকেরা একটি মানবিক ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তাঁদের সেই উদ্যোগ ও স্বপ্নের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে এসআইএসবি।</p><h3>প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান </h3><p>শিক্ষার্থীদের বয়স ও শিক্ষাস্তর অনুযায়ী এখানে রয়েছে প্রি-স্কুল, প্রাইমারি ও সিনিয়র সেকশন। আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির অংশ হিসেবে ১৬টি শ্রেণিকক্ষে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ডিসপ্লে বোর্ড। এর মাধ্যমে পাঠদানকে আরও অংশগ্রহণমূলক (ইন্টারঅ্যাকটিভ) করে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পাঠের বিষয়গুলো শুধু পড়ে নয়, বিভিন্ন দৃশ্য ও ডিজিটাল উপকরণের মাধ্যমেও বোঝার সুযোগ পাচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/0yw7wn5g/02.-ImageStepping-stone-School.jpeg"><figcaption>আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী ও মানবিক একটি শিক্ষাব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ</figcaption></figure><h3>বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও প্রতিভা বিকাশের যত সুযোগ </h3><p>শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক শেখার সুযোগও রয়েছে। এসআইএসবিতে রয়েছে মোট চারটি ল্যাব—ফিজিকস, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি ও কম্পিউটার। এসব ল্যাবে বিভিন্ন ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বিষয়ের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সংযোগ তৈরি করছে।</p><p>শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশে রয়েছে ১৪টি ক্লাব। কারাতে, রোবোটিকস, স্পোর্টস, আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস, ল্যাঙ্গুয়েজ, ম্যাথ, সায়েন্স, মিউজিক, ডিবেট, গিটার, প্রোগ্রামিং, দাবাসহ বিভিন্ন ক্লাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পড়াশোনার বাইরে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা চর্চার ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে।</p><h3>স্কুলের সঙ্গে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা </h3><p>এসআইএসবির সঙ্গে অভিভাবকদের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁদের উদ্যোগের মধ্য দিয়েই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা। তাই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্কুল পরিচালনায় অভিভাবকদের অংশগ্রহণ ও মতামত প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।</p><h3>আন্তর্জাতিক শিক্ষার সঙ্গে সংযোগ </h3><p>শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিসরের সঙ্গে পরিচিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিসাই গ্লোবাল স্কুল ইউকে, আইডব্লিউপিজি কোরিয়া, স্প্রিক্স ইনক. জাপান এবং পিওর লার্নিং ইউকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/68nx7x0l/03.-ImageStepping-stone-School.jpeg"><figcaption>এসআইএসবির বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা</figcaption></figure><h3>আন্তর্জাতিক কারিকুলাম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ </h3><p>এসআইএসবিতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পার্টনার স্কুল হিসেবে কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ডের কিউএ কারিকুলাম অনুসরণ করে পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইউরোপীয় ও আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপসহ সরাসরি ভর্তির সুযোগ রয়েছে।</p><h3>শিক্ষক নিয়োগ </h3><p>এসআইএসবিতে তিন ধাপের যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও শিক্ষাদানের সক্ষমতা বিবেচনায় দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের এসআইএসবিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।</p><h3>অর্জন ও স্বীকৃতি </h3><p>ছয় বছরের পথচলায় বিভিন্ন অর্জনও এসেছে এসআইএসবির। ‘বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরাম’–এর অনলাইন জরিপে ২০২৫ সালে ঢাকার সেরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তালিকায় সপ্তম এবং ২০২৬ সালে ‘সেরা ভ্যালু ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল’–এর তালিকায় সপ্তম স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।</p><p>এ ছাড়া আইডব্লিউপিজি ইন্টারন্যাশনাল আর্ট কম্পিটিশনে এসআইএসবির একজন শিক্ষার্থী বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এই স্কুলের শিক্ষার্থী ২০২৬ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল রোবোটিকস প্রোগ্রাম কনটেস্টে অংশগ্রহণ করে এবং তার দল ১১তম স্থান অর্জন করে।</p><h3>ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি </h3><p>সাশ্রয়ী ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, কার্যক্রমভিত্তিক শিক্ষাপদ্ধতি, দক্ষ শিক্ষক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির সুযোগ—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিস্তৃত শিক্ষার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে এসআইএসবি।</p><p>স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা নয়; বরং তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও গভীর দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটানো। আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা বিশ্বমানের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকবে।’</p><figure></figure><h3>বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ </h3><p>বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ (এসআইএসবি)। প্রতিষ্ঠানটিতে এসব শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার পাশাপাশি নানা সহায়ক ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হয়েছে।</p><p>সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উপযুক্ত পরিবেশ, যত্ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও তাদের মেধা ও সক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে পারে। সঠিক শিক্ষার সুযোগ পেলে এসব শিশু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এসআইএসবির এই উদ্যোগকে তাঁরা অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।</p><h3>স্কুলের মানবিক উদ্যোগ </h3><p>স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সামাজিক ক্লাবের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর দুই ঈদে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে উপহার এবং শীতকালে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।</p><p>আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্কুলে বিভিন্ন বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে ‘সিঙ্গেল মাদার’ ও ‘সিবলিং’ স্কলারশিপে ২৫–৩০ শতাংশ, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের ‘হার্ডশিপ’ স্কলারশিপে ৫০ শতাংশ, মেধাভিত্তিক বৃত্তিতে ২৫ থেকে ৭৫ শতাংশ এবং অভিভাবকের মৃত্যু হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০০ শতাংশ পর্যন্তও বৃত্তি দেওয়া হয়।</p><p>একটি শিশুর সম্ভাবনা শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। তার চিন্তা, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও স্বপ্নও ভবিষ্যৎ গঠনের অংশ। সেই সম্ভাবনাকে ধাপে ধাপে বিকশিত করে আগামী দিনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করাই এসআইএসবির অন্যতম লক্ষ্য।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
‘দিওয়ানা’ থেকে ‘জোছনা করেছে আড়ি’, যে ১০ গানে চেনা যায় বেগম আখতার
‘দিওয়ানা’ থেকে ‘জোছনা করেছে আড়ি’, যে ১০ গানে চেনা যায় বেগম আখতার

<p>প্রথম কয়েকটি রেকর্ডে তেমন সাড়া মেলেনি। নতুন শিল্পীকে নিয়ে আর ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে কি না, উঠেছিল সেই প্রশ্নও। কিন্তু কলকাতার মেগাফোন রেকর্ড কোম্পানির জিতেন্দ্রনাথ ঘোষ আস্থা হারাননি। এরপর একটি গজল বদলে দিল হিসাব—‘দিওয়ানা বানানা হ্যায় তো দিওয়ানা বানা দে’। আখতারি বাঈ ফৈজাবাদীর নাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। পরে যাঁকে সংগীতের পৃথিবী চিনে বেগম আখতার নামে।</p><p>আজ ৭ অক্টোবর বেগম আখতারের জন্মবার্ষিকী। ১৯১৪ সালের এই দিনে ভারতের ফৈজাবাদে জন্ম নেওয়া শিল্পীকে বলা হয় ‘মল্লিকা-ই-গজল’—গজলসম্রাজ্ঞী। কিন্তু তাঁর সংগীতজীবনের প্রভাব গজলের চেয়ে বড়। ঠুমরি, দাদরা, বাংলা গান, এমনকি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও আছে সেই জীবনে। আজ দশটি গান ধরে ফিরে দেখা যাক তাঁর শিল্পী হয়ে ওঠা, গায়কির বৈশিষ্ট্য ও বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক।</p><p>গবেষক আবুল আহসান চৌধুরীর ‘বেগম আখতার ফিরায়ে দিয়ো না মোরে শূন্য হাতে’ প্রবন্ধে উঠে এসেছে শিল্পীর এই প্রতিষ্ঠাপর্বের গল্প। মেগাফোনের পরবর্তী কর্ণধার কমলকুমার ঘোষের স্মৃতিচারণা উদ্ধৃত করে তিনি জানিয়েছেন, গানটির রেকর্ড লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছিল। এটি কমল ঘোষের স্মৃতিনির্ভর হিসাব; তবে গজলটি যে আখতারের খ্যাতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, তার উল্লেখ রয়েছে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসের আর্কাইভেও।</p><p><strong>যে গজলে খ্যাতির শুরু</strong><br>‘দিওয়ানা বানানা হ্যায় তো দিওয়ানা বানা দে’র রচয়িতা বেহজাদ লখনভি। আবুল আহসান চৌধুরীর লেখায় উঠে এসেছে, মেগাফোনের জিতেন ঘোষ শুধু রেকর্ড প্রকাশ করেননি; স্নেহ, শাসন ও নিয়মিত রেওয়াজের তাগিদ দিয়ে বেগম আখতারকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন। কমল ঘোষের স্মৃতিচারণা রয়েছে, জিতেন ঘোষের মৃত্যুর পরও কোনো কোনো আসরে তাঁর ছবি বের করে শ্রদ্ধা জানিয়ে গান শুরু করতেন বেগম আখতার।<br>কলকাতা তাঁর জীবনে তাই কেবল কর্মস্থল ছিল না; এখানে সংগীতানুষ্ঠান, রেকর্ড, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র—একাধিক মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালে বিহারের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে কলকাতার আলফ্রেড থিয়েটারের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর গজল ও দাদরা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিল। ভারতীয় শিল্পকেন্দ্রের আর্কাইভে এ অনুষ্ঠানের উল্লেখ আছে। প্রতিষ্ঠার সেই পথে ‘দিওয়ানা’ হয়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/42amwmsc/WhatsApp_Image_2026_10_07_at_8_26_46_PM.jpeg"><figcaption>আজ ৭ অক্টোবর বেগম আখতারের জন্মবার্ষিকী</figcaption></figure><p><strong>প্রেমের পরিণতিতে কান্না</strong><br>‘অ্যায় মোহাব্বত তেরে আনজাম পে রোনা আয়া’ লিখেছেন শাকিল বদায়ুনি। সারেগামার প্রকাশিত গানের তথ্যেও তাঁর নাম রয়েছে। বেগম আখতারের পরিচয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে থাকা এই গজলে প্রেমের স্মৃতি কান্না ডেকে আনে যেন!</p><p>যে সন্ধ্যা একসময় আশা নিয়ে কেটে যেত, আজ সেই সন্ধ্যাই বিষণ্নতার কারণ। কবিতার ভাব এক হলেও অভিযোগের ঠিকানা বদলায়—কখনো ভাগ্য, কখনো পৃথিবী, কখনো নিজের ব্যর্থ হৃদয়। এই পরিবর্তনগুলো খেয়াল করলে গানটি শুধু বিচ্ছেদের বিলাপ হয়ে থাকে না; প্রেমে আহত মানুষের নানা অনুভূতির পরিচয় পাওয়া যায়। এমটাই বলছে এ গান।<br>বেগম আখতার কীভাবে গানকে শ্রোতার ব্যক্তিগত অনুভূতি করে তুলতেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন রবিশঙ্কর। আবুল আহসান চৌধুরীর প্রবন্ধে উদ্ধৃত ‘রাগ-অনুরাগ’ বইয়ের স্মৃতিচারণায় রবিশঙ্কর বলেছেন, তাঁর গান শুনে আসরের প্রত্যেক শ্রোতার মনে হতো, শিল্পী যেন তাঁর উদ্দেশেই গাইছেন। বেগম আখতারের গানের আবেদন বুঝতে এই মূল্যায়নটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/9auhdd2s/WhatsApp_Image_2026_10_07_at_9_17_35_PM.jpeg"><figcaption>মঞ্চে শিল্পী </figcaption></figure><p><strong>প্রিয়জনকে কাছে ডাকার দাদরা</strong><br>‘হামরি অটরিয়া পে আও সাঁওয়ারিয়া’ শুনলে গজলের বাইরে বেগম আখতারের আরেকটি পরিচয় সামনে আসে। কেননা এটি দাদরা। ভারতীয় শিল্পকেন্দ্রের আর্কাইভে রচনাটি প্রচলিত গান হিসেবে চিহ্নিত। তাদের তালিকায় ১৯৭১ সালের একটি রেকর্ডেও গানটির উল্লেখ রয়েছে।</p><p>এখানে প্রিয়জনকে কাছে আসার আহ্বান আছে, দেখা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে, আছে মান-অভিমান মিটিয়ে ফেলার ইচ্ছা। ‘অ্যায় মোহাব্বত’-এর আহত প্রেমিকের পাশে যেন দাঁড়ায় সম্পর্কের দূরত্ব ঘোচাতে চাওয়া আরেক মানুষ।<br>বেগম আখতারের সংগীতশিক্ষার গোড়ায় ছিলেন সারেঙ্গিবাদক ওস্তাদ ইমদাদ খাঁ। পরে পাতিয়ালা ঘরানার ওস্তাদ আতা মোহাম্মদ খাঁর কাছে তালিম নেন। খেয়ালের পাশাপাশি ঠুমরি, দাদরা ও গজলের শিক্ষা তাঁর সংগীতজীবনকে গড়ে দেয়। ‘হামরি অটরিয়া’ সেই বৈচিত্র্য বোঝার একটি সহজ পথ। শিল্পকেন্দ্রের ঘটনাপঞ্জি অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের পাকিস্তান সফরেও এই দাদরা গেয়ে বারবার শ্রোতাদের প্রশংসা পেয়েছিলেন তিনি</p><p><strong>জোছনার সঙ্গে বাংলার অভিমান!</strong><br>বাংলাভাষী শ্রোতার কাছে বেগম আখতারের নাম মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ‘জোছনা করেছে আড়ি’ই যথেষ্ট। গানটির কথা ও সুর রবি গুহ মজুমদারের—সারেগামার নিজস্ব বাংলা প্রকাশনায় এ তথ্য রয়েছে। শিল্পকেন্দ্রের রেকর্ড তালিকা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের একটি রেকর্ডের এক পিঠে ছিল এই গান, অন্য পিঠে ‘এ মৌসুমে পরদেশে’।<br>এখানে জোছনা যেন অভিমানী এক মানুষ। চারপাশে তার উপস্থিতি অথচ সে আসে না কথকের বাড়িতে। পরিচিত আলো, বাড়ি ও গলির চিত্রকল্পে ধরা পড়ে অপেক্ষা আর বঞ্চনা। </p><p>বেগম আখতারের বাংলা গানের পেছনে সংগীতজ্ঞ জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের বিশেষ ভূমিকা ছিল। তাঁর স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, কলকাতা বেতারের জন্য তিনি বেগম আখতারকে দিয়ে ঠুমরি ও দাদরা অঙ্গে বাংলা গান প্রস্তুত করিয়েছিলেন। </p><p><strong>তরুণ কবির লেখা, কিংবদন্তির কণ্ঠ</strong><br>‘কুছ তো দুনিয়া কি ইনায়াত নে দিল তোড় দিয়া’র রচয়িতা সুদর্শন ফাকির। পৃথিবীর আচরণ ও জীবনের তিক্ত পরিস্থিতি কীভাবে হৃদয় ভাঙে, তার কথা রয়েছে এই গজলে। প্রেমের কষ্টের সঙ্গে মিলেমিশে যায় জীবনের অন্য আঘাতও।<br>দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের জন্মশতবর্ষের লেখায় বলা হয়েছে, জলন্ধরের অল ইন্ডিয়া রেডিওতে বেগম আখতারের সঙ্গে ফাকিরের পরিচয় হয়। নিজের কবিতা দেখালে শিল্পীর পছন্দ হয় এই গজল এবং ‘ইশক মে গয়রত-এ-জজবাত নে রোনে না দিয়া’। বেগম আখতারের কণ্ঠ তরুণ কবির লেখাকে বৃহত্তর শ্রোতাদের কাছে নিয়ে যায়। শিল্পকেন্দ্রের রেকর্ড তালিকায় ১৯৬৯ সালের একটি দীর্ঘ রেকর্ডে ‘কুছ তো দুনিয়া’র উল্লেখ রয়েছে।</p><p><strong>বন্ধু হয়ে প্রতারণা কোরো না</strong><br>‘মেরে হামনফস মেরে হামনওয়া’ লিখেছেন শাকিল বদায়ুনি। এখানে আপনজনের কাছে আবেদন—বন্ধু হয়ে প্রতারণা কোরো না! প্রেমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বাস, আর সেই বিশ্বাস হারানোর আশঙ্কা। <br>বেগম আখতারের এই গানের প্রকাশিত সংস্করণে সুরকার হিসেবে খৈয়ামের নাম পাওয়া যায়। শিল্পকেন্দ্রের ঘটনাপঞ্জি ও রেকর্ড তালিকা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে এইচএমভির একটি দীর্ঘদৈর্ঘ্যের রেকর্ডে গানটি প্রকাশিত হয়। একই রেকর্ডে ছিল ‘দূর হ্যায় মঞ্জিল, রাহেঁ মুশকিল’সহ আরও কয়েকটি গজল। বেগম আখতারের পরিণত বয়সের রেকর্ডজীবন ও খৈয়ামের সঙ্গে কাজের পরিচয় মেলে এই গানেও।</p><p><strong>একজন মনে রেখেছেন, অন্যজন হয়তো ভুলেছেন</strong><br>মোমিন খাঁ মোমিনের লেখা ‘ওহ জো হাম মে তুম মে করার থা’য় ফিরে আসে পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি। প্রতিশ্রুতি, আদর, অভিযোগ, কথায় কথায় অভিমান—একজনের সব মনে আছে। অন্যজনের মনে আছে কি না, সেই সংশয় কবিতায় বারবার ফিরে আসে।<br>নির্বাচিত গজলের তালিকায় এই রচনা রয়েছে। শিল্পকেন্দ্রের রেকর্ড তালিকায় ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত একটি রেকর্ডেও গানটির উল্লেখ আছে। একই পিঠে ছিল ‘উজর আনে মে ভি হ্যায়’ ও ‘উলটি হো গয়ি সব তদবিরেঁ’। বেগম আখতারের মৃত্যুর পর প্রকাশিত এই রেকর্ডে পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে পুরোনো উর্দু কবিতার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রচনা।</p><p><strong>গালিবের অন্তহীন অপেক্ষা</strong><br>‘ইয়ে না থি হামারি কিসমত’ মির্জা গালিবের লেখা। প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিত হতে না পারার বেদনা দিয়ে শুরু। আরও বেঁচে থাকলেও সেই অপেক্ষাই চলত—এমন উপলব্ধির পাশে রয়েছে প্রতিশ্রুতি, সংশয় ও আক্ষেপ।</p><p>গালিবের কবিতা তাঁর সংগীতজীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছিল। শিল্পকেন্দ্রের আর্কাইভ অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালে গালিবের মৃত্যুবার্ষিকীর শতবর্ষের আয়োজনে তিনি অংশ নেন এবং গালিবের গজলের একটি দীর্ঘদৈর্ঘ্যের রেকর্ড প্রকাশ করেন। ‘ইয়ে না থি হামারি কিসমত’ তাঁর কণ্ঠে গালিবকে শোনার একটি পরিচিত পথ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/gmuc536j/ENT_4_jpg.jpeg"></figure><p><strong>কোয়েলিয়াকে থামতে বলা বাংলা গান</strong><br>‘কোয়েলিয়া গান থামা এবার’-এর কথা ও সুর জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের। সারেগামার নিজস্ব বাংলা সংকলনে এই পরিচয় দেওয়া আছে। শিল্পকেন্দ্রের তালিকা অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের একটি রেকর্ডের এক পিঠে ছিল এই গান, অন্য পিঠে ‘পিয়া ভোলো অভিমান’।<br>বেগম আখতারের বাংলা গান শুধু ভাষা বদলে গাওয়া কিছু রচনা ছিল না; এর সঙ্গে যুক্ত ছিল কলকাতা বেতার ও জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের উদ্যোগ। আবুল আহসান চৌধুরীর প্রবন্ধে উদ্ধৃত জ্ঞানপ্রকাশের স্মৃতিচারণা বেতারে গান বিস্তারের সুযোগের কথা এসেছে। পরে রেকর্ডে ধরা পড়া এই গানগুলো বাংলাভাষী শ্রোতার কাছে তাঁর সংগীতের আরেকটি দরজা খুলে দেয়।</p><p><strong>মৃত্যুর পর প্রকাশিত এক আকুতি</strong><br>‘ফিরায়ে দিয়ো না মোরে শূন্য হাতে’ বেগম আখতারের বাংলা গানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। এর গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরকার জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ।<br>গানটির শিরোনামেই রয়েছে ফিরে না যাওয়ার আকুতি। প্রার্থনা ও বঞ্চিত হওয়ার ভয় পাশাপাশি থাকে। আগের গানগুলোর প্রেম, অভিমান ও অপেক্ষার সঙ্গে এই আবেদনও যুক্ত হয়, তবে এবার ভাষা বাংলা।<br>বেগম আখতার সেবার  মেহবুব খানের ‘রোটি’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের জলসাঘর-এও তাঁকে দেখা গেছে। পর্দায় উপস্থিতির পাশাপাশি বাংলা গানের রেকর্ডে তিনি রেখে গেছেন তাঁর কণ্ঠের আলাদা পরিচয়। ৩০ অক্টোবর ১৯৭৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।<br><sup>তথ্যসূত্র: কালি ও কলম, ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসের বেগম আখতার আর্কাইভ।</sup></p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন