রাবির তিন ভবনে বসছে পাঁচটি লিফট, পরিদর্শনে উপাচার্য
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সয়াবিন তেলে মাত্রাতিরিক্ত সিসাসহ ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত খবরকে ‘অপপ্রচার’ বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
<p><strong>প্রথম আলো:</strong> <em>মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আপনারা অনেক দিন ধরেই অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করছেন। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে খরচ বেড়েছে। এই চ্যালেঞ্জ আপনারা কীভাবে মোকাবিলা করছেন?</em></p><p><strong>শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম: </strong>মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন চাহিদা পূরণ করা আমাদের ব্যবসায়িক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বর্তমান সময়ে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, জমির উচ্চমূল্য এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে আবাসন নির্মাণের ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে একদিকে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রাখা, অন্যদিকে নির্মাণের গুণগত মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রকল্পের পরিকল্পনা, নির্মাণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছি আমরা। তার জন্য কার্যকর নকশা তৈরি ও নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে দক্ষতা বাড়ানোয় জোর দিচ্ছি। একই সঙ্গে ক্রেতাদের চাহিদা ও সামর্থ্য বিবেচনায় রেখে ফ্ল্যাটের আয়তন ও বিন্যাস নির্ধারণ করছি।</p><p><strong>প্রথম আলো: </strong><em>আমরা দেখছি, প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলো ১ কোটি টাকার নিচে ফ্ল্যাট দিতে পারছে না। তবে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকায় দিতে পারছে। তারা পারলেও আপনারা পারছেন না কেন?</em></p><p><strong>শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম:</strong> ফ্ল্যাটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতি বিবেচনা করলে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। প্রকল্পের অবস্থান, জমির মূল্য, ফ্ল্যাটের আয়তন, ভবনের নকশা, নির্মাণের মান এবং সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে ফ্ল্যাটের দাম নির্ধারিত হয়। তাই ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ফ্ল্যাটের সঙ্গে আমাদের প্রকল্পের তুলনা করতে হলে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ছোট আয়তনের ফ্ল্যাট বা ভিন্ন অবস্থানের প্রকল্পে তুলনামূলক কম মূল্য নির্ধারণের সুযোগ থাকতে পারে।</p><p>আমরা মনে করি, ক্রেতাদের কাছে মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি স্বচ্ছ হওয়া উচিত। একটি ফ্ল্যাট কেনার সময় শুধু প্রাথমিক মূল্য নয়, নির্মাণের গুণগত মান, কাঠামোগত নিরাপত্তা, ভবনের সুযোগ-সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতাও বিবেচনা করা জরুরি। আমাদের লক্ষ্য হলো ক্রেতাদের এমন একটি পণ্য দেওয়া, যা তাঁদের বর্তমান প্রয়োজনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদাও পূরণ করতে পারে। তবে মধ্যবিত্তের জন্য আরও সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ প্রয়োজন, সেটি আমরা স্বীকার করি। এ জন্য ভবিষ্যতে প্রকল্পে জমির ব্যবহার ও নকশার কার্যকারিতা বাড়িয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণের সুযোগ খুঁজতে চাই আমরা।</p><p><strong>প্রথম আলো:</strong> <em>ক্রেতারা এখন কোন ধরনের ফ্ল্যাটে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন? </em></p><p><strong>শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম:</strong> বর্তমানে ক্রেতারা এমন ফ্ল্যাটের প্রতি বেশি আগ্রহী, যেখানে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী জায়গার সঠিক ব্যবহার, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়। বিশেষ করে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস, কার্যকর কক্ষবিন্যাস, পর্যাপ্ত পার্কিং, লিফট এবং শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী পরিবেশের বিষয়গুলো ক্রেতাদের বিবেচনায় থাকে। আমরা ক্রেতাদের এই পরিবর্তিত চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পের নকশা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করি। আমাদের কাছে একটি আবাসন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শুধু ফ্ল্যাট নির্মাণ ও বিক্রি করা নয়; বরং এমন একটি বসবাসের পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে একটি পরিবার দীর্ঘ মেয়াদে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারে।</p><p><strong>প্রথম আলো: </strong><em>আবাসন ব্যবসায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে মন্দা চলছে। এখানে গতি ফেরাতে কী ধরনের উদ্যোগ দরকার বলে মনে করেন?</em></p><p><strong>শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম:</strong> আবাসন খাতের বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ খাতের সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন ও সরবরাহ, পরিবহন, প্রকৌশল, স্থাপত্য এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তাই আবাসন খাতের গতি ফিরিয়ে আনা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ক্রেতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী আবাসন ঋণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নির্মাণসামগ্রীর বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। নির্মাণ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হলে ফ্ল্যাটের মূল্যও ক্রেতাদের সামর্থ্যের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে। তৃতীয়ত, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ও কমে আসবে।</p><p>সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশের আবাসন চাহিদা পূরণে শুধু শহরের ভেতরে নতুন প্রকল্প নির্মাণের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পরিকল্পিতভাবে শহরের সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে রাজধানীর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো যায়। নতুন এলাকায় সড়ক, গণপরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে উন্নত ও সুন্দর নগর গড়ে তোলা সম্ভব। এতে আবাসন ব্যয় কমানোরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।</p><p><strong>প্রথম আলো:</strong><em> আগামী বছরগুলোতে আপনারা কী ধরনের প্রকল্প করার পরিকল্পনা করছেন? </em></p><p><strong>শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম: </strong>আগামী দুই থেকে তিন বছরে আমরা পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসন প্রকল্পের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। এ ক্ষেত্রে কন্ডোমিনিয়াম বা কনডো-ধাঁচের প্রকল্প এবং ন্যূনতম ১০ কাঠা আয়তনের জমিতে উন্নয়নযোগ্য প্রকল্প আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা এমন প্রকল্প করতে আগ্রহী, যেখানে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার, আধুনিক স্থাপত্য, নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং বসবাসের স্বাচ্ছন্দ্য একসঙ্গে নিশ্চিত করা যাবে।</p><p><br><strong>ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম</strong></p><p>ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংস</p>
৫০০ টাকার বাজিতে জীবন্ত শালিক খেয়ে ফেললেন, পরে গ্রেপ্তার
<p>ব্রেস্ট ক্যানসার বা স্তন ক্যানসার নারীদের অন্যতম ক্যানসার। তবে আশার কথা হলো, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার সুযোগ ও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু শুরুতে অনেক সময় কোনো ব্যথা, চাকা বা স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। এ কারণেই বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। স্ক্রিনিংয়ে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।</p><ul><li><p>সাধারণ ঝুঁকির নারীদের ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৭৪ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি দুই বছরে একটি স্ক্রিনিং ম্যামোগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ম্যামোগ্রামের উদ্দেশ্য হলো কোনো উপসর্গ হওয়ার আগেই স্তনের সন্দেহজনক পরিবর্তন বা ক্যানসার শনাক্ত করা।</p> </li><li><p>তবে সবার ঝুঁকি এক নয়। যাঁদের বিআরসিএ–১ বা বিআরসিএ–২ জিনের মিউটেশন, খুব শক্তিশালী পারিবারিক ইতিহাস, অল্প বয়সে শরীরের ঊর্ধ্বাংশে রেডিয়েশন নেওয়ার ইতিহাস থাকে, তাঁদের জন্য আরও আগে এবং ঘন ঘন স্ক্রিনিং প্রয়োজন হতে পারে।</p> </li><li><p>অনেকের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়স থেকে প্রতিবছর ব্রেস্ট এমআরআইয়ের সঙ্গে ম্যামোগ্রাম বিবেচনা করা হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।</p> </li><li><p>৭৫ বছরের পর নিয়মিত স্ক্রিনিং চালিয়ে যাওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করে ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য, অন্যান্য রোগ, সম্ভাব্য আয়ু এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। স্তনে নতুন চাকা, নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক স্রাব, ত্বক কুঁচকে যাওয়া, নিপল ভেতরে ঢুকে যাওয়া কিংবা স্তনের আকারে নতুন পরিবর্তন হলে স্ক্রিনিংয়ের বয়সের জন্য অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখুন, স্ক্রিনিং উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর নয়। বরং উপসর্গের আগেই রোগ শনাক্ত করার চেষ্টা।</p></li></ul><p><strong>ডা. আরমান রেজা চৌধুরী</strong>, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা</p>
<p>ভারতে বিজেপি সরকারের বিরোধীরা যন্তর মন্তর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ বুধবারও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দফায় দফায় যন্তর মন্তর অভিমুখে মিছিলে শামিল হন বাম ও কংগ্রেসের ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। পুলিশ অবশ্য কাউকেই বেশি দূর এগোতে দেয়নি। বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।</p><p> সিপিএমের ছাত্রসংগঠন এসএফআই ও যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের মিছিল আজ দুপুরে ফিরোজ শাহ রোড থেকে শুরু হয়। প্রায় একই সময় কংগ্রেসের ছাত্র ও যুব সংগঠন এনএসইউআই ও যুব কংগ্রেসের কর্মীরা আচমকা মিছিল শুরু করেন যন্তর মন্তরের অদূরে প্যাটল চক মেট্রোস্টেশনের সামনে থেকে। কিছুটা এগোতেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার কাছে পুলিশ মিছিলকারীদের পথ রোধ করে। বেশ কিছুক্ষণ দুপক্ষে ধস্তাধস্তি চলে। তারপর তাঁদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। ফিরোজ শাহ রোড থেকে আটক করা হয় সিপিএমের রাজ্যসভার সদস্য ভি শিবদাসনকে।</p><p>ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের (এসআইআর) নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুবিধা হচ্ছে। এ কারণে বিরোধীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন।</p><p>এসআইআরের নামে ভারতে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মুসলিমরাও রয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় কারিগরি ত্রুটি এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।</p><p>ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে দুজন সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই কংগ্রেস, সিজেপিসহ বিরোধীরা সিইসির পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলনের ডাক দেয়।</p><p>সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস রাজধানী দিল্লির বহু স্থানে হোর্ডিংও টাঙিয়েছে। স্পষ্টতই, কংগ্রেস এই লড়াই সর্বাত্মক করতে চাইছে।</p><p>আজ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে ৫ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাঁদের যন্তর মন্তর থেকে আটক করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের আরজি মেনে মন্দির মার্গ থানা এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট এই সিদ্ধান্ত নেন। দুই নেতাকে তিহার জেলে আলাদা সেলে রাখা হয়েছে। পুলিশের আরজি ছিল, ওই নেতারা মুচলেকা অমান্য করে যন্তর মন্তরে ঢুকেছেন। শান্তি ভঙ্গ করেছেন। তাঁদের ছেড়ে দিলে আবার তাঁরা অশান্তি সৃষ্টি করবেন।</p><p>দিল্লি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোট ও সিজেপিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোটের আলাদা আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছিল। আশুতোষ ও সৌরভকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানাজানি হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আজ সকালেই সরকার ও দিল্লি পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। সে জন্য তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষতার লক্ষণ।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/5zt1cml9/india-demo1.JPG.JPG"><figcaption>বিক্ষোভের সময় শরীরে লাগানো ক্যামেরা ব্যবহার করছেন পুলিশের এক সদস্য। ১৪ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লি</figcaption></figure><p>এই মন্তব্যের সঙ্গেই রাহুল বলেন, ‘ছাত্র , তরুণ, সাংবাদিক, ইন্ডিয়া জোট—প্রত্যেকের ব্যানার আলাদা হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন।’</p><p>দলীয় নেতাদের কারা হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন সিজেপি আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকেও। আজ সকালেই নাগপুর থেকে এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘ওদের অপরাধ কী? যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীজি, একটু সাহস দেখান। এভাবে ভিন্নমত দমাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে বরং জরুরি অবস্থা জারি করে দিন। কাপুরুষের মতো কৌশলের আড়ালে লুকোনোর দরকার নেই।’</p><p>লক্ষণীয়, রাহুল ও অভিজিৎ দুজনেই একই দিনে একই সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কাপুরুষ বললেন। দুজনেই জানালেন, তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, দুপক্ষ ক্রমশই কাছাকাছি আসছে।</p><p>তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আজ সিজেপি নেতাদের কারাগারে পাঠানোর নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের দিদি তোমাদের সঙ্গে আছে। চিরকাল থাকবেও।’</p><p>গত মঙ্গলবার নিজের বাসভবনে চা চক্রে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, আন্দোলনকর্মী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা–নেত্রীদেরও রাহুল আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বামপন্থী নেত্রী নেহা বোরা ও ঐশী ঘোষেরা সেখানে গিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণপত্রেই রাহুল জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের সবার লক্ষ্য এক। উদ্দেশ্য এক। আন্দোলন এক।’ তিনি বলেন, ‘যন্তর মন্তর এ দেশের জনগণের। আমরা তা উদ্ধার করব।’</p><p>নাগপুর থেকে অভিজিৎ আজ দুপুরেই দিল্লি আসেন। নাগপুর থেকেই তিনি সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। দিল্লি এসেও বলেন, ‘আশুতোষ ও সৌরভ যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা তোলার অপরাধে জেলে গেলেন। ব্রিটিশ আমলে ঠিক এমনটাই হতো। আজ নরেন্দ্র মোদি ঠিক সেই কাজ করছেন।’</p><p>উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য যখন এক, তখন সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোট কেন আলাদা আলাদা আন্দোলন করছে, এই প্রশ্ন আজ নাগপুরে অভিজিৎকে করা হয়েছিল। সিজেপি আহ্বায়ক উত্তরে জানান, ‘আমাদের সবার লক্ষ্য এক। উদ্দেশ্যও এক। আমরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। কেননা, ওই ব্যক্তি ভোট চুরি করে নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করছেন।’</p><p>কেন তাঁরা একযোগে সেই লড়াই লড়ছেন না, সেই ব্যাখ্যায় অভিজিৎ বুঝিয়ে দেন, ইন্ডিয়া জোটের চরিত্র রাজনৈতিক। তাঁদেরটা আলাদা। তিনি বলেন, ‘সিজেপি রাজনৈতিক দল নয়। আমরা নিরপেক্ষ প্রেশার গ্রুপ। সিজেপি সব সময় এমনই থাকবে। কিন্তু এর অর্থ এমন নয়, আমরা ইন্ডিয়া জোটের বিরুদ্ধে।’</p><p>আজ রাহুল জনপথে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির করেন পুলিশের হাতে নির্যাতিত কয়েকজন তরুণ–তরুণীকে। জ্ঞানেশবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়া পুলিশ তাঁদের আটক করে কীভাবে অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে, তাঁরা একে একে সেই বিবরণ দেন।</p><p>রাহুল তাঁদের বলেন, অত্যাচারের প্রতিটি ভিডিও, প্রতিটি প্রমাণ তাঁরা যেন রেখে দেন। প্রতিটি প্রমাণ যেন তাঁর কাছে পাঠানো হয়। রাহুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আজ হোক কাল হোক, পূরণ হবেই। তারপর উঁচু থেকে নিচুতলা পর্যন্ত প্রত্যেককে তাঁদের কৃতকর্মের জন্য ফল ভোগ করতে হবে। মোদি–শাহ–জ্ঞানেশ থেকে শুরু করে নিচুতলার পুলিশ—কেউ পার পাবেন না। শাস্তি সবাইকে পেতে হবে।’</p>
রাজধানীতে ঘটতে থাকা দৃশ্যগুলো দেখে মনে হচ্ছে, গোটা দেশকেই যেন আরও বড় এক কাশ্মীরে পরিণত করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে যমুনা সেতুর গোলচত্বর এলাকায় দুই পিস্তলসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে এসআরবি। পরে তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জ থেকে আরও দুজনকে একটি পিস্তলসহ আটক করা হয়।
<p>পাঠকের পাঠানো ছবি থেকে বাছাই করা ছবি নিয়মিত প্রকাশিত হয় নাগরিক সংবাদে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/y46rbu11/201.jpg"><figcaption> গবাদিপশুর বিকল্প খাদ্য হিসেবে নদী থেকে কচুরিপানা তোলা হচ্ছে ঘোড়ার গাড়িতে। তুরাগ নদ, কাউন্দিয়া, সাভার, ঢাকা। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/ua0gjhr0/202.jpeg"><figcaption>পড়ন্ত বিকেলে খেলাধুলায় ব্যস্ত একদল কিশোর। কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/by9igj5i/203.jpg"><figcaption> শিউলিঝরা সকালে গ্রামের পথজুড়ে ছড়ানো ফুল কুড়াচ্ছে এক শিশু। মধ্যপাড়া ভরমোহনী, সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জ। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/wzehhlyi/204.jpg"><figcaption>সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই সাইকেলে চেপে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা। লক্ষ্মীকোলা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ১৩ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/cyxj2u28/205.jpg"><figcaption>এক্স সিটু লিভিং জিন ব্যাংক। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/1mca9u2s/206.jpg"><figcaption>ফুলেল আলোর আলোয় মায়া। দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/5k2acud1/207.jpg"><figcaption>পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা সাঙ্গু নদের তীরে বাঁধা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। থানচি, বান্দরবান। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/l11cq5ji/Untitled-1.jpg"></figure><p>দুই দশক আগে যাত্রার শুরু থেকেই আধুনিক আবাসিক প্রকল্প নির্মাণ করছে কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংস। সময় যত গড়িয়েছে, ততই প্রতিষ্ঠানটি বৈচিত্র৵ময় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প করছে প্রতিষ্ঠানটি।</p><p>২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১৭টি আবাসন প্রকল্প গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিয়েছে কমপ্রিহেনসিভ। এসব প্রকল্পে ফ্ল্যাট দুই হাজারের বেশি। আবাসিক প্রকল্পের বিপরীতে বাণিজ্যিক প্রকল্পে নজর কম তাদের। এ পর্যন্ত মাত্র একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প নির্মাণ করছে তারা এবং একটি চলমান ও শান্তিনগরে ৮ লাখ ৭৮ হাজার বর্গফুটের একটি বৃহৎ প্রকল্প অপেক্ষমান।</p><p>কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রকল্প না করে ঢাকার অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক প্রকল্প নির্মাণ করেছে কমপ্রিহেনসিভ। তাদের প্রকল্পগুলো ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, গুলশান, বনানী, পশ্চিম ধানমন্ডি, শ্যামলী, মগবাজার, উত্তরা, বসুন্ধরা, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, সেন্ট্রাল রোড, এলিফেন্ট রোড, ঝিগাতলা, আফতাবনগর, মালিবাগ, পুরান ঢাকা ও মোহাম্মদপুরসহ অনেক এলাকায় রয়েছে। </p><p>জানা যায়, বর্তমানে ৪০টি আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে কমপ্রিহেনসিভ। এসব প্রকল্পে এক হাজারের বেশি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার ৮৮ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প ‘কমপ্রিহেনসিভ আমিনাবাদ হাউজিং’। এই প্রকল্পে চারটি টাওয়ারের পাশাপাশি পাঁচতলা একটি পৃথক কমিউনিটি ভবন ও শিশুদের খেলার জায়গা থাকবে। </p><p>প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের মূল দর্শন হচ্ছে—মানসম্মত নগর আবাসন, সঠিক লোকেশন এবং গ্রাহকের আস্থাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করা। তাই প্রকল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে নকশা, নির্মাণ, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, হস্তান্তর ও বিক্রয়োত্তর সেবা—প্রতিটি ধাপকে একইভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। </p><p>নির্মাণের মান নিশ্চিত করতে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট, ইট, স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের মান যাচাই করা হয়। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজের মান পর্যবেক্ষণের জন্য মাননিয়ন্ত্রণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথাও জানালেন কর্মকর্তারা।</p><p>প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ করার কথা জানালেন কমপ্রিহেনসিভের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, ভবনের কাঠামোগত নকশায় ভূমিকম্পপ্রবণতা বিবেচনায় রাখা হয়। অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী আগুন শনাক্ত ও নির্বাচনব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন ও অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম রাখা হয়। প্রকল্পের ধরন ও নকশা অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তার পরিকল্পনাকে পুরো ভবনের নকশার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিরাপত্তা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, এটি একটি দায়িত্বশীল আবাসন প্রকল্পের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।</p><p>জানা যায়, নির্মাণকাজের শেষে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পরও গ্রাহকসেবা চালু রাখে কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংস। নির্মাণসংক্রান্ত সমস্যা, ফিনিশিংয়ের ত্রুটি বা কারিগরি বিষয়ে অভিযোগ এলে গ্রাহকসেবা ও কারিগরি দল তা যাচাই করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়।</p><p>কমপ্রিহেনসিভের কর্মকর্তারা বলেন, আগামী দিনের আবাসন প্রকল্পে বিভিন্ন শ্রেণির পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপার্টমেন্টের আকার, মূল্য পরিশোধের কাঠামো ও জীবনযাপনের সুবিধার সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।</p><p>প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম বলেন, কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংসের যাত্রার মূল প্রেরণা এসেছে বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল নগরজীবন এবং একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও পরিকল্পিত আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা থেকে।</p>
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির একটি প্রস্তাব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিপুল ভোটে পাস হয়েছে । এদিকে, বাংলাদেশের গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকায় ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের ওষুধ কারখানার আগুন চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পতায়...
বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউ ইয়র্কে বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে রাশিয়া ও চীন ইরানকে সাহায্য করছে।
২০২৬ সালের 'ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার'-এর বিজয়ী হাতির এমন এক বিরল আচরণ ক্যামেরাবন্দী করেছেন, যা তাদের আবেগীয় জীবনের জটিলতাকে উন্মোচন করে।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডান ফুসফুসের নিম্নাংশ অপসারণের পর পোপের ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে।
এ বছরের বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে মৃত শাবক বহনকারী হাতি, মোরে ঈলের সন্তান প্রসবের মুহূর্তের মতো চমকপ্রদ ছবি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় এখন জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। একইসঙ্গে তার দলের প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করা হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকদের সঙ্গে সরকারের এই অচলাবস্থা পরিস্থিতি কমানোর পরিবর্তে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণায় ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন প্রায় ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী; আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসছে; আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল– ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
ভাইকিংরা কোন রকম আড়ম্বর ছাড়াই পৌঁছেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে, যাদের প্রত্যাবর্তনে কোনো রাজকীয় ঘোষণা দেয়া হয়নি, কিংবা সড়কে ভিড় করে কেউ তাদের অভ্যর্থনাও জানায়নি। কিন্তু সময় হিসেব করলে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ৫০০ বছর আগেই তারা আমেরিকার মাটিতে পদার্পন করেছিলেন।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক জোট ‘বিমসটেক’-এর প্রথম স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলেও ঢাকার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।
মুন্সীগঞ্জে বিদেশি পিস্তল ও গুলি কেনাবেচার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা।
ঢাকার সাভার উপজেলার হেমায়েতপুরে মাদানী সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চার ইউনিট কাজ করছে।
ভোলা সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান ও ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফোর্সেস কোরিয়ার কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রুনসন।
ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা) এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার জানিয়েছেন, দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আগুন লাগার পরপরই সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আগুন নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জীবন রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এ সংকটময় সময়ে এগিয়ে আসা সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। বিএনপি যা বলে, তা করে দেখায়। আমরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো মিথ্যা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিই না। নারীদের সংসারের খরচ মেটাতে সহায়তা করার লক্ষ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।