প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকের স্বস্তি, কমেছে সরকারের ব্যয়

বরিশালে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনের দিকে ঝুঁকছে বিদ্যুৎবিভাগ। ইতিমধ্যে নতুন করে বরিশাল নগরীতে স্থাপন করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার প্রিপেইড মিটার।

সারা দেশ

View more
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Video news
সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

Follow us

Top week

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় দেড় হাজার হুথি যোদ্ধা হতাহত
আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় দেড় হাজার হুথি যোদ্ধা হতাহত

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0

Rss feed news

ডিসির মতবিনিময় সভায় ‘এমপির প্রতিনিধি’ হিসেবে বক্তব্য দিলেন অস্ত্র মামলার আসামি
ডিসির মতবিনিময় সভায় ‘এমপির প্রতিনিধি’ হিসেবে বক্তব্য দিলেন অস্ত্র মামলার আসামি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মতবিনিময় সভায় অস্ত্র আইনের মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
এলপিজি: বাজারে সংকট কাটেনি, দামও বাড়তি
এলপিজি: বাজারে সংকট কাটেনি, দামও বাড়তি

এলপিজি: বাজারে সংকট কাটেনি, দামও বাড়তি

অক্টোবর ৯, ২০২৬
গাজা যুদ্ধ মোদির ভারতকে যেভাবে ইসরায়েলের আরও কাছে নিল
গাজা যুদ্ধ মোদির ভারতকে যেভাবে ইসরায়েলের আরও কাছে নিল

<p>যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও নরওয়ে আগেই তাদের দেশে ইসরায়েলের উগ্র ইহুদিবাদী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে কথা বলেছিলেন।</p><p> ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) স্মোতরিচ ও তাঁর চরম ডানপন্থী সহকর্মী ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে জোটগতভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। সেই মাসের শেষ দিকে ইইউ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাও দেয়।</p><p> ঠিক ওই সময় ভারত স্মোতরিচকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়। তাঁর জন্য কয়েকটি শহর সফরের আয়োজন করে। নয়াদিল্লিতে তিনি একটি বাণিজ্যচুক্তি সই করেন। মুম্বাইয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ ঘুরে দেখেন। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে গিয়ে একটি নতুন বিনিয়োগকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।</p><p> ইসরায়েল তখন গাজায় জাতিগত নিধন চালিয়ে যাচ্ছিল। স্মোতরিচের ভারত সফরের দিনগুলোতেও ইসরায়েল বোমা হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন মানুষকে হত্যা করেছে। তবু নয়াদিল্লি ইসরায়েলের সঙ্গে ব্যবসা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত ছিল।</p><p>কয়েক দশক ধরে ভারত ছিল ফিলিস্তিনের সবচেয়ে দৃঢ় সমর্থক দেশগুলোর একটি। অন্যদিকে ইউরোপ ছিল ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষকদের অন্যতম। ২০১৪ সালে মোদি ও তাঁর কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসে। তখন থেকে ভারতের অবস্থান স্পষ্টভাবে বদলে যেতে থাকে।</p><p>তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্মোতরিচের সফরের চিত্র আরও নাটকীয় একটি বিষয় সামনে এনেছে। ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইউরোপও এখন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার থেকে সরে এসেছে। অথচ এ সময়ে গাজায় জাতিগত নিধনের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ভারতের ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।</p><p>চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফর করেন। নেতানিয়াহু তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছিলেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।</p><p>জেরুজালেমে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে দুই নেতাই বক্তব্য দেন। সেখানে নেতানিয়াহু মোদিকে বলেন, ‘আপনি ইসরায়েলের মহান বন্ধু। আপনি বন্ধুর চেয়েও বেশি। আপনি একজন ভাই।’</p><h3>৭ অক্টোবরের হামলা যেভাবে সুর বদলে দিল </h3><p>তিন বছর ধরে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে ইসরায়েল অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু রয়েছে। এ সংখ্যা যুদ্ধের আগের জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ৩০ জনে প্রায় ১ জন।</p><p>ঐতিহাসিকভাবে ভারত বলে এসেছে, সংঘাত মীমাংসার পথ কূটনীতি ও সংলাপ। সেটা রাশিয়া-ইউক্রেন হোক, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হোক কিংবা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন। নয়াদিল্লির অবস্থান ছিল, যুদ্ধে কোনো সমাধান আসে না।</p><p>কিন্তু আল–জাজিরার অনুসন্ধান ও অন্যান্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজায় চলমান গণহত্যামূলক যুদ্ধের মধ্যেও নয়াদিল্লি ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি করেছে। মোদির আমলে ভারত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা হয়ে উঠেছে।</p><p>২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা চালানো হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোদি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই ‘সন্ত্রাসী হামলার’ নিন্দা জানান। তিনি বলেন, তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’।</p><p>চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল সফরে গিয়ে মোদি ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার প্রসঙ্গ টানেন। ওই হামলা পাকিস্তানভিত্তিক যোদ্ধারা চালিয়েছেন বলে ভারত অভিযোগ করে আসছে। নয়াদিল্লি এ হামলার জন্য পাকিস্তান সরকারকে দায়ী করেছিল। মোদি বলেন, ‘আপনাদের মতো আমাদেরও সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কোনো দ্বৈত মানদণ্ড ছাড়াই শূন্য সহনশীলতার ধারাবাহিক ও আপসহীন নীতি রয়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/rfgu7jss/modi-2.webp"><figcaption>একটি উদ্ভাবন সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্মেলনে ইসরায়েল ও ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা (সিইও) অংশ নেন। তেল আবিব, ইসরায়েল, ৬ জুলাই ২০১৭</figcaption></figure><p>বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলকে হামলার শিকার দেশ হিসেবে তুলে ধরার কৌশল মোদিকে সুবিধা দিয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ভারতকে ইসরায়েলের আরও কাছে নেওয়ার যৌক্তিকতা দাঁড় করাতে পেরেছেন।</p><p>নয়াদিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াই বলেন, কয়েক দশক ধরে মোদির বিজেপির রাজনীতির বড় অংশ কথিত ‘ইসলামপন্থী সম্প্রসারণবাদ বা ইসলামি সন্ত্রাসবাদকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে’।</p><p>মোদির ইসরায়েলনীতি ও তাঁর দেশীয় রাজনীতির যোগসূত্রের দিকে ইঙ্গিত করে কিদওয়াই বলেন, ‘তাই এটা (ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কে) সহায়ক হয়। এই সম্পর্ক ভারতে যে দেশীয় বয়ান দেখা যায়, তারই সম্প্রসারণ হিসেবে দেখুন।’</p><p>বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের হিন্দু ডানপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে জায়নবাদী মতাদর্শ সমর্থন করে আসছে। মোদির বিজেপির শিকড় হিন্দুত্ববাদী দর্শনে। এই দর্শনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। সেই রাষ্ট্র হবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের হিন্দুদের স্বাভাবিক আবাসভূমি। ইসরায়েলও নিজেকে ঠিক এভাবে ইহুদিদের আবাসভূমি হিসেবে দেখে।</p><p>কিদওয়াই উল্লেখ করেন, ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ‘ভারতে মুসলিমবিরোধী মনোভাব সেই জায়গা পূরণ করছে’। অবশ্য এই মনোভাবের সঙ্গে ‘নয়াদিল্লির বাস্তববাদও যুক্ত। কারণ, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী একটি পক্ষ’।</p><p>নবদ্বীপ সুরি ভারতের সাবেক কূটনীতিক। তিনি মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, দুই দেশের মানুষে মানুষে সম্পর্কও ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। এই সম্পর্ক ‘বিশেষ করে ভারতীয় সমাজের সেই অংশের মধ্যে, যারা ইসরায়েলের পেশিশক্তিনির্ভর নীতির প্রতি গভীর অনুরাগী’।</p><p>ভারতের ডানপন্থী মহল থেকে মোদির প্রতি বারবার ইসরায়েলের মতো নীতি নেওয়ার আহ্বান এসেছে। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দমন-পীড়ন থেকে শুরু করে প্রতিবেশী পাকিস্তানে হামলা চালানো পর্যন্ত—নানা ক্ষেত্রে এমন দাবি উঠেছে।</p><p>সুরি বলেন, ইসরায়েলের দিকে ভারতের এই ঝুঁকে পড়া গাজায় চলমান জাতিগত নিধনের আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সাবেক এই কূটনীতিকের ভাষায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির আমলে যে সম্পর্ক মূলত গোপন বা আড়ালে ছিল, তা এখন অনেক বেশি প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।’</p><p>দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেকটি স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে সুরি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘দিল্লি স্বীকার করে, ইসরায়েল খুবই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা অংশীদার। নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে সত্যিকারের মিল রয়েছে।’</p><h3>ভারতের ‘নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নেওয়া উচিত’ </h3><p>ইউরোপে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতম মিত্রদের কয়েকটি এখন শুধু সমালোচনায় থেমে নেই। গাজায় জাতিগত নিধন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে তারা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউরোপের অন্তত ১১টি দেশ ও কানাডা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।</p><p>অনেক দেশ অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ও তাদের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এসব বসতি স্থাপনকারী ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। স্মোতরিচ ও বেন-গভিরের মতো মন্ত্রীদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশগুলো।</p><p>ভারত অবশ্য উপদেশমূলক বক্তব্য আর যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে হামলার মৃদু বিরোধিতার বাইরে কিছুই করেনি।</p><p>কূটনৈতিকভাবে নয়াদিল্লি এখনো দ্বি–রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান সমর্থন করে। অঞ্চলটিতে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ ও শান্তির আহ্বানও জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক সুরি বলেন, নয়াদিল্লির ‘এসব বিষয়ে আরও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নিতে পারা উচিত’।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/mv63y60c/modi-3.webp"><figcaption>অতিথি খাতায় সই করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (মাঝে)। পাশে দাঁড়িয়ে দেখছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও ইয়াদ ভাশেম হলোকাস্ট স্মৃতি জাদুঘরের চেয়ারম্যান দানি দায়ান। জাদুঘরের হল অব রিমেমব্রেন্সে শ্রদ্ধা জানানোর পর মোদি অতিথি খাতায় সই করেন। ইয়াদ ভাশেম হলোকাস্ট স্মৃতি জাদুঘর, জেরুজালেম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬</figcaption></figure><p>তবে নিজের দায়িত্ব পালনকালের অভিজ্ঞতা থেকে সুরি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল ও ভারতের সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে এতটাই ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে যে (ভারতে) ইসরায়েলের সমালোচনা করতে অনীহা দেখা যায়।’</p><p>সুরি আল–জাজিরাকে ব্যাখ্যা করে বলেন, এই অনীহা নানাভাবে প্রকাশ পায়। বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সমালোচনা করতে অস্বীকৃতি; গাজায় নৃশংস বলপ্রয়োগের সমালোচনা করতে অস্বীকৃতি; ইরানে হামলার সমালোচনা করতে এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন তুলে ধরতে অস্বীকৃতি।</p><p>রাজনৈতিক বিশ্লেষক কিদওয়াই বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের পার্থক্য আছে। ভারতের বর্তমান নেতাদের ‘সেই ধরনের গতিশীল চিন্তার ঘাটতি রয়েছে; তাঁরা বরং অনেক বেশি গোঁড়া’।</p><h3>ভারতের অবস্থান বদল ও মোদির হিসাব-নিকাশ </h3><p>গাজায় নেতানিয়াহুর নৃশংস ও প্রাণঘাতী হামলায় এমনকি ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসও ক্ষুব্ধ হয়েছে। অথচ সেখানে দুই দলই ইসরায়েলকে সমর্থন করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের বোমা হামলায় সমর্থন বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। আবার একই সময়ে তিনি ইসরায়েলের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনও দিয়েছেন।</p><p>তবে কোনো কিছুই নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির সৌহার্দ্যে চিড় ধরাতে পারেনি।</p><p>বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালানোর ঠিক আগে মোদি ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল সফর করেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরায়েল/ফিলিস্তিন কর্মসূচির পরিচালক ম্যাক্স রোডেনবেক আগে আল–জাজিরাকে বলেছিলেন, এই সফর ছিল ‘নেতানিয়াহুর প্রতি প্রায় ব্যক্তিগত অনুগ্রহ’। তাঁর মতে, ইসরায়েলে ঠিক যখন নির্বাচনী প্রচার শুরু হচ্ছে, তখন এই সফর ‘আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি বাড়িয়েছে’।</p><p>আগের দশকগুলোতে কোনো ভারতীয় নেতার কাছ থেকে এমন পদক্ষেপ অকল্পনীয় ছিল।</p><p>১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল ভারত। একসময় নয়াদিল্লিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ককে ভালো চোখে দেখা হতো না। এর পেছনে ছিল ভারতের ঔপনিবেশিকতাবিরোধী অতীতের উত্তরাধিকার। তবে অন্তত ১৯৭০-এর দশক থেকে দুই দেশের মধ্যে গোপন সম্পর্ক ছিল।</p><p>১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জায়নবাদকে বর্ণবাদের একটি রূপ আখ্যা দিয়ে প্রস্তাব আনা হয়। ভারত সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল। ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম অনারব দেশও ভারত। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে বিশ্বে সবার আগে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যেও ভারত ছিল। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ১৯৯২ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকার ধীরে ধীরে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে। তবে ২০১৭ সালে মোদিই প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটি সফর করেন।</p><p>কংগ্রেস এখন বিরোধী দলে। তবে মোদির আগে স্বাধীনতাপরবর্তী বেশির ভাগ সময় দলটিই ভারত শাসন করেছে। কিদওয়াই বলেন, কংগ্রেস ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনকে মুসলিম ভোটারদের কাছে টানার ক্ষেত্রেও সহায়ক মনে করত। শুধু ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানেই ভারতের চেয়ে বেশি মুসলিমের বাস। এর বিপরীতে মোদির হিন্দু-প্রথম রাজনীতি ভারতীয় মুসলিমদের ‘অপর’ করে তোলার ওপর ভর করে বিকশিত হচ্ছে।</p><p>কিদওয়াই আল–জাজিরাকে বলেন, মোদির দল মনে করে, ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নিয়ে তাদের লাভের কিছু নেই; বরং মোদি ইসরায়েলে হামলাকে তথাকথিত সন্ত্রাসের রাজত্ব ও ইসলামি উগ্রবাদের সঙ্গে জুড়ে দিতে চেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুক্তি দাঁড় করাতে চেয়েছেন। আর সেই গণ্ডির মধ্যেই সবকিছুর যৌক্তিকতা খুঁজে নেওয়া হয়।</p>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
প্রেমে প্রথম দেখার দিন যে ৫টি কথা বলবেন না
প্রেমে প্রথম দেখার দিন যে ৫টি কথা বলবেন না

<p>প্রথম দেখা পরিচিত হওয়ার শুরু, তাই মুহূর্তটি নিয়ে কমবেশি সবার মধ্যেই চাপা উত্তেজনা কাজ করে। কী পরবেন, কী বলবেন, সামনে থাকা মানুষটি আপনাকে পছন্দ করবেন কি না—এসব ভাবনা তো থাকেই। তার সঙ্গে যোগ হয় নিজের জীবন নিয়েও নানা প্রশ্নের সম্ভাবনা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/oaokmxdt/Kabir-Hossain-Kabir-Hossain9.JPG"><figcaption>প্রথম ডেটেই সব বিষয় নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়</figcaption></figure><p>আসলে প্রথম ডেট কোনো চাকরির সাক্ষাৎকার নয়। এখানে নিজের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে কাউকে সন্তুষ্ট করার প্রয়োজন নেই; বরং দুজন মানুষ কথা বলবেন, একে অপরকে জানবেন এবং দেখবেন—একসঙ্গে সময় কাটাতে তাঁরা কতটা স্বচ্ছন্দ। তাই কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে প্রথম দেখাতেই অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা কৈফিয়ত না দিলেও চলে।</p><h3>১. নিজের সীমারেখা</h3><p>প্রথম ডেটেই সব বিষয়ে স্বচ্ছন্দ হওয়া জরুরি নয়। আপনি হয়তো খুব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান না কিংবা কোথায় দেখা করবেন, সে বিষয়েও নিজের পছন্দ আছে। এসব জানাতে গিয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ‘এটা নিয়ে এখন কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না’—এ কথাটিই যথেষ্ট। </p><p>আপনার সীমারেখা অন্যজনের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে আলাদা যুক্তি দেখাতে হবে না; বরং প্রথম সাক্ষাতেই কেউ আপনার ‘না’কে সম্মান করছেন কি না, সেটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সুস্থ সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান। আপনার স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য অন্যজনের কারণ জানার প্রয়োজন নেই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/2ye4dodeg4">২০-এর কোঠায় যাঁরা এই কাজ করতেন, ৮০ বছর বয়সে তাঁরাই ছিলেন সবচেয়ে সুখী</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/rg33jbyt/539A4856.jpg"><figcaption>প্রথম ডেটেই নিজেকে পাল্টানোর চেষ্টা করলে পরে সেই আচরণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে</figcaption></figure><h3>২. জীবন এখনো পুরোপুরি গোছানো নয়</h3><p>প্রথমবারের দেখাতেই যে নিজের সব সাফল্য কিংবা নিজের সব ঘাটতি প্রকাশ করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। চাকরি এখনো পছন্দমতো হয়নি, ক্যারিয়ার বদলানোর কথা ভাবছেন, পড়াশোনা শেষ হলেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কার নয়—এসব নিয়ে হয়তো মনে হতে পারে, অন্যজন কী ভাববেন। কিন্তু মানুষের জীবন সব সময় একই গতিতে থাকে না। </p><p>কারও ক্যারিয়ার আগে গোছানো হয়ে যায়, কারও ব্যক্তিগত জীবন; কেউ আবার দীর্ঘ সময় ধরে নিজের জায়গা খুঁজতে থাকেন। তাই প্রথম দেখাতেই নিজের বর্তমান অবস্থাকে ন্যায্য প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। আপনি এখন যেখানে আছেন, সেটি আপনার জীবনের একটি পর্যায় মাত্র। ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা থাকতে পারে, আবার কিছু বিষয় এখনো অনিশ্চিতও হতে পারে। নিজের এই অনিশ্চয়তাকে লুকিয়ে নিখুঁত একটি জীবন দেখানোর চেয়ে স্বাভাবিক থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/8a8h7q0r/Kabir-Hossain-0144.jpg"><figcaption>প্রথম ডেটেই বোঝা ভালো—সামনের মানুষটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনার স্বাভাবিক ছন্দকে সম্মান করেন কি না</figcaption></figure><h3>৩. মেসেজের উত্তর দিতে দেরি হয়েছে</h3><p>সম্পর্কের শুরুতেই মেসেজের উত্তর কত দ্রুত দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অনেক সময় অদৃশ্য এক হিসাব শুরু হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা উত্তর দেওয়া হয়নি—কেন হয়নি, তার ব্যাখ্যাও যেন দিতে হবে। অথচ কাজের ব্যস্ততা, পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা—সবই জীবনের স্বাভাবিক অংশ। অবশ্যই কাউকে ইচ্ছা করে দিনের পর দিন উপেক্ষা করা আর ব্যস্ততার কারণে কয়েক ঘণ্টা পর উত্তর দেওয়া এক বিষয় নয়। </p><p>যোগাযোগে আগ্রহ থাকলে সেটি প্রকাশ করাও জরুরি। তবে প্রতিটি দেরির জন্য দীর্ঘ কৈফিয়ত দেওয়ার অভ্যাস সম্পর্কের শুরুতেই অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করতে পারে। একটি সম্পর্কের জায়গা এমন হওয়া উচিত, যেখানে মানুষ নিজের কাজ করতে গিয়ে অপরাধবোধে ভুগবেন না। তাই প্রথম ডেটেই বোঝা ভালো—সামনের মানুষটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনার স্বাভাবিক ছন্দকে সম্মান করেন কি না।</p><h3>৪. নিজের স্বভাবের জন্য ক্ষমা চাওয়া</h3><p>‘আমি একটু বেশি কথা বলি’, ‘আমি আসলে খুব চুপচাপ’, ‘আমি অনেক প্রশ্ন করি, কিছু মনে করবেন না’—প্রথম ডেটে নিজের স্বভাবের জন্য আগেই ক্ষমা চাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই থাকে। অবশ্য নিজের আচরণে অন্য কেউ অস্বস্তি বোধ করলে তা বোঝার চেষ্টা করা দরকার। কিন্তু শুধু অন্যজনকে খুশি করার জন্য নিজের স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বকে ছোট করে দেখানোর প্রয়োজন নেই। </p><p>আপনি কথা বলতে ভালোবাসেন, একটু লাজুক, অনেক প্রশ্ন করেন কিংবা নিজের মতামত সরাসরি জানান—এসবই আপনার ব্যক্তিত্বের অংশ। প্রথম ডেটেই নিজেকে পাল্টানোর চেষ্টা করলে পরে সেই আচরণ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে; বরং প্রথম দেখার অন্যতম উদ্দেশ্যই হওয়া উচিত—দুজন মানুষ নিজেদের স্বাভাবিক অবস্থায় কতটা স্বচ্ছন্দ থাকতে পারেন, তা বোঝা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/jj28dw2gvk">ঘুরে আসুন ঢাকার নতুন বিনোদনকেন্দ্র অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কে, যেখানে আছে মাছ, পাখি ও জলপ্রপাত</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/2s8ybwrw/_SY_2996.JPG"><figcaption>মনে রাখবেন, প্রথম ডেট কোনো চাকরির সাক্ষাৎকার নয়</figcaption></figure><h3>৫. এখনো সিঙ্গেল কেন</h3><p>প্রথম ডেটেই ‘তুমি এখনো সিঙ্গেল কেন?’ এমন প্রশ্ন আসতে পারে। প্রশ্নটি শুনে অনেকেই নিজের পুরোনো সম্পর্ক, বিচ্ছেদ, কেন কোনো সম্পর্ক টেকেনি—সবকিছুর বিস্তারিত বলতে শুরু করেন। অথচ একা থাকা এমন কোনো বিষয় নয়, যার সমাধান বা ব্যাখ্যা দিতে হবে। হয়তো আপনি ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, হয়তো নিজের মতো থাকতে চেয়েছেন, আবার হয়তো উপযুক্ত মানুষের সঙ্গে এখনো দেখা হয়নি।</p><p>কারণ যা–ই হোক, সেটি কতটা বলবেন, তা আপনার সিদ্ধান্ত। প্রথম দেখাতেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইতিহাস খুলে বলার বাধ্যবাধকতা নেই। আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা ভালো যে কেউ সিঙ্গেল কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর শুনে তাঁকে বিচার করার প্রবণতা থাকলে সেটিও খেয়াল করার মতো বিষয়।<br>প্রথম ডেট শুধু কাউকে পছন্দ করানোর সুযোগ নয়; দুজনের একে অপরকে জানারও সময়। তাই নিজের জীবন, সিদ্ধান্ত বা ব্যক্তিত্বের প্রতিটি দিকের ব্যাখ্যা না দিয়ে কথোপকথনকে স্বাভাবিক হতে দিন। প্রথম দেখা কোনো পরীক্ষা নয়, নিজের মতো থাকার জন্য এখানে কোনো কৈফিয়তেরও প্রয়োজন নেই।</p><p><sup>টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে হুমায়রা মাহজাবিন</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/ftzp3k00ic">শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন</a></aside>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
কোন পাখির গান সবচেয়ে মিষ্টি
কোন পাখির গান সবচেয়ে মিষ্টি

পরীক্ষার পদ্ধতি সহজ। ৮৪ জন মানুষকে বুনো পাখির ডাকের রেকর্ডিং শোনানো হলো। পাখি ছিল ১২৩ প্রজাতির। প্রতিটা ডাক শুনে তাঁদের নম্বর দিতে হলো, পাঁচের মধ্যে

অক্টোবর ৯, ২০২৬
‘আমার সাহিত্যিক জীবন স্রোতস্বিনী নদীর মতো’
‘আমার সাহিত্যিক জীবন স্রোতস্বিনী নদীর মতো’

<p>১৪ বছর বয়সে লেখালেখির শুরু। এরপর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে গল্প, উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনিতে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন <strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>। মুক্তিযুদ্ধসহ জীবনের নানা অভিঘাত তাঁর লেখকসত্তাকে সমৃদ্ধ করেছে। নিজের সাহিত্যিক জীবনকে তিনি বলেছেন, ‘স্রোতস্বিনী এক নদী’, যা কালের অভিজ্ঞতায় ধীরে ধীরে ‘ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ নদের’ রূপ নিয়েছে। সাহিত্য, জীবন ও সময়ের নানা প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে<em> প্রথম আলো</em>র পক্ষে কথা বলেছেন <strong>ফিরোজ এহতেশাম</strong>।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>আপনি একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সাহিত্যিক। চিকিৎসা করতে গিয়ে মানুষের মন সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা আপনার সাহিত্যিক দৃষ্টিকে কতটা প্রভাবিত করেছে?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: আমি ১৪ বছর বয়স থেকেই লিখছি। তখনই বড়দের সাহিত্য পাতায় আমার লেখা স্থান পেয়েছে। ছোটদের পাতায় তো নিয়মিত একজন লেখক ছিলাম আমি। একটি লেখা নয়, অসংখ্য লেখা।</p><p>বড় হয়ে ডাক্তারি পাস করারও অনেক বছর পর মানসিক ব্যাধিবিদ্যায় জ্ঞান অর্জন করি। তার আগেই আমার দু–দুটো বই বেরিয়ে গেছে। অগ্রণী ব্যাংক–শিশুসাহিত্য পুরস্কারও আমার ঝোলায় এসে জুটেছে। সুতরাং এই ভ্রান্ত ধারণা মন থেকে তাড়াতে হবে যে আমি মনোবিদ হওয়ার পর মানুষের মন জেনেছি, তারপর লিখেছি! আমি মনোবিদ হয়েছি মধ্য বয়সে। তবে হ্যাঁ, মানুষের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা তার লেখায় ছায়া ফেলে। এই বিদ্যা আমাকে আরও বেশি করে আমার লেখায় মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে।</p><p>চিন্তা করে দ্যাখো, আমাদের বাংলা সাহিত্যে কজন মনোবিদ লেখক এখন পর্যন্ত লিখছেন। আর কজন মনোবিদ না হয়েও বাংলা সাহিত্যকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন বিশ্বের দরবারে। সুতরাং এসব আলোচনায় না গিয়ে আমার সাহিত্যকে খোলাচোখে মূল্যায়ন করতে অনুরোধ করি।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>মানুষের গভীরতম ভয়, সংকট ও গোপন কথার মুখোমুখি তো আপনি হয়েছেন। সে অভিজ্ঞতা কি আপনার গল্প-উপন্যাসের চরিত্র নির্মাণে প্রভাব ফেলেনি?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: না, সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবে হ্যাঁ, মানুষের অনেক সংকট ও গোপন কথার মুখোমুখি হয়েছি সত্যি। তবে তার সবই মানুষের যাপিত জীবনের কথা, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘটে থাকে। বরং এটা বলা যায়, আমার পেশা কিছুটা আমার জীবনের অভিজ্ঞতাকে পোক্ত করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রত্যেক লেখকের নিজস্ব কলমের জাদু তাঁর লেখার ভেতরে মেশানো আছে।</p><blockquote>মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন মাথার ওপরে বোমা পড়ছে, আমি তখন গাড়ি চালিয়ে এয়ারফোর্সের মেডিক্যাল স্কোয়াড্রনে যাচ্ছি বাঙালি প্রসূতির বাচ্চা ডেলিভারি করতে! কাদা দিয়ে আমার গাড়িটিকে আমি লেপটে ফেলেছি, যেন ওপর থেকে না দেখা যায়। সেই রাস্তায় একটিও জনমানব নেই, শুধু আমি একাকী। আবার রাতের গভীর অন্ধকারে পাকিস্তানি ড্রাইভারের জিপে চড়ে চলেছি বাঙালি বন্দীদের চিকিৎসা করতে।</blockquote><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>আপনার লেখায় নারীজীবন ও নারীর মনস্তত্ত্বের নানা জটিলতা উঠে এসেছে। একজন নারী হিসেবে কোন অভিজ্ঞতাগুলো আপনাকে সবচেয়ে বেশি লিখতে বাধ্য করেছে?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: নারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে আমি লিখেছি বটে, তবে পুরুষের মনস্তত্ত্ব নিয়েও কম লিখিনি। যেহেতু আমি অনেক লিখেছি এবং নারীর কথা প্রায়ই লিখেছি, তাই এই লেখা বেশি হয়েছে। আমি ছেলেবেলা থেকে নারীর দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, হতাশা এবং অহেতুক মারধরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত, তাই এই সব লেখা বেশি হয়েছে।</p><p>নারীর জীবনের অনেক হতাশা আছে, যা শুরু হয় তার শৈশব থেকে, যখন সে দেখে সে বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও তার খাবারের পরিমাণ তার ছোট ভাইয়ের চেয়ে অনেক কম, তার হাত খরচের পরিমাণ তার চার বছরের ছোট ভাইয়ের চেয়ে অনেক কম, তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে, কেন? সেসব হতাশার ভেতর দিয়ে সাঁতার কেটে একজন মেয়েশিশুকে জীবনের পথে অগ্রসর হতে হয়। এসব অভিজ্ঞতা আমার লেখার ভেতরে হয়তো জারিত হয়ে আমাকে নারীদের বিষয়ে বেশি মনোযোগী করে তুলেছে।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>আপনার সাহিত্যিক জীবনের শুরু এবং আজকের অবস্থানের মধ্যে ফিরে তাকালে কোন জায়গাটিকে সবচেয়ে বড় বাঁক বলে মনে হয়?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: আমার সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়েছিল স্রোতস্বিনী এক নদীর মতো। কালের অভিজ্ঞতায় সেই নদী হয়তো ধীরে ধীরে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ নদের রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বড় বাঁক আমার জীবনে আছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আমার নাজুক অবস্থানের ওপর; বাঙালি মুসলমান হিসেবে আমার অসহায় অস্তিত্বের ওপর; স্বামীহীন, স্বজনহীন হয়ে বেঁচে থাকার সংকটের ওপর এবং নিজের জীবনের গভীরতম ঝুঁকি নিয়ে নিকট আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে নিরাপদে রাখার সংগ্রামের ওপর। প্রতিমুহূর্তের সেই সংগ্রামের কথা বলে শেষ করা যাবে না। সেই সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জীবনকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি।</p><p>মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন মাথার ওপরে বোমা পড়ছে, আমি তখন গাড়ি চালিয়ে এয়ারফোর্সের মেডিক্যাল স্কোয়াড্রনে যাচ্ছি বাঙালি প্রসূতির বাচ্চা ডেলিভারি করতে! কাদা দিয়ে আমার গাড়িটিকে আমি লেপটে ফেলেছি, যেন ওপর থেকে না দেখা যায়। সেই রাস্তায় একটিও জনমানব নেই, শুধু আমি একাকী। আবার রাতের গভীর অন্ধকারে পাকিস্তানি ড্রাইভারের জিপে চড়ে চলেছি বাঙালি বন্দীদের চিকিৎসা করতে। সে সময় আমি মানুষ, মানুষের জীবন, ধর্ম, দেশ, সমাজ, দেশপ্রেম, আনুগত্য সবকিছুর ভেতরে নাগরদোলার মতো ঘুরপাক খাচ্ছি। আমাকে কেউ সাহায্য করার নেই। আমার জীবনসঙ্গীটিও সঙ্গে নেই, যার কাছ থেকে আমি ধার করতে পারি সাহস।</p><p>আমার পরবর্তী জীবনে কেউ এ জন্য আমাকে কোনো বাহবা দেয়নি—না আমার পরিবার, না আমার সমাজ। সেই সময়কার অভিজ্ঞতা আমাকে মানবের জীবন ও তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।</p><blockquote>তিনি আমার আজীবনের জীবনসঙ্গী ছিলেন এবং সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে সাহিত্য রচনা করতেন। তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে মিলত না। আমি সম্পূর্ণভাবে পৃথক ও স্বাবলম্বী ছিলাম। সত্যি বলতে আমরা বোধ হয় দুজনের কেউই এসব নিয়ে কোনো দিন কথা বলিনি। লেখার সময় তিনি এক ঘরে, আমি অন্য ঘরে। তবে হ্যাঁ, বাংলা বানান নিয়ে আমি তাঁকে খুব জ্বালিয়েছি!</blockquote><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>বাস্তব মানুষ ও সাহিত্যিক চরিত্রের মধ্যে সীমারেখাটি আপনি কীভাবে নির্ধারণ করেন?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: এটি একজন লেখকের নিজস্ব বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা ও কল্পনাশক্তির ওপরে নির্ভর করে। তবে আমি কখনোই মানুষের অভিজ্ঞতাকে আমার নিজের কল্পনার ক্ষমতায় আত্মস্থ না করে ব্যবহার করিনি। আমি চিকিৎসক না হয়ে যদি একজন চাকরিজীবীও হতাম, তাহলেও একইভাবে লেখার চেষ্টা করতাম। তা না হলে সাহিত্য আর সাংবাদিকতায় তফাত থাকত না। তবে ভবিষ্যতের কথা বলতে পারি না। কারণ, আজকাল অনেক সাংবাদিকতা সাহিত্যকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে! সৈয়দ শামসুল হকও একদিন বলেছিলেন, ভবিষ্যতের সাহিত্য হবে পরিশ্রুত সাংবাদিকতা।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>সৈয়দ শামসুল হকের মতো একজন শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র সাহিত্যিকের জীবনসঙ্গী হওয়ায় আপনার নিজের লেখকসত্তা অন্তরালে পড়ে গেছে বলে মনে হয়েছে কি কখনো?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: কখনোই না। তিনি আমার আজীবনের জীবনসঙ্গী ছিলেন এবং সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে সাহিত্য রচনা করতেন। তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে মিলত না। আমি সম্পূর্ণভাবে পৃথক ও স্বাবলম্বী ছিলাম। সত্যি বলতে আমরা বোধ হয় দুজনের কেউই এসব নিয়ে কোনো দিন কথা বলিনি। লেখার সময় তিনি এক ঘরে, আমি অন্য ঘরে। তবে হ্যাঁ, বাংলা বানান নিয়ে আমি তাঁকে খুব জ্বালিয়েছি! নিজের লেখাকে আমি কোনো দিন হেলাফেলাও করিনি। বাস্তব জগতে আমি অনেক পাঠকের ভালোবাসা পেয়ে ধন্য হয়েছি।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে সাহিত্য নিয়ে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল? আপনারা কি পরস্পরের লেখা নিয়ে নির্মোহ সমালোচনা করতেন?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: আমরা আমাদের কোনো লেখা নিয়ে কোনো দিন আলোচনা করবার যেন সময়ই পাইনি! শুনতে অবশ্যই আশ্চর্য মনে হবে, তবে এটাই সত্যি। তাঁর অধিকাংশ লেখার সময় হয় তিনি দেশে, আমি বিদেশে; অথবা তিনি বিদেশে, আমি দেশে। আর একসঙ্গে যখন ছিলাম, দুজনের লেখা বেরোত, আমার কেন জানি খুব লজ্জা হতো আমার কোনো লেখার কথা নিজ মুখে বলতে। তবে তিনি মাঝেমধ্যে বলতেন, আমার লেখার রেঞ্জ নাকি অনেক বড়। ব্যস, এইটুকু। আরেক দিন শুনলাম তিনি একজনকে বলছেন, আমার ভ্রমণকাহিনিগুলো নাকি দুর্দান্ত। তবে আমি যে ভালো লিখি, এ কথা তো আমি বাংলা একাডেমি বইমেলার সময় একবার নিজেই<strong> </strong>বলেছিলাম।<strong> </strong>বস্তুত বাংলা একাডেমি পুরস্কার আমি যে বয়সে পেয়েছি, সে বয়সে মানুষের কবরে থাকার কথা!</p><blockquote>সাফল্য জীবনে এল কি এল না, তা আমার মাথাব্যথা নয়। পৃথিবীর বহু লেখক ও শিল্পী তাঁদের জীবদ্দশায় সাফল্য চোখে দেখেননি, কিন্তু তাঁরা অমর হয়ে আছেন। আবার পৃথিবীর বহু লেখক জীবনে সাফল্য দেখেছেন, কিন্তু মৃত্যুর পর হারিয়ে গেছেন। পাঠকের মনে থাকাটাই একজন লেখকের লেখার সাফল্য।</blockquote><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>একজন লেখকের ব্যক্তিজীবন কতটা তাঁর সাহিত্যের বিষয় হতে পারে? নিজের জীবনকে সাহিত্যে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কি আপনার কোনো সীমারেখা ছিল?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: সাহিত্য একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উপাদানে তৈরি হয় বলে আমার ধারণা। জগৎ ও জীবন, বাস্তব অভিজ্ঞতা, বই পড়ার অভিজ্ঞতা, নিজের ব্যক্তিগত শৈশবের অভিজ্ঞতা, প্রেম, ভালোবাসা, ঈর্ষা, ক্ষয়, ক্ষোভ, মনোমালিন্য, রাজনীতি, যুদ্ধ—সবই লেখার উপজীব্য। তবে সাহিত্যে এর উপস্থাপন লেখকের হাতের জাদুর ওপর নির্ভর করে।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে আপনি যে বই বা চরিত্রগুলো সৃষ্টি করেছেন, সেগুলোর দিকে আজ ফিরে তাকালে কোন কাজটিকে নিজের সবচেয়ে কাছের বলে মনে হয়?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: সব কাজই আমার কাছের। কোনো কাজই হেলাফেলার নয়। সাহিত্যের প্রতিটি অক্ষরে আমার ঘাম ও মেধা জড়িত। যেন এরা সব নিজেরই ঔরসজাত সন্তান। তবে লিখে আনন্দ পেয়েছি<em> নিঃশব্দতার ভাঙচুর</em>, <em>ব্যবহৃতা</em>, <em>নখ</em>, <em>অস্থিরতার কাল</em>, <em>ভালোবাসার সময়</em>, <em>গুজরিপঞ্চম</em>, <em>ঘুমন্ত খেলোয়াড়</em>, <em>জলনুড়ি</em>—এই সব উপন্যাস আর কিছু ছোটগল্প, এখন আর সেসবের নাম মনে করতে পারছি না। সেদিন কে যেন বললেন, আমার বইয়ের সংখ্যা বর্তমানে নাকি দেড় শর মতো। আমি এসব ব্যাপারে চিরকাল অগোছালো। এখন তো আরও। আমি মানুষের চেহারা ও নাম মনে রাখতে পারি না, কয়েকবার দেখা না হওয়া পর্যন্ত। এসব নিয়ে আমাকে জীবনে বহুবার হেনস্তা হতে হয়েছে। সৈয়দ হক বেঁচে থাকা অবস্থায় আমাকে অপ্রতিভ হওয়ার অবস্থা থেকে বাঁচাতেন। এখন তো তিনি নেই। তাই আমি বর্তমানে অপ্রতিভ হয়েই চলেছি!</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>আজকের তরুণ লেখকদের লেখা পড়লে তাঁদের মধ্যে কোন পরিবর্তনটি আপনার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে? তাঁদের লেখায় আপনি কী সম্ভাবনা ও সংকট দেখেন?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: তরুণ লেখকেরা আমার নমস্য। আমি তাদের অধিকাংশের লেখা পছন্দ করি। হাতে পেলে পড়ি। আমি প্রশংসা করি তাদের সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি ও ত্বরিতে নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির জন্য। আমার ধারণা, তারা অনেক দূর যাবে, তবে আঠার মতো লেগে থাকতে হবে!</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>জীবনের এই পর্যায়ে এসে ‘সাফল্য’ শব্দটির অর্থ আপনার কাছে কী? পুরস্কার, পাঠকের ভালোবাসা, নাকি নিজের লেখা নিয়ে তৃপ্তি—কোনটি শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: আমি ‘সাফল্য’ শব্দটির অর্থ বুঝি না, আমি বুঝি শুধু কাজ। আর এই কাজের জন্য বলতে গেলে আমি সব হারিয়েছি। মানুষের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, আতিথেয়তা, আত্মীয়স্বজনের কাছে নিজের দাম—সব। সাফল্য জীবনে এল কি এল না, তা আমার মাথাব্যথা নয়। পৃথিবীর বহু লেখক ও শিল্পী তাঁদের জীবদ্দশায় সাফল্য চোখে দেখেননি, কিন্তু তাঁরা অমর হয়ে আছেন। আবার পৃথিবীর বহু লেখক জীবনে সাফল্য দেখেছেন, কিন্তু মৃত্যুর পর হারিয়ে গেছেন। পাঠকের মনে থাকাটাই একজন লেখকের লেখার সাফল্য। আমি কোনো পাঠকের মনে আছি কি না জানি না, তবে না থাকার সম্ভাবনা শতকরা এক শ ভাগ। তবে আমার নিজেরই নিজের লেখার প্রতি একধরনের অতৃপ্তি আছে।</p>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
দেউলিয়া ঘোষণা করলেই কি ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব?
দেউলিয়া ঘোষণা করলেই কি ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব?

‘দেউলিয়া’ ঘোষণা করলে পাওনাদাররা কি টাকা ফেরত পায়? আইন কী বলে?

অক্টোবর ৯, ২০২৬
জুমার দিন যে ১০ কাজ করা অনুচিত
জুমার দিন যে ১০ কাজ করা অনুচিত

জুমার দিনের কিছু কাজ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা রয়েছে। জুমার দিনের পবিত্রতা অক্ষুণ্ন রাখতে যেসব কাজ পরিহার করা উচিত। আলোচনা করা হলো।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছুঁই ছুঁই
এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছুঁই ছুঁই

বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পহেলা জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৪ জনে । আরও উল্লেখযােগ্য খবরের মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রামে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
বিদেশি কর্মী নিয়োগে মাইক্রোসফটসহ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা
বিদেশি কর্মী নিয়োগে মাইক্রোসফটসহ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা

মাইক্রোসফটকে বিদেশি কর্মী নিয়োগ কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ করেছে হোয়াইট হাউস। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও এই ব্যবস্থা নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আমেরিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?

অক্টোবর ৯, ২০২৬
পত্রিকা: 'ঢাকায় প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস'
পত্রিকা: 'ঢাকায় প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস'

আপত্তি ও বিক্ষোভের মুখেই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল দেওয়ার খবর গুরুত্ব পেয়েছে আজ শুক্রবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোয়। এছাড়া, রাজধানীতে ছয় মাসের মধ্যে একটি রুটে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস চালুর নিদের্শনা; পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দামে ঊর্ধ্বমুখী ভাবের বিষয়টিও এসেছে।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
যন্তর মন্তর যেভাবে গণতন্ত্রের স্পন্দন মাপতে শুরু করল
যন্তর মন্তর যেভাবে গণতন্ত্রের স্পন্দন মাপতে শুরু করল

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণাগার হিসেবে ১৭২৪ সালে যে যন্তর মন্তর গড়া হয়েছিল, দিল্লির সেই প্রাচীন মানমন্দির, সম্প্রতি আন্দোলনের কারণে যন্তর মন্তর আবার শিরোনামে। কিন্তু যন্তর মন্তর কীভাবে একটি আন্দোলন কেন্দ্রে পরিণত হল?

অক্টোবর ৯, ২০২৬
এলাকাভেদে ভিন্ন রঙ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ঢাকার অটোরিকশা?
এলাকাভেদে ভিন্ন রঙ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ঢাকার অটোরিকশা?

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়ে সম্প্রতি নানা আলোচনা সামনে আসছে। এই যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরিসহ নানা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
আপত্তি ও বিক্ষোভের মুখেই দুবাইয়ের কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল
আপত্তি ও বিক্ষোভের মুখেই দুবাইয়ের কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও এটি নিয়ে বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি করার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের বিরোধিতার মুখে সরকার সেই কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
মৎস্যকন্যা বা জলপরী মিথ কোথা থেকে এলো?
মৎস্যকন্যা বা জলপরী মিথ কোথা থেকে এলো?

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মারমেইড বা জলপরী নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন অন্ত নেই। বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশের কোথাও জলপরী, কোনো দেশে মারমেইড, কোথাও মাদার অফ ওয়াটার বা জলের মা, কোথাও সাইরেন, আবার কোনো কোনো জায়গায় এটি মৎস্যকন্যাসহ নানা নামে পরিচিত।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
ইসরায়েলে সাত অক্টোবর হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে কেন?
ইসরায়েলে সাত অক্টোবর হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে কেন?

ইসরায়েলে তিন বছর আগে যা ঘটেছে তার জন্য কোনো ব্যক্তিগত দায়িত্ব নিতে বা রাষ্ট্রীয় তদন্তের নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
রংপুরে ৪ খুন: পরীক্ষায় আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত
রংপুরে ৪ খুন: পরীক্ষায় আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা শনাক্ত হয়েছে।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
টিভিতে আজকের খেলা
টিভিতে আজকের খেলা

আবুধাবি টেস্ট: প্রথম দিন বাংলাদেশ-আফগানিস্তান

অক্টোবর ৯, ২০২৬
সিলেটে নতুন নারী ফুটবলার খুঁজবেন বাটলার
সিলেটে নতুন নারী ফুটবলার খুঁজবেন বাটলার

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে সিলেটে দুই দিনের ট্যালেন্ট হান্ট আয়োজন করতে যাচ্ছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪০ ডিগ্রি গরমে পরীক্ষা দেবে বাংলাদেশ
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪০ ডিগ্রি গরমে পরীক্ষা দেবে বাংলাদেশ

১৬১টি টেস্ট খেলার পর প্রথমবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে নামছে দলটি। আফগানিস্তানের আয়োজনে হলেও ম্যাচটি হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে, কারণ নিজেদের দেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সুযোগ নেই আফগানদের।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
একজনের জন্ম নিবন্ধন দিয়ে অন্যজনের দুই পাসপোর্ট
একজনের জন্ম নিবন্ধন দিয়ে অন্যজনের দুই পাসপোর্ট

নিজের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে বিপাকে পড়েছেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উছমানপুর ব্রাহ্মণশাসন ইউনিয়নের আলিম পড়ুয়া ছাত্র মো. আবু সাঈদ।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
ধানক্ষেতে মিলল কিশোরীর মরদেহ, পাশে ছিল অটোরিকশা
ধানক্ষেতে মিলল কিশোরীর মরদেহ, পাশে ছিল অটোরিকশা

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরলেও বাসায় পৌঁছানো হয়নি ১৪ বছরের কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
‘ডাকাত মিটার’
‘ডাকাত মিটার’

“১৫০০ টাকা রিচার্জ করলাম, মিটারে ঢুকলো ৬৭৫ টাকা। বাকিটা ধারের টাকা, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া, ভ্যাট হিসেবে কেটে নিয়েছে। আগে তো এত টাকা কাটতো না।” আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
অটোরিকশাচালক রাহুল হত্যার রহস্য উদঘাটন
অটোরিকশাচালক রাহুল হত্যার রহস্য উদঘাটন

ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার অটোরিকশাচালক রাহুল হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

অক্টোবর ৯, ২০২৬