<p>ভেপিং ছেড়েছেন সেলেনা গোমেজ। তবে এই অভ্যাসে তাঁর কণ্ঠের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর কাটিয়ে উঠতে পারবেন না বলে মনে করছেন মার্কিন এই গায়িকা ও অভিনেত্রী। প্রচুর নিকোটিন ভেপ করার কারণে কণ্ঠ বদলে গেছে জানিয়ে ভক্তদের সতর্ক করেছেন তিনি। এখন তাঁর লড়াই, কঠিন চেষ্টায় ছেড়ে দেওয়া অভ্যাসে আর ফিরে না যাওয়া।</p><p>গত রোববার, ১৮ অক্টোবর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন ৩৪ বছর বয়সী সেলেনা। সেখানে কণ্ঠের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি নিকোটিন ছাড়ার কঠিন অভিজ্ঞতাও জানান। ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।’ আগের কণ্ঠ ফিরে পাবেন না বলেও মনে করেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-08-25/b7gyurg2/2024-05-19T102910Z_238709584_UP1EK5J0T4LO9_RTRMADP_3_FILMFESTIVAL-CANNES-EMILIA-PEREZ.JPG"><figcaption>সেলেনা গোমেজ। রয়টার্স </figcaption></figure><p>আরেক প্রতিবেদনে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নিকোটিনের ওপর নির্ভরতা কাটানো কতটা কঠিন, তা বোঝাতে চেয়েছেন সেলেনা। যাঁরা ইতিমধ্যে ভেপিং করছেন কিংবা শুরু করার কথা ভাবছেন, তাঁদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—এই অভ্যাসে জড়ানোর কোনো সার্থকতা নেই। নিজের কণ্ঠের পরিবর্তনের জন্যও তিনি ভেপিংকেই দায়ী করেছেন। </p><p>কণ্ঠ নিয়ে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গও এসেছে ভিডিওতে। সেলেনা জানিয়েছেন, তাঁর বর্তমান কণ্ঠ কারও পছন্দ না হলে বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেন। কেউ শুনতে না চাইলে তাতেও তাঁর আপত্তি নেই। তবে ভিডিওতে অভ্যাস ছাড়ার আনন্দও ভাগ করে নিয়েছেন এই তারকা। জানিয়েছেন, ভেপিং বন্ধ করতে পেরে তিনি খুশি। এখন তাঁর আশা, আবার এই অভ্যাসে ফিরে যাবেন না। একই ধরনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদেরও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়েছেন তিনি। কণ্ঠ নিয়ে সেলেনার কথা বলা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও ইনস্টাগ্রাম লাইভে এ বিষয়ে ভক্তদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-07/c95a7356-0e28-4ec3-835d-cfa14b2c888f/43bfb3f0_fea4_11ea_b59f_31dc03e85ddf.jpg"><figcaption>গায়িকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ</figcaption></figure><p>তখন বলেছিলেন, তাঁর গলার ভেতর মাঝেমধ্যে ফুলে যায়। তবে সে সময় ভেপিংয়ের প্রসঙ্গ তোলেননি। এদিকে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তার উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছেন সেলেনা। ১৪ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত রেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ডের চতুর্থ বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ আয়োজন। ভোগ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ লাখ ডলার উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তহবিলটি। </p><p><sup>সূত্র: এবিসি নিউজ, ভ্যারাইটি ও ভোগ।</sup></p>
১৯ অক্টোবর রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত এই পাঠচক্রে কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত কাব্যটির কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান, সাহিত্যিক তাৎপর্য এবং মধ্যযুগের সমাজ ও লোকজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
<p>গভীর রাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান, ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান বলে প্রচার। গতকাল মঙ্গলবার এই অভিযানের খবরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। তবে প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধারের তালিকা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।</p><p>গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ডিবি উত্তরা বিভাগের একটি দল ভাটারার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার তিনতলা ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এ অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাঁদের মধ্যে ২৬ জন নারী। এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর ওই বাড়ির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরে মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন জহির। পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করায় কার্যত তিনি ওএসডি অবস্থায় আছেন।</p><p>অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল। বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করার কথা বলেছিলেন তাঁরা।</p><p>তবে ডিবির উদ্ধার তালিকায় দেখা যায়, অভিযানে ওই বাড়ি থেকে দেশীয় কোম্পানি কেরুর তৈরি হুইস্কির ৭৫০ মিলিলিটারের একটি খালি বোতল উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় ভারতীয় রয়্যাল স্ট্যাগ এক লিটারের একটি বোতল। ওই বোতেলে আনুমানিক ৫০০ মিলিলিটার মদ ছিল। জব্দ করা হয় স্মিরনফ ভদকার এক লিটারের একটি বোতল, যাতে ২০০ মিলিলিটারের মতো মদ ছিল। আর ভারতীয় একটি কোম্পানির হুইস্কির এক লিটারের একটি বোতল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ওই বাড়ি থেকে একটি ইয়াবা বড়ি ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং একচিলতে পরিমাণ কুশ উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ডিবির জব্দ তালিকায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-21/ahutdvxn/WhatsApp-Image-2026-10-21-at-9.43.53-PM.jpeg"><figcaption>পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে তিন ঘণ্টা মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মদের এই চারটি বোতল উদ্ধার করেছে ডিবি</figcaption></figure><p>এই জব্দ তালিকা নিয়ে ডিবিরই অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলার অভিযোগের বিপরীতে উদ্ধার তালিকায় মাদকের পরিমাণ খুবই সামান্য। বিশেষ করে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তারের মতো অভিযানের পর উদ্ধার তালিকা দেখে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।</p><p>ওই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবীর। জব্দ তালিকা নিয়ে ডিবি কর্মকর্তাদের বিস্ময় প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই বাড়িতে পার্টি আয়োজনের বিষয়ে আগে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তাঁরা অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি করা হতো। অভিযানের আগেই আটক ব্যক্তিরা মদ ও ইয়াবা সেবন করে ফেলেন। ফলে অবশিষ্ট মাদকদ্রব্য যা পাওয়া গেছে, তা উদ্ধার করা হয়েছে।</p><p>এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত বিচারে সাজা দেওয়া হয়েছে। নারীদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন দিন কারাভোগের সাজা হয়েছে। আর পুরুষদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।</p><p>ডিবি কর্মকর্তা ইলিয়াস কবীর বলেছেন, আবদুল্লাহ আল জহিরের ওই বাড়িতে ২০২৫ সাল থেকে নিয়মিত পার্টির আয়োজন করা হতো। ছয় কক্ষের বাড়িটির পাঁচটি কক্ষ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘এয়ারবিএনবি’ ও ‘ট্রাভেলা’র মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। অন্য একটি কক্ষে থাকতেন বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক। পাঁচটি কক্ষসহ পুরো বাড়িটি ১০ জনের থাকার উপযোগী করে সাজানো হয়েছিল। এক দিনের জন্য বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হতো ১৮ হাজার ৫০০ টাকায়। এর বাইরে যাঁরা পার্টিতে অংশ নিতেন, প্রত্যেককে ৬০০ টাকা করে দিতে হতো। ওই বাড়িতে মাসে ২০ থেকে ২২টি পার্টি হতো। প্রতি মাসে লাভের ৩০ শতাংশ কমিশন পেতেন মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তি আর বাকি ৭০ শতাংশ পেতেন আবদুল্লাহ আল জহির।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/vn7vv5yy33">পুলিশের অভিযানে আটক ৮৫, বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজিকে ওএসডি</a></aside>
<p>সাশ্রয়ী দামে এলইডি বাল্ব কেনার সময় অনেকেই পণ্যের মান যাচাই করেন না। অথচ দাম কম হলেই যে বাল্বটি ভালো হবে, এমন নয়। আলোর কার্যকারিতা, স্থায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় মান সনদ যাচাই করে কীভাবে বেছে নেবেন উপযুক্ত বাল্ব? বিস্তারিত প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
১৯৮৩ সালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম ইপিজেড স্থাপন করা হয়। এখন বেপজার অধীনে মোট ৮টি ইপিজেড ও দুই অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে।
২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ইউসুফ। তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়ার পরই গুজরাটে তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের নোটিশ আসে।
<p>প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বিস্তারিত ভিডিওতে... </p><figure></figure>
<p>চীনের ঐতিহ্যবাহী হলুদ নদীর হুকৌ জলপ্রপাতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘ইয়েলো রিভার ক্যানটাটা’ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সং সং সং চূড়ান্ত পর্ব। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>
পুজোর সাজ মানেই শাড়ি নয়, পোশাকের সঙ্গে গয়না, ফুল আর মেকআপের মেলবন্ধনও। কখনো ক্রিম রঙের আনারকলিতে স্নিগ্ধতা, কখনো কাঞ্চিপুরমে সাবেকিয়ানা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন