বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী লরি প্রকল্প এলাকার পৌঁছেছে।
<ul><li><p>আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকা।</p></li><li><p>দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে।</p></li><li><p>বিদেশে বাংলাদেশিরা খরচ করেছেন প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকা।</p></li></ul><p>দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে। গত আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে মোট ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের চেয়ে ৯৪৫ কোটি টাকা বা ৩০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের আগস্টে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।</p><p>তবে আগের মাস জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে লেনদেন ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নগদ টাকার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের প্রবণতা বাড়ছে। ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহারও সম্প্রসারিত হচ্ছে।</p><p>আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোর বা বিপণিবিতানে, যা দেশে মোট লেনদেনের ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। জুলাইয়ে এ খাতে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫০ দশমিক ৩১ শতাংশ।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে মোট খরচের ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়েছে পণ্য ও সেবা কেনায়। নগদ টাকা উত্তোলনে খরচ হয়েছে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।</p><p>কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা, ব্যাংকের প্রচারমূলক সুবিধা এবং বিপণিবিতানে কার্ড গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির কারণে এ খাতে কার্ডের ব্যবহার বেশি হচ্ছে।</p><p>আগস্টে বাংলাদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।</p><p>বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট বিদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে। এরপর থাইল্যান্ডে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ভারতে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ খরচ হয়েছে।</p><p>অন্যদিকে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে আগস্টে ২৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা জুলাইয়ের ২৩৪ কোটি টাকার চেয়ে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষে ৪৭টি তফসিলি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা ছিল মোট ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। আর কার্ডধারীদের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।</p><p>কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশে ইস্যু করা ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ। একই সময়ে এসব কার্ডে লেনদেনের মোট আর্থিক পরিমাণ বেড়েছে ১০৩ শতাংশ।</p>
<p>ছোটবেলা থেকেই দুর্গাপূজা আমার কাছে ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিস্ময় আর গভীর আবেগের এক অনন্য উৎসব। সিরাজগঞ্জ শহরের পরিচিত পথঘাট, পূজামণ্ডপের বর্ণিল আলোকসজ্জা, নতুন জামাকাপড় কেনার আনন্দ, ঢাকের শব্দ, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো এবং পূজার মেলাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উৎসবমুখর পরিবেশ—সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার দিনগুলো ছিল বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সময়।</p><p>সারা বছর যেন অপেক্ষা করে থাকতাম সেই কয়েকটি দিনের জন্য। কখন পূজা আসবে, কখন নতুন পোশাক পরব, কখন বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ দেখতে বের হব—এসব ভাবনাই শৈশবের দিনগুলোকে অন্য রকম আনন্দে ভরিয়ে রাখত।</p><p>আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, সেই আনন্দের মূল্য কতখানি ছিল। তখন হয়তো হাতে ছিল না অনেক কিছু, কিন্তু মন ভরে ছিল অফুরন্ত কৌতূহল আর স্বপ্নে। সামান্য একটি নতুন জামা, পূজামণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিমা দেখা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় ঘুরে বেড়ানোই ছিল বিরাট প্রাপ্তি। জীবনের সেই সহজ আনন্দগুলোই আজ স্মৃতির পাতায় অমূল্য সম্পদ হয়ে রয়েছে।</p><blockquote>নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com</blockquote><p><strong>প্রতিমা তৈরির বিস্ময়: চোখের সামনে মায়ের আবির্ভাব—</strong></p><p>আজও চোখ বন্ধ করলে স্পষ্ট মনে পড়ে, স্কুল ছুটির পর কীভাবে ছুটে যেতাম মা দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে। প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপ আমার কাছে ছিল এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। প্রথমে বাঁশ দিয়ে কাঠামো তৈরি, তারপর খড় দিয়ে অবয়ব গঠন, মাটির প্রলেপ, ধীরে ধীরে মুখমণ্ডল ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফুটিয়ে তোলা—সবকিছুই যেন চোখের সামনে এক নতুন জগতের দরজা খুলে দিত।</p><p>এরপর আসত প্রতিমার সূক্ষ্ম কাজ। মুখের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা, চোখ আঁকা, রং করা, অলংকার পরানো এবং সাজসজ্জার মাধ্যমে দেবীমূর্তিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া—প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিমার সৌন্দর্য আরও বেড়ে উঠত।</p><p>প্রতিদিন একটু একটু করে বদলে যেত প্রতিমার রূপ। প্রথম দিকে যে কাঠামোকে সাধারণ কিছু মনে হতো, কয়েক দিনের মধ্যেই তা হয়ে উঠত এক অপূর্ব দেবীমূর্তি। মনে হতো, আমাদের চোখের সামনেই যেন মা দুর্গা ধীরে ধীরে আবির্ভূত হচ্ছেন।</p><p>তখন বুঝতাম না এই শিল্পের পেছনে কতটা দক্ষতা, শ্রম, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা কাজ করে। বুঝতাম না, প্রতিমা নির্মাণ শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকজ ঐতিহ্য, শিল্পীর জীবনসংগ্রাম এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।</p><p>শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। প্রতিমা তৈরির সেই দৃশ্যগুলো আমার শৈশবের কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে দিত। আজও মনে হয়, উৎসবের আনন্দ শুরু হয়ে যেত পূজার কয়েক দিন আগেই—যখন মৃৎশিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় মাটির শরীরে ধীরে ধীরে প্রাণের অনুভব ফুটে উঠত।</p><p><strong>১০ বন্ধুর দল, সিরাজগঞ্জের পূজামণ্ডপ এবং আলোকসজ্জার প্রতিযোগিতা—</strong></p><p>একবার আমরা ১০ বন্ধু মিলে দল বেঁধে বেরিয়ে পড়েছিলাম সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখার জন্য। সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও মনের মধ্যে একধরনের আনন্দের ঢেউ জেগে ওঠে। তখন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা ছিল আমাদের কাছে এক বিশেষ অভিযান। কোন মণ্ডপের প্রতিমা বেশি সুন্দর, কোথায় সাজসজ্জা বেশি আকর্ষণীয়, কোন জায়গায় আলোর খেলা সবচেয়ে চমৎকার—এসব নিয়ে চলত আমাদের আলোচনা ও মতামত। এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে যাওয়ার সময় ক্লান্তির কথা মনে থাকত না; বরং নতুন কিছু দেখার আগ্রহ আমাদের আরও এগিয়ে নিয়ে যেত।</p><p>সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জ শহর যেন নতুন রূপ ধারণ করত। রঙিন বাতির আলোয় মণ্ডপগুলো ঝলমল করত, মানুষের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠত চারপাশ। কোথাও ঢাকের বাদ্য, কোথাও ভক্তদের ভিড়, কোথাও প্রতিমাদর্শনের দীর্ঘ সারি—সব মিলিয়ে শহরের পরিবেশে তৈরি হতো এক অনন্য উৎসবের আবহ।</p><p>আজকের মতো হাতে হাতে স্মার্টফোন, মুহূর্তে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তখন ছিল না। কিন্তু আমাদের আনন্দের গভীরতা হয়তো কোনো অংশেই কম ছিল না। চোখ দিয়ে দেখতাম, মন দিয়ে অনুভব করতাম, আর বন্ধুদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতাম।</p><p>সেই ১০ বন্ধুর সঙ্গে কাটানো সময়গুলো আজ মনে করিয়ে দেয়, শৈশবের আনন্দের জন্য খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় কিছু আপন মানুষ, একটু অবসর, অজানাকে দেখার আগ্রহ এবং একসঙ্গে হাসতে পারার স্বাধীনতা।</p><p><strong>যমুনা ঘাটের বিসর্জনের মেলা: আনন্দ, কোলাহল ও শৈশবের বিস্ময়—</strong></p><p>সিরাজগঞ্জের দুর্গাপূজার স্মৃতিতে যমুনার ঘাটের বিসর্জনের মেলার কথা আলাদা করে বলতেই হয়। বিসর্জনের দিন ঘাটকে ঘিরে বসত বিশাল মেলা। বিশেষ করে আসবাবপত্রের বড় বাজারের জন্য মেলাটির আলাদা পরিচিতি ছিল।</p><p>নানা ধরনের আসবাব, কাঠের তৈরি জিনিস, দোকানপাট, কেনাবেচা, মানুষের ভিড় এবং নদীর পাড়ের উৎসবমুখর পরিবেশ—সব মিলিয়ে পুরো এলাকা হয়ে উঠত প্রাণচঞ্চল। শিশু-কিশোরদের কাছে মেলা মানেই ছিল বিস্ময় আর আনন্দের এক বিশাল জগৎ।</p><p>মেলায় প্রবেশ করলেই মনে হতো, কত কিছুই না দেখার বাকি! একদিকে দোকানের সারি, অন্যদিকে মানুষের ব্যস্ততা; কোথাও কেনাবেচা, কোথাও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা, কোথাও শিশুদের উচ্ছ্বাস। প্রতিটি দৃশ্যই আমাদের কাছে ছিল নতুন অভিজ্ঞতা।</p><p>আমাদের কাছে মেলার আনন্দ কেবল কিছু কেনাকাটার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, পছন্দের জিনিস দেখা, নানা ধরনের দোকান পর্যবেক্ষণ করা এবং মানুষের ভিড়ের মধ্যে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করাই ছিল বড় আনন্দ।</p><p>যমুনার পাড়ে দাঁড়িয়ে নদীর বিস্তৃত জলরাশি দেখা, ঘাটে মানুষের আনাগোনা এবং বিসর্জনকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগময় পরিবেশ—এসব দৃশ্য মেলাকে আরও বিশেষ করে তুলত।</p><p>আজকের দিনে ফিরে তাকালে মনে হয়, সেই মেলার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল শুধু কেনাবেচা নয়, স্থানীয় অর্থনীতি, সামাজিক যোগাযোগ, পারিবারিক আনন্দ এবং একটি জনপদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়। মেলা ছিল মানুষের মিলনস্থল, যেখানে নানা বয়সের মানুষ একসঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতেন।</p><p>সময়ের সঙ্গে মেলার ধরন বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে, বদলেছে উৎসবকে উপভোগ করার পদ্ধতিও। কিন্তু যমুনা ঘাটের সেই মেলার স্মৃতি আমার কাছে এখনো শৈশবের এক অমূল্য অধ্যায়।</p><p><strong>বিসর্জন: আনন্দের শেষে বিষণ্ন বিদায়—</strong></p><p>দুর্গাপূজার দিনগুলো যতই আনন্দময় হোক, বিসর্জনের মুহূর্তে এসে মন ভারী হয়ে উঠত। কয়েক দিনের উৎসব, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, আলোকসজ্জা, প্রতিমা দর্শন এবং মেলার আনন্দের পর যখন দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর সময় আসত, তখন মনে হতো আনন্দের একটি বিশেষ অধ্যায় বুঝি শেষ হয়ে গেল।</p><p>ঢাকের শব্দ, মানুষের সমাগম, শোভাযাত্রার ব্যস্ততা এবং নদীর ঘাটে বিসর্জনের দৃশ্য—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হতো এক আবেগঘন পরিবেশ। দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্যে যেমন ছিল ধর্মীয় অনুভূতি, তেমনি ছিল আবার এক বছর অপেক্ষা করার বিষণ্নতা।</p><p>শিশুমনে সেই অনুভূতি হয়তো স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে পারতাম না। কিন্তু পূজা শেষ হয়ে যাওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হতো, তা অনুভব করতাম গভীরভাবে।</p><p>মনে হতো, এত দিনের অপেক্ষা, এত আনন্দ, এত আয়োজন—সব যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। আবার সেই পরিচিত দিনগুলো ফিরে পেতে অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘ একটি বছর।</p><p>আজ বুঝি, বিসর্জনের এই বিষণ্নতাও উৎসবের সৌন্দর্যের অংশ। যে আনন্দ আমাদের হৃদয়কে পূর্ণ করে, তার সমাপ্তি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শূন্যতা তৈরি করে। আর সেই শূন্যতার মধ্য দিয়েই হয়তো আমরা আনন্দের প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করি।</p><p><strong>সময় বদলেছে, বদলেছে উৎসবের রূপ—</strong></p><p>সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে গেছে। শৈশব পেরিয়ে কৈশোর এসেছে, কৈশোর পেরিয়ে যৌবন। জীবনের ব্যস্ততা বেড়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন বদলেছে। যে শহরের পথ ধরে একসময় বন্ধুদের সঙ্গে নির্ভারভাবে ঘুরে বেড়াতাম, সেই শহরও সময়ের প্রবাহে নতুন রূপ ধারণ করেছে।</p><p>একসময় পূজামণ্ডপের আলোকসজ্জা দেখতে বের হওয়া, মেলার দোকান ঘুরে দেখা কিংবা প্রতিমা তৈরির কাজ পর্যবেক্ষণ করাই ছিল আনন্দের বড় উৎস। এখন প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আধুনিক আয়োজন উৎসবকে উপভোগ করার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।</p><p>কিন্তু আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে কিছু পুরোনো অভিজ্ঞতা হয়তো আগের মতো আর অনুভব করা যায় না। সেই নির্ভার সময়, বন্ধুত্বের সরলতা, সামান্য আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠা কিংবা কোনো বিশেষ ঘটনার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করার অনুভূতি—এসবের স্বাদ ছিল আলাদা।</p><p>তবুও পরিবর্তনকে অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রতিটি প্রজন্ম নিজস্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় হয়, নিজেদের মতো করে উৎসবকে আবিষ্কার করে। নতুন প্রজন্মের কাছে দুর্গাপূজার স্মৃতি তৈরি হবে নতুন পরিবেশে, নতুন আনন্দে, নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে।</p><p>আমাদের দায়িত্ব হলো অতীতকে আঁকড়ে ধরে বর্তমানকে অস্বীকার করা নয়; বরং স্মৃতি ও ঐতিহ্যের মূল্য বুঝে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেগুলোকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা।</p><p><strong>শুভ বিজয়া: ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও নতুন আশার বার্তা—</strong></p><p>বিজয়া দশমী দুর্গোৎসবের সমাপ্তির বার্তা নিয়ে এলেও এর মধ্যে রয়েছে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। দেবী দুর্গার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফিরে যাই দৈনন্দিন জীবনে, কিন্তু উৎসবের আনন্দ, মানুষের সঙ্গে মিলন এবং পারস্পরিক ভালোবাসার অনুভূতি আমাদের হৃদয়ে থেকে যায়।</p><p>শুভ বিজয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল আয়োজনের জাঁকজমকে নয়; এর সৌন্দর্য মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির মধ্যে।</p><p>শৈশবের সেই দুর্গাপূজা আমাকে শিখিয়েছে, আনন্দ ভাগ করে নিলে তা আরও গভীর হয়। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং একসঙ্গে উৎসব উপভোগ করার মধ্যেই জীবনের অনেক সুন্দর মুহূর্ত লুকিয়ে থাকে।</p><p>আজ তাই শুভ বিজয়ার এই সময়ে অতীতের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই। কামনা করি, সবার জীবন ভরে উঠুক সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধিতে। পরিবারে পরিবারে বিরাজ করুক ভালোবাসা, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক সম্প্রীতি, আর নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠুক মানবিকতা, নৈতিকতা ও উদারতার মূল্যবোধ নিয়ে।</p><p>জীবন বদলাবে, সময় এগিয়ে যাবে, শহরের রূপ বদলাবে, অনেক ঐতিহ্য হয়তো একদিন স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু শৈশবের সেই আনন্দ, সেই আবেগ এবং সেই ভালোবাসা হৃদয়ের গভীরে চিরকাল বেঁচে থাকবে।</p><p>কারণ, দুর্গাপূজা শুধু একটি উৎসব নয়—দুর্গাপূজা এক অনুভূতি, এক নস্টালজিয়া, এক অমলিন ভালোবাসার নাম।</p><p>পূজা মানে স্মৃতির জানালা খুলে ফেলে আসা দিনগুলোকে ফিরে দেখা।</p><p>পূজা মানে পরিবার, বন্ধুত্ব, আনন্দ, মিলন আর একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত।</p><p>পূজা মানে সিরাজগঞ্জের সেই চেনা পথঘাট, যমুনা ঘাটের মেলা, আলোকসজ্জায় ঝলমল করা পূজামণ্ডপ আর হারিয়ে যাওয়া শৈশবের কাছে ক্ষণিকের জন্য ফিরে যাওয়া।</p><p>সেই সোনালি দিনগুলোর স্মৃতির প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভ বিজয়া ২০২৬।</p>
অস্ট্রেলিয়ার এক দিনে ১৩ উইকেট হারানোর ঘটনা বিরল। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে অ্যাশেজে সিডনি টেস্টের পর এই প্রথম এক দিনে ১৩ উইকেট হারাল তারা।
পাঁচ দফা দাবির মধ্যে আছে—প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার, রোগীর স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা।
আজ বুধবার বিকেলে সুশীল দাসদের বাড়ির পাশেই একটি পুকুরে কিছু একটা ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।
<p>দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ২৫ অক্টোবর রিয়াদে ফ্লাইট চালাবে বিমান। এর আগে ২২ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে দাম্মাম রুটের ফ্লাইটও। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের কাছে প্রতিবন্ধী ভাতার ১২টি সিম কার্ড পাওয়া গেছে। এ সময় তাঁকে মারধর করে সিমগুলো ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-21/ww1cphte/WhatsApp-Image-2026-10-21-at-10.02.51-PM.jpeg"><figcaption>চীনের বেইজিংয়ে গতকাল মঙ্গলববার অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ডে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং ও সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলামসহ অন্যরা</figcaption></figure><p>চীনের শীর্ষ ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ব্যবসার সুযোগ তুলে ধরতে গতকাল মঙ্গলববার বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে নিজেদের সদর দপ্তরে এ আয়োজন করে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না।</p><p>এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না ও ব্যাংক অব চায়না। ব্যাংক সম্পদের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম চারটি ব্যাংকের তিনটি হলো এই ব্যাংকগুলো। এতে আরও অংশ নেয় বিভিন্ন খাতের ২৬টি চীনা কোম্পানি।</p><p>এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং ও চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার—বাংলাদেশ–চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক মূল উপস্থাপনা দেয়। এতে বলা হয়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম চালাচ্ছে না। চীনের সঙ্গে কাছাকাছি বা কম বাণিজ্য রয়েছে, এমন দেশ—কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারেও চীনা ব্যাংক কাজ করছে। এতে জানানো হয়, বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত, চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে চীনা কোম্পানি ও তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে যুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।</p><p>অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন,‘বাংলাদেশ–চীন সহযোগিতার পরের ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর প্রয়োজন সহজ ও কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনার অর্থায়ন, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তা। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণও এই প্রয়োজনের কথা বলে। বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে দুই পক্ষই উপকৃত হতে পারে।’</p><p>চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন,‘বর্তমানে বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে আমাদের প্রায় ৪০টি প্রকল্প রয়েছে। আমরা বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকার খাতে আরও বেশি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করব, যাতে অর্থায়ন বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবামুখী অর্থনীতির বিকাশে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।’</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন