ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষক রায়হান ইসলাম মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় এপিবিএনের সামনে ওই শিক্ষার্থী তাকে দাঁড়াতে বলে। শিক্ষক থামলে পাশে রাখা গাছের মোটা ডাল দিয়ে অতর্কিতভাবে তার ঘাড় ও চোয়ালে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে শিক্ষকের চোয়াল ফেটে যায় এবং তাকে সেলাই দিতে হয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
একটি সম্পর্কে ঝগড়া কম হলেই কি দুজন মানুষ সুখী? সম্পর্ক ভালো রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রূপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
<p>মশার লার্ভা নিধনে মান যাচাইয়ের পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়ায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কেনা দুই হাজার লিটার ওষুধের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ ফেরত নিতে নির্দেশ দিয়েছে কেসিসি। এই ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫৬ লাখ টাকা। </p><p>আজ মঙ্গলবার কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকার মেসার্স এম আর এন্টারপ্রাইজকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।</p><aside><cite>মো. আনিসুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, কেসিসি</cite>আগের কেনা দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড পরীক্ষায় মান উত্তীর্ণ হয়নি। তবে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটারও মান পরীক্ষা করা হবে।</aside><p>এম আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমান গাজী <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, ‘কার্যাদেশ বাতিলের কোনো চিঠি এখনো আমরা পাইনি। তবে তাঁদের পরীক্ষার পদ্ধতিই ঠিক ছিল না। তাঁরা তাঁদের মতো করে পরীক্ষা করেছেন। আমরা আবেদন করেছিলাম। তাঁরা বলেছিলেন, পুনরায় পরীক্ষা করবেন। বিষয়টি হলো, চিকিৎসক রোগীকে ওষুধ দিয়ে খাওয়ার নিয়ম বলে দিলেন। রোগী যদি নিজের মতো করে ওষুধ খেয়ে বলেন, এটি কার্যকর নয়, তাহলে তো হবে না।’</p><p>কেসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, এম আর এন্টারপ্রাইজ গত ৮ সেপ্টেম্বর দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড (ক্লোরপাইরিফস ২০ ইসি) সরবরাহ করে। ১২ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কমিটি ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাই করে। পরীক্ষায় ওষুধ প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টা পর লার্ভার মৃত্যুর হার পাওয়া যায় মাত্র ১২ শতাংশ। এ ফল সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচনা করে কমিটি।</p><p>কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওষুধের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।</p><p>কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা নিধনের জন্য সম্প্রতি ৫৬ লাখ টাকা দিয়ে দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড এবং ৮৪ লাখ টাকা দিয়ে তিন হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইড (উড়ন্ত মশা) কেনে কেসিসি। এর মধ্যে লার্ভিসাইডের কার্যকারিতা পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়নি।</p><h3>বেশি দামে নতুন লার্ভিসাইড</h3><p>মান পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া ওষুধের পরিবর্তে নতুন করে লার্ভিসাইড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেসিসি। মঙ্গলবার নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে সিটি করপোরেশনের পরিচালনা কমিটির সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে আপাতত এক হাজার লিটার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ডিপিএম (ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতিতে এই ওষুধ কেনা হবে। আগামী সপ্তাহে ওষুধ সরবরাহের কথা রয়েছে।</p><p>কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, সাধারণত লার্ভা নিধনের ওষুধের দাম প্রতি লিটার প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা। তবে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে নতুন যে ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে প্রতি লিটারে খরচ পড়বে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা।</p><p>আনিসুর রহমান বলেন, আগের কেনা দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড পরীক্ষায় মান উত্তীর্ণ হয়নি। তবে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটারও মান পরীক্ষা করা হবে।</p><p>সভায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং নগরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইউনিপোল, বিলবোর্ড, প্যানা ও ফেস্টুনের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দৈনিক দুই শিফটে চার ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।</p><h3>উড়ন্ত মশা নিধনের ওষুধের পরীক্ষা</h3><p>এদিকে উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহারের জন্য নতুন ওষুধ সাইপারমেথ্রিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে কেসিসি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নগরের কেসিসির গ্যারেজে কীটতত্ত্ববিদ, কীটনাশকবিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতিতে এ পরীক্ষা করা হয়। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু পরীক্ষা কার্যক্রম দেখতে সেখানে যান।</p><p>এর আগে গত শনিবার নতুন ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কীটতত্ত্ববিদ, কীটনাশকবিশেষজ্ঞ ও নাগরিক নেতারা উপস্থিত না থাকায় সেদিন পরীক্ষা করা হয়নি। পরীক্ষা শেষে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মশারি টানিয়ে তার ভেতরে মশা রেখে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা মশার ওপর ওষুধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর ওষুধটির কার্যকারিতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওষুধ কার্যকর হলে তা ব্যবহার করা হবে। অন্যথায় বিকল্প ওষুধের কথা ভাবা হবে।</p><p>কেসিসি প্রশাসক বলেন, খুলনায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তিন মাস সময় দিয়েছেন। এরই মধ্যে এক মাস পার হয়েছে। আগামী দুই মাস সিটি করপোরেশনের কর্মসূচি চলবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় দুই কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। নগরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম চালানো হবে।</p>
<p>রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে স্বর্ণালংকার চুরি করতেন স্বামী-স্ত্রী। প্রতিমার গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার চুরি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। রমনা কালীমন্দির থেকে মা কালীর বিগ্রহের জিভে রাখা সোনা চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে এই দম্পতির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।</p><p> আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টোর রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন এ তথ্য তুলে ধরেন।</p><p> ফারুক হোসেন বলেন, রমনা কালীমন্দির ছাড়াও আরও দুই মন্দিরের সোনা চুরির সঙ্গে অর্ণব রায় ও তাঁর স্ত্রী লিপি কর্মকারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় তাঁরা ছাড়াও আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সোনার দোকানের মালিক।</p><p><strong>সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত, সোনার পাত উদ্ধার</strong></p><p>পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ৭ অক্টোবর সকাল পৌনে নয়টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে শাহবাগের রমনা কালীমন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। মন্দিরের মা কালী বিগ্রহের জিবে রাখা আনুমানিক ছয় আনা ওজনের সোনা চুরি হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/aap5wkbc/WhatsApp_Image_2026_10_13_at_6_48_15_PM.jpeg"><figcaption>গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ।</figcaption></figure> <p>পরে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ। একপর্যায়ে উত্তরখান থানার দোবাদিয়া এলাকা থেকে অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর দুজনকে আদালতে পাঠানো হলে তাঁরা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।</p><p>ফারুক হোসেন জানান, তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান এলাকার সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক মো. মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে দুই আনা এক রতি ওজনের সোনার পাত উদ্ধার করা হয়েছে। এটি রমনা কালীমন্দির থেকে চুরি যাওয়া সোনার অংশ।</p><p><strong>সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের চুরিতেও জড়িত</strong></p><p>গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে সোনা চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রমনা থানায় মামলা হয়। গ্রেপ্তার অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ ঘটনায়ও তাঁদের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।</p><p>এই দম্পতি চুরির পর স্বর্ণালংকারটি জাকারিয়া ইসলাম নামের এক জুয়েলারি দোকানির কাছে বিক্রি করেছিলেন। তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন জানান, দুই মন্দিরে চুরির পাশাপাশি গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে একটি মন্দিরে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর গলার সোনার চেইন চুরির চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে অর্ণব রায়ের বিরুদ্ধে। চেইন নিয়ে পালানোর সময় মন্দিরের পুরোহিত তাঁকে ধরে ফেলেন। পরে মন্দির কমিটির সদস্যরা তাঁকে ছেড়ে দেন।</p><p>গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চোর চক্রের সদস্য উল্লেখ করে ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তিনটি ঘটনায় অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারের সম্পৃক্ততার কথা বলছে। বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে চুরি করতেন তাঁরা। তিনটি ঘটনার বাইরে আগেও তাঁরা একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না কিংবা তাঁদের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।</p>
গতকাল ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে উপাচার্য ভবনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে যান তিনি। এরপর থেকেই অবরুদ্ধ ছিলেন।
<p>শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের সম্পর্কটা শুধু মিলিয়ে পরার নয়; বরং একে অন্যকে ফুটিয়ে তোলারও। ব্লাউজের কাট, কাপড়, হাতা কিংবা নকশায় সামান্য পরিবর্তনেই বদলে যেতে পারে শাড়ির পুরো সাজ। তবে কোথায় যাচ্ছেন, কখন যাচ্ছেন—সেটিও ভাবনায় থাকলে ভালো ব্লাউজ বেছে নেওয়ার সময়। লাল-সাদা রং বেশি পরা হয় পূজার সময়। রং একই হলেও কাট আর সাজে নিয়ে আসা যায় ভিন্নতা।</p><h3>কোন শাড়ির সঙ্গে কোন ব্লাউজ </h3><p>সুতি শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনভাবে ভাবা যায়। চাইলে এর সঙ্গে সিল্কের ব্লাউজও পরা যায়। তবে সিল্কটা যদি একটু ম্যাট ধরনের হয়, তাহলে সুতি শাড়ির সঙ্গে বেশ ভালো মানায়। আবার সুতি শাড়িতে যদি কাজ থাকে, সে ক্ষেত্রে একটু চকচকে সিল্কের ব্লাউজও সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। মসলিন শাড়ির ক্ষেত্রে অবশ্য কাপড় বাছাইয়ে একটু সতর্ক হওয়া ভালো। মসলিনের সঙ্গে মসলিন বা সিল্কের ব্লাউজই বেশি মানানসই; সুতির ব্লাউজ এখানে খুব একটা যায় না।</p><figure><img alt="পূজার সাজে ৪ ব্লাউজ, দেখে নিন ছবিতে" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/clswyp7r/KBRH8095.JPG"><figcaption>ব্লাউজের কাট বাছাইয়ের বিষয়টি নির্ভর করবে শাড়িটি কী ধরনের</figcaption></figure><p>ম্যাট সিল্কের ব্লাউজে চিকন লেস বা সামান্য হাতের কাজ থাকলে সেটি আরও বহুমুখী হয়ে ওঠে। একটা সাধারণ রঙের এমন ব্লাউজ বিভিন্ন ধরনের সুতি শাড়ির সঙ্গেও পরা যায়। তবে ব্লাউজের কাট বাছাইয়ের বিষয়টি নির্ভর করবে শাড়িটি কী ধরনের, কোথায় পরা হচ্ছে এবং কীভাবে সাজটি করতে চাইছি তার ওপর। এমনটাই জানালেন অনলাইনভিত্তিক ব্লাউজের দোকান ডাস্টকোট: দ্য ব্লাউজের স্বত্বাধিকারী আর ডিজাইনার আনারকলি খান।</p><figure><img alt="পূজার সাজে ৪ ব্লাউজ, দেখে নিন ছবিতে" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/fg8awp4o/KBRH8182.JPG"><figcaption>পূজা বা অন্য উৎসবে ব্লাউজের কাট হোক আরামদায়ক</figcaption></figure><p>ফুলচোলি কাটের ব্লাউজ সাধারণত উৎসবের সাজে বেশি ভালো লাগে। এতে কারচুপি বা অন্য কোনো কাজ থাকলে মসলিন কিংবা বেনারসি কাতানের সঙ্গে পরলে বেশ অভিজাত লাগবে। অন্যদিকে টপ-স্টাইলের ব্লাউজে কাটিং ও কাজ তুলনামূলক কম থাকে। দেখতে অনেকটা টপের মতো হওয়ায় এটি শাড়ির সঙ্গে পরলেও সহজ–স্বচ্ছন্দ একটা সাজ তৈরি করে। বিশেষ করে পূজা বা অন্য উৎসবে, যখন একটু আরামদায়কভাবে সাজতে চাই, প্লিট করে পরা শাড়ির সঙ্গে এ ধরনের ব্লাউজ বেশ ভালো মানায়। যাঁরা শাড়ির আঁচল ছেড়ে রাখতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য আধা হাতা বা পুরো হাতার সাধারণ কাটের ব্লাউজ বেশ ভালো মানায়। তবে বিষয়টি অনেকটাই বয়স, শাড়ির ধরন ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/45htuge1ll">পোশাকে নাচছে ময়ূর, ভাসছে মাছ</a></aside><h3>আঁচল প্লিট না ছাড়া? </h3><figure><img alt="পূজার সাজে ৪ ব্লাউজ, দেখে নিন ছবিতে" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/vtj3grno/KBRH8112.JPG"><figcaption>শাড়ির ধরন ও আঁচল কীভাবে পরা হচ্ছে, সেটি বুঝে ব্লাউজের কাট ও নকশা বেছে নেওয়া জরুরি</figcaption></figure><p>মসলিন শাড়ির আঁচল সাধারণত প্লিট করে পরার চেয়ে ছেড়ে রাখলেই বেশি সুন্দর লাগে। একইভাবে কিছু সুতি শাড়ির আঁচলে যখন সুন্দর কাজ থাকে, তখন সেটিও ছেড়ে রাখলে শাড়ির নকশাটা ভালোভাবে ফুটে ওঠে। দেশীয় বেনারসি বা কাতানের ক্ষেত্রেও আঁচল ছেড়ে রাখলে শাড়ির নিজস্ব আবেদন বজায় থাকে। মূল বিষয় হলো শাড়ি ও ব্লাউজ—দুটোরই আলাদা সৌন্দর্য যেন প্রকাশ পায়। কোনোটিই যেন অন্যটিকে ছাপিয়ে না যায়। তাই শাড়ির ধরন ও আঁচল কীভাবে পরা হচ্ছে, সেটি বুঝে ব্লাউজের কাট ও নকশা বেছে নেওয়া জরুরি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/f10tqd0lef">তানজিয়া জামান মিথিলার ব্যাগগুলো কোন ব্র্যান্ডের, দাম কেমন</a></aside><h3>টপ ও কোটি </h3><figure><img alt="পূজার সাজে ৪ ব্লাউজ, দেখে নিন ছবিতে" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/5x2wjm6i/KBRH7924.JPG"><figcaption>একটু লম্বা কাটের ব্লাউজটি সিল্ক, মসলিন, বেনারসি শাড়ির সঙ্গেও মানাবে</figcaption></figure><p>সাদা-লালের পূজার চেনা সাজকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে টপ-স্টাইলের এই ব্লাউজের সঙ্গে বেনারসি কাতানের কোটি যুক্ত করা হয়েছে। </p><h3>জামদানি অনুপ্রেরণা </h3><figure><img alt="পূজার সাজে ৪ ব্লাউজ, দেখে নিন ছবিতে" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/1s3g6quz/KBRH8350.JPG"><figcaption>জামদানির নকশাকে সুতার মাধ্যমে চিকন ও সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে</figcaption></figure><p>হাতাকাটা হাফ চোলির ব্লাউজটিতে আরাম ও স্টাইল দুটোই পাওয়া যাবে। পাইপিংয়ের মাধ্যমে সামনের এবং পেছনের অংশের কাট ও নকশাকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। এই ব্লাউজের বিশেষত্ব মূলত সূচিকর্মে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/13jdomxyh5">এবার পূজায় মেয়েশিশুদের যেমন পোশাক চলছে </a></aside><h3>গামছার করসেট </h3><p>করসেট স্টাইলে বানানো ব্লাউজ এখন তরুণীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। গামছা চেকের শার্ট ও বেল্ট পুরো সাজে নিয়ে এসেছে নতুনত্ব। চাইলে শার্টটি আলাদাভাবে পরা যাবে। আবার করসেটের সঙ্গে গামছার শার্টের বদলে অন্য রঙের শার্টও পরা যাবে। এই দুটো অংশই অন্য কোনো ধুতি-স্টাইলে পরা শাড়ির সঙ্গে যেমন মানায়, তেমনি টপটি লেহেঙ্গা বা জিনসের সঙ্গেও পরা যাবে।</p><figure><img alt="পূজার সাজে ৪ ব্লাউজ, দেখে নিন ছবিতে" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/c8a0t5x3/KBRH8501.JPG"><figcaption>পোশাকে দেশীয় একটা আবহ রাখতে গামছা চেক ব্যবহার করা হয়েছে। গামছার কাপড়ের একটা অংশ দিয়েই বেল্ট তৈরি করা হয়েছে</figcaption></figure><p>দেশি উপকরণের সঙ্গে পশ্চিমা ধাঁচের স্টাইলিংই এর বিশেষত্ব। যাঁরা শাড়ির সঙ্গে স্লিভলেস, হাফ স্লিভ বা সাধারণ ব্লাউজের বদলে একটু ভিন্ন ও পশ্চিমা ধাঁচের সাজ চান, তাঁদের জন্য এই নকশা। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/czvrsje9xf">হঠাৎ বৃষ্টি আর সাদা শাড়িতে নাজিফা তুষির রঙিন মুহূর্ত, দেখুন ১০টি ছবি</a></aside>
<p>বিজ্ঞানের বইয়ে অনেক কিছুই পড়া হয়। কিন্তু যাঁরা গবেষণা করে নতুন কিছু জানার বা আবিষ্কার করার চেষ্টা করেন, তাঁদের কাছ থেকে সেই অভিজ্ঞতার গল্প শোনার সুযোগ কতজনের হয়? শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সেই সুযোগ করে দিতেই আয়োজন করা হয়েছে ‘মিট বাংলাদেশি সায়েন্টিস্টস’। আগামী ১৪ অক্টোবর, বুধবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিজ্ঞানী অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ। এই আয়োজনের মূল থিম ‘মিট, লার্ন, কোয়েশ্চন, ডিসকভার’। অর্থাৎ পরিচিত হও, শেখো, প্রশ্ন করো, আবিষ্কার করো।</p><p>অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেসের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। উদ্ভিদের আণবিক জীববিজ্ঞান ও জীবপ্রযুক্তি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এমন ধানের জাত উন্নয়ন করা। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা কৃষির জন্য একটি বড় সমস্যা। এ ধরনের পরিবেশে স্বাভাবিক ধান চাষ করা বেশ কঠিন। তাই লবণাক্ত জমিতে টিকে থাকতে পারে, এমন ধানের জাত উদ্ভাবনে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিকূল পরিবেশেও কীভাবে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যায়, তা নিয়েও কাজ করছেন তিনি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/others/xy48gw4qff">ইউজিসি প্রফেসরশিপ সম্মাননা পেলেন অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ</a></aside><p>অধ্যাপক জেবা ইসলাম ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ১৯৮২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে প্রাণরসায়নে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি গবেষণা করেন। ১৯৮৮ সালে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে। ১৯৯১ সাল থেকে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উদ্ভিদ জীবপ্রযুক্তি গবেষণা প্রকল্পে প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-08/2a6de842-a3a4-469a-9ff4-755633418571/WhatsApp_Image_2023_08_29_at_3_03_18_PM.jpeg"><figcaption>অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ও ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেসের নির্বাচিত ফেলো</figcaption></figure><p>২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্টিন ক্যাম্পাসে ভিজিটিং গবেষক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন এই গুণী বিজ্ঞানী।</p><p>গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতা ও বিজ্ঞানচর্চায় অবদানের জন্যও অসংখ্য স্বীকৃতি পেয়েছেন অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ। ২০১৭ সালে তিনি ‘অনন্যা শীর্ষ দশ’ অ্যাওয়ার্ড পান। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তাঁকে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ও ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেসের নির্বাচিত ফেলো।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE">বিজ্ঞানচিন্তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জেবা ইসলাম সেরাজের শুভেচ্ছা</a></aside><p>মিট বাংলাদেশি সায়েন্টিস্টস আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশের বিজ্ঞানীদের সরাসরি পরিচয় করিয়ে দেওয়া। তবে এটি শুধু পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিজ্ঞানীরা কীভাবে গবেষণা করেন, গবেষণার পথে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন এবং তাঁদের কাজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে কাজে লাগে, তা-ও বিস্তারিত জানার সুযোগ হবে। শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিজ্ঞানীকে প্রশ্ন করতে পারবে। এতে বিজ্ঞান নিয়ে তাদের কৌতূহল যেমন বাড়বে, তেমনি ভবিষ্যতে গবেষণা ও বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়েও একটি পরিষ্কার ধারণা পাবে তারা।</p><p>আয়োজনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইউনেসকো অ্যাসোসিয়েটেড স্কুলস নেটওয়ার্ক। বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশের ১২ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি বোঝাপড়া বাড়ানোই এই নেটওয়ার্কটির অন্যতম লক্ষ্য। ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজও এই নেটওয়ার্কের একটি গর্বিত সদস্য।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/xhrayx2mqu">আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ইন্দোনেশিয়ায় লড়ছে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের দল</a></aside>
সেমিনারে বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ভবন নির্মাণবিধির যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতার কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে।
<p>স্বাস্থ্য, আমার স্বাস্থ্যরে তোর </p><p>পেছন পেছন ছুটি</p><p>রাতের বেলায় ভাতের বদল </p><p>প্লেটের ওপর রুটি!</p><p>ত্যাগ করেছি মজার যত </p><p>খাওয়াদাওয়ার মায়া</p><p>গরু-ছাগল সব ছেড়েছি</p><p>যা কিছু চার পায়া!</p><p>সুস্থভাবে বেঁচে থাকাই</p><p>মুখ্য আমার কাছে</p><p>বিফ, মাটনের জায়গা দখল</p><p>তাই করেছে মাছে! </p><p>জালি কাবাব, মোরগ পোলাও,</p><p>কাচ্চি খাওয়া ভুলে</p><p>সুযোগ পেলেই হামলে পড়ি</p><p>মৌসুমি ফলমূলে।</p><p>অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার স্বভাব</p><p>বদলাতে বদলাতে</p><p>সালাদ এসে যোগ দিয়েছে</p><p>প্রিয়র তালিকাতে!</p><p>আহা সালাদ, ওহো সালাদ!</p><p>লেটুস, গাজর, শসা!</p><p>তোদের খাব বলেই আমি</p><p>সকাল-দুপুর বসা!</p><p>ভালো ভালো খাবারগুলোই </p><p>আমায় এখন ডাকে</p><p>বাজার করার ব্যাগ ভরে যায়</p><p>সবজি এবং শাকে।</p><p>বোকারা খায় খারাপ খাবার</p><p>এবং খেয়ে ঠকে!</p><p>বাদ দিয়েছি কেক-চকোলেট, </p><p>কোমল পানীয়কে।</p><p>মিষ্টি খাওয়া বাদ দিয়েছি</p><p>খাই না চায়ে চিনি</p><p>করল্লাতে ভরাচ্ছি পেট </p><p>প্রায় প্রত্যেক দিনই! </p><p>সারাক্ষণই স্বাস্থ্যহানির </p><p>থাকি আশঙ্কাতে! </p><p>কামড়িয়ে খাই কাঁচা মরিচ, </p><p>নিই না লবণ পাতে।</p><p>আমার নজর ফ্ল্যাক্স, চিয়া ও </p><p>সূর্যমুখীর বীজে</p><p>বাঁচতে হলে ভালো খাবার</p><p>বাছতে হবে নিজে!</p><h4>*লেখাটি ২০২৩ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত </h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BE/it9szxx5j2">কাঁঠাল</a></aside>
২০২৪ সালের জুলাইয়ে মঙ্গলের জেজেরো গহ্বরের কাছে নেরেতভা ভ্যালিস নামের একটি প্রাচীন নদী উপত্যকা থেকে পাথরের নমুনাটি সংগ্রহ করে পারসিভারেন্স। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘স্যাফায়ার ক্যানিয়ন’
বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে রাশিয়া ও চীন ইরানকে সাহায্য করছে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
সৌদি আরবে হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন থেকে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ১ লাখ অতিক্রম করেছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩০৭ জন।
"আমার ছেলে সেদিন অনেক কান্না করেছে। এই কাজ হওয়ার পরে আমার ছেলে খুব মুমূর্ষু অবস্থায় বিছানায় শুয়ে ছিল। তার আধাঘণ্টা পরে সে আবার এসে নির্যাতন করেছে। আমার ছেলে ব্যাথায় ফজরের নামাজের জন্য পরে আর উঠতে পারে নাই।"
দিল্লির যন্তর-মন্তর এখন আর বিক্ষোভ করা যাবে না- নরেন্দ মোদীর সরকারের এই সিদ্ধান্তকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে উল্লেখ করে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি এটিকে "মানুষের প্রতিবাদ করার এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত" বলে বর্ণনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বেশ জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে ডিজেল আনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনকে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী সংকট তৈরি হতে পারে। হামলার পর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের অর্ধশতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপ ২১ জানুয়ারি, শেষ ধাপ ২৭ মে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রগুলো এসব খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
বাদামী রঙের চুল, সাদা গড়নের শিশুটিকে প্রথমবার দেখলে যে কেউই বিদেশি বলে ভুল করবেন। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটি এখন 'পপুলার নাও' ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কেননা সম্প্রতি এক দম্পতি শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে ডিএনএ টেস্ট দাবি করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে শিশুটির বর্তমান পরিবার। প্রশ্ন হলো, কেউ চাইলেই কী বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্ট করা যায়?
স্থানীয় দু'টি সংগঠনের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে পুলিশি নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাস ছেড়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চার মাস আগে থেকে পরিকল্পনা ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ায় এ বছর মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
দুপুরে নাগেশ্বরী কলেজ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন বিক্ষোভকারীরা।
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।
বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্যদের যোগ্য জায়গা পদায়নে প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে বদলির এই প্রক্রিয়া করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
গোপালগঞ্জে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এ দিবসটি পালন করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তার আচরণও শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। তাই তাকে জামালপুর কলেজে যোগ দিতে দিতে চান না তারা।