জেলা

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি, উপহার দিলেন খেলার সামগ্রী

অক্টোবর ২০, ২০২৬
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি, উপহার দিলেন খেলার সামগ্রী
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি, উপহার দিলেন খেলার সামগ্রী
নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Prothomalo

View more
ইশরাকের পদত্যাগপত্র গৃহীত, প্রজ্ঞাপন জারি
ইশরাকের পদত্যাগপত্র গৃহীত, প্রজ্ঞাপন জারি

গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে ইশরাক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
নাটোরে দুর্ঘটনা: নিথর দেহ, স্বজনের কান্না
নাটোরে দুর্ঘটনা: নিথর দেহ, স্বজনের কান্না

ভোরের আলো ফোটার আগেই নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বনপাড়ার নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
উচ্চশিক্ষাকে কর্মজীবনমুখী করার তাগিদ ইউজিসি চেয়ারম্যানের
উচ্চশিক্ষাকে কর্মজীবনমুখী করার তাগিদ ইউজিসি চেয়ারম্যানের

উচ্চশিক্ষাকে কর্মজীবনমুখী করতে ইউজিসি চেয়ারম্যান উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব দিয়েছেন

অক্টোবর ২০, ২০২৬
গুরুতর আহত রুবিনা হাসপাতালে, জানেন না স্বামী ও মেয়ের মৃত্যুর খবর
গুরুতর আহত রুবিনা হাসপাতালে, জানেন না স্বামী ও মেয়ের মৃত্যুর খবর

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে স্বামী ও মেয়েকে হারিয়েছেন পটুয়াখালীর রুবিনা আক্তার। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বারবার খুঁজছেন স্বজনদের।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
হাল ফ্যাশন শারদীয় ভোজ: মুরগির ঝোলে আমড়ার টক-মিষ্টি টুইস্ট
হাল ফ্যাশন শারদীয় ভোজ: মুরগির ঝোলে আমড়ার টক-মিষ্টি টুইস্ট

<p>শারদীয় উৎসবে অতিথি আপ্যায়ন কিংবা পরিবারের সঙ্গে ভুরিভোজে চাই একটু ভিন্ন স্বাদ। মুরগির মাংসের সঙ্গে আমড়ার টক স্বাদ মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন সহজ এই পদ। গরম ভাতের সঙ্গে জমে যাবে আমড়া দিয়ে মুরগির মাংস। ছবি ও রেসিপি দিয়েছেন <strong>পারভীন আলী</strong>।</p><h3>উপকরণ</h3><p>মুরগির মাংস ৮০০ গ্রাম<br>আমড়া ৪/৫ টি মাঝারি সাইজের<br>পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ<br>আদা বাটা ১ টেবিলচামচ<br>রসুন বাটা ১ টেবিলচামচ<br>জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ<br>ধনে গুঁড়া ১ চা-চামচ<br>মরিচ গুঁড়া ১.৫ চা-চামচ  <br>হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ<br>গরমমসলা গুঁড়া ১ চা-চামচ  </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/o7thg9je/WhatsApp-Image-2026-10-17-at-15.22.36.jpeg"></figure><p>দারুচিনি ২ টুকরা  <br>এলাচ ২ টুকরা  <br>তেজপাতা ২ টি<br>চিনি আধা চা-চামচ<br>কাঁচামরিচ ৪/৫ টি<br>তেল ও লবণ পরিমাণমতো</p><h3>প্রণালি</h3><p>প্রথমে মুরগির মাংস ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে হলুদ, মরিচ ও লবণ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর আমড়াগুলো খোসা ছাড়িয়ে কাঁটা চামচ দিয়ে থেতলে নিতে হবে। এতে সহজেই আমড়ার ভেতর মসলা ঢুকতে পারবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/44mqaqte/WhatsApp-Image-2026-10-17-at-15.22.37.jpeg"></figure><p>এবার কড়াইয়ে তেল দিয়ে দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতার ফোঁড়ন করে নিতে হবে। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা বাদামি করে ভেজে নিয়ে এক এক করে আদা, রসুন বাটা,  জিরা, ধনেগুঁড়া ও সামান্য লবণ দিয়ে কষাতে হবে। কিছুক্ষণ কষানো হয়ে গেলে ম্যারিনেট করা মুরগির মাংস দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিতে হবে।</p><p>ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আছে ৫/৭  মিনিট রান্না করতে হবে। এবার ঢাকনা উঠিয়ে আমড়াগুলো দিয়ে আরও ৫ মিনিট কষিয়ে পানি দিয়ে দিতে হবে। এবার অল্প আঁচে আরও ৫ মিনিট  রান্না করতে হবে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/yxj56ep7/WhatsApp-Image-2026-10-17-at-15.22.37-1.jpeg"></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/xgvsvvkn/WhatsApp-Image-2026-10-17-at-15.22.38.jpeg"></figure><p>তারপর ঢাকনা খুলে গরম মসলাগুঁড়া, কাঁচামরিচ, চিনি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিতে হবে। আরও ২ মিনিট রান্না করে নামিয়ে  নিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে আমড়া দিয়ে মুরগি। </p>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ঘোষবাড়ির পূজা দেখতে ঢাকা থেকে বিক্রমপুরে
ঘোষবাড়ির পূজা দেখতে ঢাকা থেকে বিক্রমপুরে

<p>২০১৫ সালে পারিবারিক উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পূজা এখন পরিবারের ১৪টি শাখার সদস্যদের একত্র হওয়ার উপলক্ষ। সারা বছর নানা কাজে দূরে থাকা স্বজনেরা পূজার কয়েকটি দিন এক ছাদের নিচে মিলিত হন। বাড়ির উঠানে জমে আড্ডা, চলে পূজার প্রস্তুতি, আর বড়দের কাছ থেকে ছোটরা শিখতে থাকে পূর্বপুরুষের রীতিনীতি। এভাবে নাগরনন্দী ঘোষবাড়ির দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে দেবীর আরাধনা, পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক সম্মিলিত আয়োজন। </p><p>বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, আবেগ, ঐতিহ্য ও মিলনেরও উৎসব। এই উৎসবে দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে যেমন অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয়ের প্রার্থনা করা হয়, তেমনি স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দেও ভরে ওঠে মানুষের মন। মুন্সিগঞ্জের বালাশুরের নাগরনন্দী ঘোষবাড়িতে দুর্গাপূজা মানে শুধু দেবী দুর্গার আরাধনা নয়, পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে হওয়ার উপলক্ষও। বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বাধিকারের গ্রামের বাড়ির দুর্গাপূজা হিসেবেও পরিচিত এটি। পরিবারের পুরোনো বাড়িতে সবাই একত্র হন। বড়দের সঙ্গে ছোটদের পরিচয়, ভাইবোনদের আড্ডা, পূজার নানা আয়োজন—সব মিলিয়ে বাড়িটি হয়ে ওঠে স্বজনদের মিলনমেলা। পূজার এই আয়োজন দেখতেই ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ পেরিয়ে গেলাম মুন্সিগঞ্জের বালাশুরের নাগরনন্দী ঘোষবাড়িতে। সঙ্গে সহকর্মী আলোকচিত্রী সুমন ইউসুফ।</p><h3>পারিবারিক উদ্যোগে পূজার সূচনা </h3><p>নাগরনন্দী ঘোষবাড়িতে আগে থেকেই বিক্ষিপ্তভাবে পূজা-অর্চনার প্রচলন ছিল। তবে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুসংগঠিতভাবে দুর্গাপূজা আয়োজনের যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে। পরিবারের আপন ১৪ ভাই–বোন ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আয়োজন সময়ের সঙ্গে বড় হয়েছে। </p><figure><img alt="ঘোষবাড়ির মণ্ডপে সম্প্রীতির বাংলাদেশ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/sguota8i/040A2636.jpg"><figcaption>পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুসংগঠিতভাবে দুর্গাপূজা আয়োজনের যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে</figcaption></figure><p>পূজার অন্যতম উদ্যোক্তা প্রমীত কুমার ঘোষ জানান, পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই এখন শহরকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত। জীবিকার প্রয়োজনে সবাই ব্যস্ত থাকায় আগের মতো একসঙ্গে বাড়িতে সময় কাটানোর সুযোগ কমে গিয়েছিল। সেই দূরত্ব কমিয়ে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ভাবনা থেকেই পূজার আয়োজন। প্রমীত কুমার ঘোষ বলেন, ‘ছোট করে হোক, তবু বাড়িতে একটা পূজা শুরু করি—এমন ইচ্ছা থেকেই আমরা সবাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই। জ্যাঠাতো-কাকাতো ভাই–বোন, পিসি, পিসির ছেলে, জামাইবাবু—আত্মীয়স্বজন সবাইকে নিয়ে শুরু হয় আয়োজন।’ </p><figure><img alt="ঘোষবাড়ির মণ্ডপে সম্প্রীতির বাংলাদেশ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/sx4yjca8/040A2850.jpg"><figcaption>ঘোষবাড়ির মণ্ডপে সম্প্রীতির বাংলাদেশ</figcaption></figure><p>তাঁদের হিসাবে, ঠাকুরদার প্রজন্ম থেকে তাঁরা চতুর্থ প্রজন্মের উত্তরসূরি। বহু আগে থেকেই বাড়িতে বিচ্ছিন্নভাবে পূজা হতো। তবে ২০১৫ সাল থেকে পরিবারের সদস্যরা একত্র হয়ে আরও বড় পরিসরে দুর্গাপূজা আয়োজন করছেন। এই পথচলা অবশ্য সব সময় মসৃণ ছিল না। করোনাকালে আয়োজন সীমিত করতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে উৎসবের পরিসর নিয়েও ভাবতে হয়েছে। তারপরও পারিবারিক ঐক্য ও ঐতিহ্য ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকে পূজার আয়োজন অব্যাহত রেখেছেন তাঁরা। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/kj6ns15ds2">সপ্তমীর সাজে বিদ্যা সিনহা মিমের ৮টি ছবি</a></aside><h3>‘সম্প্রীতির বাংলাদেশ’: তিন উপাসনালয়ের এক বার্তা </h3><p>দুর্গাপূজায় প্রতিবছরই একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা থিমকে প্রাধান্য দেয় ঘোষবাড়ি। এ বছর সেই ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশ’। মসজিদ, মন্দির ও গির্জার প্রতীকী উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে তাঁরা তুলে ধরতে চেয়েছেন ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুরুত্ব। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস ও অশুভর বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবীর বিজয়ের কাহিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার চিরন্তন বার্তা বহন করে। সেই ভাবনার সঙ্গে সম্প্রীতির বার্তা মিলিয়ে এবারের আয়োজন যেন উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বের কথাও বলে। </p><figure><img alt="ঘোষবাড়ির মণ্ডপে সম্প্রীতির বাংলাদেশ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/lvdljvhd/040A2411.jpg"><figcaption>বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বাধিকারের গ্রামের বাড়ির দুর্গাপূজা হিসেবেও পরিচিত এটি</figcaption></figure><p>পূজার অন্যতম উদ্যোক্তা দীপক কুমার ঘোষ জানান, প্রতিবছর তাঁদের পূজা দেখতে দূর–দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। মুন্সিগঞ্জ সদর ছাড়াও পদ্মার ওপার থেকে অনেকে আসেন এই আয়োজন দেখতে। এবারও বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা তাঁদের। প্রতিমার সাজসজ্জায়ও থাকে বিশেষত্ব। দীপক কুমার ঘোষ জানান, প্রতিমার অলংকার ও সাজসজ্জার সামগ্রী তাঁরা কলকাতার কুমারটুলি থেকে সংগ্রহ করেন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পাঞ্চলের প্রতিমাশিল্প ও সাজসজ্জার বৈচিত্র্য তাঁদের আয়োজনকে স্বতন্ত্র রূপ দিতে সহায়তা করে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/3tp37p615d">পূজার মধ্যে কোন স্মৃতি ভাগ করে নিলেন মনামী ঘোষ, দেখুন ১২টি ছবি</a></aside><h3>২৫ লাখ টাকার আয়োজন, সহযোগিতায় প্রতিবেশীরাও </h3><p>একটি পারিবারিক উদ্যোগ হলেও নাগরনন্দী ঘোষবাড়ির দুর্গোৎসবের আয়োজন বেশ বড়। পূজার প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, ধর্মীয় আচার, অতিথি আপ্যায়ন ও প্রসাদ বিতরণ—সব মিলিয়ে ব্যয়ও কম নয়। দীপক কুমার ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর পূজায় ব্যয় হয়েছিল ২০ লাখ টাকার কিছু বেশি। এ বছর সেই ব্যয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। পরিবারের বিভিন্ন শাখার সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ ও শ্রম দিয়ে আয়োজনের ব্যয় বহন করেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি সহায়তাও পাওয়া যায়। এ বছর সরকার থেকে প্রায় ৬০০ কেজি চাল পেয়েছেন তাঁরা। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/qhgvhsim/040A2689.jpg"><figcaption>নাগরনন্দী ঘোষবাড়ির দুর্গোৎসবের আয়োজন বেশ বড়</figcaption></figure><p>স্থানীয় মুসলিম প্রতিবেশী ও বন্ধুরাও অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করেন। এই সহযোগিতা পূজার আয়োজনকে কেবল একটি পরিবারের গণ্ডিতে আটকে রাখে না; বরং প্রতিবেশীদের অংশগ্রহণে তা হয়ে ওঠে বৃহত্তর সামাজিক বন্ধনের উপলক্ষ। ধর্মীয় উৎসবের আয়োজনেও মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা যে গুরুত্বপূর্ণ, ঘোষবাড়ির পূজা তারই একটি উদাহরণ। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/e5sa6b78d2">পূজা–পার্বণের খাবারে সতর্কতা</a></aside><h3>অঞ্জলির পর প্রসাদ, উৎসবের আনন্দ সবার জন্য </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/x73rlhfq/040A2575.jpg"><figcaption>প্রসাদের নাড়ু–মোয়া</figcaption></figure><p>দুর্গাপূজার অন্যতম আনন্দের অনুষঙ্গ প্রসাদ। পূজার মন্ত্রোচ্চারণ, দেবীর আরাধনা ও অঞ্জলি শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ উৎসবের আনন্দকে আরও পূর্ণতা দেয়। ঘোষবাড়ির পূজাতেও এই আয়োজনের রয়েছে বড় পরিসর। উদ্যোক্তাদের হিসাবে, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত ১৫-১৬ হাজার মানুষ পূজায় অংশ নেন। প্রসাদ বিতরণের পরিসর সম্পর্কে দীপক কুমার ঘোষের ধারণা, সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ভক্ত প্রসাদ পাবেন। অঞ্জলির পর শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে প্রসাদ বিতরণ। ভুনা খিচুড়ি, ছানাপোড়া, লুচি, সুজি, হালুয়া, নাড়ু, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ও ফলমূল থাকে আয়োজনের তালিকায়। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/vokcx4d4/040A2637.jpg"><figcaption>দশমীতেও থাকে লাড্ডু, নাড়ু ও মিষ্টি</figcaption></figure><p>দশমীতেও থাকে লাড্ডু, নাড়ু ও মিষ্টি। প্রসাদ শুধু খাবার নয়; ধর্মীয় বিশ্বাসে এটি দেবীর উদ্দেশে নিবেদন করা খাদ্য, যা পরে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে পূজার আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে অনেক মানুষের মধ্যে। পরিচিত-অপরিচিত, আত্মীয়-প্রতিবেশী—সবার অংশগ্রহণে উৎসবের পরিসরও হয়ে ওঠে আরও বিস্তৃত। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/76xl7s2lt9">ঢাকার কাছেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এই নদীর পাড়, পূজার ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন</a></aside><h3>প্রজন্মের হাতে ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার </h3><p>পূজার আয়োজনের সামনে যতটা দৃশ্যমান থাকে প্রতিমা ও মণ্ডপ, তার পেছনে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ পরিবারের সদস্যদের নিরলস শ্রম। বিশেষ করে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ ঘোষবাড়ির পূজার অন্যতম ভিত্তি। পরিবারের সদস্য ত্রয়ী ঘোষ জানান, পূজার কাজে পরিবারের সবাই হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেন। তাঁর বড়মা আগে মণ্ডপের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতেন। করোনাকালে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর শেখানো নিয়ম ও রীতিনীতি অনুসরণ করেই এখন পূজার আয়োজন পরিচালিত হচ্ছে। পরিবারের মেয়েরা মণ্ডপ সাজানো, নাড়ু-মোয়া তৈরি এবং পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত করার মতো কাজে অংশ নেন। তাঁদের এই শ্রমের মধ্য দিয়ে এক প্রজন্মের অভিজ্ঞতা পৌঁছে যায় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/x5xr82w6/040A2821.jpg"><figcaption>মুন্সিগঞ্জের বালাশুরের নাগরনন্দী ঘোষবাড়িতে দুর্গাপূজা মানে শুধু দেবী দুর্গার আরাধনা নয়, পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে হওয়ার উপলক্ষও</figcaption></figure><p>ঐতিহ্য টিকে থাকে তখনই, যখন নতুন প্রজন্ম তাকে নিজের করে নেয়। ঘোষবাড়ির পূজায় শিশু-কিশোরদের আগ্রহ সেই সম্ভাবনার কথাই জানায়।</p><p>পরিবারের ছোট সদস্য হিয়া ঘোষের কাছে পূজা মানে সারা বছর ব্যস্ত থাকা ভাইবোনদের একসঙ্গে পাওয়া। নতুন জামাকাপড়, পিঠা-পায়েস, নাড়ু আর পরিবারের সবার সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে পূজা তাঁর কাছে আনন্দের বড় উৎসব। হিয়া জানায়, ছোটবেলা থেকে যে পূজা দেখে সে বড় হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেটি আরও বড় পরিসরে আয়োজন করতে চায়। বড়দের কাছ থেকে শিখে একদিন নিজেরাও এই আয়োজনের দায়িত্ব নিতে চায় তারা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/sld5yuea86">বনিকবাড়ির শতবর্ষী পূজা</a></aside>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ক্রিকেটের পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট হতে হলে কী করতে হবে
ক্রিকেটের পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট হতে হলে কী করতে হবে

আগস্ট মাসেই যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে টেস্ট জিতল, সেখানেও একজন পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট ছিলেন। সাধারণত বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফে বিদেশি কোচই থাকেন বেশি

অক্টোবর ২০, ২০২৬
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের সহায়তায় বিডি এক্সপার্ট এডুকেশন
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের সহায়তায় বিডি এক্সপার্ট এডুকেশন

বিডি এক্সপার্ট এডুকেশন শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা প্রদান করে আসছে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
কানাডায় আলবার্টার স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের বিপক্ষে ভোট দিলেন বাসিন্দারা, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কেন উসকানির অভিযোগ
কানাডায় আলবার্টার স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের বিপক্ষে ভোট দিলেন বাসিন্দারা, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কেন উসকানির অভিযোগ

জাতীয় পর্যায়ে স্থিতিশীলতা এখন অত্যন্ত জরুরি। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করার হুমকিও দিচ্ছেন।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন