জেলা

ষষ্ঠ শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ষষ্ঠ শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা
ষষ্ঠ শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শিশুটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে নানির বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

Prothomalo

View more
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় জালিয়াতির অভিযোগে আবারও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয়দের নাম
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় জালিয়াতির অভিযোগে আবারও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয়দের নাম

সমকামী পরিচয়ে ভুয়া আশ্রয় আবেদন তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে গত মঙ্গলবার লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী সাজ্জাদ মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

<p>রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং তাদের প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।</p><p> রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।</p><p> আজ সোমবার আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।</p><p> মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এনজিসিএএফ) যৌথভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।</p><p>রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কন্যাশিশুর কল্যাণে সবচেয়ে জরুরি হলো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দিতে হবে। তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দেওয়া আমাদের গুরুদায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, মেয়েরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।</p><p>এ সময় বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও বাংলাদেশি নারী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই অর্জনগুলো দেশের জন্য গর্বের বিষয়। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, তাদেরকে সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দিন এবং ছেলেদের ছোটবেলা থেকে মেয়েদেরকে সম্মান করতে শেখান। একই সঙ্গে তিনি মেয়েদের বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।</p><p>রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়; বরং অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। তার শিক্ষা কোনো দয়া নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।</p><p>দুই কন্যার পিতা হিসেবে প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে নিজের সন্তানদের মুখ দেখতে পান উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা আমার জন্য শুধু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, গভীর মমতারও বিষয়।’ তিনি বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণে ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা জরুরি। কন্যাসন্তান স্রষ্টার নেয়ামত হলেও সমাজে অনেক সময় এ নেয়ামতকে অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়। সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষায় নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’</p><p>এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশু বিয়ে শুধু একটি বিয়ে নয়, এর ফলে তাদের শৈশব থেমে যায়, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং সম্ভাবনার অপচয় ঘটে। এর সঙ্গে অকালমাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার আশঙ্কাও যুক্ত হতে পারে।</p><p>রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশু নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় তিনি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি হেল্পলাইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।</p><p>কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যায়, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এ সময় তিনি কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে শুধু তোমাদের পরিবার নয়; বরং সমাজ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে।</p><p>রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কন্যাশিশুর বিশ্বজয়ের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিরাপদে জন্ম নেয়, নির্ভয়ে বেড়ে ওঠে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করে, দক্ষতা অর্জন করে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’</p><p>এ সময় রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নারীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি সরকারি দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি (পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।</p><p>এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সব কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।</p><p>অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান।</p><p>অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রওশন আরা বেগম এবং এনজিসিএএফের সহসভাপতি শাহীন আক্তার।</p><p>এর আগে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দুজন কন্যাশিশু তাদের মতামত তুলে ধরে।</p>

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
সহযোগীদের গুলিতে ‘ডাকাত সরদার’ নিহত, সিসিটিভিতে গুলি করার দৃশ্য
সহযোগীদের গুলিতে ‘ডাকাত সরদার’ নিহত, সিসিটিভিতে গুলি করার দৃশ্য

সহযোগীদের গুলিতে ‘ডাকাত সরদার’ নিহত, সিসিটিভিতে গুলি করার দৃশ্য

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ছাদে বসছে ৩০০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ
আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ছাদে বসছে ৩০০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ

জাতীয় আর্কাইভস ভবনের ছাদে ৩০০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ডেসকো, আর্কাইভস অধিদপ্তর ও ফাইবার অ্যাট হোমের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
মিরপুরে ফিরোজ হত্যা মামলা: হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
মিরপুরে ফিরোজ হত্যা মামলা: হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

<p>জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে ফিরোজ তালুকদার পলাশ হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।</p><p> সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p><p>এর আগে গত ১০ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মিরপুর মডেল থানার এসআই আজিম আহমেদ আসামি মঈনউদ্দিনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে মঈনউদ্দিন আহাম্মেদকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।</p><p>মামলার বিবরণে জানা যায়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় অবস্থানকালে হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন ফিরোজ তালুকদার। পরে তাঁকে মিরপুরের আলোক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।</p><p>এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান-২ এলাকা থেকে মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।</p>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
শিল্পের নান্দনিকতায় উঠে এল গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি
শিল্পের নান্দনিকতায় উঠে এল গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি

সংস্কৃতিমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তুলে ধরে বলেন, ছাত্র-জনতা, খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুরসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ আন্দোলনে শামিল হয়েছিল।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
‘মা, আমারে নিয়্যা যাও’, মায়ের কাছেই ফিরল সাইদুল
‘মা, আমারে নিয়্যা যাও’, মায়ের কাছেই ফিরল সাইদুল

<p>২০২১ সালের ঘটনা। মাত্র সাত বছর বয়সে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ভুল ট্রেনে চেপে ঢাকায় এসে হারিয়ে গিয়েছিল সাইদুল। এরপর পরিবারের অজান্তে অচেনা শহরের ফুটপাতে কেটে যায় দীর্ঘ পাঁচটি বছর। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে অবশেষে মা-বাবার বুকে ফিরেছিল সে।</p><p> কিন্তু চেনা ঘরের মায়া খুব বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি সাইদুলকে। বাড়ি ফেরার পাঁচ মাসের মাথায় ছোট বোনের সঙ্গে সামান্য বচসা আর মায়ের একটু বকুনিতে ভীষণ অভিমান করে সে। এই নব্য অভিমানের জেরে সে আবারও গত ২৬ সেপ্টেম্বরে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। ট্রেনে চেপে চট্টগ্রাম থেকে চলে আসে অচেনা ঢাকার চেনা ফুটপাতে।</p><h3>আবারও নিখোঁজ সাইদুল </h3><p>আগেরবার সাইদুল হারিয়ে যাওয়ার পর তার মা ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের যোগাযোগ হয়। সেই সূত্রেই সাইদুল আবার হারিয়ে যাওয়ার পর ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে নয়টার দিকে এই প্রতিবেদকের মুঠোফোনে কল করেন ফাতেমা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ভাই, বিপদে পড়ে ফোন দিলাম। সাইদুলকে সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।’</p><p>ফাতেমা জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ছোট বোনের সঙ্গে সাইদুলের ঝগড়া হয়েছিল। এ নিয়ে ছেলেকে কিছুটা বকাঝকা করেন তিনি। পরদিন সকালে সবার জন্য খাবার বেড়ে রেখে কাজে বেরিয়ে যান। দুপুরে ফিরে দেখেন, একজনের খাবার তখনো প্লেটেই পড়ে আছে; ঘরে সাইদুল নেই।</p><p>এটুকু বলার পরই দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফাতেমা বললেন, ‘সাইদুলের ছোটবেলা থেকেই একটু রাগ-অভিমান বেশি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/n31uj7sn/SAIDULURMI.jpg"><figcaption> ‘পথের ইশকুল’–এর পরিচালক উম্মে সালমা আক্তার বোর্ডে পাঠদান করছেন</figcaption></figure><h3>বিজয়নগরে দেখা, তবু ফেরানো গেল না </h3><p>অতীতে ঢাকায় থাকার পুরো সময়টা বিজয়নগরের সড়ক বিভাজকে পথশিশুদের সঙ্গে কেটেছিল সাইদুলের। এ কারণে নিখোঁজ হওয়ার পর সবার আগে সেখান থেকেই খোঁজাখুঁজি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন প্রতিবেদক।</p><p>বিজয়নগরের অলিগলিতে খোঁজ করে পাওয়া যায় সাইদুলের পুরোনো দলটিকে। এদের সঙ্গে আগে সাইদুল ঘোরাফেরা করত। তাদের মাধ্যমে খোঁজ মেলে সাইদুলের পুরোনো বন্ধু শুভর। সাইদুলের ঘটনা জানানোর পর কিছুটা দূরে আঙুল তুলে দেখিয়ে শুভ বলে, ‘ভাই, ওই যে সাইদুল।’</p><p>সড়ক বিভাজকের একটি গাছের নিচে তখন বসে ছিল সাইদুল। তবে পরিচিত মুখের উপস্থিতি টের পেতেই এক দৌড়ে পালিয়ে যায় সে। পিছু নিয়ে তাকে আর ধরার চেষ্টা করা হয়নি। কারণ, বেশি চাপাচাপিতে সে এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে পারত। ফলে সেদিন শুধু তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। বাড়ি ফেরানো সম্ভব হয়নি। বন্ধুরা মিলে যেন সাইদুলকে বোঝায়, সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় শুভর ওপর।</p><blockquote>তবে দীর্ঘদিন রাস্তায় কাটানো এই কিশোরের মন থেকে পথের টান এখনো পুরোপুরি মোছেনি। ফাতেমা জানান, সাইদুল প্রায়ই আনমনা হয়ে বলে, ‘আরেকবার ঢাকা যাওয়া দরকার। কতজনরে বলে আসতে পারি নাই।’</blockquote><p>বিজয়নগরের সড়ক বিভাজকের আশপাশে বসবাস করা এই শিশুরা ‘পথের ইশকুল’ নামে একটি স্কুলে যায়। সেই স্কুলের পরিচালক উম্মে সালমা আক্তারের কাছে একটি চিরকুট পাঠানো হয়। তাতে ঘটনার বিবরণসহ সাইদুলের মা ও প্রতিবেদকের মুঠোফোন নম্বর লিখে দেওয়া হয়। সাইদুলকে বাড়ি ফেরার ব্যাপারে কাউন্সেলিং করার অনুরোধ জানানো হয়।</p><p>পরে সালমা আক্তার প্রতিবেদককে জানান, সাইদুলের মায়ের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল। ফোনে ফাতেমাকে শান্ত করা হয়। তাঁকে বলা হয়, সাইদুল স্কুলে এলে তাকে বুঝিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হবে।</p><h3>মা আসার আগেই ফিরল সে </h3><p>বিজয়নগরের সেই সড়ক বিভাজকে পথশিশুদের আড্ডার জায়গাটির ঠিক সামনে মো. রাসেলের ছোট্ট একটি পানের দোকান। রাসেলকে প্রতিবেদক এবং সাইদুলের মা ফাতেমার নম্বর দিয়ে বলা হয়, সাইদুল যাতে প্রয়োজনে তাঁর মুঠোফোনটি ব্যবহার করতে পারে।</p><p>সেদিন বিকেলে রাসেলের মুঠোফোন থেকেই মাকে কল করেছিল সাইদুল। জানিয়েছিল, সাত-আট দিনের মধ্যে বাড়ি ফিরবে। পরদিন একই নম্বর থেকে প্রতিবেদককে কল করে সাইদুলের বন্ধু শুভ। জানায়, বন্ধুরা সবাই মিলে সাইদুলকে বুঝিয়েছে এবং সে বাড়ি ফিরতে রাজি হয়েছে।</p><p>এরপর কয়েকবার রাসেলের মুঠোফোন থেকেই মায়ের সঙ্গে কথা বলে সাইদুল। একপর্যায়ে মায়ের কাছে আকুতি জানিয়ে বলে, ‘মা, আমারে নিয়্যা যাও।’</p><p>খবর পেয়েও ফাতেমা সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় আসার সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘ভাই, আমি তাড়াহুড়া করতে চাই না। জোর করতে গেলে ও যদি আবার ভয় পেয়ে অন্য কোথাও চলে যায়? সাইদুল যখন নিজে আসতে চাইছে, তখনই নিয়ে আসব।’</p><p>এ ছাড়া সঙ্গে সঙ্গে রওনা হওয়ার মতো আর্থিক প্রস্তুতিও ফাতেমার ছিল না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/vxh36z0x/Saidul2.jpg"><figcaption> এদিন সাইদুলের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দেখা হয় প্রতিবেদকের। সাইদুল ও তার সঙ্গীরা তাদের পোষা মুরগির ছানা দেখাচ্ছিল</figcaption></figure><h3>‘আরেকবার ঢাকা যাওয়া দরকার’ </h3><p>পাঁচ বছর পর ছেলে প্রথমবার বাড়ি ফেরার পর তাকে চোখে চোখে রাখার জন্য কাজ ছেড়েছিলেন ফাতেমা। এতে পরিবারে আয় কমে যায়, বাসাভাড়া আর বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়ে। সম্প্রতি তিনি নতুন একটি কাজে যোগ দিয়েছেন, যেখান থেকে হুট করে ছুটি পাওয়া সম্ভব ছিল না। ঠিক করেছিলেন, বৃহস্পতিবার রাতের গাড়িতে ঢাকায় আসবেন। ছেলেকে বারবার একা আসতে বারণ করেছিলেন ফাতেমা। বলেছিলেন, ‘একা আসতে মানা করছি ভাই। একা আসলে আবার ট্রেনের ছাদে উঠবে।’</p><p>কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাতেমাকে আর ঢাকায় আসতে হয়নি। বৃহস্পতিবারের অপেক্ষা না করে ৭ অক্টোবর বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে ১১ দিন পর একাই বাড়ি পৌঁছায় সাইদুল। তবে বাড়ি ফেরার পর থেকেই জ্বরে ভুগছে সে। ফাতেমা বলেন, ‘আসার পর থেকেই অসুস্থ। ওর বাবা কালও ওষুধ নিয়ে আসছে। ওষুধ খাওয়াচ্ছি এখন।’</p><p>ছেলে বাড়ি ছাড়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বাবা মোস্তফা কামাল। এখন ছেলে ঘরে ফিরেছে, তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা কাটেনি তাঁর। মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমার প্রথম ছেলে তো। ছোট থেকেই ওরে একটু বেশি আদর করি। ফিরে আসছে, খুব ভালো লাগছে। কিন্তু ছেলেটারে নিয়ে চিন্তায় আছি। কয় দিনে আবার চেহারাটা কেমন খারাপ করে ফেলছে।’</p><p>তবে দীর্ঘদিন রাস্তায় কাটানো এই কিশোরের মন থেকে পথের টান এখনো পুরোপুরি মোছেনি। ফাতেমা জানান, সাইদুল প্রায়ই আনমনা হয়ে বলে, ‘আরেকবার ঢাকা যাওয়া দরকার। কতজনরে বলে আসতে পারি নাই।’</p>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
বাসস পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল হাই শিকদার
বাসস পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল হাই শিকদার

<p>কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারকে চেয়ারম্যান করে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হয়েছে।</p><p> আজ সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে।</p><p>বাসসের খবরে বলা হয়, নতুন পরিচালনা বোর্ডে ১২ জন পরিচালক রয়েছেন। তাঁরা হলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রেস); অর্থ বিভাগের অন্যূন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি; তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা; বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক (পদাধিকারবলে); দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী; দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামছুল হক জাহিদ; দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক; ৭১ টিভির হেড অব নিউজ মো. শাহ আজিজুর রহমান; ওএসক্লিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক এবং বাসসের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রতিবেদক দিদারুল আলম।</p><p>দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক ও নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাসসের পরিচালনা পর্ষদে নাম দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। কেউ আমার সঙ্গে কথা না বলেই নাম দিয়েছে। বাসসের পরিচালনা পর্ষদে থাকার বিষয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই।’</p>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
মনে হচ্ছে বড় বোনকে চিরদিনের জন্য হারালাম: সুচন্দা
মনে হচ্ছে বড় বোনকে চিরদিনের জন্য হারালাম: সুচন্দা

সপ্তাহ দুয়েক আগে ইউটিউবে ‘দুই ভাই’ দেখছিলাম। কত স্মৃতি মনে পড়ছিল! নাসিমা আপার সঙ্গে কথা বলব বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে আর যোগাযোগ করা হয়নি।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন