জীবনযাপন

শীতলক্ষ্যা থেকে গভীর রাতে ডাঙায় উঠে আসত যে রহস্যময় মাছ

নভেম্বর ২, ২০২৬
শীতলক্ষ্যা থেকে গভীর রাতে ডাঙায় উঠে আসত যে রহস্যময় মাছ
শীতলক্ষ্যা থেকে গভীর রাতে ডাঙায় উঠে আসত যে রহস্যময় মাছ
<p>গভীর রাতে নদী ছেড়ে ডাঙায় উঠে আসে এক অদ্ভুত মাছ। কখনো দেখা মেলে ক্ষীরাখেতে, কখনো নদীর পাড়ে। দেখতে অনেকটা সাপের মতো। একসময় শীতলক্ষ্যা নদীতে এমন মাছের দেখা মিলত। স্থানীয় মানুষের কাছে বাহোক, বাসুকি কিংবা ক্ষীরাবাইম নামে পরিচিত এই মাছকে ঘিরে আছে কত গল্প, কত লোকবিশ্বাস! রহস্যময় এই মাছ নিয়ে লিখেছেন বন্য প্রাণী সংরক্ষক, লেখক ও শিকারকাহিনি রচয়িতা <strong>সরওয়ার পাঠান</strong></p><h3>মধ্যরাতে ক্ষীরাখেতে অদ্ভুত অতিথি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-02-23/w6isa3ah/1.JPG"><figcaption>ক্ষীরাখেতেও দেখা মিলত মাছটি; এ কারণে দেশের কোনো কোনো এলাকায় মাছটি ‘ক্ষীরাবাইম’ নামে পরিচিত</figcaption></figure><p>মধ্যরাত। তারাভরা আকাশের নিচে নিজের ক্ষীরাখেতের এক কোণে সতর্ক শিকারির মতো ওত পেতে বসে আছেন মধ্যবয়সী কৃষক বুরুজ মিয়া। সে বছর চরসিন্দুরের চরে ক্ষীরার বেশ ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে দামও ভালো। কিন্তু খেতটা দিনরাত পাহারায় রাখতে হয়। মানুষের পাশাপাশি কিছু প্রাণীও খেতের ফসল নষ্ট করে। বুরুজ মিয়া বসে আছেন তেমনই এক আগন্তুকের অপেক্ষায়।</p><p>রাত দেড়টার দিকে খেতের ভেতর থেকে এক বিশেষ শব্দ ভেসে এল। এই আওয়াজের অপেক্ষাতেই ছিলেন বুরুজ মিয়া। তিনি খেত থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে সোজা হাঁটা ধরলেন শীতলক্ষ্যা নদীর দিকে। এক হাতে শুকনা ছাইভর্তি পাটের ব্যাগ, অন্য হাতে বাঁশের লাঠি।</p><p>খেত বরাবর নদীর ধারে পৌঁছে টর্চের আলোয় কিছু একটা খুঁজতে লাগলেন। অবশেষে সেই বিশেষ চিহ্ন পেয়েও গেলেন। প্রাণীটা এই পথ দিয়েই বুকে ভর দিয়ে খেতের দিকে গেছে। তিনি কিছুটা এগিয়ে সেই নির্দিষ্ট পথের ওপর শুকনা ছাই ছিটিয়ে দিলেন।</p><p>এরপর দ্রুত ফিরে এলেন খেতে। ভেতরে ঢুকে শব্দ করে প্রাণীটাকে ধাওয়া দিতে লাগলেন। সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করতে করতে প্রাণীটা এঁকেবেঁকে ছুটল নদীর দিকে। কিন্তু ছাই বিছানো জায়গায় এসে থমকে গেল। তারপর গড়াগড়ি খেতে লাগল।</p><p>এই সুযোগে লাঠি হাতে এগিয়ে এলেন বুরুজ মিয়া। তাঁর আঘাতে নিথর হয়ে গেল প্রাণীটা। প্রায় চার ফুট লম্বা, সাত কিলোগ্রাম ওজনের অদ্ভুত সেই প্রাণীকে শিকার করে বুরুজ মিয়ার আনন্দের সীমা নেই। স্থানীয় মানুষের কাছে এর মাংসের স্বাদ নাকি অনেকটা খাসির মাংসের মতো।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/hpgclpnqxi">সুন্দরবনের ২১০ জাতের মাছ আছে এই জাদুঘরে, দেখুন তো কয়টি চেনেন </a></aside><h3>সাপের মতো দেখতে, আসলে মাছ </h3><figure><img alt="বাহোক মাছ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/krcfr9w3/indian-mottled-eel-sarwar-pathan.png"><figcaption>২০০১ সালে শীতলক্ষ্যায় ধরা বাহোক মাছ</figcaption></figure><p>একসময় নরসিংদীর চরসিন্দুর চরের কৃষকেরা এভাবেই ছাই ব্যবহার করে যে প্রাণী শিকার করতেন, সেটি আসলে এক জাতের মাছ। রূপকথার মতোই বিচিত্র তার জীবন।</p><p>নদীর খাড়া পাড়ের গভীর গর্তে থাকতে পছন্দ করে এরা। অথচ স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতায়, রাত গভীর হলে কখনো কখনো জল ছেড়ে ডাঙায় উঠে আসে। ক্ষীরাখেতেও দেখা মিলত। এ কারণেই দেশের কোনো কোনো এলাকায় মাছটি ‘ক্ষীরাবাইম’ নামে পরিচিত।</p><p>স্থানীয় মানুষের মুখে শোনা যায়, ক্ষীরা, শসা, শর্ষে এমনকি ধানের সন্ধানেও নাকি নদীর পাড় থেকে অনেক দূরে চলে যেত এরা। কখনো নদীতীরবর্তী বাড়ির গোলাঘরের ধানের গোলা ফুটো করার গল্পও শোনা গেছে। তবে এসবই স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও লোককথা; মাছটির স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য ভিন্ন।</p><p>আমার বাড়ির পাশের শীতলক্ষ্যা নদীতে একসময় এদের বিচরণ ছিল। প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল এক রাতে, ছিপ ফেলে বোয়াল মাছ ধরার সময়। আমার পাশ দিয়েই নদী থেকে উঠে চরের দিকে যাচ্ছিল একটি বাহোক।</p><p>দ্বিতীয় সাক্ষাৎ চাঁদনি রাতে, ক্ষীরাখেতের মধ্যে। অদ্ভুত প্রাণী ভেবে সেবার গুলি করে মেরেছিলাম। দেখতে ছিল হুবহু নাদুসনুদুস এক সাপের মতো। জলপাই রঙের শরীরটা প্রায় চার ফুট লম্বা।</p><h3>বাহোক নামের পেছনে কি বাসুকি নাগ </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/sanj1vmu/Anguillabengalensisbengalensis.jpg"><figcaption>বড় মাছটির নাম বাহোক, এই মাছের আরও কিছু আঞ্চলিক নাম আছে; যেমন তেলকোমা, বাওবাইম, বামোশ ইত্যাদি</figcaption></figure><p>ছোটবেলা থেকেই মাছটিকে বাহোক নামে চিনে এসেছি। অনেকে ডাকতেন বাসুকি মাছ বলে। গ্রামের মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ছিল, এই মাছ নাকি একসময় সাপ ছিল।</p><p>বাহোক, বাসুকি কিংবা বাসুক—এসব নামের সঙ্গে প্রাচীন বেহুলা-লখিন্দরের লোকপুরাণের বাসুকি নাগের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা গবেষণার বিষয়। তবে মাছটি ঘিরে লোকবিশ্বাসের যে জগৎ গড়ে উঠেছে, তা নিঃসন্দেহে কৌতূহলোদ্দীপক।</p><p>এই মাছের আরও কিছু আঞ্চলিক নাম আছে। যেমন তেলকোমা, বাওবাইম, বামোশ ইত্যাদি। ইংরেজিতে এটি Indian mottled eel বা Indian longfin eel নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম <em>Anguilla bengalensis</em>।</p><p>মাছটি আকারে বেশ বড় হতে পারে। একসময় শীতলক্ষ্যায় বড় বড় বাহোক ধরা পড়ত।</p><p>১৯৮৮ সালে চরসিন্দুরের বান্ধব কটন মিলের কেয়ারটেকার রহমান মিয়া চিতল মাছ ধরার কোপা বড়শিতে একটি বাহোক পেয়েছিলেন। মাছটির ওজন ছিল প্রায় ৯ কেজি, দৈর্ঘ্য ৫ ফুট।</p><p>তখন রাত জেগে যাঁরা বড়শিতে কেঁচো গেঁথে বোয়াল মাছ ধরতেন, তাঁদের বড়শিতেও প্রায়ই আটকা পড়ত বাহোক।</p><h3>পানির নিচে দুর্দান্ত শিকারি </h3><figure><img alt="শীতলক্ষ্যা নদী" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/esadk9k3/WhatsApp-Image-2026-11-01-at-9.17.55-PM.jpeg"><figcaption>একসময় দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও পাহাড়ি জলধারায় বাহোক মাছের দেখা মিলত। শীতলক্ষ্যায়ও ছিল এর বিচরণ</figcaption></figure><p>বাহোক বেশ শক্তিশালী ও দুর্দান্ত শিকারি মাছ। শুধু ডাঙায় বিচরণের গল্প নয়, পানির নিচেও এর জীবন কম বিচিত্র নয়।</p><p>বাবার কাছে শুনেছি, বাহোক এতটাই বেপরোয়া শিকারি ছিল যে নদীতে পেতে রাখা চাইয়ের ভেতর ঢুকে মাছ খেয়ে চাই ভেঙে পালিয়ে যেত।</p><p>বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, বাহোক মূলত নিশাচর মাংসাশী মাছ। ছোট মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙ, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণী এদের খাদ্য। তাই ক্ষীরা-শসা খাওয়ার প্রচলিত গল্পের পাশাপাশি এর প্রকৃত খাদ্যাভ্যাসের কথাও মনে রাখা দরকার।</p><p>কৈশোরে বাজার থেকে কিনে আনা কাচকি মাছের সঙ্গে সাদা রঙের সাপের বাচ্চার মতো কিছু প্রাণী দেখে খুব অবাক হতাম। এগুলো কেউ খেত না। মা আমার জন্য আলাদা করে রাখতেন। আমি সেগুলো ছোট ছোট করে কেটে বড়শিতে গেঁথে শোল মাছ ধরতাম। তখন মনে করতাম, এগুলো বাহোক মাছের বাচ্চা।</p><p>পরে খ্যাতিমান লেখক হরিপদ দত্ত আমাকে বলেছিলেন, ‘বাহোকের ছানাদের প্রধান খাদ্য হচ্ছে কাচকি মাছ। তাই ওরা কাচকির ঝাঁকের সঙ্গে মিশে থাকত। বৈশাখ মাসে কাচকির সঙ্গে বেলজালে উঠে আসত তারা।’</p><p>হরিপদ দত্ত নিজেও শীতলক্ষ্যাপারের মানুষ। বাহোক কিংবা বাসুকি মাছ নিয়ে তাঁরও অনেক স্মৃতি আছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/bfvshkwtkg">যাচাই করুন আপনার দৃষ্টিশক্তি: ছবিটিতে কত দ্রুত ব্যাঙ খুঁজে বের করতে পারবেন?</a></aside><h3>জন্ম সমুদ্রে, বেড়ে ওঠা নদীতে </h3><p>এই মাছের জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক এর জন্ম ও বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া। বাহোকের জন্ম সমুদ্রে। ডিম ফুটে বের হওয়া স্বচ্ছ, পাতার মতো লার্ভা সমুদ্রের স্রোতে ভেসে উপকূলের দিকে আসে। ধীরে ধীরে এরা ‘গ্লাস ইল’ বা স্বচ্ছ ছোট ইলের আকৃতি ধারণ করে নদীতে প্রবেশ করে।</p><p>বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রংও বদলায়। প্রথম জীবনের স্বচ্ছ দেহ ক্রমে ধূসর, বাদামি কিংবা জলপাই রং ধারণ করে। পূর্ণবয়স্ক মাছের গায়ে দেখা যায় গাঢ় ছোপ।</p><p>মিঠাপানিতে বেশ কয়েক বছর কাটানোর পর প্রজননের জন্য আবার সমুদ্রে ফিরে যায় বাহোক।</p><p>এদিক থেকে এর জীবনচক্র অনেকটা ইলিশের বিপরীত। ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে আসে ডিম পাড়তে। আর বাহোক নদী থেকে সমুদ্রে যায় প্রজননের জন্য।</p><h3>শীতলক্ষ্যা থেকে কোথায় হারাল বাহোক </h3><figure><img alt="শীতলক্ষ্যা নদী" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/hl5hna8z/WhatsApp-Image-2026-11-01-at-9.17.55-PM-1.jpeg"><figcaption>২০০৪ সালে শীতলক্ষ্যা</figcaption></figure><p>একসময় দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও পাহাড়ি জলধারায় এই মাছের দেখা মিলত। শীতলক্ষ্যায়ও ছিল এর বিচরণ। কিন্তু নদীর দূষণ, আবাসস্থলের অবক্ষয় ও অতিরিক্ত আহরণ এই মাছের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। আমার ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে গত ২০ বছরে শীতলক্ষ্যার কোথাও বাহোকের খোঁজ মেলেনি।</p><p>তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাটবাজার, এমনকি রাজধানী ঢাকার মাছের আড়তেও মাঝেমধ্যে বাহোকের দেখা পাওয়া যায়। মাছটি সম্পর্কে মানুষের জানাশোনা কম। তাই একে ঘিরে নানা গল্প, ধারণা ও মন্তব্য শোনা যায়।</p><p>বাহোকের জীবন যেমন বিচিত্র, তেমনি রহস্যময়। এর বিচরণ, খাদ্যাভ্যাস, প্রজনন ও আবাসস্থল নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। আমাদের নদী থেকে হারিয়ে যাওয়া এই অদ্ভুত মাছের গল্পগুলো যেন একদিন শুধু লোককথা হয়ে না থাকে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/dr8zqhheps">নরসিংদীর জনবহুল এলাকায় বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটি এল কীভাবে</a></aside>

Prothomalo

View more
সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর
সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী ১ নভেম্বর রোববার সকালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন পেয়েছেন। তাঁদের অনেকেই মুঠোফোনে সেই বার্তা পেয়েছেন।

নভেম্বর ২, ২০২৬
মেসির দুর্দান্ত গোলে জয় ইন্টার মায়ামির, হেডে অ্যাসিস্টও করলেন
মেসির দুর্দান্ত গোলে জয় ইন্টার মায়ামির, হেডে অ্যাসিস্টও করলেন

আগে হেডে অ্যাসিস্টে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন, এরপর নিজেই দুর্দান্ত এক গোল করে নিশ্চিত করেছেন জয়।

নভেম্বর ২, ২০২৬
বাবাকে হারিয়ে দিনমজুর, সেই আরাফাত পেলেন জিপিএ-৫
বাবাকে হারিয়ে দিনমজুর, সেই আরাফাত পেলেন জিপিএ-৫

এলাকার মানুষের কাছে আরাফাত দিনমজুর হিসেবে পরিচিত হলেও, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

নভেম্বর ২, ২০২৬
আমেরিকান ড্রিম নিয়ে কিছু ভাবনা
আমেরিকান ড্রিম নিয়ে কিছু ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রে উন্নয়নশীল জীবনে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে লেখক তাঁর অভিজ্ঞতা ও গবেষণায় সমস্যার গভীরতা তুলে ধরেছেন। কয়েকটি উদাহরণে জীবনের স্থিতিশীলতা, মানসিক শান্তি ও সুস্থতার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে

নভেম্বর ২, ২০২৬
হার্ভার্ডের লিড ফেলোশিপ, অনলাইনের পাশাপাশি কেমব্রিজে ছয় সপ্তাহের প্রশিক্ষণ
হার্ভার্ডের লিড ফেলোশিপ, অনলাইনের পাশাপাশি কেমব্রিজে ছয় সপ্তাহের প্রশিক্ষণ

<p>হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষে তাদের মর্যাদাপূর্ণ লিড (LEAD) ফেলোশিপ প্রোগ্রামে আবেদন আহ্বান করেছে। LEAD শব্দের পূর্ণরূপ হলো—Learn, Engage, Advance and Disrupt। এই বিশেষ ফেলোশিপ প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।</p><p>এই এক বছরের ফেলোশিপটি আয়োজন করছে হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউট এবং হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন বিভাগ। প্রোগ্রামটি মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর পেশাজীবীদের জন্য উন্মুক্ত। ফেলোশিপে অনলাইন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে ছয় সপ্তাহ সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ফেলোশিপে আবেদনের শেষ সময় আগামী ১৫ নভেম্বর।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/w10ysi0rr2">এআই যুগে গণিত শেখা কি জরুরি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন</a></aside><p><strong>ফেলোশিপের আদ্যোপন্ত—<br></strong>এ ফেলোশিপের কর্মসূচি শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর। ২০২৮ সালের ৩১ আগস্ট শেষ হবে ফেলোশিপ। এ সময়ে ১২ মাসের অনলাইন পাঠক্রম চলবে। ২০২৮ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে হবে ছয় সপ্তাহের আবাসিক প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণার্থীরা নানা ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ পাবেন। হার্ভার্ডের শিক্ষকদের পরিচালিত বিশেষ কোর্স ও মাস্টারক্লাসেও অংশ নেওয়া যাবে।<br>যে যে সুবিধা আছে ফেলোশিপে—<br>*যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের বিমানভাড়া।<br>*কর্মসূচি চলার সময়ে আবাসনের ব্যবস্থা।<br>*জে-১ ভিসা ফি।<br>*যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর ভাতা।</p><blockquote>হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষে লিড ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আবেদন আহ্বান করেছে, যার উদ্দেশ্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। আবেদনের শেষ সময় ১৫ নভেম্বর।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/uj8maasa2b">কোটি টাকার ফেলোশিপ-বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন আশফাকুর রহমান </a></aside><p><strong>আবেদনের যোগ্যতা—<br></strong>*সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।<br>*প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট পেশায় অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা। শিক্ষার্থী অবস্থায় করা কাজের হিসাবে ধরা হবে না।<br>*নেতৃত্ব দেওয়ার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্বের দক্ষতা আরও বিকাশের সম্ভাবনা।<br>*যুক্তরাষ্ট্রের জে-১ ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা এবং ২০২৮ সালের এপ্রিলে ছয় সপ্তাহ কেমব্রিজে থাকার সুযোগ।<br>*আবাসিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি বা সমমানের বিরতি নেওয়ার ব্যবস্থা।<br>*ফেলোশিপের মেয়াদে কোনো পূর্ণকালীন ফেলোশিপে অংশ না নেওয়া।<br>*বিভিন্ন অঞ্চল, পেশা, শিক্ষাগত শাখা ও খাতের প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।<br>*সব লিঙ্গপরিচয়ের প্রার্থীর জন্যও আবেদন উন্মুক্ত।<br>*প্রার্থীকে নিজেই আবেদন করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/5dp552hmbv">উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিক্ষা এগিয়ে রাখবে আপনাকে </a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/ktpwc29x/6.LEAD-Fellowship-Application-OPEN-2027-2028-1-1024x576.webp"><figcaption>স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রার্থীদের নিজেই আবেদন করতে হবে</figcaption></figure><p><strong>আবেদন যেভাবে—<br></strong>আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের প্রথমে হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে যোগ্যতা ও নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হবে। এরপর নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সময়মতো জমা দিতে হবে।</p><p><br><strong>আবেদনের শেষ সময়—<br></strong>আগ্রহী প্রার্থীরা ১৫ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম) পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবেন।</p><p>*হার্ভার্ডের লিড ফেলোশিপের <a href="https://globalhealth.harvard.edu/2027-2028-harvard-lead-fellowship-application-is-now-open/" target="_blank" rel="nofollow">বিস্তারিত দেখুন এখানে</a></p>

নভেম্বর ২, ২০২৬
চলতি বিজ্ঞপ্তিতে চাকরি পাবেন ৬ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই পদ অনুমোদন
চলতি বিজ্ঞপ্তিতে চাকরি পাবেন ৬ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই পদ অনুমোদন

<p>বাংলাদেশ পুলিশে ‘ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি)’ পদে আবেদনপ্রক্রিয়া গত ৩০ অক্টোবর শেষ হয়েছে। আবেদন শেষ হলেও কতসংখ্যক কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ঘুরছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে পদসংখ্যার প্রকৃত হিসাব এবং নিয়োগের পরিকল্পনা স্পষ্ট করা হয়েছে।</p><p> পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশে নতুন করে ১০ হাজার কনস্টেবল যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।</p><p>বর্তমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কতজন নিয়োগ পেতে পারেন—এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) কামারুন মুনিরা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশে বর্তমানে ২ হাজার কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে নতুন ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের প্রক্রিয়া বিবেচনা করে বর্তমান নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ২ হাজার শূন্য পদ পূরণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত ১০ হাজার পদ থেকে আরও ৪ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। অর্থাৎ চলমান প্রক্রিয়ায় মোট ৬ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/an4dhu3h/____________________3.jpg"><figcaption>আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিতে হয় পুলিশ সদস্যেদের</figcaption></figure><p>পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে, এই ৬ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে প্রস্তাবিত ১০ হাজার নতুন পদের মধ্যে বাকি থাকবে আরও ৬ হাজার পদ। প্রথম ধাপের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাকি ৬ হাজার কনস্টেবল পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ধাপে ধাপে নেওয়া হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/pmgdt15hp8">প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে</a></aside><p>এর আগে গত ৯ অক্টোবর সারা দেশে কনস্টেবল নিয়োগের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। অনলাইনে আবেদন শুরু হয় ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টায়। আবেদন করার শেষ সময় ছিল ৩০ অক্টোবর বিকেল ৫টা।</p><p>বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীদের প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং, শারীরিক মাপ, শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে। তবে আবেদনপত্রে বা বাছাইয়ের যেকোনো পর্যায়ে ভুয়া বা অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/dbdi5owhju">ইউরোপের ঘণ্টাপ্রতি বেতন যে ১০ দেশে সবচেয়ে বেশি</a></aside><p><strong>সরাসরি ৪ হাজার এসআই নিয়োগের অনুমোদন</strong></p><p>কনস্টেবল নিয়োগপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি পুলিশে ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) সংশোধন করা হয়েছে। আগে ৫০ শতাংশ পদ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৫০ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ হতো। এবারই প্রথম শতভাগ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।</p><p>সচিব কমিটির সভায় এসআই ও কনস্টেবল মিলিয়ে পুলিশে মোট ১৪ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে নিয়োগের জন্য একটি বিশেষ বিসিএস আয়োজনের চিন্তাভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নেওয়া হতে পারে। পুলিশে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গোয়েন্দা যাচাই বজায় রাখা হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/303mtcae29">আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৯০ জনের চাকরি, অনলাইনে আবেদন শুরু ২ নভেম্বর</a></aside>

নভেম্বর ২, ২০২৬
রাধাচূড়ার রঙে বদলে গেছে চেনা পথ
রাধাচূড়ার রঙে বদলে গেছে চেনা পথ

<p>মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের তালতলা এলাকা থেকে একটি পথ সোজা চলে গেছে মনু নদ প্রকল্পের বাঁধের রাঙাউটি হয়ে শমসেরনগর সড়কে। দুই পাশে ধানখেত, মাঝখানে সরু সড়ক। সেই সড়কের এক পাশে এখন সারি ধরে ফুটেছে লাল, হলুদ রাধাচূড়া। রাঙাউটি পর্যন্ত এক কিলোমিটারের কাছাকাছি পথটুকু এখন ফুলে ফুলে সেজে আছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/zgztm81h/Flower-4.jpg"><figcaption>হলুদ রাধাচূড়া। গত শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার তালতলা এলাকায়</figcaption></figure><p>মনু নদ প্রকল্পের বড় বাঁধ থেকে পানির একটি নালা তালতলায় (একসময় এখানে তালগাছ ছিল, সেই থেকে নাম) এসে মিশেছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার এই নালার পূর্ব পাড়টি এখন একটি সংযোগ সড়ক। মাতারকাপনে মনু ব্যারাজ হয়ে এই সড়ক মৌলভীবাজার-কুলাউড়া ও মৌলভীবাজার-শমসেরনগর—জেলার এই দুই প্রধান সড়ককে যুক্ত করেছে। প্রয়োজন না হলে এক সড়ক থেকে আরেক সড়কে এখন আর মৌলভীবাজার শহর ঘুরে যেতে হয় না।</p><p>গত শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার তালতলায় গিয়ে দেখা গেল, সড়কের পশ্চিম পাশে সারি ধরে লাগানো ফুলের গাছ। কোথাও থোকা থোকা হলুদ ফুল বাতাসে দুলছে, কোথাও আবার লাল ফুলের সমারোহ। কিছু গাছে ফলও এসেছে। লম্বা শিমের মতো কাঁচা ফল সবুজ, পাকা ফলে খয়েরি রং ধরেছে। মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের তালতলা থেকে দক্ষিণে তাকালেই ফুলের এই নজরকাড়া রং চোখে পড়ে। যাঁরা একটু সময় নিয়ে হাঁটেন, তাঁরা ফুল ঘিরে ভ্রমরের ওড়াউড়ি আর গুঞ্জনও শুনতে পান।</p><blockquote>লোকমুখে প্রচলিত, টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়াকে তুলনা করা হয় শ্রীকৃষ্ণের ময়ূরের পালকশোভিত চূড়া বা মুকুটের সঙ্গে। সেই ধারায় হলুদ, লালচে কমলা ও সোনালি রঙের ফুলটি হয়ে ওঠে রাধার অলংকৃত মুকুট বা অলংকার—রাধাচূড়া।</blockquote><p>সড়কের পূর্ব পাশে এখনো ঘন সবুজ। সেখানে পলাশ, শিমুল, সোনালুসহ আরও কিছু গাছ বড় হচ্ছে। ফুল ফোটার সময় হলে এগুলোও ডালপালা ফুলে ভরে তুলবে বলে। রাধাচূড়ার ছোট ছোট নতুন গাছেও কুঁড়ি আসছে। সড়কের পাশে রাঙাউটি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এসব গাছ লাগিয়েছে। দুই পাশের ধানখেত এখনো সবুজ, তবে ধান পাকতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও সোনালি রঙের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/or3szmbr/Flower-2.jpg"><figcaption> লালচে কমলা রঙের রাধাচূড়া ফুল। গত শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার তালতলা এলাকায়</figcaption></figure><p>রাধাচূড়া ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফুল। দেখতে অনেকটা কৃষ্ণচূড়ার মতো, তবে গাছ আকারে ছোট, ফুলের রঙেও ভিন্নতা আছে। নামের উৎস নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না। তবে লোকমুখে প্রচলিত, শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমকাহিনির সঙ্গে মিলিয়ে এই নাম দেওয়া হয়েছে। টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়াকে তুলনা করা হয় শ্রীকৃষ্ণের ময়ূরের পালকশোভিত চূড়া বা মুকুটের সঙ্গে। সেই ধারায় হলুদ, লালচে কমলা ও সোনালি রঙের ফুলটি হয়ে ওঠে রাধার অলংকৃত মুকুট বা অলংকার—রাধাচূড়া।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/ixokq5jq/Flower-3.jpg"><figcaption>রাধাচূড়ার ফল। গত শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার তালতলা এলাকায়</figcaption></figure><p>রাধাচূড়ার ফুল ডালের আগায় লম্বা ডাঁটায় থোকা বেঁধে ফোটে। ফুলের সৌরভ নেই, তবে দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। এর আদি নিবাস মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ইউরোপীয় নাবিকদের মাধ্যমে এর বীজ এশিয়ায় আসে, পরে তা ভারত উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।</p><p>নাম বা ইতিহাস যা-ই হোক, তালতলা থেকে রাঙাউটি পর্যন্ত এই একটুরা সড়ক এখন রাধাচূড়ারই পথ। সবুজ পাতার ঝোপ ছাড়িয়ে লাল ও হলুদ ফুল সড়কটিকে রঙিন করে তুলেছে। এই পথ দিয়ে যাঁরা যান, তাঁদের একবার অন্তত ফুলের দিকে তাকাতেই হয়।</p>

নভেম্বর ২, ২০২৬
‘কমেন্ট্রি বক্স পতাকা ওড়ানোর জায়গা নয়’
‘কমেন্ট্রি বক্স পতাকা ওড়ানোর জায়গা নয়’

অনেকের মতেই ইয়ান বিশপ এখন বিশ্বের সেরা ধারাভাষ্যকার। এটা নিয়ে কারও ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে মানুষ হিসেবে তাঁর অসাধারণত্ব নিয়ে তা একদমই নেই।

নভেম্বর ২, ২০২৬
চীন যেভাবে মার্কিন ডলারের আধিপত্য ভাঙতে যাচ্ছে
চীন যেভাবে মার্কিন ডলারের আধিপত্য ভাঙতে যাচ্ছে

১৯৭১ সালের কথা। আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থা যখন একেবারে ভেঙে পড়ার মুখে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জন কনেলি ইউরোপের উদ্বিগ্ন অর্থমন্ত্রীদের উদ্দেশে একটি বিখ্যাত কথা বলেছিলেন: ডলার ‘আমাদের মুদ্রা, কিন্তু সমস্যাটা আপনাদের’।

নভেম্বর ২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।