<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/u0ep811f/BAF.jpg"><figcaption>ঢাকা সেনানিবাসের বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকারে যৌথ মহড়া ‘কোপ সাউথ-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের কর্মকর্তারা</figcaption></figure><p>বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের (পিএসিএএফ) অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত যৌথ বিমান মহড়া ‘এক্সারসাইজ কোপ সাউথ-২০২৬’ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকারে পাঁচ দিনব্যাপী এ মহড়া সফলভাবে সমাপ্ত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।</p><p>মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান কর্নেল হেনরি ই. প্লাগরাডট মহড়ার নানা কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাঁচ দিনের এই যৌথ মহড়ায় সি-১৩০জে ও সি-১৩০বি পরিবহন বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ ব্যবস্থাপনা এবং বিমানসংক্রান্ত চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আকাশপথে মালামাল পরিবহন, বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার পর অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।</p><p>এ মহড়ায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১২০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের ১৮ জন সদস্য অংশ নেন। ১ নভেম্বর শুরু হয়েছিল এই মহড়া।</p>
<p>বৃষ্টিভেজা লালগালিচায় শুরু, বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় বিদায়। ১০ দিনের চলচ্চিত্রযাত্রা শেষে ৪ নভেম্বর পর্দা নামল ৩৯তম টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। হিবিয়া, মারুনৌচি, ইউরাকুচো, গিনজাসহ বিভিন্ন ভেন্যুতে প্রদর্শিত হয়েছে ২০৪টি চলচ্চিত্র। সমাপনী সন্ধ্যায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ইউরাকুচোর হিউলিক হলে জড়ো হন বিভিন্ন দেশের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও অতিথিরা। একে একে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার।<br>উৎসবের সর্বোচ্চ সম্মান টোকিও গ্রাঁ প্রি—দ্য গভর্নর অব টোকিও অ্যাওয়ার্ড জিতেছে উত্তর মেসিডোনিয়ার নির্মাতা মিলচো মানচেভস্কির ‘সিস্টার ব্রাদার ম্যানহোল কাভার’। অন্য পুরস্কারগুলোতেও উঠে এসেছে বৈচিত্র্যময় গল্প ও নির্মাণশৈলী। কোথাও প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, কোথাও ইতিহাস ও কল্পনার মেলবন্ধন, কোথাও অপূর্ণ স্বপ্নের কথা। সমাপনী অনুষ্ঠানের পর সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও বিচারকদের কথায় উঠে আসে এসব চলচ্চিত্রের নেপথ্যের গল্প।</p><p><strong>ভাই–বোনের সংগ্রামের গল্পে সর্বোচ্চ পুরস্কার</strong><br> ‘সিস্টার ব্রাদার ম্যানহোল কাভার’-এর কেন্দ্রে দরিদ্র দুই ভাই–বোন মালিনা ও ভিক্টর। উত্তর মেসিডোনিয়ার রাজধানী স্কোপিয়েতে ম্যানহোলের ঢাকনা ও ব্রোঞ্জের আবক্ষ মূর্তি চুরি করে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে তাদের দিন চলে। একদিন জাতীয় বীরের ভারী মূর্তি ভিক্টরের পায়ে পড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। ভাইয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গিয়ে আরও কঠিন হয়ে ওঠে মালিনার জীবনসংগ্রাম। দুই ভাই–বোনের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে উঠে আসে সামাজিক অবহেলা, দারিদ্র্য ও সম্পদের বৈষম্য।<br> উত্তর মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, আলবেনিয়া, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটিতে হাস্যরস, ট্র্যাজেডি ও নাটকীয়তার মেলবন্ধন বিচারকদের মন জয় করেছে।</p><p>পরিচালক মিলচো মানচেভস্কি জানান, বাড়ির কাছের পার্ক থেকে জাতীয় বীরদের মূর্তি উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা থেকেই গল্পের ভাবনা আসে। পরে সেসব মূর্তির প্রতিরূপও হারিয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ভাঙারির দোকানে প্রতি কিলোগ্রাম ব্রোঞ্জের দাম মাত্র তিন ইউরো। তখনই ঘটনাটি চোরদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কথা ভাবেন তিনি।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, কঠিন বাস্তবতার গল্পে হাস্যরস ও দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলতে অভিনয়শিল্পীরা কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।<br>মালিনা চরিত্রের অভিনেত্রী সারা ক্লিমোস্কা জানান, ফিলিপ ট্রাইকোভিচের সঙ্গে চলচ্চিত্র ও মঞ্চে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। ছবিটির জন্য তিন সপ্তাহ মহড়া করেছেন তাঁরা। বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কমেডির দৃশ্যগুলোতে।<br>ট্রাইকোভিচ বলেন, সহশিল্পীর অভিনয়ে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেওয়াই বিশ্বাসযোগ্য জুটি তৈরির ভিত্তি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চরিত্রগুলোর আনন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।<br>পরিচালকের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রযোজক ইয়ানে কর্তোশেভ। মঞ্চে রসিকতা করে বলেন, ‘আমরা টোকিওতে এসেছিলাম একটি ম্যানহোলের ঢাকনা নিয়ে, আর মেসিডোনিয়ায় ফিরছি এই সুন্দর পুরস্কার নিয়ে। আমার তো মনে হয়, বেশ ভালো বিনিময়ই হলো।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/7tx0gxzv/%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AA-%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%9A-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%95-%E0%A6%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%AD-%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%83-%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A7%97%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87.JPG"><figcaption>পুরস্কার হাতে ‘সিস্টার ব্রাদার ম্যানহোল কাভার’ চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী সারা ক্লিমোস্কা, অভিনেতা ফিলিপ ট্রাইকোভিচ ও প্রযোজক ইয়ানে কর্তোশেভ</figcaption></figure><p><strong>পুরস্কারে বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রভাষা</strong><br>বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে সুন শুনের সিঙ্গাপুরি চলচ্চিত্র ‘ম্যাজিক অ্যাটলাস’। উডকাট অ্যানিমেশনের মাধ্যমে বাস্তব ও কল্পনা, ইতিহাস ও পুরাণের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন নির্মাতা। প্রায় এক দশকের পরিশ্রমের স্বীকৃতি মিলেছে এই পুরস্কারে।<br>‘ডাবল ফ্রিডম’-এর জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন লিসান্দ্রো আলোনসো। তাঁর সংযত নির্মাণশৈলী এবং সময়ের প্রবাহকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন বিচারকেরা।<br>সেরা অভিনেতা হয়েছেন ‘টু সিগারেটস, থ্রি নাইটস’-এর নারিতা রিয়ো। তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ছবির পরিচালক মিশিমা ইউকিকো। অন্যদিকে ‘দ্য নাইট দ্যাট বাইন্ডস আস’-এ এক মধ্যবয়সী নারীর অসম প্রেমের গল্পে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন চীনা অভিনেত্রী হু লিং।<br>সেরা শিল্পগত অবদানের পুরস্কার পেয়েছে ইয়েলেনা ম্যাকসিমোভিচের ‘আনটিল দ্য ডে এন্ডস’-এর চিত্রগ্রহণ। সার্বিয়ার একই সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা, কিন্তু ভিন্ন সুযোগ পাওয়া দুই তরুণ-তরুণীর সম্পর্ক নিয়ে ছবিটি। নির্মাতার ভাষায়, প্রতিবাদ এই চলচ্চিত্রের মূল বিষয় নয়, বরং গল্পের প্রেক্ষাপট।<br>দর্শক পুরস্কার পেয়েছে তেওদোরা আনা মিহাইয়ের ‘হেইসেল ৮৫’। ফুটবল স্টেডিয়ামের এক হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।</p><p><strong>প্রথম পুরস্কার, অপূর্ণ স্বপ্নের গল্প</strong><br>এশিয়ান ফিউচার বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হয়েছে সুইজারল্যান্ড ও তুরস্কের যৌথ প্রযোজনা ‘শেরিফে তাভসান’। পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত আফগান পরিচালক তারেক দাউদ বলেন, ‘জীবনে এই প্রথম কোনো পুরস্কার পেলাম।’<br>সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতা জানান, তুর্কি সহলেখকের সঙ্গে ছবিটির গল্প লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তাঁদের দাদি-নানিদের জীবন থেকে। সীমিত সুযোগের মধ্যেও পরিবারের জন্য ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন তাঁরা। অথচ নিজেদের অনেক স্বপ্নই অপূর্ণ থেকে গেছে। সেই প্রাপ্তি ও আক্ষেপের অভিজ্ঞতাকে সর্বজনীন গল্পে রূপ দিতে চেয়েছেন নির্মাতারা।<br></p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/4sf24doe/%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%93-%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%83-%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A7%97%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87.JPG"><figcaption>টোকিও চলচ্চিত্র উৎসবে বিজয়ীরা</figcaption></figure><p>এবার নতুন চালু হওয়া ‘নিপ্পন সিনেমা নাউ’ বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হয়েছে তানাকা মিকির ‘সিলভার এক্সপ্রেস’। জার্মানি ও ইউক্রেনের যৌথ প্রযোজনা ‘আই রেয়ারলি ওয়েক আপ ড্রিমিং’ পেয়েছে টিএফ এথিক্যাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড। কুরোসাওয়া আকিরা পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন ও মিপো ও মোহাম্মদ রাসুলোফ।<br>এবার টোকিও উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো পুরস্কার জেতেনি।</p><p><strong>১৫ চলচ্চিত্র বিচার করতে গিয়ে</strong><br>সমাপনী অনুষ্ঠানের পর ইউরাকুচো আসাহি স্কয়ারে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরিপ্রধান রলফ ডি হিয়ার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিচারকমণ্ডলীর অন্য চার সদস্য অ্যালেক্স লো, ও জুংওয়ান, ওয়াতানাবে মাকিকো ও ইয়োভ মুর।<br>রলফ ডি হিয়ার জানান, ভিন্ন ধরনের ১৫টি চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে সেরা কাজগুলো বেছে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, যাতে বিচারকমণ্ডলীর সবাই সন্তুষ্ট।<br>প্রথম আলোর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, প্রতিযোগিতার চলচ্চিত্রগুলো বিচার করার সময় তাঁরা মূলত কী খুঁজেছেন।<br>জবাবে জুরিপ্রধান বলেন, ‘একটি চলচ্চিত্র দেখার সময় আমি সাধারণত সেটির মধ্যে ডুবে থাকতে চাই। চলচ্চিত্রটি আমাকে কী দিচ্ছে, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বিচারকের দৃষ্টিতে ছবি দেখা সাধারণ দর্শক হিসেবে দেখার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা।’<br>আরেক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, প্রতিযোগিতার ১৫টি চলচ্চিত্র বিশ্ব চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কী বার্তা দেয়? চলচ্চিত্র কি এগোচ্ছে, নাকি পিছিয়ে পড়ছে?<br>রলফ ডি হিয়ার বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া মাত্র ১৫টি ছবি দিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করা কঠিন। তবে এই ছবিগুলোর বৈচিত্র্য স্পষ্ট। নির্মাতারা অর্থবহ চলচ্চিত্র তৈরি করতে চাইছেন। এমন এক সময়ে এটি ঘটছে, যখন অর্থবহ চলচ্চিত্রের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/34oprvqa/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE.%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%83-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%BE.jpeg"><figcaption>প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন অভিনেত্রী সারা ক্লিমোস্কা। ছবি: প্রথম আলো</figcaption></figure><p><strong>সমাপনী ছবি ‘কলোনি’, ছিল নানা আয়োজন</strong><br>উৎসবের সমাপনী চলচ্চিত্র ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার পরিচালক ইয়ন সাং-হোর ‘কলোনি’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক ও অভিনেতা কু গিয়ো-ফান। তাঁরা অ্যাকশন, জম্বি চলচ্চিত্র এবং প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।<br>১০ দিনের উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি ছিল মাস্টারক্লাস, বিশেষ সংলাপ, সম্মাননা ও চলচ্চিত্রকর্মীদের মতবিনিময়। জেজে ও ওয়েন ওয়াংয়ের মাস্টারক্লাস, জার্মান নির্মাতা উলরিকে ওটিঙ্গারের সঙ্গে আলোচনা, চলচ্চিত্রকর্মীদের আদান-প্রদানের আয়োজন ‘টোকিও টক’ এবং ক্রসকাট এশিয়া প্লাসের বিশেষ সিম্পোজিয়াম ছিল উল্লেখযোগ্য।<br>এ ছাড়া অস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ‘একাডেমি ইন টোকিও’ শীর্ষক বিশেষ সংলাপ।<br>উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবার চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে দর্শকসংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৭২, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/rfopr9ht/%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AB-%E0%A6%A1%E0%A6%BF-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0.JPG"><figcaption>উৎসবের সমাপনী ঘোষণা করছেন হিসামাতসু তাকেও</figcaption></figure><p><strong>এবার অপেক্ষা ৪০তম আসরের</strong><br>১০ দিনের আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করতে মঞ্চে আসেন উৎসব পরিচালক হিসামাৎসু তাকেও। তাঁর কথায়, এবারের উৎসবে এমন অনেক চলচ্চিত্র ছিল, যা দর্শকদের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একই সঙ্গে নানা দেশের নির্মাতা ও দর্শকের মধ্যে তৈরি হয়েছে যোগাযোগের নতুন সুযোগ।<br>আগামী বছর টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪০তম আসর। সেই আয়োজন আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত করার প্রত্যয় জানান উৎসব পরিচালক।<br>বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় শেষ হলো এবারের চলচ্চিত্র উৎসব। পুরস্কার হাতে ফিরলেন বিজয়ীরা, নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলেন নির্মাতা ও দর্শকেরা। আর টোকিও অপেক্ষায় রইল বিশ্ব চলচ্চিত্রের পরবর্তী মিলনমেলার।</p>
<p>দফায় দফায় জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখা।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। এতে দলটির কয়েক হাজার নেতা–কর্মী অংশ নেন। নারীরা হাঁড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন নিয়ে মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন।</p><p> সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, মানুষের আয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি তেল, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। কিন্তু মানুষের আয় সে অনুপাতে বাড়ছে না।</p><p>সরকারকে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, জনগণের কাছে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণকে অস্তিত্বসংকট ও অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে উন্নয়নের ফানুস ওড়ানো যাবে না।</p><p>চলমান শ্রমিক আন্দোলনে কারা ভাঙচুর ও নাশকতা করার চেষ্টা করছে, সরকারকে তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।</p><p>গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার বিভাজনের সূচনা করেছে উল্লেখ করে ঢাকা উত্তর জামায়াতের এই আমির বলেন, গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সরকারের উচিত ছিল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। কিন্তু সেটি সরকার করছে না। এর পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।</p><p>সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাড্ডা ইউলুপের সামনে এসে শেষ হয়।</p><p>সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ইয়াসিন আরাফাত, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।</p>
কুমিল্লা নগরের প্রায় ১০৩ একর জায়গাজুড়ে এই হাউজিং এস্টেটের অবস্থান। ১৯৬১-৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত আবাসন প্রকল্পটিতে চারটি সেকশনে রয়েছে ৫৬০টি প্লট।
<p>শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দলমত, শ্রেণি-পেশা কিংবা সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে শিশু অধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাসের প্রথম বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার এ কথা বলেন। সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।</p><p> ডেপুটি স্পিকার বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সংসদ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।</p><p>ককাসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, শিশু অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। দেশে শিশু অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে অনেক আইন রয়েছে, তবে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আইন, বাজেট ও অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।</p><p>শিশু অধিকার-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন ও খসড়া আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ওপর জোর দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাব আনা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে সংসদ সদস্যরা বেসরকারি বিলের মাধ্যমেও বিষয়টি সংসদে তুলতে পারেন। এ বিষয়ে সংসদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশুবান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ, জবাবদিহি নিশ্চিত করাসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্ত করে সংসদীয় উদ্যোগ জোরদার, নীতি-আলোচনা, তদারকি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু এবং অসহায়, এতিম ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।</p><p>ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানার সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন সদস্য মোরশেদ মিলটন, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, আন্না মিনজ ও মাধবী মার্মা।</p>
<p>বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য জানিয়েছে।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।</p><p> বাসস জানায়, সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষ্ক্রিয় অংশীদার নয়, বরং সক্রিয় অংশীদার হওয়াই হবে আমাদের লক্ষ্য। এআইনির্ভর নয়, বরং এআই সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’</p><p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে উঠতে পারে—এমন মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআইকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তরুণদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিকে পরিণত হবে।</p><p>রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশকেও এ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এআইয়ের সুফল পেতে দেশের তরুণসমাজকে প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।</p><blockquote>* দিনব্যাপী এই সামিটে ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণেরা নিজেদের উদ্ভাবিত পণ্য প্রদর্শন করেন।* উদ্বোধনী পর্ব শেষে আয়োজন করা হয় এআই–বিষয়ক পৃথক তিনটি কর্ম অধিবেশন।</blockquote><p>রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্বে দেশকে একটি পরিচিতি দিয়েছে। একইভাবে দেশের তরুণেরা যদি যথাযথ সক্ষমতা নিয়ে এআই–প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে, তাহলে তারাই বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করার সম্ভাবনা রাখে।</p><p>এর আগে সম্মেলন আয়োজকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের রেডিনেস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমসের সিইও অধ্যাপক আলমগীর হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।</p><p><strong>তিনটি কর্ম অধিবেশন</strong></p><p>এদিকে ঢাকা চেম্বারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিষয়ভিত্তিক তিনটি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তর মোকাবিলা: প্রয়োগ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’বিষয়ক অধিবেশন সঞ্চালনা করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি বলেন, এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি পরিবর্তনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ব্যবসা পরিচালনা, শিল্প উৎপাদন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করছে।</p><p>ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অপর এক অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে অসংখ্য মেধাবী তরুণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি বিনিয়োগও করেছেন। তাই সরকার দেশে একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে এ ধরনের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবল দেশে আনা সম্ভব হয়।</p><p>একই অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে স্থানীয় উদ্যোক্তারা এআইভিত্তিক সেবা চালু করতে পারে, যা অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।</p><p>অধিবেশনে ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান বলেন, শিল্প খাতের উৎপাদন ও সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।</p><p>তৃতীয় কর্ম অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্থানীয়ভাবে তৈরি এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সম্প্রসারণে কূটনৈতিক আলোচনা ও বৈশ্বিক অংশীদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।</p><p>এ ছাড়া সামিটের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. সবুর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর সিইও রাইসুল কবির, মার্কপোলোর সিইও তাসফিয়া তাসবীন, পাঠাওয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাহিনুর রহমান ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষার্থী তৌসিফা ইসলাম প্রমুখ।</p><p>সামিটে এআইভিত্তিক দেড় শতাধিক স্টলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করেন। সেই সঙ্গে দেশের ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তারা নিজেদের উদ্ভাবিত পণ্যের প্রদর্শন করেন।</p>
<p>যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার রাজনীতিক। নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেটিকাট ও নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন তাঁরা। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>
<p>একটি বোতলের গায়ে লেখা যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত আর বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ময়নসিংহের ভালুকায়। আরেকটি গায়ে দেওয়া রয়েছে জাপানি কোম্পানির নাম আর উৎপাদনের সিরিয়ালে লেখা যুক্তরাষ্ট্রের নাম। এভাবে দেশি–বিদেশি নামীদামি ব্র্যান্ডের নামে নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট (খাদ্য পরিপূরক—ভিটামিন বা ওষুধ) তৈরির একটি কারখানার সন্ধান মিলেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া মাঠে।</p><p>আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে ওই কারখানার প্রায় দুই ট্রাক ওষুধ মাঠেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আরও তিন ট্রাক সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।</p><p>সন্ধ্যার পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাঘা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল বাঘা থানা–পুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করছেন। কারখানা খুলে মালামাল জব্দ করা হচ্ছে। এর মধ্যে তৈরি পণ্য, পণ্য তৈরির সরঞ্জামসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রয়েছে।</p><p>প্রাথমিক ধারণা থেকে সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহান প্রথম আলোকে বলেন, যে রকম দামের একেকটি প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে, তাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের নকল ওষুধ তারা জব্দ করেছেন। এগুলোর মধ্যে প্রায় দুই ট্রাক মাঠেই পোড়ানো হয়েছে। বাকিটা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।</p><p>নুসরাত জাহান বলেন, মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা এখানে এসেছেন। তিনি দেখছেন, নিয়মিত মামলা করা যায় কি না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/tzk3yx6k/rajshahi2.jpg"><figcaption>নকল ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ ট্যাবলেট তৈরির একটি যন্ত্র</figcaption></figure><p>জব্দ করা মালামাল নিতে আড়ানী পৌরসভার একটি ট্রাক নিয়ে আসা হয়। কারখানার তালা খুলে দেখা যায়, ভেতরে বিপুল পরিমাণ ওষুধের কার্টন থরে থরে সাজানো। সেই সঙ্গে রয়েছে ওষুধ তৈরি করার যন্ত্রপাতিও। জব্দ করা সব জিনিসপত্র নিতে পারলেও ট্যাবলেট প্রস্তুতকারী যন্ত্রটা নিতে পারেননি।</p><p>ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল প্রথম আলোকে বলেন, এত ওজনের একটা যন্ত্র নিয়ে যাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি যন্ত্রটি অকেজো করে দিয়েছেন।</p><p><strong>যেভাবে কারখানার সন্ধান</strong></p><p>গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থানা–পুলিশ ওই থানায় করা একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে এই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করেন। বনানী থানার মামলায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে নিয়ে যায় তারা।</p><p>নুসরাত জাহান জানান, বনানী থানা এলাকার পুলিশ ‘কারকুমা’ নামের একটি পণ্যের সূত্র ধরে এসেছিল। কারখানায় পাওয়া নকল ‘কারকুমা’র সব পণ্য তারা জব্দ করে নিয়ে যান। তবে আটক করে নিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তির নাম তিনি বলতে পারেননি। তিনি এ ব্যাপারে বনানী থানা–পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।</p><aside><cite>মেহেদী আফজাল, তত্ত্বাবধায়ক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, রাজশাহী জেলা </cite>এরা মস্ত বড় প্রতারক। তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিদেশি নামীদামি কোম্পানির ব্র্যান্ড নকল করে এখানে ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরি করছে। এগুলোর দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকা।</aside><p>যোগাযোগ করা হলে বনানী থানার (ওসি) মো. সালাউদ্দিন বলেন, জুলাই মাসের একটি মামলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাঘায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরির একটি কারখানা পাওয়া গেছে। সেখান থেকে মামলার অন্যান্য আলামত জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহান বলেন, বুধবার রাতে আটক বাকি নয়জনের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন। বাকি চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয় এবং কারখানা সিলগালা করে রেখে যান।</p><p>জরিমানার রশিদে সই করেছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চকলক্ষ্মীপুর গ্রামের আবু সৈয়দ হোসেনের ছেলে খালিদ হাসান। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯–এর ৪১ ধারায় এই জরিমানা করা হয়। সাক্ষী হিসেবে সই করেছেন দুই শ্রমিক—নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষ্মীকুল গ্রামের দিলু মিয়া ও হাসমত। অন্য ছয় শ্রমিকের বাড়িও নাটোরে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/x7ii8n8g/rajshahi3.jpg"><figcaption>জব্দ করা নকল ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ ও সাপ্লিমেন্ট তৈরির যন্ত্রপাতি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে</figcaption></figure><p>ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল বলেন, এরা মস্ত বড় প্রতারক। তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিদেশি নামীদামি কোম্পানির ব্র্যান্ড নকল করে এখানে ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরি করছে। এগুলোর দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকা। তিনি বলেন, মোড়কে বা কৌটার গায়ে সরাসরি ওষুধ না লেখার কারণে তারা মামলা করতে পারছেন না। কিন্তু অনুমোদন না থাকার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে।</p><p>‘কারকুমা’ নামের যে পণ্যের সূত্র ধরে বনানী–থানা পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল, তার প্রতিটি প্যাকেটের দাম ২ হাজার ১৭০ টাকা। কোরিয়ায় প্রস্তুত করা লেখা একটি প্যাকেটের গায়ে দাম ২ হাজার ৩৯৯ টাকা আর মালোয়েশিয়া লেখা একটি প্যাকেটের গায়ের দাম লেখা রয়েছে ২ হাজার ২৯০ টাকা।</p><p>এসব ওষুধ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে পাঠানো হয়। অনলাইনের মাধ্যমে মূলত এই ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। কারখানায় তার কয়েকটি নমুনাও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত প্যাকেটও জব্দ করা হয়েছে অভিযানে।</p><p><strong>বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকত কারখানাটি</strong></p><p>স্থানীয় লোকজন জানান, আধাপাকা কারখানাটি বাইরে থেকে তাঁরা সব সময় তালাবদ্ধ দেখেন। পেছনের একটি দরজা দিয়ে হয়তো সেখানকার লোকজন ভেতর ঢোকেন। বাড়িটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, শোবার খাট, খাওয়ার থালাবাসন। নলকূপটিও কারখানার ভেতরে।</p><p>খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়ির মালিক হায়দার আলী চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। তাঁর ভাই শামীম ও মা রিনা বেগম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে নাটোরের রেজাউল করিম মাসে আট হাজার টাকা ভাড়ায় বাড়িটি নেন। তবে বাড়ির ভেতরে কী ধরনের কাজ চলত, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।</p><p>শামীম আরও জানান, রেজাউল করিম ‘নাটোর ভেষজ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি বাড়ির মালিকের কাছে জমা রেখেছিলেন। লাইসেন্সটি নাটোরের খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত। ফোন নম্বর বন্ধ থাকার কারণে রেজাউলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।</p>
<p>কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮) মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাতে রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মানব পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।</p><p>আজ বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর ওই সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।</p><p>নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি বিবাহিত ছিলেন। টেকনাফের রঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত তিতাস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।</p><p>১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার বলেন, যৌথভাবে পাহাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/gdf616b7/WhatsApp-Image-2026-11-05-at-10.49.50-PM.jpeg"><figcaption>মানবপাচারকারীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা লোকজন</figcaption></figure><p>আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পাহাড়ে অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে টেকনাফের লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।</p><p>পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যৌথ বাহিনী তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালায়। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী কাঁটাতারের বেড়া থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।</p><p>অভিযানে দেশে তৈরি একটি ওয়ান শুটার গান ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। মানব পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যৌথ বাহিনী।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।