দূর পরবাস

রোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতি

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
রোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতি
রোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতি
<p>ভ্রমণেরও একটা নিজস্ব জীবন আছে। শুরুতে থাকে অজানাকে জানার কৌতূহল, মাঝপথে থাকে দেখা ও আবিষ্কারের আনন্দ, আর শেষবেলায় এসে মনে হয়, এতগুলো দিন কী দ্রুতই না কেটে গেল! গ্রিসের রোডস দ্বীপে এবারের সফরটিও ঠিক এভাবেই শেষের দিকে এসে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল সুইডেনে ফিরে যাব। সঙ্গে নিয়ে যাব কিছু দৃশ্য, কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু পরিচিত মুখ আর এমন কিছু স্মৃতি, যেগুলো হয়তো অনেক দিন মনের মধ্যে ঘুরে বেড়াবে।</p><p> রোডসে আসার আগে দ্বীপটি সম্পর্কে যা জানতাম, তার বড় অংশই ছিল ইতিহাস ও পর্যটনকেন্দ্রিক। কিন্তু কোনো জায়গা সম্পর্কে পড়া আর সেখানে গিয়ে কয়েকটি দিন কাটানো এক কথা নয়। বইয়ে ইতিহাসের সাল-তারিখ পাওয়া যায়, ছবিতে দেখা যায় সমুদ্রের নীল জল, আর ভ্রমণবিষয়ক লেখায় পাওয়া যায় দর্শনীয় স্থানের পরিচয়। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে বাতাসের স্পর্শ অনুভব করা, নিজের চোখে চারপাশ দেখা কিংবা অচেনা মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা অন্য রকম।</p><p> রোডসকে আমরা দেখেছি, তার সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি, রোদে সময় কাটিয়েছি, দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি এবং তার ইতিহাসকে আরও কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি অভিজ্ঞতা আলাদা, অথচ সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে আমাদের এই কয়েক দিনের ভ্রমণকাহিনি।</p><p><strong>সমুদ্রের কাছে সময়ের হিসাব আলাদা</strong></p><p>রোডসের সমুদ্রের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকা আর সমুদ্রে নেমে পড়ার মধ্যে যে পার্থক্য, তা সাঁতার না কাটলে পুরোপুরি বোঝা যায় না। তীরে দাঁড়িয়ে ঢেউ দেখা একধরনের আনন্দ, কিন্তু পানিতে নেমে যখন শরীরটাকে জলের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায়, তখন সমুদ্রের সঙ্গে সম্পর্কটাই যেন বদলে যায়।</p><p>কখনো সাঁতার কেটেছি, কখনো রোদে শুয়ে থেকেছি, কখনো শুধু চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করেছি। ছুটির দিনগুলোতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কোথাও পৌঁছানোর তাড়া থাকে না, কিছু অর্জন করারও প্রয়োজন পড়ে না। সময়কে শুধু নিজের মতো করে কাটাতে ইচ্ছা করে।</p><p>আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সময়ের সঙ্গে একধরনের প্রতিযোগিতা চলে। কাজ, দায়িত্ব, পরিকল্পনা, ভবিষ্যতের চিন্তা, কত কিছুই না সামলাতে হয়! অথচ সমুদ্রের সামনে বসে থাকলে মনে হয়, জীবনের সব সময়কে কাজে লাগাতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কিছু সময় শুধু বেঁচে থাকার আনন্দ অনুভব করার জন্যও রাখা দরকার।</p><p>সমুদ্র অবশ্য কাউকে কোনো উপদেশ দেয় না। তার ঢেউ আসে, তীরে আছড়ে পড়ে, আবার ফিরে যায়। মানুষই তার মধ্যে নিজের ভাবনার প্রতিধ্বনি খুঁজে নেয়।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p><strong>ইতিহাসের পথে হাঁটা</strong></p><p>রোডসের আরেকটি আকর্ষণ তার দীর্ঘ ইতিহাস। ভূমধ্যসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে দ্বীপটি বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য, সমুদ্রযাত্রা, সামরিক শক্তি ও বিভিন্ন সভ্যতার সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত। প্রাচীন গ্রিক ঐতিহ্য থেকে শুরু করে মধ্যযুগে নাইটদের শাসন, অটোমান আমল এবং পরবর্তী ইতালীয় শাসন, সব মিলিয়ে রোডসের অতীত বেশ জটিল ও বৈচিত্র্যময়।</p><p>বিশেষ করে পুরোনো রোডস শহরের পাথুরে রাস্তা, প্রাচীর, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং মধ্যযুগীয় পরিবেশের মধ্যে হাঁটলে ইতিহাসকে শুধু অতীতের ঘটনা বলে মনে হয় না। মনে হয়, সময়ের বিভিন্ন স্তর যেন একই জায়গায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।</p><p>একটি শহর কত মানুষের পদচিহ্ন ধারণ করে, কত শাসকের উত্থান-পতন দেখে, কত যুদ্ধ ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচয় ধরে রাখে! আজ আমরা সেখানে পর্যটক হিসেবে ঘুরে বেড়াই, ছবি তুলি, স্থাপনা দেখি। অথচ এসব জায়গার প্রতিটি পাথরের পেছনে রয়েছে এমন সব মানুষের জীবন, যাদের অধিকাংশের নাম ইতিহাসে কোথাও লেখা নেই।</p><p>এই উপলব্ধি ইতিহাস দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। ইতিহাস তখন শুধু রাজা, শাসক কিংবা যুদ্ধের বিবরণ থাকে না; তা হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের জীবন, শ্রম, আশা, ভয় এবং টিকে থাকার গল্পও।</p><p><strong>গ্রামের পথে, ইতিহাসের ছায়ায়</strong></p><p>রোডসকে শুধু সমুদ্রসৈকত আর পুরোনো শহর দিয়ে চিনলে দ্বীপটির পুরো সৌন্দর্য বোঝা যায় না। এর আসল বৈচিত্র্য ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন গ্রাম, পাহাড়ি পথ, নিরিবিলি উপসাগর আর প্রাচীন জনপদের মধ্যে। কোথাও সাদা বাড়ির সারি পাহাড়ের গায়ে উঠে গেছে, কোথাও পাথরের দেয়ালঘেরা প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও সবুজ গাছপালার মধ্যে ইতিহাস ও প্রকৃতি পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে।</p><p>রোডসের এমনই একটি অনন্য জনপদ লিন্ডোস। দ্বীপের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই গ্রাম দূর থেকেই চোখে পড়ে। পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে উঠে যাওয়া সাদা বাড়িগুলোর ওপরে রয়েছে প্রাচীন অ্যাক্রোপলিস, যার অবস্থান যেন পুরো গ্রামটিকে আগলে রেখেছে। সরু আঁকাবাঁকা গলি, সাদা দেয়াল, ছোট ছোট উঠান, ঐতিহ্যবাহী বাড়ি আর দোকানপাটের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, এখানে আধুনিক পর্যটন আর পুরোনো গ্রিক জীবনের কিছু পরিচিত চিহ্ন পাশাপাশি রয়ে গেছে।</p><p>লিন্ডোসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ তার পাহাড়চূড়ার প্রাচীন দুর্গনগরী। সেখানে রয়েছে দেবী অ্যাথেনা লিন্ডিয়ার মন্দিরের অবশেষসহ বিভিন্ন যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ওপর থেকে নিচের সাদা গ্রাম, আশপাশের উপকূল আর নীল এজিয়ান সাগরের দিকে তাকালে বোঝা যায়, প্রাচীনকালে এমন উঁচু জায়গা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখান থেকে সমুদ্র শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; যোগাযোগ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তারও অংশ। নিচে রয়েছে সেন্ট পলস বে, যার বাঁকানো উপকূল ও নীল জল লিন্ডোসের সৌন্দর্যকে আরও পূর্ণতা দিয়েছে। ইতিহাস আর প্রকৃতির এমন মিলন খুব সহজেই মানুষের মনে জায়গা করে নেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/7sqnz2m3/11.jpeg"></figure><p>লিন্ডোসের বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীন স্থাপনায় নয়, তার গ্রামীণ পরিবেশেও। সরু গলিতে হাঁটলে কখনো মনে হয় সময় ধীর হয়ে এসেছে, আবার পর্যটকদের আনাগোনা মনে করিয়ে দেয়, এই পুরোনো জনপদ আজকের পৃথিবীর সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। এখানে ইতিহাসকে কাচের বাক্সে বন্দী করে রাখা হয়নি; বরং মানুষ প্রতিদিন যে পথ দিয়ে চলাচল করে, সেই পথের পাশেই ইতিহাসের চিহ্ন রয়ে গেছে।</p><p>রোডসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান ফিলেরিমোস পাহাড়। ইআলিসোসের কাছে অবস্থিত এই পাহাড়ে রয়েছে প্রাচীন জনপদের নিদর্শন, ধর্মীয় স্থাপনা, গাছঘেরা পথ এবং চারপাশের বিস্তৃত ভূদৃশ্য। এখানকার মঠ ও গির্জা বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ের স্মৃতি বহন করে। পাহাড়ের ওপরের পথ ধরে এগোলে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া ধর্মীয় পথের দেখা মেলে, যার শেষে রয়েছে বিশাল ক্রুশ এবং চারপাশের দৃশ্য দেখার উন্মুক্ত স্থান। ফিলেরিমোসে ইতিহাসের পাশাপাশি একধরনের নীরবতাও অনুভব করা যায়। শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে সমুদ্র ও ভূমির বিস্তার দেখলে মনে হয়, প্রকৃতির কাছে এসে মানুষ কখনো কখনো নিজের ভাবনাগুলোকেও নতুন করে সাজিয়ে নিতে পারে।</p><p>প্রাচীন ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ থাকলে কামিরোসও রোডসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। লিন্ডোস ও ইআলিসোসের সঙ্গে কামিরোস ছিল দ্বীপটির তিনটি প্রধান প্রাচীন নগরীর একটি। পাহাড়ের ঢালে সমুদ্রের দিকে মুখ করে গড়ে ওঠা এই জনপদ একসময় কৃষি ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আজ সেখানে বাড়িঘর, জনসমাগমের স্থান, মন্দির, রাস্তা ও পানি সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দাঁড়িয়ে ভাবলে বোঝা যায়, একটি শহর শুধু তার রাজনীতি বা স্থাপত্য দিয়ে তৈরি হয় না; তার পেছনে থাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, খাবার উৎপাদন, পানি সংগ্রহ, চলাচল এবং একসঙ্গে বসবাসের দীর্ঘ ইতিহাস।</p><p>প্রকৃতির অন্য রূপ দেখতে রয়েছে পেতালুদেস বা প্রজাপতি উপত্যকা। দ্বীপের পশ্চিমাংশের এই সবুজ উপত্যকা গাছপালা, জলধারা ও ছায়াঘেরা হাঁটার পথের জন্য পরিচিত। নির্দিষ্ট মৌসুমে এখানে বিশেষ একধরনের প্রজাপতি ও মথের সমাগম ঘটে। তবে এদের উপস্থিতি বছরের সব সময় সমান থাকে না; তাই শুধু নাম শুনে নয়, প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দ বুঝেই জায়গাটিকে দেখতে হয়। উপত্যকার পরিবেশে হাঁটলে সমুদ্রতীরের উন্মুক্ত রোদ আর ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এক জগৎ পাওয়া যায়। এখানে শব্দ কমিয়ে প্রকৃতিকে বিরক্ত না করে চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করাটাই সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা।</p><p>এই জায়গাগুলোর মধ্যে মিল যেমন রয়েছে, পার্থক্যও তেমন স্পষ্ট। লিন্ডোসে সমুদ্র, সাদা বাড়ি ও প্রাচীন স্থাপত্যের সম্মিলন; ফিলেরিমোসে পাহাড়, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিস্তৃত দৃশ্য; কামিরোসে প্রাচীন নগরজীবনের চিহ্ন; আর প্রজাপতি উপত্যকায় সবুজ প্রকৃতির নিজস্ব জগৎ। সব মিলিয়ে রোডস যেন একই দ্বীপের মধ্যে কয়েকটি আলাদা পৃথিবী সাজিয়ে রেখেছে।</p><p>ভ্রমণে এসে আমরা অনেক সময় বিখ্যাত জায়গার নাম মনে রাখি, ছবি তুলে রাখি। কিন্তু কোনো জায়গার প্রকৃত পরিচয় ধরা পড়ে তখনই, যখন তার ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে একসঙ্গে দেখার চেষ্টা করি। রোডসের গ্রামগুলো সেই সুযোগ দেয়। এখানে একটি সরু গলি শুধু গলি নয়, একটি পাহাড়চূড়া শুধু দৃশ্য দেখার জায়গা নয়, আর কয়েকটি ভাঙা পাথরও কেবল ধ্বংসাবশেষ নয়। সবকিছুর পেছনে রয়েছে সময়ের দীর্ঘ প্রবাহ, মানুষের জীবন এবং পৃথিবীকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার চেষ্টা।</p><p>হয়তো এ কারণেই রোডস ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় শুধু নীল সমুদ্রের ছবিই মনে থাকে না। মনে থেকে যায় সাদা গ্রামের পথ, পাহাড়ের ওপরের বাতাস, প্রাচীন নগরীর নীরবতা এবং সবুজ উপত্যকার শান্ত পরিবেশও। দ্বীপটির সৌন্দর্য তখন একটি দৃশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা হয়ে ওঠে নানা অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/u86m81tu/12.jpeg"></figure><p><strong>অচেনা মানুষের সঙ্গে পরিচয়</strong></p><p>ভ্রমণের আরেকটি আনন্দ হলো, নিজের পরিচিত জগতের বাইরে গিয়ে অন্য মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখা। রোডসে স্থানীয় মানুষ এবং অন্য ভ্রমণকারীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনে পার্থক্য থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন আনন্দ, আতিথেয়তা, কৌতূহল কিংবা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের ইচ্ছার মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।</p><p>কোনো জায়গাকে সত্যিকার অর্থে চিনতে হলে তার স্থাপনা দেখাই যথেষ্ট নয়। সেখানে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের জীবনযাত্রা সম্পর্কেও কৌতূহলী হতে হয়। তাঁরা কীভাবে দিন কাটান, তাঁদের কাছে দ্বীপটির অর্থ কী, পর্যটনের ভিড়ের বাইরে তাঁদের নিজস্ব পৃথিবীটি কেমন, এসব প্রশ্ন ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করে।</p><p>আমরা কয়েক দিনের অতিথি। স্থানীয় মানুষের কাছে রোডস প্রতিদিনের জীবন, কাজ ও দায়িত্বের জায়গা। আমাদের কাছে যে দৃশ্য নতুন, তাঁদের কাছে সেটিই হয়তো প্রতিদিনের পরিচিত বাস্তবতা। একই জায়গাকে মানুষ যে কত ভিন্নভাবে দেখতে পারে, ভ্রমণ সেই শিক্ষাও দেয়।</p><p>আর পরিচয়ের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো, সব সময় দীর্ঘ আলাপের প্রয়োজন হয় না। কখনো একটি হাসি, আন্তরিক ব্যবহার কিংবা সামান্য কথোপকথনও অচেনা জায়গাটিকে পরিচিত করে তুলতে পারে।</p><p><strong>বন্ধুত্বের উপহার</strong></p><p>ভ্রমণের আনন্দ শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়, কখনো কখনো অচেনা মানুষের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি হওয়া, যা ভ্রমণ শেষ হওয়ার পরও থেকে যায়। রোডসে আমাদের থাকার জায়গা Bayside Hotel Katsaras-এর মালিক নিকের সঙ্গে তেমনই একটি সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর ছোট ভাই স্টিভের সঙ্গেও আমাদের পরিচয় ও যোগাযোগ হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে দুই ভাই যেভাবে আন্তরিকতা ও যত্ন নিয়ে আমাদের সেবা করেছেন, তাতে তাঁদের কাছে আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। এই ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করব, তা অবশ্য এখনো জানি না! তবে একটা উপায় ভেবে রেখেছি। দুজনকেই সুইডেনে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। দেখা যাক, রোডসে তৈরি হওয়া এই বন্ধুত্ব এবার সুইডেন পর্যন্ত গড়ায় কি না! ভ্রমণের শেষে এটাই তো সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তিগুলোর একটি, অচেনা জায়গায় গিয়ে এমন কিছু মানুষকে পাওয়া, যাঁরা ফিরে আসার পরও হৃদয়ে থেকে যান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/owk218lw/13.jpeg"></figure><p><strong>ভ্রমণ মানে শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়</strong></p><p>আমি মনে করি, ভ্রমণের আনন্দ শুধু কতগুলো জায়গা দেখা হলো, কতগুলো ছবি তোলা হলো কিংবা কতগুলো ঐতিহাসিক তথ্য জানা হলো, তার ওপর নির্ভর করে না। ভ্রমণ আমাদের পরিচিত জীবনের বাইরে নিয়ে যায়। দৈনন্দিন অভ্যাস থেকে সাময়িক বিরতি দেয় এবং চারপাশকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়।</p><p>এবারের রোডস সফরেও সমুদ্র, সাঁতার, রোদ, দ্বীপের বিভিন্ন স্থান, ইতিহাস ও মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে মিশে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মারিয়ার সঙ্গে এই সময়টুকু ভাগ করে নেওয়া। একসঙ্গে পথচলা, নতুন জায়গা দেখা, কোথাও থেমে যাওয়া কিংবা দিনের শেষে বিশ্রাম নেওয়া, দীর্ঘ দাম্পত্যের জীবনে এমন অভিজ্ঞতাগুলোও নিজস্ব মূল্য বহন করে।</p><p>জীবনে বড় বড় ঘটনার গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ফিরে তাকালে দেখা যায়, ছোট ছোট মুহূর্তও স্মৃতির ভেতর স্থায়ী জায়গা করে নেয়। কোনো একটি বিকেলের আলো, সমুদ্রের পানিতে কাটানো সময়, পথে দেখা কোনো দৃশ্য কিংবা অচেনা কারও সঙ্গে পরিচয়, বহুদিন পরেও মনে পড়ে যেতে পারে।</p><p>সম্ভবত ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর দিক এখানেই। আমরা শুধু জায়গা থেকে জায়গায় যাই না, নিজের জীবনেও কিছু নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করি।</p><p><strong>আবার সুইডেনে ফেরা</strong></p><p>আগামীকাল আমাদের রোডস ছেড়ে সুইডেনে ফিরে যাওয়ার পালা। একটি ভ্রমণ শেষ হচ্ছে, আবার শুরু হবে পরিচিত জীবনের নিয়মিত ছন্দ। সুইডেনের পরিচিত পরিবেশ, ঘরবাড়ি, দৈনন্দিন দায়িত্ব ও অভ্যাস আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।</p><p>তবে ভ্রমণ শেষ হলেই তার অভিজ্ঞতা শেষ হয়ে যায় না। আমরা ফিরে যাই, কিন্তু দেখা জায়গাগুলো মনের মধ্যে থেকে যায়। কোনো দৃশ্য নতুন করে মনে পড়ে, কোনো ঘটনা নিয়ে আবার ভাবি, কখনো পরিচিত জীবনের মধ্যেও ভ্রমণের সময় পাওয়া কোনো উপলব্ধি কাজে লাগে।</p><p>রোডস আমাদের কাছে শুধু একটি গ্রিক দ্বীপ হয়ে থাকবে না। এটি হয়ে থাকবে সমুদ্রের নীল জল, রোদে কাটানো অবসর, ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা, দ্বীপের সুন্দর গ্রামগুলো এবং অচেনা মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের স্মৃতি নিয়ে।</p><p>পৃথিবীতে দেখার মতো জায়গার অভাব নেই। এক জীবনে সব জায়গা দেখা সম্ভবও নয়। কিন্তু সব জায়গা দেখাই তো শেষ কথা নয়। যে জায়গায় যাই, সেখান থেকে কিছু অনুভব করতে পারলাম কি না, নতুন কিছু জানতে পারলাম কি না, নিজের পরিচিত পৃথিবীটাকে একটু অন্যভাবে দেখতে শিখলাম কি না, সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।</p><p>আগামীকাল রোডস থেকে বিদায় নেব। সমুদ্র থাকবে, দ্বীপ থাকবে, তার ইতিহাস ও মানুষের জীবনও চলতে থাকবে। আমরা ফিরে যাব নিজেদের জীবনে, সঙ্গে নিয়ে যাব কয়েক দিনের অভিজ্ঞতা।</p><p>আর এভাবেই ভ্রমণ শেষ হয়েও শেষ হয় না। জায়গা ছেড়ে চলে যাই আমরা, কিন্তু জায়গাটি থেকে যায় আমাদের স্মৃতিতে, কখনো কোনো ছবিতে, কখনো কোনো গল্পে, কখনো নিঃশব্দে ফিরে আসা এক টুকরো নীল সমুদ্রের মধ্যে।</p><p>রোডস, বিদায়। কয়েক দিনের অতিথি হয়ে এসেছিলাম, ফিরছি কিছু স্মৃতি, কিছু নতুন বন্ধুত্ব আর নতুন করে অনুভব করা জীবনের আনন্দ নিয়ে।</p>

Prothomalo

View more
হোপের সেঞ্চুরির পর পলের ফাইফার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার ভারতের
হোপের সেঞ্চুরির পর পলের ফাইফার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার ভারতের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৪৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে গেল ২২৩ রানে। ২৪ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজের চতুর্থ টি–টুয়েন্টি শেষে ২–২ সমতা নিয়ে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন: ওমর সানী
আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন: ওমর সানী

চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা, নারী শিল্পীদের অসম্মান এবং তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত চর্চার সমালোচনা করেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানি

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগে মীরসরাইয়ে কারখানা করবে চীনা প্রতিষ্ঠান
৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগে মীরসরাইয়ে কারখানা করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

<p>চীনা প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে ৭০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্বিতীয় কারখানা স্থাপন করবে।</p><p> এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেপজা এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, নতুন কারখানায় ফুটওয়্যার অ্যাকসেসরিজ, ব্যাগ ও লাগেজের উপকরণ, কাগজের পণ্য এবং মুদ্রিত সামগ্রী তৈরি করা হবে। এতে প্রায় ২০০ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হবে।</p><p> এ নিয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কার্যালয়ে আজ বুধবার চীনা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বেপজার ভূমি ইজারা চুক্তি হয়েছে। বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।</p><p>বেপজার তথ্য অনুযায়ী, নতুন কারখানাটি স্থাপনে ৭ হাজার ২০০ বর্গমিটার জমি ব্যবহার করা হবে। এ কারখানায় বছরে ১ কোটি ১০ লাখ জোড়া ফুটওয়্যার অ্যাকসেসরিজ, ২৪ হাজার ঘনমিটার ফোম, ২ লাখ পিস কাটিং বোর্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার পিস কাটিং ডাইস বা মোল্ড উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। এসব পণ্য ভারত ও কম্বোডিয়ার জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী জুতা কারখানাগুলোতে সরবরাহ করা হবে।</p><p>কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ জানান, তাঁদের প্রথম কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা ও ক্রয়াদেশ বাড়ছে। এ কারণে নতুন আরেকটি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।</p><p>বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়ালের নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বেপজার ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি কেপিএসটিকে ধন্যবাদ জানান।</p><p>কেপিএসটির মালিকানাধীন কেপিএসটি শুজ (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করা প্রথম প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্বিতীয় কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে বেপজা।</p><p>বেপজার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৪টি প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে এবং আরও ৩৩টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন। এ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে এ পর্যন্ত ৬ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৪ হাজার ৪২৮ বাংলাদেশির।</p>

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সদস্যদেশগুলোকে ৩০৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ফিফার, পাবে বাংলাদেশও
সদস্যদেশগুলোকে ৩০৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ফিফার, পাবে বাংলাদেশও

ফিফার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের বাণিজ্যিক সাফল্য থেকে পাওয়া অর্থ ফুটবলের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সোনালী-স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ থাকবে দুই দিন
সোনালী-স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ থাকবে দুই দিন

সোনালী-স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ থাকবে দুই দিন

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়া ট্রাভেল পুরস্কার পেল দেশের ২২ হোটেল ও ব্যক্তি
দক্ষিণ এশিয়া ট্রাভেল পুরস্কার পেল দেশের ২২ হোটেল ও ব্যক্তি

<p>দেশের ২২ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের আঞ্চলিক স্বীকৃতি হিসেবে ‘সাউথ এশিয়ান ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডস (এসএটিএ) ২০২৬’ শীর্ষক পুরস্কার পেয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে বিলাসবহুল ও ব্যবসায়িক হোটেল, সমুদ্রসৈকত ও ঐতিহ্যবাহী রিসোর্ট, বুটিক হোটেল, পরিবেশবান্ধব পর্যটনপ্রতিষ্ঠান, ট্রাভেল এজেন্সি, খাদ্য ও পানীয় সেবা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পেশাগত নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সফল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি।</p><p> এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এ পুরস্কার হচ্ছে দেশের পর্যটনশিল্পের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা, সেবার মান, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও পেশাগত দক্ষতার প্রতিফলন। এ বছরের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সমন্বয় করেছে ‘ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ (উৎসব)’।</p><p>সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেরা প্রচারণা ক্যাম্পেইন (গোল্ড) পেয়েছে ক্রাউন প্লাজা, ঢাকা। শীর্ষস্থানীয় হোটেলে পুরস্কার পেয়েছে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। সেরা সমুদ্রসৈকত হোটেল-রিসোর্ট পুরস্কার পেয়েছে সায়মন বিচ রিসোর্ট। শীর্ষস্থানীয় বুটিক হোটেল হিসেবে পুরস্কার জিতেছে দ্য ওয়ে ঢাকা। সেরা বাজেট হোটেল (গোল্ড) পদক জিতেছে ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস। শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক হোটেল হিসেবে পদক পেয়েছে র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন, ঢাকা। শীর্ষ সিটি হোটেল হয়েছে (৪০টির বেশি কক্ষ) র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ। সিটি হোটেল (৪০টির কম কক্ষ) পুরস্কার পেয়েছে প্ল্যাটিনাম রেসিডেন্স বাই শেলটেক, ডিজাইনার হোটেল-রিসোর্ট পুরস্কার পেয়েছে হানসা-এ প্রিমিয়াম রেসিডেন্স।</p><p>এসকেএস ইন রিসোর্ট পরিবেশবান্ধব হোটেল-রিসোর্ট; দ্য পেনিনসুলা চট্টগ্রাম খাদ্য ও পানীয় সেবাদানকারী হোটেল-রিসোর্ট এবং মম ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট পারিবারিক হোটেল-রিসোর্ট হিসেবে পদক পেয়েছে। দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেল ফাইন ডাইনিং আউটলেট; সায়মন হেরিটেজ ঐতিহ্যবাহী হোটেল-রিসোর্ট; বেওয়াচ হোটেল বিলাসবহুল হোটেল-রিসোর্ট, কক্সবাজার পুরস্কার পেয়েছে।</p><p>শীর্ষস্থানীয় রিসোর্ট-হোটেল ব্র্যান্ড হিসেবে সায়মন; ইনবাউন্ড ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুর গ্রুপ (বিটিজি); আউটবাউন্ড ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে ট্রাভেল ক্ল্যাসিক (প্রাইভেট) লিমিটেড; বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজনকারী হোটেল-রিসোর্ট হিসেবে মম ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট ও নিশান সেনেভিরত্নে; বেস্ট সিএসআর প্রোগ্রামে (গোল্ড) দ্য পেনিনসুলা চট্টগ্রাম পুরস্কার পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা নতুন হোটেল-রিসোর্ট হিসেবে পদক পেয়েছে হায়াত প্লেস ঢাকা উত্তরা। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সেরা জেনারেল ম্যানেজার বা বেস্ট জিএম পদক জিতেছেন প্ল্যাটিনাম গ্র্যান্ড বাই শেলটেকের আলমগীর হোসাইনি।</p><p>এ নিয়ে এসএটিএর বাংলাদেশের চেয়ার এইচ এম হাকিম আলী বলেন, ‘বাংলাদেশের এই অর্জন আমাদের সমগ্র পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই স্বীকৃতি আমাদের হোটেল-রিসোর্ট, ট্রাভেল এজেন্সি এবং পর্যটন পেশাজীবীদের নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও উৎকর্ষ অর্জনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে আরও নিবিড় সহযোগিতা, সেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং টেকসই পর্যটনের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকার বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশে সহায়তা করবে।’</p>

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
জামায়াতের কুমিল্লা মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর
জামায়াতের কুমিল্লা মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির নির্বাচনপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কার্যালয়ে নেতা ও রুকনদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের এক নেতা।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির গভর্নরস বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ
নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির গভর্নরস বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ

বাংলাদেশের মামুন আহমেদ সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির গভর্নরস বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াবে।

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
২৪,০০০ কোটি টাকার রেকর্ড ব্যবসা বিএসআরএমের দুই কোম্পানির
২৪,০০০ কোটি টাকার রেকর্ড ব্যবসা বিএসআরএমের দুই কোম্পানির

<p>গত অর্থবছরে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ব্যবসা করেছে বিএসআরএম গ্রুপের দুই কোম্পানি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রুপটির দুই কোম্পানি বিএসআরএম স্টিল ও বিএসআরএম লিমিটেড সম্মিলিতভাবে এই ব্যবসা করেছে।</p><p> আজ বুধবার কোম্পানি দুটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। সেই আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সভা শেষে আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গ্রুপটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। </p><p>বিএসআরএমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে গ্রুপটির তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানি মিলে ২৩ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। তার আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এই দুই কোম্পানি মিলে ব্যবসা করেছিল ২০ হাজার ৩১ কোটি টাকার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ৩ হাজার ৯১৩ কোটি টাকার বা সাড়ে ১৯ শতাংশ। ব্যবসা বড় হওয়ার পাশাপাশি মুনাফাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। গত অর্থবছর শেষে বিএসআরএম স্টিল ও বিএসআরএম লিমিটেড মিলে সম্মিলিতভাবে মুনাফা করেছে ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছরে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানি দুটির সম্মিলিত মুনাফা ২৮৬ কোটি টাকা বা ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।</p><p>বিএসআরএম গ্রুপ সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছর শেষে গ্রুপটির দুই কোম্পানি মিলে যে ব্যবসা করেছে, তা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। জানতে চাইলে গ্রুপটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর আমাদের তৃতীয় ইউনিটটি পুরোদমে উৎপাদনে ছিল। তাতে উৎপাদন যেমন বেড়েছে তেমনি ব্যবসাও বড় হয়েছে। আবার অতীতের ধারাবাহিকতায় আমরা নানাভাবে ব্যবসার পরিচালন খরচ কমিয়েছি। সব মিলিয়ে তাই আমরা বছর শেষে রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসার পাশাপাশি ভালো মুনাফা করেছি।</p><p>গত অর্থবছরে দুই কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে বিএসআরএম স্টিল। গত অর্থবছর কোম্পানিটি এককভাবে ১২ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। তার আগের অর্থবছরে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ১০ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিএসআরএম স্টিলের ব্যবসা বেড়েছে ২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা বা প্রায় ২৫ শতাংশ। এ ছাড়া গত অর্থবছরে বাংলাদেশ স্টিল রি–রোলিং মিলস (বিএসআরএম) লিমিটেড এককভাবে ব্যবসা করেছে ১০ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকার। তার আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ৯ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ১ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার বা প্রায় ১৪ শতাংশ।</p><p>আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে বিএসআরএম স্টিল এককভাবে মুনাফা করেছে ৭১৫ কোটি টাকা। তার আগের বছর কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ৫১৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এককভাবে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১৯৭ কোটি টাকা বা ৩৮ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া গত অর্থবছরে বিএসআরএম লিমিটেডের মুনাফা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০৩ কোটি টাকায়। তার আগের অর্থবছরে কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ৬১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৮৯ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ১৪ শতাংশ।</p>

অক্টোবর ১৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন