arts

প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ
প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ
<p>রাজধানীর গুলশান ২-এ ১০৪ নম্বর রোডে নতুন প্রতিষ্ঠিত গ্যালারি হামিদুজ্জামানে ২ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের শিল্পকলার বিভিন্ন প্রজন্ম, প্রবণতা ও সংবেদনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখার একটি উপলক্ষ। প্রত্যেকের কাজে ভিন্নতার মধ্যেও যেন প্রকৃতি ও পরম্পরার একটি সেতুবন্ধু লক্ষণীয়। প্রদর্শনীটি আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।</p><p>কোথাও রং ও রেখার বিমূর্ত বিন্যাস, কোথাও প্রকৃতির নিবিড় উপস্থিতি, আবার কোথাও অবয়বের মধ্য দিয়ে অন্তর্লোকের অনুসন্ধান। এভাবেই প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলো নানা আঙ্গিক ও অভিব্যক্তিতে তুলে ধরেছে শিল্পের বহুমাত্রিক ভাষা, যা কেবল দৃশ্যমান বাস্তবতার অনুলিপি নয়, বরং শিল্পীর নিজস্ব অনুভব, উপলব্ধি ও অন্তর্দৃষ্টির সৃজনশীল প্রকাশ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/77gmy8ho/1.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A8.jpg"><figcaption>‘শিরোনামহীন’, মুস্তাফা মনোয়ার।</figcaption></figure><p>শিল্পী বীরেন সোমের ‘আমার মনের লাল রং’ এবং শাহানুর মামুনের ‘একাত্তরের চেতনা’র মধ্যে রং প্রয়োগের একটি লক্ষণীয় সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। দুই শিল্পীর প্রজন্মগত ব্যবধান থাকলেও ক্যানভাসে রং লেপনের স্বাধীনতা, পৃষ্ঠতলের সক্রিয়তা এবং দৃশ্য নির্মাণের প্রবণতায় কোথাও যেন মিল রয়েছে। বীরেন সোমের ক্যানভাসে লাল রং কেবল একটি বর্ণ নয়; তা হয়ে ওঠে মানসিক অনুভবের বিস্তার। অন্যদিকে শাহানুর মামুনের ল্যান্ডস্কেপধর্মী রঙের স্তর ও প্রয়োগ দৃশ্যমান প্রকৃতিকে অতিক্রম করে আবেগের নিজস্ব পরিসর তৈরি করে। এই সাদৃশ্যকে নিছক অনুসরণ বলা যায় না; বরং এর মধ্যে বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রবাহিত শৈল্পিক সংবেদনের আভাস মেলে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/1ywvd8ws/2.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AA.jpg"><figcaption>‘নীরবতার সংলাপ’, মনিরুল ইসলাম।</figcaption></figure><p>বাংলাদেশের চিত্রকলায় প্রকৃতি বরাবরই এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। নদী, জল, আকাশ, মেঘ, দিগন্ত ও ঋতুবৈচিত্র্য এ দেশের শিল্পীদের মননে নানাভাবে ছাপ ফেলেছে। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলার প্রকৃতি কখনো সরাসরি দৃশ্য হয়ে, কখনো রং ও রেখার বিমূর্ত ইশারায় ক্যানভাসে ফিরে আসে। এই প্রদর্শনীতেও প্রকৃতি কেবল চোখে দেখা কোনো ভূদৃশ্য নয়; শিল্পীর অন্তর্জগতের সঙ্গে তার এক নিবিড় সম্পর্ক অনুভব করা যায়।</p><blockquote>বাংলাদেশের চিত্রকলায় প্রকৃতি বরাবরই এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। নদী, জল, আকাশ, মেঘ, দিগন্ত ও ঋতুবৈচিত্র্য এ দেশের শিল্পীদের মননে নানাভাবে ছাপ ফেলেছে। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলার প্রকৃতি কখনো সরাসরি দৃশ্য হয়ে, কখনো রং ও রেখার বিমূর্ত ইশারায় ক্যানভাসে ফিরে আসে।</blockquote><p>শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের জলরঙের ল্যান্ডস্কেপে প্রকৃতির এই অন্তরঙ্গ রূপ বিশেষভাবে ধরা পড়ে। তাঁর রঙের সংযম, জলরঙের স্বচ্ছতা এবং দৃশ্য নির্মাণের মুনশিয়ানা প্রকৃতিকে নিছক অনুকরণে সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং দৃশ্যের মধ্যে একধরনের নৈঃশব্দ্য ও অনুভবের গভীরতা তৈরি করে। শিল্পী মনিরুল ইসলামের জলরঙের বিমূর্তধর্মী কাজগুলোও স্বতন্ত্র শিল্প–সুষমায় উজ্জ্বল। সেখানে রং ও রেখা পরিচিত বস্তুর সীমা ছাড়িয়ে নিজস্ব অর্থ ও অনুভূতির জগৎ নির্মাণ করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/47kxxqtu/3.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%B0%E0%A6%82.jpg"><figcaption> ‘আমার মনের লাল রং’, বীরেন সোম।</figcaption></figure><p>রনজিৎ দাসের দিগন্তবিস্তৃত ল্যান্ডস্কেপে বাংলাদেশের নদীমাতৃক ভূপ্রকৃতির একটি সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ রূপ ধরা পড়ে। বিস্তৃত পরিসর, দূরত্বের অনুভব ও ভূদৃশ্যের বিন্যাস দর্শককে প্রকৃতির সঙ্গে একধরনের নীরব সংলাপে যুক্ত করে। শিল্পী আবদুল মান্নানের আকাশ, মেঘ ও জমিনের বিন্যাসেও বাংলার প্রকৃতির প্রতি এক নান্দনিক অনুরাগ লক্ষ করা যায়। শিল্পী রোকেয়া সুলতানা, কনক চাঁপা চাকমা ও আনিসুজ্জামান কাজেও প্রকৃতির নানা রূপ ও রঙের উপস্থিতি প্রদর্শনীর দৃশ্যভাষাকে বহুমাত্রিক করেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/vlgyzbt1/4.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF.jpg"><figcaption>‘পাহাড়ের সৌন্দর্য’, কনকচাঁপা চাকমা।</figcaption></figure><p>তবে ‘বিয়ন্ড বাউন্ডারিজ’ শিরোনামের এই প্রদর্শনী কেবল প্রকৃতিনির্ভর শিল্পের প্রদর্শনী নয়। প্রকৃতির সঙ্গে এ অঞ্চলের আধ্যাত্মিকতা, প্রতীকী ভাষা ও প্রাচ্যশৈলীর যে দীর্ঘ সম্পর্ক, তারও পরিচয় মেলে কয়েকটি কাজে। শিল্পী আবদুস সাত্তারের ‘বুদ্ধ’ প্রতিকৃতিতে বুদ্ধের মুখাবয়ব, প্রশান্ত অভিব্যক্তি ও অলংকরণে ধ্যানমগ্নতার আবহ তৈরি হয়েছে। এখানে অবয়বের সৌন্দর্য শুধু দৃশ্যগত নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্তরের প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক অনুভব। তাঁর শিল্পভাবনার দীক্ষা লাভ করা শিল্পী আফরোজা জামিল কঙ্কার ‘আমাসের কথা’ শীর্ষক কাজে দ্বিমাত্রিক রং লেপনে নারী মুখাবয়বে নিজস্ব প্রকাশ লক্ষণীয়। অন্যদিকে শওকাতুজ্জামানের মোরগের ছবিতে প্রাণীর অবয়বের মধ্য দিয়েই অভিব্যক্তির এক স্বতন্ত্র ভাষা তৈরি হয়েছে। চোখ, মুখ ও দেহভঙ্গি সেখানে নিছক জীবজগতের পরিচয় ছাড়িয়ে রূপক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/fqn40e4r/5.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B8-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7.jpg"><figcaption>‘বুদ্ধ’, আব্দুস সাত্তার।</figcaption></figure><p>চিত্রকলার পাশাপাশি প্রদর্শনীতে ভাস্কর্যের উপস্থিতিও দর্শকের অভিজ্ঞতাকে প্রসারিত করেছে। কাওসার হাসান টগর ও আইভি জামানের ভাস্কর্যে দ্বিমাত্রিক ক্যানভাসের বাইরে ত্রিমাত্রিক রূপ, আয়তন ও পরিসরের আনন্দ অনুভব করা যায়। মাধ্যমের এই ভিন্নতা প্রদর্শনীর নামের তাৎপর্যকেও যেন আরও স্পষ্ট করে—শিল্পের প্রকাশ কোনো একটি মাধ্যম কিংবা নির্দিষ্ট রীতির মধ্যে আবদ্ধ নয়।</p><blockquote>চিত্রকলার পাশাপাশি প্রদর্শনীতে ভাস্কর্যের উপস্থিতিও দর্শকের অভিজ্ঞতাকে প্রসারিত করেছে। কাওসার হাসান টগর ও আইভি জামানের ভাস্কর্যে দ্বিমাত্রিক ক্যানভাসের বাইরে ত্রিমাত্রিক রূপ, আয়তন ও পরিসরের আনন্দ অনুভব করা যায়। মাধ্যমের এই ভিন্নতা প্রদর্শনীর নামের তাৎপর্যকেও যেন আরও স্পষ্ট করে—শিল্পের প্রকাশ কোনো একটি মাধ্যম কিংবা নির্দিষ্ট রীতির মধ্যে আবদ্ধ নয়।</blockquote><p>বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের চিত্রকলার একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা হলো বাস্তব দৃশ্যের আলোকচিত্রনির্ভর উপস্থাপনা এবং কারিগরি নিপুণতার প্রদর্শন। অবশ্য বাস্তবতার কাছাকাছি যাওয়া কিংবা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন নিজে কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। কিন্তু শিল্প যখন কেবল দৃশ্যের বিশ্বস্ত প্রতিরূপ নির্মাণে থেমে যায়, তখন তার অন্তর্লোক আবিষ্কারের সম্ভাবনা সংকুচিত হতে পারে। ‘বিয়ন্ড বাউন্ডারিজ’-এর নির্বাচিত কিছু কাজে রং, রেখা, রঙের স্বতঃস্ফূর্ততা ও বিমূর্ততার যে উপস্থিতি দেখা যায়, তা দর্শককে দৃশ্যের বাইরে অনুভবের জগতে প্রবেশের সুযোগ দেয়। যেমন শিল্পী বিপাশা হায়াত, কাজী সহিত ও কামাল উদ্দিনের শিল্পকর্মে বাস্তবধর্মী থাকলেও, উপস্থাপনার স্বাতন্ত্র্যে তা নিছক বাস্তবের প্রতিফলন না থেকে ভিন্নতর ভাবার্থ ও ব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/gqmmhwsx/6.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF.jpg"><figcaption>‘একাত্তরের শক্তি’, শাহানুর মামুন।</figcaption></figure><p>রাজধানীর গুলশান ২-এ ১০৪ নম্বর রোডে নতুন প্রতিষ্ঠিত গ্যালারি হামিদুজ্জামানে ২ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের শিল্পকলার বিভিন্ন প্রজন্ম, প্রবণতা ও সংবেদনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখার একটি উপলক্ষ বলা যায়। প্রত্যেকের কাজে ভিন্নতার মধ্যেও যেন প্রকৃতি ও পরম্পরার একটি সেতুবন্ধু লক্ষ্যণীয়। প্রদর্শনীটি আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।</p>

Prothomalo

View more
সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর
সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর

২০২৫ সালে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে রেকর্ড ৩৫৬টি। এক বছর আগে, ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৪৫, যা তখন ছিল গত এক দশকের সর্বোচ্চ।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
হামের টিকা ঠিকমতো কাজে আসছে না, ২৭ শতাংশ শিশুর অ্যান্টিবডি হয়নি
হামের টিকা ঠিকমতো কাজে আসছে না, ২৭ শতাংশ শিশুর অ্যান্টিবডি হয়নি

হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রথমবারের মতো গবেষণা। আইইডিসিআরের নেতৃত্বে ৬ প্রতিষ্ঠানের ১২ জন গবেষক কাজটি করেছেন।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
বর্গা চাষি নানার সংসারে এতিম নাতির জন্য বন্ধুসভার ছাগল উপহার
বর্গা চাষি নানার সংসারে এতিম নাতির জন্য বন্ধুসভার ছাগল উপহার

প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার এতিম ওই শিশুকে একটি ছাগল উপহার দেওয়া হয়। ছাগলটি কিনতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
নির্বাচনে দাঁড়াতে চান, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় দলিত নারীরা
নির্বাচনে দাঁড়াতে চান, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় দলিত নারীরা

নির্বাচনে দাঁড়াতে চান, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় দলিত নারীরা

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
অসুখ হলে নামাজ কীভাবে পড়বেন
অসুখ হলে নামাজ কীভাবে পড়বেন

অনেকে ভাবেন, সুস্থ হয়ে একবারে কাজা নামাজগুলো পড়ে নেবেন। কিন্তু ইসলামে অসুখ হলেই কি নামাজ ছেড়ে দেওয়া বা কাজা করার কোনো সুযোগ আছে?

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
আ–পদের পদত্যাগ
আ–পদের পদত্যাগ

<p>দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও কর্মক্ষেত্রে অব্যাহত শোষণের প্রতিবাদে এবার সরব হয়ে বাংলা ব্যাকরণের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা ফেসবুকে জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন স্বঘোষিত সমিতি—আমরা খাঁটি আ-পদ। হুবহু পোস্টটি তুলে দিয়েছেন মাহাবুবা শারমিন।</p><p>বন্ধুরা, আমরা বাংলা ব্যাকরণে পদ হিসেবে সেই আদিকাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু জন্মের পর থেকেই শিকার হয়ে আসছি নানাবিধ বৈষম্যের।</p><p>বাক্য গঠন থেকে শুরু করে অর্থের ভার বহন—সব কাজেই আমাদের অপরিহার্য ভূমিকা থাকলেও আমাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন। আমাদের ছয় ভাই-বোনের মধ্যে বিশেষ্যকে সব সময় নামের ভার বহন করতে হয়। অথচ নামের সঙ্গে বদনামও জোটে বিনাশ্রমে। বিশেষণকে অন্যের গুণ বর্ণনা করতে করতে নিজের গুণ বিসর্জন দিতে হয়। ক্রিয়াকে দিয়ে দিনরাত কাজ করানো হলেও সেই কাজের কৃতিত্ব জোটে কিনা অন্যের ভাগ্যে। সর্বনামকে অন্যের নাম আড়াল করতে গিয়ে নিজের বাপ-দাদার অস্তিত্ব বিসর্জন দিতে হয়। অব্যয় কোনো পরিবর্তন না হওয়ার অপরাধে হয় প্রতিনিয়ত তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার। আর অব্যয়ের কাজিন অনুসর্গ? বেচারা সব সময় অন্যের পেছনে বসে থাকে। আগে বসার অধিকারটুকুও আজ পর্যন্ত সে অর্জন করতে পারেনি। এমতাবস্থায় আমরা পঞ্চপদ সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি— </p><blockquote>তাই বন্ধুরা, অবিলম্বে আমরা আমাদের এই পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমাদের পদত্যাগের ফলে বাংলা ভাষার বাক্যব্যবস্থায় যে অনিবার্য অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। </blockquote><p>নেব না নেব না নেব না </p><p>অন্যায় মেনে,</p><p>রব না রব না রব না ঘরের কোণে</p><p>ঘরের কোণে!</p><p>তাই বন্ধুরা, অবিলম্বে আমরা আমাদের এই পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমাদের পদত্যাগের ফলে বাংলা ভাষার বাক্যব্যবস্থায় যে অনিবার্য অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। </p><p>তোমাদের এই বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়াকে ভুলে যেয়ো না। ফেসবুকে না পেলে imo-তে পাবেই আমাদের।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/buhulrdjhi">বড় ভাইকে দল থেকে বহিষ্কার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d4fl17cod8">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u86yf3kq5z">অজুহাতের কামব্যাক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6ivlyjbko1">চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dkgc2prfwa">কোথায় কোথায় কালি মাখানো যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l7r2uxvti0">রস+আলো নোবেল ২০২৬</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
পাইকারি সবজির বাজারে ব্যস্ততা
পাইকারি সবজির বাজারে ব্যস্ততা

<p>খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ঘেরের পাড়ে চাষ হয় নানা জাতের সবজি। খুব ভোরে খেত থেকে তোলা এসব তরতাজা সবজি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জড়ো করা হতে থাকে ডুমুরিয়ার পাইকারি কাঁচাবাজারে। কৃষক, পাইকার ও আড়তদারদের হাঁকডাকে নিমেষেই মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাজার। এখান থেকেই শাকসবজি সরবরাহ করা হয় স্থানীয় খুচরা বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। সম্প্রতি ডুমুরিয়ার পাইকারি কাঁচাবাজারে সবজির দরদাম, বেচাকেনা আর পণ্য পরিবহনের কর্মব্যস্ততা নিয়ে এই ছবির গল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/s0xhco97/1.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>বাজারে কাঁচা পেঁপের বিশাল পসরা সাজিয়ে বসেছেন এক আড়তদার। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/fyb98cgs/2.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>বিক্রির জন্য করলা সাজিয়ে রাখছেন এক বিক্রেতা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/2iwicdms/3.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>বিভিন্ন এলাকা থেকে পিকআপে করে আড়তে আনা সবজির ক্রেট দ্রুত নামাতে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/7tuav33r/4.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>প্লাস্টিকের ক্রেটে যত্নে স্তূপ করে রাখা হয়েছে তরতাজা কাঁকরোল। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/e15ey466/5.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>ক্যারেট থেকে ভালো মানের বেগুন দেখে ও যাচাই করে কিনছেন এক পাইকারি ক্রেতা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/t3v4naui/6.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>বিক্রির সুবিধার্থে আকারের ভিত্তিতে আলাদা করে কচুরমুখি বাছাই করছেন এক ব্যবসায়ী। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/fy0jr1xz/7.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>আড়তদারের কাছ থেকে পালংশাকের আঁটিগুলো বুঝে নিচ্ছেন এক ক্রেতা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ate05i45/8.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>কাঁচাকলা বিক্রির জন্য মোটরসাইকেলে বেঁধে বাজারে নিয়ে এসেছেন এক চাষি। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/n5s9meok/9.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>কাঁচা সবজির পাশাপাশি বাজারে উঠেছে হলুদ বর্ণের পাকা পেঁপে। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/hh5jsc57/10.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>বাজারে এসেছে আগাম মৌসুমের শিম। চাষি অল্প পরিমাণে এই শিম নিয়ে আসায় তা দেখতে ও কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ktu5aa7g/11.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>আড়তের মেঝেতে বিক্রির জন্য সারিবদ্ধভাবে স্তূপ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে গোল মিষ্টিকুমড়া। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/en3rrekm/12.-Khulnawholesalevegetable-marketbusynesstrade27102026.jpeg"><figcaption>পছন্দমতো জলপাই বেছে নিচ্ছেন এক ক্রেতা। </figcaption></figure>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, যা জানাল প্রশাসন
সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, যা জানাল প্রশাসন

<p>টানা ৯ মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। পর্যটকেরা যেতে পারবেন আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এবার প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে দ্বীপে রাতযাপনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।</p><p> হোটেল ও পর্যটকবাহী জাহাজমালিকেরা বলছেন, আগামী চার মাসের বেশি সময়ই পর্যটকেরা দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন ও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণের সময় বাড়ানো হলেও রাতযাপনের ক্ষেত্রে আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে। সে অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে সকালে সেন্ট মার্টিনে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসতে হবে। ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রাতযাপনের সুযোগ থাকবে।</p><p> হোটেলমালিকেরা বলছেন, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। এ সময় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন কমে যায়। ফলে রমজান মাসে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে পর্যটকেরা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১৫ দিন বেশি দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।</p><p> সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, টানা ৯ মাস বন্ধ থাকার পর ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত শুরুর খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত। ইতিমধ্যে দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক এলে দ্বীপের ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হবে।</p><p><strong>রাতযাপন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’</strong></p><p>পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত নিয়ে ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভায় ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটক যাতায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।</p><p>মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের সই করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। প্রত্যেককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দিতে হবে।</p><p>পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলো বহাল রাখা হয়েছে। তবে নতুন নির্দেশনায় পর্যটকদের রাতযাপনের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।</p><blockquote>পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য গত বছর সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করা হয়। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ওই মাসে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারেননি। নভেম্বরে রাতযাপনের সুযোগ ছিল না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাস পর্যটকেরা রাতযাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন।</blockquote><p>কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, রোববারের প্রজ্ঞাপনে রাতযাপনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পুরো সময় রাতযাপনের সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা হতাশ হবেন। তাঁদের প্রত্যাশা, পুরো পর্যটন মৌসুমেই দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হবে।</p><p>জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ না থাকলেও পুরো সময় পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিনে রাতযাপনের সুযোগ পাবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। সে অনুযায়ী জাহাজ চলাচল ও টিকিট বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। গত বছর কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন সমুদ্রপথে নয়টি জাহাজ চলাচল করেছিল। এবার জাহাজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।</p><p>রাতযাপনের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অঞ্চলের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন। তিনি বলেন, নতুন প্রজ্ঞাপনে রাতযাপনের বিষয়ে উল্লেখ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/c2psfsc2/WhatsApp-Image-2026-10-26-at-10.04.29-PM.jpeg"><figcaption>সেন্ট মার্টিনে ৯ মাস মাস পর্টযকের যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের সৈকতে শামুক-ঝিনুকের বিচরণ বেড়েছে</figcaption></figure><p>কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, সেন্ট মার্টিনে রাতযাপনের বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগের প্রজ্ঞাপনের শর্তগুলো বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার কক্সবাজারে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে পর্যটন করপোরেশন ও ট্যুরিজম বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জাহাজমালিক, হোটেল-রেস্তোরাঁমালিক এবং ট্যুর অপারেটররা উপস্থিত থাকবেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে রাতযাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।</p><p>জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচলের কোনো আবেদন জমা পড়েনি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজকে পর্যটক নিয়ে দ্বীপে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না।</p><p>বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক গেলে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ছেঁড়াদিয়ায় পর্যটক যাতায়াত বন্ধ রাখা, সৈকতের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করা এবং নভেম্বর মাসে রাতযাপনের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে তিনি মত দেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/rxsyuej6/WhatsApp-Image-2026-10-26-at-11.01.54-PM.jpeg"><figcaption>সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সৈকতে হোটেল-রিসোর্ট</figcaption></figure><p><strong>সেন্ট মার্টিনে গেলে মানতে হবে বিধিনিষেধ</strong></p><p>পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য গত বছর সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করা হয়। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ওই মাসে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারেননি। নভেম্বরে রাতযাপনের সুযোগ ছিল না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাস পর্যটকেরা রাতযাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়া ও সেখানে রাতযাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন।</p><p>চার বছর আগে টেকনাফ থেকে প্রতিদিন ৯ থেকে ১১টি জাহাজে পাঁচ থেকে ছয় হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যেতেন। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে তাঁরা দ্বীপে পৌঁছাতেন। তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, নাফ নদীতে বাংলাদেশি ট্রলার ও যাত্রীবাহী নৌযানে গুলিবর্ষণ এবং নৌকাসহ বাংলাদেশিদের অপহরণের ঘটনায় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দুই বছর ধরে কক্সবাজার থেকে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৯ মাস দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ ছিল।</p><aside><cite>মো. আ. মান্নান, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার</cite>সেন্ট মার্টিনে রাতযাপনের বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগের প্রজ্ঞাপনের শর্তগুলো বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার কক্সবাজারে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে রাতযাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।</aside><p>পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা প্রথম আলোকে বলেন, ৯ মাস পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নতি হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে যাওয়া পর্যটকদের সরকার নির্ধারিত ১২টি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।</p><p>সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।</p><p>দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং কেনাবেচা নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহারও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।</p><p>পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। পরে ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।</p><p>জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পলিথিন ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বন্ধে নজরদারি থাকবে। পর্যটকেরা বিধিনিষেধ মানছেন কি না, তা তদারক করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার এবং সেন্ট মার্টিনে পৃথক দুটি দল কাজ করবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/vs6pjhfc1o">কেয়াবন ও নারকেলগাছ কেটে সেন্ট মার্টিনে উঠছে একের পর এক রিসোর্ট</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশে
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশে

রয়টার্স-ইপসোস জরিপে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে ভোটাররা হতাশ। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”