জেলা

সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, যা জানাল প্রশাসন

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, যা জানাল প্রশাসন
সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, যা জানাল প্রশাসন
<p>টানা ৯ মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। পর্যটকেরা যেতে পারবেন আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এবার প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে দ্বীপে রাতযাপনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।</p><p> হোটেল ও পর্যটকবাহী জাহাজমালিকেরা বলছেন, আগামী চার মাসের বেশি সময়ই পর্যটকেরা দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন ও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণের সময় বাড়ানো হলেও রাতযাপনের ক্ষেত্রে আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে। সে অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে সকালে সেন্ট মার্টিনে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসতে হবে। ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রাতযাপনের সুযোগ থাকবে।</p><p> হোটেলমালিকেরা বলছেন, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। এ সময় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন কমে যায়। ফলে রমজান মাসে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে পর্যটকেরা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১৫ দিন বেশি দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।</p><p> সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, টানা ৯ মাস বন্ধ থাকার পর ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত শুরুর খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত। ইতিমধ্যে দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক এলে দ্বীপের ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হবে।</p><p><strong>রাতযাপন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’</strong></p><p>পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত নিয়ে ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভায় ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটক যাতায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।</p><p>মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের সই করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। প্রত্যেককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দিতে হবে।</p><p>পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলো বহাল রাখা হয়েছে। তবে নতুন নির্দেশনায় পর্যটকদের রাতযাপনের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।</p><blockquote>পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য গত বছর সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করা হয়। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ওই মাসে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারেননি। নভেম্বরে রাতযাপনের সুযোগ ছিল না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাস পর্যটকেরা রাতযাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন।</blockquote><p>কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, রোববারের প্রজ্ঞাপনে রাতযাপনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পুরো সময় রাতযাপনের সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা হতাশ হবেন। তাঁদের প্রত্যাশা, পুরো পর্যটন মৌসুমেই দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হবে।</p><p>জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ না থাকলেও পুরো সময় পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিনে রাতযাপনের সুযোগ পাবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। সে অনুযায়ী জাহাজ চলাচল ও টিকিট বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। গত বছর কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন সমুদ্রপথে নয়টি জাহাজ চলাচল করেছিল। এবার জাহাজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।</p><p>রাতযাপনের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অঞ্চলের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন। তিনি বলেন, নতুন প্রজ্ঞাপনে রাতযাপনের বিষয়ে উল্লেখ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/c2psfsc2/WhatsApp-Image-2026-10-26-at-10.04.29-PM.jpeg"><figcaption>সেন্ট মার্টিনে ৯ মাস মাস পর্টযকের যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের সৈকতে শামুক-ঝিনুকের বিচরণ বেড়েছে</figcaption></figure><p>কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, সেন্ট মার্টিনে রাতযাপনের বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগের প্রজ্ঞাপনের শর্তগুলো বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার কক্সবাজারে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে পর্যটন করপোরেশন ও ট্যুরিজম বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জাহাজমালিক, হোটেল-রেস্তোরাঁমালিক এবং ট্যুর অপারেটররা উপস্থিত থাকবেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে রাতযাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।</p><p>জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচলের কোনো আবেদন জমা পড়েনি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজকে পর্যটক নিয়ে দ্বীপে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না।</p><p>বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক গেলে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ছেঁড়াদিয়ায় পর্যটক যাতায়াত বন্ধ রাখা, সৈকতের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করা এবং নভেম্বর মাসে রাতযাপনের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে তিনি মত দেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/rxsyuej6/WhatsApp-Image-2026-10-26-at-11.01.54-PM.jpeg"><figcaption>সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সৈকতে হোটেল-রিসোর্ট</figcaption></figure><p><strong>সেন্ট মার্টিনে গেলে মানতে হবে বিধিনিষেধ</strong></p><p>পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য গত বছর সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করা হয়। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ওই মাসে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারেননি। নভেম্বরে রাতযাপনের সুযোগ ছিল না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাস পর্যটকেরা রাতযাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়া ও সেখানে রাতযাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন।</p><p>চার বছর আগে টেকনাফ থেকে প্রতিদিন ৯ থেকে ১১টি জাহাজে পাঁচ থেকে ছয় হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যেতেন। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে তাঁরা দ্বীপে পৌঁছাতেন। তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, নাফ নদীতে বাংলাদেশি ট্রলার ও যাত্রীবাহী নৌযানে গুলিবর্ষণ এবং নৌকাসহ বাংলাদেশিদের অপহরণের ঘটনায় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দুই বছর ধরে কক্সবাজার থেকে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৯ মাস দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ ছিল।</p><aside><cite>মো. আ. মান্নান, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার</cite>সেন্ট মার্টিনে রাতযাপনের বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগের প্রজ্ঞাপনের শর্তগুলো বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার কক্সবাজারে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে রাতযাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।</aside><p>পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা প্রথম আলোকে বলেন, ৯ মাস পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নতি হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে যাওয়া পর্যটকদের সরকার নির্ধারিত ১২টি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।</p><p>সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।</p><p>দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং কেনাবেচা নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহারও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।</p><p>পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। পরে ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।</p><p>জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পলিথিন ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বন্ধে নজরদারি থাকবে। পর্যটকেরা বিধিনিষেধ মানছেন কি না, তা তদারক করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার এবং সেন্ট মার্টিনে পৃথক দুটি দল কাজ করবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/vs6pjhfc1o">কেয়াবন ও নারকেলগাছ কেটে সেন্ট মার্টিনে উঠছে একের পর এক রিসোর্ট</a></aside>

Prothomalo

View more
ফিলিপাইনে জাদুঘরের ভেতরেই ১৭ শতকের বিশাল গ্যালিয়ন জাহাজ!
ফিলিপাইনে জাদুঘরের ভেতরেই ১৭ শতকের বিশাল গ্যালিয়ন জাহাজ!

ফিলিপাইনে জাদুঘরের ভেতরেই ১৭ শতকের বিশাল গ্যালিয়ন জাহাজ!

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
পেরুর মরুভূমিতে থাকা নাজকা লাইন কী, কারা এঁকেছিল
পেরুর মরুভূমিতে থাকা নাজকা লাইন কী, কারা এঁকেছিল

‘নাজকা লাইনস’ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত ভূচিত্র বা জিওগ্লিফ। আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে পেরুর শুষ্ক পাহাড় ও উপত্যকায় এই বিশাল নকশাগুলো তৈরি করা হয়েছিল

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
হেমন্তের বিকেলে শাড়িতে মুগ্ধতা ছড়ালেন নাজিফা তুষি
হেমন্তের বিকেলে শাড়িতে মুগ্ধতা ছড়ালেন নাজিফা তুষি

সবুজের ছায়ায় শাড়িতে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। তুষির সৌন্দর্যে বরাবরই রয়েছে একধরনের রহস্যময় আকর্ষণ। এবার শাড়ির সাজে সেই মুগ্ধতাই ছড়ালেন তিনি । ছবিগুলো তুলেছেন পূর্ণ দাস।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
পাকিস্তানি ধারাবাহিকের আদর্শ স্বামী ‘আবু বকর’ বাস্তব জীবনে স্বামী হিসেবে কেমন
পাকিস্তানি ধারাবাহিকের আদর্শ স্বামী ‘আবু বকর’ বাস্তব জীবনে স্বামী হিসেবে কেমন

<p>পাকিস্তানের ধারাবাহিক নাটক ‘দার-এ-নিজাত’ নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে ধারাবাহিকের আবু বকর চরিত্রটি নারী দর্শকের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক কৌতূহল। কল্পনায় একজন স্বামীকে যেভাবে দেখতে চান, পর্দার আবু বকরকে অনেকের কাছে তেমন মনে হয়েছে। আবু বকর চরিত্রে অভিনয় করা এই নায়কের প্রকৃত নাম <strong>শেহেরিয়ার মুনাওয়ার সিদ্দিকী</strong>। ব্যক্তিগত জীবনে এক চিকিৎসকের সঙ্গে বাগ্‌দানের পর সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর দুই বছর আগে বিয়ে করেন অভিনেত্রী মাহিন সিদ্দিকীকে। এখানে রইল শেহেরিয়ার মুনাওয়ার সিদ্দিকী সম্পর্কে কিছু তথ্য:</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/c33wdzht/661690950_18336496648174103_4040220533791870463_n.jpg"><figcaption>রোমান্টিক নায়ক হিসেবেই বেশি পরিচিত শেহেরিয়ার। ২০১২ সালে একটি নাটকে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে বিনোদনজগতে পা রাখেন। প্রথম নাটকেই আরুজ নামের এক বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান। এ অভিনয় তাঁকে সে বছর বেস্ট টেলিভিশন সেনসেশন অ্যাওয়ার্ড এনে দেয়</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/8otrrfvm/810118656_18628735891029339_9033031692421167112_n.jpg"><figcaption>অভিনয়ে আসার আগে শেহেরিয়ার মডেলিং করেছেন। আইবিএ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে পাকিস্তানের একটি খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। সেই চাকরি ছেড়ে রকেট ইন্টারনেট নামের একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত হন। পাকিস্তানে অনলাইন ব্যবসার প্রসারে রকেট ইন্টারনেটের বিশেষ ভূমিকা আছে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/173mx67n/images.jpg"><figcaption>শেহেরিয়ারের বাবা পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন, মা গৃহিণী। বাবার দিক থেকে তাঁর বংশপরিচয় সিন্ধি এবং মায়ের দিক থেকে ব্রাহুই। শেহেরিয়ারের ফুপু সুলতানা সিদ্দিকী পাকিস্তানের টেলিভিশন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/dre27z04/768619559_18615704908029339_8737459711617354223_n.jpg"><figcaption>নাটকের পাশাপাশি বেশ কিছু সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন শেহেরিয়ার। ‘হো মান জাহান’, ‘সাত দিন মহব্বত ইন’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে নায়কের ভূমিকায়</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/mgqiujf3/807684760_18630704194029339_9061969260784261229_n.jpg"><figcaption>২০১৯ সালের মার্চে শেহেরিয়ারের সঙ্গে বাগ্‌দান হয় চিকিৎসক হালা সুমরোর। তবে একই বছরের অক্টোবরে তাঁদের বাগ্‌দান ভেঙে গেছে বলে শোনা যায়। তবে বাগদান ভেঙে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তাঁরা প্রকাশ্যে কিছু বলেননি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/nuairvxg/471809691_18478650139029339_4605724550044500574_n.jpg"><figcaption>এরপর অভিনেত্রী মাহিন সিদ্দিকীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর করাচি শহরে ঐতিহ্যবাহী সিন্ধি রীতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। এই দুই তারকার বিয়ের খবর পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ptozw4xs/741409323_18606214582029339_5462671695316224133_n.jpg"><figcaption>অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনায়ও নাম লিখিয়েছেন শেহেরিয়ার। ‘দার-এ-নিজাত’ ধারাবাহিকটি মূলত শেহেরিয়ারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই তৈরি হয়েছে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/gv90u7qe/825323504_18632738929029339_6262911691192634496_n.jpg"><figcaption>ধারাবাহিকটিতে রাগের সময়েও শান্ত থাকা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, ধৈর্য, মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান করা এবং স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল আচরণ—সব মিলিয়ে যেন আদর্শ স্বামীর প্রতিচ্ছবি পর্দার আবু বকর (শেহেরিয়ার)</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/03r4cfur/706035720_18592094659029339_4547912547170009922_n.jpg"><figcaption>‘দার–এ–নিজাত’ ধারাবাহিকের অরিজিনাল সাউন্ডট্র্যাকে কণ্ঠ দিয়েছেন শেহেরিয়ারের স্ত্রী অভিনেত্রী মাহিন সিদ্দিকী। প্রথমবার গান গাওয়া নিয়ে মাহিন সিদ্দিকী সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘তোমাকে (শেহেরিয়ার) বিশেষভাবে ধন্যবাদ। নিজেকে বিশ্বাস করতে না পারলেও তুমি আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছ। তোমার এই বিশ্বাস আমাকে যতটা এগিয়ে দিয়েছে, তা হয়তো তুমি কখনোই পুরোপুরি বুঝতে পারবে না।’</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/2lrpfhqj/786801180186215437060293396050994203107564865n.jpg"><figcaption> ‘দার–এ–নিজাত’ ধারাবাহিকে স্বামীর অভিনয় দেখে একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মাহিন লেখেন, ‘কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শেষ। তোমাকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।’ </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/wnt94dir/762812249_18614353762029339_8770791342839114139_n.jpg"><figcaption>স্ত্রীকে নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশংসা করতে দেখা যায় শেহেরিয়ারকে। সময়জ্ঞান ঠিক করতে নাকি বিশেষভাবে সাহায্য করেছেন তাঁর স্ত্রী</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/q96sslyk/471928648184786501600293392768227696059488975n.jpg"><figcaption>তবে এসব তথ্য থেকে শেহেরিয়ার বাস্তব জীবনে ঠিক কতটা আদর্শ স্বামী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখা, তাঁকে উৎসাহ দেওয়া এবং তাঁর অবদান স্বীকার করার মধ্য দিয়ে শেহেরিয়ারের দাম্পত্য জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো ফুটে ওঠে</figcaption></figure><p><sup>সূত্র: ডন ও দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/gcrk3jz9py">নতুন বিয়ের ছবি দিলেন শোয়েব মালিক, তৃতীয় বিয়ে নিয়েও চলছে জোর বিতর্ক </a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
দাম্পত্যে সন্দেহ থেকে মধ্যবিত্তের গল্প, আলোচনায় কোন পাঁচ নাটক
দাম্পত্যে সন্দেহ থেকে মধ্যবিত্তের গল্প, আলোচনায় কোন পাঁচ নাটক

নতুন জুটি, পারিবারিক টানাপোড়েন, প্রেম আর আবেগের গল্প—অক্টোবরজুড়ে ইউটিউবে সাড়া ফেলেছে কয়েকটি নাটক। জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচ নাটকের গল্প।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
কে কোন পুরস্কার জিতলেন, দেখে নিন এক নজরে
কে কোন পুরস্কার জিতলেন, দেখে নিন এক নজরে

<p>গোলের পর গোল। প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে গত মৌসুমটা নিজের করে নিয়েছিলেন হ্যারি কেইন। এবার সেই গোলবন্যার পুরস্কারও পেলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো জিতলেন ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর।</p><p>লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে সোমবার রাতে জমকালো অনুষ্ঠানে বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ প্রবর্তিত ব্যালন ডি’অর ২০২৬।</p><p>মেয়েদের ব্যালন ডি’অর উঠেছে বার্সেলোনা অধিনায়ক অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াসের হাতে। গত মৌসুমে বার্সেলোনার চার শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার এ নিয়ে তৃতীয়বার জিতলেন পুরস্কারটি।</p><p>চলুন ছবিতে ছবিতে দেখে নেওয়া যাক এবারের ব্যালন ডি’অরের বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারজয়ীদের। </p><h3>ছেলেদের ব্যালন ডি’অর: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/mvsdl4q3/HVmSc8NWsAAdwpo.jpg"><figcaption> হ্যারি কেইন</figcaption></figure><h3>মেয়েদের ব্যালন ডি’অর: অ্যালেক্সিস পুতেয়াস (স্পেন ও লন্ডন সিটি লায়নেস)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/mehd371u/750998-01-02.jpg"><figcaption>অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস</figcaption></figure><h3>ছেলেদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় : লামিনে ইয়ামাল (স্পেন ও বার্সেলোনা)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/5oclisit/imagesvoltaxMediaLibrarymmsportsi01m5x1zd9s52asaymnrx.webp"><figcaption>লামিনে ইয়ামাল </figcaption></figure><h3>মেয়েদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়: ভিকি লোপেজ (স্পেন ও বার্সেলোনা)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/1g3tyv8l/imagesvoltaxMediaLibrarymmsportsi01m5x21168tnmvphcmj8.webp"><figcaption>ভিকি লোপেজ</figcaption></figure><h3>ছেলেদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: উনাই সিমোন (স্পেন)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/bu08gc5z/750767-01-02.jpg"><figcaption>উনাই সিমোন </figcaption></figure><h3>মেয়েদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: কাতা কোল (বার্সেলোনা)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/jl0ddxrs/750758_01_02.jpg"><figcaption>কাতা কোল</figcaption></figure><h3>মেয়েদের ফুটবলে সেরা কোচ: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/64lkulzg/750680-01-02.jpg"><figcaption>পেরে রোমেউ</figcaption></figure><h3>ছেলেদের ফুটবলে সেরা কোচ: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/1z6q84v2/imagesvoltaxMediaLibrarymmsportsi01m5x23557mwamp3vs88.webp"><figcaption>লুইস দে লা ফুয়েন্তে</figcaption></figure><h3>সক্রেটিস পুরস্কার: বুকায়ো সাকা (ইংল্যান্ড ও আর্সেনাল)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/p3polynv/750801-01-02.jpg"><figcaption>বুকায়ো সাকা </figcaption></figure><h3>মেয়েদের সেরা ক্লাব: বার্সেলোনা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/ayow64ua/750820_01_02.jpg"><figcaption>বার্সেলোনার সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা</figcaption></figure><h3>ছেলেদের সেরা ক্লাব: পিএসজি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/zk6wj6ap/750878-01-02.jpg"><figcaption>পিএসজি স্ট্রাইকার উসমান দেম্বেলে</figcaption></figure><h3>ছেলেদের সেরা স্ট্রাইকার: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/bujjkt85/751000-01-02.jpg"><figcaption>হ্যারি কেইন</figcaption></figure><h3>মেয়েদের সেরা স্ট্রাইকার: শার্লিন কোররাল (মেক্সিকো ও পাচুয়া)</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/zeq1hjtf/HVlwWFXMAAt4I.jpg"><figcaption>শার্লিন কোররাল</figcaption></figure>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
বাতের ব্যথায় ১০ মিটারও হাঁটতে পারতেন না, করেছেন ১৬ সেঞ্চুরি
বাতের ব্যথায় ১০ মিটারও হাঁটতে পারতেন না, করেছেন ১৬ সেঞ্চুরি

উসমান খাজার পরিসংখ্যান ক্রিকেটপ্রেমীদের চেনা। অচেনা ছিল আড়ালে থাকা তাঁর এক গল্প। ১৭ বছর ধরে খাজার বুকে চেপে রাখা এক গোপন যন্ত্রণার গল্প।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
জিপি ৯ মাসে ১১,৭৫৬ কোটি টাকা ব্যবসা করেছে
জিপি ৯ মাসে ১১,৭৫৬ কোটি টাকা ব্যবসা করেছে

<p>দেশের টেলিকম খাতের শীর্ষ কোম্পানি গ্রামীণফোনের (জিপি) মুনাফা ৯২ কোটি টাকা কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটি মুনাফা করেছে ২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জিপির মুনাফা কমেছে ৪ শতাংশের বেশি। কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।</p><p> গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে কোম্পানিটির ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, গত বছরের চেয়ে জিপির ব্যবসাও কমেছে। এ কারণে মুনাফাও কমে গেছে।</p><p>আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে জিপি ব্যবসা করেছে ১১ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকার। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ১১ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জিপির ব্যবসা কমেছে ১৯২ কোটি টাকার বা দেড় শতাংশের বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে গ্রামীণফোন পরিচালন মুনাফা করেছে ৪ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে পরিচালন মুনাফাও আগের বছরের চেয়ে ১০৯ কোটি টাকা কমেছে। পরিচালন মুনাফা থেকে কর, ব্যাংকঋণ ও সুদ বাবদ খরচ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত লাভ-লোকসানের হিসাব বাদ দেওয়ার পর কর পরবর্তী মুনাফার হিসাব করা হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকের ঋণ ও সুদ পরিশোধ বাবদ খরচও বেড়েছে এ বছর। এ খাতে চলতি বছরে প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটি খরচ হয়েছে ৫০৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪৫৩ কোটি টাকা।</p><blockquote>* এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা কমেছে ১৯২ কোটি টাকার।* মুনাফা এক বছরের ব্যবধানে ৯২ কোটি টাকা কমে গেছে।* আয় ও মুনাফা কমলেও বেড়েছে কোম্পানিটির সম্পদমূল্য।</blockquote><p>আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছরের প্রথম ৯ মাসে কর বাবদ গ্রামীণফোন সরকারকে দিয়েছে ১ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ বাবদ কোম্পানিটি সরকারের কোষাগারে দিয়েছিল ১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে কর বাবদ খরচ ৭ কোটি টাকা কমেছে এ বছর।</p><p>বছরের ৯ মাসের আর্থিক হিসাবের পাশাপাশি গতকালের সভায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনও আলাদাভাবে প্রকাশ করেছে গ্রামীণফোন। তাতে দেখা যায়, এই তিন মাসে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছে প্রায় ৪ হাজার ১৭ কোটি টাকার। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১০ কোটি টাকা। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে গ্রামীণফোন মুনাফা করেছে ৭৫১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৭৫১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে দেখা যায়, তৃতীয় প্রান্তিকের কোম্পানিটির ব্যবসা ও মুনাফায় খুব বেশি তারতম্য হয়নি। বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যবসা কিছুটা খারাপ থাকায় ৯ মাসের হিসাবে মুনাফায় তার প্রভাব পড়েছে।</p><p>এদিকে মুনাফা কমলেও সম্পদমূল্য বেড়েছে কোম্পানিটির। বছরের প্রথম ৯ মাস শেষে জিপির স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পদের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ২২ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের সম্পদমূল্য বেড়েছে ৪৯০ কোটি টাকা।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
নৌ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই
নৌ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নদীপথকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধে ২ হাজার ৮৫টি মামলা হয়েছিল।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”