bangladesh

প্রাথমিকের শিক্ষক পদে যোগ দেননি ৯১৮ জন ও অন্যান্য খবর

অক্টোবর ৬, ২০২৬
প্রাথমিকের শিক্ষক পদে যোগ দেননি ৯১৮ জন ও অন্যান্য খবর
প্রাথমিকের শিক্ষক পদে যোগ দেননি ৯১৮ জন ও অন্যান্য খবর
প্রাথমিকের শিক্ষক পদে যোগ দেননি ৯১৮ জন ও অন্যান্য খবর

Prothomalo

View more
বিয়ের চার মাস পর স্ত্রীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা স্বামীর
বিয়ের চার মাস পর স্ত্রীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা স্বামীর

বিয়ের পর স্ত্রীকে জাফলংয়ে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আরও তিন বন্ধুকে সঙ্গে করে এনেছিলেন আশিকুর। তাঁরা পেশায় গাড়িচালক।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
ভিএইচএল বস্কো লুমিনার উদ্বোধন
ভিএইচএল বস্কো লুমিনার উদ্বোধন

<p>ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় উদ্বোধন করা হয়েছে ভিএইচএল বস্কো লুমিনা। এটি ভিস্তানেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের (ভিএইচএল) প্রথম অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প। সম্প্রতি বসুন্ধরার সেন্ট্রামে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।</p><p> অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ভিএইচএলের উপদেষ্টা মো. শরিফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন ভিস্তানেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আসিফুর রহমান, পরিচালক শেখ আশেকুর রহমান, রাজিব রায়হান ও আবু আল মোতালেব রাজু।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রকল্পের মডেল উন্মোচনের পাশাপাশি ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে অতিথিদের সামনে ভবনের নকশা, অ্যাপার্টমেন্ট এবং এর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হয়।</p><p>প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শরিফুল আলম বলেন, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নগরজীবনের মান বাড়ায়। আগামী দিনগুলোতে ভিস্তানেক্স ঢাকার আধুনিক আবাসিক জীবনযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।</p><p>ভিএইচএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আসিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প তৈরি করতে চাই, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণ, আধুনিক সুযোগ–সুবিধা ও সবুজ পরিবেশ একসঙ্গে থাকবে।’</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্রের দায়িত্বে এআইজি কামারুম মুনিরা
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্রের দায়িত্বে এআইজি কামারুম মুনিরা

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার কামারুম মুনিরা গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। তিনি ২৮তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিলের রায় স্থগিত, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা নেই
১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিলের রায় স্থগিত, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা নেই

নিয়মিত লিভ টু আপিল করা পর্যন্ত সময়ের জন্য এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রিট আবেদনকারীদের জন্য প্রধান শিক্ষকের ৪৬টি পদ শূন্য রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
অর্থনীতির পুনরুদ্ধার আটকে আছে কোথায়?
অর্থনীতির পুনরুদ্ধার আটকে আছে কোথায়?

দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ আয়োজনে কথা বলেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকেরা

অক্টোবর ৬, ২০২৬
দিল্লিতে ধরনা থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
দিল্লিতে ধরনা থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

<p>ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধরনায় বসেছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের নেতারা। দিল্লির আকাশবাণী ভবন চত্বরে প্রায় আট ঘণ্টা অবস্থানের পর তাঁদের আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ।</p><p> জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে পার্লামেন্ট থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে যাত্রা করেন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা। তাঁদের পদযাত্রায় রাজধানী দিল্লির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জীবনযাত্রা অনেকটা স্তব্ধ হয়ে পড়ে। অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে অন্যত্র সরিয়ে দিলেও পুলিশের চোখে ধুলা দিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ একাধিক শীর্ষ নেতা আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢুকে পড়েন। ওই চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দূরত্ব বড়জোর ৫০ মিটার।</p><p>সেখানে অবস্থানের প্রায় আট ঘণ্টা পর রাত আটটার দিকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ অন্য নেতাদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। আটক অপর নেতাদের মধ্যে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য পবন খেরা, কে সি বেনুগোপাল, ইমরান প্রতাপগড়ি, কে সুরেশ রয়েছেন। তাঁদের বাসে তুলে উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নেওয়া হচ্ছে বলে কংগ্রেস সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে এনডিটিভি।</p><p>রাতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের সময় চায়নি কমিশনের কাছে। পরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ২৪০ সাংসদের প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চায়। তবে প্রস্তাবিত স্থান ছিল সংসদ ভবন অ্যানেক্স—যা কমিশন প্রটোকল–বহির্ভূত বলে জানায়। কমিশন সেখানে তাদের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে স্মারকলিপি নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংসদ সদস্যরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।</p><p>বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন থেকে জ্ঞানেশ হটাও আন্দোলন শুরু করেছে। প্রতিদিন নিয়ম করে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করছে, আজ ইসি অভিযান ছিল তারই অংশ।</p><p>বিরোধী সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশন অভিযান রুখতে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্যকে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়। কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তা সত্ত্বেও রাহুল–প্রিয়াঙ্কারা কী করে আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢুকে পড়েন।</p><p>বেলা পৌনে তিনটার দিকে সেখানে লোহার ফটকের মধ্য থেকে রাহুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৩০০ বিরোধী সদস্য শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে নির্বাচন কমিশনে যেতে চেয়েছিলেন। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার; কিন্তু আমাদের যেতে দেওয়া হয়নি। দেশের জনতা এর বিচার করবে।’</p><p>আকাশবাণী ভবনের ফটকের অভ্যন্তর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের নাম করে রাহুল বলেন, ভোট চুরি করে তাঁরা ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের ওই কাজে মদদ দিয়েছেন। তাঁদের কেউ ছাড় পাবেন না। প্রত্যেকের বিচার হবে।</p><p>রাহুল বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র বাঁচাতে চাইছি। মোদি, শাহ, ভাগবত, জ্ঞানেশরা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন। তাঁরা যা করছেন, তা দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তাঁদের কেউ পার পাবেন না।’</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
কক্সবাজারে মোটরসাইকেল ভাড়া করে ঘুরতে পারবেন পর্যটকেরা, ইয়ামাহার নতুন উদ্যোগ
কক্সবাজারে মোটরসাইকেল ভাড়া করে ঘুরতে পারবেন পর্যটকেরা, ইয়ামাহার নতুন উদ্যোগ

<p>কক্সবাজারে পর্যটকদের চলাচল আরও সহজ করতে মোটরসাইকেল ভাড়া দেন এমন ব্যবসায়ীদের ৩০টি ইয়ামাহা এফজেডএস ভার্সন ৪.০ মোটরসাইকেল হস্তান্তর করেছে ইয়ামাহা বাংলাদেশ। পর্যটকেরা যাতে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইয়ামাহা বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।</p><p>‘ড্রাইভিং ট্যুরিজম, মোবিলিটি ইন কক্সবাজার’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, পর্যটকদের জন্য ব্যক্তিগত পরিবহনের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য ।</p><p>সম্প্রতি কক্সবাজারের হোটেল সী গালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৩০টি মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসিআই মোটরস ও ইয়ামাহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কক্সবাজারে ইয়ামাহার অনুমোদিত ডিলার মাহিন মোটরসের স্বত্বাধিকারী।</p><p>প্রতিটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে রাইডার ও পিলিয়নের জন্য দুটি করে সার্টিফাইড হেলমেটও দেওয়া হয়েছে। ফলে পর্যটকেরা নিরাপদভাবে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে নেন ৯৮ হাজার টাকা, আরও ৪ হাজার নিতে এসে ধরা
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে নেন ৯৮ হাজার টাকা, আরও ৪ হাজার নিতে এসে ধরা

<p>ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৬ জন থেকে ৯৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের এক নারীর বিরুদ্ধে। দেড় মাস ধরে ‘আজ হবে, কাল হবে’ বলে ঘোরানোর পর আরও চার হাজার টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। পরে বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন তাঁরা।</p><p> আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার এলাকায় কৃষি ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।</p><p> আটক নার্গিস আক্তার (৩৬) মৃগালী গ্রামের খোকন আলীর স্ত্রী। তাঁকে আটকের পর রায়বাজার তদন্তকেন্দ্রে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সন্ধ্যায় নার্গিসকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।</p><p>ভুক্তভোগীরা হলেন নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।</p><p>ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নার্গিস তাঁদের ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেন। এ জন্য রাবেয়া খাতুনের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা আর অন্য ৫ জনের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা করে নেন। এরপর প্রায় দেড় মাস ধরে তাঁদের ঘোরাতে থাকেন।</p><p>ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন বলেন, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে নার্গিস আরও চার হাজার টাকা দাবি করলে তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর তাঁকে বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে পুলিশে দেওয়া হয়।</p><p>ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, গত সোমবার তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে বাকি চার হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নার্গিসকে আঠারবাড়ীতে ডেকে আনা হয়। এরপর তাঁকে পুলিশে দেওয়া হয়। তাঁদের নাম ব্যবহার করে নার্গিস প্রতারণা করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।</p><p>ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
সাইবার অপরাধ যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়
সাইবার অপরাধ যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়

<p>সাইবার অপরাধ দমনে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন হলেও এর অস্পষ্ট ও বিস্তৃত বিধান যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এমন মত উঠে এসেছে। বক্তারা বলেন, অপরাধী দমনে রাষ্ট্রকে ক্ষমতা দিতে হবে, তবে সেই ক্ষমতার ওপর কার্যকর বিচারিক তদারকি ও সুনির্দিষ্ট সীমারেখা থাকতে হবে।</p><p> আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথাগুলো বলেন।</p><p>বক্তারা বলেন, হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার, র‌্যানসমওয়্যার, সাইবার হয়রানি ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর আইন দরকার; কিন্তু ‘গুজব’, ‘মিসইনফরমেশন’, ‘অপমান’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বক্তব্যের মতো অস্পষ্ট সংজ্ঞার সুযোগে বৈধ রাজনৈতিক সমালোচনা বা জনস্বার্থের বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ রাখা উচিত নয়।</p><p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি ২০১৮ সালের আইন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ও পরবর্তী সংশোধনীর ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংস্করণ। এতে ভুল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকিও আছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোকে এমনভাবে করা উচিত নয়, যাতে তা পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের আইন ও চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।</p><p>এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের নামে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইমোজি, রাজনৈতিক সমালোচনা কিংবা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রাখা উচিত নয়।</p><p>আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সাধারণ নাগরিক সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন কি না, সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ হবে কি না, পুলিশ আসামি ছেড়ে দিয়েছে বললে পুলিশের মানহানি হবে কি না, এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর থাকতে হবে।</p><p>আগের সরকার ডিজিটাল আইন নিয়ে যে ভুল করেছিল, বর্তমান সরকার যেন একই পথে না হাঁটে—এমন আহ্বান জানিয়ে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত সাইবার অধ্যাদেশে থাকা ইতিবাচক বিষয় বাদ দিয়ে আবার কেন সংশোধন করা হচ্ছে, সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।</p><p>প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ননপ্রফিট ল (আইসিএনএল)–সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্বেগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রয়োজন। হ্যাকিং, ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রড, আইডেন্টিটি থেফট এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর সাইবার হামলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে। তবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নাগরিকের স্বাধীনতাকে অনিরাপদ করে তোলা যাবে না।</p><h3>সরকারের প্রতি পাঁচ আহ্বান </h3><p>সাইবার সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত করার আগে সরকারের প্রতি পাঁচটি আহ্বান জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। এগুলো হলো ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ করা; ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’র মতো অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা; কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করা; সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে সাইবার অপরাধ গণ্য না করা এবং নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।</p><p>মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, সঞ্চালনা করেন আব্বাস ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন