বাংলাদেশ

ভিএইচএল বস্কো লুমিনার উদ্বোধন

অক্টোবর ৬, ২০২৬
ভিএইচএল বস্কো লুমিনার উদ্বোধন
ভিএইচএল বস্কো লুমিনার উদ্বোধন
<p>ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় উদ্বোধন করা হয়েছে ভিএইচএল বস্কো লুমিনা। এটি ভিস্তানেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের (ভিএইচএল) প্রথম অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প। সম্প্রতি বসুন্ধরার সেন্ট্রামে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।</p><p> অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ভিএইচএলের উপদেষ্টা মো. শরিফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন ভিস্তানেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আসিফুর রহমান, পরিচালক শেখ আশেকুর রহমান, রাজিব রায়হান ও আবু আল মোতালেব রাজু।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রকল্পের মডেল উন্মোচনের পাশাপাশি ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে অতিথিদের সামনে ভবনের নকশা, অ্যাপার্টমেন্ট এবং এর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হয়।</p><p>প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শরিফুল আলম বলেন, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নগরজীবনের মান বাড়ায়। আগামী দিনগুলোতে ভিস্তানেক্স ঢাকার আধুনিক আবাসিক জীবনযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।</p><p>ভিএইচএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আসিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প তৈরি করতে চাই, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণ, আধুনিক সুযোগ–সুবিধা ও সবুজ পরিবেশ একসঙ্গে থাকবে।’</p>

Prothomalo

View more
‘এলাকার মানুষের চাইতে দলের লোককে প্রাধান্য বেশি দেব, যেহেতু দল আমাকে বসিয়েছে’
‘এলাকার মানুষের চাইতে দলের লোককে প্রাধান্য বেশি দেব, যেহেতু দল আমাকে বসিয়েছে’

<p>‘আপনারা একটা জিনিস মনে রাখবেন, আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি না। দল আমাদেরকে নিয়ে এই চেয়ারে বসিয়েছে। এই এলাকার মানুষ আমাদেরকে চায় না।... সেই জন্য আমরা এলাকার মানুষের চাইতে দলের (লোককে) প্রাধান্য বেশি দেব, যেহেতু দল আমাকে বসিয়েছে।’</p><p> চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামানের এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।</p><p> ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছে পরাজিত হন মো. শরীফুজ্জামান। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানকে হারিয়ে জয়ী হন জামায়াতের জেলা আমির রুহুল আমীন।</p><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে শরীফুজ্জামানকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমার দলের নেতা–কর্মীর বাইরে কোনো অনুদান জেলা পরিষদ থেকে যাবে না। এই ইউনিয়নে যেকোনো জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারি অথবা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি–সেক্রেটারির রিকমেন্ড (সুপারিশ) ছাড়া একটি অনুদানও মিলবে না।’</p><p>খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন শরীফুজ্জামান। একই মঞ্চে ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।</p><p>বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামানে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।</p><p>তবে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, সুযোগসন্ধানীরা অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে নেতার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এ ধরনের হীন অপচেষ্টার নিন্দা জানায় জেলা বিএনপি।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
শ্রেয়াসের প্রথম সেঞ্চুরি, ৩২ বল হাতে রেখেই জয় ভারতের
শ্রেয়াসের প্রথম সেঞ্চুরি, ৩২ বল হাতে রেখেই জয় ভারতের

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে শ্রেয়াস আইয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে টি–টুয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছে ভারত।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাস, দিনে ৫০-৭০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের আশা
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাস, দিনে ৫০-৭০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের আশা

<p>নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সুন্দলপুর-৪ গ্যাস কূপে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নির্ধারিত খননকাজ শেষে কূপে স্থাপন করা পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) তত্ত্বাবধানে গত ২৯ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়েছিল।</p><p> সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপটির অবস্থান। এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় একই গ্যাসক্ষেত্রের অধীনে সুন্দলপুর-১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন কূপটি সেনবাগে হলেও একই ভূগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্র কাঠামোর অংশ হওয়ায় এর নাম সুন্দলপুর-৪ রাখা হয়েছে।</p><p>বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, কূপটিতে ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি (মেজারিং হোয়াইল ড্রিলিং) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১ হাজার ৫৭৮ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।</p><p>প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর এখন ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) করা হচ্ছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এ পরীক্ষা শেষ হলে কূপটিতে গ্যাসের মজুতের পরিমাণ ও উত্তোলন সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।</p><p>সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আজ সন্ধ্যায় তিনি বলেন, সুন্দলপুর-৪ গ্যাস কূপে গ্যাসের উপস্থিতি আগেই পাওয়া গেছে। তবে খননকাজ শেষে আজ কূপে বসানো পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ডিএসটি পরীক্ষা শেষ হলে মোট মজুতকৃত গ্যাসের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
বাসা থেকে কাজিকে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
বাসা থেকে কাজিকে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সিগঞ্জে বাসা থেকে এক কাজিকে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা রাজিব হোসেনের বিরুদ্ধে

অক্টোবর ৬, ২০২৬
শিল্প মন্ত্রণালয়: রাষ্ট্রায়ত্ত বেশির ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানে
শিল্প মন্ত্রণালয়: রাষ্ট্রায়ত্ত বেশির ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানে

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠান লোকসান দিয়েছে।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
প্রিজন ভ্যান থেকে যেভাবে পালালেন ‘পিচ্চি রাজা’
প্রিজন ভ্যান থেকে যেভাবে পালালেন ‘পিচ্চি রাজা’

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে রাজা ওরফে পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে

অক্টোবর ৬, ২০২৬
বাক্‌প্রতিবন্ধী ছেলেকে বেত দিয়ে ঝাড়ফুঁকের পর মৃত্যু, বাবা আটক
বাক্‌প্রতিবন্ধী ছেলেকে বেত দিয়ে ঝাড়ফুঁকের পর মৃত্যু, বাবা আটক

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা নুর মোহাম্মদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়ায় ধারণক্ষমতার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বন্দী বাংলাদেশের কারাগারে
দক্ষিণ এশিয়ায় ধারণক্ষমতার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বন্দী বাংলাদেশের কারাগারে

সারা বিশ্বের হিসাবে ধারণক্ষমতার সবচেয়ে বেশি বন্দী রয়েছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে, ৬১৭ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম নাউরুতে।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা–মেয়েকে মারধর, তিন দিন পর মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা–মেয়েকে মারধর, তিন দিন পর মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নীলা খাতুন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধুলন্ডা গ্রামের লিটন শেখের মেয়ে। সে উপজেলার মাগুরা আইডিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ত। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ধুলন্ডা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন