bangladesh

প্রার্থনা আর পুষ্পাঞ্জলিতে মহাসপ্তমী

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
প্রার্থনা আর পুষ্পাঞ্জলিতে মহাসপ্তমী
প্রার্থনা আর পুষ্পাঞ্জলিতে মহাসপ্তমী
<p>ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে মুখর রাজধানীর শ্রীশ্রী রমনা কালীমন্দির প্রাঙ্গণ। আজ শনিবার সকালে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে অনুষ্ঠিত হয় নানা ধর্মীয় আচার। দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন, পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। উৎসবের আমেজে দেবীর আরাধনায় মগ্ন নানা বয়সী ভক্ত।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/vywubez0/Durga-pujaTanvir17102601.jpg"><figcaption>মহাসপ্তমীর সকালে শ্রীশ্রী রমনা কালীমন্দিরে পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুরোহিত</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/p8wtf1oj/Durga-pujaTanvir17102602.jpg"><figcaption>ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চলছে মহাসপ্তমীর পূজা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/y6msv7fg/Durga-pujaTanvir17102603.jpg"><figcaption>মণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্তিভরে পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়েছেন ভক্তরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/4oqgwtzq/Durga-pujaTanvir17102604.jpg"><figcaption>দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/uk2v6upd/Durga-pujaTanvir17102605.jpg"><figcaption>করজোড়ে ভক্তিভরে দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন ভক্তরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/7mczyha3/Durga-pujaTanvir17102606.jpg"><figcaption>পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন শেষে দেবীর আরাধনায় মগ্ন ভক্তরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/foun0j71/Durga-pujaTanvir17102607.jpg"><figcaption>ধূপের ধোঁয়া আর মন্ত্রোচ্চারণে চলছে দেবী আরাধনা। দেবী দুর্গার বেদির সামনে আরতি করছেন পুরোহিত</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/zyxtutcw/Durga-pujaTanvir17102608.jpg"><figcaption>আরতি শেষে মঙ্গলপ্রদীপের শিখা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন ভক্তরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/thbvosgl/Durga-pujaTanvir17102609.jpg"><figcaption>মহাসপ্তমীর পূজাকে কেন্দ্র করে রমনা কালীমন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস</figcaption></figure>

Prothomalo

View more
প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার
প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার

শামীমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
নাম বদলানোতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, রানার্সআপ ট্রাম্প
নাম বদলানোতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, রানার্সআপ ট্রাম্প

আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি নিয়ে খুব কমই লেখালেখি হয়েছে।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
‘বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে দেখি, রিসোর্টটি দাউ দাউ করে জ্বলছে’
‘বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে দেখি, রিসোর্টটি দাউ দাউ করে জ্বলছে’

আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে রিসোর্টের ভেতরে থাকা পর্যটকদের কান্নাকাটি ও ছোটাছুটি দেখতে পেলেও তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
প্রার্থনা আর পুষ্পাঞ্জলিতে মহাসপ্তমী
প্রার্থনা আর পুষ্পাঞ্জলিতে মহাসপ্তমী

<p>ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে মুখর রাজধানীর শ্রীশ্রী রমনা কালীমন্দির প্রাঙ্গণ। আজ শনিবার সকালে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে অনুষ্ঠিত হয় নানা ধর্মীয় আচার। দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন, পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। উৎসবের আমেজে দেবীর আরাধনায় মগ্ন নানা বয়সী ভক্ত।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/vywubez0/Durga-pujaTanvir17102601.jpg"><figcaption>মহাসপ্তমীর সকালে শ্রীশ্রী রমনা কালীমন্দিরে পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুরোহিত</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/p8wtf1oj/Durga-pujaTanvir17102602.jpg"><figcaption>ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চলছে মহাসপ্তমীর পূজা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/y6msv7fg/Durga-pujaTanvir17102603.jpg"><figcaption>মণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্তিভরে পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়েছেন ভক্তরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/4oqgwtzq/Durga-pujaTanvir17102604.jpg"><figcaption>দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/uk2v6upd/Durga-pujaTanvir17102605.jpg"><figcaption>করজোড়ে ভক্তিভরে দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন ভক্তরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/7mczyha3/Durga-pujaTanvir17102606.jpg"><figcaption>পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন শেষে দেবীর আরাধনায় মগ্ন ভক্তরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/foun0j71/Durga-pujaTanvir17102607.jpg"><figcaption>ধূপের ধোঁয়া আর মন্ত্রোচ্চারণে চলছে দেবী আরাধনা। দেবী দুর্গার বেদির সামনে আরতি করছেন পুরোহিত</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/zyxtutcw/Durga-pujaTanvir17102608.jpg"><figcaption>আরতি শেষে মঙ্গলপ্রদীপের শিখা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন ভক্তরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/thbvosgl/Durga-pujaTanvir17102609.jpg"><figcaption>মহাসপ্তমীর পূজাকে কেন্দ্র করে রমনা কালীমন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস</figcaption></figure>

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
জানালা ভেঙে স্ত্রীকে বের করেন ইসমাইল, নিজেও লাফ দেন
জানালা ভেঙে স্ত্রীকে বের করেন ইসমাইল, নিজেও লাফ দেন

কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় জানালা ভেঙে স্ত্রীকে বাঁচালেন স্বামী। পরে তিনি নিজেও লাফ দেন। আহত অবস্থায় তাঁদের ঢাকায় আনা হয়েছে।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

শুক্রবার এক শিক্ষার্থী ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। এরপর সালিস বসে।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
দু–তিন দিনের মধ্যে অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র
দু–তিন দিনের মধ্যে অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র

এ ঘটনায় প্রথমে প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন কিশোর।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
লালনের গোষ্ঠগানে গোপাল প্রেম ও বিচ্ছেদ বন্দনা
লালনের গোষ্ঠগানে গোপাল প্রেম ও বিচ্ছেদ বন্দনা

<p>রাধা-গোবিন্দ শব্দবন্ধের মতনই গোপাল-যশোদা শব্দবন্ধটিও কৃষ্ণ–ভক্তদের কাছে অতি প্রিয়, সুমধুর, মিষ্টি। রাধা-গোবিন্দর প্রেমের মাঝে জীবাত্মা আর পরমাত্মা একাকার হয়ে যায়। ভগবান এবং ভক্তের মাঝের সীমারেখা তখন লীন-বিলীন হয়ে পড়ে। ঈশ্বরের সঙ্গে ভক্তের সম্পর্ক কেমন হবে তার সর্বোচ্চ ধাপ এই প্রেমময় স্তরটি। স্বয়ং ঈশ্বর মনুষ্যরূপ ধারণ করে ভক্তের চরণ স্পর্শ করতে চাইলে, ভক্ত বুঝতে পারে না এর তুল্য তপস্যা সে কি করেছে এই জনমে কিংবা আর জনমে? চণ্ডীদাসের পদে রাঁধার মনের এভাবে ধরা দেয়:<br> ‘এ কথা কহিবে সই এ কথা কহিবে,<br> অবলা এমন তপঃ করিয়াছে কবে?<br> পুরুষ-পরশমণি নন্দের কুমার,<br> কী ধন লাগিয়া ধরে চরণে আমার।’<br> — চণ্ডীদাস</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/4yslvqhi/%E0%A7%A7.jpeg"><figcaption>জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৯ শিলাইদহে লালনের এই স্কেচটি এঁকেছিলেন</figcaption></figure><h3>পঞ্চরসের হাঁড়ি ফুঁড়ে মোক্ষলাভ</h3><p>বৈষ্ণব দর্শনে যে পাঁচটি রসের উল্লেখ আমরা পাই, সেটা ধাপে ধাপে ঈশ্বরকে পাবার রাস্তা বাতলে দেয়। এই রাস্তার সর্বশেষ বা চূড়ান্ত গন্তব্য হলো এই প্রেমের স্তর, বড় মধুর বড় মায়াময় এ রূপ। জীবাত্মা-পরমাত্মার মহামিলনের এই মাধুর্য রসই জীবনে মোক্ষ এনে দেয়। ভগবান যে কেবল প্রেমিক হয়েই ধরা দেন তা নয়, তিনি নানারূপে ভক্তের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আসেন। মাধুর্যরসের এক–দুই ধাপ নিচে নামলে পাওয়া যায় চতুর্থরস, বাল্যলীলা বা বাৎসল্য রস এবং তৃতীয় রস সখ্যরস। এই বিশেষ দুই রস আস্বাদনের নিমিত্ত আজকের এই লেখাটি, যার মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণে-লীলার গুহ্য অর্থ প্রকাশ করে এক মায়াময় ঘোর সৃজিত হয়। গোপাল-যশোদার সম্পর্ক, মান–অভিমান পর্ব, সর্বোপরি মায়ের অপত্যস্নেহে ঈশ্বরের বেড়ে ওঠার পর্বটি কেমন তা নির্ণয় করার পাশাপাশি সখা গোপালের বন্ধুদের সঙ্গে ভাগে–যোগে আহার-বিহারের আলাপ উঠে এসেছে আজকের এই সংক্ষিপ্ত ভাষণে। বালকদের সাথে গরু (ধেনু) চরাতে গিয়ে শিশুসুলভ খেলা—লীলা, লুকালুকি, কাঁধে চড়া, ঝগড়াঝাঁটির সূত্র ধরে মাকে নালিশ করার মধ্য দিয়ে যে কেবল তাঁর বালখিল্য প্রকাশ পেয়েছে তা নয় গৌড় নিতাই হয়ে লালন সাঁইয়ের গোষ্ঠ সংগীতের যে পরম্পরা, তার সুতা ধরে আলাপ চালাতে চালাতে বোঝা যাবে অতি সাধারণের ভেতর দিয়েই ঈশ্বর ধরাধামে প্রকাশিত হন। বৈষ্ণব দর্শনের পঞ্চরস অমোঘ হয়ে ধরা দিয়েছে এই লেখায়। তাই নদীয়া ঢুকে পড়েছে পাশাপাশি বৃন্দাবনকেও রাখা হয়েছে—নইলে পুরোটা আসে না।</p><p>অর্থাৎ লেখার মূল বিষয় গোপাল-যশোদা অর্থাৎ কিনা ঈশ্বর-জীবের মধ্যে পাল্য-পালক সম্বন্ধ আর বলাই, শ্রীদাম, সুবল প্রভৃতি বাল্যসখাদের সঙ্গে প্রভুর মিলন পর্ব।</p><p>গোষ্ঠগানের তালে তালে আলোচনা বেগ পেয়েছে। এতে দৃশ্যকল্প তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে পাঠকের ঘটনা পরম্পরা বুঝতে সহায়ক হবে, আবার লেখাটি সুখপাঠ্যও হবে। গোষ্ঠ গানগুলো গড়ে উঠেছে গোপালের যে বিশেষ পর্ব নিয়ে, সেখানে বাৎসল্য রস আর সখ্যরস মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। পঞ্চরসের দুটি রস যথাক্রমে শান্ত এবং দাস্য—এগুলো অতিক্রান্ত হয়ে ক্রমে ভক্ত উভয়ই সখ্য, বাৎসল্য এবং মাধুর্য—এই তিনটি রসের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে ঈশ্বরের আরও নিকটবর্তী হতে থাকে। এবং ভক্ত ক্রমে ক্রমে সখারূপে, মাতৃরূপে, প্রেমিকারূপে উপলব্ধি করতে থাকি ঈশ্বর সখার মতন দস্যিপনা, শিশুর মতন অসহায়ত্ব কিংবা প্রেম-পিপাসায় কতটা ব্যাকুল হয়ে থাকেন। স্বয়ং ঈশ্বর ভক্তকে আরও কাছে পাবার নেশায় মাতৃক্রোড়ে শিশুরূপে ধরা দেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/mnqhjzjw/%E0%A7%A8.jpeg"><figcaption>যামিনী রায়ের আঁকা মা যশোদার কোলে গোপাল</figcaption></figure><h3>‘গোষ্ঠে চল রে ও নীলমণি’</h3><p>বাউল সাধনায় গোষ্ঠগান গুরুত্বপূর্ণ অংশ, রিচুয়াল। গোষ্ঠ সংগীত দিয়েই আসলে দিনের সূচনা করেন বাউলরা। সূর্য উদিত হবার আগেই, খানিক আলো–আঁধারিতে পূর্ব দিগন্ত রেঙে ওঠে, সে বেলার নামই গোষ্ঠবেলা। তখন এপার বাংলার সাধুরা সফেদ পোশাকে পরম ভক্তিভরে গোষ্ঠ গান করেন। গরু বা গোধন চরাতে গিয়ে গোপালের কষ্ট কিংবা যশোদার সঙ্গে গোপালের সাময়িক বিচ্ছেদ, উৎকণ্ঠা এবং গোপালকে হারিয়ে রাখালবালকদের শঙ্কা, উদ্বেগ কিংবা বিরহ তাদের গলায় সমগ্র চরাচরজুড়ে স্নিগ্ধ কিন্তু সর্বব্যাপী হয়ে ওঠে।</p><p>এই সকল গোষ্ঠগানের রচয়িতা লালনের সঙ্গে গোপালের যেন কিছুটা মিলও রয়েছে। লালন নিজেও গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়ে নদীতে ভেসে এসে মাতা মতিজানের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠেন। ওদিকে কংসমামার চক্রান্তে শ্রীকৃষ্ণ জন্মদাত্রী মাকে ছেড়ে গোকুলে বেড়ে ওঠেন।</p><p>গোষ্ঠ অর্থাৎ রাখালবালকেরা বাড়ি-শস্যজমি পেরিয়ে যে তৃণভূমিতে যান গোচারণে—গোষ্ঠ মূলত তা-ই। আর গোষ্ঠ যিনি রক্ষা করেন, সেই গোপাল। তাই রাখালবালকেরা চান স্বয়ং কৃষ্ণ তাঁদের সঙ্গ করুন। বড় কোনো বিপদে তিনিই তাঁদের ত্রাতা হবেন।<br>‘লয়ে গোধন গোষ্ঠের কানন<br>চল গোকুল বিহারী<br>গোষ্ঠে চল হরি মুরারী<br>তুই আমাদের সঙ্গে যাবি<br>বনফল সব খেতে পাবি<br>আমরা ম’লে তুই বাঁচাবি<br>তাই তোরে সঙ্গে করি’<br>— লালন ফকির<br>রাখালবালক শ্রীদাম, সুবল, বলাই গোপালকে বনফল পেড়ে, সংগ্রহ করে খাওয়াবে, কথা দেয়। তারা কৃষ্ণকে চরণে নূপুর পরে, মোহন চূড়া বেঁধে, বাঁশি নিয়ে প্রস্তুত হতে বলে।<br>কিন্তু কৃষ্ণকে একই সঙ্গে সখা এবং ঈশ্বর রূপে তারা কি চিনে নিতে পারবে?</p><blockquote>গোষ্ঠগানের তালে তালে আলোচনা বেগ পেয়েছে। এতে দৃশ্যকল্প তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে পাঠকের ঘটনা পরম্পরা বুঝতে সহায়ক হবে, আবার লেখাটি সুখপাঠ্যও হবে। গোষ্ঠ গানগুলো গড়ে উঠেছে গোপালের যে বিশেষ পর্ব নিয়ে, সেখানে বাৎসল্য রস আর সখ্যরস মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।</blockquote><h3>‘আজকের মত তোরাই যা রে, গোপাল যাবে না’</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/doobd7aw/%E0%A7%A9.jpeg"><figcaption>কালিয়া নাগ দমনের ছবি। যামিনী রায়ের আঁকা</figcaption></figure><p>শিশু গোপাল গোষ্ঠ সাঙ্গ হলে ঘরে ফেরে। মায়ের চোখে ক্ষুধায় আকুল, ক্লান্ত গোপাল ধরা পড়ে। ভক্ত ঈশ্বরসাধনায় ব্যাপৃত হবেন, এমনধারা চিন্তাই তো আমরা করি। ঈশ্বর তিনি তো উপাস্য, পরম আরাধ্য। কিন্তু মা যশোদার কাছে এসে ঈশ্বর শিশু, যিনি জগতের পালনকর্তা, তিনি নিজেই এখানে পাল্য-পোষ্য। এখানে এসে তাই ঈশ্বর এবং জীবের মধ্যকার স্বাভাবিক সম্পর্কের কাঠামো ধসে পড়ে। মায়ের মমতারসের ধারায় শিশু যখন অবগাহন করে, তাতে কেবল সন্তানই নয়&lt;bha&gt;;&lt;/bha&gt; বরং মাতাও পরম সুখলাভ করেন। শিশুকে নাওয়ানো–খাওয়ানো, গান গেয়ে ঘুম পাড়ানো, গায়ে জামা পরানো, চুল বাঁধা কি কপালে নজরফোঁটা পরানো ইত্যাকার নানা কাজের ভেতর দিয়ে পরমানন্দ লাভ করেন মমতা, বিশ্বাস, সেবা এবং নিষ্ঠা—এই চারটি বৈশিষ্ট্য দিয়ে। মায়ের এই সেবানিষ্ঠায় যেন কোনো ক্লান্তি নেই। সারা দিন শত কাজের ভিড়েও পুত্রের কথা মা বিস্মরণ হন না। রাতের বেলা চোখে যতই ক্লান্তি নামুক, সন্তানের নিশ্বাসের শব্দটিও যেন ঘুমের অতল থেকে মায়ের কর্ণগোচর থাকে।<br>অনাদির আদি শ্রীকৃষ্ণনিধি<br>তার কি আছে কভু গোষ্ঠ খেলা<br>ব্রহ্মরূপে সে অটলে বসে<br>লীলাকারী তার অংশকলা<br>………..<br>জন্ম–মৃত্যু যার নাই ভবের পর<br>সে তো নয় স্বয়ং কভু নন্দলালা<br>—লালন ফকির<br>গোপালই ঈশ্বর, যখন তিনি নিতান্ত দুগ্ধপোষ্য শিশু পুতনা রাক্ষুষি বধ করেন। কালিয়ানাগ দমনকারী কৃষ্ণ সাধারণ বালক হয়ে মাতা যশোদার ক্রোড়ে আশ্রয় নেন। ওদিকে মাতা গোপালের মাঝে ঈশ্বর রূপ বিস্মৃত হন। এই ঐশীভাব সম্পর্কে সচেতন থাকলে, বিস্মৃতি না ঘটলে ঈশ্বর দুরতিক্রম্য হয়ে ওঠে। দুষ্টের দমন করতে যার আবির্ভাব তার পায়ে কাঁটা ফুটল কি না, সে চিন্তায় মা আকুল হয়ে ওঠেন। গোপালকে রাখালবালকদের সঙ্গে গোষ্ঠে পাঠিয়ে শঙ্কিত থাকেন মা, পাছে শিশু গোপাল হারিয়ে যায় নাকি কষ্ট পায় ক্ষুধার জ্বালায়। গোপাল নিজেও তার দুর্বলতার কথা, কষ্টের কথা, রাখালবালকদের সঙ্গে হেরে গিয়ে শাস্তি পাবার কথা কেঁদে কেঁদে বললে মায়ের প্রাণ আরও আকুল হয়ে ওঠে। এমনভাবে মাকে গোপাল কাণ্ডজ্ঞানহীন করে তুলতে চান, বাৎসল্য রস ভক্তকে একটি বিশেষ দশায় উপনীত করে রাখে। না হলে যিনি স্বয়ং ঈশ্বর, তাঁকে ননি চুরির দায়ে যশোদা বেঁধে রাখতে পারতেন না। একই ঘটনা ঘটে রাখাল বন্ধু, ভ্রাতাদের সনে। তাঁরাও কানাইয়ের সঙ্গে খেলায় মত্ত হয়ে এঁটো খাইয়ে মিঠা সুখলাভ করেন।<br>‘বলাই দাদা দয়া নাই প্রাণে<br>গোষ্ঠে আর যাব না, মাগো<br>দাদা বলাইয়ের সনে<br>বড় বড় রাখাল যারা<br>বসে বসে থাকে তারা<br>আমায় করে জিন্দা মরা<br>…..<br>ক্ষুধাতে প্রাণ আকুল হয় মা<br>ধেনু রাখার বল থাকে না<br>বলাই দাদা বোল বোঝে না<br>কথা কয় হেনে’<br>—লালন ফকির</p><blockquote>শিশু গোপাল গোষ্ঠ সাঙ্গ হলে ঘরে ফেরে। মায়ের চোখে ক্ষুধায় আকুল, ক্লান্ত গোপাল ধরা পড়ে। ভক্ত ঈশ্বরসাধনায় ব্যাপৃত হবেন, এমনধারা চিন্তাই তো আমরা করি। ঈশ্বর তিনি তো উপাস্য, পরম আরাধ্য। কিন্তু মা যশোদার কাছে এসে ঈশ্বর শিশু, যিনি জগতের পালনকর্তা, তিনি নিজেই এখানে পাল্য-পোষ্য।</blockquote><h3>বল রে বলাই তোদের ধরম কেমন হা রে</h3><p>গোপালের এমন ক্রন্দনে মা যশোদা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেন না। তিনি রাখাল বালকদের প্রশ্ন করেন, তাদের কি কাণ্ডজ্ঞান বলে কিছু নেই, যাঁকে তাঁরা ঈশ্বর জানেন, তাঁকে কী করে এঁটো খাওয়ায়। গোপাল ছোট বলে খেলায় হেরে যায়, শাস্তিস্বরূপ বড় রাখালেরা তখন কাঁধে চড়ে বসে।<br>বলরে বলাই তোদের ধর্ম<br>ধর্ম তোদের কেমনি হা রে<br>তোরা বলিস চিরকাল<br>রাখাল ঈশ্বর, তবে<br>গোপালকে মানিস কৈরে<br>বনে যেয়ে বনফল পাও<br>এঁটো করে গোপালকে দাও<br>….<br>….<br>তোরা ঈশ্বর বলিস যার<br>স্কন্ধে চড়িস তার<br>কোন বিচারে<br>—লালন ফকির<br>আসলে কাণ্ডজ্ঞান এখানে কেবল যে সখাদেরই নেই, তা নয়। মা যশোদারও নেই। কেননা ঈশ্বর এখানে রইতে চান সাধারণ রাখালবালক হয়ে। ঐশীভাব সুপ্ত না রাখলে কিংবা ভক্ত ঈশ্বরগুণে সচেতন হয়ে উঠলে তার সঙ্গে সখ্য করা যায় না, সন্তানরূপে লালন করা যায় না। যশোদার প্রশ্নের জবাবে রাখালরা বলেন, সখা গোপালের জন্য তাদের মনের যে ভাব, সে ভাব অব্যক্ত রয়ে যায় অস্ফুট থেকে যায়। এ ভাব বলে বোঝানোর নয়। তাঁরা বলেন গোপালের সঙ্গ, তার বাল্যক্রীড়া বড় মিঠা। তার বন্ধুত্ব পাওয়ার বাসনায় পাপ-পুণ্যবোধও লোপ পেয়ে যায়। তাদের স্বীয় কর্মে তাদের দোষ কোথায়? গোপাল যে ভাবের দশায় তাদের উপনীত করে, তারা সেই ভাবের দশায় অঘোর থাকেন।<br>‘কান্ধে চড়ায় কান্ধে চড়ি<br>যে ভাব ধরায় সে ভাব ধরি<br>এসবই বাসনা তারি<br>বুঝেছি পূর্বে<br>মিঠার জন্যে এঁটো দিই মা<br>পাপ-পুণ্যের জ্ঞান থাকে না<br>গোপাল খেলে হই সান্ত্বনা<br>পাপ পুণ্য কে ভাবে’<br>— লালন ফকির</p><blockquote>কৃষ্ণ গুপ্ত বৃন্দাবনে গেলে, রাখালবালকেরা বিপদে পড়ে যান। একে প্রিয় সখা, তার ওপর মা যশোদার বারংবার সতর্কবচনের পর এমন কাণ্ড। কী জবাব দেবে বলাই? রোজ যে সময়ে বাড়ি ফেরে, সে সময় বয়ে যাচ্ছে তবু তারা কানাইকে খুঁজে পাচ্ছে না। তখন একে একে বলাইয়ের মনে পড়তে থাকে মা বারবার বলতেন, শ্বাপদসংকুল বনে ভয়ের কতশত কারণ।</blockquote><h3>‘বনে এসে হারালাম কানাই’</h3><p>কৃষ্ণ গুপ্ত বৃন্দাবনে গেলে, রাখালবালকেরা বিপদে পড়ে যান। একে প্রিয় সখা, তার ওপর মা যশোদার বারংবার সতর্কবচনের পর এমন কাণ্ড। কী জবাব দেবে বলাই? রোজ যে সময়ে বাড়ি ফেরে, সে সময় বয়ে যাচ্ছে তবু তারা কানাইকে খুঁজে পাচ্ছে না। তখন একে একে বলাইয়ের মনে পড়তে থাকে মা বারবার বলতেন, শ্বাপদসংকুল বনে ভয়ের কতশত কারণ। তার কেবলি মনে হয়, মা গোপালকে তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাই সে গোপালকে পেলেই বাড়ি চলে যেতে চায়। পরে কখনো আবার খেলা যাবে।<br>সকালে যাই ধেনু লয়ে<br>এই বনে ভয় আছে ভাই<br>মা আমায় দিয়েছে কয়ে<br>…<br>বলেছিল মা যশোদে<br>কানাই দিলাম বলাইয়ের হাতে<br>ভালমন্দ হলে তাতে<br>…<br>— লালন ফকির<br>এভাবে গোপাল সকল গোপ শিশুর সখা হয়ে সখ্যরসে নিজেকে এবং অন্য গোপবালকদের নিমজ্জিত করেন। এমনকি গোকুলে কৃষ্ণ যে কেবল যশোদাকেই মাতৃরূপে পেয়েছিল, তা নয়। ব্রহ্মা কৃষ্ণের সঙ্গে ঠাট্টাবশত একদিন সমস্ত গোপবালক এবং গো বৎস চুরি করে লুকিয়ে রাখেন। ব্রহ্মা মোটে দুই মুহূর্তকাল পরিমাণ এই কাজটি করেন কিন্তু ব্রহ্মার দুই মুহূর্তকাল পৃথিবীতে দুই বৎসরের সমান। এই দুই বৎসর গোপিনী মাতারা যেন সন্তানের শোকে মুহ্যমান না থাকেন, এমন জায়গা থেকে কৃষ্ণ গ্রামের সমস্ত মায়েদের সন্তান রূপে দীর্ঘ দুই বৎসর কাল অবধি প্রকাশিত হতে থাকেন। এবং গোপিনী মাতাদের সন্তানরূপে নিত্য মমতা, সেবা এবং শাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। এবং গোপিনীরা এই সময় সন্তানদের প্রতি স্বাভাবিক সময় যে বাৎসল্য অনুভব করেন, তার থেকেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে সন্তানরূপে পেয়ে তার থেকেও বেশি মমতা অনুভব করেন। এভাবে সব বালকের সঙ্গে সখারূপে, বালিকাদের সঙ্গে প্রেমিকরূপে এবং মাতাদের সঙ্গে সন্তানরূপে তিনি প্রকাশিত হন। একই সঙ্গে তিনি প্রেম এবং বিচ্ছেদের মাধ্যমে ভক্তদের চূড়ান্ত রসে নিমজ্জিত করেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/nqvo6n61/%E0%A7%AA.jpeg"><figcaption>সখাসমেত যামিনী রায় এঁকেছেন গোষ্ঠের ছবি</figcaption></figure><h3>‘অনাদির আদি শ্রীকৃষ্ণ নিধি’</h3><p>আমরা ঈশ্বরকে যতটা না আরাধনা করি, যতটা না কাছে চাই, ভক্তকে কাছে পেতে যেন ঈশ্বরের ব্যাকুলতা তার থেকেও বেশি। যিনি জগতের পালনকর্তা, তিনি উঁচু আসন থেকে ভক্তের প্রার্থনা শুনে কেবল অনুকম্পা বোধ করে তৃপ্ত হন না। বরং হৃদয় দিয়ে ভক্তের হৃদয়কে স্পর্শ করতে চান। সম্পর্কের ছোটত্ব–বড়ত্ব এমন সকল ব্যবধান ঘুচিয়ে, শিশুর অসহায়ত্ব নিয়ে, প্রেমিকের পাগলামিতে বন্ধুত্বের বাঁধনে ধরা দেন তিনি এ ধরাধামে। বাঁধা পড়তে চান, জীবাত্মার সঙ্গে মিলিত হতে চান আবেগের সকল সীমানা অতিক্রম করে। বৈষ্ণব দর্শনে তাই ঈশ্বর সদা সর্বদা জীবের মাঝেই বিরাজমান। ঈশ্বর তাঁর সন্তানের কাছে নানারূপে নানান লীলায় ধরা দেন। বলা যেতে পারে সকলের মাঝেই রয়েছে জীবাত্মা এবং পরমাত্মার সহাবস্থান। এই ভব রূপ সংসারে সন্তান, জীবনসঙ্গী কিম্বা সখা-বন্ধু-পরিজনের কাছে হৃদয়ের সমস্ত প্রেম দিয়েই জীবনের পরমানন্দ খুঁজে নিয়েই মুক্তির আনন্দ খুঁজে নিতে হবে।</p><p>একজন সাধারণ মানুষের জীবনে শ্রীকৃষ্ণের এই লীলার গুরুত্ব তবে কী! কেবল অসাধারণের জন্যই কি তার জীবন, প্রেম বা বাল্যক্রীড়া অনুধাবনযোগ্য! প্রতিটা মানুষের জীবনচক্রেই আদতে এই পঞ্চরসের গুরুত্ব রয়েছে। ব্যক্তি যদি শান্ত দশা কিংবা দাস্য দশায় নিজের মন এবং কর্মকে উপনীত করতে না পারে, তবে তার জন্য স্বাভাবিক নির্বিঘ্ন জীবন পাড়ি দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। আর এর পরের স্তরে সুখ এবং আনন্দলাভ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জীবনচক্রের ভিন্ন ভিন্ন স্তরে জীবন আকাঙ্ক্ষা ভিন্নতা পায়। ভিন্ন ভিন্ন সময় সে ভিন্ন ভিন্ন রূপে নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। কখনো বন্ধু, কখনো প্রেমী, কখনোবা সন্তানের কাছে ব্যক্তি নিজেকে নিবেদন করতে চায় নিঃশর্ত ভালোবাসা নিয়ে। বন্ধুত্ব উপভোগ করতে চায়, প্রেমীর চরণ স্পর্শ করতে চায় কিংবা ছোট্ট শিশুকে বুকে টেনে সস্নেহ বন্ধনে আটকে থাকতে চায়। আর এর অন্যথা হলে বিরহ-বিচ্ছেদে মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই ব্যাকুলতাও ব্যক্তিজীবনের আরেক অবিচ্ছেদ্য বা বলা যেতে পারে স্বাভাবিক অংশ।</p>

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের আরতিতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের আরতিতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

আজ শনিবার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় তাঁদের গান ও আরতির পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে কুমুদিনী প্রাঙ্গণ।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন