সাইবারজগত

পিএইচপি কী, এই ত্রুটিতে কী হয়?

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
পিএইচপি কী, এই ত্রুটিতে কী হয়?
পিএইচপি কী, এই ত্রুটিতে কী হয়?
<p>ওয়েবসাইট তৈরির বহুল ব্যবহৃত উন্মুক্ত প্রোগ্রামিং ভাষা হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর বা পিএইচপিতে দুটি মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান হ্যাড্রিয়ান একে ‘পিএইচপি২শেল’ নাম দিয়েছে। </p><p><strong>পিএইচপি কী?</strong></p><p>পিএইচপি তৈরি করেন রাসমুস লারড্রফ ১৯৯৪ সালে। ১৯৯৫ সালে এটি বাজারে আসে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত একটি সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ। ওয়ার্ডপ্রেসের মতো জনপ্রিয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট এই ভাষার ওপর নির্ভরশীল। উইকিপিডিয়া ও ফেসবুকের মতো শীর্ষ ওয়েবসাইটগুলোও পিএইচপি ব্যবহার করে থাকে।</p><p><strong>এই ত্রুটি কীভাবে কাজ করে</strong></p><p>পিএইচপির কোড রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অলাভজনক সংস্থা পিএইচপি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পিএইচপি কোডের মেমোরি ব্যবস্থাপনা এবং ত্রুটি শনাক্তকরণ অংশে এই দুর্বলতা ধরা পড়েছে এবং এগুলো যেকোনো ওয়েব অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণের মূল ভিত্তি। ফলে হ্যাকাররা সহজে মেমোরির তথ্য বিকৃত করে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) তথ্যমতে, এই ত্রুটির মাধ্যমে ডেটাবেজ ও ফাইলে সরাসরি প্রবেশ করে স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব।</p><p><strong>কীভাবে শনাক্ত হলো ত্রুটি </strong></p><p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোড অডিট ও গবেষক রায়ানের যৌথ প্রচেষ্টায় ত্রুটি দুটি শনাক্ত হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে পড়ায় যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র (এনসিএসসি) বিভিন্ন সংস্থাকে ৫০ হাজারের বেশি সতর্কবার্তা পাঠায়। আগাম তথ্য ফাঁস হওয়ায় প্যাচ প্রকাশের আগপর্যন্ত ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।</p><p><strong>কেন এত গুরুতর এই ত্রুটি</strong></p><p>নিরাপত্তা ত্রুটিটির সম্ভাব্য প্রভাবের ব্যাপ্তি নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে। পিএইচপির ওপর বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইট নির্ভরশীল হওয়ায় সমস্যাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। পিএইচপি ফাউন্ডেশন বলছে, নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে গিয়ে সফটওয়্যারের আগের সংস্করণের সঙ্গে সামঞ্জস্য নষ্ট হতে পারে, কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে কিংবা তৃতীয় পক্ষের তৈরি বিভিন্ন এক্সটেনশনে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো সচল রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। </p><p>l সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান</p>

Prothomalo

View more
দ্বিতীয়বার খোলা হলো লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স, কত টাকা পাওয়া গেল
দ্বিতীয়বার খোলা হলো লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স, কত টাকা পাওয়া গেল

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সিলগালা ভেঙে দানবাক্স খোলা হয়। লালন একাডেমি ভবনের চারতলায় তিন ঘণ্টা ধরে টাকা গণনা চলে।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
মাদক পরীক্ষা না করেই ৮৫ জনকে সাজা, উঠছে নানা প্রশ্ন
মাদক পরীক্ষা না করেই ৮৫ জনকে সাজা, উঠছে নানা প্রশ্ন

অভিযানে আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী। নারীদের ১৫ দিন করে কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পুরুষদের এক মাস করে কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
কিশোরীকে ‘চুমু’, রাস্তায় উলঙ্গ হাঁটানো হলো প্রেমিক, তাঁর বাবা ও বন্ধুকে
কিশোরীকে ‘চুমু’, রাস্তায় উলঙ্গ হাঁটানো হলো প্রেমিক, তাঁর বাবা ও বন্ধুকে

ঘটনাটি গত রোববারের। ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ কলকাতার জনবহুল বেহালা এলাকায়। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে নেটমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় বৃহস্পতিবার
হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় বৃহস্পতিবার

আসামিদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়ায় ছাত্র–জনতার ওপর হামলার নির্দেশদাতা, সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানালেন নাহিদ ইসলাম
পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানালেন নাহিদ ইসলাম

<p>পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা পড়া ও লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ২৬ অক্টোবর রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি নিন্দা জানান। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
মাও সে–তুংকে নিয়ে ‘রসিকতা’, চীনে বিপাকে এমবাপ্পে
মাও সে–তুংকে নিয়ে ‘রসিকতা’, চীনে বিপাকে এমবাপ্পে

<p>ফুটবল মাঠে তাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ চীনের লাখ লাখ মানুষ। ভালোবেসে একটা ডাকনামও দিয়েছেন তাঁরা, ‘গুইগুই’। বাংলায় যার অর্থ ‘কচ্ছপ’। জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র ‘টিনএজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলস’ নিয়ে তৈরি একটি মিম থেকেই কিলিয়ান এমবাপ্পের এই নাম।</p><p>সেই এমবাপ্পেই এখন চীনে বিতর্কের কেন্দ্রে। কারণ, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। সেখানে চীনের সাবেক নেতা মাও সে–তুংকে নিয়ে আপাতদৃষ্টিতে রসিকতা করতে দেখা গেছে ফরাসি তারকাকে। আর তাতেই চটেছে চীনারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দেশটির দুটি বড় প্রতিষ্ঠান এমবাপ্পের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/ra2medbpyy">এমবাপ্পে ১০, রাফিনিয়া ৮—রিয়াল–বার্সার কে কত নম্বর পেলেন</a></aside><p>আজ এমবাপ্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে চীনের পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ডংপেং ও দেশটির বৃহত্তম দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেংনিউ।</p><p>ডংপেং এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত করে, এমন যেকোনো আচরণের কঠোর বিরোধিতা করে আমাদের প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি হলো শূন্য সহনশীলতা।’ প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অবিলম্বে এমবাপ্পের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/rj8cez2w/752739-01-02.jpg"><figcaption> চীনের পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ডংপেং এর বোতলে এমবাপ্পের ছবি।</figcaption></figure><p><br>এ বছরের বিশ্বকাপের সময় চীনে ডংপেংয়ের বিজ্ঞাপনে নিয়মিত দেখা গেছে ২৭ বছর বয়সী ফ্রান্স অধিনায়ককে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি সেসব বিজ্ঞাপনে এমবাপ্পেকে ডংপেংয়ের স্পোর্টস ড্রিংক পান করতে দেখা যেত।</p><p>মেংনিউও একই পথে হেঁটেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অবিলম্বে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করছে আমাদের প্রতিষ্ঠান।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে, এমন যেকোনো কথা বা কাজের কঠোর বিরোধিতা করে মেংনিউ। এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি হলো শূন্য সহনশীলতা।’</p><p>কিন্তু কী এমন বলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড?</p><p>অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমবাপ্পেকে বলতে শোনা যায়, ইন্টারনেটে দেখা সবচেয়ে মজার মিমটি ছিল তাঁর মুখের ছবি অন্য একজনের মুখের ওপর বসিয়ে তৈরি করা। সেই ব্যক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘কোনো এক লোকের মুখে, আমার মনে হয় তিনি একজন চীনা স্বৈরশাসক।’<br>ধারণা করা হচ্ছে, এমবাপ্পে চীনের সাবেক নেতা মাও সে–তুংকে নিয়ে তৈরি একটি মিমের কথা বলেছেন। মাওয়ের ছবিতে এমবাপ্পের মুখ বসিয়ে তৈরি করা সেই মিম ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছিল। অবশ্য শুধু মাও নন, ইতিহাসের আরও কয়েকজন ব্যক্তির ছবিতে এমবাপ্পের মুখ বসিয়ে মিম তৈরি হয়েছে।<br>তবে ভিডিওটির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক বিভাগ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/mxutffjq/752725-01-02.jpg"><figcaption>বিশ্বকাপের সময় চীনে ডংপেংয়ের বিজ্ঞাপনে নিয়মিত দেখা গেছে ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পেকে।</figcaption></figure><p><br>চীনে মাও সে–তুংকে নিয়ে রসিকতা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। ১৯৭৬ সালে মারা যাওয়া এই নেতাকে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করাকে অসম্মানজনক মনে করে চীনারা। সামাজিকভাবেও বিষয়টি নিষিদ্ধপ্রায়।<br>স্বাভাবিকভাবেই এমবাপ্পের মন্তব্য নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে ‘ডংপেং বেভারেজ এমবাপ্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে’ শীর্ষক বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত হয়ে ওঠে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-09-08/0t2kjvr0/mao-0.jpg"><figcaption>মাও সে–তুং</figcaption></figure><p><br>ওয়েইবোর এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘অত্যন্ত গুরুতর ভুল মন্তব্য...সব সীমা অতিক্রম করেছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ অনেকে ডংপেংয়ের এনার্জি ড্রিংকের বোতল থেকেও এমবাপ্পের ছবি সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন।<br>চীনের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন ফুটবল সংবাদমাধ্যম ডংচিউদি সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানায়, এমবাপ্পের মন্তব্য ‘চীন ও চীনা জনগণের প্রতি অপমানজনক’ এবং এতে ‘চীনা ফুটবলপ্রেমী ও চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে’।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/dceu5978eb">ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইন</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
লুলার বিজয় ইউরোপের আন্দোলনে যে কারণে উদ্দীপনা ছড়াল
লুলার বিজয় ইউরোপের আন্দোলনে যে কারণে উদ্দীপনা ছড়াল

ফ্রান্স ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি। সেখানে বিক্ষোভের উত্তাপ বেশি হলেও দ্রুত সেটা বেলজিয়াম, ইতালি, জার্মানিতে ছড়িয়েছে।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন কাঠামোয় বাড়তি বেতন রোববার, অনেকের বেতন নির্ধারণে জটিলতা
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন কাঠামোয় বাড়তি বেতন রোববার, অনেকের বেতন নির্ধারণে জটিলতা

নতুন বেতনকাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডের ক্রমে অসংগতি দেখা দিয়েছে।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
কোরআনে সুরা তওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ নেই কেন
কোরআনে সুরা তওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ নেই কেন

<p>কোরআনের ১১৪টি সুরার মধ্যে ১১৩টি শুরু হয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে। ব্যতিক্রম শুধু সুরা তওবা। আল্লাহর কালামের প্রতিটি শব্দ যেখানে সযত্নে সংরক্ষিত, সেখানে একটি সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকার কারণ কী?</p><p>আলোচনা করা যাক।</p><h3>খলিফা ওসমানের বর্ণনা </h3><p>এ বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল খলিফা ওসমান ইবনে আফফানের বক্তব্য। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, সুরা আনফাল ও সুরা তওবার বিষয়বস্তু কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন দুটি সুরা পাশাপাশি রেখেছেন, অথচ মাঝখানে বিসমিল্লাহ লেখেননি?</p><p>প্রত্যুত্তরে ওসমান (রা.) কোরআন সংকলনের সময়কার পটভূমি তুলে ধরেন:</p><p>নবীজির কাছে কখনো পূর্ণ সুরা, কখনো একাধিক আয়াত অবতীর্ণ হতো। ওহি এলে তিনি ওহি লেখকদের ডেকে বলে দিতেন, কোন আয়াত কোন সুরার কোথায় বসবে। আনফাল ছিল মদিনায় অবতীর্ণ হওয়া প্রথম দিকের সুরাগুলোর একটি, আর তওবা ছিল শেষ দিকে নাজিল হওয়া অংশের অন্যতম।</p><p>দুই সুরার বিষয়বস্তুতেও মিল ছিল। কিন্তু রাসুল (সা.) ইন্তেকালের আগে তওবা আনফালেরই অংশ কি না, তা স্পষ্ট করে যাননি। তাই তিনি সুরা দুটিকে পাশাপাশি রাখলেন, মাঝখানে বিসমিল্লাহ লিখলেন না। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩০৮৬)</p><blockquote>সুরা তওবায় মুশরিকদের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ছিল। নবীজি আলীকে হজের মৌসুমে তা পাঠ করতে পাঠালে তিনিও তৎকালীন রীতি অনুযায়ী বিসমিল্লাহ পড়েননি।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/8qzx87ziuf">‘আমি কে’: সুরা আসরে মুমিনের পরিচয় গড়ার ৪ মূলনীতি</a></aside><h3>দুই সুরার সাদৃশ্য </h3><p>ওসমান (রা.) যে বিষয়গত মিলের কথা বলেছেন, দুই সুরা পাশাপাশি পড়লে তা কিছুটা বোঝা যায়। সুরা আনফালে আছে বদরের যুদ্ধ, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য এবং মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা।</p><p>সেখানে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, তাহলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ৪৬)</p><p>আর তওবার শুরুতে আছে মুশরিকদের সঙ্গে চুক্তির অবসান ও মুসলমানদের দায়িত্বের ঘোষণা। বলা হয়েছে, ‘মুশরিকদের মধ্যে যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে, এটি তাদের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে দায়মুক্তির ঘোষণা।’ (সুরা তওবা, আয়াত: ১)</p><p>দুই সুরাতেই ফুটে উঠেছে তৎকালীন মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতা।</p><h3>আরও কয়েকটি কারণ </h3><p>খলিফা ওসমানের উল্লিখিত বর্ণনা ছাড়াও তাফসিরের কিতাবে সুরা তওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকার আরও কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৩টি হলো—</p><p><strong>১. আরবদের রীতি:</strong> জাহেলি যুগে কোনো গোত্রের সঙ্গে চুক্তি ভাঙতে চাইলে আরবরা বিসমিল্লাহ ছাড়া চিঠি লিখত। সুরা তওবায় মুশরিকদের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ছিল। নবীজি আলীকে হজের মৌসুমে তা পাঠ করতে পাঠালে তিনিও তৎকালীন রীতি অনুযায়ী বিসমিল্লাহ পড়েননি।</p><p><strong>২. সাহাবিদের মতভেদ:</strong> খলিফা ওসমানের তত্ত্বাবধানে কোরআন লেখার সময় কেউ বলেছেন আনফাল ও তওবা একই সুরা, কেউ বলেছেন দুটি আলাদা সুরা। তাই মাঝখানে ফাঁকা রাখা হয়েছে (দুই সুরার মতের জন্য) এবং বিসমিল্লাহ লেখা হয়নি (এক সুরার মতের জন্য)।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/qu95n5ro8z">মক্কি ও মাদানি সুরা: কোরআন নাজিলের দুই মহিমান্বিত পর্যায়</a></aside><blockquote>বিসমিল্লাহতে আল্লাহর দুটি গুণবাচক নাম আছে, আর-রহমান ও আর-রহিম। তাই কারও মনে হতে পারে, সুরা তওবায় রহমত ও ক্ষমার স্থান নেই বলেই বিসমিল্লাহ বাদ পড়েছে।</blockquote><p><strong>৩. রহমত ও নিরাপত্তার সঙ্গে অসংগতি:</strong> ইবনে আব্বাসের এ–সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে আলী (রা.) বলেন, বিসমিল্লাহ হলো আমান (নিরাপত্তা), আর সুরা তওবা অবতীর্ণ হয়েছে তরবারি নিয়ে, এতে নিরাপত্তা নেই।</p><p>মুবাররাদ বলেছেন, বিসমিল্লাহ রহমত আর তওবা অবতীর্ণ হয়েছে ক্রোধ নিয়ে। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার মতে, বিসমিল্লাহ রহমত, রহমত মানে নিরাপত্তা, আর এ সুরা নাজিল হয়েছে মোনাফেকদের বিষয়ে যুদ্ধের বাণী নিয়ে, মোনাফেকদের জন্য নিরাপত্তা নেই। (ইমাম কুরতুবি, <em>আল-জামে লিআহকামিল কুরআন,</em> ১০/৯৩-৯৫, মুআসসাহ আর-রিসালাহ, বৈরুত, ২০০৬)</p><h3>সুরা তওবাতে কি রহমত নেই? </h3><p>বিসমিল্লাহতে আল্লাহর দুটি গুণবাচক নাম আছে, আর-রহমান ও আর-রহিম। তাই কারও মনে হতে পারে, সুরা তওবায় রহমত ও ক্ষমার স্থান নেই বলেই বিসমিল্লাহ বাদ পড়েছে।</p><p>কিন্তু সুরাটি পড়লে এ ধারণা পরিবর্তন হয়ে যাবে। তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার গুরুত্ব সুরাটির নানা স্থানে আলোচিত হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তার তওবা কবুল করবেন।’ (সুরা তওবা, আয়াত: ২৭)</p><p>অর্থাৎ কঠোর ঘোষণার পাশাপাশি এ সুরায় ক্ষমা ও তওবা কবুলের কথাও আছে।</p><p>সুরা তওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকা কোরআনের বিন্যাস ও সংকলন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি ওসমান (রা.)-এর বর্ণনা। কোরআনের প্রতিটি শব্দ ও বিন্যাস নিয়ে আলোচনায় আবেগ বা প্রচলিত ধারণার চেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।</p><ul><li><p><em><strong>ফয়জুল্লাহ রিয়াদ:</strong> শিক্ষক, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, ঢাকা</em></p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/o2b1zzj5e0">সংকটকালে নেতৃত্ব দিতে সুরা কাহাফের ৩ শিক্ষা</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”