প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যাঁকে চাই, তিনি আসবেন, আমরা হ্যাপি। আমাদের ধরে–বেঁধে আনতে হলো না।’
<p>বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকা শক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জাপানিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। বেলা একটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
<p>পাশাপাশি বসে আছেন দুই তরুণ–তরুণী। ছেলেটির পরনে হালকা রঙের শার্ট, চুল কিছুটা এলোমেলো। কালো পোশাকের মেয়েটির মুখে মৃদু হাসি। আজকের পরিচিত চেহারার সঙ্গে মিল খুঁজতে হয়তো একটু সময় লাগবে। তবে নাটকের নিয়মিত দর্শকেরা ভালো করে তাকালেই চিনে ফেলবেন। বলুন তো, ছবির এই দুজন কে?<br> তাঁরা অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব ও অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। ছবিটি শেয়ার করেছেন স্পর্শিয়া। আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর তৌসিফের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে ছবিটি সামনে রেখে ফিরে দেখা যাক তাঁর অভিনয়ে আসা, বন্ধুত্ব আর পর্দার বাইরের জীবনের কিছু গল্প।</p><p><strong>শুরুর দিনের সহযাত্রী</strong><br> তৌসিফ ও স্পর্শিয়ার বিনোদনজগতে পথচলা শুরু কাছাকাছি সময়ে। শুরুর দিকে ধারাবাহিক ও একক নাটকে একসঙ্গে অনেক কাজ করেছেন তাঁরা। সেই সূত্রে পর্দার বাইরেও গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। তবে স্পর্শিয়া দীর্ঘ সময় নাটক থেকে দূরে থাকায় তাঁদের একসঙ্গে কাজেও বিরতি পড়ে। পরে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’–এর পঞ্চম মৌসুমে আবার একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের। এ বছরের এপ্রিলে প্রায় এক দশক পর হাসিব হোসেন রাখির পরিচালনায় একটি একক নাটকেও জুটি বাঁধেন দুজন।</p><p>গত এপ্রিলে এক সাক্ষাৎকারে স্পর্শিয়া বলেছিলেন, ‘অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি।’ দীর্ঘ বিরতির পরও সহশিল্পী হিসেবে তাঁদের বোঝাপড়ায় সমস্যা হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে দুজন আরও পেশাদার হয়েছেন বলে মনে হয়েছে তাঁর। তৌসিফও জানিয়েছিলেন, পর্দার বাইরের বন্ধুত্বের কারণে স্পর্শিয়ার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো।<br>স্পর্শিয়ার শেয়ার করা ছবিটি সেই শুরুর দিনগুলোর কথাই মনে করিয়ে দেয়। তবে ছবিটি ঠিক কবে, কোথায় তোলা, তা জানা যায়নি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-30/5aqmgze5/733309642_868103576363335_5516883559975519110_n.jpg"><figcaption>অভিনয়শিল্পী বন্ধু তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে অর্চিতা স্পর্শিয়া</figcaption></figure><p><strong>এক নাটকেই আলোচনায়</strong><br>তৌসিফের পর্দায় পথচলার শুরু বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। পরে ২০১৩ সালে আদনান আল রাজীব পরিচালিত ‘অল টাইম দৌড়ের উপর’ নাটকে অভিনয় করে দর্শকের নজরে আসেন। তারুণ্যের গল্পের সেই কাজ তাঁর অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয়ে ওঠে। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রথম নাটকের পর দর্শকের কাছ থেকে বড় সাড়া পেয়েছিলেন তিনি। এরপর ‘ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম’, ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’, ‘কলিং বেল’, ‘বেসিক আলী’সহ নানা কাজে দেখা গেছে তাঁকে। বিজ্ঞাপন থেকে নাটকে এসে ধীরে ধীরে অভিনয়েই নিয়মিত হন তৌসিফ। নিজের ক্যারিয়ারের বাঁক বদলানো কাজের প্রসঙ্গে ‘আমি তোমার গল্প হব’ নাটকের কথাও বলেছেন তিনি। কাজটির পর নির্মাতাদের কাছ থেকে প্রস্তাব বেড়েছিল বলে জানিয়েছিলেন এই অভিনেতা।<br></p><blockquote>জন্মদিনে ফেসবুকে নিজের স্বপ্ন, প্রাপ্তি ও কৃতজ্ঞতার কথা লিখেছেন তৌসিফ। মঙ্গলবার দুপুরে কাছের এক বন্ধু তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, ‘তুমি যেন তোমার স্বপ্নের চেয়েও বড় হতে পারো।’ কথাটি তাঁকে ভাবিয়েছে, তাঁর স্বপ্নগুলো আসলে কী, স্বপ্নের চেয়েও বড় হওয়ার অর্থই–বা কী। সেই ভাবনা থেকে তৌসিফের উপলব্ধি, তিনি এখন যে জীবন যাপন করছেন, তেমন জীবনের স্বপ্ন হয়তো লাখো মানুষ দেখেন। আরও বড় হওয়ার দৌড়ে নিজের প্রাপ্তিগুলো ভুলে যেতে চান না তিনি। তাই নতুন কিছু চাওয়ার আগে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন—নিজের মতো হয়ে উঠতে পারা, মাটিতে পা রাখা এবং পরিবার, ভক্ত ও সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর সামর্থ্যের জন্য। সবার ভালোবাসা ও দোয়াও চেয়েছেন এই অভিনেতা।</blockquote><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-17/vqzni6r1/1000120604.jpg"><figcaption>তৌসিফ মাহবুব</figcaption></figure><p><strong>প্রেমের গল্প থেকে ভিন্ন চরিত্রে</strong><br>রোমান্টিক নাটকে পরিচিতি তৈরি হলেও তৌসিফ নিজেকে সেই গণ্ডিতে আটকে রাখেননি। ভিকি জাহেদ পরিচালিত ‘কাজলের দিনরাত্রি’, ‘দেয়াল’, ‘দ্য রিং’ ও ‘শব্দপ্রেম’–এ তাঁকে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা গেছে। বিশেষ করে ‘শব্দপ্রেম’–এর অন্তর্মুখী তরুণের চরিত্রটি তাঁর নিজের স্বভাবের চেয়ে আলাদা ছিল। বাস্তবে মিশুক হওয়ায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল।<br>কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এখন আগের চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছেন তৌসিফ। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, একসময় অনেক কাজ করার ব্যস্ততা ছিল। এখন কাজের সংখ্যা কমিয়ে প্রতিটি চরিত্রে বেশি সময় ও মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কতটি কাজ করলেন, তার চেয়ে চরিত্রটি তাঁকে কতটা নতুনভাবে তুলে ধরল, দর্শকের মনে কতটা জায়গা পেল—সে সবই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</p><p><strong>ওটিটিতে নতুন অধ্যায়</strong><br>নাটকের পাশাপাশি ওটিটিতেও কাজের পরিসর বাড়ছে তৌসিফের। ২০২৪ সালে ভিকি জাহেদ পরিচালিত ‘চক্র’ দিয়ে এই মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরে অভিনয় করেন ‘চক্র ২’–এ। একই নির্মাতার নতুন সিরিজ ‘প্রাণভোমরা’তেও যুক্ত হয়েছেন। আইস্ক্রিনের জন্য নির্মিতব্য এই সিরিজে তাঁর সহশিল্পী শ্রেয়সী শ্রেয়া। প্রেমের গল্পের সঙ্গে পুরাণনির্ভর রহস্যের সংমিশ্রণ থাকছে এতে।<br>ওয়েব চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তৌসিফ। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় তাঁকে দেখা যাবে পাইলটের চরিত্রে। এই কাজের শুটিংয়ে পাইলটের পোশাকে বিমানবন্দরে হাজির হয়ে কৌতূহলও তৈরি করেছিলেন তিনি। সম্পর্ক, ভালোবাসা ও আবেগের একাধিক গল্প পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও।</p><p><strong>অভিনয়ের আগে গানের দল</strong><br>অভিনেতা হওয়ার আগে গানের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৌসিফ। ‘ম্যানেজার’ নামের একটি ব্যান্ডে বেজ গিটার বাজাতেন। পাশাপাশি সামলাতেন দলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও। সংগীতের সেই জগৎ থেকে ক্যামেরার সামনে আসার পথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে আদনান আল রাজীবের সঙ্গে পরিচয়।<br>তবে অভিনয়ের শুরুটা সহজ ছিল না। মঞ্চে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল না, অভিনয়ের কৌশল সম্পর্কেও জানাশোনা ছিল সীমিত। সিনেমা দেখে অভিনয় শেখার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন তৌসিফ। কাজ করতে করতেই শিখেছেন চরিত্রের স্বভাব ও মানসিকতা ধারণ করার কৌশল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-25/ns76k6ia/038A2562.JPG"><figcaption>বাবার সঙ্গে তৌসিফ মাহবুব</figcaption></figure><p><strong>কাজের বাইরে পরিবার</strong><br>ব্যক্তিজীবনে ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জান্নাতুল ফেরদৌস জারাকে বিয়ে করেন তৌসিফ। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের দাম্পত্যের আট বছর পূর্ণ হয়েছে। বিয়ের আগে প্রায় সাড়ে তিন বছরের প্রেম ছিল তাঁদের। অভিনয়জীবনের নানা সিদ্ধান্তেও জারার পরামর্শ নেন তৌসিফ। কোন নাটকটি করা উচিত, কাজের প্রচার কীভাবে হতে পারে কিংবা ক্যারিয়ারের জন্য কোন সিদ্ধান্ত ভালো হবে—এসব নিয়ে দুজনের আলোচনা হয় বলে আগে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন তিনি।<br>সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারেও তৌসিফের কথায় উঠে এসেছে পরিবারের গুরুত্ব। শুটিং ও চিকিৎসার প্রয়োজনে থাইল্যান্ড সফরে স্ত্রীও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। অবসর পেলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি ঘরের ছোটখাটো দায়িত্বও পালন করেন তৌসিফ। তাঁর কাছে সেগুলো বাড়তি কোনো কাজ নয়; পরিবারের একজন হিসেবে স্বাভাবিক দায়িত্ব। ব্যস্ততার মধ্যে এই সাধারণ কাজগুলোই তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনে। তাঁর ভাষায়, ‘কারণ, দিন শেষে পরিবারই সব।’</p>
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ‘ক্যাপচার মোমেন্ট অন ক্যাম্পাস’। হাবিপ্রবি বন্ধুসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
যশোর বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষায় ২১৫১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে, খুলনা জেলায় সর্বাধিক ৫৪৪ জন পেয়েছে
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সিলগালা ভেঙে দানবাক্স খোলা হয়। লালন একাডেমি ভবনের চারতলায় তিন ঘণ্টা ধরে টাকা গণনা চলে।
অভিযানে আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী। নারীদের ১৫ দিন করে কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পুরুষদের এক মাস করে কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঘটনাটি গত রোববারের। ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ কলকাতার জনবহুল বেহালা এলাকায়। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে নেটমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”