মঙ্গলবার রাতে শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের বাসা থেকে জিয়াউল ও তাঁর ভাই এবং দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার বাসা থেকে মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
<p>ছিনতাইয়ের নতুন কৌশল ‘ইলেকট্রিক শক’ শিরোনামে ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু গণমাধ্যমও একই ধরনের শিরোনামে তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি প্রচার করছে। </p><p>কোথাও দাবি করা হচ্ছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের নতুন কৌশল হিসেবে ‘ইলেকট্রিক শক’ ব্যবহার করা হচ্ছে।</p><p>ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি যাচাই করে দেখা যায়, এটি কোনো বাস্তব ঘটনার দৃশ্য নয়। এমনকি এটি বাংলাদেশেরও কোনো দৃশ্য নয়। ভারতের ‘The Ghumakkad’ নামক ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সাজানো ভিডিওর একটি খণ্ডিত অংশকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।</p><p>লিংক: <a href="https://www.facebook.com/share/v/19TpQt3dEy/" target="_blank" rel="nofollow">এখানে</a></p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/e0dh9x4u/%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E2%80%93%E0%A7%A7.jpg"></figure> <p>ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কের পাশের ফুটপাতে পিঠে ব্যাগ নিয়ে এক যুবক কানে মোবাইল ফোন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় এক ভবঘুরে ছেলে পেছন থেকে এসে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। তবে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত যুবকটি তাকে পাত্তা দেন না। একপর্যায়ে ছেলেটি সুযোগ বুঝে যুবকের ঘাড়ে তরলজাতীয় কিছু ছিটিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর যুবকটি অস্বস্তি বোধ করতে থাকেন এবং বারবার ঘাড়ে হাত দেন। অস্বস্তি তীব্র হলে তিনি পাশের একটি মোটরসাইকেলের ওপর ব্যাগ রেখে পেছনে কী ঘটেছে, তা বোঝার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই ছেলেটি যুবকের ব্যাগ ও পকেটে থাকা মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়।</p><p>প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছিনতাইয়ের নতুন কৌশল ‘ইলেকট্রিক শক’ দাবিতে ভিডিওটি গণমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মসহ শুধু ফেসবুকেই ৭০টির বেশি পেজ ও প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখবার। ভিডিওটিতে প্রায় ২ লাখ প্রতিক্রিয়া পড়েছে এবং শেয়ার হয়েছে ৫৮ হাজার বার।</p><p>দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে অনলাইনে মূল ভিডিওটি পাওয়া যায়। ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিওটির শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘টাকা চাইতে আসা ভবঘুরে ছেলেটি যুবকের সঙ্গে যা করেছে, তা দেখে নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারবেন না!’</p><p>ভিডিওর নিচে ইংরেজিতে উল্লেখ রয়েছে যার অনুবাদ, ‘এটি কোনো বাস্তব ঘটনা নয়। এটি শুধু বিনোদন ও সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে।’ ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ভিডিওটির ট্যাগ করা শব্দগুলোর মধ্যেও ‘সচেতনতা’ শব্দটি রয়েছে।</p><p>‘The Ghumakkad’ ফেসবুক পেজ থেকে গত ৬ অক্টোবর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পেজটির ঠিকানা হিসেবে ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরের নাম উল্লেখ রয়েছে।</p><p>লিংক: <a href="https://www.facebook.com/GhumakkadJunaid" target="_blank" rel="nofollow">এখানে</a></p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-14/pohsv4k6/%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E2%80%93%E0%A7%A8.jpg"></figure><p>পেজটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, পথচারী ও যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারেন। এমন বিষয় নিয়ে সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করে পেজটি। জনপরিসর ও ব্যস্ত সড়কে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এ ধরনের আরও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।</p><p>‘The Ghumakkad’ নামের ভারতীয় পেজটির পরিচিতি অংশে বলা হয়েছে, ‘এই পেজের সব ভিডিওই চিত্রনাট্য অনুযায়ী তৈরি অথবা শুধু সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে। দয়া করে এগুলোকে বাস্তব ঘটনা মনে করবেন না বা অতিরিক্ত গুরুত্ব দেবেন না।’</p><p>অতএব, ‘ইলেকট্রিক শক দিয়ে ছিনতাই’ দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি একটি সাজানো ভিডিওর খণ্ডিত অংশ। এটিকে বাস্তব ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সত্য নয়।</p>
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ অপরাধ দমন করতে গেলে মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়, এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। অপরাধীদের দমনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
উইজডম এডুকেশন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজে পেতে সহায়তা করছে। তারা নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোর্স ও দেশে পড়াশোনার পরামর্শ দেয়।
<p>টাকার ঝনঝনানি, কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়াম আর গ্ল্যামারের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায় ইংলিশ ফুটবলের। কিন্তু সেই রঙিন পর্দার আড়ালে কতটা বিপজ্জনক এক খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলো, তা আরও একবার সামনে এল। ইংল্যান্ডের অধিকাংশ পেশাদার ফুটবল ক্লাব দাঁড়িয়ে আছে আর্থিক বিপর্যয়ের কিনারায়! মালিকেরা অর্থের জোগান বন্ধ করে দিলে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্লাব এক মাসও টিকতে পারবে না।</p><p>ইংল্যান্ডের নতুন স্বাধীন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার (আইএফআর) ‘স্টেট অব দ্য গেম’ নামে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইংল্যান্ডের শীর্ষ পাঁচ স্তরের ৯৪ শতাংশ ক্লাবই লোকসান করেছে।</p><p>অথচ গত মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলের মোট আয় ছিল ৯০০ কোটি পাউন্ড। মূলত প্রিমিয়ার লিগের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তার কারণেই এত বিপুল আয়। কিন্তু আয়ের এই পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে আর্থিক সংকটের গভীর খাদ।</p><aside><cite></cite>ইংলিশ ফুটবলে যে মাত্রার আর্থিক ঝুঁকি স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে, তা মোকাবিলায় আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।</aside> <p>প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সব ক্লাবই টিকে থাকতে মালিকদের অর্থের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্লাব জানিয়েছে, মালিকেরা হঠাৎ অর্থ দেওয়া বন্ধ করলে ৯০ দিনের বেশি টিকতে পারবে না তারা। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্লাবের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তাদের হাতে সময় থাকবে সর্বোচ্চ এক মাস।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-07-30/7whqep5w/955249480.webp"><figcaption>ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি</figcaption></figure><p><br>নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, ইংলিশ ফুটবল এখন ‘ঝুঁকিতে ঠাসা এক খেলা’। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নশিপ, লিগ ওয়ান ও লিগ টুর ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগের বিপুল অর্থের নাগাল পেতে সামর্থ্যের বাইরে খরচ করছে। তাতে বাড়ছে ঋণের বোঝা, তৈরি হচ্ছে অস্তিত্বের সংকট।</p><p>সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শেফিল্ড ওয়েনসডে, ডার্বি কাউন্টি, রিডিং ও উইগানের মতো ক্লাব আর্থিক সংকটে পড়েছে। ঋণের চাপে ২০১৯ সালে বিলুপ্ত হয়েছে বুরি, পরের বছর ম্যাকলসফিল্ড টাউন।<br>আইএফআরের চেয়ারম্যান ডেভিড কোগান ও প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মঙ্কস প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘ইংলিশ ফুটবলে যে মাত্রার আর্থিক ঝুঁকি স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে, তা মোকাবিলায় আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।’</p><p><br>২০২৭ সালের শুরুতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা। এর আগে প্রিমিয়ার লিগ ও ইংলিশ ফুটবল লিগকে (ইএফএল) রাজস্ব বণ্টনের নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সমঝোতা না হলে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।<br>প্রিমিয়ার লিগ অবশ্য আগামী ১০ বছরে নিম্নস্তরের ক্লাবগুলোকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। আলোচনা এখনো চলছে।<br>ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান টম গ্রেটরেক্স এই প্রতিবেদনকে ইংলিশ ফুটবলের জন্য ‘বিপৎসংকেত’বলেছেন। ব্রিটেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডির বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ‘এই ক্লাবগুলো সমর্থকদের। সমর্থকদের ছাড়া এগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।’</p>
যুক্তরাজ্যের নাগরিক বিলাল বলেন, কয়েক বছর আগে যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যা-ই করুক না কেন, হুতিরা কোনোভাবেই এ ঘটনাকে অন্যভাবে উপস্থাপন করতে পারে না।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালে হারষিত লাভানিয়া নামের ওই ব্যক্তি বিয়ে করেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে ছয় মাস ধরে তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা থাকছিলেন। তিনি একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে একা থাকতেন।
বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলল। ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিসের (ওয়ার্ল্ডশেফস) ন্যাশনাল মেম্বারশিপ পেয়েছে বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)
আইনজীবী সিফাত মাহমুদ বলেন, ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) যেসব তথ্য–উপাত্ত ও সাক্ষ্য হাজির করেছে, তা অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন