বরগুনায় অপহৃত কিশোরী গাইবান্ধা থেকে উদ্ধার, ফুপা গ্রেপ্তার
বরগুনার আমতলী থেকে অপহরণ করা কিশোরীকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)। এ ঘটনায় কিশোরীর ফুপা আমিরুল ইসলাম আমিরকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>মহাবিশ্বে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যার শক্তি পৃথিবীর কোনো পরীক্ষাগারে তৈরি করা সম্ভব নয়। দূর মহাকাশের এসব ভয়ংকর শক্তিশালী ঘটনা থেকে ছুটে আসে নানা ধরনের কণা। সেগুলোর কোনোটি পৃথিবীতে পৌঁছায়, কোনোটি মহাজাগতিক ধুলা ও চৌম্বকক্ষেত্রে আটকে যায়। এমনই এক রহস্যময় কণা নিউট্রিনো। এই কণাকে ধরার জন্য পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে বরফের নিচে তৈরি হয়েছে এক বিশাল টেলিস্কোপ। নাম আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। এই যন্ত্রের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা দূর মহাবিশ্ব থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করেছেন। আর সেই কাজের ভিত্তি গড়ে দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/vejokhtxzw">টেলিস্কোপের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া আইসকিউব অবজারভেটরি</a></aside><blockquote>নিউট্রিনো কণাকে ধরার জন্য পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে বরফের নিচে তৈরি হয়েছে এক বিশাল টেলিস্কোপ। নাম আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি।</blockquote><h2><strong>মহাবিশ্বের সবচেয়ে লাজুক কণা</strong></h2><p>নিউট্রিনো মহাবিশ্বের সবচেয়ে লাজুক কণাগুলোর একটি। এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই, ভরও প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে সাধারণ পদার্থের সঙ্গে এর মিথস্ক্রিয়া খুবই কম। প্রতি সেকেন্ডে সূর্য থেকে আসা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি নিউট্রিনো আপনার একটি নখের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। অথচ আপনি টেরই পাচ্ছেন না।</p><p>তবে এই লাজুক কণাগুলোই মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনাগুলোর খবর আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। কোথায় নক্ষত্র বিস্ফোরিত হচ্ছে, দূর মহাকাশের কোন সক্রিয় গ্যালাক্সিতে প্রচণ্ড শক্তির ঘটনা ঘটছে; এসবের সূত্র লুকিয়ে থাকতে পারে নিউট্রিনোর মধ্যে।</p><p>নিউট্রিনোকে বোঝার জন্য আগে ভাবুন, মহাকাশ থেকে ক্রমাগত অসংখ্য কণা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে। এদের সম্মিলিতভাবে বলা হয় মহাজাগতিক রশ্মি। সাধারণত এগুলো হয় প্রোটন। মহাকাশ থেকে আসা কিছু প্রোটনের শক্তি এত বেশি যে পৃথিবীর কোনো যন্ত্রের সাহায্যে এত শক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই প্রোটনগুলো এত শক্তি পায় কোথায়?</p><p>এটি মহাবিশ্বের দীর্ঘদিনের একটি বড় রহস্য। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম বলছে, যে ধরনের মহাজাগতিক প্রক্রিয়া প্রোটনকে এত বিপুল শক্তি দিতে পারে, একই প্রক্রিয়ায় উচ্চশক্তির নিউট্রিনোও তৈরি হওয়ার কথা। তাই উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারলে বিজ্ঞানীরা হয়তো বুঝতে পারবেন, মহাবিশ্বের কোথায় এসব অতি শক্তিশালী কণার জন্ম হচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/qx95omgznn">ভুবন ভরা নিউট্রিনো, ধরতে গেলে নাই</a></aside><blockquote>সাধারণ পদার্থের সঙ্গে নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়া খুবই কম। প্রতি সেকেন্ডে সূর্য থেকে আসা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি নিউট্রিনো আপনার একটি নখের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। অথচ আপনি টেরই পাচ্ছেন না।</blockquote><h2><strong>এত লাজুক কণা ধরা যাবে কীভাবে</strong></h2><p>সমস্যা হলো, নিউট্রিনো ধরা খুব কঠিন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্ষয় থেকে নিউট্রিনো তৈরি হয়। সূর্য থেকেও অসংখ্য নিউট্রিনো আসে। মহাজাগতিক রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করেও নিউট্রিনো তৈরি করে। ফলে কোনো একটি নিউট্রিনো শনাক্ত করলেই বলা যায় না, সেটি দূর মহাকাশ থেকে এসেছে।</p><p>তাহলে উপায়? বিজ্ঞানীদের খুঁজতে হবে অনেক বেশি শক্তির এমন নিউট্রিনো, যেগুলো পৃথিবীর আশপাশের কোনো উৎস থেকে আসার কথা নয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/sq2b2ztq/Francis_Halzen_nobel_laureate.webp"><figcaption>১৯৮০-এর দশকে ফ্রান্সিস হালজেন মহাজাগতিক কণা নিয়ে কাজ করছিলেন</figcaption></figure><p>সেগুলো হয়তো এসেছে অনেক দূরের কোনো ভয়ংকর মহাজাগতিক ঘটনা থেকে। হয়তো কোনো নক্ষত্র বিস্ফোরণ বা দূরবর্তী সক্রিয় গ্যালাক্সি থেকে।</p><p>১৯৮০-এর দশকে ফ্রান্সিস হালজেন মহাজাগতিক কণা নিয়ে কাজ করছিলেন। তখন তিনি জানতে পারলেন, সোভিয়েত গবেষকেরা অ্যান্টার্কটিকায় রেডিও রিসিভার ব্যবহার করে নিউট্রিনো ধরার পরিকল্পনা করছেন। নিউট্রিনো খুব কমই কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। কিন্তু যখন এমন ধাক্কা খায়, তখন একটি বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে। সেই স্ফুলিঙ্গ থেকে রেডিও তরঙ্গ তৈরি হলে অ্যান্টেনার সাহায্যে তা শনাক্ত করা সম্ভব।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/up59f05oxi">ভুতুড়ে কণা নিউট্রিনো</a></aside><blockquote>সূর্য থেকে অসংখ্য নিউট্রিনো আসে। মহাজাগতিক রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করে নিউট্রিনো তৈরি করে। ফলে কোনো একটি নিউট্রিনো শনাক্ত করলেই বলা যায় না, সেটি দূর মহাকাশ থেকে এসেছে।</blockquote><p>এই ধারণা হালজেনকে অনুপ্রাণিত করল। তাঁর মনে হলো, রেডিও তরঙ্গের বদলে বরফের ভেতর নিউট্রিনোর ধাক্কায় তৈরি আলো খুঁজে দেখা যায়। এর পেছনে ছিল আরও পুরোনো একটি ধারণা। ১৯৬০ সালের দিকে কয়েকজন পদার্থবিদ প্রস্তাব করেছিলেন, মহাকাশ থেকে আসা নিউট্রিনো ধরার জন্য পানি ভালো মাধ্যম হতে পারে। কারণ কোনো নিউট্রিনো যখন খুব বিরলভাবে কোনো পরমাণুর কেন্দ্রের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন একটি চার্জযুক্ত কণা তৈরি হয়। সেই কণা নিউট্রিনোর প্রায় একই দিকে ছুটতে থাকে এবং নীল আলো তৈরি করে। পানি স্বচ্ছ হওয়ায় সেই আলো শনাক্ত করা যায়। পানির পরিমাণ যত বেশি হবে, নিউট্রিনোর সঙ্গে পানির অণুর সংঘর্ষ থেকে তৈরি আলোও তত বেশি ধরা পড়বে। সেই আলোর গতিপথ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, নিউট্রিনোটি কোন দিক থেকে এসেছিল।</p><p>হালজেন ভাবলেন, পানি ব্যবহার না করে যদি প্রাকৃতিক বরফ ব্যবহার করা যায়? তিনি তাঁর সহকর্মী জন জি. লার্নেডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন। লার্নেড তখন DUMAND নামে একটি প্রকল্পে কাজ করছিলেন। সেটিও নিউট্রিনো শনাক্ত করার একটি প্রকল্প। এই প্রকল্প তখন ছিল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে। সেখানে একটি সমুদ্রের পানিতে নিউট্রিনোর সঙ্গে কণার সংঘর্ষ থেকে তৈরি আলোর সংকেত ধরার পরিকল্পনা ছিল লার্নেডের।</p><p>১৯৮৮ সালে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে হালজেন ও লার্নেড প্রথম দক্ষিণ মেরুর বরফে নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণকেন্দ্র তৈরির ধারণা প্রকাশ করেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/1xadcsoyps">নিউট্রিনো কণা শনাক্ত করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন</a></aside><blockquote>হালজেন তাঁর সহকর্মী জন জি. লার্নেডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন। লার্নেড তখন DUMAND নামে একটি প্রকল্পে কাজ করছিলেন। সেটিও নিউট্রিনো শনাক্ত করার একটি প্রকল্প।</blockquote><h2><strong>বরফের রাজ্যেই কেন যেত হলো</strong></h2><p>দক্ষিণ মেরুতে এমন একটি বিশাল গবেষণাগার বানানোর জন্য জায়গাটি বেছে নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু সুবিধা ছিল। প্রথমত, সেখানে আগে থেকেই একটি গবেষণাকেন্দ্র ছিল। ফলে গবেষকদের যাতায়াত, সরঞ্জাম পরিবহন এবং কাজের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কিছুটা তৈরি ছিল।</p><p>দ্বিতীয়ত, বরফের বেশ গভীরে গেলে চারদিকে প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধকার। সমুদ্রের পানির মতো সেখানে জীবন্ত প্রাণীর চলাচল নেই। তেজস্ক্রিয় পদার্থের পরিমাণও কম। কিন্তু বরফ তো স্থির। গবেষকদের কাজ করার জন্য শক্ত একটি জায়গাও পাওয়া যায়। এলাকাটিও ভূতাত্ত্বিকভাবেও স্থিতিশীল, মানে ভূমিকম্পের সমস্যা নেই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/icxqg2ec/3_big.png"></figure><p>অবশ্য সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। দক্ষিণ মেরুর প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বছরের বড় একটা সময় সেখানে যাওয়া-আসা প্রায় অসম্ভব। তাই যন্ত্রপাতি বসানোসহ বেশির ভাগ কাজ করতে হয় অ্যান্টার্কটিকার অল্প সময়ের গ্রীষ্মে; মানে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/5xf53kt3oi">বিগ ব্যাংয়ের পরে কিছু কণা কীভাবে টিকে গেল, সেই উত্তর দিতে পারে নিউট্রিনো</a></aside><blockquote>বরফের বেশ গভীরে গেলে চারদিকে প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধকার। সমুদ্রের পানির মতো সেখানে জীবন্ত প্রাণীর চলাচল নেই। তেজস্ক্রিয় পদার্থের পরিমাণও কম। কিন্তু বরফ তো স্থির।</blockquote><p>এবার প্রশ্ন হলো, এত গভীর বরফের নিচে আলো শনাক্ত করার যন্ত্র বসানো হবে কীভাবে? গবেষকেরা হিমবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে জানলেন, গরম পানি ব্যবহার করে বরফ গলিয়ে কয়েক কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত গর্ত করা সম্ভব। অনেকটা অত্যাধুনিক শাওয়ারের মতো একটি ব্যবস্থা করে গরম পানি ছিটিয়ে বরফ গলানো হয়। গর্ত তৈরি হলে তার ভেতর দিয়ে নামানো হয় লম্বা তার। সেই তারের সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্বে একের পর এক আলো শনাক্তকারী সেন্সর বসানো থাকে।</p><p>হালজেন এই সেন্সরগুলোকে মজা করে উল্টো বাল্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বাল্ব বিদ্যুৎ নিয়ে আলো তৈরি করে। আর এই যন্ত্র আলো ধরে সেটিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে পরিণত করে। তবে প্রথমে সবকিছু এত সহজ ছিল না।</p><p>গবেষকেরা গ্রিনল্যান্ডের বরফে পরীক্ষামূলকভাবে সেন্সর নামিয়ে দেখেছিলেন, বরফের ভেতর কণার সংঘর্ষ থেকে তৈরি আলো শনাক্ত করা যায় কি না। এরপর তাঁরা দক্ষিণ মেরুতে প্রথম নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণকেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু করেন। এর নাম দেওয়া হয় আমান্ডা (AMANDA)।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/32gqlgxubp">কৃষ্ণগহ্বর থেকে নিউট্রিনো</a></aside><blockquote>প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতার নিচের বরফ ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ। নিউট্রিনোর সংঘর্ষে তৈরি আলোর ঝলক শোষিত হওয়ার আগে সেখানে প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত চলতে পারত।</blockquote><h2><strong>বরফই যখন প্রধান বাধা</strong></h2><p>১৯৯৩ সালের বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় হালজেন কম্পিউটার কোলে নিয়ে বসেছিলেন। অপেক্ষা করছিলেন, কখন তাঁকে জানানো হবে যে প্রথম অপটিক্যাল মডিউলসহ তারটি বরফের নিচে ঠিকমতো বসানো হয়েছে। কিন্তু প্রথম ফলাফল হতাশাজনক ছিল। বরফের ওপরের অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র বুদ্বুদ ছিল। এগুলো আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। ফলে কণাগুলো কোন দিকে চলেছে, তার তথ্য ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল।</p><p>তবে গবেষকেরা যত গভীরে গেলেন, ততই সমস্যা কমতে লাগল। প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতার নিচের বরফ ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ। নিউট্রিনোর সংঘর্ষে তৈরি আলোর ঝলক শোষিত হওয়ার আগে সেখানে প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত চলতে পারত। বিজ্ঞানীরা যতটা আশা করেছিলেন, এটি তার চেয়েও অনেক বেশি।</p><p>এই প্রকল্পের আরেকটি লাভ হলো, বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গভীরতায় বরফের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/g8iugyalyr">ভুতুড়ে কণা নিউট্রিনো শনাক্ত</a></aside><blockquote>প্রথম ফলাফল হতাশাজনক ছিল। বরফের ওপরের অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র বুদ্বুদ ছিল। এগুলো আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। ফলে কণাগুলো কোন দিকে চলেছে, তার তথ্য ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল।</blockquote><p>আমান্ডা তৈরির কাজ চলতে থাকে ২০০০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। পর্যবেক্ষণকেন্দ্রটি ঠিকমতো কাজ করছিল। কিন্তু সমস্যা হলো, মহাজাগতিক কণা ত্বরক থেকে আসা অত্যন্ত শক্তিশালী নিউট্রিনো শনাক্ত করার জন্য এটি যথেষ্ট বড় ছিল না। আরও অনেক বড় বরফের আয়তন দরকার। তখন শুরু হলো আইসকিউব তৈরির কাজ।</p><p>নাম শুনেই ধারণা পাওয়া যায়, এটি বরফের একটি বিশাল ঘনক। প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফের ভেতর বসানো হলো অসংখ্য আলো শনাক্তকারী সেন্সর। ২০১১ সালে আইসকিউব পূর্ণ আকার লাভ করে। তখন ৮৬টি তারের সঙ্গে মোট ৫ হাজার ১৬০টি আলো শনাক্তকারী সেন্সর বরফের নিচে বসানো হয়েছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/8gl56ppt/IceCubeNeutrinoObservatoryin202302-16.jpg"><figcaption>আইসকিউব অবজারভেটরি</figcaption></figure><p>ভাবুন তো, পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফের নিচে হাজার হাজার সেন্সর বসানো আছে। তারা অপেক্ষা করছে এমন একটি ঘটনার জন্য, যা হয়তো কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের কোনো ভয়ংকর মহাজাগতিক জায়গায় ঘটেছে। কিন্তু সেই সংকেত খুব সহজে পাওয়া যায় না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8B-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE">সূর্যের নিউট্রিনো সমস্যা</a></aside><blockquote>২০১১ সালে আইসকিউব পূর্ণ আকার লাভ করে। তখন ৮৬টি তারের সঙ্গে মোট ৫ হাজার ১৬০টি আলো শনাক্তকারী সেন্সর বরফের নিচে বসানো হয়েছিল।</blockquote><h2><strong>হাজার চোখের অপেক্ষায় আলোর ঝলক</strong></h2><p>আইস কিউবের ভেতর দিয়ে যেসব নিউট্রিনো যায়, তাদের বেশিরভাগই কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খায় না। চলে যায় সোজা। শুধু অতি অল্প কয়েকটি নিউট্রিনো বরফের কোনো পরমাণুর কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তখন তৈরি হয় আলো। আইসকিউবের সেন্সরগুলো সেই ক্ষীণ আলোর ঝলক ধরে।</p><p>নিউট্রিনোর তিন ধরনের পরিচিত রূপ রয়েছে। ইলেকট্রন নিউট্রিনো ও টাউ নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘর্ষ করলে কণার একটি ঝরনা তৈরি হয়। সেই কণাগুলো চারপাশে আলো ছড়ায়। আর মিউন নিউট্রিনো সংঘর্ষ করলে শুধু কণার ঝরনাই তৈরি হয় না, একটি মিওয়নও তৈরি হয়। এই মিওয়ন বরফের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পথ ছুটতে পারে এবং যাওয়ার পথে আলোর একটি দীর্ঘ রেখা তৈরি করে।</p><p>আইসকিউবের অপটিক্যাল মডিউলগুলো কাচের আবরণের ভেতর বসানো থাকে। সেন্সরটি থাকে নিচের দিকে মুখ করে। একই আবরণের মধ্যে এমন ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাও থাকে, যা সংকেতকে প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ করে পরে তা ওপরে পাঠায়। অর্থাৎ বরফের নিচে হাজার হাজার ছোট ছোট চোখের মতো সেন্সর বসে আছে, যারা অপেক্ষা করছে নিউট্রিনোর সংঘর্ষে তৈরি একেকটি আলোর ঝলকের জন্য।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/cx4eeolb3k">যে আবিষ্কারের কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী</a></aside><blockquote>নিউট্রিনোর তিন ধরনের পরিচিত রূপ রয়েছে। ইলেকট্রন নিউট্রিনো ও টাউ নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘর্ষ করলে কণার একটি ঝরনা তৈরি হয়। সেই কণাগুলো চারপাশে আলো ছড়ায়।</blockquote><h2><strong>মহাজাগতিক নিউট্রিনো আর পৃথিবীর নিউট্রিনো আলাদা হবে কীভাবে</strong></h2><p>তবে আইসকিউব তৈরি হলেই কাজ শেষ নয়। কারণ বিজ্ঞানীরা শুধু মহাকাশ থেকে আসা নিউট্রিনো খুঁজছেন না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা মহাজাগতিক রশ্মিও নানা ধরনের কণা তৈরি করে। সেগুলোও আইসকিউবের সেন্সর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। প্রতি দিন অ্যান্টার্কটিকার ওপরের বায়ুমণ্ডল থেকে আসা ১০ কোটিরও বেশি এমন কণা আইসকিউবের সেন্সরে ধরা পড়ে।</p><p>মহাজাগতিক রশ্মি আবার বায়ুমণ্ডলে নিউট্রিনোও তৈরি করে। এর মধ্যে কয়েক শ নিউট্রিনো প্রতিদিন উত্তর গোলার্ধ থেকে পৃথিবীর ভেতর দিয়ে এসে আইসকিউবে পৌঁছায়। তাহলে দূর মহাকাশের নিউট্রিনো আর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে তৈরি নিউট্রিনো আলাদা করা হবে কীভাবে?</p><p>গবেষকদের বিভিন্ন ঘটনার বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে হয়। কোনো নিউট্রিনো পৃথিবীর বাইরে থেকে এসেছে কি না, তা সব সময় নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয় না। কিন্তু অনেকগুলো ঘটনার তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সেগুলোর বৈশিষ্ট্য মহাজাগতিক নিউট্রিনোর প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে কি না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/zcxdn67h2u">অপটোজেনেটিকস আবিষ্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী</a></aside><blockquote>মহাজাগতিক রশ্মি আবার বায়ুমণ্ডলে নিউট্রিনোও তৈরি করে। এর মধ্যে কয়েক শ নিউট্রিনো প্রতিদিন উত্তর গোলার্ধ থেকে পৃথিবীর ভেতর দিয়ে এসে আইসকিউবে পৌঁছায়।</blockquote><h2><strong>অবশেষে মিলল মহাবিশ্বের বার্তা</strong></h2><p>২০১৩ সালে গবেষকেরা প্রথম এমন প্রমাণ প্রকাশ করেন, যা দেখায় আইসকিউব সত্যিই মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করেছে। আর কয়েক বছর পর তাঁদের হাতে এত বেশি তথ্য জমা হয় যে, আবিষ্কারটি নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়।</p><p>নিউট্রিনো দিয়ে মহাবিশ্ব দেখার ধারণা অবশ্য আইসকিউবের সঙ্গে শুরু হয়নি। ১৯৬০-এর দশকে রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র সূর্য থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করেছিলেন। পরে জাপানের কামিওকান্দে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে মাসাতোশি কোশিবার নেতৃত্বাধীন গবেষকেরা নিউট্রিনোর গতিপথ নির্ধারণ করতে সক্ষম হন। তাঁরা বুঝতে পারেন এগুলোর উৎস কোথায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/e4beneu7/3.png"></figure><p>১৯৮৭ সালে কামিওকান্দে এমন এক ঝাঁক নিউট্রিনো শনাক্ত করে। সেগুলোকে একটি বিস্ফোরিত নক্ষত্রের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ঘটনাটি ঘটেছিল আমাদের প্রতিবেশী গ্যালাক্সি লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউডে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নেও নিউট্রিনো পরিমাপ করা হয়েছিল। এই অগ্রগতির জন্য ২০০২ সালে রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র ও মাসাতোশি কোশিবা পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁদের কাজ দেখিয়েছিল, মহাকাশের বিভিন্ন ঘটনা বোঝার জন্য নিউট্রিনোকে ব্যবহার করা সম্ভব।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/v8cspn1s31">নোবেল পেতে কেমন লাগে</a></aside><blockquote>নিউট্রিনো দিয়ে মহাবিশ্ব দেখার ধারণা অবশ্য আইসকিউবের সঙ্গে শুরু হয়নি। ১৯৬০-এর দশকে রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র সূর্য থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করেছিলেন।</blockquote><h2><strong>সূর্যের নিউট্রিনো গেল কোথায়</strong></h2><p>তবে তখনও একটি বড় রহস্য ছিল। বিজ্ঞানীদের হিসেবে সূর্য থেকে যত নিউট্রিনো আসার কথা, ডেভিসের যন্ত্রে তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধরা পড়ছিল। পরে জানা গেল, নিউট্রিনোর তিনটি ধরন রয়েছে এবং সেগুলো এক ধরনের থেকে আরেক ধরনের রূপ নিতে পারে। সূর্যে যে ধরনের নিউট্রিনো তৈরি হয়, পৃথিবীতে পৌঁছানোর সময় তার কিছু অন্য ধরনের নিউট্রিনোতে বদলে যেতে পারে।</p><p>এই পরিবর্তন বোঝার জন্য ভিন্ন ধরনের পরীক্ষা প্রয়োজন। জাপান ও কানাডার পরীক্ষায় নিউট্রিনোর এই রূপ বদলের বিষয়টি পরিষ্কার হয়। এই আবিষ্কারের জন্য ২০১৫ সালে তাকাকি কাজিতা ও আর্থার বি. ম্যাকডোনাল্ড পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/a634a8o95q">রসায়ন নোবেলের অজানা ৫</a></aside><blockquote>কোনো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো যদি দূর মহাকাশ থেকে আসে, তার গতিপথ মোটামুটি সোজাই থাকে। সেই পথ উল্টো করে অনুসরণ করলে বিজ্ঞানীরা তার উৎসের দিকে তাকাতে পারেন।</blockquote><h2><strong>নিউট্রিনো এত গুরুত্বপূর্ণ কেন</strong></h2><p>এখন আসা যাক, নিউট্রিনো নিয়ে এত আগ্রহের কারণ কী? মহাবিশ্বের কিছু বস্তু প্রচণ্ড পরিমাণ শক্তি ছড়িয়ে দেয়। এমন কিছু প্রক্রিয়া আছে, যেখানে কণাগুলো এত বেশি শক্তি পায়, যা পৃথিবীর পরীক্ষাগারে অর্জন করা সর্বোচ্চ শক্তির চেয়েও ১০ লাখ গুণ বেশি।</p><p>এই ভয়ংকর শক্তিশালী ঘটনাগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের বিকিরণ ও কণা ছুটে আসে। সেগুলো যেন মহাবিশ্বের দূরবর্তী ঘটনাগুলোর বার্তাবাহক। তাদের বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, মূল উৎসে কী ঘটেছিল। কিন্তু সব বার্তাবাহক সমান নয়। মহাজাগতিক রশ্মির সবচেয়ে সাধারণ কণাগুলো হলো প্রোটন। এগুলোর বৈদ্যুতিক চার্জ আছে। মহাকাশের চৌম্বকক্ষেত্র তাদের গতিপথ বাঁকিয়ে দেয়। ফলে কোনো প্রোটন কোন দিক থেকে এসেছে, তার পথ উল্টো করে অনুসরণ করে উৎসে পৌঁছানো কঠিন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-08/5g64e29b/big-bang-expanding-universe.webp"><figcaption>নিউট্রিনো কণার কাল্পনিক ছবি</figcaption></figure><p>গামা রশ্মিরও সমস্যা আছে। এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী আলো। কিন্তু মহাকাশের পদার্থ ও অন্য আলোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ায় গামা রশ্মি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মহাজাগতিক ধুলোও কোনো কোনো উৎসকে আড়াল করতে পারে।</p><p>নিউট্রিনোর সুবিধা এখানেই। এর বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। তাই মহাকাশের চৌম্বকক্ষেত্র এর গতিপথ বাঁকাতে পারে না। আবার ধুলা বা বিকিরণও নিউট্রিনোকে সহজে থামাতে পারে না। অর্থাৎ, কোনো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো যদি দূর মহাকাশ থেকে আসে, তার গতিপথ মোটামুটি সোজাই থাকে। সেই পথ উল্টো করে অনুসরণ করলে বিজ্ঞানীরা তার উৎসের দিকে তাকাতে পারেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/ijx1ghsddo">নোবেল জেতার সহজ উপায়</a></aside><blockquote>গামা রশ্মিরগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী আলো। কিন্তু মহাকাশের পদার্থ ও অন্য আলোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ায় গামা রশ্মি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মহাজাগতিক ধুলোও কোনো কোনো উৎসকে আড়াল করতে পারে।</blockquote><p>এই কারণেই নিউট্রিনোকে মহাবিশ্বের বিশেষ ধরনের বার্তাবাহক বলা হয়। এখানেই আছে আইসকিউবের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। বিজ্ঞানীরা এমন জায়গা খুঁজতে চান, যেখানে মহাবিশ্বের কণাগুলো ভয়ংকর শক্তি পায়। প্রোটনকে যে প্রক্রিয়া এত শক্তিশালী করে তোলে, একই প্রক্রিয়ায় উচ্চশক্তির নিউট্রিনোও তৈরি হওয়ার কথা।</p><p>চৌম্বকক্ষেত্রের কারণে প্রোটনের পথ বাঁকতে পারে। কিন্তু নিউট্রিনোর পথ বাঁকে না। তাই উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর পথ অনুসরণ করে বিজ্ঞানীরা হয়তো মহাজাগতিক কণার সেই রহস্যময় ত্বরকগুলোর অবস্থান বের করতে পারবেন। নিউট্রিনো আমাদের সূর্যের ভেতরের প্রক্রিয়া এবং সুপারনোভার মতো নক্ষত্র বিস্ফোরণের ঘটনা বোঝাতেও সাহায্য করেছে।</p><p>আইসকিউব এমন মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পেতে চায়, যেগুলো ধুলোর মেঘের আড়ালে লুকিয়ে আছে, অথবা এত দূরে যে সেখান থেকে আসা অন্য ধরনের বিকিরণ পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগেই দুর্বল হয়ে গেছে। অর্থাৎ মহাবিশ্বের এমন কিছু খবর নিউট্রিনো আমাদের দিতে পারে, যা অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া সম্ভব নয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/fj5g6g5t/Messier_77_spiral_galaxy_by_HST.jpg"><figcaption>গ্যালাক্সি NGC 1068। একে আমরা বলি M77</figcaption></figure><p>আইসকিউব ইতিমধ্যে কয়েকটি সম্ভাব্য নিউট্রিনো উৎসের সন্ধান পেয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো সক্রিয় গ্যালাক্সি NGC 1068। একে আমরা বলি M77। আইসকিউবে শনাক্ত হওয়া নিউট্রিনোগুলোর মধ্যে ৭৯টি এই গ্যালাক্সির দিক থেকে এসেছে বলে মনে হয়। কিন্তু এতেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না, M77-ই ওই নিউট্রিনোগুলোর উৎস। আরও নিউট্রিনো শনাক্ত করতে হবে। যত বেশি নিউট্রিনো ধরা পড়বে, তত বেশি নির্ভুলভাবে তাদের গতিপথ ও উৎস বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।</p><p>সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসকিউব মিল্কিওয়ে থেকেও উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পেরেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসের মধ্যে মহাজাগতিক বিকিরণ পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করলে এসব নিউট্রিনো তৈরি হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/8itfeuyiqn">নোবেল পুরস্কারের সোনার মেডেলে অন্যপাশে কী থাকে</a></aside><blockquote>আইসকিউবে শনাক্ত হওয়া নিউট্রিনোগুলোর মধ্যে ৭৯টি এই গ্যালাক্সির দিক থেকে এসেছে বলে মনে হয়। কিন্তু এতেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না, M77-ই ওই নিউট্রিনোগুলোর উৎস।</blockquote><h2><strong>আরও বড় বরফের ফাঁদ</strong></h2><p>নিউট্রিনো জ্যোতির্বিদ্যার ভবিষ্যৎ শুধু দক্ষিণ মেরুর আইসকিউবে আটকে নেই। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আরও নিউট্রিনো টেলিস্কোপ তৈরির কাজ চলছে। উত্তর গোলার্ধেও এমন কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। তবে সেগুলো বরফের বদলে পানি ব্যবহার করছে।</p><p>হালজেনকে যে প্রকল্পটি ১৯৮০-এর দশকে অনুপ্রাণিত করেছিল, সেই DUMAND প্রকল্প ১৯৯৫ সালে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা হারিয়ে যায়নি। সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বৈকাল হ্রদ, ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং কানাডার পশ্চিম উপকূলের কাছে আরও প্রকল্প শুরু হয়েছে। আর দক্ষিণ মেরুতে আইসকিউব এখনও নিউট্রিনো ধরছে।</p><p>এর পরের ধাপ আরও বিশাল। আইসকিউব-জেন২ নামের এই দ্বিতীয় প্রজন্মের ডিটেক্টর তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এর আয়তন হবে প্রায় ৮ ঘনকিলোমিটার বরফ। অর্থাৎ আজ যে বরফের নিচে হাজার হাজার সেন্সর মহাবিশ্বের ক্ষীণতম বার্তা ধরার অপেক্ষায় আছে, ভবিষ্যতে সেই অনুসন্ধানের পরিধি আরও অনেক বড় হবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A1-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার</a></aside><blockquote>হালজেনকে যে প্রকল্পটি ১৯৮০-এর দশকে অনুপ্রাণিত করেছিল, সেই DUMAND প্রকল্প ১৯৯৫ সালে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা হারিয়ে যায়নি।</blockquote><p>অনেক কথা হলো। কিন্তু হালজেন কীভাবে এই গবেষণায় আগ্রহী হলেন? ফ্রান্সিস হালজেন বড় হয়েছেন বেলজিয়ামে। ১৯৬০-এর দশকে কণা পদার্থবিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতি তাঁকে এই বিষয়ে আকৃষ্ট করে। শুরুতে তিনি কোয়ার্ক দিয়ে তৈরি ভারী কণা নিয়ে কাজ করতেন। পিএইচডি শেষ করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনে চলে যান। পরে তিনি বুঝতে পারেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে আসা কণাগুলোকে ব্যবহার করে কণা পদার্থবিজ্ঞান যেমন নতুন কিছু জানতে পারে, তেমনি কণা পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা ব্যবহার করে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানও মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য পেতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই দক্ষিণ মেরুর বরফে নিউট্রিনো ধরার স্বপ্ন।</p><p>সেই স্বপ্ন ১৯৮০-এর দশকে একটি ধারণায় পরিণত হয়। ১৯৮৮ সালে বৈজ্ঞানিকভাবে উপস্থাপন করা হয় সেই ধারণা। ১৯৯০-এর দশকে শুরু হয় পরীক্ষামূলক কাজ। প্রথমে আমান্ডা, তারপর এক ঘনকিলোমিটার বরফজুড়ে আইসকিউব। অবশেষে ২০১৩ সালে প্রথম উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়।</p><p>প্রায় ৬৫ বছর আগে দেখা সেই স্বপ্ন ২০২৬ সালে হালজেনকে পাইয়ে দেয় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল।</p><h4>সূত্র: নোবেল প্রাইজ ডটঅর্গ</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/4lt6y95vxx">নোবেল নিয়ে পাঁচ তথ্য</a></aside>
<h3>শূন্যগর্ভ</h3><p> কেন্দ্রীয় কক্ষে কোনো দরজা নেই—<br> তবু কত ভিক্ষু ঢুকে যায় প্রতিদিন।<br> ইটের বুকে বসে থাকে<br> পুরোনো বৃষ্টির শব্দ;<br> পোড়ামাটির ফলক থেকে হঠাৎ<br> নেমে আসে একটি হরিণ।<br> আমি তাকে জিজ্ঞেস করি—<br> তোমার পথ কোন দিকে?<br> সে ঘাসের দিকে তাকিয়ে থাকে,<br> কোনো উত্তর দেয় না।<br> চত্বরের মাঝখানে বাতাস ঘুরে ঘুরে বলে—<br> যা পূর্ণ,<br> তারও একদিন শূন্য হতে হয়।<br> আমি নিজের বুক ছুঁয়ে দেখি—<br> সেখানে একটি বিহার<br> ধীরে ধীরে<br> নিঃশব্দ হচ্ছে।</p><h3>প্রদক্ষিণ</h3><p>ভিক্ষুরা চলে গেছে—<br>পথটি রয়ে গেছে।<br>ইটের শরীরে<br>আর নেই<br>তাদের পায়ের উষ্ণতা।<br>উত্তরের পঁয়তাল্লিশটি কক্ষ—<br>চুপ।<br>অন্য তিনদিকে<br>চুয়াল্লিশটি করে<br>নীরবতা।<br>আমি হাঁটি—<br>এক পা,<br>তারপর আরেক পা।<br>দেয়াল বেয়ে উঠে যায়<br>একটি টিকটিকি।<br>মনে হয়,<br>কোনো পুরোনো প্রার্থনা<br>ভুল করে<br>এখনো পড়ে যাচ্ছে।<br>আমি ঘুরি—<br>আবার ঘুরি—<br>কেন্দ্রে কিছুই নেই।<br>শুধু<br>আমার ছায়া<br>আমার সঙ্গে হাঁটে।<br>তখন বুঝি—<br>পথের শেষে<br>শূন্যতা নয়;<br>এই হাঁটা,<br>এই থামা,<br>এই ফিরে-ফিরে আসাই<br>ছিল মন্দির।</p><h3>পোড়ামাটির প্রাণী</h3><p>পোড়ামাটির ফলকে—<br>হাতি,<br>হরিণ,<br>মানুষ।<br>সবাই থেমে আছে।<br>শুধু বাতাস<br>থামে না।<br>একদিন<br>একটি সিংহের মুখ দিয়ে<br>জল নেমেছিল—<br>এখন সেখানে<br>দুপুরভর<br>ধুলো জমে থাকে।<br>যে হাত<br>ফলকটি বানিয়েছিল,<br>তার কোনো নাম নেই।<br>যে চোখ<br>তাকে দেখেছিল—<br>তারও নেই।<br>তবু<br>মাটির গায়ে<br>আঙুল রাখলে<br>কেন যেন<br>শরীরের ভিতর<br>অল্প আলো<br>জ্বলে ওঠে।<br>সম্ভবত জীবন এমনই—<br>নাম মুছে যায়,<br>স্পর্শ থেকে যায়।</p><h3>দূরদেশের ভিক্ষু</h3><p>তিব্বত থেকে<br>কেউ এসেছিল—<br>চীনের দিক থেকে কেউ<br>রেখে গিয়েছিল<br>নীরব জুতো।<br>মায়ানমারের বৃষ্টি<br>হয়তো শুকিয়ে আছে<br>এই ইটের গায়ে।<br>মালয়ের কোনো প্রার্থনা<br>মিশে আছে<br>সন্ধ্যার ধুলোয়।<br>তারা এসেছিল—<br>জ্ঞান খুঁজতে।<br>চত্বরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে<br>কেউ কি<br>জ্ঞান পায়?<br>এক বৃদ্ধ ভিক্ষু<br>শুধু একটি শুকনো পাতা তুলেছিলেন।<br>কিছুক্ষণ দেখলেন—<br>তারপর<br>আবার রেখে দিলেন<br>মাটির কাছে।<br>আমি বুঝিনি তখন।<br>আজও<br>বুঝি না।<br>তবু—<br>পাতাটিকে<br>মনে পড়ে।</p><h3>ধ্বংসের পরে</h3><p>রাজা বদলেছে—<br>ধর্মও।<br>সিঁড়ির গায়ে শুধু<br>বৃষ্টির ক্ষুদ্র ইতিহাস।<br>একদিন<br>এই কক্ষগুলো<br>মানুষে ভরা ছিল।<br>এখন—<br>সন্ধ্যার পাখিরা<br>এসে বসে।<br>আমি একটি ভাঙা ইট<br>তুলে নিই।<br>তার ভেতরে<br>কোনো রাজ্য নেই—<br>শুধু<br>মাটি,<br>আগুন,<br>আর মানুষের দুই হাত।<br>দূরে<br>ধানখেতে বাতাস ওঠে।<br>মনে হয়—<br>বিহারটি<br>আবার<br>শ্বাস নিচ্ছে।<br>ধ্বংস মানে<br>শেষ নয়।<br>কখনো কখনো<br>শূন্যতাই<br>পেয়ে যায়<br>দীর্ঘ জীবন।</p>
মঙ্গলবারের দেশব্যাপী এ বিক্ষোভের আগে দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলেছে। প্যারিসের সুবিধাবঞ্চিত শহরতলিতে এর শুরু। পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
<p>একটা সময় ছিল আমাদের এখানে সাবুদানাকে মনে করা হতো শুধু রোগীর পথ্য। অথচ এই সাবুদানা দিয়েই কিন্তু বানানো যায় মজাদার নানা পদ। রেসিপি দিয়েছেন <strong>অসিত কর্মকার</strong></p><p><strong>উপকরণ</strong></p><ul><li><p>পছন্দমতো সবজিকুচি: দেড় কাপ</p></li><li><p>আলু গ্রেট করা: আধা কাপ</p></li><li><p>সাবুদানা: ১ কাপ</p></li><li><p>আদাকুচি বা বাটা: ১ চা-চামচ</p></li><li><p>কুচানো কাঁচা মরিচ: ৩-৪টি</p></li><li><p>ধনেপাতাকুচি: ৩ টেবিল চামচ</p></li><li><p>বেসন বা চালের গুঁড়া: ৩-৪ টেবিল চামচ</p></li><li><p>গোটা জিরা: আধা চা–চামচ</p></li><li><p>হলুদগুঁড়া: আধা চা-চামচ</p></li><li><p>মরিচের গুঁড়া: আধা চা-চামচ</p></li><li><p>চাট মসলা: ১ চা-চামচ</p></li><li><p>চিনাবাদাম: ২ টেবিল চামচ (আধভাঙা করে ভাজা)</p></li><li><p>জোয়ান: আধা চা-চামচ</p></li><li><p>লবণ: স্বাদমতো</p></li><li><p>সাদা তেল: পরিমাণমতো</p></li></ul><figure><img alt="সাবুদানার পাকোড়া" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/c5oiuk3h/LABL2948.jpg"><figcaption>সাবুদানার পাকোড়া</figcaption></figure><p><strong>প্রণালি</strong></p><p>সাবুদানা ভালো করে ধুয়ে তিন–চার ঘণ্টা অল্প পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পানি শুষে দানাগুলো হয়ে উঠবে ঝরঝরে। গ্রেট করা আলু ও অন্যান্য সবজি কাটার পর হাত দিয়ে চিপে অতিরিক্ত পানি ফেলে দিন। সবজিতে পানি বেশি থাকলে পাকোড়া মুচমুচে হবে না। একটি বড় পাত্রে সাবুদানা, সবজি, আদা, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতাকুচি একসঙ্গে নিন। এবার ওই পাত্রে বেসন বা চালের গুঁড়া, গোটা জিরা, হলুদ, মরিচের গুঁড়া, চাট মসলা, বাদাম, জোয়ান ও লবণ দিন। হাত দিয়ে চেপে চেপে সব উপকরণ খুব ভালো করে মেখে নিন। কড়াইতে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল মাঝারি আঁচে ভালো করে গরম করে নিন। মিশ্রণটি থেকে অল্প অল্প অংশ নিয়ে ছোট ছোট পাকোড়ার আকারে তেলের মধ্যে ছাড়ুন। মাঝারি আঁচে উল্টেপাল্টে সোনালি এবং একদম মুচমুচে না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। একবারে খুব বেশি পাকোড়া কড়াইতে দেবেন না। ভাজা হয়ে গেলে তেল ছেঁকে নিন। কিচেন টিস্যুর ওপর তুলে রাখুন। ওপর থেকে সামান্য বিট লবণ বা চাট মসলা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/3v72a60crc">পাঁচমিশালি সবজির রেসিপি</a></aside>
মাল্টার আমদানি মূল্য ৮৭ টাকা হলেও বাজারে কেজি ৫০০। গাড়ির চেয়েও বেশি শুল্ক–কর, বাড়তি খরচের চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ছে ভোক্তার ঘাড়েই
<p>লালমনিরহাটে জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কেন্দ্রীয় সহপ্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবিরের বাড়ির সীমানাপ্রাচীর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের বিডিআর হাট রোডে এ ঘটনা ঘটে।</p><p> ফিরোজের প্রতিবেশী ও জাতীয়তাবাদী সাইবার দল নামের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. ফরহাদ আহমেদ ওরফে সম্রাটের নেতৃত্বে এ ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। এ সময় বাধা দিলে ফিরোজের ভাই আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার লালমনিরহাট সদর থানায় হুমায়ুব কবির একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।</p><p>লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফরহাদ আহমেদের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল দেশি অস্ত্র ও বুলডোজার নিয়ে এসে ফিরোজদের বাড়ির দক্ষিণ দিকে পাকা সড়কের পাশের ফটক ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেন। এ সময় হুমায়ুন কবির বাধা দিলে তাঁকে মারধর করতে করতে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় হুমায়ুনের স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।</p><p>অভিযোগের বিষয়ে ফরহাদ আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সাথে হুমায়ুন কবিরদের জমিজমার বিরোধ আছে। এ নিয়ে মামলাও আছে।’ তবে তিনি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।</p><p>সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি থানায় ছিলাম না। ডিউটি অফিসার আল আমিনকে এ–সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে বাদী ফোনে জানিয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/bsarz91l/Lalmonirhat2.jpg"><figcaption>বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় এবি পার্টির নেতা ফিরোজ কবির ও তাঁর ভাই হুমায়ুন কবিরের সংবাদ সম্মেলন। আজ মঙ্গলবার লালমনিরহাট শহরের বিডিআর হাটে নিজ বাড়িতে</figcaption></figure><p><strong>‘বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চায় থাকায় হামলা’</strong></p><p>এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে বিডিআর হাট রোডে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবি পার্টির নেতা ফিরোজ কবির ও তাঁর ভাই হুমায়ুন কবির। এ সময় তাঁদের মা তাহেরা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ কবির বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি লালমনিরহাট-৩ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী ছিলেন। ১১–দলীয় জোটের প্রার্থীর সমর্থনে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন এবং জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে হুমকিধমকি দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।</p><p><strong>এবি পার্টির প্রতিবাদ</strong></p><p>এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবি পার্টি। গতকাল সোমবার দলটির সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ফিরোজ কবিরের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।</p><p>এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, দিনদুপুরে একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাড়ি ভেঙে দেওয়া কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। এটি শুধু ফিরোজ কবিরের ওপর হামলা নয়; বরং স্থানীয় প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক মতের ওপর নগ্ন দমন-পীড়নের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।</p>
উপন্যাসের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো স্বাধীনতা। স্বাধীনতা বলতে শুধু শাসকের হাত থেকে মুক্তি বোঝায় না; এর সঙ্গে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিজের অনুভূতি প্রকাশের অধিকার ও আত্মমর্যাদা জড়িত। লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষকে বাহ্যিকভাবে স্বাধীন দেখালেই সে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হয় না।
<p> জীবনের পথে কিছু মানুষ আসেন, যাঁরা শুধু আমাদের পড়ান না—তাঁরা আমাদের পথ দেখান, স্বপ্ন দেখতে শেখান, আত্মবিশ্বাসী করে তোলেন এবং শেষ পর্যন্ত একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করেন। সময়ের স্রোতে তাঁদের সঙ্গে প্রতিদিনের যোগাযোগ হয়তো থাকে না, কিন্তু তাঁদের দেওয়া শিক্ষা, উপদেশ ও আদর্শ আমাদের জীবনের প্রতিটি বাঁকে কোনো না কোনোভাবে পথ দেখায়।</p><p> প্রবীর কুমার কর্মকার স্যার আমার জীবনে তেমনই একজন মানুষ—একজন শিক্ষক, একজন পথপ্রদর্শক এবং নিঃসন্দেহে একজন আলোকদিশারি।</p><p> <strong>বড় পুলের নিচের সেই ছোট্ট কোচিং সেন্টার</strong></p><p> সিরাজগঞ্জ শহরের বড় পুলের নিচে ছিল স্যারের ছোট্ট ‘গণিত কোচিং সেন্টার’। জায়গাটি হয়তো আজকের আধুনিক কোচিং সেন্টারের মতো ছিল না—ছিল না ঝকঝকে শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক প্রযুক্তি কিংবা বড় কোনো অবকাঠামো। কিন্তু সেখানে ছিল এমন একজন শিক্ষক, যাঁর জ্ঞান, আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ সেই ছোট্ট জায়গাটিকে আমাদের কাছে একটি জ্ঞানচর্চার আলোকিত কেন্দ্র করে তুলেছিল।</p><p>কোচিং সেন্টারের নাম ছিল ‘গণিত কোচিং’—কিন্তু স্যারের জ্ঞানের পরিধি কোনো একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন প্রায় সব বিষয়েই দক্ষ। তাঁর কাছে পড়লে মনে হতো, একজন শিক্ষক শুধু একটি নির্দিষ্ট বই বা বিষয়ের মধ্যে আবদ্ধ নন; একজন প্রকৃত শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ তৈরি করেন।</p><p>তাঁর ক্লাসে শুধু পড়া মুখস্থ করার বিষয় ছিল না। তিনি বুঝিয়ে দিতেন, প্রশ্ন করতে শেখাতেন, চিন্তা করতে উৎসাহ দিতেন। কোনো বিষয় না বুঝলে আবার বোঝাতেন। কোথাও দুর্বলতা দেখলে শাসন করতেন, আবার একই সঙ্গে উৎসাহও দিতেন।</p><p>আজ এত বছর পর বুঝতে পারি—তখন আমরা হয়তো ভাবতাম, স্যার আমাদের শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি আমাদের জীবনের জন্য প্রস্তুত করছিলেন।</p><p><strong>১৯৯৯ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়</strong></p><p>আমার নিজের জীবনের সঙ্গে স্যারের সম্পর্ক আরও গভীর। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত আমি তাঁর কাছে পড়েছি।</p><p>সেই সময়টা ছিল জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে সামনে তখন নতুন স্বপ্ন—কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, নিজের ভবিষ্যৎ এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।</p><p>সেই সময় একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় একজন ভালো গাইডের—যিনি শুধু পড়াবেন না, বরং বলবেন কীভাবে পড়তে হয়, কীভাবে নিজেকে তৈরি করতে হয় এবং কীভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়।</p><p>প্রবীর স্যার আমাদের জন্য ঠিক সেই ভূমিকাটিই পালন করেছিলেন।</p><p>আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, তাঁর কাছে কাটানো সেই দিনগুলো আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তখন হয়তো তাঁর অনেক কথার গভীরতা বুঝিনি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপলব্ধি করেছি—একজন শিক্ষকের কিছু কথা হয়তো পরীক্ষার খাতায় লেখা হয় না, কিন্তু সেগুলো সারা জীবন মনে থেকে যায়।</p><blockquote>নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com </blockquote><p><strong>শুধু পড়ানো নয়—মানুষ গড়ার কাজ</strong></p><p>সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি শুধু পরীক্ষার ফলাফলের দিকে তাকাতেন না। তিনি শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইতেন।</p><p>তিনি আমাদের শিখিয়েছেন সময়ের মূল্য, পরিশ্রমের মূল্য, শৃঙ্খলার গুরুত্ব এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখার প্রয়োজনীয়তা।</p><p>একজন শিক্ষার্থী যখন কোনো বিষয়ে ভালো করতে পারত না, তখন হয়তো শাসন শুনতে হতো। কিন্তু সেই শাসনের মধ্যেও ছিল মঙ্গল কামনা। আবার কেউ একটু ভালো করলে তিনি উৎসাহ দিতেন—আরও ভালো করার জন্য।</p><p>শিক্ষকের এই জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একজন শিক্ষক শুধু জ্ঞান দেন না; একজন প্রকৃত শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্ভাবনাকে দেখতে পান, যখন সেই শিক্ষার্থী নিজেই হয়তো নিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকে না।</p><p>স্যারের শিক্ষাদানের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় ছিল ২০০১ সালের ফলাফল। তাঁর কাছে পড়া প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী সে বছর স্টার মার্কস অর্জন করেছিল। সেই সময়ের বাস্তবতায় এটি ছিল অত্যন্ত বড় একটি অর্জন।</p><p>আমাদের অনেকের জীবনে সেটি ছিল স্বপ্নপূরণের মতো একটি মুহূর্ত। কিন্তু আজ মনে হয়, সেই সাফল্যের পেছনে শুধু আমাদের পরিশ্রম ছিল না; ছিল একজন শিক্ষকের অবিরাম শ্রম, দিকনির্দেশনা ও বিশ্বাস।</p><p>আর সেই সময়ের সহপাঠীদের কথা মনে পড়লে স্মৃতির পাতায় একে একে অনেকগুলো নাম ভেসে ওঠে—শান্ত, সুব্রত, অশোক, হুমায়ূন, মুর্তজা, বুদ্ধ, রিপন, রিমা, মৌসুমী, সাথী, সুপ্তি, উর্মি, পারুল, শাহনাজ—আরও অনেকেই।</p><p>আমরা তখন ছিলাম একদল তরুণ শিক্ষার্থী। স্বপ্ন ছিল অনেক, কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিততা ছিল খুব কম। আজ আমরা যে যার জীবনে ছড়িয়ে পড়েছি। কেউ পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত, কেউ পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব পালন করছি, কেউ হয়তো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বা দেশের বাইরে।</p><p>কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের স্মৃতির কোথাও না কোথাও রয়ে গেছে সেই বড় পুলের নিচের কোচিং সেন্টার, আর রয়ে গেছেন আমাদের প্রিয় শিক্ষক প্রবীর কুমার কর্মকার স্যার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/7o0uo7l0/13.jpg"></figure><p>একজন শিক্ষকের সাফল্য কোথায়?</p><p>একজন শিক্ষকের সাফল্য কি শুধু তাঁর কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে, তার ওপর নির্ভর করে?</p><p>আমার কাছে উত্তর—না।</p><p>একজন শিক্ষকের প্রকৃত সাফল্য হলো তাঁর শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে কেমন মানুষ হয়েছে।</p><p>একজন শিক্ষক হয়তো শত শত শিক্ষার্থীকে পড়ান। তাঁদের কেউ ডাক্তার হন, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, কেউ প্রশাসনে, কেউ ব্যবসায়, কেউ গবেষণায়, কেউ কর্পোরেট জগতে। কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের জীবনে যদি সেই শিক্ষক সততা, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন করে থাকেন, তাহলে সেই শিক্ষক তাঁর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।</p><p>এই দিক থেকে প্রবীর স্যারের অর্জন অনেক বড়। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো তাঁর কোচিং সেন্টারের নাম নয়, কিংবা তাঁর পড়ানো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ও নয়। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি মানুষ গড়েছেন।</p><p><strong>সময় বদলেছে, স্মৃতি বদলায়নি</strong></p><p>সময় অনেক কিছু বদলে দেয়। গঞ্জ–শহর বদলেছে। বড় পুলের আশপাশ বদলেছে। শিক্ষাব্যবস্থা বদলেছে। কোচিংয়ের ধরন বদলেছে। প্রযুক্তি এসেছে। এখন শিক্ষার্থীরা মোবাইল, কম্পিউটার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পড়াশোনা করে।</p><p>কিন্তু আমাদের সময়ের সেই ছোট্ট কোচিং সেন্টারের স্মৃতি আজও মুছে যায়নি। কারণ, জায়গাটা বড় ছিল না—মানুষটি বড় ছিলেন।</p><p>সেখানে হয়তো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না, কিন্তু ছিল একজন শিক্ষকের আন্তরিকতা। ছিল শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর স্বপ্ন। ছিল আমাদের ভালো করার জন্য তাঁর কঠোর পরিশ্রম।</p><p>আজ এত বছর পরও সেই স্মৃতি মনে পড়লে মনে হয়—আমরা হয়তো তখন বুঝিনি, কিন্তু আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় আমরা এমন একজন মানুষের সান্নিধ্যে কাটিয়েছি, যাঁর কাছ থেকে শুধু বইয়ের শিক্ষা নয়, জীবনের শিক্ষাও পেয়েছি।</p><p><strong>শিক্ষক দিবসে ফিরে দেখা</strong></p><p>আজ ৫ অক্টোবর—বিশ্ব শিক্ষক দিবস।</p><p>এই দিনটি শুধু শিক্ষকদের শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; এটি আমাদের জীবনে যাঁরা কোনো না কোনোভাবে আলো জ্বালিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করারও দিন।</p><p>আমাদের প্রত্যেকের জীবনে হয়তো এমন একজন শিক্ষক আছেন, যাঁকে আজও মনে পড়ে। তাঁর কোনো কথা, কোনো শাসন, কোনো পরামর্শ কিংবা কোনো উৎসাহ হয়তো জীবনের কোনো এক কঠিন সময়ে আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।</p><p>আমার জীবনে সেই মানুষদের একজন হলেন প্রবীর কুমার কর্মকার স্যার।</p><p>আজ যখন নিজের পথচলার দিকে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়—জীবনের সাফল্যের গল্পে কিছু মানুষের নাম কখনো বাদ দেওয়া যায় না। কারণ, তাঁরা হয়তো আমাদের সাফল্যের মঞ্চে ছিলেন না, কিন্তু সেই মঞ্চে ওঠার জন্য সিঁড়ি তৈরি করে দিয়েছিলেন।</p><p><strong>বড় পুলের নিচ থেকে জীবনের বড় পথের দিকে</strong></p><p>কখনো কখনো জীবনের বড় শিক্ষা পাওয়া যায় খুব সাধারণ জায়গা থেকে। গঞ্জের বড় পুলের নিচের সেই ছোট্ট কোচিং সেন্টার হয়তো বাহ্যিকভাবে খুব সাধারণ ছিল। কিন্তু সেখান থেকেই আমাদের অনেকের জীবনের বড় পথচলা শুরু হয়েছিল।</p><p>সেখান থেকে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে গেছে, কেউ কর্মজীবনে, কেউ নিজের স্বপ্নের পথে। আর সেই যাত্রার শুরুতে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন শিক্ষক—প্রবীর কুমার কর্মকার স্যার।</p><p>তিনি হয়তো আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সব গল্প জানেন না। আমরা হয়তো সবাই নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখি না। কিন্তু তাঁর অবদান আমাদের জীবনের গল্পের সঙ্গে এমনভাবে মিশে আছে, যা কোনো দূরত্ব বা সময় মুছে দিতে পারে না।</p><p><strong>একজন সত্যিকারের শিক্ষক কখনো অবসর নেন না</strong></p><p>একজন শিক্ষক ক্লাস নেওয়া বন্ধ করতে পারেন। একটি কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একটি প্রজন্ম বড় হয়ে দূরে চলে যেতে পারে।</p><p>কিন্তু একজন সত্যিকারের শিক্ষক কখনো তাঁর শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে অবসর নেন না।</p><p>আপনার আলোয় আলোকিত আমাদের প্রজন্ম আজও আপনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।</p>
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এক অনির্ধারিত সফরে দিল্লিতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে বিবিসি জানাতে পেরেছে। এদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শরিফুল ইসলাম শফিক নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন। বিস্তারিত বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
বাংলাদেশে এবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০শে অক্টোবর থেকে পরবর্তী তিনদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও কমপক্ষে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
চট্টগ্রামের আদালতে বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষ্য দিতে না আসা প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার একটি সংবাদ নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেনো এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো এবং গ্রেফতার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নও সামনে আসছে।
বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ইতি ঘটবে। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপর কী করবেন?
উত্তর মেরুর একাধিক সংজ্ঞা রয়েছে - এবং সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি একেবারেই স্থির থাকে না।
নওয়াজ শরীফ এবং ইমরান খান, দুজনেই লাহোরের সচ্ছল কিন্তু অরাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শুরুতে কেউই রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন না। দু'জনই এক সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু কেউই নিজেদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। দু'জনকেই বিতর্কিত মামলায় সাজা ও কারাবরণ করতে হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে নিজেদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে বিষয়ে কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান এই ঘটনার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই- জড়িত থাকার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান।
সরকারের খাতায় ২০ লাখ শিশুর তথ্য নেই; আগামী রমজানের আগেই ইউনিয়ন পরিষদের তিন ধাপের নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন; অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে– ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রগুলোতে এসব খবর গুরুত্বে পেয়েছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রেমিকের ভাড়া বাসায় গিয়ে অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণীর (১৮)। এ ঘটনায় শান্ত পাল (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আগামী ১৮ নভেম্বর বাটেক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার প্রধান অতিথি হওয়ার প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধান অতিথি হওয়ার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক মর্যাদার বিষয়ও জড়িত। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে ডা. শফিকুর রহমান নিজে প্রধান অতিথি হওয়ার কোনো দাবি বা অনুরোধ করেননি।
খুলনার দিঘলিয়ায় নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ)’–এর আঞ্চলিক নেতা চাঞ্চল্যকর নাসিমুল গনি ওরফে নাসিম কিলিং মিশনের ঘটনায় ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিবাদের চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এনজিওগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত কাঠামো প্রয়োজন। সৃজনশীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনজিও ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে কাজ করছেন। এসব অংশীদারত্বকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত রূপ দিতে হবে।
সময়ের একটা বন্টন আছে, ইতিহাসের বইয়ে আছে হাজারো পরিচ্ছেদ। তবে সব ঘটনাই ইতিহাস হয় না। ইতিহাস লিখেন বিজয়ীরাই।
বলিউডের জনপ্রিয় জুটি শাহরুখ খান ও কারিনা কাপুর খানকে আবারো একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করে আসছেন। গত বছর পুরস্কার ঘোষণার আগেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা আমাকে কখনোই নোবেল শান্তি পুরস্কার দেবে না। এটা খুবই দুঃখজনক। আমি এর যোগ্য, কিন্তু তারা আমাকে কখনোই এটা দেবে না।