রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি, সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতি ঢাকার উদ্বেগ
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতি ঢাকা।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, নজরবিহীন জ্বালানি সরবরাহের সংকট ও উচ্চ সুদহারের চাপে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
শিশুরা বড়দের তুলনায় সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হয়। কীভাবে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা ‘ইমিউনিটি’ বাড়ানো যায়?
<p>দূরপাল্লার বাসে বা ট্রেনে দীর্ঘ পথ পাড়ি শেষ। এবার বাড়ি ফেরার পালা। রাত গভীর হওয়ায় দ্রুত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে বসলেন। কিন্তু পড়ে গেলেন চালক ও যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তদের ফাঁদে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কেড়ে নেওয়া হলো সর্বস্ব। আবার কখনো কখনো কেড়ে নেওয়া হয় প্রাণটাই।</p><p> কুমিল্লা শহরে রাতে বাড়ি বা বাসায় ফেরার পথে এমন অপরাধ একের পর এক ঘটছে। সর্বশেষ সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা আবারও সেই আতঙ্ককে সামনে এনেছে। এর আগে গত এপ্রিলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারান কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)।</p><p> এসব ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হলেও রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে কুমিল্লা শহরের প্রবেশমুখে নামার পর নিরাপদে বাসায় ফেরার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার, ঝাগুরঝুলি ও আলেখারচর বিশ্বরোড থেকে কুমিল্লা নগরে প্রবেশের পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকেন্দ্রিক অপরাধের অভিযোগ বেশি।</p><p> জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ মাসে কুমিল্লায় খুনের ঘটনা ঘটেছে ১১১টি। আগস্টে হত্যার মামলা ছিল ১১টি, সেপ্টেম্বরে ১৬টি। ডাকাতির মামলা ২টি থেকে বেড়ে ৩টি এবং চুরির মামলা ৩৫ থেকে বেড়ে ৪৪টি হয়েছে। দস্যুতার মামলা হয়েছে পাঁচটি।</p><h3>মহাসড়ক থেকে বাড়ি ফেরার পথে হত্যা </h3><p>কুমিল্লায় কর্মরত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী প্রশিক্ষণ শেষে ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। ঘুমিয়ে পড়ায় পদুয়ার বাজারে নামতে পারেননি। নামেন কুমিল্লা আদর্শ সদর ঝাগুরঝুলি বিশ্বরোডে। সেখান থেকে নগরের পানপট্টি গাংচর এলাকায় বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন।</p><p>ওই দিন রাতে বাসায় যখন মা-বাবা আর স্ত্রী ও শিশুপুত্র বুলেট বৈরাগীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক তখনই চালক ও যাত্রীবেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা ছিনতাইকারীরা তাঁকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব বা বর্তমানের স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।</p><aside><cite>অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায়। সভাপতি, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), কুমিল্লা</cite>রাতে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়মিত নজরদারিতে রাখতে হবে।</aside><p>সর্বশেষ ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর হত্যাকাণ্ড উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। নগরের নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মরদেহ গত বৃহস্পতিবার লালমাই উপজেলার ভোরাজগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।</p><p>পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, রাতে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেছিল ওই কিশোরী। চালক সুমন মিয়া তাকে উল্টো পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মেয়েটির কাছ থেকে লুটে নেওয়া আইফোনটিও।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/75fspwjo6l">শর্টকাটের কথা বলে কিশোরীকে নির্জন পথে নেন চালক, ধর্ষণের পর হত্যা: পুলিশ</a></aside><h3>‘ওই দিন আমার সঙ্গেও কি এমন ঘটনা ঘটত’ </h3><p>রাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াতের সময় সন্দেহজনক পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন নগরের ঠাকুরপাড়া এলাকার ৩০ বছর বয়সী এক নারীও। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে কুমিল্লায় ফিরছিলেন তিনি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নেমে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন।</p><p>ওই নারী প্রথম আলোকে বলেন, অটোরিকশার চালক কিছু দূর যাওয়ার পর এক ব্যক্তিকে গাড়িতে তোলেন। চালক বলেছিলেন, লোকটি সামনেই নেমে যাবেন। কিন্তু অনেকটা পথ যাওয়ার পরও তিনি নামছিলেন না। তখন ওই নারী চালককে গাড়ি থামাতে বলেন। তাঁর স্বামীও মুঠোফোনে কথাগুলো শুনছিলেন এবং তাঁকে নেমে যাওয়ার পরামর্শ দেন।</p><p>একপর্যায়ে ওই নারী চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে জাঙ্গালিয়ার কাছাকাছি গিয়ে চালক ওই ব্যক্তিকে নামিয়ে দেন। এরপর চালকের মুঠোফোনে একের পর এক কল আসতে থাকে। অপর প্রান্ত থেকে তাঁর কাছে বারবার জানতে চাওয়া হচ্ছিল, তিনি কোন দিকে যাচ্ছেন। চালক কোটবাড়ি সড়ক হয়ে রামমালা দিয়ে যাওয়ার কথা বললে নারীটি কান্দিরপাড় হয়ে যেতে বলেন। শেষ পর্যন্ত চালক ওই পথেই যান।</p><p>ওই নারী বলেন, ‘১৫ বছর বয়সী মেয়েটির এমন মৃত্যু দেখে সেদিনের ঘটনা বারবার মনে পড়ছে। ওই দিন আমার সঙ্গেও কি এমন ঘটনা ঘটত? এখন রাতে চলাচল করতে ভয় লাগে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-25/m3qe4aqe/Bulet.jpg"><figcaption>বুলেট বৈরাগী</figcaption></figure><h3>ছিনতাইয়ের অভিযোগ বহুদিনের </h3><p>গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে মধ্যরাতে পদুয়ার বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে ছিনতাইয়ের শিকার হন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। তাঁর বাসা নগরের কান্দিরপাড় এলাকায়। তিনি বলেন, অটোরিকশায় ওঠার পর যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে মুঠোফোন, টাকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়।</p><p>নগরের ছোটরা এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, গত মে মাসে তাঁর নিকটাত্মীয় দেলোয়ার হোসেন চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে কুমিল্লায় আসেন। রাত ১২টার দিকে স্টেশন থেকে অটোরিকশায় ওঠার পর যাত্রীবেশী তিন ছিনতাইকারী তাঁকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে। পরে গোমতী নদীর পাড়ে নিয়ে তাঁর সর্বস্ব লুটে নেয়।</p><p>এর আগে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাতে নগরের শাকতলা এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন একটি জাতীয় দৈনিকের বিজ্ঞাপন বিভাগের ব্যবস্থাপক সাইমুম ইমতিয়াজ। কুমিল্লা বেড়াতে এসে তিনি স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে পদুয়ার বাজার থেকে অটোরিকশায় শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় চারজন তাঁদের পথ আটকে দুটি আইফোনসহ পাঁচটি মুঠোফোন, স্ত্রীর হীরার আংটি ও ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েও মালামাল উদ্ধার হয়নি বলে জানান তিনি। ওই ঘটনায়ও অটোরিকশাচালকের যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ ছিল ইমতিয়াজের।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/1oylvy96gf">রাতে বাসায় ফেরার পথে কাস্টমস কর্মকর্তা নিখোঁজ, সকালে মিলল রক্তাক্ত লাশ</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/5fuckp1c/cumilla_dh1752_20261010_img_20261010_111852.jpg"><figcaption>কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রীকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। শনিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে </figcaption></figure><h3>ছিনতাইকারীদের মাদক সম্পৃক্ততা </h3><p>এসআরবি-১১ সিপিসি-২-এর উপপরিচালক ও কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার পাঁচজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের সবাই মাদকাসক্ত ছিলেন। সর্বশেষ কিশোরী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমনও মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে। আরও কিছু ঘটনা পর্যালোচনা করে ছিনতাই চক্রের বড় একটি অংশের সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।</p><p>রাতে একা চলাচলকারীদের জনবহুল বাসস্ট্যান্ডে নামা, সম্ভব হলে অন্য যাত্রীর সঙ্গে অটোরিকশা ভাগ করে যাতায়াত করা এবং নির্ধারিত স্থানের বাইরে না নামার পরামর্শ দেন এসআরবির কর্মকর্তা সাদমান ইবনে আলম।</p><p>কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, পদুয়ার বাজার থেকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় রাতে শহরে ফেরার পথে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেন্দ্রিক ছিনতাইয়ের অভিযোগ বেশি। মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে এসব এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/inffcvl1/bulletcomilla.jpeg"><figcaption>বুলেট বৈরাগী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজন</figcaption></figure><p>আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে জানান লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, পদুয়ার বাজার ও আলেখারচর বিশ্বরোড দিয়ে রাতে নগরে প্রবেশের পথে পুলিশ দুই পালায় টহল দিচ্ছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ সদস্যদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে।</p><p>গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের একমাত্র সন্তান সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩)। এরপর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। সর্বশেষ বাড়ি ফেরার পথে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় রাতে নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।</p><p>হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, মহাসড়কের বিস্তৃতির তুলনায় তাঁদের জনবল কম। জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল বাড়ানো হয়েছে। তবে এক জায়গায় পুলিশ থাকলে অন্য জায়গা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেয় অপরাধীরা।</p><p>অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরের প্রবেশমুখগুলোতে ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা স্থাপন ও পুলিশের তল্লাশিচৌকি বসানো প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায়। তিনি আরও বলেন, রাতে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়মিত নজরদারিতে রাখতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/yrsgu76ohw">অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে আইফোন, ৫ হাজার টাকার পাওনা ও ‘অসম বন্ধুত্ব’ </a></aside>
একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর তাঁরা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ–সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
সূর্যকান্ত দেখা করতে না চাওয়ার চারটি কারণ দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিচারপতি হিসেবে তাঁর কাজ শুনানির ব্যবস্থা ও মামলার নিষ্পত্তি করা। এসআইআর–সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন।
বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছেন। এনসিটিকে লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে অভিহিত করে তাঁরা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করে কমিশন। পরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের পাঁচ ধাপের ভোটের তারিখগুলো জানান।
সিলেটে হৃদয় কুমার হরিজন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে নগরের সুইপার কলোনি কাস্টঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বাইরে থেকে আপনাকে সুখী দেখালেও ভেতরে ভেতরে যদি আপনি কষ্ট পান, তবে আপনার এক ধরনের অস্বাভাবিক বিষণ্ণতা থাকতে পারে — কিন্তু প্রকৃত অনুভূতি গোপন করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষণা করা এ চুক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা।
আজ ঢাকার পত্রিকাগুলোতে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় বাংলাদেশি নিহত ও আহত হওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার খবর গুরুত্ব পেয়েছে। সাথে রয়েছে রাজনীতি ও অর্থনীতির নানা খবর।
মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন কিংবা কম্পিউটার যুক্ত করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন অনেকেই, কিন্তু আপনারা কি জানেন? এই আধুনিক প্রযুক্তির নামের পেছনে রয়েছে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ইতিহাস। জড়িয়ে আছেন ডেনমার্কের এক ভাইকিং রাজার কাহিনী।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর উপর একটি ক্ষেপনাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমান ছিল। দুই জন বাংলাদেশি এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
তেসরা ডিসেম্বর, সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, যা সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।
গত ৮৫ বছরে বিশ্বের বাংলাভাষীদের কাছে নানা সময়ে সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পাশে থেকেছে বিবিসি বাংলা। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১১ই অক্টোবর। এই সময়ে অনেক কিছু বদলেছে, কেবল বদলায়নি সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং দর্শক-পাঠক-শ্রোতাদের প্রতি বিবিসি বাংলার দায়বদ্ধতা।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাত দাবি আদায়ে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারাদেশে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মিছিল ও প্রতিবাদের কর্মসূচি নিয়েছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) জুনিয়র শিক্ষার্থীর হাতে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে।
সংবাদমাধ্যমে ‘গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ সংক্রান্ত যে খবর প্রকাশ পেয়েছে সেটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স। একই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে কোম্পানিটি। ব্যাখ্যায় অর্থ আত্মসাতের কোনো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গুজরাটে নবরাত্রির উদ্বোধন, অংশ নিলেন শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
আগামী ২৭ মে`র মধ্যে দেশের নির্বাচন উপযোগী প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সর্বশেষ গণনার ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলঙ্কার ওজন নির্ধারণ ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করে নিলামে বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।