ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সামগ্রী ক্যাটাগরিতে সেরা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন,“বাংলাদেশ বেতার আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা আগামীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় আঞ্চলিক পর্যায়ে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>পাঁচ শর্ত পূরণ না হলে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরতে চায় না ৮৭ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা। তাঁদের এই শর্তগুলো হলো—নাগরিকত্ব ও স্বীকৃতি; নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক তদারিক; জমি-ঘর ফিরিয়ে দেওয়া ও পুনর্বাসন; চলাচলের স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকাসহ মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা এবং বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সরকারকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে রোহিঙ্গারা, এ হার প্রায় ৫৬ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান (ক্রিমিনোলজি) বিভাগের গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।</p><p> ‘অনিশ্চিত ঘরে ফেরা: উখিয়ার ক্যাম্প থেকে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাবনা’ (দ্য আনসার্টেইন রিটার্ন টু হোম: রোহিঙ্গা ভয়েসেস অন সেফ, ভলান্টারি অ্যান্ড ডিগনিফায়েড রিপ্যাট্রিয়েশন ফ্রম দ্য ক্যাম্পস অব উখিয়া) শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে দিনব্যাপী প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।</p><p> মূল পর্বে গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত ২ আগস্ট থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়ার ১৭টি শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের মতামত নেয়। জরিপে অংশ নেয় ৮১৬ জন রোহিঙ্গা। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ পুরুষ ও ৩৫ শতাংশ নারী। পাশাপাশি ৭২ জনের বিশদ সাক্ষাৎকার, হেড মাঝি ফোকাসড গ্রুপ আলোচনা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। গবেষণায় ৩৬টি বিষয় বা থিম ধরে গুণগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।</p><p>গবেষণার তথ্য অনুসারে, অংশগ্রহণকারী ৮১৬ জনের মধ্যে ৭১৩ জন অর্থাৎ ৮৭ শতাংশের বেশি জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা একেবারেই ফিরতে চায় না। নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, পরিচয়ের স্বীকৃতি, নিজেদের জমি ও বাড়িঘর ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক তদারকিসহ নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ হলে ফিরে যেতে চায় তারা। তাদের মতে, মিয়ানমারে তারা যে সহিংসতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তাতে এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তাদের প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ২০ শতাংশ মিয়ানমারে তাদের সম্পত্তির মালিকানা থাকার কথা বলেছে।</p><p>গবেষণায় বলা হয়, দেশে বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে ১২ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাস করছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে এসেছে দেড় লাখের মতো। গবেষণায় অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানামারে সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরেছে। পাশাপাশি শিবিরে একটা ঘেরাটোপের মধ্যে থাকা, রেশন কমে যাওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সনদ না থাকা, কাজের অনিশ্চয়তা, মানব পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও শিবিরে সশস্ত্র দলের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে রোহিঙ্গাদের কথায়।</p><h3>প্রত্যাবাসন হতে হবে টেকসই </h3><p>অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গত ৬ মে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশা, হতাশা ও অনিশ্চয়তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপত্তাহীনতার বোঝা তরুণী ও কন্যাশিশুদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি বলছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে তাদের নিজভূমি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে না। তারা প্রত্যাখ্যান করছে সেই পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে, যে পরিস্থিতি তাদের পালাতে বাধ্য করেছিল। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু একটি সীমান্ত পার হয়ে গেলেই প্রত্যাবাসন সফল হয়েছে—এমনটা বলা যায় না। বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো যদি সমাধান না হয়, অধিকার সুরক্ষিত না থাকে এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে আবারও মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এই সরকার সহানুভূতির সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মূল কারণগুলো সমাধানের দিকে জোর দিচ্ছে।</p><p>অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক–উর–রহমান বলেন, টেকসই প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এই গবেষণা থেকে নীতিনির্ধারকেরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মূল সমস্যাগুলোর সমাধানে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। রোহিঙ্গারা দীর্ঘ সময় ধরে থাকার কারণে তহবিল সংকটসহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।</p><p>অনুষ্ঠানে কনভেনর হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মু. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে। এই গবেষণায় উঠে এসেছে তাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, শিক্ষাপ্রাপ্তির ঘাটতি ও অপহরণ–চাঁদাবাজি–শারীরিক সহিংসতার শিকার হওয়ার বিষয়টি। এ বিষয়গুলো প্রকাশ করা উচিত, যাতে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয় ও সমাধানের ব্যবস্থা হয়।</p><p>অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (নিরোধ শিক্ষা, গবেষণা ও প্রকাশনা অধিশাখা) মো. রাজীব আহসান।</p><p>রোহিঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে মো. শফিক বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা নাগরিকত্ব। নাগরিকত্ব, ভূমির অধিকার, নিরাপত্তা ছাড়া আমাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন হলে তা টেকসই হবে না। আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোকে এ দিকে নজর দিতে হবে। আমরা প্রতিশোধ চাই না, ন্যায়বিচার চাই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/37ntgi1m/Rohinga-Research-02.jpeg"><figcaption>মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাবনা তুলে আনতে গবেষণাটি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান (ক্রিমিনোলজি)। আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে সেই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় </figcaption></figure><p>গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাধবিজ্ঞান গবেষণা ফোরামের (ডিইউসিআরএফ) সভাপতি সাফায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আদৃতা আরিফ।</p><p>মূল পর্বের আগে সকালে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (নিরোধ শিক্ষা) শামীম আহম্মেদ। এই পর্ব সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহারিয়া আফরিন। বক্তারা বলেন, নিয়ন্ত্রিত চলাচলে বাধ্যবাধকতার কারণে ও জীবিকার ঘাটতিতে অনেক রোহিঙ্গা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।</p><h3>গবেষণায় আরও যা এসেছে </h3><p>জরিপে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সরকারকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ হার প্রায় ৫৬ শতাংশ। এরপরের অবস্থানে জাতিসংঘ, প্রায় ২১ শতাংশ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে। তবে ৪ শতাংশ এমন মতও দিয়েছে যে তারা মিয়ানমার সরকারকে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। প্রায় ১৬ শতাংশ জানিয়েছে, তারা কোনো প্রতিষ্ঠানকেই বিশ্বাস করে না।</p><p>বিশদ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে, শিবিরের জীবনও প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। রোহিঙ্গারা এমন এক অবস্থায়, যেখানে একদিকে তাদের বিতাড়িত করা দেশ (মিয়ানমার), অন্যদিকে তাদের স্থায়ীভাবে একীভূত না করা আশ্রয়দাতা দেশ (বাংলাদেশ)। জরুরি সহায়তা কমছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানও শুরু হয়নি। ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের অর্থায়ন কমে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম। রেশন মাথাপিছু ১২ মার্কিন ডলার (১৪৭৪ টাকা বর্তমান ডলার মূল্যে) থেকে কমে ৭ ডলার (৮৫৯ টাকা) হয়েছে। রেশন কমে যাওয়ায় কিছু পুরুষ শিবিরের বাইরে অনানুষ্ঠানিক কাজে যাচ্ছে এবং এতে অপহরণ ও গ্রেপ্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। কর্মহীনতা থেকে জুয়া, জুয়া থেকে পারিবারিক সহিংসতা ও ঋণগ্রস্ততা, মানব পাচারের মতো সমস্যার কথাও উঠে এসেছে।</p><p>শিবিরে ১০ ফুট বাই ১৫ ফুটের ঘরে ছয় থেকে ১০ জনের থাকার কথাও সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। শিক্ষাব্যবস্থা সনদপ্রাপ্ত নয়, স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, চলাচল নিয়ন্ত্রিত এবং আইনগতভাবে চাকরি করার সুযোগ নেই। জরিপে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা এমন অভিযোগও করেছে যে, বিকেল থেকে শিবিরগুলো ৫ থেকে ৬টি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা হয়। ২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও শহুরে জীবনের গল্প নিয়ে আসছে তাসনুভা তিশা ও প্রান্তর দস্তিদার অভিনীত নাটক ‘মায়ার শহর’।<br></p><p>নাটকটির নির্মাতা ইয়াসিন রহমান সুমন বলেন, ‘এই শহরে আমরা সবাই কারও না কারও মায়ায় আটকে থাকি। চেনা শহরের ব্যস্ততা আর পরিচিত জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অনুভূতি নিয়ে সাজানো হয়েছে নাটকটির গল্প। প্রান্তর ও তিশা দুজনই অসাধারণ অভিনয় করেছে।’</p><p>নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন জুবায়ের জাহিন, তাসরিন জাহান স্বপ্না, সাজ্জাদ চৌধুরী, নয়ামূল করিম, ফয়সাল আহমেদ, মায়া, মামুন ইব্রাহিম, জয় ও মাহাবুব উদ্দিন। নাটকটির নির্বাহী প্রযোজক জয়ন্ত চন্দ্র। রচনা, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রশিদুর রহমান।</p><p>সিনেপ্লাস স্টুডিও জানায়, দর্শকদের রুচিশীল ও মানসম্মত গল্প উপহার দেওয়ার ধারাবাহিকতায় ‘মায়ার শহর’ তাদের অন্যতম বড় আয়োজন।<br>নাটকটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা দুইটায় মুক্তি পাবে সিনেপ্লাস স্টুডিওর (CinePlus Studio) অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে <a href="https://www.youtube.com/@cineplusbd">(https://www.youtube.com/@cineplusbd)</a>।</p>
<p>ইতালির বেরগামো শহরে একটি বিজ্ঞান উৎসবে গিয়েছিলেন ফ্রান্সিস হালজেন। কাজপাগল মানুষ, তাই ছুটির দিনেও হোটেল রুমে বসে বসে গবেষণার ফান্ডের জন্য একটা প্রপোজাল লিখছিলেন। এমন সময় বেজে উঠল ফোন। স্ক্রিনে সুইডেনের কোড নম্বর! বাকিটা তো ইতিহাস। চলুন, নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটের প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথের সঙ্গে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেনের কথোপকথন শোনা যাক। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন <strong>কাজী আকাশ</strong>।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> হ্যালো। আমি কি ফ্রান্সিস হালজেনের সঙ্গে কথা বলছি?</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> হ্যাঁ, বলছি।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> হ্যালো। আমার নাম অ্যাডাম স্মিথ।</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> আপনার ভাগ্য ভালো যে আমাকে ফোনে পেয়েছেন! আমি ফোনটা ধরেছি কারণ স্ক্রিনে সুইডেনের কোড দেখতে পাচ্ছিলাম। আপনার সঙ্গে কথা বলতে পেরে খুব ভালো লাগছে।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আমারও ভাগ্য ভালো যে আপনি সুইডেনের প্রিফিক্সটা চিনেছেন! প্রথমেই একটু জানতে চাই, খবরটা আপনি কীভাবে পেলেন? মানে, আপনি নোবেল পেয়েছেন, এটা কখন জানতে পারলেন?</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> জানেন নিশ্চয়ই, আমি এখন সফরে আছি। উইকেন্ডে বেরগামো শহরের একটা বিজ্ঞান উৎসবে এসেছিলাম। একটু আগে হোটেলের রুমে বসে ফান্ডের জন্য একটা আবেদন লিখছিলাম। কিছুদিন আগে একটা মিটিংয়ে আমি মজা করে বলেছিলাম, এই প্রপোজালটা যেন ফান্ড পেতে সাহায্য করে!</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> আশা করি আপনি ফান্ডটা পাবেন! তবে আমার ভয় হচ্ছে, নোবেল পাওয়ার পর আপনি এই প্রপোজালটা শেষ করার সময় পাবেন কি না!</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> হ্যাঁ, আমারও সেটাই মনে হচ্ছে! তবে জানেনই তো, আইসকিউব প্রজেক্টের মতোই আমার চারপাশে দারুণ সব মেধাবী সহকর্মী আছেন। ওরাই আমাকে সব বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। এবারও আমি ঠিকই ম্যানেজ করে নেব।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/cnzid3s4z4">আলোর সাহায্যে কীভাবে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করা যায়, জানালেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসারোথ</a></aside><blockquote>একটু আগে হোটেলের রুমে বসে ফান্ডের জন্য একটা আবেদন লিখছিলাম। কিছুদিন আগে একটা মিটিংয়ে আমি মজা করে বলেছিলাম, এই প্রপোজালটা যেন ফান্ড পেতে সাহায্য করে!</blockquote><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> আচ্ছা, আমরা যদি দক্ষিণ মেরুর স্বচ্ছ বরফের নিচে থাকা আপনাদের ওই বিশাল ও অদ্ভুত সুন্দর আইসকিউব প্রজেক্টের কথা ভাবি, আপনি এবং আপনার সহকর্মীরা নিশ্চয়ই এই অর্জন নিয়ে ভীষণ গর্বিত!</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> তা তো বটেই! তবে সত্যি বলতে, এই প্রজেক্ট নিয়ে আমি গর্বিত হওয়ার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছি। প্রজেক্টের একদম শুরুর দিকে ভেনিস শহরের এক কনফারেন্সে আমি বলেছিলাম, এই ডিটেক্টরটা কাজ করবে কি না, তা পুরোপুরি ঈশ্বরের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। তখন আমি লিস্ট করে বলেছিলাম, আমাদের সামনে কতগুলো বাধা আছে। আমরা সব বাধা পার করেছি দেখেই আজ আমি এখানে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল, বরফের ভেতরে আলো কীভাবে কাজ করবে, সেটা আমরা জানতাম না। আর আমাদের ডিটেক্টরটা মূলত আলো ধরেই কাজ করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/6ivy57yu/Francis_Halzen_nobel_laureate.webp"><figcaption>বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন</figcaption></figure><p>এরপরই আমরা সেই অভাবনীয় আবিষ্কারটা করে ফেললাম! দেখলাম, যে নীল আলোটা আমরা ধরছি, সেটা বরফের ভেতর দিয়ে শত শত মিটার অনায়াসে পার হয়ে যেতে পারে। এটা কেউ আশাই করেনি। গরম পানি দিয়ে বরফে গর্ত করার কাজটা সফল হবে কি না, ব্যাকগ্রাউন্ডের নয়েজ আমরা সামলাতে পারব কি না—এসব চিন্তার চেয়েও নীল আলোর এই ব্যাপারটা প্রজেক্টটাকে সফল করার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর পুরোটাই ছিল আমাদের ভাগ্য। এখন হয়তো ব্যাপারটা খুব স্বাভাবিক মনে হয়। অ্যান্টার্কটিকার এই প্রাচীন বরফ ৫০ হাজার বছর আগের। এটা খুব বিশুদ্ধ। সে কারণেই এত স্বচ্ছ। কিন্তু শুরুতে তো এর কোনো নিশ্চয়তা আমাদের কাছে ছিল না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/8ci6yczetn">অনেক জায়গায় কাজ করে ও শিখে নিজের মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করেছি—রসায়নে নোবেলজয়ী সুসুমু কিতাগাওয়া</a></aside><blockquote>প্রজেক্টের একদম শুরুর দিকে ভেনিস শহরের এক কনফারেন্সে আমি বলেছিলাম, এই ডিটেক্টরটা কাজ করবে কি না, তা পুরোপুরি ঈশ্বরের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।</blockquote><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> তবে ভাগ্য তো সাহসীদেরই সহায় হয়! আপনার ক্ষেত্রেও সব হিসাব একেবারে খাপে খাপে মিলে গেছে।</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> ওই যে বললাম, প্রতিটা পদক্ষেপে আমি গর্বিত হওয়ার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছি। এখন এর মাধ্যমেই নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক নতুন যুগের সূচনা হলো।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> আমি জানি এটা একদম শুরুর দিক, তবে এই নিউট্রিনোগুলো আসলে আমাদের কী দেখতে সাহায্য করবে?</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> আমরা নিজেরাই প্রথম যে উৎসটা শনাক্ত করতে পেরেছিলাম, সেটা একটা সক্রিয় গ্যালাক্সি। সেই গ্যালাক্সির ডেটা আমাদের বলে, গ্যালাক্সির একদম কেন্দ্রে থাকা ব্ল্যাকহোলের খুব কাছাকাছি জায়গা থেকে এই নিউট্রিনোগুলো তৈরি হয়।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> হুমম।</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> যেহেতু এটা একটা অ্যাকটিভ গ্যালাক্সি, তাই এর কেন্দ্রে একটা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল আছে। এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রটা প্লাজমা দিয়ে ঘেরা থাকে, যেটা নিউট্রিনো তৈরির মূল লক্ষ্যবস্তু। এমন একটা জায়গা থেকে আলো কোনোভাবেই বেরিয়ে আসতে পারে না। রেডিও টেলিস্কোপ দিয়ে হয়তো অনেক কষ্টে সেটা নিয়ে গবেষণা করা যায়। কিন্তু আমরা প্রথমবারের মতোই এমন একটা উৎসের খোঁজ পেলাম, যেখান থেকে সম্ভবত শুধু নিউট্রিনোই বেরিয়ে আসতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/h5djoiaz5q">‘আমাদের ডজনখানেক সদস্যকে পোষা পশুর সঙ্গে একটি ছোট্ট ঘরে থাকতে হতো’—রসায়নে নোবেলজয়ী ওমর ইয়াঘি</a></aside><blockquote>এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রটা প্লাজমা দিয়ে ঘেরা থাকে, যেটা নিউট্রিনো তৈরির মূল লক্ষ্যবস্তু। এমন একটা জায়গা থেকে আলো কোনোভাবেই বেরিয়ে আসতে পারে না।</blockquote><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> এটা তো সত্যি অভাবনীয়!</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে আমরা যতটা আশা করেছিলাম, এটা তার মাত্র একটা উদাহরণ। আজ সংবাদ সম্মেলনে একজন বলছিলেন, এই প্রজেক্টের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, আমরা এর জন্য ফান্ড পেয়েছিলাম! এমন একটা অদ্ভুত ধারণাকে ফান্ড দেওয়ার জন্য ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের অবশ্যই বড় একটা কৃতিত্ব প্রাপ্য।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> আপনি যে পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন, সেই উইসকনসিনের কথাও বলতে হয়। তারা তো আপনাকে দারুণভাবে সাপোর্ট করেছে।</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> হ্যাঁ, অসাধারণভাবে। দুটো দিক থেকে। উইসকনসিন এমন একটা জায়গা, যেখানে সবসময়ই প্রথা ভাঙা পদার্থবিজ্ঞান ও অদ্ভুত সব আইডিয়াকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। প্রজেক্টের একদম শুরুতেই আমরা তাদের সাপোর্ট পেয়েছিলাম। অথচ তখন বাকিরা ভাবত, আইডিয়াটা শুনতে খুব কিউট, কিন্তু এটা কোনোদিন কাজ করবে না! আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এবং প্রশাসন আমাদের পাশে ছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/eqj9phxj/wirestory_47d0ab2b92f3512eb09ed44ceb6006d8_16x9.avif"><figcaption>পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন</figcaption></figure><p>আমরা আরও একটা কারণে ভাগ্যবান ছিলাম। উইসকনসিন ইউনিভার্সিটির দূরদর্শিতা ছিল, তাই তারা এমন একটা ল্যাব তৈরি করেছিল, যেখানে আমাদের এই প্রজেক্টের জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল আকৃতির ও অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি বানানো সম্ভব হয়েছিল। ল্যাবটার নাম ‘ফিজিক্যাল সায়েন্সেস ল্যাবরেটরি’। এটা এক ধরনের অলাভজনক হাই-টেক ল্যাব। সেখানকার মেধাবী টেকনিশিয়ান ও ইঞ্জিনিয়াররা দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন। এই সেন্সরগুলো বসানোর জন্য গরম পানি দিয়ে বরফে গর্ত করার যে অত্যাধুনিক যন্ত্রটা আমাদের খুব দরকার ছিল, সেটা ওই ল্যাবেই ডিজাইন করে বানানো হয়। বছরের পর বছর ধরে বেশির ভাগ ইউনিভার্সিটিই এমন ল্যাব বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু উইসকনসিন তাদের এই সক্ষমতা ধরে রেখেছিল। এ কারণেই সেখানে বসে আইসকিউব প্রজেক্টটা সফল করা সম্ভব হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/kpuyyybln0">‘অক্টোবরে যে নোবেল দেয়, তা মনেই ছিল না’—পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী মিশেল দ্যভোরে</a></aside><blockquote>উইসকনসিন এমন একটা জায়গা, যেখানে সবসময়ই প্রথা ভাঙা পদার্থবিজ্ঞান ও অদ্ভুত সব আইডিয়াকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। প্রজেক্টের একদম শুরুতেই আমরা তাদের সাপোর্ট পেয়েছিলাম।</blockquote><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> শেষ করার আগে আমি একটু এই নতুন যুগ নিয়ে বলতে চাই। নিউট্রিনো ব্যবহার করে আপনারা মহাবিশ্বের একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে পারবেন, হয়তো সময়ের শুরুর দিকের রহস্য জানতে পারবেন। তার মানে, আমাদের সামনে আবিষ্কারের জন্য আরও বিশাল একটা জগৎ পড়ে আছে, তাই না?</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> একদম ঠিক। এই তো একজন আমাকে জিজ্ঞেস করল, আজ থেকে ৫০ বছর পর একজন নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞানীর কাজ কেমন হবে? সত্যি বলতে, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কোনো উপায় নেই। এমনকি আজ থেকে এক বছর পর কী হবে, আমি সেটার উত্তর দিতেও রাজি নই! দেখুন, গত ১৫ বছর ধরে আমরা ডেটা নিচ্ছি এবং ক্রমাগত নতুন নতুন আবিষ্কার করে চলেছি। আমার একটাই চাওয়া, এই ধারা যেন চলতেই থাকে। আমি জানি, এটা চলবে।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> আশা করি, সারা বিশ্বের তরুণরা এটা দেখে বলবে—হ্যাঁ, এই ফিল্ডটাই আমার জন্য!</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> আমিও সেটাই আশা করি।</p><p><strong>অ্যাডাম স্মিথ:</strong> আপনার সঙ্গে কথা বলে দারুণ লাগল। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।</p><p><strong>ফ্রান্সিস হালজেন:</strong> আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। ধন্যবাদ। বিদায়।</p><h4>সূত্র: নোবেল প্রাইজ ডটঅর্গ</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/frsduu736k">‘নোবেল জয়ের খবর শুনেও স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগায়নি’—পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী জন মার্টিনিস</a></aside>
৬০ বছর ধরে একই সাইকেল চালান সামাদ প্রামাণিক, কিনেছিলেন ২৮০ টাকায়
<p>ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হচ্ছিলেন বিরোধী দলগুলোর প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য। সেখান থেকে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আবার আটক করা হয়েছে।</p><p> এদিন এর আগে যন্তর মন্তর থেকে সামান্য দূরে জনপথের সাগররত্ন রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দেওয়া এক মধ্যাহ্নভোজ শেষে রাহুল গান্ধী এই বিক্ষোভের ঘোষণা দেন। সেখানে বামপন্থী ও তৃণমূলের মতো ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে খাবার খান কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা।</p><p> সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, ‘আমি গতকালও বলেছিলাম, আমাদের ৩০০ সংসদ সদস্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই আজ আমাদের পরিকল্পনা হলো যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করা।’</p><p>সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘আমরা দেশবাসীকে জানাতে চাই, জ্ঞানেশ কুমার বৈধ সিইসি নন। এঁরা দেশদ্রোহী। তাঁকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’ নির্বাচন কমিশন যা কিছুই করছে, তার পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত রয়েছে দাবি করে রাহুল বলেন, ‘এর মানে হলো মোদি নিজেই গণতন্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।’</p><p>গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে বিরোধী সংসদ সদস্যদের পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচির জেরে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরকারি ভবনে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে এই মামলাকে একেবারেই পাত্তা দেননি তিনি। নিজের নামে প্রায় চার ডজন এফআইআর আছে দাবি করে রাহুল বলেন, ‘আমার লক্ষ্য এটাকে ১০০–তে নিয়ে যাওয়া। প্রতিটি এফআইআর আমার কাছে একেকটি পদকের মতো।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/q7gbflti/Rahul-Gandhi-2.jpg"><figcaption>প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসের দিকে এগোচ্ছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। নয়াদিল্লির জনপথের ‘সাগর রত্ন’ রেস্তোরাঁয় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক শেষে তোলা ছবি। ৭ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><h3>মঙ্গলবারের নাটকীয় অবস্থান ও মিত্রদের ক্ষোভ </h3><p>ভোটার তালিকার সংশোধনীতে অনিয়ম নিয়ে গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই চাপে রয়েছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল ইন্ডিয়া জোট।</p><p>দুপুরের আগে প্রায় ২০০ সংসদ সদস্য নিয়ে পদযাত্রা শুরু হলেও পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে আকাশবাণী ভবনে এক নাটকীয় অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন রাহুল। কাছাকাছি পৌঁছাতেই সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অনেককে আটক করে পুলিশ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/ne1g0pym/Rahul-Gandhi-3.jpg"><figcaption>প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আকাশবাণী ভবনে বিক্ষোভ করার সময় আটক হন বিরোধীরা। পরে নয়াদিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্পের নিউ পুলিশ লাইনে রাখা হয় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্য সংসদ সদস্যদের। ৭ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ঠিক উল্টো দিকের পেছনের গেট দিয়ে বের হওয়ার জন্য তাঁরা আকাশবাণী ভবনে ঢুকেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেই গেট তালাবদ্ধ করে দিলে তাঁরা অল ইন্ডিয়া রেডিওর কার্যালয়ের প্রাঙ্গণেই বসে পড়েন। পুলিশ সরিয়ে দেওয়ার আগে টানা ৯ ঘণ্টা তাঁরা একটি গাছের নিচে অবস্থান করেন। সেখানেই চা–নাশতা সারেন নেতারা। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশ। দুই ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।</p><p>তবে মঙ্গলবারের এই নাটকীয় অবস্থান কর্মসূচি ভালোভাবে নেয়নি ইন্ডিয়া জোটের কিছু শরিক দল। সূত্র বলছে, মিত্রদের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গান্ধী পরিবার পুরো ‘ফোকাস নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে’। মিত্রদের অন্ধকারে রাখায় যে ‘অবিশ্বাসের’ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/india/h32wefg93m">দিল্লিতে ধরনা থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, দুই ঘণ্টা পর মুক্তি</a></aside>
কর্মসূচির আওতায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রোপণ করা হয় নানা প্রজাতির গাছের চারা। চারার স্থান নির্বাচন ও ক্রয় থেকে শুরু করে রোপণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াতেই বন্ধুসভার সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/4kl135ps/Mamun-Arrest-02.jpeg"><figcaption> সংবাদ সম্মেলনে রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে </figcaption></figure><p>এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামে একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।</p><p> পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারী। সেখানে একটি সুপারি বাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।</p><p> তারপরও খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবুল নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। </p><p>আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।</p><p>পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। ফোনে কথা বলার পর শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাঁকে। সেখান থেকে তাঁকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না।</p><p>কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামে একজন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারি বাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।</p><p>তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।</p><p>পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা পাঠান। তারপরও ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহুরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় নিখোঁজের জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/v0fexe1l/Mamun-Arrest-01.jpeg"><figcaption>বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় আসা রাকিবুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ </figcaption></figure><h3>হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার </h3><p>সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যান। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর বাসায় গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।</p><p>পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই রাকিবের পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যায় মামুন।</p><h3>কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে </h3><p>পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তাঁর মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে ফেলেন তিনি। এরপর তার বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিলো না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারী নেওয়া হলেও কারো সন্দেহ হয়নি।</p><p>পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারি বাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।</p><p>মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারি বাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতরে রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তাঁর বড় ভাই জহুরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।</p><p>রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।</p>
<p>নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের সংক্রমণ। বিভিন্ন কারণে এই সংক্রমণ হতে পারে। আর যাঁদের আগে থেকেই হৃদ্রোগ রয়েছে, তাঁদের শরীরে নিউমোনিয়া বা ফ্লুর সংক্রমণ হলে সংক্রমণের কারণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। ফলে আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে হৃদ্রোগের জটিলতা। এ কারণে হৃদ্রোগীদের নিউমোনিয়া ও ফ্লু থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>ফ্লু বা নিউমোনিয়ার সময় শরীরে একধরনের প্রদাহ তৈরি হয়। সংক্রমণের কারণে শরীরের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, তা আগে থেকেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য বাড়তি চাপ। ফলে হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিওরের মতো জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যাঁদের হার্ট ফেইলিওর, হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালিতে ব্লক রয়েছে, তাঁদের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ডায়াবেটিস, কিডনি বা ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বেশি।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন হৃদ্রোগসহ উচ্চঝুঁকির ব্যক্তিদের ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কার্ডিওভাসকুলার রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক হৃৎস্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে টিকাদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। </p><figure><img alt="টিকা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-07-13/h5cftz69/photo-1611694449252-02453c27856a.avif"><figcaption>ফ্লুর মৌসুম শুরুর আগেই ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া ভালো</figcaption></figure><p>বাংলাদেশে সাধারণত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ফ্লুর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তাই ফ্লুর মৌসুম শুরুর আগেই ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া ভালো। এতে শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়ার জন্য সময় পাওয়া যায়। টিকা সাধারণত প্রতিবছর নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।</p><p>ফ্লু ছাড়াও ব্যাকটেরিয়াজনিত আরেক ধরনের নিউমোনিয়া হতে পারে, সেটার জীবাণুর নাম নিউমোকক্কাস।</p><p>অনেকে মনে করেন, হৃদ্রোগের ওষুধ চললে এই টিকা নেওয়া যাবে না। এটাও ঠিক নয়। একটা বিষয় বুঝতে হবে, হৃদ্রোগের ওষুধ হৃদ্রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন। অন্যদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকক্কাল টিকা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা এবং হৃদ্রোগের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। </p><h3>কাদের জন্য টিকা</h3><p>বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ বা কিডনির রোগের মতো অন্যান্য ক্রনিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টিকার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। </p><p>কারা নিউমোকক্কাল টিকা নেবেন এবং একবার নিলেই যথেষ্ট কি না, তা নির্ধারণের আগে ব্যক্তির বয়স, রোগের ধরন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতার অবস্থা এবং আগে কোনো নিউমোকক্কাল টিকা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। চাইলে একই দিনে ফ্লু ও নিউমোকক্কাল টিকা নেওয়া যায়। তবে দুটি টিকা আলাদা সিরিঞ্জে এবং শরীরের আলাদা স্থানে দিতে হয়।</p><p>পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ, ডায়াবেটিক ফুট, বাইপাস রোগীদের টিকাদানের অবস্থা পর্যালোচনা করা উচিত। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে, বয়স বেশি অথবা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে, তাঁদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকক্কাল টিকার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে কখন টিকা দেওয়া হবে, তা রোগীর সংক্রমণ, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার অবস্থা এবং সার্বিক শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসক এসব বিষয় বিবেচনা করে টিকা দেওয়ার</p><p>সময় নির্ধারণ করেন। অনেকের ধারণা, টিকা শুধু শিশুদের জন্য। এই ধারণা</p><p>ঠিক নয়। বয়স্ক ব্যক্তি, হৃদ্রোগী ও ভাসকুলার ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিউমোকক্কাল টিকা গুরুত্বপূর্ণ।</p><p><sup>লেখক: ইউনিট প্রধান, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি), ঢাকা।</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%A8%E0%A6%AF%E0%A6%BC">বুকে ব্যথা মানেই হৃদ্রোগ নয়</a></aside>
বাংলাদেশে আসন্ন দুর্গাপুজায় টানা তিনদিন সরকারি ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে তাদের জন্য এই সপ্তাহের একদিনের ছুটি কমছে। বিস্তারিত বিবিসি বাংলা লাইভ পাতায়...
পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে অবস্থিত ‘আপনজন’ নামক একটি বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত পৃথক পৃথক ভুয়া দাবির অভিযোগে মঙ্গলবার ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জাল প্রমাণ তৈরিতে সাহায্যের জন্য সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
নেহা বোরার রাজনৈতিক উত্থানের শুরুটা হয় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত অভিজিৎ দীপকে ও সোনম ওয়াংচুকের পাশাপাশি তিনিও একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
যে মামলাটি বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত খুনি দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে গিয়ে টেনেসির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
কয়েকদিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে। তার সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। তাদের অনেকে বলছেন যে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি তিনিই।
বিশ্বের ৫০০ ভালো শহরের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো শহর নেই। ৫ই অগাস্টের পরপরই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ান বিএনপির তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী। মশা মারার জন্য সারা দেশে ৪৮ হাজারের বেশি কমিটির কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের জীবনটা খুব সহজ নয়, বরং বড় উত্থান-পতনে ঘেরা। বলা চলে, তিনি ছিলেন সেই 'রাজপুত্র' যিনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। ‘প্রতিবিপ্লবী’ হিসেবে চিহ্নিত একজন ব্যক্তির পুত্র হওয়ায় কিশোর শি-কে জোর করে একটি পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, গত চৌঠা অক্টোবর সৌদির আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে বাংলাদেশি নাগরিক মোঃ সজিব হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। কে এই সজিব ? কী জানা যাচ্ছে তার সম্পর্কে?
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন চলাকালে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের শিকার হয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ হুমায়ুন কবীর। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এ সময় ইলিশ মাছ বিপণন, পরিবহন, বিক্রি বন্ধ থাকবে।
এস্তাদিও মনুমেন্তালের ঠিক মাঝখানে, আশি হাজার মানুষের সামনে, বাবার বুকে মুখ গুঁজে কাঁদছে তেরো বছরের ছেলেটা।
রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক এবং মাউশির উপসচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
ঢাকা, রংপুর ও গাজীপুরের নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, তিন জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
জেট ফুয়েলের দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত মূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের (শুল্ক ও মূসকসহ) দাম ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্মম নির্যাতনে শহীদ হন আবরার ফাহাদ। তার শাহাদাতবার্ষিকীতে জাতীয় ছাত্রসভা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তার আত্মত্যাগ স্মরণ করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে শহীদ আবরার ফাহাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার ক্যাটাগরিতে সেরা নির্বাচিত হয়েছে জেআরসি পাওয়ারটেক এবং পরিবেশ সুরক্ষা উপকরণ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে চার্ম লিমিটেড। এ ছাড়া গ্রিন কনস্ট্রাকশন ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।