ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ৭ তরুণের, আটক ৪
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে ভারতে প্রবেশের সময় চার তরুণকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম আদালতকক্ষ থেকে হাতকড়া খুলে পালিয়েছেন
<p>প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে ২০০৮ সালের ৩১ মে প্রকাশিত ‘শায়েস্তা খাঁর এক টাকা’ শিরোনামে এ লেখাটি এত দিন শুধু ছাপা কাগজে ছিল, আজ অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।</p><p>যিনি কোনো দিন ইতিহাসে পাঠ নেননি তিনিও শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত বলে তথ্য প্রদান করেন। আহ্, জীবন কত সুখের ছিল ওই আমলে।</p><p>জন-অভিব্যক্তি এমন যে শায়েস্তা খাঁর আমলে এক টাকায় এক সের নয়, এক মণ নয়, আট মণ চাল পাওয়া যেত। শায়েস্তা খাঁ যদি টাকায় আট মণ চালের ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে বর্তমানের শাসকেরা চোরচোট্টাদের শায়েস্তা করে টাকায় অন্তত এক ছটাক চালের ব্যবস্থা করতে পারলেও তো মানুষ ধন্য ধন্য রবে ফেটে পড়ত।</p><p>একজন ইতিহাসচর্চাকার হিসেবে আমি বর্তমানকে পেছনে ফেলে টাকায় আট মণের যুগে ফিরে তাকাতে চাই। আমি তাকাতে চাই ক্রেতার দিক থেকে নয়, বিক্রেতার দিক থেকে। চাল বিক্রেতা অর্থাৎ শায়েস্তা খাঁর আমলের কৃষক কত চাল হাটে তুলে কত টাকা পাচ্ছেন? ধরুন, শায়েস্তা খাঁর ব্যবস্থায় একজন কৃষক আট মণ চাল বিক্রি করে হাতে পেল এক টাকা। কার মূল্য বেশি, চালের না টাকার? একটি টাকা অর্জনের জন্য আট মণ চাল বিক্রি করতে হবে কৃষককে। এর মানে প্রথমে তাকে ১৬ মণ ধান উত্পাদন করতে হবে। কত ধানে কত চাল সবারই জানার কথা। এখানেই শেষ নয়। ১৬ মণ ধান উত্পাদনের পাশাপাশি তাকে সরকারের খাজনার জন্য আরও অতিরিক্ত ১৬ মণ ধান উত্পাদন করতে হবে; কেননা তখন জমির উত্পাদনের প্রায় অর্ধেক সরকার আদায় করে নিত খাজনাপাতি হিসেবে। কৃষককে অন্তত আরও ১৬ মণ অতিরিক্ত ধান উত্পাদন করতে হবে বছরওয়ারি পাওনাদারদের বিদায় করার জন্য। তখন মূলত ফসলেই শোধ করা হতো সারা বছরের বাকি। ফসল ওঠার পরপরই হাজির হবে মুদিদোকানি, তাঁতি, পাটনি, নাপিত, কামার, কুমার, ছুতার—যারা তাকে সারা বছর বাকিতে মাল বিক্রি ও সার্ভিস প্রদান করেছে। এর মধ্যে আছে আবার বৈদ্যের ফি, ব্রাহ্মণের যজমানি, পীরফকিরের মুষ্টিভিক্ষা। সবাইকে বিদায় করতে হয় ধানে এবং তা করার পর কৃষকের নিজের খোরাকির জন্য যা থাকে তাতে সারা বছর নুন-ভাত চললে তা এক পরম ভাগ্যের কথা। খোরাকি অর্থনীতির এ উত্পাদনব্যবস্থায় একজন কৃষকের পক্ষে হাটে আট মণ চাল বিক্রি করে এক টাকার অধিকারী হয়ে ঘরে ফেরা এক অসাধারণ এবং বিরল কৃতিত্বই বটে। এ কৃতিত্বের অধিকারী কেউ হয়ে গেলেও তার উদ্বেগ ছিল এ টাকার নিরাপত্তা নিয়ে। টাকাটির গন্ধ পেয়ে গেলে চোর-ডাকাত, সরকারি পেয়াদা এটি হাতিয়ে নিতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে।</p><blockquote>ওই সময়কার কৃষি উত্পাদন বাজারমুখী ছিল না, ছিল খোরাকিমুখী। কৃষক উত্পাদন করত খোরাকির জন্য, বাজারের জন্য নয়। প্রয়োজনীয় খোরাকি-ফসলের প্রায় সমপরিমাণ ফসল উত্পাদন করতে হতো সরকারের খাজনাপাতি ও বছরব্যাপী নেওয়া পণ্য ও সার্ভিস ঋণ পরিশোধ করার জন্য।</blockquote><p>এককথায় শায়েস্তা খাঁর যুগ সুখের ছিল বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানানো দরকার, এই সুখ সাধারণ মানুষের নয়, এই সুখ উত্পাদক শ্রেণির নয়, এই সুখ কেবল শাসকশ্রেণির; এই সুখ এ দেশে আগত বিদেশিদের, যারা নগদ টাকার অধিকারী ছিল।</p><p>মনে রাখতে হবে, ওই সময়কার কৃষি উত্পাদন বাজারমুখী ছিল না, ছিল খোরাকিমুখী। কৃষক উত্পাদন করত খোরাকির জন্য, বাজারের জন্য নয়। প্রয়োজনীয় খোরাকি-ফসলের প্রায় সমপরিমাণ ফসল উত্পাদন করতে হতো সরকারের খাজনাপাতি ও বছরব্যাপী নেওয়া পণ্য ও সার্ভিস ঋণ পরিশোধ করার জন্য।</p><p>খোরাকি অর্থনীতিতে নগদ টাকার খেলা কম বা নেই বললেই চলে। গ্রামের মানুষের চাহিদা গ্রামেই মেটানোর ব্যবস্থা সমাজ গড়ে তুলেছিল। তাঁতি, নাপিত, কামার, কুমার, শিক্ষক প্রভৃতি পেশাদার মানুষ সার্ভিস প্রদান করত কৃষিপণ্যের বিনিময়ে।</p><blockquote>মোগল বাংলায় বাজারে পণ্য সস্তায় পাওয়া যেত এ কথা শুনি শুধু বিদেশি পর্যটকদের মুখে। ইবনে বতুতা, বার্নিয়ার ও আরও অনেকে বর্ণনা দিয়েছেন সস্তা পণ্যের। জানা দরকার, শুধু পণ্য নয়, মানুষও চালের মতো সস্তায় বিক্রি হতো হাটে। ইবনে বতুতা পরম খুশি হয়েছিলেন এক টাকায় দুজন সুন্দরী মেয়ে কিনতে পেরে।</blockquote><p>একটি টাকার ক্রয়মূল্য ছিল এতই বিশাল যে গ্রামীণ মানুষের কাছে একটি পূর্ণ মূল্যের সিক্কা টাকা ছিল জনশ্রুতির ব্যাপার। পণ্যবিনিময় ছাড়া নগদ মূল্যে বাজারে কেনাবেচা হতো মূলত কড়ির মাধ্যমে। বলা যায়, গ্রাম পর্যায়ে কড়িই ছিল নগদ কেনাকাটার মাধ্যম। চালের মতো কড়ি একটি পণ্য। দক্ষিণ ভারতের পূর্ব উপকূল রাজ্য কর্ণাটকের কড়ির সঙ্গে বিনিময় হতো বাংলার চাল। পূর্ববঙ্গের গ্রামাঞ্চলে কড়িকে পণ্য বিনিময়ের মাধ্যম করা হলো। কড়ির হিসাব: ৪ কড়িতে ১ গন্ডা, ২০ গন্ডায় ১ পণ, ৪ পণে ১ আনা, ৪ আনায় ১ কাহন, ৪ কাহনে ১ টাকা। এখন বুঝে নিন এক টাকার আসন কত উঁচুতে। একটি টাকার অধিকারী যিনি, তিনি একজন টাকাওয়ালা মান্যবর মানুষ। সমাজে তিনি টাকাওয়ালা অর্থাৎ ধনীরূপে সম্মানিত। তবে গ্রামে এহেন টাকাওয়ালা ছিল বিরল।</p><p>টাকার প্রচলন ছিল শহর-বন্দরে, যেখানে পাইকারি কেনাবেচা হতো। শহরে যদি এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যায় তাহলে গ্রামের হাটে চালের মূল্য আরও কত কম হতে পারে ভেবে দেখার বিষয়। গ্রামে টাকায় অন্তত ১৫ মণ চাল না মিললে শহর-বন্দরে তা টাকায় আট মণ পাওয়ার কথা নয়।</p><p>মোগল বাংলায় বাজারে পণ্য সস্তায় পাওয়া যেত—এ কথা শুনি শুধু বিদেশি পর্যটকদের মুখে। ইবনে বতুতা, বার্নিয়ার ও আরও অনেকে বর্ণনা দিয়েছেন সস্তা পণ্যের। জানা দরকার, শুধু পণ্য নয়, মানুষও চালের মতো সস্তায় বিক্রি হতো হাটে। ইবনে বতুতা পরম খুশি হয়েছিলেন এক টাকায় দুজন সুন্দরী মেয়ে কিনতে পেরে।</p><p>খাদ্য যেহেতু আমদানি হতো না, কোনো কারণে ফসলহানি হলে দুর্ভিক্ষ ছিল অনিবার্য। তখন স্ত্রী, পুত্র–কন্যাদের দাস হিসেবে বিক্রি করতে হতো বাঁচার জন্য। খোরাকি অর্থনীতির ফলে থেকে থেকে আকাল, দুর্ভিক্ষ ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। আবার আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশে মাঝে মাঝে বাম্পার ফলনও ছিল স্বাভাবিক। তখন কৃষিপণ্যের বাজার এমন মন্দা হয়ে যেত যে গ্রাম পর্যায়ে এর মূল্য প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসত। অর্থাৎ কিনা, ফসলহানি হলে আসত খাদ্যাভাব আর বাম্পার ফসলের ফলে আসত টাকার অভাব। অর্থাৎ অভাব ছিল মধ্যযুগীয় সমাজের নিত্যসঙ্গী।</p><blockquote>শায়েস্তা খাঁর যুগে ঢাকায় অনেক ইউরোপীয় বণিক ও ভ্রমণকারী এসেছেন। তাঁদের চোখে স্থানীয় বাজারে জিনিসের দাম ছিল ইউরোপের তুলনায় নিদারুণ সস্তা। জিনিসের দাম সস্তা হওয়া যে প্রাচুর্য নয়, উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা নয়, তা পর্যটকেরা সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছেন।</blockquote><p>শায়েস্তা খাঁর যুগে ঢাকায় অনেক ইউরোপীয় বণিক ও ভ্রমণকারী এসেছেন। তাঁদের চোখে স্থানীয় বাজারে জিনিসের দাম ছিল ইউরোপের তুলনায় নিদারুণ সস্তা। জিনিসের দাম সস্তা হওয়া যে প্রাচুর্য নয়, উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা নয়, তা পর্যটকেরা সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছেন। অভিজাত শ্রেণি ছাড়া মধ্যযুগে নারী-পুরুষের প্রায় উলঙ্গ থাকা, খড়কুটো নির্মিত ঘরে থাকা, ভাতের জন্য নিজেকে বিক্রি করা ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। শ্রমের বাজার ছিল এমন যে শ্রমিককে পারিশ্রমিকের বদলে খাবার দিলেই যথেষ্ট ছিল এবং সেটাই ছিল প্রথা। তাহলে তার পরিবারের ভরণপোষণ? তাদেরও পেটেভাতে মজুরি বিক্রি করতে হতো।</p><p>মধ্যযুগের সমাজে আমরা চার শ্রেণির মানুষ পাই—শাসকশ্রেণি, যাজকশ্রেণি, ভিক্ষুকশ্রেণি এবং কৃষক-মজুরশ্রেণি। শাসক, যাজক, ভিক্ষুক সবাই হাত বাড়িয়েছে কৃষকশ্রেণির উত্পাদনের ওপর। এ ব্যবস্থা সবচেয়ে পাকাপোক্ত হয়ে উঠল শায়েস্তা খাঁর আমলে, যখন জমির প্রায় অর্ধেক উত্পাদন খাজনা হিসেবে তুলে নেওয়া হতো। ব্যাপারটার গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য কল্পনা করুন, আজকের সরকার কৃষকের উত্পাদিত অর্ধেক ফসল রাজস্ব কর হিসেবে তুলে নিল। কেমন হবে প্রতিক্রিয়া? তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া সেকালের মানুষ দেখাতে পারেনি। কেননা স্বৈরশাসন, বিদেশি শাসন, আভিজাত্যিক ও ধর্মীয় অনুশাসন উত্পাদক শ্রেণিকে একটি অসংগঠিত অসহায় শ্রেণিতে পরিণত করেছিল। অতএব উচ্চ মূল্যের কথা বলতে গিয়ে যখন বলেন শায়েস্তা খাঁর আমলের এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়ার কথা, তখন শুধু টাকাওয়ালা ক্রেতার দিকটাই লক্ষ করলেন, কপর্দকহীন কৃষক-শ্রমিকের দিকটা একবার ভেবে দেখুন।</p>
অস্ট্রেলিয়ায় ডেঙ্গুর টিকা পাওয়ার খবরে সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। প্রতিবছর ছুটির মৌসুমে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সপরিবারে বাংলাদেশে যান।
পরিদর্শনে গিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘একেক জনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম হতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এ ধরনের অবকাঠামো উদ্যানের মধ্যে আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি।
‘রিকনসিলিয়েশন’ ভালো আইডিয়া, তবে সেটা আওয়ামী লীগকেই চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
<p>শুভসন্ধ্যা। আজ মঙ্গলবার। রাজনীতি, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, ক্রীড়া, বিনোদনসহ আলোচিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দিনভর প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে নানা খবর। এর অনেকগুলোই হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। সন্ধ্যার অবসরে চোখ বুলিয়ে নিন সারা দিন প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত আলোচিত পাঁচ খবরে:</p><h3>প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু: দিনে গড়ে ১৪টির বেশি মরদেহ এসেছে, কোন দেশে বেশি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2019/10/24/a3d26002fe7aa66aa574a4a6e55021e0-5db18754a73d6.jpg"><figcaption>২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ভোরে কফিনে মোড়ানো অবস্থায় দেশে আসে খুলনার আবিরনের লাশ। প্রবাসী শ্রমিকের এমন মৃত্যু এখনো হচ্ছে</figcaption></figure><p>কম্বোডিয়ার টাইলস কারখানায় কাজ করতেন পাবনার আল আমিন। কাজের সময় শতাধিক টাইলসের নিচে চাপা পড়ে মারা যান তিনি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে আসে তাঁর মরদেহ। তিনি মারা যান ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল। মরদেহ দেশে আসতে সময় লেগে যায় প্রায় দেড় বছর। <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/1ojrmbhc8u">বিস্তারিত পড়ুন... </a></p><h3>জ্ঞানেশেই কি গণেশ ওলটাবে মোদির?</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/m4we9m8t/Screenshot-2026-10-05-183200.jpg"><figcaption>যদি জ্ঞানেশ কুমারকে সরে যেতে হয়, তাহলে তাতে সবচেয়ে ক্ষতি হবে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার।</figcaption></figure><p>পাকিস্তানে তখন উর্দি শাসন। জেনারেল মোশাররফ ক্ষমতায়। রাজনৈতিক দলগুলো মারাত্মক চাপে। নেতারা দেশছাড়া। পিপিপি নেত্রী বেনজির ভুট্টোও দেশে ঢুকতে পারছেন না। তাঁকে পালাবদল করে কখনো লন্ডনে, কখনো দুবাইয়ে থাকতে হচ্ছে। এ রকম সময়ে ২০০১ সালের ২৫ নভেম্বর বিকেলবেলায় দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (পরে উপপ্রধানমন্ত্রী হন) লালকৃষ্ণ আদভানির বাসায় বেড়াতে এসেছেন বেনজির ভুট্টো।<a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/6qs0aa9wo5"> বিস্তারিত পড়ুন... </a></p><h3>‘হুমকি’র মুখে ব্রিটেনের ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কমল ইরানে দ্রুত হামলার সক্ষমতা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/b5xhchn9/b-1-bomaru.jpg"><figcaption>যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির রানওয়েতে দাঁড়িয়ে একটি মার্কিন বি-১ ল্যান্সার বোমারু বিমান</figcaption></figure><p>যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে ‘কিছু হুমকি’র কারণে সেখান থেকে নিজেদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। <a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/1eo0gv4evo">বিস্তারিত পড়ুন... </a></p><h3>বিদায়ের মাঠ মনুমেন্তালই সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছে মেসিকে</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/zfd84b4o/836896862289315873831970604065414703427257636n.jpg"><figcaption>লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের নিচে বল। আকাশি–সাদা বুটে তাঁকে এভাবে দেখার সময় এখন একদমই শেষের পথে</figcaption></figure><p>আর কোনো স্টেডিয়াম লিওনেল মেসিকে এতটা ভালোবাসেনি। সেই মনুমেন্তালেই আকাশি–সাদায় শেষবারের মতো দেখা দেবেন মেসি। কী এক ভালোবাসার বন্ধনে মনুমেন্তাল তাঁর সোনার ছেলেকে বেঁধেছে, তার আসলে ব্যাখ্যা হয় না। যেমনটা হয় না মেসিকে বল পায়ে দেখলেই বুকের ভেতর বয়ে চলা ঝড়ের ব্যাখ্যা।<a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/6vx22wx0p4"> বিস্তারিত পড়ুন... </a></p><h3>রাধিকার অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফাঁস নিয়ে বিতর্ক, ‘কেউ হয়তো মুঠোফোনে ভিডিওটি করেছেন’</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/6mqjiy73/ed960370-4fb6-4f31-9c31-9f8c43e75d30.jpg"><figcaption>রাধিকার ফাঁস হওয়া অন্তরঙ্গ দৃশ্যটি নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেতা অনিরুদ্ধ সূর্য</figcaption></figure><p>রাধিকা আপ্তের একটি সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আবারও অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় ধারণ করা ফুটেজ কীভাবে ফাঁস হয়ে যায়, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’–এর অভিনেতা অনিরুদ্ধ সূর্য। <a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/z1t1lodzr1">বিস্তারিত পড়ুন... </a></p>
সবার আগে মাথায় রাখতে হবে, প্রযুক্তি দিয়ে কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে হবে, কিন্তু নেতৃত্ব দিতে হবে মানুষের মানবিক প্রজ্ঞা দিয়ে।
কী থাকছে সেই অনুষ্ঠানে? আজ ইনস্টাগ্রামে এক ফটোকার্ডে সেই সূচি প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এক অনির্ধারিত সফরে দিল্লিতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে বিবিসি জানাতে পেরেছে। এদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শরিফুল ইসলাম শফিক নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন। বিস্তারিত বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
বাংলাদেশে এবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০শে অক্টোবর থেকে পরবর্তী তিনদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও কমপক্ষে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
চট্টগ্রামের আদালতে বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষ্য দিতে না আসা প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার একটি সংবাদ নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেনো এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো এবং গ্রেফতার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নও সামনে আসছে।
বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ইতি ঘটবে। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপর কী করবেন?
উত্তর মেরুর একাধিক সংজ্ঞা রয়েছে - এবং সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি একেবারেই স্থির থাকে না।
নওয়াজ শরীফ এবং ইমরান খান, দুজনেই লাহোরের সচ্ছল কিন্তু অরাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শুরুতে কেউই রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন না। দু'জনই এক সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু কেউই নিজেদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। দু'জনকেই বিতর্কিত মামলায় সাজা ও কারাবরণ করতে হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে নিজেদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে বিষয়ে কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান এই ঘটনার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই- জড়িত থাকার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান।
সরকারের খাতায় ২০ লাখ শিশুর তথ্য নেই; আগামী রমজানের আগেই ইউনিয়ন পরিষদের তিন ধাপের নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন; অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে– ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রগুলোতে এসব খবর গুরুত্বে পেয়েছে।
সময়ের একটা বন্টন আছে, ইতিহাসের বইয়ে আছে হাজারো পরিচ্ছেদ। তবে সব ঘটনাই ইতিহাস হয় না। ইতিহাস লিখেন বিজয়ীরাই।
বলিউডের জনপ্রিয় জুটি শাহরুখ খান ও কারিনা কাপুর খানকে আবারো একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করে আসছেন। গত বছর পুরস্কার ঘোষণার আগেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা আমাকে কখনোই নোবেল শান্তি পুরস্কার দেবে না। এটা খুবই দুঃখজনক। আমি এর যোগ্য, কিন্তু তারা আমাকে কখনোই এটা দেবে না।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর ভুল চিকিৎসায় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নবনির্মিত অত্যাধুনিক গবেষণাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বরগুনার আমতলী থেকে অপহরণ করা কিশোরীকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)। এ ঘটনায় কিশোরীর ফুপা আমিরুল ইসলাম আমিরকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
‘ভারতে শান্তি নেই’; এমন মন্তব্য করে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত।
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।