<p>ফুটবল মাঠে সমর্থকেরাই দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়। গ্যালারি থেকে তাঁদের গর্জন কখনো প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে, কখনো নিজেদের খেলোয়াড়দের বাড়তি শক্তি জোগায়। কিন্তু সেই সমর্থকেরাই যখন সীমা ছাড়িয়ে যান, তখন বিপদে পড়ে তাঁদের প্রিয় ক্লাব। </p><p>বার্সেলোনার ক্ষেত্রে এখন সেটাই হয়েছে। এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি। এর মধ্যেই নিজেদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হলো কাতালান ক্লাবটিকে।</p><p>গত রোববার রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে সমর্থকদের অসদাচরণের জেরে ‘গোল ১৯৫৭’ নামের সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠীগুলোকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে বার্সেলোনা। আগামী রোববার লা লিগায় আলাভেসের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচে ক্যাম্প ন্যুর ‘গ্রাদা দ’আনিমাসিওন’ নামের সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত গ্যালারি বন্ধ থাকবে।</p><p>কেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত? রোববারের এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনা সমর্থকদের বিরুদ্ধে ১০টি শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে লা লিগা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ঘিরে। রিয়ালের জয়সূচক গোলের পর গ্যালারির ওই অংশে থাকা এক সমর্থক পতাকা দিয়ে কামাভিঙ্গাকে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, রিয়ালের কোচ জোসে মরিনিও এবং দলটির বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াকে উদ্দেশ করে অপমানজনক মন্তব্যও করেছেন বার্সেলোনার সমর্থকেরা। কুকুরেয়া একসময় বার্সেলোনার যুবদলে খেলেছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/vblsd106/1d9c0edc7ec47610412da4f31a138ede.webp"><figcaption>এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনা সমর্থকদের বিরুদ্ধে ১০টি শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে লা লিগা। </figcaption></figure><p><br>এসব ঘটনা লা লিগার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে জানানো হয়েছে। বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘খেলাধুলার মূল্যবোধের পরিপন্থী আচরণের কারণে ক্লাব ও এর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের আচরণের কারণে ক্লাবকে আর্থিক জরিমানা দিতে হতে পারে। এমনকি স্টেডিয়াম বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। পাশাপাশি এতে ক্লাবের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/o57fa8tnnv">আলভারেজ–কাণ্ডে ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা বার্সেলোনার, তবু আপিল করবে ক্লাবটি</a></aside><p>তবে সমর্থকদের জন্য দরজা একেবারে বন্ধ করে দিচ্ছে না বার্সেলোনা। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে ‘গোল ১৯৫৭’–এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। উদ্দেশ্য, আগামী ৩ নভেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচেই যেন তাঁরা গ্যালারিতে ফিরতে পারেন।</p><p>‘গোল ১৯৫৭’ নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বার্সেলোনার ইতিহাস। ১৯৫৭ সালে প্রথম উদ্বোধন করা হয়েছিল ক্যাম্প ন্যু। সেই বছরটিকে স্মরণ করেই সমর্থকদের এই অংশের নামকরণ। স্টেডিয়ামের দক্ষিণ গ্যালারির নিচের অংশটি সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠীগুলোর জন্য নির্ধারিত। চলতি বছরের মার্চে প্রথম এই ব্যবস্থা চালু হয়। শুরুতে সেখানে ৮০০ সমর্থকের জায়গা রাখা হয়েছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/mdnazkax/i.jpg"><figcaption> নিজেদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হলো বার্সেলোনাকে।</figcaption></figure><p><br>সমর্থকদের আচরণের কারণে গ্যালারি বন্ধের ঘটনা বার্সেলোনায় নতুন নয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ক্যাম্প ন্যুর সংস্কারকাজ চলছিল। তখন বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ছিল এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিস। সমর্থকদের অসদাচরণের কারণে জরিমানার ঘটনায় সেখানকার ‘এসপাই দ’আনিমাসিও’ নামের সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত অংশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল ক্লাবটি।<br>সেবার বার্সেলোনা জানিয়েছিল, ক্লাবের সঙ্গে সমর্থকগোষ্ঠীগুলোর চুক্তির শর্ত পূরণ না করায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মাঠের পারফরম্যান্স নিয়েও চাপে আছে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারের পর এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের কাছেও হেরেছে হান্সি ফ্লিকের দল। লা লিগায় অবশ্য এখনো শীর্ষে আছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/nlqplff64b">এল ক্লাসিকোয় হার: পেদ্রি বললেন বোকামির মাশুল, ফ্লিকের চোখে ক্লান্তি</a></aside>
মাত্র ২ বছর ১০ মাস বয়সেই তবলার ১২টি তাল আবৃত্তি করে ও বাজিয়ে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে দেশটির কর্ণাটকের ছোট্ট স্বরশ্রী হেগড়ে। দেখুন—
প্রথম মাত্রায় হালকা পেশির টান, দ্বিতীয় মাত্রায় পেশির আংশিক অংশ ছিঁড়ে যাওয়া এবং তীব্র মাত্রায় ইনজুরি হলে পেশি বা টেন্ডন সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. আয়াছ (২০)। তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্য বলে আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে।
<p>ঠাকুরগাঁও–১ আসনের উপনির্বাচনে জয়–পরাজয়ের পর পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাড়িতে ফুল নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>
<p>মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় শুরু হয়েছে মাছ ধরা। প্রথম দিনেই চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে নেমেছে প্রায় ১ হাজার টন ইলিশ। তবে এর বড় অংশই পচা ও নরম। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>
অভিযোগের তির ইউরোপের স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা রায়ানএয়ারের কর্মীদের দিকে। তবে বিমান সংস্থাটিও চুপ করে থাকেনি। সাঙ্গাকারার অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে তারা।
আড্ডার মাঝেই মন খরাপ করে দিলেন প্রয়াত অভিনয়শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান, পারভিন সুলতানা দিতি, সায়েমরা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।