জেলা

কক্সবাজারে সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মুখোশধারীরা, ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
কক্সবাজারে সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মুখোশধারীরা, ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট
কক্সবাজারে সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মুখোশধারীরা, ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট
<p>কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি জনপদের ভেতর দিয়ে যাওয়া ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে দিনের বেলায় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট চালিয়েছে একদল ডাকাত। আজ সোমবার সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের কবলে পড়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন। এগুলোর বেশির ভাগই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। শতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।</p><p>ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল সড়কে যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তাঁদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, কয়েক ঘণ্টা ধরে এভাবে লুটপাট চললেও ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল ছিল না।</p><p>ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। তাঁদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চল এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে মোট কতটি যানবাহনে লুটপাট হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি।</p><p>একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর দুজনকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। তাঁদের শরীর তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/td469vp0/WhatsApp-Image-2026-10-19-at-9.34.04-PM.jpeg"><figcaption>ডাকাতদের মারধরে আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী</figcaption></figure><p>রবিউল ইসলামের ভাষ্য, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাতেরা ৫০ থেকে ৬০টি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। ঘটনার সময় সড়কে পুলিশের টহল ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।</p><p>আরেকটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম বলেন, তাঁরা তিনজন একটি অটোরিকশায় করে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে সশস্ত্র ডাকাতেরা তাঁদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাঁদের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়।</p><p>ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল হাকিম বলেন, এ সড়কে প্রায়ই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও অহরহ ঘটছে। অথচ যাত্রীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেই।</p><p>ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেকও ডাকাতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি ডাকাতদের কবলে পড়ে। এ সময় তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।</p><p>ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের ভাষ্য, সোমবার সকাল ৮টা ও দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় এ সড়কে লুটপাট চালানো হয়। দুই দফায়  আড়াই ঘণ্টার মতো ডাকাতি চলে। তাঁদের দাবি, অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের যাত্রীরা এ সময় ডাকাতের কবলে পড়েন।</p>

Prothomalo

View more
পিপিপিতে পরিচালিত হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল, নীতিগত অনুমোদন
পিপিপিতে পরিচালিত হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল, নীতিগত অনুমোদন

<p>দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল মিলসকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।</p><p>আজ সোমবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ‘ডেভেলপমেন্ট অব কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ শীর্ষক প্রকল্প পিপিপিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।</p><p>বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) সূত্রে জানা গেছে, ১০ দশমিক ৫৮ একর জমি রয়েছে কোকিল টেক্সটাইলের। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি অংশীদার নিজস্ব অর্থায়নে কারখানা নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করবে। বিনিময়ে সরকার জমির জন্য ইজারার অর্থ পাবে। জমির মালিকানা সরকারেরই থাকবে এবং বেসরকারি অংশীদার জমি বন্ধক রাখতে পারবেন না। প্রকল্পে বস্ত্র, তৈরি পোশাক ও পাটসংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।</p><p>কোকিল টেক্সটাইল মিলসের ইতিহাস স্বাধীনতার আগের। ১৯৬১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্যানোরামা কোম্পানি লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৬ সালে এটি সুতা উৎপাদন শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করে এর নাম রাখা হয় কোকিল টেক্সটাইল মিলস।</p><p>২০০৭ সালে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মিলটির উৎপাদন আবার শুরু হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে একই বছরের ১৬ অক্টোবর কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন সেখানে ২১০ শ্রমিক কাজ করতেন।</p><p><strong>৭০ হাজার টন সার আমদানি হবে</strong></p><p>এদিকে আজ সোমবার কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) এবং সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে মোট ৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৬৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীরা এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন ও অন্যান্য খবর
সরকারি চাকরিজীবীরা এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন ও অন্যান্য খবর

<p>মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের। সরকারি চাকরিজীবীরা এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন। এ ছাড়া আরও খবর শুনুন অডিও সংবাদে…</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বৃষ্টি ও অস্ট্রেলীয় পেসারদের আরেকটি দিন
বৃষ্টি ও অস্ট্রেলীয় পেসারদের আরেকটি দিন

বৃষ্টিতে গেবেখায় দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দুই দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৪৩ ওভার। যেখানে দাপট দেখাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইশরাক পদত্যাগ করলেন, দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম
ইশরাক পদত্যাগ করলেন, দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

<p>অস্ত্র-কাণ্ডে সমালোচিত ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ আশা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আজ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো হলো। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার জন্য যিনি প্রধানত দায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তাঁকে কোনো ধরনের জবাবদিহির মধ্যে আনা হচ্ছে না। দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন। কারণ, তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। যেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ, তিনি সেটা করছেন না। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত আছেন।’</p><p>আজ সোমবার রাজধানীর পূর্ব বাড্ডায় একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। এর আগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্রী শ্রী পূর্ব বাড্ডা নিমতলা কালীমন্দির পরিদর্শন করেন তিনি। এনসিপির মুখপাত্র ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির ঘোষিত মেয়র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর শাখার নেতারা নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন।</p><p>নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইশরাক হোসেন ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। এক ব্যক্তির ইচ্ছা, অনিচ্ছা, অনুরোধ বা নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ চলছে। এটা কোনো গণতন্ত্রের উদাহরণ নয়, আইনের শাসনের উদাহরণ নয়।’</p><p>জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন কমিটি প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে সরকার এখনো নাটক করছে। এই কমিটিকে এ দেশের মানুষ প্রত‍্যাখ্যান করেছে। দলীয় সুশীল বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কমিটি বৈঠক করছে। তাদের দিয়ে বিএনপি নিজেদের মেনে নেওয়া সংস্কারেরই বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে। এসব জনগণের সঙ্গে প্রহসন।’</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সাভারে ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় ‘রাজসাক্ষী’ হওয়া আবজালুল কারামুক্ত
সাভারে ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় ‘রাজসাক্ষী’ হওয়া আবজালুল কারামুক্ত

<p>জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পাওয়া আসামি আবজালুল হক কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। গত ১৩ অক্টোবর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।</p><p>আজ সোমবার রাতে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২–এর জেলার আরিফুর রহমান।</p><p>আবজালুল হক আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই)। এখন পর্যন্ত তিনি একমাত্র আসামি, যিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলায় খালাস পেয়েছেন। তাঁর কারামুক্তির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের খালাসের রায় কার্যকর হলো। তিনি এ মামলায় অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হয়েছিলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/aql7wp7bba">আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড</a></aside><p>জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন আশুলিয়া থানা এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে তাঁদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত ছিলেন, তাঁকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন যাঁরা নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন, আস–সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেন প্রমুখ।</p><blockquote>এখন পর্যন্ত তিনি একমাত্র আসামি, যিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলায় খালাস পেয়েছেন। তাঁর কারামুক্তির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের খালাসের রায় কার্যকর হলো।</blockquote><p>গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এর রায়ে এ মামলায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে রায়ে ‘রাজসাক্ষী’ আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়। </p><p>মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/65z45pda7v">আশুলিয়ার ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যায় প্রত্যেক আসামি সচেতনভাবে অংশ নেন</a></aside><p>যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ও ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/7g589l461j">আশুলিয়ায় ৬ জনের লাশ পোড়ানো: রাজসাক্ষী হলেন সাবেক এসআই আবজালুল</a></aside>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা, ৩ মাসের কারাদণ্ড
মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা, ৩ মাসের কারাদণ্ড

<p>গ্রামবাসীকে নিয়ে মাদকাসক্ত ছেলে তোফায়েল আহমেদকে (২৬) পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছেন খোকা মিয়া। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছেলেকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।</p><p>সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় আজ সোমবার এ ঘটনা ঘটে।</p><p>প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মাদকাসক্ত ওই ছেলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ছিল পুরো পরিবার। কোনোভাবেই তাঁকে মাদক থেকে ফেরানো যাচ্ছিল না। ঘরে বসেই ইয়াবা সেবন করতেন। আজ দুপুরে বাবা গ্রামবাসীকে নিয়ে ছেলেকে আটক করেন। পরে খবর দেওয়া হয় প্রশাসন ও পুলিশকে।</p><p>পরে তোফায়েলকে উপজেলা পরিষদে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের কাছে তিনি দোষ স্বীকার করেন। একই সঙ্গে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করে তাঁদেরও শাস্তি চান তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত তোফায়েলকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।</p><p>ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সকিনা আক্তার। এ সময় তোফায়েলের বাবা ও এলাকার আরও লোকজন উপস্থিত ছিলেন।</p><p>ইউএনও সকিনা আক্তার বলেন, মাদকসেবী ছেলের যন্ত্রণায় পরিবার অতিষ্ঠ ছিল। খবর দেওয়ার পর তাঁকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। শুধু মাদকসেবী নয়, মাদক ব্যবসায় জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।</p><p>ছেলের কর্মকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন জানিয়ে তোফায়েল আহমদের বাবা খোকা মিয়া বলেন, ‘আমি বাধ্য হয়েই ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।’</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, আবারও আলোচনায় বিষ্ণোই গ্যাং
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, আবারও আলোচনায় বিষ্ণোই গ্যাং

<p>ভারতের মুম্বাইয়ে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। এ ঘটনায় আবারও এসেছে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
আইসিসির নতুন নিয়ম: বোলার-ব্যাটসম্যান সবার বিপদ
আইসিসির নতুন নিয়ম: বোলার-ব্যাটসম্যান সবার বিপদ

আইসিসির নতুন নিয়ম: বোলার-ব্যাটসম্যান সবার বিপদ

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
শিশুদের স্বাস্থ্যসচেতনতায় নোয়াখালী বন্ধুসভার উদ্যোগ
শিশুদের স্বাস্থ্যসচেতনতায় নোয়াখালী বন্ধুসভার উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতন করা হয়। এ সময় সঞ্চালক শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সঠিক নিয়মে খাওয়ার স্যালাইন (ওরস্যালাইন) তৈরির পদ্ধতি প্রদর্শন করেন।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন