উত্তর কলকাতায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই মহা অষ্টমীর আনন্দে মেতে ওঠে গোটা পশ্চিমবঙ্গ।
<p>প্রধানমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে রোববার রাতে খবর প্রকাশের পর সেটাকে ‘গুজব’ ও ‘উড়োখবর’ বলেছিলেন এই বিএনপি নেতা। প্রথম আলো অনলাইনে এ খবর প্রকাশের পর ইশরাকের দপ্তর থেকে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। অথচ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বললেন, তিনি নিজেই ‘স্বেচ্ছায় অব্যাহতি’ চেয়েছেন।</p><p>শনিবার বিকেলে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে সমালোচনার মুখে সোমবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়া ইশরাক হোসেন। প্রথমে পদত্যাগের নির্দেশের খবর অস্বীকার করেছেন। এরপর সিদ্ধান্ত আগেই প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ তুলেছেন। সবশেষে পদত্যাগকে নিজের স্বেচ্ছায় নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন।</p><p>ইশরাকের এসব বক্তব্যের মধ্যে বেশ কিছু অসংগতি ও পরস্পরবিরোধিতা রয়েছে। বিশেষ করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তিনি কখন জানতে পেরেছিলেন, কেন আগের রাতের খবরকে ‘মিথ্যা’ বলেছিলেন এবং পদত্যাগের উদ্যোগ আসলে কার ছিল—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি তাঁর বক্তব্যে।</p><p><strong>পদত্যাগের নির্দেশ, নাকি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি</strong></p><p>দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ইশরাক হোসেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন।</p><p>ইশরাক বলেন, ‘আজকের দিন হতে আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।’ ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চান বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মত হয়েছেন এবং তাঁকে এলাকায় কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।</p><p>অথচ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিতও করেছিল।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে এই দুই ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে ইশরাকের কাছে ব্যাখ্যা চান এক সাংবাদিক। তিনি জানতে চান, সকালে বলা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, অথচ সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন। বিষয়টি আসলে কী?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/91tugqdl/WhatsApp-Image-2026-10-19-at-6.45.23-PM.jpeg"><figcaption>সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন</figcaption></figure><p>জবাবে ইশরাক বলেন, ‘আমি যদি প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে বলিও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাচ্ছি, অফিশিয়ালি কিন্তু তাঁর নির্দেশই আসবে।’</p><p>প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, ‘উনি ক্যাবিনেটের প্রধান, উনি নির্দেশই দিবেন।’</p><p>ইশরাকের দাবি, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।</p><p>এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘সকালের মেসেজ কী গেল, বিকেলের মেসেজের কমা একটা ঠিক ছিল না, দাড়িটা কম হইছে—এগুলা নিয়ে দয়া করে মূল প্রসঙ্গ থেকে আমাদেরকে সরাবেন না।’</p><p>তবে ইশরাকের এ ব্যাখ্যার পরও পদত্যাগের উদ্যোগ কার পক্ষ থেকে এসেছিল, সেই প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ, রোববার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ইশরাকের পক্ষ থেকে শুধু তা অস্বীকারই করা হয়নি, খবরটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য হিসেবেও দাবি করা হয়েছিল।</p><p><strong>নতুন ব্যাখ্যা</strong></p><p>পদত্যাগের নির্দেশের খবর অস্বীকার করার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন ব্যাখ্যা দেন ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, সিদ্ধান্তটি আজ সোমবার সকালেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু দলের কোনো সহকর্মী আগেভাগে তা প্রকাশ করায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।</p><p>ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমাদের অফিশিয়াল প্রক্রিয়া অনুযায়ী আজকে সকালেই এটার অফিশিয়াল সিদ্ধান্তটা এসেছে। সেভাবেই আসার কথা ছিল, সেভাবেই এটাকে মিডিয়াতে নিয়ে আসার কথা ছিল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের হয়তোবা কোনো কলিগই এটিকে যে সময় প্রকাশ করার কথা, তার অতি আগে প্রকাশ করে দিয়ে একটা কনফিউশন তৈরি করেছে।’</p><p>এরপর ইশরাক হোসেন বলেন, ‘গতকাল হইছে না আজকে হইছে, তাতে কী আসে–যায়?’</p><p>ইশরাকের এ বক্তব্যের সঙ্গে আগের রাতের বক্তব্যের অসংগতি রয়েছে। কারণ, রোববার রাতে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। অথচ সোমবার তিনি বলছেন, সিদ্ধান্তটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।</p><p>প্রশ্ন হলো, সিদ্ধান্তটি যদি আগেভাগে প্রকাশ হয়ে থাকে, তাহলে আগের রাতে সেটিকে ‘কাল্পনিক’, ‘মিথ্যা’ ও ‘গুজব’ বলা হয়েছিল কেন?</p><p>সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইশরাক এ বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু আমার সংক্রান্ত এবং বিষয়টি যেহেতু সরাসরি প্রধানমন্ত্রী সংক্রান্ত, উনি যতক্ষণ না পর্যন্ত নির্দেশ দিবেন যে এটি প্রকাশ করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটাকে গুজব বলে অথবা অসত্য বলে ধরে নিতে হবে।’ তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে সেটিকে গুজব বা অসত্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।</p><p>কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা এবং কোনো তথ্য অসত্য হওয়া এক বিষয় নয়। রোববার রাতে ইশরাকের পক্ষ থেকে শুধু আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসার কথা বলা হয়নি; পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার তথ্যটিই অস্বীকার করা হয়েছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/politics/i14ud6c8bk">মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর</a></aside><p><strong>রাতভর একের পর এক প্রতিবাদ, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি</strong></p><p>রোববার রাত ১০টার দিকে প্রথম আলো অনলাইনে ‘মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর ২২ মিনিট পর রাত ১০টা ২২ মিনিটে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ মিডিয়া গ্রুপে ইশরাক লেখেন, ‘পদত্যাগের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/b1vx7r9y/Israk_Hossain_01.jpeg"><figcaption>সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন</figcaption></figure><p>চার মিনিট পর রাত ১০টা ২৬ মিনিটে একই গ্রুপে একটি অডিও বার্তা দেন তিনি। প্রথম আলোর খবরকে ‘গুজব’ ও ‘উড়োখবর’ আখ্যায়িত করে ইশরাক বলেন, ‘দয়া করে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি, এই পুরো বিষয়টিকে গুজব হিসেবে ধরবেন। এর কোনো সত্যতা এখনো নেই। এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত যদি দল থেকে আমরা নেই, তাহলে সেটি অবশ্যই উড়োখবরের মাধ্যমে আসবে না।’</p><p>এর দুই মিনিট পর রাত ১০টা ২৮ মিনিটে ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা একই গ্রুপে একটি প্রতিবাদলিপি দেন। এতে প্রথম আলোর খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করা হয়। খবরটি প্রত্যাহার না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে প্রতিবাদলিপিটি ইশরাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই পেজে দেওয়া আরেক বার্তায় বলা হয়, ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাঁর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।</p><p>ওই বার্তায় আরও দাবি করা হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি মহল কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।</p><p>এরপর রাত ১০টা ৪০ মিনিটে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আরেকটি অডিও বার্তা দেন ইশরাক। সেখানেও তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।</p><p>পদত্যাগের নির্দেশের খবর প্রচার করায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সমালোচনাও করেন ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা। পরে বিটিভি আগের স্ক্রল সরিয়ে ইশরাক পদত্যাগের খবর অস্বীকার করছেন—এমন স্ক্রল প্রচার করে।</p><p><strong>মধ্যরাতেও অস্বীকার, সকালে সুরবদল</strong></p><p>রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আরেকটি পোস্ট দেন ইশরাক হোসেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে মন্ত্রিপরিষদের যেকোনো সদস্যের প্রতি পদত্যাগ অথবা অন্য যেকোনো নির্দেশ আসার সাথে সাথে সেটি কার্যকর করা প্রথাগতভাবে বাধ্যতামূলক অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হয়ে যায়।’ ওই পোস্টে তিনি আরও জানান, তাঁর ক্ষেত্রে এমন কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে জানাবেন।</p><p>কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বেলা দুইটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে জানান তিনি।</p><p>এরপর সকাল ৯টা ৮ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপ মিডিয়া গ্রুপে একটি অডিও বার্তা দেন ইশরাক। সেখানে বলেন, ‘বেলা দুইটায় প্রেসক্লাবে একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে আমার যে চূড়ান্ত ঘোষণাটি, যেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কনভে করেছেন, সেটি আমরা ঘোষণা দেব।’</p><p>আগের রাতে যে পদত্যাগের নির্দেশের খবরকে ইশরাক ‘গুজব’ ও ‘উড়োখবর’ বলেছিলেন, পরদিন সকালেই সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান।</p><p><strong>পদত্যাগের ঘোষণা</strong></p><p>আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান ইশরাক। তবে সেখানে সরাসরি পদত্যাগ করার ঘোষণা দেননি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/tdcaskbl/WhatsApp-Image-2026-10-19-at-6.45.00-PM.jpeg"><figcaption>সংবাদ সম্মেলন শেষে বেরিয়ে যাচ্ছেন ইশরাক হোসেন</figcaption></figure><p>পরে সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে নেতা-কর্মীদের সামনে এসে ইশরাক বলেন, ‘আমি আজকে পদত্যাগ করলাম আমার এই পদ থেকে।’ এ সময় অনুসারীরা স্লোগান দিয়ে তাঁর পদত্যাগের বিরোধিতা করেন।</p><p>বেলা তিনটার দিকে প্রেসক্লাব থেকে বেরিয়ে গাড়িতে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে স্লোগান দিতে থাকেন ইশরাক। তাঁর গাড়ির সামনে-পেছনে কয়েক শ নেতা-কর্মী ছিলেন।</p><p>এ সময় ইশরাক স্লোগান দেন—‘মাদকের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘মাদকের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’।</p><p>পরে হাইকোর্ট মোড়, আবদুল গণি রোড ও গুলিস্তান হয়ে গোপীবাগে যান ইশরাক হোসেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/politics/rb7ah2qtlb">অস্ত্রকাণ্ডের পক্ষেই সাফাই ইশরাকের, কথা বললেন মেয়র নির্বাচন নিয়েও</a></aside>
দুপুর ১২টার দিকে আখড়াবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো প্রাঙ্গণে ফকির-সাধুদের সংখ্যা প্রায় শূন্য। কয়েকজন দর্শনার্থী ঘোরাফেরা করছেন।
<p>কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার বিকেলে তাঁকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় আজ সোমবারও শুনানি হয়নি। পরে সুমনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।</p><p>এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়াসহ এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে জাহিদ ছাড়া অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে।</p><p>পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। পরে সেখান থেকে ১০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে চারজনের নাম উল্লেখ করে ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।</p><p>উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, রোববার বিকেলে জাহিদকে আদালতে তোলা হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় যাওয়ায় রিমান্ড শুনানি হয়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/urkewrh37t">‘আমার তিন বোনের পাঁচ–ছেলে মেয়ে মারা গেছে, ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল’</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/3ipaisi6/WhatsApp-Image-2026-10-19-at-11.43.01-PM.jpeg"><figcaption>কক্সবাজারের ইনানীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উদ্ধার অভিযান</figcaption></figure><p>মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিমন ঘোষ বলেন, নিহত ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনা নিয়ে তিনি ঢাকায় আছেন। মঙ্গলবার কক্সবাজারে ফিরে জাহিদকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের শুনানিতে অংশ নেবেন। আগুন লাগার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।</p><p>মামলার এজাহারে উল্লেখ করা চার আসামি হলেন রিসোর্টের মালিক ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডীর বাসিন্দা মো. তানভীর সুলতান মিয়া (৩৮), প্রধান ব্যবস্থাপক বরিশালের সাঈদ আহমদ (৩২), ব্যবস্থাপক উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকার মোহাম্মদ সাইদ (৩০) এবং সহকারী ব্যবস্থাপক চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার জাহিদ হোসেন (২৯)। রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর কর্মরত আরও ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম এজাহারে নেই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/v7td4097ae">এখনো নিখোঁজ একজন, মরদেহের খোঁজে আবার টুপটুপ রিসোর্টে তল্লাশি</a></aside><p>এ বিষয়ে ওসি আতিকুর রহমান বলেন, রিসোর্টের মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। আত্মগোপনে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।</p><p>কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে কতজন অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। শনিবার তল্লাশি চালিয়ে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আবার তল্লাশি চালানো হলেও আর কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/3vm1uczrwn">কক্সবাজারের সেই পোড়া রিসোর্টে গিয়ে যা দেখা গেল</a></aside>
তাঁকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা (৩৫ হাজার ৩০০ টাকা) করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন।
<p>ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের যোগ্য ও সক্ষম বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।</p><p>আজ সোমবার রাজধানীর দয়াগঞ্জে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা উপহার ও আর্থিক অনুদান বিতরণের জন্য ডিএসসিসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান পরিচয় তাঁরা বাংলাদেশি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তাঁদের অন্য কোনো পরিচয়ে সামাজিকভাবে কিংবা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা যাবে না।</p><p>বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী কোনো জাতিগত বা সামাজিক বিভেদে বিশ্বাস করেন না উল্লেখ করে মীর শাহে আলম আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সব নাগরিকের সমান অধিকারের আদর্শেই বর্তমান সরকার বিশ্বাসী। অতীতে কোনো মন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে এসে সরাসরি কথা বলেননি। বর্তমান সরকার সেই ধারা বদলাতে চায়। সরকার ও সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করে তাঁদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে এসেছেন জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সকালে ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তখনই তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসককে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার আনন্দে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা পেয়েই তাঁরা দ্রুত দয়াগঞ্জে আসেন।</p><p>অনুষ্ঠানে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের ৬৮০টি পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দুই সম্প্রদায়ের পূজা উদ্যাপন কমিটিকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।</p><p>পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসনসংকট সমাধানের বিষয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ডিএসসিসির প্রস্তাবিত ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে এবং দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজধানীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।</p><p>অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি স্থানে ২টি এবং অন্য স্থানে ১৭টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’</p><p>বর্তমানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জরাজীর্ণ আবাসনের পরিবর্তে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রশাসক। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধান এবং তাঁদের জন্য একটি মন্দির নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন আবদুস সালাম।</p><p>অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের নেতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p>শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দিনভর রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে ভিড় করেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>
<p>সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে রিয়াদগামী ফ্লাইট চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, এ রুটে ফ্লাইট চালুর অনুমতি পেলে আবার চলাচল শুরু হবে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে দাম্মাম অথবা মদিনা রুটে কিছু যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করতে কাজ চলছে।</p><p>সোমবার সন্ধ্যার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের যাত্রা ও লাগেজ পাওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চান।</p><p>মন্ত্রী জানান, যাত্রীরা তাঁকে বলেছেন যে তাঁরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই লাগেজ পাচ্ছেন। বিমানবন্দরে চালু হওয়া লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং কার্যক্রমেও যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে ভবিষ্যতেও এ সেবার মান ধরে রাখার প্রত্যাশা জানান তাঁরা।</p><p>বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা এবং ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোগান্তি কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।</p><p>পরিদর্শনকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।</p><p><strong>বিমানবন্দরে ২০০ ট্রলি হস্তান্তর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর</strong></p><p>এদিকে সোমবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এর আগে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের সুবিধার্থে ১৫০টি ট্রলি হস্তান্তর করেন তিনি।</p><p>প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ২০০টি ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০টি এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে ২৫টি করে ট্রলি দেওয়া হয়।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ যাত্রী ছিলেন। আকাশপথের যোগাযোগ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।</p><p>সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক ওমরাহ যাত্রী সেখানে আটকে পড়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প রুটে আসার চেষ্টা করলেও ফ্লাইট বাতিলের কারণে অনেকেই ফিরতে পারছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁদেরও দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।</p><p><strong>জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি</strong></p><p>জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চ বেতন এবং দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ বাড়াতে দেশটির সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। গত শনিবার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।</p><p>এ বিষয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এ চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে কর্মী পাঠানো ও নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমান আইনি সুরক্ষা পাবেন, যা তাঁদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।</p><p>চুক্তিতে নারী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গর্ভাবস্থা বা সন্তান প্রসবের কারণে কোনো নারী কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা বা তাঁর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। একই সঙ্গে এসব কারণে কোনো নারী কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বিধানও চুক্তিতে রাখা হয়নি।</p><p>মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, বেশি বেতন ও জাপানে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।</p>
<p>পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা ঘিরে বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে বামপন্থী দলগুলোর বসানো বইয়ের স্টল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থক পরিচয় দিয়ে একদল দুর্বৃত্ত এসব হামলা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে দলটি। এ বিষয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলে বিচারপতি পার্থ প্রতীম রায় মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।</p><p>কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মেলা প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে নিয়মিত বইয়ের স্টল দিয়ে আসছে সিপিএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক ও এসইউসিআইয়ের মতো বামপন্থী দলগুলো। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট কিংবা তৃণমূল সরকারের আমলেও এই দীর্ঘ ঐতিহ্যে কোনো ছেদ পড়েনি। তবে সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি নেতৃত্ব আর বাংলায় কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল দিতে দিতে রাজি নয়। এমনকি বিজেপির শীর্ষ পর্যায় থেকে আগেই বামপন্থীদের বইয়ের স্টল না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ বামদের। তাঁদের দাবি, সেই ঘোষণার জেরেই কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপের কাছে স্টল বসাতে গেলে হামলা চালানো হচ্ছে।</p><p>সোমবার মহা অষ্টমীর দিনেও হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকায় সিপিএমের একটি বইয়ের স্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সিপিএমের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে কলকাতার যাদবপুর, হরিদেবপুর ছাড়াও ডোমজুড়, শালকিয়া, ফুলিয়া ও হলদিয়ায় একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। যাদবপুরে এমনকি বুলডোজার এনে স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়; তবে সিপিএম ও সিপিআই কর্মীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কোথাও কোথাও হামলাকারীরা শুধু ভাঙচুর চালিয়েই থামেনি, স্টলে অগ্নিসংযোগও করেছে। বিভিন্ন এলাকায় এখনো লাল শালু ঘেরা বহু বইয়ের স্টল চালু রয়েছে। তবে যেসব জায়গায় ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে বই বিক্রি করছেন সিপিএমের কর্মীরা; সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সাড়াও পাচ্ছেন বেশ।</p><p>বইয়ের স্টলে এই হামলার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, আদর্শগত ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু বই বিক্রি করতে না দেওয়া বা বইয়ের স্টল ভাঙচুর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, ওরা ভারতবর্ষকে বোঝেনি, চেনেনি। তাই এ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তো ৩০-৪০ বছর ধরে দেখছি বামরা পূজা এবং বিভিন্ন মেলায় বইয়ের দোকান দিয়ে আসছে। বই কি ময়লার মধ্যে ফেলে দেওয়া ঠিক?</p><p>এদিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতা জিষ্ণু বসু এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, প্রত্যেকেরই বুক স্টল করার অধিকার আছে। আজ যারা বুক স্টল ভাঙছে, তারা কেউ আসল লড়াইয়ে ছিল না। ক্ষমতার দম্ভে এসব করছে।</p><p>ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আদর্শগতভাবে আমাদের সঙ্গে সিপিএমের সম্পর্ক গভীর না থাকলেও তাদের বইয়ের স্টল ভাঙচুর করার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এটা আর এখন রাজনৈতিক সংকট নয়, সভ্যতার সংকট।’</p><p>অন্যদিকে বইয়ের স্টল বিতর্ক ও বামপন্থীদের ইঙ্গিত করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ এক বক্তব্যে বলেন, চীনে যাদের বাড়ি, তাদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন