bangladesh

গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ–যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অন্যান্য খবর

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ–যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অন্যান্য খবর
গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ–যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অন্যান্য খবর
<p>গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ–যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলা। হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজারকে প্রাণনাশের হুমকি। এ ছাড়া দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে...</p><figure></figure>

Prothomalo

View more
ধুলার নিচে ৫০০ বছরের ইতিহাস, ঝেড়েমুছে সাজাল বন্ধুসভা
ধুলার নিচে ৫০০ বছরের ইতিহাস, ঝেড়েমুছে সাজাল বন্ধুসভা

২৪ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় কসাইখানা কালভার্ট-সংলগ্ন ‘ওল্ড কালেকশন’ গ্রন্থশালায় এ কার্যক্রম চলে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে বন্ধুরা সংগ্রহশালায় থাকা বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও পুঁথি একে একে ঝেড়েমুছে পরিষ্কার করেন। পরে ক্যাটালগ অনুযায়ী সেগুলো নির্ধারিত শেলফে সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে রাখেন।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের শেয়ার, তবু বিনিয়োগে আগ্রহ কম
সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের শেয়ার, তবু বিনিয়োগে আগ্রহ কম

<p>শেয়ারবাজারে যে কোম্পানির বা খাতের শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) যত কম, সেই কোম্পানি বা খাত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ। সেই বিবেচনায় বর্তমানে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক খাতের শেয়ার। কারণ, ব্যাংক খাতের শেয়ারের গড় পিই রেশিও সবচেয়ে কম। গত সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের শেয়ারের গড় পিই রেশিও ছিল ৫ দশমিক ২৭। তা সত্ত্বেও ব্যাংক খাতের শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহ কম বিনিয়োগকারীদের।</p><p>শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বিবেচনায় ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতার কারণে হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বেশির ভাগ ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। আবার ভালো ব্যাংকগুলোও তাদের মূল ব্যবসার ক্ষেত্রে টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে না। গত কয়েক বছরে কিছু ব্যাংকের মুনাফা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। যার বড় অংশই এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগের মুনাফা থেকে। প্রকৃত ব্যবসা থেকে আয় খুব বেশি বাড়েনি। ট্রেজারি বিল-বন্ডের মুনাফা সাময়িক। এসব বিবেচনায় প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।</p><aside><cite>ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক চেয়ারম্যান,বিএসইসি</cite>ব্যাংকগুলো যে মুনাফার হিসাব দেয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে যে পরিস্থিতি, তাতে কম পিই রেশিও হওয়ার পরও ব্যাংক খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম।</aside><p>বর্তমানে শেয়ারবাজারে ৩৬টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ রয়েছে। এসব ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যমান এরই মধ্যে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে। আর বাইরে খেলাপি ঋণ ও নানা অনিয়মে জর্জরিত ৭ ব্যাংক বড় ধরনের লোকসানে থাকায় ব্যাংকগুলোর হালনাগাদ পিই রেশিও প্রকাশ করা হয়নি। ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে নিয়মিত আয়ের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে পিই রেশিও হিসাব করা হয়েছে ২৪টির। এই ২৪টি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে কম পিই রেশিও যমুনা ব্যাংকের, ২ দশমিক ৮৮। দ্বিতীয় অবস্থানে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ৩ দশমিক ২৩। তৃতীয় অবস্থানে সাউথইস্ট ব্যাংক, ৩ দশমিক ৪৫। চতুর্থ অবস্থানে এনসিসি ব্যাংক, ৩ দশমিক ৫১। পঞ্চম অবস্থানে প্রাইম ব্যাংক, ৪ দশমিক ১৪। ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ ব্যাংকগুলোর মূল্য আয় অনুপাতের এই হিসাব প্রকাশ করেছে। ডিএসইর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ব্যাংকের মধ্যে ১১টির পিই রেশিও ৫-এর নিচে। আর ৭টির পিই রেশিও ১০-এর নিচে রয়েছে।</p><p><strong>পিই রেশিও কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ</strong></p><p>শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক এটি। শেয়ারবাজারের একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম এবং ওই কোম্পানির আয়ের অনুপাতের তুলনাটিই পিই রেশিও হিসেবে পরিচিত। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বছরে চারবার আয়ের হিসাব প্রকাশ করে। এর মধ্যে বার্ষিক আয়ের হিসাবটিই একমাত্র নিরীক্ষিত। বাকি তিনটি আর্থিক প্রতিবেদন সাধারণত অনিরীক্ষিত থাকে। এসব আর্থিক প্রতিবেদন ও আয়ের ভিত্তিতে কোম্পানির পিই রেশিওর পরিবর্তন ঘটে। সাধারণভাবে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকেরা বলে থাকেন, যে কোম্পানির পিই রেশিও যত কম, সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগে ঝুঁকিও তত কম।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/business/market/%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%9A%E0%A6%95-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%87-%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%93-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3">সূচক নাকি পিই রেশিও, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ</a></aside><p>শেয়ারবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের অনেকে ঋণসুবিধাও নিয়ে থাকেন। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো পিই রেশিও বিবেচনায় নেয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পিই রেশিও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হলেও পিই রেশিওর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ। কারণ, যে ইপিএসের ভিত্তিতে পিই রেশিও হিসাব করা হয়, বেশির ভাগ কোম্পানির ক্ষেত্রে সেই ইপিএসের বিশ্বাসযোগ্যতা বড় বেশি প্রশ্নবিদ্ধ।</p><p>জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাধারণভাবে শেয়ারবাজারে বলা হয় যে কোম্পানির পিই রেশিও যত কম, সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগে ঝুঁকিও কম। তবে ব্যাংকগুলো যে মুনাফার হিসাব দেয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে যে পরিস্থিতি, তাতে কম পিই রেশিও হওয়ার পরও ব্যাংক খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম। এ ছাড়া আমাদের বাজারে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বদলে নিয়মিত ট্রেডিংয়ে বেশি আগ্রহী। </p><p>এ কারণে যেসব শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়ে, সেগুলোর প্রতি তাঁদের আগ্রহ বেশি থাকে। আবার ব্যাংকগুলো যে মুনাফা দেখাচ্ছে, তার বড় অংশই ট্রেজারি বিল বন্ড থেকে এসেছে, ব্যাংকের মূল ব্যবসা থেকে আয় সেভাবে বাড়েনি। তাই সব মিলিয়ে কম পিই রেশিও হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের খুব বেশি আগ্রহী করছে না।</p><p>এদিকে ব্যাংকগুলোর মুনাফা গত কয়েক বছরে যতটা বেড়েছে, লভ্যাংশের হার সেই অনুযায়ী বাড়েনি। কারণ, মুনাফার একটি বড় অংশ মন্দ ঋণের বিপরীতে প্রভিশনিং করতে হচ্ছে। ফলে মুনাফা বাড়লেও শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা তার সুফল পাচ্ছেন কম। এ কারণেও বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।</p>

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সহযোগীকে ছাড়াতে যাচ্ছিলেন আদালতে, পথে পিস্তল-গুলিসহ আটক
সহযোগীকে ছাড়াতে যাচ্ছিলেন আদালতে, পথে পিস্তল-গুলিসহ আটক

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মশিউল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে মিরপুর ১২ নম্বরের বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে উদ্ধার করা পিস্তলটির ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও সংবাদমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে তুরস্কে বিক্ষোভ
সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও সংবাদমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে তুরস্কে বিক্ষোভ

সরকারের সমালোচনা করায় তুরস্কে ডিজিটাল সেন্সরশিপ বেড়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ফেরাতে এবং নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার রক্ষায় মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ একজোট হয়েছেন।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
বিজেপি প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ করছে, অভিযোগ নাসিরুদ্দিন শাহর
বিজেপি প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ করছে, অভিযোগ নাসিরুদ্দিন শাহর

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, শহরে শহরে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, গ্রেপ্তার ১৩৫
ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, শহরে শহরে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, গ্রেপ্তার ১৩৫

<p> ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে নিষেধাজ্ঞা সত্বেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। লিঁও, নিস ও তুলুজসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে রাজধানী প্যারিসে দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত ছিল।</p><p> শিক্ষকসংকট ও স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে গত মাসে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে শ্রমিকসংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি নানা পরিষেবার সংকটের অসন্তোষ থেকে আন্দোলনে যুক্ত হয়। ১৭ অক্টোবর তাদের বিক্ষোভ ব্যাপক সহিংতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ভাঙচুর আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ।</p><p> এরপর পরিস্থিতি শান্ত হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় ছাত্র সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। গত কয়েকদিনে ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকার বৈঠক করলেও সমাধান আসেনি। এরপর শনিবার আবার বিক্ষোভে নামে আন্দোলনকারীরা।</p><p>জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির প্রতিবাদসহ নানা দাবিতে ফ্রান্স ছাড়াও গত প্রায় এক সপ্তাহের ইউরোপের অন্তত ১০টি দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল স্পেন ও আলবেনিয়াতেও বিক্ষোভ হয়েছে। ইতালিতে নতুন কর্মসূচি ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। তুরস্কে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও সংবাদমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।</p><h3>লিঁওসহ কয়েক শহরে কাঁদানে গ্যাস</h3><p>ফ্রান্সে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে গতকাল বিভিন্ন শহরে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সময় দুপুরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ প্রাথমিক হিসাব দিয়ে জানান, গতকাল ১৩৬টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ যোগ দেয়। দুপুর পর্যন্ত ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তখন পর্যন্ত বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।</p><p>তবে আল–জাজিরা ও এএফপি জানায়, লিঁও, তুলুজ ও নিসসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।<br>বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলের ভবন জরাজীর্ণ, শিক্ষকেরা কম বেতনে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, শ্রেণিকক্ষে ধারণা ক্ষমতার চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। তাঁরা এসব সমস্যার সমাধান চান। পাশাপাশি স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন ব্যবস্থা ‘পারকুরসুপ’ বাতিলেরও দাবি জানাচ্ছেন।<br>শিক্ষার্থীদের সমর্থনে গতকাল প্যারিসের সিজিটি, সিএফডিটিসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভ ডাকে। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের পাশাপাশি চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত মানুষ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকে যোগ দেন।</p><p>শ্রমিক সংগঠন সলিদেয়ারের প্রতিনিধি মুরিয়েল গিলবার্ট বলেন, ‘এই দেশে মানুষের মধ্যে বিপুল ক্ষোভ রয়েছে। মজুরি যে পর্যায়ে বাড়ানো উচিত ছিল, এখনো তা বাড়ানো হয়নি।<br>উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের ২০ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ভর্তিব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। তাই তাঁরা শনিবার বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-24/0gcjrfuw/FRANCE-SOCIAL-DEMO-1.JPG"><figcaption>জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশের দাবিতে প্যারিসের রাস্তায় বিক্ষোভকারী ও শিক্ষার্থীদের ঢল নামে। ফ্রান্স, ২৪ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><h3>কড়া নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধ</h3><p>ফ্রান্সে ১৭ অক্টোবর বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি ঠেকাতে এবার আগের চেয়ে ১০ হাজার বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার ও জলকামান।<br>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেছেন, বিক্ষোভ শুরুর আগে তল্লাশি চালানো হয়। এতে আতশবাজি, ধাতব বল, গুলতিসহ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন জিনিস পাওয়া গেছে। কিছু অতি–বামপন্থী গোষ্ঠী বিক্ষোভকে সহিংস করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাখোঁও আগের সপ্তাহের সহিংসতার জন্য অতি–বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন।<br></p><p>প্যারিসের মিছিলের পথ নিয়েও বিরোধ হয়। শেষ মুহূর্তে পুলিশ কেন্দ্রের বাস্তিল এলাকা থেকে সরিয়ে দক্ষিণ–পূর্ব প্রান্তের পোর্ত দিতালিতে মিছিল শুরুর নির্দেশ দেয়। পুলিশের যুক্তি, আগের পথে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হতে পারে।<br>শ্রমিক সংগঠনগুলো অনিচ্ছা সত্ত্বেও নতুন পথ মেনে নেয়। গতকাল শ্রমিক সংগঠনগুলো ছাড়া অন্য কোনো সংগঠন বা প্ল্যাটফর্মকে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন শ্রমিক সংগঠন সলিদেয়ারের প্রতিনিধি গিলবার্ট। বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, এতে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার খর্ব হচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-24/dvmo75l4/FRANCE-SOCIAL-DEMO-2.JPG"><figcaption>সহিংসতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্যারিসের প্লাস দে লা বাস্তিল এলাকার একটি মেট্রো স্টেশনের কাছে এক ব্যক্তির ব্যাগ ও পরিচয়পত্র তল্লাশি করছেন ফরাসি পুলিশ সদস্যরা। ফ্রান্স, ২৪ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p> প্যারিসে মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্সেইয়ের প্রধান সড়কে মিছিলের জন্য হাজারো মানুষ সকাল থেকে জড়ো হন। লিওঁতে পুলিশের সারির পাশ দিয়ে স্লোগান ও গান গেয়ে এগোন বিক্ষোভকারীরা।<br>লিওঁর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টাকারী প্রায় ১৫০ জনকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। বোর্দোয়ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মানুষ জড়ো হন। সেখানকার শ্রমিক ইউনিয়ননেত্রী ব্রিজিত কুদের্ক বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাঁরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন।’ নিসে শহরে কয়েক শ মানুষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।</p><p>ভাঙচুরের আশঙ্কায় বিভিন্ন শহরে বহু দোকানের জানালা কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় ল্যুভর, অরসে ও পিকাসো জাদুঘরসহ বড় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। গতকাল প্যারিসের ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ ছিল।</p><h3>ভয় নিয়েও মিছিল, নতুন কর্মসূচি</h3><p>সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কিশোর–কিশোরীদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তুলুজের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এলা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এখন বিক্ষোভে গেলে আমার কী হতে পারে, তা নিয়ে ভয় হয়। কিন্তু আমরা হাল ছাড়তে পারি না।’<br>প্যারিসে বিক্ষোভে আসা ২৬ বছর বয়সী নার্স ক্লেয়ার বলেন, ‘সবাই ভাঙচুর করতে আসেনি। আমরা কেউ কেউ শুধু বলতে এসেছি, আমরা আরও ভালো ভবিষ্যৎ চাই।’<br>ব্যবসায়ী ও কর্মীদের উদ্বেগও রয়েছে। গাড়িভাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মী দমিনিক বলেন, তাঁর অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে, যাঁরা ভাঙচুর ও চুরি করতে আসেন। এটা উদ্বেগজনক।<br>অরলিয়ঁ শহরে গতকাল বিরোধী দলীয় নেত্রী মারি লো পেনের কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির সম্মেলন বিরোধী মিছিল হয়েছে। ছয় মাস পরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সম্মেলনটি হয়েছে। পুলিশের হিসাবে, সেখানে বিক্ষোভে প্রায় ১১ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে আয়োজকদের দাবি অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২৬ হাজার। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট মাখোঁর পদত্যাগের দাবি জানান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-24/iaf0n08e/FRANCE-SOCIAL-DEMO-3.JPG"><figcaption>মার্সেইয়ের সেন্ট-ভিনসেন্ট-ডি-পল গির্জার সামনের সড়কে জড়ো হন হাজারো মানুষ। ফ্রান্স, ২৪ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>ইয়েলো ভেস্টস আন্দোলনকারীরা আগামী শনিবার পার্লামেন্ট ও নগরভবনগুলোর সামনে সমাবেশ ও অবস্থানের ডাক দিয়েছে। </p><p>প্যারিসের বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বামপন্থী নেতা জ্যঁ–লুক মেলঁশোঁ বলেছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহেই বিক্ষোভ চলবে।</p><h3>ইতালিতে নিরাপত্তা ও সহায়তা</h3><p>ইতালিতে শনিবার শিক্ষায় বরাদ্দ কমানো, বাসাভাড়া ও জ্বালানির খরচ নিয়ে শিক্ষার্থী, ট্রাকচালক ও কৃষকেরা আন্দোলন করছেন। গত সপ্তাহের সহিংসতার পর মিলানে ৫০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকালও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ভাঙচুরের ভয়ে কিছু দোকান বন্ধ রাখা হয়।<br>এএফপি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সরকার অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটকের নিয়ম সহজ করা এবং তাঁদের ভাঙচুরের জন্য অভিভাবকদের জরিমানার বিধান অনুমোদন করেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সামলাতে ট্রাকচালক ও জেলেদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে ট্রাকচালকেরা অবরোধ করছিলেন। এতে জ্বালানি ও খাবারের সংকট তৈরি হয়েছিল, তা গতকাল তুলে নেওয়া হয়েছে।</p><h3>স্পেনে পেনশন–আবাসন নিয়ে ক্ষোভ</h3><p>স্পেনের মাদ্রিদেও গতকাল সরকারি অবসরভাতা বা পেনশন সুরক্ষার দাবিতে হাজারো মানুষ মিছিল করেছেন। বাড়িভাড়া ও আবাসনের খরচ নিয়েও আন্দোলন চলছে। মাদ্রিদের পুয়ের্তা দেল সোল চত্বরে প্রায় এক মাস ধরে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন কিছু আন্দোলনকারী।</p><h3>আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি</h3><p>আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় দুর্নীতি ও নিম্নমানের জীবনযাত্রার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে গতকালও বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে কয়েক দিনের সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আটক হয়েছেন কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী। সরকারি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্দোলনকর্মী সিদোরেলা ভাতনিকাই এএফপিকে বলেন, এটি মানুষের অধিকার ও আইনের শাসনেরও প্রশ্ন।</p><h3>তুরস্কে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দাবি </h3><p>ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় শনিবার হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন। এতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেনে। পুলিশের হিসাবে, তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের হিসাবে, দুই মাসে ১১ সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।<br>চলতি মাসে হাল্ক টিভিতে অভিযান চালিয়ে সম্প্রচার বন্ধ ও সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। বন্ধ করা হয়েছে টিটোয়েন্টিফোরের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও। সাংবাদিক জাফের আরাপকিরলি বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের খবর পাওয়ার অধিকার রক্ষারও প্রতিবাদও চলবে।</p>

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সকালে অনুশীলন করানো আশরাফুলকে বিকেলে সরিয়ে দেওয়া হলো
সকালে অনুশীলন করানো আশরাফুলকে বিকেলে সরিয়ে দেওয়া হলো

<p>আজ সকালেও মিরপুরের একাডেমি মাঠে ব্যাটসম্যানদের অনুশীলনে সঙ্গী ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। নাজমুল হোসেন–সাদমান ইসলামদের সঙ্গে আলাদা করে কাজও করতে দেখা গেছে তাঁকে। তবে রাতেই এল জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা। সাবেক এই অধিনায়ককে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্য একটি দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন দায়িত্ব কী হবে, তা এখনো জানায়নি বিসিবি।</p><p>আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিসিবি। নতুন ব্যাটিং কোচ নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।</p><p>২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন আশরাফুল। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সেই দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তবে ঠিক কী কারণে ব্যাটিং কোচের পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ করেনি বিসিবি। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যর্থতার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটিরই দায় চোকাতে হলো আশরাফুলকে।</p><p>আপাতত জাতীয় দলের ব্যাটিং দেখভাল করবেন সালাহউদ্দীন। তবে তাঁকে স্থায়ীভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বিসিবি নতুন ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দেওয়ার আগপর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি কেউই দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।</p>

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
যুবদল নেতা হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ
যুবদল নেতা হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ

মানববন্ধনে অংশ নেন জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারাও। তাঁরা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হুঁশিয়ার করেন।

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
দৌড়ের আগে পরিবার নিয়ে উৎসব, ছবি আঁকল শিশুরা
দৌড়ের আগে পরিবার নিয়ে উৎসব, ছবি আঁকল শিশুরা

<p>কেউ এসেছেন আসন্ন দৌড় প্রতিযোগিতার কিট সংগ্রহ করতে, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এর মধ্যেই শিশুরা মেতে উঠেছে ছবি আঁকায়। কোথাও পিঠার আয়োজন, কোথাও কফি হাতে দৌড়প্রেমীদের আড্ডা। সব মিলিয়ে দৌড়ের প্রস্তুতি যেন পরিণত হয়েছিল পারিবারিক উৎসবে।</p><p>গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শ্যামলীতে আশা ইউনিভার্সিটির আশা টাওয়ার প্রাঙ্গণে এমন পরিবেশ দেখা যায় ‘জি১ অ্যাডভান্স প্রেজেন্টস ফ্যামিলি রানার্স ১৫কে রান ২০২৬’-এর কিট এক্সপোতে। ৩০ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হবে এই দৌড় প্রতিযোগিতা। তার আগে নিবন্ধিত দৌড়বিদদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ ও পরিবারকে নিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।</p><p>বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে কিট এক্সপো। এতে অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদদের মধ্যে রেস বিব নম্বর, জার্সি ও কিট ব্যাগ বিতরণ করা হয়। কিট সংগ্রহের পাশাপাশি দৌড়বিদেরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হন, অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং আসন্ন প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-24/8p50wvvq/f-14.jpg"><figcaption>ছোট্ট শিশুরাও দৌড়াবে। কিট ব্যাগ সংগ্রহ করতে বাবা–মায়ের হাত ধরে তারাও এসেছিল</figcaption></figure><h3>শিশুদের ছবি আঁকা </h3><p>কিট এক্সপোর অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। দৌড়বিদদের পাশাপাশি শিশুদের জন্য এমন আয়োজন পারিবারিক উৎসবের আবহ তৈরি করে।</p><p>এক্সপোতে ছিল ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব ও কফি কর্নার। ফলে শুধু কিট সংগ্রহের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি আয়োজনটি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, আড্ডা ও শিশুদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে আনন্দমুখর।</p><p>অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন খান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-24/adbqshx6/f-68.jpg"><figcaption>ফ্যামিলি রানার্সের কিট এক্সপোতে আসা শিশুরা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে</figcaption></figure><h3>দৌড়াবেন আড়াই হাজার রানার </h3><p>তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত ফ্যামিলি রানার্স ১৫ কিলোমিটার রানে এবার নিবন্ধন করেছেন ২ হাজার ৫০০ দৌড়বিদ। ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে মূল প্রতিযোগিতা। এতে থাকছে ১৫ কিলোমিটার, ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং শিশুদের জন্য ৫০০ মিটার দৌড়ের তিনটি বিভাগ।</p><p>আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পরিবারকে শরীরচর্চায় উৎসাহিত করাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে শিশুদের দৌড়ে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুলতে চান তাঁরা।</p><p>আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের দৌড়প্রেমীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।</p><p>প্রথমবারের মতো এবারও এ আয়োজনে অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে রয়েছে প্রথম আলো।</p>

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন