<p>ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট। দেশটির প্রধান তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে (এক্সিট পোল) দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর জোট স্পষ্ট পরাজয়ের মুখে পড়েছে এবং তারা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই এসব জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।</p><p>বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, যদিও দল হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হতে চলেছে, কিন্তু তাদের জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন থেকে দূরে রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হতে চলেছে।</p><p>ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ এবং বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ ও ‘চ্যানেল ১৩’-এর বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও কট্টর ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। পার্লামেন্টে তাদের আসন ছিল ৬৮টি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/gd2viaci/Israel-Election-1.jpg"><figcaption>তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির প্রধান কার্যালয়ে বুথফেরত জরিপের ফলাফল দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন দলের নেতা আইজেনকোটের সমর্থকেরা</figcaption></figure><p>অপরদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ও ইহুদিবাদী বিরোধী জোট পেতে যাচ্ছে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন (কান ও চ্যানেল ১৩-এর মতে ৫৩টি, চ্যানেল ১২-এর মতে ৫২টি)।</p><p>এছাড়া আরব দলগুলোর মোর্চা জয়েন্ট লিস্ট ও আরবদের আরেক দল ‘রা'আম’ মিলে পেতে চলেছে ১৭ থেকে ১৮টি আসন।</p><p>বুথফেরত জরিপের তথ্য আসার পর বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কাউকে আপনাদের বিভ্রান্ত করতে দেবেন না: নেতানিয়াহুর ব্লক বিপর্যয়কর পরাজয় বরণ করেছে। পুরোপুরি ধস নেমেছে এবং জনগণ তাদেরকে ঘরে যেতে বলেছে।’</p><p>বুথফেরত জরিপ বলছে, নির্বাচনে একক দল হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৪ থেকে ২৫টি আসন পেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে দলটি গত কয়েক মাস ও সপ্তাহের সেই জরিপগুলোকে ভুল প্রমাণ করল, যেখানে লিকুদ পার্টি আইজেনকোটের দলের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। অন্যদিকে আইজেনকোটের মধ্যপন্থী দল ‘ইয়াশার’ পেতে পারে ২১ থেকে ২৩টি আসন (কান-এর মতে ২১, চ্যানেল ১২-এর মতে ২২ এবং চ্যানেল ১৩-এর মতে ২৩টি)। তবে লিকুদ এককভাবে জিতলেও সার্বিক জোটের সমীকরণে আইজেনকোটের শিবিরের কাছে পিছিয়ে পড়েছে নেতানিয়াহুর বলয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/p835jryq/Israel-Election-3.jpg"><figcaption>ভোট দেওয়ার পর ক্যামেরাবন্দী হন বিরোধী শিবিরের প্রধান নেতা গাদি আইজেনকোট</figcaption></figure><h3>রেকর্ড গড়ার পথে আরব দলগুলো </h3><p>নেতানিয়াহুর জোটকে আটকে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আরবদের নেতৃত্বাধীন দলগুলো। জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরব দলগুলো অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ১৭ থেকে ১৮টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যে শুধু আরবদের বিভিন্ন দলের মোর্চা ‘জয়েন্ট লিস্ট’ পেতে পারে ১০ থেকে ১১টি আসন। এছাড়া ইসলামপন্থী দল ‘রা'আম’ পেতে পারে ৭টি আসন।</p><p>আরব দলগুলো নেতানিয়াহুর কট্টর বিরোধী হলেও তারা ইহুদিবাদী বিরোধী জোটের আনুষ্ঠানিক অংশ নয় এবং সাধারণত তারা সরকারেও যোগ দেয় না। তবে কোনো জোটে না থেকেও তাদের এই রেকর্ডসংখ্যক আসন নেতানিয়াহুর ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/r765nutu/Israel-Election-2.jpg"><figcaption>বুথফেরত জরিপে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকার আভাস পেয়ে তেল আবিবে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করছেন আইজেনকোটের সমর্থকেরা</figcaption></figure><h3>অন্যান্য দলগুলোর কে কত আসন পেতে যাচ্ছে </h3><p>বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে আসন পাওয়ার দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকতে পারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল ‘বি'য়াচাদ’। তারা ১২ থেকে ১৪টি আসন (কান ও চ্যানেল ১৩-এর মতে ১৪টি, চ্যানেল ১২-এর মতে ১২টি) পেতে পারে।</p><p>জরিপের আভাস অনুযায়ী, অন্যান্য দলের মধ্যে বামপন্থী দল ডেমোক্র্যাটস ১০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে আভিগডর লিবারম্যানের দল ইসরায়েল বেইতেইনু পেতে পারে ৮টি আসন। এছাড়া উগ্র ডানপন্থী দল ওতজমা ইয়েহুদিত ৭টি আসনে জয়ী হতে পারে। আর কট্টর রক্ষণশীল ধর্মীয় দল শাস ও ইউনাইটেড টোরাহ জুদাইজম এবং বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম—এই তিনটি দলের প্রতিটি ৬টি করে আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/pldgxb7n/Israel-Election-5.jpg"><figcaption>কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মাইকে কথা বলছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু</figcaption></figure><p>কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের ন্যূনতম ভোটের কাছাকাছি থাকা দুটি ছোট দল পার্লামেন্টে ঢুকতে পারছে না। এগুলো হলো—ইয়োয়াজ হেনডেলের জোটনিরপেক্ষ দল ‘রিজার্ভিস্ট-ইকোনমিক পার্টি’ এবং ওফার উইন্টারের ডানপন্থী ‘পিপল অব ইসরায়েল’। উভয় দলই নেসেটে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হবে বলে তিনটি জরিপেই আভাস দেওয়া হয়েছে।</p><h3>সরকার গঠন নাকি ফের নির্বাচন? </h3><p>স্পষ্ট কোনো একক বিজয়ী না থাকার এই বিষয়টি অবশ্য আগে থেকেই অনুমিত ছিল। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—উভয় নেতাই নিজেদের বিজয়ী দাবি করে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ চাইতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের শরণাপন্ন হতে পারেন। নেতানিয়াহু দাবি করবেন তিনি একক বৃহত্তম দলের নেতা, আর আইজেনকোট দাবি করবেন তাঁর জোট সবচেয়ে বড়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/os6fz066/Israel-Election-4.jpg"><figcaption>বড় পর্দায় আইজেনকোটের ছবির সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নাড়িয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন ইয়াশার পার্টির কর্মী-সমর্থকেরা</figcaption></figure><p>সবচেয়ে বড় দল হওয়ায় নেতানিয়াহু হয়তো প্রথম সুযোগ পেতে পারেন। ফলে আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে দলগুলোর মধ্যে জোট গড়ার তীব্র দর-কষাকষি দেখা যাবে। তবে কোনো পক্ষই যদি শেষ পর্যন্ত ৬১টি আসনের সমর্থন জোগাড় করতে না পারে, তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ইসরায়েলিদের আবারও ভোটকেন্দ্রে ফিরতে হবে। আর এমনটি ঘটলে তা ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের সেই রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে, যখন দেশটিতে পাঁচবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন সরকার না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।</p><p>এদিকে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা শুরু করেছে। তারা সারা রাত ধরেই সরকারি হিসাব জানাবে। বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে প্রকৃত ফলাফলে অনেক সময়ই কিছু পার্থক্য থাকে। নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতভর প্রতি ৩০ মিনিট পরপর এই বুথফেরত জরিপের তথ্য হালনাগাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।</p>
<p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বাংলাদেশকে এমন এক বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন, যারা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধে বিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় উন্নয়নে তারেক রহমান সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। </p><p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের অংশীদার বন্ধু হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী রহমানকে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’ </p><p>সানায়ে তাকাইচি বলেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের জাতি গঠনমূলক উদ্যোগগুলোকে জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত রহমান প্রশাসনের জাতি গঠনমূলক প্রচেষ্টাকে জাপান জোরালো সমর্থন দেবে।’ </p><p>এই বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি জাপানের স্বীকৃতি এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ ফুটে উঠেছে।</p><p>সানায়ে তাকাইচি বলেন, ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।</p><p>জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, উভয় নেতা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই উদ্যোগটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি মূল ভিত্তি। দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই উদ্যোগটিকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামক একটি নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করা হবে।</p><p>জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশকে ১৭ কোটি মানুষের একটি বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বাজার হিসেবে বর্ণনা করেন, যা জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’</p><p>তাঁদের আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সানায়ে তাকাইচি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেছেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপান যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তার প্রশংসা করেছেন।</p><p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জাপানকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি বিশেষ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।</p><p>সানায়ে তাকাইচির ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের অবিচল সমর্থনের কথা স্বীকার করেন।</p><p>জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। তিনি শীর্ষ সম্মেলনের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।</p><p>সানায়ে তাকাইচি লেখেন, ‘আমাদের দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় এবং আজ ঘোষিত নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতির আলোকে—আমরা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করব।’</p><p>তাকাইচি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আমি প্রধানমন্ত্রী রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবো।’</p><p>এই দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদার করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উভয় নেতাই অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়েছেন।</p>
<p>গাজীপুর মহানগরের কুনা এলাকায় একটি বাসায় ঢুকে এক দম্পতিকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও থানায় এ ঘটনায় মামলা নেয়নি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।</p><p>গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন ফুয়াদ আলম ওরফে ফাহিম (২৭) ও তাঁর স্ত্রী নওরীন মহসীন (২১)।</p><p>মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এসে নিজেদের ওপর হামলা ও পুলিশের মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন এই দম্পতি। ফুয়াদ আলম জানান, গাছা থানার কুনা এলাকায় তাঁদের পৈতৃক বাড়ি রয়েছে। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছেন। গত রোববার রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল দুর্বৃত্ত বাড়ির বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভেতরে ঢোকে। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও চাপাতি নিয়ে ফুয়াদের ওপর হামলা চালায় এবং একপর্যায়ে তাঁর ডান হাতে কোপ দেয়। এ সময় ফুয়াদকে বাঁচাতে গেলে তাঁর স্ত্রী নওরীন মহসীনকে শ্লীলতাহানি ও মারধর করে দুর্বৃত্তরা। এতে নওরীনের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। হামলাকারীরা তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়।</p><p>নওরীন মহসীন জানান, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার আগেই তিনি কৌশলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলেন। একপর্যায়ে গাছা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাঁদের সন্তানসহ সবাইকে খুন করার হুমকি দিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলে। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার পর মামলা করতে গেলে গাছা থানা-পুলিশ মামলা নেয়নি। এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে তাঁরা বাসাবাড়ি ছেড়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।</p><p>ফুয়াদ আলমের অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে এবং বাড়িছাড়া করার উদ্দেশ্যে তাঁর বোন ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে তাঁদের ওপর এ হামলা করিয়েছেন। এর আগেও একইভাবে তাঁদের মারধর করা হয়েছিল এবং ওই ঘটনায় গাছা থানায় একটি মামলা রয়েছে।</p><p>মামলা না নেওয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে হামলা করে আহত করার কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি। তাই মামলা নেওয়া হয়নি। পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগেও ভাই-বোনদের মধ্যে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে।</p>
<p>মেট্রোরেলে প্রচণ্ড ভিড়। দাঁড়িয়ে থাকা ৬৪ বছর বয়সী নজীবুর রহমান অসুস্থ বোধ করছিলেন। বসে থাকা যাত্রীদের উদ্দেশে কয়েকবার তাঁকে বসতে দেওয়ার অনুরোধও জানান। কিন্তু কেউ সাড়া দেননি বলে অভিযোগ তাঁর ছেলে নাকিবুর রহমানের। এর এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে মেট্রোরেলের মেঝেতে পড়ে যান নজীবুর রহমান। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।</p><p>নজীবুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। ২৪ অক্টোবর বিকেলে মেট্রোরেলে অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর একটি আক্ষেপই তাড়া করে ফিরছে ছেলে নাকিবুরকে। তিনি মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলে হিসেবে আজীবন একটাই আক্ষেপ থাকবে, কেউ যদি আব্বুকে বসতে দিতেন। তাহলে হয়তো বাবা এভাবে নিচে না পড়ে, কারও কোলে মাথা রেখে মারা যেতে পারতেন।’</p><p>নাকিবুর রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য। পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি জানান, ২৪ অক্টোবর সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যান তাঁর বাবা। অনুষ্ঠান শেষে বেলা তিনটার দিকে শাহবাগ মেট্রোস্টেশন থেকে উত্তরার উদ্দেশে মেট্রোরেলে ওঠেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তাঁর কাছ থেকেই তিনি এ ঘটনা শুনেছেন।</p><p>কয়েক দিনের ছুটি শেষ হওয়ায় সেদিন মেট্রোরেলে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। বসার আসন না পেয়ে দুজনই ভেতরের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলিতে একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।</p><p>নাকিবুর রহমান জানান, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মেট্রোরেল শেওড়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ঠেলাঠেলির মধ্যে তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় সিটে বসে থাকা যাত্রীদের কাছে কয়েকবার বসার সুযোগ চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেউ সাড়া দেননি। এর এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে তিনি মেঝেতে পড়ে যান।</p><p>পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা তাঁকে ধরে তোলার চেষ্টা করেন। শোরগোল শুনে বাবার সহকর্মীও পরে সেখানে আসেন। অন্য যাত্রীদের সহায়তায় পরীক্ষা শেষে বুঝতে পারেন, নজীবুর রহমান বেঁচে নেই। নাকিবুরের ধারণা, মেট্রোরেলের ভেতরে পড়ে যাওয়ার সময়ই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছিল।</p><p><strong>শেষবিদায়ে থাকতে পারেননি পরিবারের আর কেউ</strong></p><p>নাকিবুর রহমান জানান, তাঁর বাবার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল। বাবাকে মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনে নামানোর পর আনসার সদস্যদের সহায়তায় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাবার সহকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সেখানে যান তিনি। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁর বাবাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করেন।</p><p>বাবার মৃত্যুর সময় পরিবারের কেউ পাশে ছিলেন না। নাকিবুর জানান, তাঁর মা ও ছোট ভাই ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে ছিলেন। সৌদি আরবের বিমানের টিকিটসংক্রান্ত জটিলতায় তাঁরা সময়মতো দেশে ফিরতে পারেননি। তাঁর বোন পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে থাকেন। আরেক ভাইও সেখানে পড়াশোনা করেন। তাঁরাও বাবার মৃত্যুর পর দেশে আসতে পারেননি। পরিবারের এই সদস্যদের ছাড়াই বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে নজীবুর রহমানকে দাফন করা হয়।</p><p>বাবার মৃত্যুর ঘটনা বলতে গিয়ে নাকিবুর বলেন, ‘আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। যে কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। বয়স্ক মানুষের প্রতি আমাদের সবার সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। তাঁদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন।’</p>
<p>সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, এই লক্ষ্য অর্জন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।</p><p>বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’–এ অংশ নিয়ে মঙ্গলবার জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ কথা বলেন। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হয়েছে গত সোমবার। যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইইএসডি)।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যধিক নির্ভরতার কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব আমাদের ওপর পড়েছে। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমরা “স্পেশাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল” তৈরি করছি, যা ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে।’</p><p>নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুতের যাবতীয় প্রযুক্তি ও উপকরণের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে সরকারি প্রণোদনা ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।</p><p>দেশের পাওয়ার গ্রিড পুরোপুরি আধুনিক না হওয়ায় পারমাণবিক, জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য উৎসের বিদ্যুৎ সমন্বয় করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং বলেও উল্লেখ করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) গ্রিড আধুনিকায়নে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।</p><p>অনুষ্ঠানে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, বিশ্বের জলবায়ু সংকটের প্রধান কারণ গ্রিনহাউস গ্যাস ও কার্বন নির্গমন। বাংলাদেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তর আবশ্যক। তিনি সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম শুল্কমুক্ত করার পদক্ষেপকে স্বাগত জানান এবং এ প্রক্রিয়ায় তরুণ ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।</p><p>উদ্ভাবন ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সাশ্রয়ী ক্লিন এনার্জি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও নীতিপ্রণেতাদের যৌথভাবে কাজ করে যেতে হবে।</p><p>এ আয়োজনে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট কাউন্সেলর ও গ্রিন ইকোনমি অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ইনভেস্টমেন্টস সেকশনের প্রধান টবিয়াস বিয়ারম্যান, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের জ্বালানিবিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিরা।</p><p>দিনব্যাপী আয়োজনে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মেলায় বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোলার, উইন্ড এনার্জি, বায়োগ্যাস এবং ব্যাটারি স্টোরেজ সম্পর্কিত নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করেন। অতিথিরা এসব স্টল ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। উৎসবে তরুণদের নিয়ে থিয়েটার পারফরম্যান্স, সংলাপ ও জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দ্য আর্থ সোসাইটির আয়োজনে এক রিল প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নামও ঘোষণা করা হয়।</p><p>বুধবার সমাপনী দিনে জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে একাধিক উচ্চপর্যায়ের প্যারালাল সংলাপ ও প্লেনারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ন্যায্য রূপান্তরের জন্য জ্বালানিনীতি ও সুশাসন; নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন ও বিনিয়োগ; উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো এবং জ্বালানি রূপান্তরের সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এসব অধিবেশনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আগত বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন এবং সেসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হবে।</p><p>একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ অবদান রাখা উদ্ভাবক, তরুণ নেতৃত্ব ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হবে। শেষে পুতুলনাচ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি শেষ হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।</p><p>দেশে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই উৎসবের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস), বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর), গ্রিনারি এনার্জি সলিউশন লিমিটেড, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ), অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও দ্য আর্থ সোসাইটি।</p>
<p>রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত একটি গাড়ি মেরামতের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।</p><p>কারাগারে যাওয়া দুই আসামি হলেন চিত্রনায়ক মান্নার পরিবারের ব্যবস্থাপক মো. মামুন মণ্ডল (২৯) ও টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)।</p><p>আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চিত্রনায়ক মান্না ২০০৮ সালে মারা যান। তাঁর ব্যবহৃত এই গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন ধরে যায়। আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগাননি। বুধবার তাঁদের জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।</p><p>এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াউর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।</p><p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নিচতলার গ্যারেজে গাড়িটি রাখা ছিল। ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন মান্নার স্ত্রী। গাড়িটি থেকে তেল চুইয়ে পড়ার কারণে বাড়ির কর্তৃপক্ষ সেটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে। তখন মান্নার স্ত্রী তাঁর ব্যবস্থাপক মামুনকে গাড়িটি বাইরে কোনো ওয়ার্কশপে নিয়ে মেরামতের নির্দেশ দেন। কিন্তু মামুন সেই নির্দেশ না মেনে সোমবার টেকনিশিয়ান সোহেলকে নিয়ে গ্যারেজের ভেতরেই কাজ শুরু করেন।</p><p>সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লেগে যায়। এতে মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং পাশে থাকা আরেকটি প্রাইভেট কারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনে ভবনের গ্যারেজ, বৈদ্যুতিক তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায় এবং ভবনের বিভিন্ন অংশের কাচ ভেঙে যায়। এতে আনুমানিক ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>এ ঘটনায় ভবনের ব্যবস্থাপক মো. গাজি মানিক মিয়া মঙ্গলবার সকালে ভাটারা থানায় মামলা করেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মামুন ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।</p><p>ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি প্রায় দেড় বছর ধরে পড়ে ছিল। গাড়িটি বাইরে নিয়ে মেরামত করার কথা থাকলেও তাঁরা মেকানিক ডেকে ভবনের ভেতরেই কাজ করছিলেন। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।</p>
<p>আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।</p><p>মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শিল্পোদ্যোক্তারা অংশ নেন।</p><p>তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ, উচ্চগতির ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে আধুনিক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে হবে।</p><p>নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা ও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।</p><p>সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, সরকার, দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।</p><p>অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়; বরং সমৃদ্ধ, বিনিয়োগবান্ধব ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।</p><p>তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এই নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।</p><p>সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট জেসন উ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইদা আফরোজ।</p>
<p>ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মুফতি মাহমুদ হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় কমিটি।</p><p>মঙ্গলবার সংগঠনের এক জরুরি কেন্দ্রীয় সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওলামা অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী।</p><p>সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় সদস্যদের মতামত ও ভোটের ভিত্তিতে মাওলানা সানাউল্লাহ খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে উপস্থিত সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোটে মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এবং মুফতি মাহমুদ হাসান ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।</p><p>মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম বর্তমানে রাহবার অ্যাডভাইজরির শরিয়াহ মজলিশের চেয়ারম্যান এবং রাজধানীর বাইতুর রশিদ জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গওহরডাঙ্গা মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং জামিয়া রহিমিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে ইফতা সম্পন্ন করেন।</p><p>ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মাহমুদ হাসান যাত্রাবাড়ীর জামিয়া মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ইসলামিক স্কলারস একাডেমির পরিচালক। তিনি ২০০৮ সালে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং পরে জামিয়াতুল আসআদ থেকে ইফতা সম্পন্ন করেন।</p><p>সভায় আলেম সমাজের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও মূলধারার রাজনীতিতে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বর্তমানে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।</p>
<p>বাংলাদেশ সচিবালয় বর্তমান জায়গা থেকে সরিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে (পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ) নেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ বলে দাবি করছেন।</p><p>মঙ্গলবার মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের জন্য চলমান মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজ চলছিল। দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে এসে মাটি পরীক্ষাকাজের যন্ত্রাংশ এবং দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।</p><p>শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটির মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সেখানে অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। এ দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন। মিছিলে অংশ নেন শতাধিক শিক্ষার্থী।</p><p>মিছিল থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এর মধ্যে ছিল ‘শেকৃবিয়ানের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সচিবালয় না শেকৃবি, শেকৃবি শেকৃবি’, ‘টেক ব্যাক টেক ব্যাক’ প্রভৃতি।</p><p>শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে নেতৃত্বদাতাদের একজন আশিক আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই জায়গাটি আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ছিল। কিন্তু সরকার এখানে সচিবালয় স্থানান্তরের কাজ করছে। আমরা এটি চাই না। এই মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে। আমাদের দাবি এটাই।’</p><p>শিক্ষার্থীরা মাটি পরীক্ষার যন্ত্র এবং যানবাহনও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান। এ সম্পর্কে আশিক বলেন, ‘যারা এখন মাঠে কাজ করছে, তারা যন্ত্র এবং গাড়ি ফেরত নিতে এলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হোক। আমরা সেটা চাই।’</p><p>যন্ত্রাংশ নিয়ে যাওয়া এবং বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এদিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়া এবং পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।</p><p>বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশও এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে নিতে একটি স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করেছেন। ওই কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় স্টিয়ারিং কমিটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, সংবাদ সম্মেলন করা এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।</p><p>শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সিদ্ধান্তে কর্মসূচি পালন করছেন, ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ করেছেন। প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁরা বিবেচনা করছেন।’</p><p>অধ্যাপক সালাহউদ্দিন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিয়ে পরে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান।</p><p>শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও যন্ত্রাংশ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আন্দোলনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নয়, শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কর্মসূচি। তবে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।</p><p>শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানতে পেরেছে উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর বলেন, এসব সরঞ্জাম যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন। আন্দোলন যাতে কোনো ধরনের সংঘাতে না গড়ায়, সে চেষ্টাও করছেন তাঁরা।</p><p>শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার শিক্ষার্থীরা কালো পতাকা নিয়ে কর্মসূচি পালন করবেন।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”