প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে দেশেই থাকুক, সেই দেশের আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহ–অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়।
<p>গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।</p><figure></figure>
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ অবশ্য জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
উৎসবের সাজে কখনো ঐতিহ্যের ছোঁয়া, কখনো আধুনিক গ্ল্যামার। বলিউড তারকা তামান্না ভাটিয়া নিজের জুয়েলারি ব্র্যান্ড তামান্না ফাইন জুয়েলারির নানা নকশার গয়নায় তুলে ধরেছেন স্টাইলের ভিন্ন ভিন্ন দিক
ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাগরিক সংবাদে ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com
রাইয়ান পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামের রাসেল খান ও রুমা বেগমের ছেলে।
<p>কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনতলা কাঠের স্থাপনাটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটি অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা সনদও ছিল না। এ ঘটনা পর্যটনকেন্দ্রের রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।</p><p>কাঠ, বাঁশ, খড়ের মতো উপকরণ দিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় তৈরি হচ্ছে ইকো রিসোর্ট। প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি এসব স্থাপনা পরিবেশবান্ধব হলেও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। শুধু স্থাপনার কাঠামো নয়, ঘরের ভেতরে ব্যবহৃত আসবাব, পর্দা, কার্পেট এবং অন্দরসজ্জার উপকরণও আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/p2pg7417/bcc52081-76e7-4e3e-980c-1e27aa17a8a0.jfif"><figcaption>কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে আগুন জ্বলছে</figcaption></figure><h3>দাহ্য পদার্থ কী</h3><p>যেসব পদার্থ আগুনের সংস্পর্শে এলে জ্বলতে পারে, সেগুলোকে দাহ্য পদার্থ বলা হয়। কাঠ, কাগজ, কাপড়, শুকনা পাতা, খড়, প্লাস্টিক ও ফোমের মতো উপকরণ এর উদাহরণ। পেট্রল, কেরোসিন, অ্যালকোহল এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থও দাহ্য। তবে সব দাহ্য পদার্থের বৈশিষ্ট্য এক নয়। কোনোটিতে সহজে আগুন ধরে, কোনোটি ধীরে জ্বলে, আবার কোনোটি আগুনের তীব্রতা বাড়াতে পারে।</p><p>আগুন জ্বলতে সাধারণত তিনটি উপাদান প্রয়োজন—জ্বালানি, অক্সিজেন ও তাপ। কোনো স্থাপনায় দাহ্য উপকরণ বেশি থাকলে আগুন এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ বাড়ে। তাপের বিকিরণ, গরম ধোঁয়া ও আগুনের শিখার মাধ্যমে আশপাশের উপকরণ উত্তপ্ত হয়ে জ্বলতে শুরু করতে পারে।</p><h3>কাঠ, বাঁশ ও খড়ের স্থাপনায় ঝুঁকি কোথায়?</h3><p>কাঠ ও বাঁশ নির্মাণকাজে বহুল ব্যবহৃত উপকরণ। এগুলো যথাযথভাবে নকশা ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখে ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু কাঠের দেয়াল, বাঁশের বেড়া, খড়ের ছাউনি এবং অন্যান্য দাহ্য উপকরণ কাছাকাছি থাকলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কাঠের তৈরি ভবনে অগ্নিপ্রতিরোধী ব্যবস্থা না থাকলে আগুনের তাপে কাঠ জ্বলতে শুরু করে এবং শিখা দ্রুত অন্য অংশে পৌঁছাতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/ign3w0t5/pexels_vantik93_27408998.jpg"><figcaption>কাঠের তৈরি ভবনে অগ্নিপ্রতিরোধী ব্যবস্থা না থাকলে আগুনের তাপে কাঠ জ্বলতে শুরু করে</figcaption></figure><h3>পর্দা, কার্পেট ও ফোমেও বাড়ে ঝুঁকি </h3><p>ঘরের অন্দরসজ্জায় ব্যবহৃত অনেক উপকরণই দাহ্য। সিনথেটিক পর্দা, কার্পেট, সোফার ফোম, গদি, বিছানার চাদর এবং প্লাস্টিকের সাজসজ্জার সামগ্রী আগুনের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। পর্দা বা ঝুলন্ত কাপড়ে আগুন লাগলে শিখা ওপরের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে আগুন সিলিং বা আশপাশের আসবাবে পৌঁছাতে পারে।</p><p>ফোম ও কিছু সিনথেটিক উপকরণ পুড়লে ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। আগুনের ঘটনায় অনেক সময় শিখার পাশাপাশি ধোঁয়াও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। ধোঁয়ায় দৃষ্টিসীমা কমে যায়, শ্বাস নিতে সমস্যা হয় এবং নিরাপদে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।</p><h3>সিলিং ও দেয়ালের উপকরণ কেমন হওয়া দরকার?</h3><p>অন্দরসজ্জায় কাঠের প্যানেল, বোর্ড, প্লাস্টিকের আবরণ এবং অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারের আগে সেগুলোর অগ্নিপ্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য যাচাই করা জরুরি। সব ধরনের বোর্ড বা সিলিং উপকরণ সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কোনো উপকরণ আগুনের সংস্পর্শে কেমন আচরণ করে, তা নির্ভর করে তার উপাদান, নির্মাণপদ্ধতি ও অগ্নিপরীক্ষার ফলের ওপর।</p><p>বিশেষ করে সিলিংয়ের ভেতরে আগুন বা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে তা বাইরে থেকে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা না–ও যেতে পারে। সিলিংয়ের ফাঁকা অংশ, দেয়ালের গোপন জায়গা কিংবা বিভিন্ন পাইপ ও তারের চলাচলের ফাঁক দিয়ে আগুন এক অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ভবনের নকশা ও নির্মাণে আগুন ও ধোঁয়া প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/zf9dijcy/pexels_jaycee300s_3059779_18071862.jpg"><figcaption>শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না</figcaption></figure><h3>অগ্নিনিরাপত্তায় যা জরুরি </h3><p>রিসোর্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা বাড়ি—সব ধরনের স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তাকে নির্মাণ ও পরিচালনার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। স্থাপনার ধরন ও আয়তন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, ধোঁয়া শনাক্তকারী অ্যালার্ম, অগ্নিসংকেত, জরুরি বহির্গমনপথ এবং প্রয়োজনীয় পানির সংযোগসহ অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতে হবে।</p><p>পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সংযোগ ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করা, দাহ্য উপকরণ নিরাপদে রাখা এবং কর্মীদের অগ্নিনিরাপত্তার প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। অতিথিদেরও জানাতে হবে, আগুন লাগলে কোন পথে বের হতে হবে।</p><p>অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে ভবন নির্মাণের সময়ই অগ্নিনিরাপত্তার পরিকল্পনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আইনগত বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন রিসোর্টে অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। নান্দনিক নকশা বা প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার যেন নিরাপত্তার বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়।</p><p>সূত্র: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/hpgclpnqxi">সুন্দরবনের ২১০ জাতের মাছ আছে এই জাদুঘরে, দেখুন তো কয়টি চেনেন </a></aside>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন