ফুটবল

ফিলিপাইনের কাছে হেরে অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েদের বিদায়

অক্টোবর ১১, ২০২৬
ফিলিপাইনের কাছে হেরে অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েদের বিদায়
ফিলিপাইনের কাছে হেরে অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েদের বিদায়
উজবেকিস্তানের তাসখন্দে আজকের এই হারেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের মূল পর্বে ওঠার আশা।

Prothomalo

View more
ওমরাহ করতে গিয়ে আর ফেরা হলো না কুমিল্লার নাসরুল্লাহর
ওমরাহ করতে গিয়ে আর ফেরা হলো না কুমিল্লার নাসরুল্লাহর

<p>পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৩৫)। কিন্তু পবিত্র মক্কায় পৌঁছানোর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। তাঁর এমন মৃত্যুতে পরিবারে চলছে মাতম।</p><p> নাসরুল্লাহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের ওলামাবাড়ির বাসিন্দা। মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ও জাহানারা বেগমের চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে নাসরুল্লাহ তৃতীয়। তিনি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসায় সহকারী প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার।</p><p>প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আজ রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩–এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমাণ ছিলেন। দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন। দুই বাংলাদেশির একজন নাসরুল্লাহ। অপরজন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মেদ।</p><aside><cite>মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ, নিহত মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাবা</cite>আমার ছেলেটা আল্লাহর ঘরে গিয়েছিল। কিন্তু সে ওমরাহটা করতে পারেনি। তার এমন মৃত্যু আমরা কখনো কামনা করিনি। কত নির্মমভাবে আমার ছেলেটা মারা গেছে, আল্লাহ ভালো জানেন। হয়তো আল্লাহপাক তাকে এভাবেই কবুল করেছেন।</aside><p>পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন নাসরুল্লাহ। প্রথমে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে যাওয়ার কথা ছিল জেদ্দায়। এরপর পবিত্র মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালন করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু রিয়াদের বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময়ই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/pgaee625jz">জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দেব, বলেছিলেন শাহেদ, স্ত্রী পেলেন মৃত্যুর খবর</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/913857o4/cumilla1.jpg"><figcaption>নিহত মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরির শোকস্তব্ধ বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন আলেম-ওলামারা। আজ রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বদরপুর গ্রামে</figcaption></figure><p>নাসরুল্লাহর ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, রিয়াদের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির দুই ঘণ্টার ট্রানজিট ছিল। সেখান থেকে তাঁর জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। ট্রানজিট শেষে বোর্ডিং পাস নিয়ে যখন উড়োজাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই হামলার ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজে ওঠার সুযোগও পাননি তিনি।</p><p>নাসরুল্লাহর বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর কাছে ছেলের ওমরা পালনের সফর ছিল আনন্দের বিষয়। কিন্তু সেই সফর যে এমন শোকের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি তিনি। ছেলের মৃত্যুর খবরে বিলাপ করছেন বাবা-মা। একদিকে সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে প্রিয় সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা। নাসরুল্লাহর বাবার আকুতি, অন্তত একবার যেন ছেলের মুখটি দেখতে পারেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/2f0da7w4/Untitled-2.jpg"><figcaption>রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠছে</figcaption></figure><p>মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলেটা আল্লাহর ঘরে গিয়েছিল। কিন্তু সে ওমরাহটা করতে পারেনি। তার এমন মৃত্যু আমরা কখনো কামনা করিনি। কত নির্মমভাবে আমার ছেলেটা মারা গেছে, আল্লাহ ভালো জানেন। হয়তো আল্লাহপাক তাকে এভাবেই কবুল করেছেন।’</p><p>এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাসরুল্লাহর বাবা বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত আমার ছেলের লাশ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আমার আদরের সন্তানকে একবার দেখতে চাই।’</p><p>নাসরুল্লাহ স্ত্রী মাহবুব আক্তার ও সন্তানদের নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁদের সংসারে সাত বছর বয়সী ছেলে জামিল হাসান, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে নাবিলা আক্তার ও দুই বছর বয়সী ছেলে মো. জাওয়াদ রয়েছে। নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা বদরপুর গ্রামের বাড়িতে আছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/nejho89ry1">সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি, আহত ৩০৯</a></aside>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি, ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়
পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি, ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়

<p>জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।</p><p> আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১–এ আজ রোববার জবানবন্দিতে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক মাহদী আহমদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানের সময় বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনসে উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।</p><p> জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষী মাহদী আহমদ।</p><p>জবানবন্দিতে আজ মাহদী আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন। তিনি জানান, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বেশ কিছু গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সে–সংক্রান্ত নির্দেশনা হোয়াটসঅ্যাপে দেন এবং তা তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে অবহিত করেন।</p><p>২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে একই রকম নির্দেশনা (থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ) আসে বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন মাহদী আহমদ। তিনি বলেন, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে এই নির্দেশনা দেন। চেয়ারম্যান সেই নির্দেশনা মহাপরিচালককে অবহিত করেন। মহাপরিচালক সরাসরি মোবাইল অপারেটরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি (সাক্ষী) এই নির্দেশনার কথা জানতে পারেন। সে সময় দাপ্তরিক কাজে তিনি অফিসে ছিলেন।</p><p>১৬ জুলাই একটি ‘হাই অফিশিয়াল’ পূর্বনির্ধারিত সভা ছিল বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন মাহদী আহমদ। তিনি বলেন, সে সভায় তৎকালীন আইসিটি অ্যাডভাইজার (উপদেষ্টা) সজীব ওয়াজেদ জয়, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক অনলাইন মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সে সভায় তাঁর একটি এজেন্ডা থাকায় তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সভায় তিনি ছিলেন না। সে সভায় তাঁর তৈরি করা নথিগুলো মহাপরিচালককে সরবরাহ করেছিলেন তিনি। সেদিন সেই নেটওয়ার্ক বন্ধকরণ বিষয়ে নথিতে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয়।</p><p>জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই একটি সভা তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের সভাপতিত্বে আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, এমএফএস সংস্থা ও মোবাইল অপারেটরের প্রতিনিধিরা। সে সভায় তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে চারটি মোবাইল অপারেটরের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিটিআরসিকে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই, বাইসানের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। পরে ৩১ জুলাই বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই, বাইসান ক্যাশ সার্ভার চালু করার নির্দেশনা দেন জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।</p><h3>এনটিএমসির নির্দেশনা প্রসঙ্গ </h3><p>বিটিআরসির উপপরিচালক মাহদী আহমদ জবানবন্দির একপর্যায়ে বলেন, সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়।</p><p>পরে মাহদী আহমদ বলেন, ‘সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়—এই বক্তব্য আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। তবে এ ধরনের কথা বলতে অফিশিয়ালি এন্ডোর্স নয়। সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বন্ধ করার বিষয়ে আমি জানি না। তবে চালু করার বিষয়ে আমি জানি।’</p><p>এই মামলার আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক। অপর আসামি সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক কারাগারে আছেন। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আজ তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
আ.লীগের অভিযোগ নিয়ে আইপিইউর ভুল ভেঙেছে: দেশে ফিরে স্পিকার
আ.লীগের অভিযোগ নিয়ে আইপিইউর ভুল ভেঙেছে: দেশে ফিরে স্পিকার

<p>স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতারা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নে (আইপিইউ) বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নালিশ করেছিলেন। এবার আইপিও সম্মেলনে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের ফলে তাদের (আইপিইউ) ভুল ভেঙেছে।</p><p> ১৫৩তম আইপিইউ সম্মেলন থেকে দেশে ফিরে আজ রোববার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্পিকার। এবারের সম্মেলনটি হয়েছিল তানজানিয়ার আরুশায়। ৫ অক্টোবর স্পিকার আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন।</p><p>দেশে ফিরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, পতিত সরকার আওয়ামী লীগের নেতারা, তাঁদের মধ্যে ৬ জন সাবেক সংসদ সদস্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আইপিইউতে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাদের উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, তাঁদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। তাঁদের সে অভিযোগের তদন্ত করার জন্য আইপিইউর একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছিল।</p><p>স্পিকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল। আইপিইউও তদন্ত করেছে। তাই বাংলাদেশকে বেশি কিছু বলতে হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাদের সব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি বলেন, সম্মেলনে বাংলাদেশের কয়েকজন সংসদ সদস্য যোগ দিয়েছেন, যাঁরা নিজেরাই আয়নাঘরে ছিলেন। তাঁরা সেখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। আওয়ামী লীগের আমলে অন্যান্য গুম–খুন, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে শিশু হত্যা—এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের এই অংশগ্রহণের ফলে আইপিইউর ভুল ধারণা ভেঙে গেছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে।</p><p>স্পিকারের সফরসঙ্গী ছিলেন সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, সানজিদা ইসলাম (তুলি), সরওয়ার জামাল নিজাম, সুলতান মাহমুদ, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস কে আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন, রোকেয়া বেগম এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিন ডিনকে আলোচক হিসেবে না রাখায় সমালোচনা
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিন ডিনকে আলোচক হিসেবে না রাখায় সমালোচনা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ডিনের মধ্যে তিনজনকে আলোচক হিসেবে রাখা হয়নি।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
ভারতে মোবাইল ফোনের পাওয়ার ব্যাংক থেকে উড়োজাহাজে আগুন
ভারতে মোবাইল ফোনের পাওয়ার ব্যাংক থেকে উড়োজাহাজে আগুন

<p>ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর একটি উড়োজাহাজে লাগেজ রাখার জায়গায় আগুন ধরে যায়। এর ফলে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল উড়োজাহাজটি। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত উড়োজাহাজের পথ ঘুরিয়ে হায়দরাবাদে নিয়ে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করা হয়। আজ রোববার দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগো ফ্লাইটে এমন ঘটনা ঘটেছে।</p><p> ত্রুটিপূর্ণ একটি পাওয়ার ব্যাংকের কারণে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।</p><p> এক যাত্রীর মুঠোফোনে ধারণ করা ঘটনাটির একটি ভিডিও সামনে এসেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, অন্য যাত্রীরা তাঁদের ব্যাগ দিয়ে চেপে ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।</p><p>এয়ারবাসের একটি মডেলের ইন্ডিগোর ফ্লাইট ৬ই৬১১৫ দিল্লি থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ফ্লাইটটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিট। পথ পরিবর্তনের আগে চেন্নাইয়ে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা।</p><p>কেবিন ক্রুরা অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিভিয়ে ফেলেন এবং সব যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা নিরাপদে আছেন।</p><p>ইন্ডিগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১১ অক্টোবর দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগো ফ্লাইট ৬ই৬১১৫-তে একজন যাত্রীর ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে ধোঁয়া শনাক্ত হওয়ার পর উড়োজাহাজকে হায়দরাবাদে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। কেবিন ক্রুরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।</p><p>নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, পাইলটরা উড়োজাহাজটির পথ পরিবর্তন করেন এবং হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।</p><p>যাত্রীদের চেন্নাইয়ে পৌঁছাতে বিকল্প আরেকটি উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয়।</p><p>বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে আমাদের যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, সে জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ইন্ডিগোতে আমাদের যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’</p>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
চেনা ৭টি পাখির অন্য রকম ছবি দেখুন
চেনা ৭টি পাখির অন্য রকম ছবি দেখুন

<p>ঢাকার নটর ডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী <strong>পৃথু ইম্মানুয়েল গমেজ</strong>। কলেজের ফটোগ্রাফি ক্লাবে সদস্য পৃথু ভালোবাসেন পাখির ছবি তুলতে। দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে তাঁর তোলা সাতটি চেনা পাখির অন্য রকম ছবি রইল এখানে—</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/hmiv2nab/IMG7577.jpeg"><figcaption>উল্টো হয়ে ঝুলে থাকা পাখিটি নীলগলা বসন্তবাউরি। উজ্জ্বল সবুজ রঙের শরীর, টুকটুকে লাল মাথা এবং গলার গাঢ় নীল রঙের মিশ্রণের কারণে এরা সহজে নজর কাড়ে। ঘন সবুজ পাতার আড়ালে এরা এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে সহজে চোখে পড়ে না</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/an2zfb28/IMG_6873.jpeg"><figcaption>চোখজুড়ানো হালকা নীল রঙের পাখিটি নীলকান্তমণি বা নীল চুটকি। বাংলাদেশে মূলত শীতকালীন পরিযায়ী পাখি হিসেবে বনাঞ্চলে দেখা যায়। এরা উড়ন্ত অবস্থায় পোকামাকড় শিকার করতে পারে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/95xp5ypk/IMG6328.jpeg"><figcaption>উজ্জ্বল হলুদ রঙের মিষ্টি পাখিটি ফটিকজল। বাংলাদেশের অন্যতম সুরেলা গানের পাখি। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখিটি স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করতে শূন্যে প্রায় অ্যাক্রোবেটিক কায়দায় ডিগবাজি খায় এবং নিজের পালক ফুলিয়ে বলের মতো গোল হয়ে গান গাইতে থাকে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/dj78i63j/IMG_6134.jpeg"><figcaption>গা ঝাড়া দিতে থাকা পাখিটির নাম ঝুঁটি শালিক বা জংলি শালিক। পাখিটি সাহসী ও চটপটে। মানুষের গলার স্বর বা অন্য পাখির ডাক হুবহু নকল করার অসাধারণ ক্ষমতাও আছে এদের। এরা সামাজিক, দলবদ্ধভাবে থাকতে পছন্দ করে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/emag5gdp/IMG_6486.jpeg"><figcaption>ডানা মেলে উড়ে চলা পাখিটির নাম সবুজ সুইচোরা। কেউ কেউ ডাকেন বাঁশপাতি বলে। এই পাখিরা তিরের মতো দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে নিখুঁত শিকার করতে পারে। এদের খাবারের তালিকায় প্রধানত মৌমাছি, বোলতা ও ফড়িং থাকে। এদের লেজের মাঝখানে সুতার মতো দুটি লম্বা পালক বা সুই থাকে, যা আকাশে ওড়ার সময় দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/st4muc7w/IMG_9592.jpeg"><figcaption>বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল। গ্রামগঞ্জ ও শহরের প্রকৃতিতে বহুল পরিচিত এই চঞ্চল পাখি। ছবিটির মতোই এরা বসার সময় নিজেদের লম্বা ও চমৎকার লেজটি ওপরের দিকে খাড়া করে রাখতে পছন্দ করে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/ehfy4124/IMG_6015.jpeg"><figcaption>মেছো ইগল বা কুড়া পাখিটি তীক্ষ্ণ নখর দিয়ে শিকার করা মাছটি নিয়ে সুনীল আকাশে উড়ে চলেছে। মেছো ইগলের এই মাছ শিকার দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল ঢাকার কাছেই পুবাইলে</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/x8fp4s2el0">বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখির আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ২৫টি ছবি দেখুন</a></aside>

অক্টোবর ১১, ২০২৬
আমি চাই এই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি: বিমানমন্ত্রী
আমি চাই এই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি: বিমানমন্ত্রী

দেশে ২০০টির বেশি উড়োজাহাজ দেখতে চান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

অক্টোবর ১১, ২০২৬
‘কালকে রাত দুইটায় ফ্লাইট ছিল, এখনো এখানে বসে আছি’
‘কালকে রাত দুইটায় ফ্লাইট ছিল, এখনো এখানে বসে আছি’

ফ্লাইট বাতিল ছাড়াও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের বিজি৩৩৯ ও ৩৪০ ফ্লাইট স্থগিতের কথা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে বিমান।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দেব, বলেছিলেন শাহেদ, স্ত্রী পেলেন মৃত্যুর খবর
জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দেব, বলেছিলেন শাহেদ, স্ত্রী পেলেন মৃত্যুর খবর

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শাহেদের নিহত হওয়ার খবর শোনার পর থেকে কান্না থামছে না কাকলির। দুই ছেলেকে নিয়ে এখন তাঁর অপেক্ষা—কবে দেশে ফিরবে স্বামীর মরদেহ।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন