<p>বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা আহমেদ শাহরিয়ার দীপ ও এক তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁরা নৌ পুলিশের হেফাজতে চার দিন করে রিমান্ডে আছেন।</p><p> নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার মাসুমা আক্তার আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, দীপ ও তরুণীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা হবে।</p><p> মামলার তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি গত ২৭ অক্টোবর উত্তরার ১৮ নম্বরের সেক্টরের তাঁদের ভবনের নিচ থেকে দীপের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বের হন। এরপর তাহসিফ ওই তরুণীকে নিয়ে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের একটি বারে যান। সেখানে দীপও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীর মনোমালিন্য হয়। ঘণ্টাখানেক পর ওই বার থেকে বেরিয়ে তাহসিফ ওই তরুণীকে মোটরসাইকেলে করে তাঁর বাসার সামনে নামিয়ে দেন। এ বিষয়ে দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে দীপ ও ওই তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।</p><p>তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে নৌ পুলিশের কাছে বিভিন্ন তথ্য আসছে। নৌ পুলিশও তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। আবার অনেকে টঙ্গীর মাজার রোড বস্তিতে ঘোরাঘুরি করা ভিডিও নৌ পুলিশকে দিয়েছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে নৌ পুলিশ। দীপের দাবি অনুযায়ী, পুলিশের পোশাক পরা দুই সদস্যকে দেখে তাহসিফ ও দীপ দুদিকে দৌড়ে যান। দীপ তুরাগ নদের তীরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পিলারে কাছে গিয়ে লুকান। পরে দুই পুলিশ সদস্য এসে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তাহসিফের সঙ্গে এসেছেন বলার পর পুলিশ সদস্যরা আর কথা না বাড়িয়ে তাঁকে এখান থেকে চলে যেতে বলেন। এরপর তাহসিফের সঙ্গে দীপের দেখা হয়নি বলে দাবি দীপের। অবশ্য রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তাঁর মায়ের মুঠোফোনে ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে বলেন, ‘আসতেছি, রওনা দিছি।’ আবার রাত ১টা ৩৯ মিনিটে দীপ মোহাম্মদপুরে তাঁদের ভাড়া বাসার দারোয়ানকে ফোন করে বলেন, তাঁর আসতে দেরি হবে। পরে দীপ রাত আড়াইটার দিকে বাসায় ফেরেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/sg4j6ql26q">বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে রহস্য</a></aside><p>গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও পরে তাঁর সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।</p><p>পিবিআই জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে দীপকে গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে এটি তাহসিফের মোটরসাইকেল বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। দীপকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে শুক্রবার রাতে দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপরই তাহসিফের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। মামলায় পরিবারের তরফে সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুললেও ঘটনায় তাহসিফের সঙ্গে থেকে আলোচনায় আসা দীপকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত শনিবার তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার মধ্যরাতে মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করে নৌ পুলিশ। আজ দিশার রিমান্ডের প্রথম দিন এবং দীপের দ্বিতীয় দিনের রিমান্ড চলছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/rztey46q5n">আমার ছেলের সাঁতারে প্রশিক্ষণ ছিল, ডুবে মৃত্যু হতে পারে না : তাহসিফের বাবা</a></aside>
ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি স্থানীয় এক জামায়াত নেতার।
<p>পোশাক খাতের চলমান শ্রমিক আন্দোলনের বহিরাগতদের উসকানি বা ইন্ধনের বিষয়ে সতর্ক সরকার। এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু পোশাকশিল্প মালিকেরা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে মনে করছে সরকার। এ জন্য দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পলাতক কিছু নেতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার পোশাকশিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।</p><p> সচিবালয়ে আজ সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর বিকেলে বৈঠক করেন পোশাকশিল্পের শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই আন্দোলনে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে। এ সময় পোশাকশিল্পের মালিকেরা বলেন, এ বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে যদি সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।</p><p>এদিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে আজ সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকার মিরপুর এলাকার প্রায় ছয় শতাধিক কারখানার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আন্দোলন অব্যাহত থাকলে আরও কিছু কারখানা বন্ধের আশঙ্কা করছেন মালিকেরা। এমনকি মালিকেরা কালকের (মঙ্গলবার) মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বুধবার থেকে ঘোষণা দিয়ে কারখানা বন্ধের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা দেখছেন না শিল্পমালিকেরা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক পোশাকশিল্প মালিকের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিল্পমালিকদের জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।</p><p>সচিবালয়ে সকালে পোশাকশিল্পের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একমুহূর্তের জন্যও কোনো কারখানা বন্ধ থাকুক, সরকার তা চায় না। আন্দোলনের নামে শ্রমিকস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। প্রকৃত শ্রমিকেরা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। পোশাকশিল্পের মালিকেরা, যাঁরা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁরাও অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কাজ করেছেন। এর পেছনে সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও জড়িত।’</p><p>বৈঠকে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উপস্থিত ছিলেন। দুই বৈঠকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রমিকনেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস।</p><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, কিছু শিল্পমালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন। এসব মালিকের তালিকা দিতে মালিক সংগঠনগুলোর নেতাদের বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত শ্রমিকনেতা ও সংগঠনগুলোর নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।</p><p>এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শিল্পমালিকেরা বলেছেন, তাঁরা কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া তাঁদের সামনে কোনো পথ নেই। তাঁরা আশা করেন, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে। তাতে তাঁদেরও কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। এর আগে গত রোববার বিজিএমইএর জরুরি এক সভায় উপস্থিত কারখানামালিকেরা আন্দোলন না থামলে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান।</p><h3>প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি</h3><p>সূত্রগুলো জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য যাঁরা পোশাক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাঁরা বিভিন্নভাবে দেশের বাইরে বসে অস্থিরতা তৈরি করছেন। আন্দোলনের ভেতর বহিরাগত ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অন্তত ৫০ নেতা–কর্মী এ অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় একটি পোশাক কারখানা রয়েছে। সেখান থেকে শ্রমিকদের উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। সাভারের একজন সাবেক সংসদ সদস্যের নামও এসেছে, যিনি বিদেশে বসে শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক এক মেয়রের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।</p><p>তবে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ সময় তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। এক. গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি; দুই. প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া; তিন. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা।</p><h3>২৪ ঘণ্টা নজরদারি</h3><p>পোশাক কারখানার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি ঠিক করা হয়েছে। মালিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি থাকবেন। সেখান থেকে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।</p><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ হোক, সেটা চাই না। চাই না একমুহূর্তের জন্যও বন্ধ হোক।’ তিনি জানান, প্রতি তিন বছর পর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি রয়েছে। সরকার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নামও পাওয়া গিয়েছিল। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো নাম দিতে কয়েক দিন সময় নিয়েছিল। তাদের নাম পাওয়ার পরই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়।</p><h3>কারখানা চালাতে পারছেন না মালিকেরা</h3><p>বৈঠক শেষে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কারখানা চালাচ্ছি না, এ কথা ঠিক নয়। আসল কথা হচ্ছে চালাতে পারছি না। আগামীকালও কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করব। না পারলে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পথে যেতে হবে।’</p><p>কারখানা চালু রাখতে না পারার কারণ জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, কারখানার সামনে মিছিল হচ্ছে, বাইরে থেকে কারখানায় ঢিল ছোড়া হচ্ছে। অথচ মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রম অসন্তোষের কোনো কারণ নেই।</p><h3>‘মজুরি বোর্ড গঠনে দেরি হয়েছে’</h3><p>শ্রমিকনেতারা বলছেন, মজুরি বোর্ড গঠনে সরকারের দেরির কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রথম আলোর কাছে এ মন্তব্য করেন ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন শ্রমিকনেতারা। সেখানে ৪ অক্টোবর স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ঘোষণা অনুযায়ী, সেদিন স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। এরপরও সরকার মজুরি বোর্ড গঠনে দেরি করেছে। তিনি বলেন, আরও আগে মজুরি বোর্ড গঠন করতে পারলে পরিস্থিতি এত খারাপ হতো না।</p><p>শ্রমিকদের শান্ত করতে এখন ঘন ঘন বৈঠক করে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই শ্রমিকনেতা।</p><p>এদিকে মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা দ্রুত মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি আটক ও গ্রেপ্তার শ্রমিকদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেন, ‘আমরা মজুরি বোর্ডে এমনভাবে কাজ করব, যাতে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি মজুরি হাতে পান। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই।’</p><p>বাবুল আখতার আরও বলেন, চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কিছু শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি হয়রানিমূলক মামলা ও অন্যান্য ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে হবে।</p>
ময়মনসিংহ নগর জামায়াতের এক নেতার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর রুকন পদ স্থগিত করা হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় জরুরি সভা ডেকে দলের মহানগর কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক
<p>বাংলাদেশে সিমেন্স ইডিএর পণ্য, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তাসেবা দেওয়ার জন্য সিমেন্স ইন্ডাস্ট্রি সফটওয়্যার লিমিটেডের (এসআইএসডব্লিউ) অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে পেন্টা গ্লোবাল লিমিটেড। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। সম্প্রতি দেওয়া এক চিঠিতে পেন্টা গ্লোবালকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয় সিমেন্স ইন্ডাস্ট্রি সফটওয়্যার।</p><p> এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন খাতে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীদের জন্য সিমেন্স ইডিএর প্রযুক্তি ও সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন খাতের সক্ষমতা উন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে। চিপ ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, সাইনঅফ ও অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংসহ সেমিকন্ডাক্টর তৈরির বিভিন্ন ধাপে ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ) প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।</p><p>পেন্টা গ্লোবাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল জামান বলেন, বাংলাদেশে দক্ষ প্রকৌশলী, ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি খাত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাড়তে থাকা সম্পৃক্ততা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করা অভিজ্ঞ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের একটি শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। এই সক্ষমতাকে উন্নত প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, প্রযুক্তি ও ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির মতো উচ্চমূল্যের খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।</p><p>সিমেন্স ইডিএর পার্টনার অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার ডেনিস লবজভ বলেন, ‘পেন্টা গ্লোবালকে অনুমোদন দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মাইলফলক। সিমেন্সের বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় লক্ষ্যকে সমন্বয় করার মাধ্যমে আমরা শুধু একটি নতুন বাজারে প্রবেশ করছি না, বরং শুরু থেকেই একটি টেকসই সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছি।’</p><p>অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পেন্টা গ্লোবাল বাংলাদেশে সিমেন্স ইডিএর প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট সেবা পাওয়ার স্থানীয় মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও বাজারের সংযোগ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।</p>
জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া আগামী বছরের ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সিদ্ধান্তের কথা জানান
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আবারও বাড়ল ও অন্যান্য খবর
এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাখিদের জন্য নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি মানুষের মধ্যে প্রাণপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বন্ধুরা। তাঁদের বিশ্বাস, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণেরই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই মানুষের পাশাপাশি পাখিদের বেঁচে থাকা ও নিরাপদে বিচরণের পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।